একটা যুগের শেষ কি তবে খুব কাছেই? ম্যানচেস্টার সিটির আকাশে এখন ঘুরপাক খাচ্ছে সেই প্রশ্নই। প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা হাতছাড়া হওয়ার রাতে পেপ গার্দিওলার কণ্ঠে ছিল না নিশ্চিত কোনো ঘোষণা, কিন্তু ছিল বিদায়ের ইঙ্গিতমাখা এক অনিশ্চয়তা। আর সেটাই যেন আরও জোরালো করেছে জল্পনা- ইতিহাদে কি শেষ হয়ে যাচ্ছে ইতিহাসের সবচেয়ে সফল অধ্যায়গুলোর একটি?
গতকাল রাতে (১৯ মে) বোর্নমাউথের বিপক্ষে ১-১ ড্রয়ের পর আনুষ্ঠানিকভাবেই প্রিমিয়ার লিগ ট্রফি হারায় ম্যানচেস্টার সিটি। চার পয়েন্ট পিছিয়ে থেকে আর্সেনালের শিরোপা নিশ্চিত হওয়ার রাতে গার্দিওলার ভবিষ্যৎই হয়ে ওঠে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। গার্দিওলা দেন সংক্ষিপ্ত অর্থবহ উত্তর, ‘আমি আগে চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলব। এরপর সিদ্ধান্ত হবে।’
ম্যানসিটির চেয়ারম্যান খালদুন আল মুবারক, তার সঙ্গে আলোচনার কথাই বলেছেন গার্দিওলা। ২৪ মে তার দল মৌসুমের শেষ ম্যাচ খেলবে অ্যাস্টন ভিলার বিপক্ষে। এরপরই আলোচনা হবে কি না- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘না, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই আমরা কথা বলব। এরপর... আমরা সিদ্ধান্ত নেব। আরও এক বছর থাকব কি না, সবকিছু নিয়ে কথা হবে, তারপর সিদ্ধান্ত হবে।’
চুক্তি অনুযায়ী আরও এক বছর ইতিহাদে থাকার কথা গার্দিওলার। কিন্তু তার মুখে উচ্চারিত ‘সিদ্ধান্ত’ শব্দটিই এখন কাঁপিয়ে দিচ্ছে ম্যানসিটি সমর্থকদের মন। কারণ ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমগুলো ইতোমধ্যেই দাবি করেছে, চলতি মৌসুম শেষে ক্লাব ছাড়তে পারেন স্প্যানিশ এই কোচ। সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে আলোচনায় উঠে এসেছে এনজো মারেস্কার নামও, যিনি একসময় গার্দিওলার সহকারী ছিলেন এবং পরে চেলসির দায়িত্বও সামলেছেন।
২০১৬ সালে ইংল্যান্ডে পা রাখার সময় গার্দিওলা ছিলেন সফল, কিন্তু ম্যানসিটি তখনও ছিল ইউরোপিয়ান পরাশক্তি হওয়ার অভিযাত্রায়। দশ বছরে দৃশ্যপট সম্পূর্ণ বদলে গেছে। এখন সিটির নাম উচ্চারিত হয় বিশ্বের সবচেয়ে আধিপত্য বিস্তারকারী ক্লাবগুলোর কাতারে। এই পরিবর্তনের স্থপতি গার্দিওলা।
তার অধীনে সিটিজেনরা জিতেছে ১৭টি বড় শিরোপা। ছয়টি প্রিমিয়ার লিগ, একাধিক ঘরোয়া কাপ, আর সবচেয়ে বড় অর্জন ২০২২-২৩ মৌসুমের ঐতিহাসিক ট্রেবল। প্রিমিয়ার লিগ, চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ও এফএ কাপ- এক মৌসুমে তিন শিরোপা জিতে তারা স্পর্শ করে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ১৯৯৯ সালের কীর্তিকে।
শুধু শিরোপা নয়, গার্দিওলার সিটি ইংলিশ ফুটবলের সংজ্ঞাই যেন বদলে দিয়েছে। ১০০ পয়েন্টের মৌসুম, টানা চারটি লিগ শিরোপা, ঘরোয়া ট্রেবল- প্রতিটি অর্জনই ইতিহাসের পাতায় নতুন অধ্যায় লিখেছে।
গার্দিওলার কথায় অবশ্য ক্লান্তির চেয়ে কৃতজ্ঞতাই বেশি ফুটে উঠেছে, ‘আমি পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী মানুষ। এই ক্লাবে থাকতে পেরে আমি পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী মানুষ। এই ক্লাব অসাধারণ।’
তবু তার কথার মাঝেই যেন লুকিয়ে ছিল আবেগঘন বিদায়ের সুর। এমন এক কোচ, যিনি বার্সেলোনা কিংবা বায়ার্ন মিউনিখ, কোথাও এত দীর্ঘ সময় থাকেননি, সেই তিনিই ম্যানসিটিতে কাটিয়ে ফেলেছেন জীবনের সবচেয়ে দীর্ঘ অধ্যায়।
অনিক/