হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যোতির্পদার্থবিজ্ঞানী এবং মহাকাশ প্রকৌশলী ড. উইলি সুন এক যুগান্তকারী আবিষ্কারের দাবি করেছেন। তার দাবি, গাণিতিক সূত্রের মাধ্যমে সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্ব চূড়ান্তভাবে প্রমাণ করা সম্ভব।
সম্প্রতি এই বিখ্যাত বিজ্ঞানী তার একটি সূত্র উপস্থাপন করেন। এ সময় তিনি জানান, মহাবিশ্বের গোপন রহস্য কেবল তারার মধ্যেই লিখিত নাও থাকতে পারে, বরং গণিতের কাঠামোতেও লিখিত থাকতে পারে।
ড. সুনের এই গবেষণা পদার্থ বিজ্ঞানের ‘ফাইন-টিউনিং/সূক্ষ্ম সুরকরণ যুক্তি’ বা সূক্ষ্ম সামঞ্জস্য তত্ত্বের উপর ভিত্তি করে প্রকাশ করা হয়েছে। এই তত্ত্ব অনুযায়ী, পদার্থবিজ্ঞানের নিয়মগুলো এতটাই নিখুঁতভাবে সাজানো যে, তা কেবল দৈবক্রমে বা কাকতালীয়ভাবে হতে পারে না। তাত্ত্বিক পদার্থবিদ্যায়, ফাইন-টিউনিং হলো এমন একটি প্রক্রিয়া, যেখানে একটি মডেলের পরামিতিগুলোকে নির্দিষ্ট পর্যবেক্ষণের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার জন্য সুনির্দিষ্টভাবে সামঞ্জস্য সৃষ্টি করতে হয়।
তবে পদার্থবিজ্ঞানে ফাইন টিউনিং-এর জন্য প্রয়োজনীয় তত্ত্বগুলোকে অনেক সময় সমস্যাযুক্ত বলে মনে করা হয়। তাছাড়া এটির প্যারামিটারগুলোতে কেন পর্যবেক্ষণ করা মানগুলো সঠিকভাবে ফিরে আসে তা ব্যাখ্যা করার জন্য পরিচিত প্রক্রিয়ার অভাব রয়েছে। কারণ হিউরিস্টিক নিয়ম অনুযায়ী, মৌলিক ভৌত তত্ত্বের প্যারামিটারগুলো খুব বেশি সূক্ষ্ম হওয়া উচিত নয় এমনটাই স্বাভাবিক মনে করা হয়।
তার গবেষণায় বলা হয়, মহাকর্ষ, আলোর গতি ও অন্যান্য প্রাকৃতিক নিয়মগুলো সামান্যতম পরিবর্তন হলে জীবনের অস্তিত্ব থাকা অসম্ভব হয়ে যেত। এত নিখুঁতভাবে সবকিছু সাজানো থাকার কারণ হতে পারে সৃষ্টিকর্তার পরিকল্পনা।
ড. সুন তার গবেষণায় ১৯৬৩ সালে প্রকাশিত কেমব্রিজের বিখ্যাত পদার্থবিদ পল ডিরাকের একটি তত্ত্বকে অন্যতম প্রধান ভিত্তি হিসেবে ধরেছেন। যেখানে পল ডিরাক বলেছিলেন, মহাবিশ্বের নিয়মগুলো এতই নিখুঁত ও গাণিতিকভাবে সংগঠিত যে, এটি কোনো বুদ্ধিমান সত্তার পরিকল্পনার ফল হতে পারে। এই গণিতবিদের প্রথম প্রস্তাবিত সূত্রটি কীভাবে কিছু মহাজাগতিক ধ্রুবক শ্বাসরুদ্ধকরভাবে নির্ভুলভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ –সেটি তুলে ধরে। যা কয়েক দশক ধরে বিজ্ঞানীদের বিভ্রান্ত করে আসছিল।
ডিরাক বলেছিলেন, মহাবিশ্বের ভৌত নিয়মের নিখুঁত ভারসাম্যকে মহান সৌন্দর্য এবং শক্তির গাণিতিক তত্ত্বের পরিপ্রেক্ষিতে বর্ণনা করা হয়েছে এবং এটি বোঝার জন্য উচ্চমাত্রার বুদ্ধিমত্তার প্রয়োজন।
ড. সুন তার সঙ্গে একমত হয়ে বলেন, ‘আমাদের পৃথিবী ও মহাবিশ্বের নিয়মগুলো এতটাই নিখুঁত যে, এটি মনে করিয়ে দেয়- সৃষ্টিকর্তা অত্যন্ত দক্ষ একজন গণিতবিদ, যিনি উন্নত গাণিতিক সূত্র দিয়ে এই মহাবিশ্ব সৃষ্টি করেছেন।’
যদিও ড. সুনের গবেষণা নিয়ে বিতর্কও তৈরি হয়েছে। অনেকে মনে করেন, এটি ধর্ম ও দর্শনের সঙ্গে সম্পর্কিত। কিন্তু বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণ করা কঠিন।
তবে ড. সুন বিশ্বাস করেন, আমাদের অস্তিত্ব কোনো কাকতালীয় ঘটনা নয়, বরং এটি সুপরিকল্পিত সৃষ্টি।
আর বিজ্ঞান ও ধর্মের সম্পর্ক নিয়ে ড. উইলি সুনের গবেষণা নতুন আলোচনা তৈরি করেছে। তবে এটি কি সত্যিই সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্বের প্রমাণ, নাকি শুধু একটি দার্শনিক ব্যাখ্যা? এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে আরও গবেষণা প্রয়োজন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। সূত্র: উইকিমিডিয়া এবং দ্য ইকোনোমিক টাইমস
দিনা/অমিয়/