যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সফরসঙ্গী জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব আখতার হোসেনের ওপর ডিম ছুড়ে মেরেছে আওয়ামী লীগের এক নেতা। এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দলটির নেতা-কর্মীরা। সামাজিক মাধ্যমেও এ ঘটনার সমালোচনা চলছে। এখন প্রশ্ন, যুক্তরাষ্ট্রের আইনে এটি কি অপরাধ?
এ প্রসঙ্গে যা জানা যাচ্ছে - হ্যাঁ, যুক্তরাষ্ট্রে ডিম ছোড়া অপরাধের মধ্যে পড়তে পারে, তবে তা পরিস্থিতি ও উদ্দেশ্যের ওপর নির্ভর করে।
সাধারণত যেভাবে আইন প্রযোজ্য হয়-
ভ্যান্ডালিজম (ভাঙচুর):
যদি কারও বাড়ি, গাড়ি বা অন্য কোনো সম্পত্তির দিকে ডিম ছোড়া হয়, তবে সেটিকে ভাঙচুর বা সম্পত্তি ক্ষতির অপরাধ ধরা হয়। এতে জরিমানা বা ক্ষতিপূরণ দিতে হতে পারে।
আসাল্ট (হামলা):
যদি কারও শরীরে ডিম ছোড়া হয় (মজা করেই হোক বা রাগে হোক), তা “আসাল্ট” বা আক্রমণ হিসেবে ধরা যেতে পারে।
পাবলিক ডিসটার্বেন্স (উচ্ছৃঙ্খল আচরণ):
প্রকাশ্যে অন্যকে বিরক্ত বা আতঙ্কিত করার জন্য ডিম ছোড়া হলে এ অপরাধ ধরা যেতে পারে।
হেট ক্রাইম (ঘৃণাজনিত অপরাধ):
যদি কারও ধর্ম, বর্ণ, জাতিগত পরিচয় ইত্যাদির কারণে উদ্দেশ্যমূলকভাবে ডিম ছোড়া হয়, তবে সেটি হেট ক্রাইম হিসেবেও ধরা হতে পারে।
শাস্তির ধরণ-
ছোটখাটো ভাঙচুর হলে সাধারণত মাইনর মিসডিমিনর (ক্ষুদ্র অপরাধ) হিসেবে গণ্য হয়।এতে জরিমানা, কমিউনিটি সার্ভিস বা শর্তসাপেক্ষ মুক্তি হতে পারে। তবে বড় ধরনের ক্ষতি বা আঘাত লাগলে জেল, বড় অঙ্কের জরিমানা এমনকি অপরাধের রেকর্ডও হতে পারে। তাই ডিম ছোড়া যুক্তরাষ্ট্রে ‘নিরীহ প্র্যাঙ্ক’ মনে হলেও আইন অনুযায়ী সেটি অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়।
নিউইয়র্কে ‘ডিম ছোড়া’ পরিস্থিতি ও কীভাবে করা হয়েছে - সে অনুযায়ী আইনি কাঠামো ভিন্ন হয়। সাধারণভাবে, এটি অপরাধমূলক ভাঙচুর বা হামলার অভিযোগ হতে পারে।
যদি ডিম ছোড়ার ফলে কোনো সম্পত্তি (দেয়াল, গাড়ি, জানালা ইত্যাদি) ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তা ইচ্ছাকৃত সম্পত্তি নষ্ট করা হিসেবে ধরা যেতে পারে।
যদি ডিম কোনো ব্যক্তির দিকে ছোড়া হয় এবং আঘাত বা ভয় তৈরি হয়, তাহলে শারীরিক আক্রমণের প্রচেষ্টার অভিযোগও হতে পারে।
যদি ডিম ছোড়ার পেছনে কোনো ঘৃণা-উন্মত্ততা থাকে, অর্থাৎ কারও ধর্ম, বর্ণ, জাতি, লিঙ্গ পরিচয় ইত্যাদির ভিত্তিতে হয় তাহলে নির্দিষ্ট ঘৃণাজনিত অপরাধ আইনের আওতায় পড়তে পারে।
যদি কেউ শুধুমাত্র ডিম ছুঁড়ে এবং তেমন কোনো ক্ষতি না হয়, মামলা করার ক্ষেত্রে প্রমাণ করা কঠিন হতে পারে। আর ক্ষতি পরিমাপ (কত খরচ লাগবে মেরামতে) একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হবে। এতে বিচার প্রক্রিয়া, প্রকৃত উদ্দেশ্য, অভিযুক্তের পুর্বনির্ঘাত ইত্যাদি বিষয় সিদ্ধান্তে বড় ভূমিকা রাখে।
অনেক ক্ষেত্রেই ছোটখাটো ঘটনা হলে আদালত বা প্রসিকিউটর শর্তসাপেক্ষ মুক্তি, জরিমানা বা ক্ষতিপূরণ আদায়ের দিকে যেতে পারে।
প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ সময় গত ২২ সেপ্টেম্বর রাত তিনটার দিকে আখতার হোসেন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জেএফকে বিমানবন্দর থেকে বের হওয়ার সময় আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের হাতে হেনস্তার শিকার হন। বাংলাদেশে কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা আখতারের পিঠে ডিম ছুড়ে মারেন।
>> কারাগার থেকে যে পোস্ট দিলেন আখতারের ওপর ডিম নিক্ষেপকারী মিজান
অমিয়/