সন্তানের আশায় বহু বছর অপেক্ষার পর অনেক দম্পতির কাছেই ‘ইন ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন’ (আইভিএফ) নতুন আশার আলো হয়ে ওঠে। এই পদ্ধতির মাধ্যমে অসংখ্য পরিবার বাবা-মা হওয়ার স্বপ্ন পূরণ করেছে। তবে ভারতের একটি ঘটনা ফার্টিলিটি ক্লিনিকগুলোর নিরাপত্তা ও মাননিয়ন্ত্রণ নিয়ে গুরুতর প্রশ্নের মুখে ঠেলে দিয়েছে।
অভিযোগ, আইভিএফের মাধ্যমে যমজ সন্তানের জন্ম দেওয়ার পর এক দম্পতি জানতে পারেন, ডিএনএ পরীক্ষায় শিশু দুটির সঙ্গে তাদের কোনও জৈবিক সম্পর্ক নেই।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে ফার্টিলিটি চিকিৎসায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, গুরুগ্রামের ওই দম্পতির ঘরে আইভিএফের মাধ্যমে যমজ সন্তানের জন্ম হয়। কয়েক মাস পর শিশুদের একটি শারীরিক সমস্যার কারণে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে গেলে কিছু অসঙ্গতি ধরা পড়ে। এরপর চিকিৎসকেরা বিস্তারিত জেনেটিক প্রোফাইলিং বা ডিএনএ পরীক্ষার পরামর্শ দেন।
অভিযোগ, পরীক্ষার ফলাফলে দেখা যায়, শিশু দুটির সঙ্গে বাবা কিংবা মা- কারওই জৈবিক সম্পর্ক নেই। পরিবারটির দাবি, আইভিএফ প্রক্রিয়ার সময় অন্য কোনো দম্পতির ভ্রূণ ভুলবশত প্রতিস্থাপন করা হয়ে থাকতে পারে। আবার জন্মের পর শিশু অদলবদলের ঘটনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
যমজ সন্তানের বাবা রাহুল রাঠোর জানান, কনিষ্ঠ সন্তানের চেহারায় উত্তর-পূর্ব ভারতের মানুষের সঙ্গে মিল থাকায় তার প্রথম সন্দেহ হয়। এরপরই তারা বিষয়টি নিয়ে তদন্তের উদ্যোগ নেন।
রাহুল ও তার স্ত্রী অভিযোগ করেন, তারা একাধিকবার আইভিএফ কেন্দ্রের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছেন এবং চিকিৎসা-সংক্রান্ত নথিপত্র পর্যালোচনার অনুরোধ জানিয়েছেন। কিন্তু কোনো সন্তোষজনক উত্তর পাননি।
ইতোমধ্যে বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে। রাহুলের দাবি, গত ৫ জুন আদালত পুলিশকে সংশ্লিষ্ট আইভিএফ কেন্দ্র থেকে গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র জব্দ করার নির্দেশ দেয়।
ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই দম্পতির মানসিক অবস্থার প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করেছেন। একজন ব্যবহারকারী লিখেছেন, ‘আইভিএফ কেন্দ্রকে অবশ্যই জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। কিন্তু এই দম্পতির মানসিক যন্ত্রণা কোনওভাবেই পূরণ করা সম্ভব নয়।’
আবার অনেকেই ফার্টিলিটি ক্লিনিকগুলোর ক্ষেত্রে কঠোর নিয়ম মেনে চলার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেছেন। এক মন্তব্যে বলা হয়, ‘‘যদি আইভিএফ কেন্দ্রের ভুল হয়ে থাকে, তবে তা অত্যন্ত গুরুতর বিষয়। সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রটি ‘এআরটি’ আইন ও নির্দেশিকা মেনে পরিচালিত হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখা জরুরি।”
তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনার প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে না। তবে অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে এটি ভারতের আইভিএফ চিকিৎসা ব্যবস্থার অন্যতম গুরুতর বিতর্ক হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
অমিয়/