বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের পথে দুর্নীতি একটি প্রধান ও দুর্দমনীয় বাধা। সরকারি প্রশাসনের অভ্যন্তরে ব্যক্তিস্বার্থে ক্ষমতার অপব্যবহার ও অনিয়ম সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে প্রবেশ করেছে, যা সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং জনগণের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে বড় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। দুর্নীতির রাঘববোয়ালদের দম্ভ থামাতে এবং দেশের প্রতিটি স্তরে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে ন্যায়পাল (Ombudsman) পদ প্রতিষ্ঠা করা এখন সময়ের দাবি। গণপরিষদ কর্তৃক প্রণীত ১৯৭২ সালের সংবিধানের ৭৭ অনুচ্ছেদে ন্যায়পাল সৃষ্টির বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত তা কার্যকর হয়নি। এ প্রতিষ্ঠানটি সরকারের প্রশাসন ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে উত্থাপিত জনগণের অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করবে এবং প্রশাসনিক ত্রুটি-বিচ্যুতি দূর করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ন্যায়পাল মূলত সরকারের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার অন্যতম শক্তিশালী হাতিয়ার। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-সহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠান থাকা সত্ত্বেও দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরা সম্ভব হচ্ছে না। কারণ, ন্যায়পাল সরাসরি জনগণের পক্ষ থেকে সরকারি কার্যক্রমের ওপর নজরদারি করে এবং ক্ষমতার অপব্যবহার রুখতে পারে। একটি শক্তিশালী ও স্বাধীন ন্যায়পাল প্রতিষ্ঠা হলে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, ঘুষ ও অনিয়ম বহুলাংশে হ্রাস পাবে।
দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার জন্য কেবল সদিচ্ছা যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন সাংবিধানিক কাঠামোর পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন। তাই, দেশকে দুর্নীতিমুক্ত করে সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে অবিলম্বে ন্যায়পাল পদটি কার্যকর করা অপরিহার্য। এটি নিশ্চিত করবে যে, রাষ্ট্রীয় সম্পদ তছরূপকারী বা ক্ষমতার অপব্যবহারকারী কেউই জবাবদিহির ঊর্ধ্বে থাকবে না।
ওসমান গনি
সাংবাদিক ও কলামিস্ট, কুমিল্লা
[email protected]