চীনের পূর্বাঞ্চলের বেশ কয়েকটি রেস্তোরাঁ খরচ কমানোর জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) রোবট ব্যবহার করছে, যেগুলো একসঙ্গে প্রায় ১০০ ধরনের খাবার রান্না করতে সক্ষম। এ নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
ঝেজিয়াং প্রদেশের হাংঝৌ শহরে অন্তত তিনটি এমন রেস্তোরাঁ কয়েক মাস ধরে চালু রয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় টেলিভিশন চ্যানেল।
রোবটগুলো অর্ডার নেওয়া, খাবার পরিবেশন, পরিষ্কার করা এবং রান্নার কাজ করে থাকে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, এসব রোবট রান্নাঘরের কর্মীদের মোট কাজের প্রায় ৬০ শতাংশ করে দেয়।
খাবার অর্ডারের আগে গ্রাহকদের মুখ ও জিহ্বা স্ক্যান করে স্বাস্থ্যভিত্তিক খাবারের পরামর্শ দেয় রোবটগুলো।
এই সিস্টেমে মুখের রং, ত্বকের অবস্থা এবং জিহ্বার আবরণ বিশ্লেষণ করে গ্রাহকের একটি স্বাস্থ্য ও শারীরিক অবস্থা সম্পর্কিত রিপোর্ট তৈরি করে এবং সেই অনুযায়ী উপযুক্ত খাবারের পরামর্শ দেয়।
একটি রেস্তোরাঁর ব্যবস্থাপকের মতে, রোবটগুলো ১০০টিরও বেশি খাবার রান্না করতে পারে।
রোবট কুকিং ডেভেলপার প্রকৌশলী ঝু কি বলেন, তারা মানব শেফদের কাজ থেকে চুলার আগুনের সেটিং সংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষণ করে এবং ভাজা ও নাড়াচাড়ার সময় শেফদের গতিবিধি অনুকরণ করে।
রোবট ব্যবহারের ফলে মানবশ্রমের প্রয়োজন অনেকটাই কমে যাচ্ছে। এক রেস্টুরেন্টের শেফ বলেন, রোবট ব্যবহার শুরুর পর এখন তার কাজ মূলত দুইটি মেশিন পরিচালনায় সীমাবদ্ধ।
তিনি বলেন, ‘এতে আমার অর্ধেক শক্তি বাঁচে। ফলে আমি কাঁচামালের মান পরীক্ষা, নতুন খাবার উদ্ভাবন এবং রান্নাঘর ব্যবস্থাপনায় বেশি মনোযোগ দিতে পারি।’
সত্তর বছর বয়সী এক দম্পতি, যারা নিয়মিত এই ক্যান্টিনে যান, তারা অবাক হন যে তাদের খাবার রোবট দিয়ে রান্না করা হয়। তাদের কথায়- ‘খাবারের স্বাদ মানুষের রান্নার মতোই। বেশি লবণ বা তেল নেই। ঠিক যা আমরা বয়স্করা পছন্দ করি।’
তিনি আরও বলেন, রোবট ব্যবহারের পর রেস্তোরাঁর খাবারের দামও কমে গেছে।
রেস্টুরেন্টের গ্রাহকরা বলেন, আগে তারা সাধারণত প্রতি খাবারে ১৮ থেকে ২০ ইউয়ান খরচ করতেন, কিন্তু এখন তা কমে ১৫ থেকে ১৮ ইউয়ান হয়েছে।
এ ধরনের রোবট সাধারণত ফাস্ট ফুড, গণখাবার এবং ঝাল হুনান ও সিচুয়ান খাবার রান্নায় বেশি ব্যবহৃত হয়। জাপানি খাবার বা সামুদ্রিক খাবার রান্নায় এগুলো তুলনামূলকভাবে কম ব্যবহৃত হয়।
হাংঝৌয়ের এই রেস্তোরাঁগুলোই চীনে প্রথম নয়, গত বছর সাংহাইয়ের একটি টেকনিক্যাল স্কুল তাদের ক্যান্টিনে রোবট যুক্ত করে রান্নাঘরের বেশিরভাগ কাজ করাচ্ছে।
শিক্ষার্থীরা জানা, এতে তাদের লাইনে দাঁড়িয়ে সময় নষ্ট হয় না, কারণ রোবট শেফরা আরও দক্ষভাবে কাজ করে।
খাবার রান্নার পাশাপাশি রোবট কফিও তৈরি করতে পারে।
মার্চ মাসে সাংহাইয়ের ব্যস্ত রাস্তার পাশে একটি স্বয়ংক্রিয় ছোট ক্যাফে চালু হয়, যেখানে রোবট গ্রাহকদের জন্য পানীয় প্রস্তুত করে।
একজন ইন্টারনেট ব্যবহারকারী বলেন, ‘দারুণ। তাহলে ভবিষ্যতে আমাকে আর পরিবারের জন্য রান্না শিখতে হবে না।’
তবে অনেকেই এই প্রবণতার সমালোচনা করেছেন।
একজন অনলাইন পর্যবেক্ষক বলেন, ‘এটা দুঃখজনক যে উচ্চ প্রযুক্তি সাধারণ শ্রমিকদের চাকরি কেড়ে নিচ্ছে।’
আরেকজন বলেন, ‘তাহলে সন্তান নেওয়ার দরকারই বা কী? ভবিষ্যতে মানুষের করার কিছুই থাকবে না।’ সূত্র: সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট
অমিয়/