১৯৭১ সালের জুলাই মাসে কলকাতার ৮নং থিয়েটার রোডের প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের সদর দপ্তরে ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তাদের একটি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।সম্মেলনের দীর্ঘ আলোচনা শেষে মোট চারটি সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
সেসব সিদ্ধান্তের মধ্যে প্রধানতম ছিল সুষ্ঠুভাবে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার লক্ষ্যে বাংলাদেশকে মানে সে সময়ের পূর্ব পাকিস্তানকে মোট ১১টি সেক্টরে ভাগ করা এবং প্রতি সেক্টরের জন্য একজন করে সেক্টর কমান্ডার নিযুক্ত করা হয়। পাশাপাশি প্রতিটি সেক্টরকে অঞ্চলভেদে ভাগ করা হয় কয়েকটি সাব-সেক্টরে।
সেক্টর ১
ফেনী নদী থেকে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি ও ফেনী পর্যন্ত ছিল সেক্টর ১ এর সীমানা। ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল থেকে ২৫ জুন পর্যন্ত এই সেক্টরের কমান্ডার ছিলেন মেজর জিয়াউর রহমান এবং ২৮ জুন থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত কমান্ডার ছিলেন মেজর রফিকুল ইসলাম।
সেক্টর ২
নোয়াখালী ও কুমিল্লার আখাউড়া-ভৈরব রেললাইন পর্যন্ত এবং ফরিদপুর ও ঢাকার অংশবিশেষ নিয়ে গঠিত হয়েছিল সেক্টর ২। এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর খালেদ মোশাররফ ও সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত মেজর এ টি এম হায়দার।
সেক্টর ৩
ঢাকার কিছু অংশ, হবিগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ ও কুমিল্লা ছিল সেক্টর ৩ এর আওতায়। এপ্রিল থেকে জুলাই পর্যন্ত এ সেক্টরের কমান্ডার ছিলেন মেজর কে এম শফিউল্লাহ। জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সেক্টর কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করেন মেজর এ এন এম নূরুজ্জামান।
সেক্টর ৪
সিলেটের পূর্বাঞ্চল এবং খোয়াই-শায়েস্তাগঞ্জ রেললাইন বাদে পূর্ব ও উত্তর দিকে সিলেট-ডাউকি সড়ক পর্যন্ত ছিল সেক্টর ৪-এর সীমানা। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর সি আর দত্ত। এপ্রিল থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সেক্টর কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
সেক্টর ৫
সিলেট-ডাউকি সড়ক থেকে সিলেটের সমগ্র উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চল নিয়ে সেক্টর ৫ গঠিত হয়। মেজর মীর শওকত আলী ছিলেন সেক্টর কমান্ডার।
সেক্টর ৬
রংপুর ও দিনাজপুরের ঠাকুরগাঁও মহকুমা নিয়ে গঠিত হয় সেক্টর ৬। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন উইং কমান্ডার মোহাম্মদ খাদেমুল বাশার।
সেক্টর ৭
দিনাজপুরের দক্ষিণাঞ্চল, বগুড়া, রাজশাহী এবং পাবনা জেলা ছিল এই সেক্টরের অন্তর্ভুক্ত। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর নাজমুল হক। তিনি দুর্ঘটনায় নিহত হলে দায়িত্ব বুঝে নেন মেজর কাজী নূরুজ্জামান।
সেক্টর ৮
সমগ্র কুষ্টিয়া, মাগুরা, ঝিনাইদহ ও যশোর, ফরিদপুরের অধিকাংশ এলাকা এবং দৌলতপুর-সাতক্ষীরা সড়কের উত্তরাংশ ছিল সেক্টর ৮-এর অন্তর্ভুক্ত। এপ্রিল থেকে জুলাই পর্যন্ত এই সেক্টরের কমান্ডার ছিলেন মেজর আবু ওসমান চৌধুরী এবং আগস্ট থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ছিলেন মেজর এম এ মঞ্জুর।
সেক্টর ৯
দৌলতপুর-সাতক্ষীরা সড়ক থেকে খুলনার দক্ষিণাঞ্চল এবং বরিশাল ও পটুয়াখালী নিয়ে গঠিত হয় সেক্টর ৯। ১৯৭১ সালের এপ্রিল থেকে সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর এম এ জলিল এবং তারপর মেজর জয়নুল আবেদীন।
সেক্টর ১০
এ সেক্টরের অধীনে ছিল নৌ কমান্ডো, সমুদ্র উপকূলীয় অঞ্চল ও অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন। এ সেক্টরে নৌ কমান্ডোরা যখন যে সেক্টরে মিশনে নিয়োজিত থাকতেন, তখন সে সেক্টরের কমান্ডারের নির্দেশে কাজ করতেন।
সেক্টর ১১
কিশোরগঞ্জ বাদে ময়মনসিংহ ও টাঙ্গাইল নিয়ে গঠিত হয় সেক্টর ১১। ১৯৭১ সালের জুন থেকে অক্টোবর পর্যন্ত সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর জিয়াউর রহমান। অক্টোবর থেকে নভেম্বর পর্যন্ত সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর আবু তাহের ও তারপর সেক্টর কমান্ডার ছিলেন স্কোয়াড্রন লিডার এম হামিদুল্লাহ খান। সূত্র-উইকিপিডিয়া
তারেক
.jpg)
.jpg)