রোলারকোস্টারে চড়তে পছন্দ করেন অনেকেই। নিজের সাহসের পরীক্ষা কিংবা রোমাঞ্চ পছন্দ করেন- এমন মানুষ রোলারকোস্টার পছন্দ করেন। তবে জাপানের এই রাস্তায় উঠলে রোলারকোস্টারের চেয়ে বেশি রোমাঞ্চকর অনুভূতি হবে। কেননা জাপানের এই রাস্তা দেখলে মনে হবে উলম্ব এক ভয়ংকর রাস্তা। উলম্বভাবে রোলারকোস্টারের মতো ওঠানামা করতে হয় জাপানের এশিমা ওহাশি নামক এই সেতুতে।
বিশ্বজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করা জাপানের এশিমা ওহাশি মূলত একটি সেতু। পর্বতাকৃতির খাড়া ভয়ানক এক সেতু এটি। দূর থেকে দেখলে মনে হবে রোলারকোস্টারের পথের মতো খাড়া হয়ে উঠে গেছে এশিমা ওহাশি।
জাপানের নাকাউমি হ্রদের ওপরে অবস্থিত এই খাড়া সেতুটি। এই হ্রদের বিপরীত দিকে অবস্থিত দুটি শহরকে সংযুক্ত করার জন্য এশিমা ওহাশি সেতু নির্মাণ করা হয়। দুই পাশে দুটি শহর আর মাঝখানে হ্রদ, দুটিই যোগাযোগের জন্য বেশ গুরুত্বপূর্ণ। হ্রদের ওপর দিয়ে প্রতিদিন জাহাজ চলাচল করত। আর হ্রদের দুই পাশের শহরের যোগাযোগের জন্য ছিল আরেকটি ব্রিজ; যেটি সীমিত ওজন বহন করতে পারত। হ্রদে জাহাজ যাওয়ার সময় ব্রিজটি উঁচু করতে হতো। দুই পাশের যাতায়াতকারীদের প্রায় আট মিনিট ধরে অপেক্ষা করতে হতো। কিন্তু প্রতিদিন এই ব্রিজে চার হাজারের ওপর যানবাহন যাতায়াত করত। জাহাজ চলাচলের সময় আট মিনিটের বিরতি ছিল হতাশাজনক। তাই প্রয়োজনীয়তা থেকেই ১৯৯৭ সালে এশিমা ওহাশি সেতুটি নির্মাণ করা হয়। খাড়া সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছিল নিচে জাহাজ চলাচলের কথা ভেবেই। প্রায় ২২.৮ বিলিয়ন ইয়েন বা ২০০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি ব্যয় হয়েছিল সেতুটি নির্মাণে। একটি ভূমিকম্প-প্রতিরোধী, চাপমুক্ত ব্রিজের নকশা করেছিলেন স্থপতিরা।
এই সেতুটি প্রায় এক মাইল লম্বা এবং ৪৪ মিটার উঁচু, যা বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু সেতুগুলোর মধ্যে একটি। সেতুর উভয় প্রান্তের দৃশ্যটি আসল ঢালকে আরও বাড়িয়ে তোলে। তাই এর নাম রোলারকোস্টার। এটি দেখতে ভয়ংকরভাবে উঁচু। তখনকার সময়ে ইন্টারনেট না থাকলেও টিভি বিজ্ঞাপনের কল্যাণে এটি বেশ পরিচিতি পায়। জাপানি একটি গাড়ির বিজ্ঞাপনে সেতুটির বাঁক দেখানো হয়েছিল। যার ফলে এটি বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করে। লোকেরা একে ‘মারিও কার্ট ব্রিজ’ এবং ‘রোলারকোস্টার ব্রিজ’-এর মতো ডাকনাম দেয়।
২০০৪ সালে নির্মাণকাজ শেষ হওয়া এশিমা ওহাশি সেতুটি দেখতে ভয়ংকর খাড়া মনে হলেও বাস্তবে এটির ঢাল মোটামুটি স্বাভাবিক। কিন্তু এর জ্যামিতিক পরিস্থিতি ও ক্যামেরার বিভিন্ন এঙ্গেলে তোলা ছবি একে বেশ ভয়ংকর দেখায়। যাকে অপটিক্যাল ইলিউশন বলা যায়। মনে হতে পারে, সেতুটি হঠাৎ আকাশে উঠছে আবার নামছে। কিন্তু বাস্তবে এর নকশা এমনভাবে করা হয়েছে এর ঢাল ধীরে ধীরে খাড়া করা হয়েছে। যাতে গাড়ি নিরাপদে চলাচল করতে পারে।
ক্যামেরার টেলিফটো লেন্সের কারসাজিতে এই ঢালকে অসম্ভব উঁচু দেখায়; যা বিভ্রম তৈরি করে। তবে এশিমা ওহাশি জাপানের স্থাপত্যের এক অনন্য নিদর্শন। এটি জাপানের বৃহত্তম শক্ত-ফ্রেম কংক্রিট সেতু এবং বিশ্বব্যাপী তৃতীয় বৃহত্তম। এই সেতুটি দুটি শহর মাতসু এবং সাকাইমিনাতোকে সংযুক্ত করে। তা ছাড়া নাকাউমি হ্রদ জাপানের বৃহত্তম হ্রদগুলোর মধ্যে একটি এবং এর জল লোনা, স্বাদু পানির চেয়েও লবণাক্ত।
তারেক/
.jpg)
.jpg)