ঢাকা ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
‘নতুন পুরাতন মিলিয়ে ভালোই বোর্ড হবে’ শাহজালালের কার্গো শেডে আগুন শূন্যরেখায় মানবেতর জীবন শিকলবাহায় হত‍্যাকারীদের ফাঁসির দাবিতে মরদেহ নিয়ে মহাসড়কে বিক্ষোভ অ্যালামনাই প্ল্যাটফর্ম ০২০৪ ব্যাচের বন্ধুদের ঈদ পরবর্তী পুনর্মিলনী মায়ানমারে পাচারকালে দেড় হাজার বস্তা সিমেন্ট আটক ৫২ মরুভূমিতে বিকল ট্রাক, পানির অভাবে ৪৯ জনের মৃত্যু মেধা ও ক্রীড়াবান্ধব জাতি গঠনে সরকার বহুমুখী কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী নোয়াখালীতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মিছিল আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল ভক্তদের শোডাউন সরকারকে ৭ দিনের আলটিমেটাম ইনকিলাব মঞ্চের প্রথমবার এআই তৈরি করল ‘সুপার-ভ্যাকসিন’ হাদি হত্যা মামলার বাদীকে নিয়ে বোনের প্রশ্ন? জয়পুরহাট সীমান্তে পুশইনের চেষ্টা, বিজিবির টহল জোরদার রাজনীতি এক ভয়ংকর পরিস্থিতির দিকে ধাবিত হচ্ছে: মির্জা ফখরুল হজ শেষে দেশে ফিরলেন ২৯,৬৯৪ হাজি নারায়ণগঞ্জে ১৭ বন্যপাখি উদ্ধার ও অবমুক্ত হান্নানের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির তথ্য ফাঁস, ছাত্রদল নেতার বাড়িতে হামলার অভিযোগ নায়িকা মিমির বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট, শেষ দেখে নেওয়ার হুমকি! দোয়া গুরুত্বপূর্ণ এক ইবাদত সংসদ ভবন এলাকায় আগ্নেয়াস্ত্র বহনসহ মিছিল-সমাবেশে নিষেধাজ্ঞা কটাক্ষের শিকার আনুশকা কলকাতার মেয়র পদ ছাড়লেন ফিরহাদ হাকিম চট্টগ্রামে কাফনের কাপড় পরে যুবলীগের বিক্ষোভ মিছিল হরোস্কোপের গোলকধাঁধায় ভবিষ্যৎ ভাবনা বিয়ে করলেন উপস্থাপিকা দীপ্তি চৌধুরী উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের মানসিকতা সরকারের নেই: তথ্য প্রতিমন্ত্রী দিনে দিনেই ঘুরে আসুন মৈনট ঘাট থেকে পাবনায় ২০০ একর জমির ওপর বিসিক শিল্পনগরী গড়ে তোলা হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী
Nagad desktop

মেহেরপুরের ৩ উপজেলা কীটনাশকে ধুঁকছেন কৃষক

প্রকাশ: ০১ নভেম্বর ২০২৪, ০৯:৩৯ এএম
আপডেট: ০১ নভেম্বর ২০২৪, ০৫:১২ পিএম
কীটনাশকে ধুঁকছেন কৃষক
সুরক্ষাসামগ্রী ব্যবহার না করেই একজন কৃষক জমিতে কীটনাশক প্রয়োগ করছেন। মেহেরপুর সদর উপজেলার তেরোঘড়িয়া গ্রাম থেকে তোলা। ছবি : খবরের কাগজ

এক মাস আগের ঘটনা। মেহেরপুরের গাংনীর চেংগাড়া গ্রামের ৪২ বছর বয়সী কৃষক ওমর ফারুক নিজের ধান খেতে কীটনাশক দিচ্ছিলেন। তার মুখে মাস্ক, হাতে গ্লাভস, চোখে চশমা- এর কোনোটিই ছিল না। কীটনাশক দেওয়া শেষ হলে হঠাৎ তার বমি হয়। অসুস্থ অনুভব করায় ধান খেতেই নিজের মাথায় পানি ঢালেন। সিদ্ধান্ত নেন বাড়ি চলে যাবেন। কিছু দূর যাওয়ার পর জ্ঞান হারিয়ে রাস্তায় পড়ে যান। যখন জ্ঞান ফেরে তখন গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বিছানায় নিজেকে দেখতে পান।

হাসপাতালটির কর্তব্যরত নার্স রাফিজা বেগম জানান, ওমর ফারুক কীটনাশকের বিষক্রিয়া বা কন্টাক্ট পয়জনিংয়ে আক্রান্ত হয়েছিলেন। প্রাথমিক চিকিৎসা এবং স্যালাইন দেওয়ার মাধ্যমে তিনি সুস্থ হন। পরে বাড়ি পাঠানো হয়। প্রায় প্রতিদিনই এমন রোগী হাসপাতালে আসেন। তাদেরকে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

জানা গেছে, সুরক্ষাসামগ্রী ছাড়া ফসলের খেতে কীটনাশক ব্যবহারের কারণে মেহেরপুরের কৃষকরা স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়েছেন। প্রায়ই তারা ফসলের পরিচর্চা করতে গিয়ে কীটনাশকের সংস্পর্শে এসে বিষক্রিয়া বা কন্টাক্ট পয়জনিংয়ে আক্রান্ত হচ্ছেন। চিকিৎসকরা বলছেন, দিনের পর দিন এভাবে চলতে থাকলে কৃষকরা ফুসফুসে ক্যানসারসহ ভয়াবহ অ্যাপ্লাস্টিক অ্যানিমিয়ায় (শ্বাসতন্ত্রের একটি রোগ) আক্রান্ত হতে পারেন। তবে পরিকল্পনার মধ্যে এখনো আটকে আছে কৃষি বিভাগ। সংস্থাটি জানিয়েছে, সরকার থেকে উদ্যোগ নেওয়া হলে পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি সুরক্ষাসামগ্রী সরবরাহের পরিকল্পনা তাদের রয়েছে।

মেহেরপুরের তিন উপজেলার হাসপাতালগুলোর তথ্য বলছে, গত দুই মাসে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে ৭৮ জন কৃষক হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়েছেন। তাদের সবাই সুরক্ষাসামগ্রী ছাড়াই জমিতে কীটনাশক প্রয়োগ করেছিলেন। এ ছাড়া অসংখ্য কৃষক পল্লি চিকিৎসকের কাছে চিকিৎসা নিয়েছেন, যাদের তথ্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে নেই।

সরেজমিনে জেলার বিভিন্ন ফসলের মাঠে গিয়ে মেলে সত্যতা। প্রায় সকল কৃষকই সুরক্ষাসামগ্রীর ব্যবহার ছাড়াই জমিতে কীটনাশক প্রয়োগ করছেন। তারা বলছেন, জমিতে বিষ (কীটনাশক) দেওয়ার পর শ্বাসকষ্ট, মাথা ব্যথা, বমি বমি ভাব হয়। তখন তারা চিকিৎসকের কাছে যান।

কথা হয় মেহেরপুর সদর উপজেলার পিরোজপুর গ্রামের কৃষক জহুরুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন সময় বিষ প্রয়োগ করতে গিয়ে মাথা চিন চিন করে। কিছু সময় বিশ্রাম নিলে আবার ঠিক হয়ে যায়।’  একই উপজেলার তেরোঘড়িয়া গ্রামের কৃষক সাহারুল ইসলাম বলেন, ‘কিছু কীটনাশকের ঝাঁজ অনেক বেশি। শরীরের কোনো অংশে লাগলেই জ্বালাপোড়া করে। অনেকক্ষণ সাবান দিয়ে ধুলে তারপর ঠিক হয়।’ 

তবে এ পরিস্থিতির জন্য কৃষি বিভাগও দায়ী। তারা কৃষকদের এ বিষয়ে সচেতন করেন না বলে অভিযোগ মুজিবনগরের শিবপুর গ্রামের কৃষক আবদুস সবুরের। তিনি বলেন, ‘আমাদের এ বিষয়ে জ্ঞান খুবই কম। কৃষি অফিসাররা তেমন কিছুই বলেন না। সরকার থেকে হেলমেট, মাস্ক কিংবা হাতমোজা (হ্যান্ড গ্লাভস) সরবরাহ করলে আমরা তা ব্যবহার করব।’ 

মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মেডিকেল অফিসার ডা. মঞ্জুরুল হাসান বলেন, ‘প্রায় প্রতিদিনই হাসপাতালে কন্টাক্ট পয়জনিংয়ে আক্রান্ত রোগীর দেখা পাওয়া যায়। তাদের ৮০ থেকে ৯০ শতাংশই কৃষক। তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জমিতে বিষ প্রয়োগের পরই তারা অসুস্থ হয়ে পড়েন। প্রাথমিক চিকিৎসা পেলে তারা সুস্থ হয়ে যান। এমন রোগীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে।’

হাসপাতালটির মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. বেলাল হোসেন বলেন, ‘এমন অবস্থা চলতে থাকলে কৃষকদের ফুসফুসে ক্যানসারের পাশাপাশি ভয়াবহ অ্যাপ্লাস্টিক অ্যানিমিয়া রোগে আক্রান্ত হওয়ার শঙ্কা থাকে। এই রোগের চিকিৎসা খুবই ব্যয়বহুল। অনেক ক্ষেত্রে চামড়ায় ক্যানসার বাসা বাঁধতে পারে। দ্রুত সময়ের মধ্যে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে সমস্যা আরও বাড়তে পারে।’

তবে কৃষি বিভাগ বলছে, কৃষকদের স্বাস্থ্য ঝুঁকির বিষয়টি মাথায় নিয়ে জেলার ৬৫ হাজার কৃষক পরিবারকে জৈব বালাইনাশক ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কীটনাশক ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সুরক্ষাসামগ্রী নিশ্চিত করতে বলা হয়। মেহেরপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক বিজয় কৃষ্ণ হালদারের ভাষ্য অনুযায়ী, সরকারের পক্ষ থেকে সুরক্ষাসামগ্রী দেওয়ার সিদ্ধান্ত এলে সেগুলো মাঠপর্যায়ে কৃষকদের মাঝে সরবরাহের পরিকল্পনা তাদের রয়েছে।

ঈশ্বরদীতে পেঁয়াজ আবাদ বাড়ছে

প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২৬, ০৮:৫২ এএম
আপডেট: ০৪ জুন ২০২৬, ০৯:০২ এএম
ঈশ্বরদীতে পেঁয়াজ আবাদ বাড়ছে
ছবি: খবরের কাগজ

পাবনার ঈশ্বরদীতে পেঁয়াজের আবাদ তেমন ছিলই না। কৃষি বিভাগের তৎপরতায় ধীরে ধীরে পেঁয়াজের আবাদ বিঘা থেকে হেক্টর পর্যন্ত বেড়েছে। পৌর এলাকাসহ উপজেলার সাত ইউনিয়নেই কমবেশি পেঁয়াজের আবাদ হচ্ছে।

উপজেলায় শীতকালীনের পাশাপাশি গ্রীষ্মেও পেঁয়াজের আবাদ বাড়ছে। উপজেলার লক্ষ্মীকুণ্ডা ইউনিয়নে আগাম গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ চাষ করে লাভের আশা করছেন কৃষক আব্দুর রাজ্জাক মৃধা ও আবুল বাশার। তাদের দেখে অনেকে আগ্রহী হয়ে উঠছেন এ মসলা জাতের ফসল আবাদে।

ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ঈশ্বরদীতে ৬-৭ বছর আগে পেঁয়াজের আবাদ শুরু হয়। তখন কৃষকরা আগ্রহী না থাকলেও এখন লাভজনক হওয়ায় তারা পেঁয়াজ চাষে ঝুঁকছেন। আবাদি জমির পরিমাণও দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। উপজেলায় বর্তমানে ৬০ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের আবাদ রয়েছে।

গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজের আবাদ আষাঢ় মাসে শুরু হলেও আব্দুর রাজ্জাক ও আবুল বাশার দেড় মাস আগেই কৃষি বিভাগের দেওয়া নাসিক-৫৩ জাতের পেঁয়াজ চাষ করছেন। তারা বলছেন, বৃষ্টি নেই, প্রচণ্ড গরমেও আগাম গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ আবাদ ভালো হয়েছে।

উপজেলার লক্ষ্মীকুণ্ডা ইউনিয়নের নবীনগর গ্রামের মাঠে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কৃষক আব্দুর রাজ্জাক মৃধা তার দুই বিঘা জমিতে আবাদ করা পেঁয়াজ পরখ করছেন। আর দুই সপ্তাহ পর তিনি পেঁয়াজ জমি থেকে তুলবেন। এ সময় কথা হয় গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ আবাদ সম্পর্কে।

আব্দুর রাজ্জাক মৃধা বলেন, ‘ঈশ্বরদী কৃষি অফিস থেকে সরকারি প্রণোদনার বিনামূল্যে নাসিক-৫৩ জাতের পেঁয়াজবীজ আমাকে দেওয়া হয়। উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ অনুযায়ী বীজ থেকে চারা তৈরি করে জমিতে লাগানো হয়। মনে করা হয়েছিল, খুব ভালো হবে না। কিন্তু এখন জমিতে পেঁয়াজ দেখে মনে হচ্ছে লোকসান হবে না, লাভই হবে।’ সেচ, শ্রমিক খরচসহ দুই বিঘায় ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা খরচ হলেও তিনি বিক্রি করবেন ৭০ হাজার টাকার পেঁয়াজ। তার লাভ হবে ৩৫ হাজার টাকা জানান তিনি।

একই কথা জানালেন বিলকেদা এলাকার আরেক কৃষক আবুল বাশার। তিনি বলেন, এখন প্রতিদিন প্রচণ্ড গরম, বৃষ্টি নেই। গরম কম থাকলে এবং মাঝে মাঝে বৃষ্টি হলে এ পেঁয়াজের আবাদ আরও ভালো হতো।

লক্ষ্মীকুণ্ডা ইউনিয়ন ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মশিউর রহমান বলেন, ঈশ্বরদীতে পেঁয়াজের আবাদ তেমন ছিল না। এখন কৃষকরা আগ্রহী হয়ে উঠছেন পেঁয়াজ আবাদে। পরীক্ষার জন্য গ্রীষ্মকালীন মৌসুম শুরু হওয়ার দুই মাস আগেই চারা তৈরি করে আবাদ করা হলেও পেঁয়াজের ফলন আশানুরূপ হয়েছে। আর সপ্তাহ দুই পর জমি থেকে পেঁয়াজ তুলে আবারও কৃষক এ জমিতেই পেঁয়াজের আবাদ করবেন। তিনি বলেন, এক জমিতে এবং একই সময়ে দুবার পেঁয়াজের আবাদ। কৃষি অফিস থেকে উপকরণসহ কৃষককে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ফলে ফলন ভালো হয়েছে। কৃষক লাভবান হবেন। আগামীতে ঈশ্বরদীতে মসলা জাতের ফসল পেঁয়াজ আবাদ আরও বাড়বে। 

 ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আব্দুল মমিন বলেন, ঈশ্বরদীতে ৬-৭ বছর আগেও পেঁয়াজের আবাদ তেমন ছিল না। কিছু মুড়িকাটা পেঁয়াজ আবাদ হতো। ধীরে ধীরে পেঁয়াজের আবাদ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এটা মসলা জাতের ফসলের জন্য ভালো একটা দিক। প্রতিটি উৎপাদিত ফসল থেকে কৃষকরা লাভবান হবে, এটা আমাদের প্রত্যাশা। তিনি বলেন, ‘বিদেশ থেকে যেন পেঁয়াজ আমদানি করতে না হয়, এ জন্য সরকারের কৃষি মন্ত্রণালয় কাজ করছে। আমরাও কৃষকের পাশে থেকে পেঁয়াজ আবাদ বৃদ্ধির জন্য পরামর্শ দিয়ে আসছি।’

কোটি টাকার খামার গড়লেন লক্ষ্মীপুরের লিটন

প্রকাশ: ১৯ মে ২০২৬, ০৯:৩৪ এএম
আপডেট: ১৯ মে ২০২৬, ০৯:৩৬ এএম
কোটি টাকার খামার গড়লেন লক্ষ্মীপুরের লিটন
নিজের খামার পরিচর্যা করছেন লিটন। ছবি: খবরের কাগজ

চাকরির পেছনে না ছুটে উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্নে বিভোর ছিলেন লক্ষ্মীপুরের লাহারকান্দি এলাকার তরুণ কামরুজ্জামান লিটন। মাত্র ২০ লাখ টাকা পুঁজি নিয়ে শুরু করা  গরুর খামার এখন কোটি টাকার খামারে উন্নীত হয়েছে।

লিটনের স্বপ্ন আজ বিশাল মহীরুহে পরিণত হয়েছে। তার প্রতিষ্ঠিত ‘ব্রাদার্স এগ্রো এন্ড ডেইরি ফার্ম’ এখন স্থানীয় বেকার যুবকদের জন্য এক অনুপ্রেরণার নাম। বর্তমানে তার খামারে রয়েছে কোটি টাকারও বেশি মূল্যের গরু।

সরেজমিনে লাহারকান্দি এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, পরিপাটি করে সাজানো লিটনের খামারে দুধের গাভীসহ ছোট-বড় প্রায় ৭০টি গরু রয়েছে। প্রতিদিন খামার থেকে গড়ে ২০০ লিটার দুধ উৎপাদিত হয়। যা স্থানীয় বাজারে বিক্রি করে তার দৈনিক আয় ২০ হাজার টাকারও বেশি। দুগ্ধ উৎপাদনের পাশাপাশি আসন্ন কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে তিনি ২০টি উন্নতজাতের গরু প্রস্তুত করেছেন, যার প্রতিটির মূল্য এক লাখ থেকে আড়াই লাখ টাকা পর্যন্ত।

লিটনের খামারে নিয়মিত কাজ করছেন আটজন শ্রমিক। খামারের নিয়মিত পরিচর্যায় নিয়োজিত শ্রমিক নাইম বলেন, ‘আমরা এখানে গরুর বাচ্চার বিশেষ যত্ন নিই। বাচ্চা জন্মের পর থেকে তাদের মা থেকে আলাদা করে ফিডারে দুধ খাওয়ানো হয়। এক মাস বয়স হলে দুধের পাশাপাশি কাঁচা ঘাস ও প্রাকৃতিক খাবার দেওয়া শুরু করি। এতে গাভী দ্রুত সুস্থ হয় এবং পুনরায় গর্ভধারণের উপযুক্ত হয়।’

স্থানীয় বাসিন্দা আবুল হাশেম জানান, লিটনের এই খামার হওয়ার পর থেকে আমাদের এলাকায় খাঁটি দুধের অভাব নেই। অনেক বেকার ছেলেও তার খামার দেখে উৎসাহিত হচ্ছে। এলাকাবাসী হিসেবে আমরা লিটনের এই সাফল্যে গর্বিত।

খামারি কামরুজ্জামান লিটন বলেন, এখানে গরুর প্রধান খাদ্য প্রাকৃতিক ঘাস। বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে বাছুর পালন ও নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতাই এই খামারের সাফল্যের মূল চাবিকাঠি। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং প্রাকৃতিক খাদ্যের কোনো বিকল্প নেই। গরুকে কোনো প্রকার রাসায়নিক খাবার না দিয়ে কাঁচা ঘাস ও খৈল-ভুসি খাওয়ালে খামার লাভজনক হয়।

 নতুনদের উদ্দেশে তিনি পরামর্শ দিয়ে বলেন, ‘বিনা প্রশিক্ষণে খামার করা ঝুঁকিপূর্ণ। কেউ যদি নতুন করে ডেইরি ফার্ম করতে চান, তবে অবশ্যই সঠিক প্রশিক্ষণ নিয়ে মাঠে নামা উচিত। ভবিষ্যতে নিজের এই স্বপ্নের খামারটিকে আরও বৃহৎ পরিসরে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে এই পরিশ্রমী উদ্যোক্তার।

ভুট্টা চাষে চরাঞ্চলে ফিরছে সচ্ছলতা

প্রকাশ: ১৭ মে ২০২৬, ০৯:৫৯ এএম
ভুট্টা চাষে চরাঞ্চলে ফিরছে সচ্ছলতা
কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার গোলাপের চর গ্রামে ভুট্টা শুকানোর কাজ করছেন এক নারী। ছবি: খবরের কাগজ

কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলায় ব্যাপকভাবে ভুট্টা চাষ হচ্ছে। কম খরচ, স্বল্প সেচ ও অনুকূল আবহাওয়ার কারণে গোমতী, মেঘনা ও কাঁঠালিয়ার চরাঞ্চলসহ পুরো উপজেলায় এবার ভুট্টার বাম্পার ফলন হয়েছে। আলু ও ধানের চেয়ে লাভজনক হওয়ায় কৃষকরা রেকর্ড পরিমাণ জমিতে ভুট্টা আবাদ করছেন। মানুষের খাদ্য, মৎস্য ও গোখাদ্য হিসেবে স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এখানকার ভুট্টা সরবরাহ করা হচ্ছে দেশজুড়ে। চরাঞ্চলের শত শত পরিবারে ফিরছে সচ্ছলতা।

উপজেলার ১৫টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভাজুড়ে এখন ভুট্টার হলুদ রং আর সবুজ পাতার সমারোহ। মাঠজুড়ে স্বপ্ন বুনছেন চাষিরা। ইতোমধ্যে কোথাও গাছ থেকে ভুট্টা তোলা শুরু হয়েছে। আবার কোথাও তোলা শেষ হয়েছে। কম সময়ে ও কম পানি ব্যবহার করে ভুট্টা আবাদ করা যায়। এ কারণেই কৃষকরা ভুট্টা চাষে ঝুঁকছেন। 

গোমতী, মেঘনা ও কাঁঠালিয়া নদীর বুকে জেগে উঠেছে একাধিক চর। সেসব চরে গড়ে উঠেছে বসতি, চলছে ফসলের আবাদ। গোমতীর বুকে সবচেয়ে বেশি চর জেগেছে চেঙ্গাকান্দি, গোলাপের চর, বাহেরচর, গঙ্গাপ্রসাদ ও হাসনাবাদ এলাকায়। মানুষের বসতির পাশাপাশি চরের জমিতে বিভিন্ন জাতের ফসল বোনা শুরু হয়েছে।

গোমতী নদীর চরাঞ্চলে এ বছর আবহাওয়া অনুকূল ছিল। ভুট্টায় পোকার আক্রমণ না থাকায় কৃষকরা আশাতীত ফলন পেয়েছেন। কৃষকরা জানান, ভুট্টা আবাদে প্রতি বিঘায় প্রায় ৭-৮ হাজার টাকা খরচ হয়। আলুর জমিতে ভুট্টার আবাদ করলে খরচ কিছুটা কম হয়। ভুট্টার পর একই জমিতে ধানসহ বিভিন্ন ফসলের আবাদ করা যায়।

প্রতি বিঘায় ভুট্টার ফলন আসে ৪০ থেকে ৪৫ মণ। প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও কমপক্ষে ২৫ থেকে ৩০ মণের মতো ফলন হয়। বাজারে নতুন ভুট্টার মণ বিক্রি হচ্ছে ৮০০ থেকে ৯০০ টাকায়।

তবে চাষের কিছু সংকটের কথা জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। বিটেশ্বর গ্রামের কৃষক অসীম সরকার বলেন, ‘প্রতি বছর ছয় মাস পর পর ভুট্টা চাষ শুরু হয়। চাষের শুরুতেই দাম বেড়ে যায় সার ও বীজের। এতে সাধারণ কৃষকরা স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের সুদ নিয়ে চাষ শুরু করেন। ফলন ভালো না হলে পথে বসতে হয় কৃষকদের।’

গোলাপের চর গ্রামের কৃষক বাচ্চু মিয়া বলেন, ‘কৃষি ব্যাংকগুলো ভুট্টা চাষের ওপর ঋণ দিলেও ওই ঋণে ভোগান্তিতে পড়তে হয়। ভুট্টা প্রক্রিয়াজাত কারখানা চালু হলে স্থানীয় বাজারে ভুট্টার দাম নিশ্চিত হওয়ার সঙ্গে এলাকার বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান তৈরি হতো।’

উপজেলার গোমতী নদীর গোলাপের চরের কৃষক মহসিন জানান, দীর্ঘ ১২ বছর ধরে কৃষি বিভাগের সহায়তায় উন্নতজাতের বীজ আবাদের ফলে আগের চেয়ে ভুট্টার ফলন এখন দ্বিগুণ। বর্তমানে প্রতি একর জমি থেকে প্রায় ১২০ মণ থেকে ১৪০ মণ ভুট্টা পাওয়া যায়। এর জন্য খরচ পড়ে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা। একরপ্রতি খরচ বাদে লাভ থাকে ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা।

ভুট্টা চাষে ভাগ্যবদল হয়েছে অনেক প্রান্তিক মানুষের। চেঙ্গাকান্দি গ্রামের কৃষক মজিবুর রহমান জানান, এই এলাকার মানুষের জীবন অনেক কষ্টের ছিল। দিনমজুরি ও নদীতে মাছ ধরে তাদের পরিবার নিয়ে চলতে হতো। ভুট্টার চাষ শুরু হওয়ায় এখানকার মানুষের দিন পরিবর্তন হতে শুরু করেছে। তিনি বলেন, ‘ভুট্টা চাষের পর থেকে আমরা অনেক লাভবান হয়েছি।’

দাউদকান্দি উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, গত মৌসুমে ৭ হাজার ৫৪০ হেক্টর জমিতে ভুট্টা চাষ হয়েছিল। চলতি অর্থবছরে ভুট্টা চাষের জমির পরিমাণ আরও প্রায় ২ হাজার হেক্টর বেড়েছে। প্রতিবছর আলু চাষ ছেড়ে দিয়ে ভুট্টা চাষের দিকে ঝুঁকছেন কৃষকরা।

কেডিসি দাউদকান্দি বাজারের ভুট্টা ব্যবসায়ী শরীফ মিয়া বলেন, ‘আগাম জাতের ভুট্টার  ফলন বেশি হয়, দামও বেশি। প্রতি মণ ভুট্টা ৮০০ থেকে ৯০০ টাকায় বিক্রি হয়। এই এলাকার ভুট্টা কিনতে ঢাকা, কুষ্টিয়া, যশোরসহ বিভিন্ন এলাকার ব্যবসায়ীরা আসেন। তাই কৃষকরা ভুট্টার দামও ভালো পান।’

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ নিগার সুলতানা জানান, গত মৌসুমে এই অঞ্চলে প্রায় ৭২ হাজার টন ভুট্টা উৎপাদন হয়েছিল। এবার উপজেলাজুড়ে আরও ব্যাপক ভুট্টা চাষ হয়েছে। বিশেষ করে নদীর চরগুলোতে ভুট্টা চাষ করে এখন শতাধিক পরিবার স্বাবলম্বী। ভুট্টা চাষের সময় কৃষকদের জমিতে ব্যাপকভাবে ইউরিয়া সার প্রয়োগ করতে হয়। চলতি মৌসুমে শীতের কারণে সেচ কম দেওয়ায় চাষিদের খরচও কম হবে। গোমতী নদীর চরাঞ্চলসহ উপজেলাজুড়ে ভুট্টার বাম্পার ফলন হয়েছে।

নবীনগরে বাড়ছে জাপানের ওকিনাওয়া মিষ্টি আলুর চাহিদা

প্রকাশ: ১৭ মে ২০২৬, ০৯:৪১ এএম
আপডেট: ১৭ মে ২০২৬, ১০:২৪ এএম
নবীনগরে বাড়ছে জাপানের ওকিনাওয়া মিষ্টি আলুর চাহিদা
জাপানের বিখ্যাত ওকিনাওয়া জাতের মিষ্টি আলু। ছবি: সংগৃহীত

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলায় ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে জাপানের বিখ্যাত ওকিনাওয়া জাতের মিষ্টি আলু। চরাঞ্চল ও অনাবাদি জমিতে চাষ হচ্ছে এ আলু।  গত তিন বছর ধরে পরীক্ষামূলক ও উদ্যোক্তা পর্যায়ে চাষ হলেও চলতি মৌসুমে এ আলুর আবাদ করা হয়েছে প্রায় ৩০ বিঘা জমিতে। কৃষক, উদ্যোক্তা ও ভোক্তাদের আগ্রহ বাড়ায় এটি এখন সম্ভাবনাময় একটি ‘সুপারফুড’ ফসল হিসেবে আলোচনায় এসেছে।

স্থানীয় কৃষকরা জানান, অন্যান্য দেশি জাতের তুলনায় ওকিনাওয়া জাতের ফলন অনেক বেশি। প্রতি বিঘায় শতাধিক মণ পর্যন্ত ফলন পাওয়া যাচ্ছে। সংরক্ষণ ক্ষমতা তুলনামূলক বেশি এবং রোগবালাই সহনশীল হওয়ায় কৃষকদের কাছেও এটি দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। সাধারণ কৃষকদের ভাষ্যমতে, প্রতি শতকে তিন মণেরও বেশি উৎপাদন হচ্ছে, যা স্থানীয় অন্যান্য জাতের তুলনায় প্রায় দেড়গুণ বেশি। আলুর আকারও বেশ বড়।

সেদ্ধ কিংবা পোড়ানোর পর এ আলুর ভেতরে দৃষ্টিনন্দন হলুদাভ রং দেখা যায়, যা ভোক্তাদের আকৃষ্ট করছে। স্বাদেও রয়েছে আলাদা মিষ্টতা ও নরম ভাব। কম পানিতে ধীরে ধীরে সিদ্ধ করলে এর স্বাদ আরও ভালো হয়। আবার সেদ্ধ বা পোড়ানো আলু কিছু সময় ফ্রিজে রেখে খেলে মিষ্টতার মাত্রা আরও বৃদ্ধি পায় বলে জানান ভোক্তারা।

অনেকেই মনে করেন, মিষ্টি আলু খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যেতে পারে। তবে পুষ্টিবিদদের মতে, এটি একটি প্রচলিত ভুল ধারণা। মিষ্টি আলুর গ্লাইসেমিক ইনডেক্স তুলনামূলক কম হওয়ায় ডায়াবেটিস রোগীরাও পরিমিত পরিমাণে এটি খেতে পারেন। এতে রয়েছে প্রচুর অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, যা শরীরের ক্ষতিকর ফ্রি রেডিক্যাল কমাতে সহায়তা করে। পাশাপাশি উচ্চমাত্রার খাদ্যআঁশ হজমে সহায়তা করে, দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে সাহায্য করে। এ ছাড়া এতে থাকা ভিটামিন ‘এ’ চোখের দৃষ্টিশক্তির জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। স্বাস্থ্যকর কার্বোহাইড্রেট থাকায় এটি ধীরে ধীরে শক্তি জোগায় এবং দ্রুত ক্ষুধা লাগতে দেয় না।

বিশ্বব্যাপী ওকিনাওয়া মিষ্টি আলু বিশেষভাবে পরিচিত জাপানের ওকিনাওয়া অঞ্চলের খাদ্যসংস্কৃতির কারণে। দীর্ঘায়ু ও সুস্থ জীবনের পেছনে এ আলুকে গুরুত্বপূর্ণ খাদ্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ফলে স্বাস্থ্যসচেতন মানুষের কাছেও এ আলুর জনপ্রিয়তা বাড়ছে।

বড়িকান্দি গ্রামের কৃষক নূর মোহাম্মদ বলেন, ‘গত বছর কৃষক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এই জাতের মিষ্টি আলু সম্পর্কে ধারণা পাওয়ার পর উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসাইনের মাধ্যমে কৃষি অফিস থেকে ভাইন সংগ্রহ করি। পরে প্রথমবারের মতো ২০ শতক জমিতে আবাদ করে প্রায় ৬৫ মণ আলু পেয়েছি।’

দড়িলাপাং গ্রামের কৃষক কামাল মিয়া বলেন, ‘এই আলুর স্বাদ ও চাহিদা দুইটাই ভালো। বাজারেও ভালো দাম পাওয়া যাচ্ছে। গত দুই বছর ধরে তিন বিঘা জমিতে ওকিনাওয়া জাতের মিষ্টি আলু আবাদ করছি। প্রতি বিঘায় প্রায় ১২০ মণের মতো ফলন আসে। স্বল্প খরচে অধিক উৎপাদন হওয়ায় এটি আমাদের জন্য লাভজনক। তাই ভবিষ্যতে আরও বেশি চাষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম লিটন জানান, ‘ওকিনাওয়া জাতের মিষ্টি আলুর প্রতি কৃষকদের আগ্রহ বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলন ও বাজারচাহিদা ভালো থাকায় আগামীতে এর আবাদ আরও বাড়বে। উদ্যোক্তা কৃষকদের প্রশিক্ষণ ও প্রদর্শনীর জন্য ভাইন উৎপাদনে বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। আগামী মৌসুমে ১০০ বিঘা জমিতে ওকিনাওয়া আলু চাষের পরিকল্পনা রয়েছে।

কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে এ জাতের আলুর আবাদ আরও তিনগুণ বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।’

নাটোরে ধান কাটার মজুরি অর্ধেক ফসল

প্রকাশ: ১৭ মে ২০২৬, ০৮:৪৮ এএম
আপডেট: ১৭ মে ২০২৬, ০৮:৫৯ এএম
নাটোরে ধান কাটার মজুরি অর্ধেক ফসল
ছবি: খবরের কাগজ

চলনবিল অঞ্চলের নাটোরের সিংড়া উপজেলায় অতিবৃষ্টি ও বিলের পানিতে প্রায় ৫ শ কৃষকের ধান তলিয়ে গেছে। অবশিষ্ট ধান কাটতেও গুনতে হচ্ছে বাড়তি খরচ। কোথাও শ্রমিকদের দিতে হচ্ছে দৈনিক দেড় হাজার টাকা, আবার কোথাও ধানের অর্ধেক। এতে উৎপাদন খরচ তুলতে না পারার শঙ্কায় হতাশ হয়ে পড়েছেন কৃষকরা।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে সিংড়ায় ৩৬ হাজার ৬১০ হেক্টর জমিতে ধান চাষ হয়েছে। ধান পাকতে শুরু করলে বৃষ্টি শুরু হয়। একই সঙ্গে আত্রাই নদীর পানি বিভিন্ন স্থান দিয়ে বিলে ঢুকে পড়ে। এতে নিচু এলাকার ধান পানিতে তলিয়ে যায়।

স্থানীয় কৃষক, উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগ বিভিন্ন স্থানে বাঁধ দিলেও সব জমি রক্ষা করা যায়নি। জমি ও বিলসংলগ্ন সড়কে পানি জমে থাকায় কাটা ধান বাড়িতে তুলতেও সমস্যা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত প্রায় ৮৭ ভাগ ধান কৃষকের ঘরে উঠলেও শ্রমিকদের পরিশোধ করতে হয়েছে উচ্চমূল্য। এতে ধানচাষে ব্যয় হওয়া টাকা না পাওয়ার শঙ্কায় আছেন কৃষকরা।

সিংড়ার দমদমা এলাকার কৃষক আক্তার হোসেন জানান, ৩০ বিঘা জমিতে ধান চাষ করেছেন। শ্রমিকদের প্রতিদিন ১২০০ থেকে ১৫০০ টাকা মজুরি দিতে হয়েছে। যেখানে স্বাভাবিক সময়ে এই মজুরি ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা।

একই এলাকার কৃষক মজনু মোল্লা বলেন, ‘কয়েক বিঘা জমির ধান কাটতে শ্রমিকদের ধানের অর্ধেক দিতে হয়েছে। পানিতে ভিজে অনেক ধানে চারা গজিয়েছে। এতে ফলনও কমবে। তার ওপর শ্রমিককে বেশি মজুরি দেওয়ায় ক্ষতির পরিমাণ অনেক বেড়েছে।’

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা খন্দকার ফরিদ বলেন, উপজেলার ডাহিয়া, তাজপুর ও শেরকোল ইউনিয়নের ১৫ থেকে ২০ হেক্টর জমির ধান পানিতে তলিয়েছে। কিছু কৃষক বিঘাপ্রতি ৩ থেকে ৫ হাজার টাকা ক্ষতির মুখে পড়বেন। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন প্রায় ৫ শ কৃষক।

তিনি আরও বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা করা হচ্ছে। তাদের সহায়তায় কৃষি বিভাগ ও উপজেলা প্রশাসন কাজ করছে।