ঢাকা ২ শ্রাবণ ১৪৩৩, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
কিংবদন্তি অভিনেত্রী ডলি জহুরের জন্মদিন আজ পুনঃপরীক্ষা নিয়ে মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় ঢাকা শিক্ষা বোর্ড নৌবাহিনী প্রধান হলেন খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম ময়মনসিংহে গ্যাংকার লাইনচ্যুত, দুই রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ অতিরিক্ত ভিড়ে পুরীর রথযাত্রায় নিহত ২, আহত শতাধিক ঢাকায় উদ্বোধন হলো ডেল্টা অ্যাওয়ার্ড ফর আর্কিটেকচার এবং ডেল্টা ফেস্টিভ্যাল অব আর্কিটেকচার ২০২৬ মাদকে বাধা দেওয়ার জেরে বিএনপি নেতা খুন বিমানের বহরে যুক্ত হবে বোয়িং ও এয়ারবাস: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ২ জনের মৃত্যু তিন প্রতিষ্ঠানের খাদ্যপণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ বদলি হলেন বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারের ২৮ কর্মকর্তা আইইউবিতে সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট মেজর চালু ‘ই-হেলথ কার্ড’ ও ‘ডিজিটাল প্রেসক্রিপশন’ ব্যবস্থা বাস্তবায়নের দ্বারপ্রান্তে: স্বাস্থ্যপ্রতিমন্ত্রী হবিগঞ্জে তিন মোটরসাইকেলের সংঘর্ষ, প্রাণ গেল ৩ যুবকের বিশ্বের সম্ভাব্য সব জায়গায় শ্রমবাজার উন্মুক্ত হবে: প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী শাহরাস্তিতে গৃহবুধু হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন শেষ হলো অপেক্ষা, মিলল নিখোঁজ ডুবুরির মরদেহ গণ-অভ্যুত্থানের বিচার জনগণের, আদালতের নয়: ল' ইয়ার্স কাউন্সিল তুরাগে বাবার আছাড়ে প্রাণ গেল ৭ মাসের শিশুর মাদকবিরোধী র‍্যালির জেরে যুবককে কুপিয়ে-পিটিয়ে জখম স্কুল পর্যায়ে নিয়মিত ক্রীড়া কার্যক্রম বাস্তবায়নের তথ্য পাঠানোর নির্দেশ সনাতন ধর্মাবলম্বীরাও সমান সুযোগ পাবেন: পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী মির্জা ফখরুলের সুস্থতা কামনায় দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছে ফিনল্যান্ড বিএনপি ক্যাশলেস স্মার্ট ক্যাম্পাস গড়ে তুলতে যৌথ উদ্যোগ উপায় ও ইউসিএসআই ইউনিভার্সিটির চুক্তি ১৪ অঞ্চলে বজ্রসহ ঝড়ের সতর্কতা তেঁতুলিয়ায় ১৩টি জাল পাসপোর্টসহ যুবক গ্রেপ্তার বন্যায় মৃত্যু বেড়ে ৫৮, ক্ষতিগ্রস্ত ১২ লাখের বেশি মানুষ সিলেটে রথযাত্রা মহোৎসব শুরু ক্লান্তি দূর করার মহৌষধ সন্তানদের অবহেলায় জীবিত থাকতেই কবর তৈরি মায়ের

লিচুতে ৬০০ কোটি টাকার বাণিজ্যের আশা

প্রকাশ: ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১০:১৩ এএম
আপডেট: ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১১:০৫ এএম
লিচুতে ৬০০ কোটি টাকার বাণিজ্যের আশা
উপজেলার মধ্য সাহাপুর মন্ত্রীর মোড় মালিথাপাড়া এলাকার লিচুবাগান। ছবি: খবরের কাগজ

গত বছর আবাদ তেমন না হওয়ায় ঈশ্বরদীর লিচুবাগান মালিকরা লোকসান গুনেছেন। তবে এবার তারা লিচু থেকে লাভের আশা করছেন। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সাড়ে ৩ লাখের বেশি গাছের প্রতিটিতে অসংখ্য লিচু। বাম্পার ফলনের আশা লিচুসংশ্লিষ্ট সবার। এক মাস পরেই কৃষক, ব্যাপারী লিচু বাজারজাত করতে ব্যস্ত হয়ে পড়বেন। 

কৃষকরা বলছেন, গরমের তীব্রতা একটু বেশি থাকলেও লিচু আবাদের অনুকূলে রয়েছে আবহাওয়া। লিচু পরিপক্ব হতে এখন গরম, বৃষ্টি দুটোরই প্রয়োজন রয়েছে। কয়েক দিন আগে বৃষ্টি যেমন হয়েছে, পাশাপাশি গরমও পড়ছে। তবে গরমের তীব্রতা এখনকার চাইতে আরও বেশি হলে লিচুর জন্য ক্ষতি হতে পারে।

উপজেলা কৃষি বিভাগও মনে করছে, লিচু পরিপক্ব হওয়ার আগ পর্যন্ত আবহাওয়া যদি অনুকূলে থাকে, তাহলে এবার ঈশ্বরদীর লিচুর অর্থনীতি হবে ৬০০ কোটি টাকা।

আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার সূত্রে জানা গেছে, গত সপ্তাহজুড়ে ঈশ্বরদীতে তাপমাত্রা ৩৬ থেকে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে উঠানামা করছে। ২০ এপ্রিল ৩৬ দশমিক ৫, ২১ এপ্রিল ৩৭, ২২ এপ্রিল ৩৮, ২৩ এপ্রিল ৩৬ দশমিক ২, ২৪ এপ্রিল ৩৭ দশমিক ২ এবং ২৫ এপ্রিল তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ঈশ্বরদীতে তিন হাজার ১০০ হেক্টর জমিতে লিচুর আবাদ রয়েছে। লিচু বাগানের সংখ্যা ১২ হাজার ৩৬০টি। গাছের সংখ্যা ৩ লাখ ৫৬ হাজার ৫০০। প্রতিটি গাছে ৪ থেকে সাড়ে ৫ হাজার লিচু ধরে থাকে। এ ছাড়া লিচু আবাদ হয়ে থাকে এমন সব এলাকার বাড়ি, বাড়িসংলগ্ন ভিটা জমিতে ২ থেকে ৪টি করে লিচুগাছ রয়েছে। প্রতিবছর লিচুর গাছের সংখ্যা বাড়ছে। উপজেলার ছলিমপুর, সাহাপুর, পাকশী, দাশুড়িয়া, মুলাডুলি ইউনিয়নের প্রত্যন্ত এলাকায় শত শত লিচুর বাগান রয়েছে। তবে সবচেয়ে বেশি লিচু বাগান রয়েছে ছলিমপুর ও সাহাপুর ইউনিয়নে। ঈশ্বরদীতে মোজাফফর ও বোম্বাই জাতের লিচুর বেশি আবাদ হয় বলে এখানকার কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। 

উপজেলার লিচু বাগানগুলো ঘুরে দেখা গেছে, গত বছরের তুলনায় এ বছর গাছে গাছে মুকুলের সমারোহ দেখা যায়। অনেক ব্যবসায়ীরা মুকুল দেখে লিচুবাগান ক্রয় করেন। তবে বেশির ভাগ বাগান মালিক নিজেই পরিচর্যা করে লিচু আবাদ করছেন। গাছে লিচু ধরে রাখতে দিনরাত পরিশ্রম করছেন। 

দুই-তিনজন লিচুবাগান মালিকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গতবারের চাইতে এবার বেশির ভাগ গাছে লিচুর মুকুল আসে। মুকুল থেকে লিচু এখন পরিপক্ব হচ্ছে। এক মাস মধ্যে লিচু পরিপূর্ণ হবে। পরিপূর্ণ হওয়ার আগ পর্যন্ত বড় ধরনের যদি কোনো প্রাকৃতিক বিপর্যয় না আসে তাহলে ঈশ্বরদীতে এবার লিচুর বাম্পার ফলন হবে। কৃষকরা লাভবান হবেন। 

উপজেলার সাহাপুর ইউনিয়নের মধ্য সাহাপুর মন্ত্রীর মোড় মালিথা পাড়া এলাকার ১৫০ লিচুগাছের মালিক আবুল বাশার মালিথা বলেন, কয়েক দিনের গরমে তার শুধু একটি গাছ থেকে বেশ কিছু লিচুর গুটি ঝরে পড়েছে। বাকি অন্যসব গাছের অবস্থা ভালো। তিনি প্রথম থেকে সময়মতো গাছে পানি দেওয়া এবং নিয়মমাফিক কীটনাশক স্প্রে করছেন। তিনি জানান, আবহাওয়া এখনো লিচু আবাদের অনুকূলে আছে। এক মাসের মধ্যে লিচু পরিপক্ব হবে। তবে এ সময়ের মধ্যে তাপমাত্রার তীব্রতা যদি এখনকার চাইতে বেশি বেড়ে যায় তাহলে লিচুর জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে। এ অবস্থায় নিজের অভিজ্ঞতা ও স্থানীয় কৃষি বিভাগের পরামর্শে লিচুর গুটি ধরে রাখার জন্য পরিচর্যা করা হচ্ছে।

কোনো ব্যাপারীর কাছে গাছ বিক্রি না করে নিজেই দেখভাল করে লিচু বিক্রি করবেন এমন ৫০০ লিচুগাছের মালিক উপজেলার সাহাপুর ইউনিয়নের দিয়াড় সাহাপুর গ্রামের বাসিন্দা আরিফুল ইসলাম বলেন, গত বছরের চেয়ে এবার প্রতিটি গাছে অসংখ্য লিচু ধরেছে। শুরুতেই এবার গাছে গাছে চোখ-মন ভরানো মুকুল ছিল। তিনি জানান, ৩৫ বিঘা জমির ওপর গড়ে উঠা লিচুবাগানের ৫০০ গাছ বছরজুড়ে পরিচর্যা করা হয়। অপেক্ষায় থাকা হয় লিচু মৌসুমের। মৌসুম শুরু হলে গাছ পরিচর্যা থেকে শুরু করে লিচু পরিপক্ব হওয়া পর্যন্ত রাত-দিন ব্যস্ত সময় কাটাতে হয়। তিনি বলেন, গুটি থেকে পরিপূর্ণ লিচু হওয়ার সময়টুকু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে আবহাওয়া লিচুর অনুকূলে থাকলে ফল আর লাভ দুটোই এবার পাওয়া যাবে। তিনি জানান, মে মাসের শেষে অথবা জুনের প্রথম সপ্তাহে লিচু পরিপক্ব হবে। পরিপক্ব হওয়ার আগ পর্যন্ত সার্বিকভাবে আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ৫০০ গাছ থেকে ৫০ লাখ টাকার লিচু বিক্রির আশা করছেন চাষি আরিফুল ইসলাম।

সাহাপুর ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানা বলেন, গাছে গাছে শুধু লিচু আর লিচু। লিচুগাছের মালিকরা অত্যন্ত খুশি। তারা এখন লিচুগাছ পরিচর্যা ও লিচুর গুটি রক্ষায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। কেননা, সাহাপুর ইউনিয়নে লিচুগাছের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। চাষিদের লিচু আবাদের বিষয়ে পরামর্শ প্রদানের পাশাপাশি উপজেলা কৃষি অফিসের সার্বিক সহযোগিতা রয়েছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আব্দুল মমিন বলেন, ঈশ্বরদীর লিচুর খ্যাতি রয়েছে দেশব্যাপী। উপজেলায় এবার ৩ হাজার ১০০ হেক্টর জমিতে লিচুর আবাদ রয়েছে। গাছের সংখ্যা ৩ লাখ ৫৬ হাজার ৫০০টি। দেশি মোজাফফর, বোম্পে চায়নাজাতের লিচুর আবাদ বেশি হয় ঈশ্বরদীতে। ইতোমধ্যে কয়েকবার আমরা লিচুর বাগানগুলো ঘুরে দেখেছি। গাছে গাছে শুধু লিচু আর লিচু। দেখে মনে হচ্ছে এবার লিচুর বাম্পার ফলন হবে। তবে সবকিছু নির্ভর করবে আবহাওয়ার ওপর। তাপমাত্রার যথেষ্ট তীব্রতা রয়েছে। তবে এর চাইতে বেশি হলে লিচুর জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে। তিনি জানান, লিচুগাছের সংখ্যা ও গাছ প্রতি লিচুর ফলন অনুযায়ী আশা করা যায় এবার ঈশ্বরদীতে লিচুর অর্থনীতি হবে ৬০০ কোটি টাকা। 

জন্মদিনের আয়োজন ছেড়ে মাঠে

প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬, ০৩:৪৯ পিএম
জন্মদিনের আয়োজন ছেড়ে মাঠে
কৃষিবিজ্ঞানী চাও ইয়াফু

৮৫ বছর বয়সে অনেকেই অবসর জীবন বেছে নেন। কিন্তু চীনের প্রবীণ কৃষিবিজ্ঞানী চাও ইয়াফু এখনও ভোরে মাঠে যান, কৃষকদের সঙ্গে কাদামাটিতে নেমে ধানের চারা রোপণ দেখেন, নতুন প্রযুক্তি শেখান, আর ফসলের ভবিষ্যৎ নিয়ে পরামর্শ দেন। তার কাছে কৃষি শুধু পেশা নয়, এটি আজীবনের অঙ্গীকার।  
চীনের ২৪টি সৌরঋতুর একটি 'কু ইউ'-এর দিনে পূর্ব চীনের চিয়াংসু প্রদেশের তাইচুয়াং গ্রামের ধানক্ষেতে যখন মৌসুমের প্রথম চারা রোপণ শুরু হয়, তখন গ্রামের মানুষ তার ৮৫তম জন্মদিন উদযাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। কিন্তু চাও ইয়াফুকে পাওয়া গেল জন্মদিনের আয়োজনে নয়, ধানক্ষেতের আইলে। পায়ে রাবারের বুট, মাথায় খড়ের টুপি—তিনি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছিলেন চারা রোপণের কাজ। 
কৃষকদের উদ্দেশে তার পরামর্শ ছিল, ‘চারা লাগানোর সঙ্গে সঙ্গেই জমিতে সেচ দিন। সেচ ঠিকভাবে করতে পারলে চাষের অর্ধেক কাজ সফল হয়ে যায়।‘  
১৯৪১ সালে জন্ম নেওয়া চাও ইয়াফু কৃষিবিদ্যায় পড়াশোনা শেষ করে ১৯৬১ সালে চেনচিয়াংয়ের একটি কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠানে যোগ দেন। গবেষণাগারে কাজ করতে গিয়েই তিনি উপলব্ধি করেন, একজন কৃষিবিজ্ঞান তখনই সফল হবেন যখন তার সুফল সরাসরি কৃষকের জমিতে পৌঁছবে। 
১৯৮২ সালে তিনি জাপানে কৃষি প্রযুক্তি বিষয়ে জ্ঞান অর্জনের সুযোগ পান। দেশে ফেরার সময় সঙ্গে আনেন ১৩ বাক্স কৃষিবিষয়ক বই ও প্রযুক্তিগত উপকরণ। আরও এনেছিলেন মাত্র ২০টি স্ট্রবেরির চারা। সেই অল্প কয়েকটি চারা থেকেই শুরু হয় নতুন সম্ভাবনার গল্প। তিনি কৃষকদের স্ট্রবেরি চাষ, সার ব্যবস্থাপনা ও রোগবালাই নিয়ন্ত্রণে প্রশিক্ষণ দেন। প্রথম ফলনই কৃষকদের জন্য এনে দেয় অপ্রত্যাশিত আয়।
২০০১ সালে অবসরের সময় এলেও তিনি বিশ্রাম নেননি। বরং স্বেচ্ছায় চলে যান চেনচিয়াংয়ের অন্যতম দরিদ্র গ্রাম তাইচুয়াংয়ে। তখন গ্রামের মাথাপিছু বার্ষিক আয় ছিল ৩ হাজার ইউয়ানেরও কম, আর গ্রামটি ছিল ঋণের বোঝায় জর্জরিত। 
চাও গ্রামের মানুষকে নিয়ে গড়ে তোলেন একটি সমবায়। তিনি তাদের জৈব পদ্ধতিতে পিচ চাষে উৎসাহিত করেন। শুরুতে অনেকেই দ্বিধায় থাকলেও সফল ফলনের পর ক্রেতাদের আগ্রহ দ্রুত বাড়তে থাকে। পরে নিজের নামেই 'ইয়াফু' কৃষিপণ্যের ব্র্যান্ড ব্যবহারের অনুমতি দেন এবং কৃষকদের সরাসরি শহরের ভোক্তাদের সঙ্গে সংযুক্ত হতে সহায়তা করেন। 
আজ তাইচুয়াং চীনের একটি সফল জৈব কৃষি গ্রামের উদাহরণ। গ্রামের মানুষের গড় বার্ষিক আয় বেড়ে হয়েছে ৪৭ হাজার ইউয়ানেরও বেশি। গ্রামের সমষ্টিগত বার্ষিক আয় ৫০ লাখ ইউয়ান ছাড়িয়েছে।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, গত ২০ বছর ধরে এখানকার ধানক্ষেতে কোনো কৃত্রিম কীটনাশক বা রাসায়নিক সার ব্যবহার করা হয়নি। অথচ ধানের উৎপাদনও স্থিতিশীল রয়েছে। ফলে প্রকৃতিও ফিরে পেয়েছে তার প্রাণ। গ্রীষ্মে ধানক্ষেতে এখন নিয়মিত দেখা মেলে ফড়িং, ব্যাঙ ও নানা প্রজাতির পাখির।
চাও ইয়াফু বলেন, ‘এই ধানক্ষেতে প্রায় ১৫০ প্রজাতির ছোট প্রাণী এবং প্রায় ১০০ প্রজাতির পাখি বাস করে। একটি গ্রামের জন্য এটি সত্যিই অসাধারণ।‘  
তাইচুয়াংয়ের সাফল্য এখন চিয়াংসুর সীমানা ছাড়িয়ে আনহুই, চিয়াংসি-সহ চীনের আরও অনেক প্রদেশে ছড়িয়ে পড়েছে। তার নামে প্রতিষ্ঠিত কৃষি সেবা দল ও প্রযুক্তি কেন্দ্রের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের কৃষি প্রযুক্তিবিদরা কৃষকদের কাছে আধুনিক জ্ঞান পৌঁছে দিচ্ছেন।
চলতি বছর চীনের কমিউনিস্ট পার্টির সর্বোচ্চ সম্মান 'জুলাই ১ পদক'-এ ভূষিত হয়েছেন চাও ইয়াফু। তবে তার কাছে সবচেয়ে বড় পুরস্কার কোনো পদক নয়, বরং কৃষকের মুখের হাসি। 
তিনি বলেন, ‘একজন পার্টি সদস্য ও কৃষিবিজ্ঞানীর দায়িত্ব প্রযুক্তিকে এমন দক্ষতায় রূপান্তর করা, যা কৃষক বাস্তবে কাজে লাগাতে পারবেন এবং যার ফল পাবেন তাদের ফসলের মাঠে।‘ 
৮৫ বছর বয়সেও তাই চাও ইয়াফুর কর্মস্থল কোনো দপ্তর নয়, বরং কৃষকের মাঠ। তার জীবন প্রমাণ করে, মানুষের কল্যাণে নিবেদিত নিষ্ঠার অবসর গ্রহণের কোনো বয়স নেই।
তথ্য ও ছবি- সিএমজি 

হাতিয়ার কৃষিতে ২০ কোটি টাকার ক্ষতির আশঙ্কা

প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬, ১০:৫৮ এএম
আপডেট: ১৪ জুলাই ২০২৬, ১১:২৫ এএম
হাতিয়ার কৃষিতে ২০ কোটি টাকার ক্ষতির আশঙ্কা
হাতিয়ায় ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে গেছে/ খবরের কাগজ

নোয়াখালীর হাতিয়ায় ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় ২০ কোটি টাকার বেশি ক্ষতির আশঙ্কা করছে কৃষি বিভাগ।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, কয়েক দিনের টানা বর্ষণে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। অনেক এলাকায় এখনো পানি নামেনি। এতে প্রায় ২১ হাজার ৫২০ হেক্টর আউস ধান, ১ হাজার ৯২০ হেক্টর আমনের বীজতলা, ৯৫০ হেক্টর মৌসুমি শাকসবজি, ৫৮ হেক্টর ফলের বাগান, ৪ হেক্টর মরিচ এবং ১০ হেক্টর পানের বরজসহ প্রায় ২৫ হাজার হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

দীর্ঘ সময় পানির নিচে থাকায় অনেক খেতের ধান পচে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। অন্যদিকে সবজির খেত প্রায় সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। ব্যাংক ও এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে চাষাবাদ করা কৃষকেরা এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

সোনাদিয়া  ইউনিয়নের কৃষক আরিফ হোসেন খবরের কাগজকে  বলেন, 'এবার প্রায় দুই একর জমিতে আউস ধান আবাদ করেছিলাম। হঠাৎ টানা বৃষ্টিতে পুরো জমি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। ধান হলুদ হয়ে নষ্ট হতে শুরু করেছে। কয়েক লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছি। এখন সেই টাকা কীভাবে উঠবে, বুঝতে পারছি না।'

চর ইশ্বর ইউনিয়নের কৃষক আব্দুল লতিব খবরের কাগজকে বলেন , 'সবজি চাষ করেই সংসার চলে। বেগুন, ঢেঁড়স ও মরিচের পুরো খেত পানিতে ডুবে গেছে। বাজারে বিক্রি করার মতো কিছুই নেই। সরকারি সহায়তা না পেলে নতুন করে চাষাবাদ করা সম্ভব হবে না।

নিঝুমদ্বীপ  ইউনিয়নের কৃষক মো. আব্দুর রহমান খবরের কাগজকে বলেন, 'বীজতলা নষ্ট হয়ে যাওয়ায় আগামী মৌসুমের আমন চাষ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। নতুন করে বীজ সংগ্রহ ও জমি প্রস্তুত করতে অতিরিক্ত খরচ হবে। আগের বিনিয়োগও শেষ, এখন কী করব বুঝতে পারছি না।'

পৌরসভার  কৃষক জিহাদ খবরের কাগজকে  বলেন, 'প্রতি বছরই জলাবদ্ধতায় একই ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে হয়। পানি দ্রুত নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় কৃষকরাই সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েন। স্থায়ী পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না হলে কৃষকেরা চাষাবাদে আগ্রহ হারিয়ে ফেলবেন।'

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে খাল-নালা ভরাট, পানি নিষ্কাশনের স্বাভাবিক পথ সংকুচিত হওয়া এবং অপরিকল্পিত বাঁধ নির্মাণের কারণে বৃষ্টির পানি দ্রুত নামতে পারছে না। ফলে প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে একই ধরনের দুর্ভোগ ও ক্ষতির মুখে পড়ছেন কৃষকেরা।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল বাছেদ সবুজ খবরের কাগজকে বলেন, 'অতিবৃষ্টিতে হাতিয়ার বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়ে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে প্রায় ৮০ হাজার কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ইউনিয়ন পর্যায় থেকে তথ্য সংগ্রহ করে প্রাথমিক প্রতিবেদন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। চূড়ান্ত ক্ষয়ক্ষতির হিসাব নিরূপণের কাজ চলছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে কৃষি বিভাগ কাজ করছে।

এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা দ্রুত প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়ন করে প্রণোদনা, বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ এবং সহজ শর্তে কৃষিঋণের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি হাতিয়ার দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নিরসনে স্থায়ী পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন তারা, যাতে প্রতিবছর একই ধরনের বিপর্যয়ের পুনরাবৃত্তি না ঘটে।

হানিফ সাকিব /তামান্না রুপা/

গোমতীর পানি বাড়ছে, কুমিল্লার চরাঞ্চলে তলিয়ে গেছে ফসল

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৩:২৩ পিএম
আপডেট: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৩:৩০ পিএম
গোমতীর পানি বাড়ছে, কুমিল্লার চরাঞ্চলে তলিয়ে গেছে ফসল
গোমতীর পানি বৃদ্ধি/ ছবি: খবরের কাগজ

উজানের পাহাড়ি ঢলে কুমিল্লার গোমতী নদীর পানি বেড়ে চরাঞ্চলে পানি প্রবেশ করেছে। আগাম জাতের বিভিন্ন সবজি ও কৃষি ফসল তলিয়ে গিয়ে সহস্রাধিক কৃষক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকালে বুড়িচং উপজেলার বালিখাড়া, ভান্তি ও কামারখাড়া এলাকার চরাঞ্চল ঘুরে দেখা যায়, বিস্তীর্ণ সবজিখেত পানিতে তলিয়ে গেছে।

ভান্তি এলাকার কৃষক আবদুল হক জানান, প্রায় ৩ লাখ টাকা বিনিয়োগ করে তিনি আগাম জাতের মূলা ও লাউ চাষ করেছিলেন। হঠাৎ গোমতী নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় তার পুরো খেত পানিতে তলিয়ে গেছে।

আরেক কৃষক আবদুল জলিল জানান, তার ডাঁটা শাক, পুঁইশাক ও চালকুমড়ার খেত পানিতে ভেসে গেছে। তার মতো ভান্তি, কামারখাড়া, বালিখাড়া ও আশপাশের এলাকার শতাধিক কৃষকের ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

কুমিল্লা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মিজানুর রহমান জানান, উজানের পাহাড়ি ঢলে গোমতী নদীর পানি বৃদ্ধির ফলে বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলের হাজারো কৃষকের ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে।

তিনি বলেন, কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে তিনিও মাঠে অবস্থান করে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সঙ্গে কথা বলছেন। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে জরিপ চলছে। জরিপ শেষে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

জহির শান্ত/তামান্না রুপা/

পাহাড় উজাড় ও বিরূপ আবহাওয়ায় সংকটে আলীকদমের মৌচাষিরা

প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৬, ১২:৫২ পিএম
পাহাড় উজাড় ও বিরূপ আবহাওয়ায় সংকটে আলীকদমের মৌচাষিরা
ছবি: সংগৃহীত

পার্বত্য জেলা বান্দরবানের আলীকদমে এক সময় বাণিজ্যিকভাবে মৌ চাষ ও প্রাকৃতিক মধু সংগ্রহের বিপুল সম্ভাবনা দেখা দিলেও বর্তমানে তা চরম সংকটের মুখে। নির্বিচারে পাহাড় কাটা, প্রাকৃতিক বনাঞ্চল ধ্বংস এবং বিরূপ আবহাওয়ার কারণে এই অঞ্চলের মৌ চাষি ও মধু সংগ্রহকারীরা এখন দিশেহারা। আধুনিক প্রযুক্তি, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা এবং বাজারজাতকরণের সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা না থাকায় লোকসানের মুখে পড়ে অনেকেই এই পেশা ছেড়ে দিচ্ছেন।

স্থানীয় চাষি ও পরিবেশকর্মীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, আলীকদমের পাহাড়ি বনাঞ্চলে প্রাকৃতিকভাবে নানা জাতের ফুল ফুটত, যা ছিল মৌমাছির প্রধান খাদ্য উৎস। কিন্তু গত কয়েক বছরে জ্বালানি কাঠের জন্য এবং অবৈজ্ঞানিক উপায়ে পাহাড় কাটার ফলে কমে গেছে বন্য ফুল ও লতাগুল্মের সংখ্যা। ফলে তীব্র খাদ্য সংকটে পড়েছে মৌমাছিরা। অনেক সময় পুরো মৌ-কলোনি বা ঝাঁক এই অঞ্চল ছেড়ে গভীর জঙ্গলে পরিযায়ী হয়ে যাচ্ছে।

উপজেলার ছিলিমপুর এলাকার মৌচাষি মংথোয়াই মারমা বলেন , ‘আগে পাহাড়ে প্রচুর গর্জনের ফুল আর বুনো লতাগুল্ম ছিল। বাক্স বসালেই কয়েক দিনের মধ্যে মধু পাওয়া যেত। এখন পাহাড় ন্যাড়া হয়ে যাচ্ছে, গাছ নাই তো ফুলও নাই। মাছিরা খাবার না পেয়ে বাক্স ছেড়ে পালিয়ে যায়। গত বছর আমার ১০টি বাক্সের মধ্যে ৫টার মাছিই উড়ে চলে গেছে।’

অসময়ের ভারী বৃষ্টিপাত, তীব্র দাবদাহসহ বিরূপ আবহাওয়ার কারণেও মধুর উৎপাদন আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে বলে মনে করেন মধু সংগ্রহকারী জয়নাল আবেদীন। তিনি বলেন, ‘এখন আবহাওয়া আর আগের মত নাই। যখন ফুল ফোটার সময়, তখন হয় অতিরিক্ত গরম পড়ে, না হয় অসময়ে বৃষ্টি এসে ফুলের সব রেণু ধুয়ে নিয়ে যায়। গরম বেশি হলে মৌচাকের ভেতরে ডিম নষ্ট হয়ে যায়। আগে এক একটা বড় চাক থেকে ১৫ থেকে ২০ কেজি মধু পাইতাম, এখন ৫ কেজি পাওয়াই ভাগ্য।’ 

আধুনিক যন্ত্রপাতি ও প্রশিক্ষণের অভাবকেও বড় সমস্যা হিসেবে দেখছেন চাষিরা। তারা বলছেন, কোনো ধরনের আধুনিক যন্ত্রপাতি ছাড়াই পাহাড়ি খাড়া দেয়াল বা উঁচু গাছ থেকে জীবন বাজি রেখে মধু সংগ্রহ করতে হয় তাদের। তাছাড়া উৎপাদিত মধু প্রক্রিয়াজাতকরণের কোনো ব্যবস্থা আলীকদমে নেই। পাহাড়ি মধুর আর্দ্রতা বেশি থাকায় তা দ্রুত নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকে। আর এই সুযোগটি নেয় শহরের একটি সিন্ডিকেট ও মধ্যস্বত্বভোগীরা। 

অঞ্চলটির একাধিক চাষি জানান, অনেক কষ্ট আর ঝুঁকি নিয়ে মধু সংগ্রহ করলেও সঠিক দাম পান না তারা। আলীকদমে মধু রিফাইন করার কোনো মেশিন নেই। এতে নষ্ট হওয়ার ভয়ে কম দামেই শহরের পাইকারদের কাছে বিক্রি করতে হয় মধু। কেজি প্রতি ৪০০-৫০০ টাকা পান চাষিরা। অথচ মধ্যস্বত্বভোগীরা ঢাকা-চট্টগ্রামে নিয়ে তা ১৫০০ টাকায় বিক্রি করেন। এ সমস্যা কাটিয়ে উঠতে সরকারের কাছে কম সুদে ঋণ আর মধু প্রসেসিং সেন্টারের দাবি স্থানীয়দের। 

এ বিষয়ে বান্দরবান কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা রেজাউল করিম বলেন, আলীকদমে মৌচাষের ভালো সম্ভাবনা রয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে মৌবক্সসহ বিভিন্ন ধরনের সহযোগিতা করা হয়েছে। তবে রানি মৌমাছির সংকটের কারণে উৎপাদনে সমস্যা হচ্ছে। ভবিষ্যতে সুযোগ ও বরাদ্দ অনুযায়ী প্রশিক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

জয়পুরহাটে কমেছে পাট চাষ, জাগ দেওয়াই মূল সংকট

প্রকাশ: ০৬ জুলাই ২০২৬, ১১:২০ এএম
আপডেট: ০৬ জুলাই ২০২৬, ১১:৪১ এএম
জয়পুরহাটে কমেছে পাট চাষ, জাগ দেওয়াই মূল সংকট
ছবি: সংগৃহীত

জয়পুরহাটের কৃষকরা পাট চাষে ভালো লাভের স্বপ্ন দেখলেও কাটার পর তা কোথায় জাগ দেওয়া হবে, তা নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন। সরকারি খাল-পুকুর লিজ হওয়া এবং কৃষি বিভাগের সঠিক তদারকি না থাকায় উপযুক্ত জায়গার খোঁজে হন্যে হয়ে ঘুরছেন তারা।

জানা গেছে, সোনালী আঁশ হিসেবে পরিচিত পাট নিয়ে স্বপ্ন দেখেন জয়পুরহাটের কৃষকরা। তবে নানা প্রতিকুলতায় এবার জেলায় কমেছে পাটের চাষ। সদরের বুলুপাড়া, নিশির মোড়, বেলআমলা, কেশবপুর, দোগাছী, জামালপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় গত বছর ব্যাপক পাট দেখা গিয়েছিল। কিন্তু এবারের চিত্র আলাদা। এসব এলাকায় অনেকেই পাট চাষ বাদ দিয়ে অন্য ফসলের চাষ করেছেন।

আগামী ২০ দিনের মধ্যে শুরু হবে পাট কাটা। চলতি মৌসুমে জেলায় ২ হাজার ৪৩৭ হেক্টর জমিতে পাটের চাষ হয়েছে, যা গতবছরের তুলনায় ২০০ হেক্টর কম। এ থেকে উৎপাদন লক্ষমাত্রা ধরা হয়েছে ৩৩ হাজার ২৯৩ বেল।

কৃষকরা জানায়, বিঘাপ্রতি জমিতে পাট চাষ করতে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা খরচ হয়। আর বাজারে ভালো দাম পাওয়া গেলে ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়। তবে কৃষকদের দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে পাট পঁচানোর জন্য জাগ দেওয়ার জায়গা। আশেপাশের খাল, ছোট ছোট পুকুরগুলো ভরাট হয়ে যাওয়ায় ও মাছ চাষ করায় কমে গেছে জাগ দেওয়ার জায়গা। অনেকেই দূর-দূরান্তে উপযুক্ত জলাশয়ের খোঁজ করছেন, আবার কেউ অতিরিক্ত খরচে বিকল্প ব্যবস্থা করছেন। অধিকাংশ কৃষক জানেন না, রিবন রেটিং পদ্ধতি, এতে জায়গাসঙ্কটে বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা।

বেল আমলা এলাকার কৃষক গোপাল চন্দ্র বলেন, ‘পাট চাষ করে বাজারে ভাল দাম না পেলে লাভ হয় না। সবচেয়ে বড় সমস্যা পাট জাগ দেওয়ার জায়গা নেই। এখন যাদের নিজস্ব পুকুর আছে তারাই পাট চাষ করে। সরকার থেকে আমরা কোনো সহযোগিতা পাই না।’

করিমনগর গ্রামের রবিউল ইসলাম বলেন, ‘এক বিঘা জমিতে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা খরচ হয়। সেই হিসেবে আমরা পাটের দাম পাই না। পাট জাগ দেওয়ার জায়গার অভাবে এই এলাকায় এবার অনেকে পাট চাষ করেননি। পুকুর ভাড়া নিতে হয়। আবার নদীতে জাগ দিলে পাট ভেসে যায়। সরকারের পাট জাগ দেওয়ার বিষয়ে আমাদের কোনো প্রশিক্ষণ নেই, আমরা জানিও না সেই পদ্ধতি। কৃষি অফিস থেকে আমাদের কোনো খোঁজও নেয় না। সরকারের কাছে আবেদন এবার যেন আমরা পাটের ন্যায্যমূল্য পাই।’

কেশবপুর গ্রামের মোজাফ্ফর হোসেন বলেন, ‘এবার দুই বিঘা জমিতে পাটের চাষ করেছি। কিন্তু কয়দিন পর পাট কেটে কোথায় জাগ দিব, সেই জায়গা খুজে বেরাচ্ছি। আশপাশে কোনো পুকুর নাই। সরকারি যেসব পুকুর ছিল তা লিজ দিয়েছে। অনেকের পুকুরে মাছ চাষ করার জন্য পাট জাগ দেওয়া যায় না।’ 

একই গ্রামের আনিছুর রহমান বলেন, ‘আমরা পাট চাষ করে বাজারে বিক্রি করতে গেলে সঠিক মূল্য পাই না। ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে পাটের দামে কমিয়ে দেয়। সরকারের কাছে অনুরোধ এবার যেন আমরা পাটের মূল্যটা পাই। পাটের টাকা পাটোক (শ্রমিককে) দিতেই চলে যায়। তাহলে আমাদের পাট চাষ করে লাভ কি?’

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (উদ্যান) সাদিয়া সুলতানা বলেন, ‘অল্প পানিতে পাট পঁচানো যায়, বা রিবন রেটিং পদ্ধতি সম্পর্কে আমরা কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছি। রোগবালাই বিষয়ে আমাদের মাঠ পর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তারা কাজ করছেন।’ 

পাট চাষ কমার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আগে পাটকেন্দ্রিক অনেক শিল্প-কারখানা ছিল। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অনেক কারখানা এখন বন্ধ হয়ে গেছে। তাই পাটের চাহিদা কিছুটা কমায় চাষও কমেছে। তবে সরকার থেকে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এতে করে পাটের আবারও সুদিন ফিরে আসবে।’

সাগর/খাদিজা রুমি/