দিনাজপুরের হিলি সীমান্তবর্তী এলাকায় মৌচাষিরা সরিষা খেত থেকে মধু সংগ্রহে ব্যস্ত সময় পার করছেন। উপজেলার বিভিন্ন সরিষা খেতের পাশে মৌমাছির বক্স বসিয়ে মধু সংগ্রহ করছেন তারা। মৌচাষিরা জানান, সরিষা ফুল থেকে মধু সংগ্রহে তারা আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন এবং বেকারত্বও দূর হচ্ছে। এদিকে উপজেলা কৃষি অফিসের কর্মকর্তারা বলেন, মৌ চাষের কারণে সরিষার ফলন বৃদ্ধি পাচ্ছে। মৌচাষিরা মধু বিক্রি করে আয়ের পাশাপাশি কৃষির উন্নয়নেও অবদান রাখছেন।
মৌচাষিরা জানান, সরিষা খেতের পাশে খোলা জায়গায় মৌচাকভর্তি বাক্স রাখেন। প্রতিটি বাক্সে ৬ থেকে ৭টি ফ্রেম থাকে, যেগুলো মোম দিয়ে তৈরি। বক্সের মধ্যে একটি রানি মৌমাছি থাকে, যার আকর্ষণে হাজারও পুরুষ মৌমাছি ওই বাক্সে এসে মধু সংগ্রহ করে। প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মধু সংগ্রহের কাজ চলে।
মৌচাষি আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘তিনি সাতক্ষীরার শ্যামনগর থেকে মধু সংগ্রহ করতে আসেন। তার বাক্সগুলো কাঠ দিয়ে তৈরি, যার ওপরের অংশ কালো পলিথিন ও চট দিয়ে মোড়ানো থাকে। প্রতিটি বাক্সের ভেতরে ৭টি কাঠের ফ্রেম থাকে, যেখানে মোম দিয়ে বিশেষভাবে সিট লাগানো থাকে। তিনি বলেন, প্রতি কেজি মধু ৪০০ টাকায় বিক্রি করছেন।
মধু সংগ্রহকারী আসাদুল জামান বলেন, তারা বছরে চার মাস সরিষা খেত থেকে মধু সংগ্রহ করেন। বাকি আট মাস কৃত্রিম পদ্ধতিতে মৌমাছিদের খাওয়ানো হয়। ডিসেম্বর থেকে এপ্রিল পর্যন্ত সরিষা খেত থেকে মধু সংগ্রহের উপযুক্ত সময়। তিনি জানান, প্রতিদিন ৭-৮ কেজি মধু সংগ্রহ হয়। তার ১৬০টি বাক্স রয়েছে।
মধু সংগ্রহ করতে আসা মিজানুর রহমান জানান, তিনি সরিষার ফুল থেকে মধু সংগ্রহকারী মৌচাষিদের কাছ থেকে খাঁটি মধু কিনেছেন। তিনি বলেন, মধুতে আসল স্বাদ রয়েছে, তা সরিষা ফুলের মধু থেকে পাওয়া যায়।
মাঝে মাঝে স্থানীয়রা সরিষার ফুল থেকে মধু সংগ্রহের দৃশ্য দেখে মধু কিনতে আসেন। আব্দুল রাজ্জাক ঘোড়াঘাট থেকে মোটরসাইকেলযোগে হিলি শহরে যাচ্ছিলেন। তিনি জানান, সরিষা ফুল থেকে মধু সংগ্রহের বিষয়টি দেখে মধু কিনেছেন।
তিনি বলেন, মধুর আসল স্বাদ পেয়ে তিনি এক কেজি মধু কিনে নিয়ে গেছেন।
হাকিমপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোছা. আরজেনা বেগম জানান, চলতি মৌসুমে সরিষার আবাদ বেড়েছে। এ বছর ২ হাজার ৬৪২ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছে। কৃষি অফিসের কর্মকর্তারা চাষিদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন।
তিনি আরও বলেন, সরিষা খেতের পাশে মৌমাছির চাষ করলে সরিষার ফলন ১০ গুণ বৃদ্ধি পায়। মধু সংগ্রহ করা একটি লাভজনক ব্যবসা, যার ফলে মৌচাষিরা আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন। একই সঙ্গে সরিষার ফলনও ভালো হচ্ছে।