ঢাকা ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
শাহজালালের কার্গো শেডে আগুন শূন্যরেখায় মানবেতর জীবন শিকলবাহায় হত‍্যাকারীদের ফাঁসির দাবিতে মরদেহ নিয়ে মহাসড়কে বিক্ষোভ অ্যালামনাই প্ল্যাটফর্ম ০২০৪ ব্যাচের বন্ধুদের ঈদ পরবর্তী পুনর্মিলনী মায়ানমারে পাচারকালে দেড় হাজার বস্তা সিমেন্ট আটক ৫২ মরুভূমিতে বিকল ট্রাক, পানির অভাবে ৪৯ জনের মৃত্যু মেধা ও ক্রীড়াবান্ধব জাতি গঠনে সরকার বহুমুখী কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী নোয়াখালীতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মিছিল আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল ভক্তদের শোডাউন সরকারকে ৭ দিনের আলটিমেটাম ইনকিলাব মঞ্চের প্রথমবার এআই তৈরি করল ‘সুপার-ভ্যাকসিন’ হাদি হত্যা মামলার বাদীকে নিয়ে বোনের প্রশ্ন? জয়পুরহাট সীমান্তে পুশইনের চেষ্টা, বিজিবির টহল জোরদার রাজনীতি এক ভয়ংকর পরিস্থিতির দিকে ধাবিত হচ্ছে: মির্জা ফখরুল হজ শেষে দেশে ফিরলেন ২৯,৬৯৪ হাজি নারায়ণগঞ্জে ১৭ বন্যপাখি উদ্ধার ও অবমুক্ত হান্নানের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির তথ্য ফাঁস, ছাত্রদল নেতার বাড়িতে হামলার অভিযোগ নায়িকা মিমির বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট, শেষ দেখে নেওয়ার হুমকি! দোয়া গুরুত্বপূর্ণ এক ইবাদত সংসদ ভবন এলাকায় আগ্নেয়াস্ত্র বহনসহ মিছিল-সমাবেশে নিষেধাজ্ঞা কটাক্ষের শিকার আনুশকা কলকাতার মেয়র পদ ছাড়লেন ফিরহাদ হাকিম চট্টগ্রামে কাফনের কাপড় পরে যুবলীগের বিক্ষোভ মিছিল হরোস্কোপের গোলকধাঁধায় ভবিষ্যৎ ভাবনা বিয়ে করলেন উপস্থাপিকা দীপ্তি চৌধুরী উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের মানসিকতা সরকারের নেই: তথ্য প্রতিমন্ত্রী দিনে দিনেই ঘুরে আসুন মৈনট ঘাট থেকে পাবনায় ২০০ একর জমির ওপর বিসিক শিল্পনগরী গড়ে তোলা হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী সবার সহযোগিতায় বাসডুবিতে কোনো প্রাণহানি ঘটেনি: নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী
Nagad desktop

পরীক্ষামূলক বৈদ্যুতিক গাড়ি তৈরি করেছে বিএমডব্লিউ এম

প্রকাশ: ০৪ জানুয়ারি ২০২৫, ০৬:১০ এএম
পরীক্ষামূলক বৈদ্যুতিক গাড়ি তৈরি করেছে বিএমডব্লিউ এম
এম২ মডেলের গাড়িতে জ্বালানি ইঞ্জিনের পরিবর্তে বৈদ্যুতিক ইঞ্জিন যুক্ত করা হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

বিদ্যুৎচালিত গাড়ি তৈরিতে কাজ করছে অটোমোবাইল নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বিএমডব্লিউ। প্রতিষ্ঠানটির বিএমডব্লিউ এম বিভাগ তাদের ইলেকট্রিক গাড়ি উন্নত করার অংশ হিসেবে এম২ মডেলের একটি ইলেকট্রিক সংস্করণ পরীক্ষায় ব্যবহার করেছে। এই গাড়িটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘বিস্ট’।

গাড়ি নির্মাণের সময় পরীক্ষামূলকভাবে বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ব্যবহার করা হয়। এগুলো সাধারণত অসম্পূর্ণ থাকে এবং খরচও অনেক বেশি হয়। তবে বিএমডব্লিউ এম২-এর এই পরীক্ষামূলক গাড়িটি দেখলে হয়তো আপনার নজর কাড়বে।

২০১৮ সালে বিএমডব্লিউ এম বিভাগ এই প্রকল্প শুরু করে। তাদের লক্ষ্য ছিল ইলেকট্রিক গাড়ির গতিশীলতার উন্নত করা। তবে নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন এমন একটি এম২ মডেলকে দিয়ে শুরু হয় এই যাত্রা। এম২ মডেলকে ইলেকট্রিক সংস্করণে রূপান্তর করে বিভিন্ন পরীক্ষা চালানো হয়েছে।

‘বিএমডব্লিউ এম ইলেকট্রিফায়েড’ নামের ইউটিউব সিরিজের দ্বিতীয় পর্বে বিএমডব্লিউ তাদের আসন্ন বিদ্যুৎচালিত স্পোর্টস সেডানের পরীক্ষামূলক গাড়িটি দেখিয়েছে। এই পর্বে কোম্পানির ইঞ্জিনিয়ারি দলের কাজের প্রশংসা করেছে কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ। ভিডিওটিতে কোম্পানির পুরোনো পরীক্ষা-নিরীক্ষার কথা উঠে এসেছে। 

আশ্চর্যের বিষয় হলো, কোম্পানিটি তাদের পুরোনো একটি পরীক্ষামূলক গাড়িও দেখিয়েছে। এম২ মডেলের গাড়িতে জ্বালানি ইঞ্জিনের পরিবর্তে বৈদ্যুতিক ইঞ্জিন যুক্ত করা হয়েছে। গাড়ির গতিশীলতা ও ব্যাটারি-ইলেকট্রিক পাওয়ারট্রেন পরীক্ষার জন্য এই এম২ ব্যবহার করা হয়েছে। বিএমডব্লিউ এম-এর ড্রাইভিং ডাইনামিকস বিভাগের মাইকেল সেইলার জানান, এই পরীক্ষামূলক গাড়ির নাম দেওয়া হয়েছিল ‘বিস্ট’। ভিডিওতে সেইলার জানান, বিস্ট আসলে খুব একটা পরিশীলিত ছিল না। এটি নিয়ন্ত্রণ করা সত্যি কঠিন ছিল। এই প্রকল্প ২০১৮ সালে একটি ছোট দলের মাধ্যমে শুরু হয়েছে।

ইলেকট্রিক গাড়ির সম্ভাবনা যাচাইয়ের প্রথম ধাপ হিসেবে কাজ করেছে এম বিভাগ। ভিডিওতে দেখা যায়, প্রকৌশল দলের কঠোর পরিশ্রম ও বোর্ডের সমর্থনে গাড়িটি উন্নত করা সম্ভব হয়েছে। তাদের প্রচেষ্টা ইলেকট্রিক স্পোর্টস কারে বিএমডব্লিউর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করেছে। 

চীনের ইভি প্রযুক্তিতে গাড়ি বানাবে ভারতের টাটা

প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৬, ০৫:৩৯ পিএম
চীনের ইভি প্রযুক্তিতে গাড়ি বানাবে ভারতের টাটা
বৈদ্যুতিক গাড়ি অভিন্ন

ভারতের টাটা মোটরস চীনের জনপ্রিয় বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্র্যান্ড চেরির প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে তাদের প্রিমিয়াম ব্র্যান্ড ‘অভিন্ন’ ইলেকট্রিক গাড়ি তৈরি করতে যাচ্ছে। 
গণমাধ্যমের তথ্যমতে, চেরি ও জাগুয়ার ল্যান্ড রোভারের যৌথ উদ্যোগে তৈরি ‘ফ্রিল্যান্ডার’ প্লাটফর্মটি ব্যবহার করবে টাটা। গাড়িগুলো দক্ষিণ ভারতের তামিলনাড়ুর নতুন কারখানায় তৈরি হবে। 
২০২৭ সালে অভিন্ন’র প্রথম মডেলটি বাজারজাত করার পরিকল্পনা রয়েছে টাটার। এটি চীন থেকে সরঞ্জাম এনে ভারতে সংযোজন করা হবে। 
মূলত ২০২৫ সালের মধ্যে জেএলআর-এর নিজস্ব আর্কিটেকচার ব্যবহারের আগের পরিকল্পনাটি ভেস্তে যাওয়ার পর, টাটা চীনের এই উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেয়। এই চুক্তির ফলে টাটা অত্যন্ত দ্রুত এবং কম খরচে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির জগতে প্রবেশ করতে যাচ্ছে টাটা। 

সূত্র: সিএমজি

ভলভোর নতুন ইলেকট্রিক এসইউভি ‘ইএক্স৬০’

প্রকাশ: ২৪ মে ২০২৬, ০৬:০৫ পিএম
ভলভোর নতুন ইলেকট্রিক এসইউভি ‘ইএক্স৬০’
ছবি: সংগৃহীত

বৈশ্বিক অটোমোবাইল শিল্প এখন দ্রুত সফটওয়্যার ও প্রযুক্তিনির্ভর হয়ে উঠছে। এই ধারাবাহিকতায় সুইডিশ গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ভলভো তাদের নতুন ২০২৭ মডেলের ‘ইএক্স৬০’ এসইউভি গাড়ি উন্মোচন করেছে। সম্প্রতি স্পেনের বার্সেলোনায় গাড়িটির পরীক্ষামূলক চালনা সম্পন্ন হয়। ভলভোর জনপ্রিয় জ্বালানিচালিত এক্সসি৬০ মডেলের বিকল্প হিসেবে তৈরি এই বৈদ্যুতিক গাড়িটি মূলত প্রতিষ্ঠানটির ভবিষ্যৎ ডিজিটাল প্রযুক্তির সক্ষমতা তুলে ধরছে।

গাড়িটিতে ব্যবহার করা হয়েছে ভলভোর নিজস্ব ‘হাগিনকোর’ সেন্ট্রাল নার্ভাস সিস্টেম। গুগল, এনভিডিয়া ও কোয়ালকমের যৌথ প্রযুক্তিতে তৈরি এই সিস্টেম গাড়িটিকে একটি চলন্ত কম্পিউটারে রূপান্তর করেছে। এর ফলে গাড়িটি নিয়মিত ওভার দ্য এয়ার (ওটিএ) আপডেট পাবে। একই সঙ্গে এর সক্রিয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালকের আচরণ ও চারপাশের পরিস্থিতি দ্রুত বিশ্লেষণ করতে পারবে। ভলভোর নতুন ‘এসপিএ৩’ প্ল্যাটফর্মে তৈরি এই গাড়ির চ্যাসিস ও ব্যাটারি সংযুক্ত অবস্থায় থাকায় এর ওজন অনেক কমে এসেছে।

চলতি গ্রীষ্মে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে আসতে যাওয়া ইএক্স৬০ গাড়িটি কয়েকটি সংস্করণে পাওয়া যাবে। এর প্রারম্ভিক সংস্করণ ‘পি৬’ একক মোটরের রিয়ার-হুইল ড্রাইভ প্রযুক্তিসম্পন্ন, যা ৩৬৯ হর্সপাওয়ার উৎপাদন করতে পারে। এতে রয়েছে ৮০ কিলোওয়াট-আওয়ারের ব্যাটারি, যা একবার পূর্ণ চার্জে ৩০৭ মাইল পথ পাড়ি দিতে সক্ষম। অন্যদিকে, শক্তিশালী ‘পি১০’ সংস্করণটি দ্বৈত মোটরের অল-হুইল ড্রাইভসমৃদ্ধ। এটি ৫০৩ হর্সপাওয়ার উৎপাদন করে এবং এর ৯১ কিলোওয়াট-আওয়ারের ব্যাটারি সর্বোচ্চ ৩২২ মাইল রেঞ্জ দেয়। ৮০০ ভোল্টের ইলেকট্রিক আর্কিটেকচারের কারণে মাত্র ১০ মিনিটে গাড়িটিতে ১৬০ মাইলেরও বেশি রেঞ্জ যুক্ত করা সম্ভব। এছাড়া চলতি বছরের শেষ নাগাদ ৬৭০ হর্সপাওয়ারের একটি ‘পি১২’ সংস্করণ বাজারে আসবে।

গাড়িটির ভেতরে স্ক্যান্ডিনেভিয়ান শৈলীর চমৎকার ও ছিমছাম নকশা চোখে পড়ে। ড্যাশবোর্ডে রয়েছে ১৫ ইঞ্চির ওএলইডি টাচস্ক্রিন, যা গুগলের অ্যান্ড্রয়েড সিস্টেমে চলে। এতে গুগলের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ‘জেমিনাই’ যুক্ত করা হয়েছে, যা চালকের সাধারণ কথার উত্তর দিতে পারে। গাড়িটির কেবিন বেশ প্রশস্ত এবং এর আসনগুলো অত্যন্ত আরামদায়ক। তবে ভেন্টিলেশন ও এসির মতো গুরুত্বপূর্ণ নিয়ন্ত্রণগুলো সম্পূর্ণ টাচস্ক্রিননির্ভর হওয়ায় চলন্ত অবস্থায় তা পরিচালনা করা কিছুটা জটিল মনে হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ভলভো ইএক্স৬০-এর প্রাথমিক দাম ধরা হয়েছে ৫৯ হাজার ৭৯৫ মার্কিন ডলার। পারফরম্যান্স ও প্রযুক্তির তুলনায় এই দাম জার্মান প্রতিযোগী অডি কিউ৬ ই-ট্রন বা বিএমডব্লিউ আইএক্স৩-এর চেয়ে বেশ সাশ্রয়ী। শূন্য থেকে ঘণ্টায় ৬০ মাইল গতি তুলতে পি৬ সংস্করণের সময় লাগে ৫ দশমিক ৭ সেকেন্ড এবং পি১০ সংস্করণের লাগে মাত্র ৪ দশমিক ৪ সেকেন্ড। আধুনিক প্রযুক্তি, আকর্ষণীয় ডিজাইন এবং চমৎকার রাইডিং কমফোর্টের কারণে ভলভোর এই প্রিমিয়াম ইলেকট্রিক গাড়ি বাজারে বেশ ভালো সাড়া ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ঝুঁকিমুক্ত যাতায়াতে গাড়ির সাসপেনশন ও স্টিয়ারিংয়ের যত্ন

প্রকাশ: ২২ মে ২০২৬, ০৩:৪৫ পিএম
আপডেট: ২২ মে ২০২৬, ০৩:৪৬ পিএম
ঝুঁকিমুক্ত যাতায়াতে গাড়ির সাসপেনশন ও স্টিয়ারিংয়ের যত্ন
ছবি: সংগৃহীত

গাড়ির চাকা ও ব্রেক যতটা গুরুত্বপূর্ণ, ঠিক ততটাই জরুরি এর সাসপেনশন ও স্টিয়ারিং সিস্টেম। নিরাপদ ও আরামদায়ক যাতায়াতের জন্য এই দুটি অংশ সব সময় সচল রাখা প্রয়োজন। বাংলাদেশের সড়কের বর্তমান অবস্থায় গাড়ির এই গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশগুলোর ওপর বেশ বাড়তি চাপ পড়ে। একটু সচেতন হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ও আর্থিক ক্ষতি এড়ানো সম্ভব।

গাড়ির সাসপেনশন মূলত রাস্তা থেকে আসা ঝাঁকুনি শোষণ করে। এটি গাড়িকে সড়কের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ রাখতে সাহায্য করে। অন্যদিকে স্টিয়ারিং সিস্টেম গাড়ির দিক নিয়ন্ত্রণ করে। চালকের নির্দেশ অনুযায়ী গাড়িকে ডানে বা বামে মোড় নিতে সাহায্য করে এটি। এই দুটি সিস্টেমের একটিতে সমস্যা হলে অন্যটির ওপর সরাসরি প্রভাব পড়ে।

সাসপেনশন নষ্ট হওয়ার অন্যতম প্রধান লক্ষণ অতিরিক্ত ঝাঁকুনি। গাড়ি চালানোর সময় যদি স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি কম্পন অনুভূত হয়, তবে বুঝতে হবে শক অ্যাবজর্বার ও স্প্রিং দুর্বল হয়ে গেছে। এছাড়া মোড় নেওয়ার সময় গাড়ি একদিকে হেলে পড়লে বা ব্রেক করার সময় সামনের দিকে বেশি ঝুঁকে গেলেও সাসপেনশন পরীক্ষা করা জরুরি।

স্প্রিং বা বল জয়েন্ট ঢিলে হয়ে গেলে স্টিয়ারিংয়ে সমস্যা দেখা দেয়। গাড়ি সোজা চালানোর সময়ও যদি স্টিয়ারিং হুইল একদিকে টেনে ধরে, তবে চাকার অ্যালাইনমেন্টে সমস্যা রয়েছে। আবার স্টিয়ারিং ঘোরাতে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি শক্তির প্রয়োজন হলে বুঝতে হবে পাওয়ার স্টিয়ারিং ফ্লুইড কমে গেছে। অনেক সময় ফ্লুইড লিকেজ হওয়ার কারণেও এমনটি হতে পারে।

নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে এই দুটি সিস্টেম দীর্ঘদিন ভালো রাখা যায়। প্রতি ১০ হাজার কিলোমিটার পরপর চাকার ব্যালান্সিং এবং হুইল অ্যালাইনমেন্ট পরীক্ষা করা উচিত। এটি চাকার অসমান ক্ষয় রোধ করে এবং স্টিয়ারিংয়ের নিয়ন্ত্রণ নিখুঁত রাখে। ভাঙাচোরা বা খানাখন্দে ভরা রাস্তায় গাড়ির গতি নিয়ন্ত্রণে রাখা অত্যন্ত জরুরি। দ্রুতগতিতে গর্তে পড়লে সাসপেনশনের বল জয়েন্ট, বুশিং ও স্ট্রাট দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

গাড়ি সার্ভিসিং করার সময় চ্যাসিসের নিচের অংশ ভালো করে ধুয়ে পরিষ্কার করা প্রয়োজন। কাদা ও বালু জমে বুশিংয়ের রাবার নষ্ট হয়ে যায়। এছাড়া পাওয়ার স্টিয়ারিংয়ের তেলের স্তর নিয়মিত পরীক্ষা করা এবং নির্দিষ্ট সময় পর পর তা পরিবর্তন করা উচিত।

গাড়ির সাসপেনশন ও স্টিয়ারিংয়ে কোনো অস্বাভাবিক শব্দ বা ত্রুটি লক্ষ করলে অবহেলা করা ঠিক নয়। সময়মতো ছোটখাটো মেরামত না করলে পরবর্তী সময়ে পুরো সিস্টেমটি পরিবর্তন করতে হতে পারে। এতে মেরামতের খরচ অনেক বেড়ে যায়। নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক ভ্রমণের জন্য গাড়ির এই দুটি প্রধান অংশের নিয়মিত যত্ন নেওয়া প্রত্যেক গাড়িচালকের দায়িত্ব।

কিয়ার ভিশন মেটা ট্যুরিজমো ভবিষ্যতের স্পোর্টস কার

প্রকাশ: ২০ মে ২০২৬, ১০:২৪ পিএম
কিয়ার ভিশন মেটা ট্যুরিজমো ভবিষ্যতের স্পোর্টস কার
ছবি: সংগৃহীত

অটোমোবাইল জগতে প্রথাগত বৈদ্যুতিক গাড়ির ধারণা বদলে দিতে নতুন এক কনসেপ্ট কার উন্মোচন করেছে দক্ষিণ কোরীয় প্রতিষ্ঠান কিয়া। সম্প্রতি মিলান ডিজাইন উইকে তারা প্রদর্শন করেছে ‘ভিশন মেটা ট্যুরিজমো’। এটি কেবল একটি গাড়ি নয়, বরং ডিজিটাল প্রযুক্তি ও যান্ত্রিক দক্ষতার এক অনন্য সমন্বয়।

কিয়া এই গাড়িটিকে তাদের ‘অপোজিটস ইউনাইটেড’ দর্শনের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করেছে। প্রতিষ্ঠানটির গ্লোবাল ডিজাইন প্রধান করিম হাবিব জানিয়েছেন, ভিশন মেটা ট্যুরিজমো কিয়ার ভবিষ্যৎ যাত্রার একটি মাইলফলক। এটি মূলত মানুষের আবেগ ও অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সংমিশ্রণে তৈরি এক বৈদ্যুতিক বাহন।

বাহিরের নকশা
গাড়িটির বাহ্যিক রূপ দেখতে বেশ গতিশীল। এর নিচু ও চওড়া কাঠামো একে একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন স্পোর্টস কারের রূপ দিয়েছে। এর পেছনের অংশটি তীক্ষ্ণভাবে কাটা এবং এতে রয়েছে অতি সরু আলোকসজ্জা, যা বাতাসের বাধা কমিয়ে গতি বাড়াতে সাহায্য করে। ডিজাইনাররা জানান, গাড়িটির কাঠামো তৈরিতে তারা যুদ্ধবিমান বা অ্যাভিয়েশন থেকে অনুপ্রেরণা নিয়েছেন।

অভ্যন্তরীণ রূপান্তর
প্রথাগত গাড়ির ভেতরের সজ্জার তুলনায় ভিশন মেটা ট্যুরিজমো অনেক বেশি বৈপ্লবিক। এর কেবিনকে গতিশীল ড্রাইভিং, ডিজিটাল মিথস্ক্রিয়া ও আরামদায়ক বিশ্রামের জন্য তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে। গাড়িটি যখন স্থির অবস্থায় থাকে, তখন এর আসন ১৮০ ডিগ্রি ঘুরিয়ে একে অপরের মুখোমুখি বসা যায়। এমনকি এতে অগমেন্টেড রিয়েলিটি (এআর) প্রযুক্তির মাধ্যমে ভার্চুয়াল জগতের সুবিধাও নেওয়া সম্ভব।

ডিজিটাল প্রযুক্তি ও গেমিং
এই কনসেপ্ট কারের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক এর স্টিয়ারিং ব্যবস্থা, যা অনেকটা গেমিং কন্ট্রোলারের মতো। এতে স্পিডস্টার, ড্রিমার ও গেমার–তিনটি মোড রয়েছে। চালক চাইলে গাড়িটিকে পারফরম্যান্স মোডে চালাতে পারেন; আবার গেমার মোডে গাড়িটি একটি সামাজিক আড্ডার কেন্দ্রে পরিণত হয়। বৈদ্যুতিক গাড়ি হওয়া সত্ত্বেও এতে কৃত্রিম ইঞ্জিনের শব্দ এবং ভাইব্রেশন যোগ করা হয়েছে, যাতে চালক যান্ত্রিক অনুভব করতে পারেন।

যদিও ভিশন মেটা ট্যুরিজমো এখনই সড়কে নামছে না, তবে এটি ভবিষ্যতের যাতায়াত ব্যবস্থার এক স্পষ্ট ইঙ্গিত। কিয়া প্রমাণ করতে চাইছে, একটি বৈদ্যুতিক গাড়ি কেবল গন্তব্যে পৌঁছানোর মাধ্যম নয়, এটি বিনোদন ও বিশ্রামের একটি বহুমুখী ডিজিটাল স্থান হতে পারে। 

দেশের বাজারে বিওয়াইডির নতুন তিন মডেলের গাড়ি

প্রকাশ: ১৯ মে ২০২৬, ১০:৩৫ পিএম
দেশের বাজারে বিওয়াইডির নতুন তিন মডেলের গাড়ি
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের বাজারে নতুন তিন মডেলের পরিবেশবান্ধব নিউ এনার্জি ভেহিকল (এনইভি) নিয়ে এসেছে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বিওয়াইডি। নতুন মডেলগুলোর মধ্যে রয়েছে সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক গাড়ি ‘বিওয়াইডি সিল ৬’, হাইব্রিড সেডান ‘বিওয়াইডি সিল ৫’ এবং অল-হুইল-ড্রাইভ প্রযুক্তির হাইব্রিড এসইউভি ‘ বিওয়াইডি সিলায়ন ৬ এডব্লিউডি’।

রবিবার (১৭ মে) সন্ধ্যায় ঢাকার ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) এক জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে গাড়ি তিনটি উন্মোচন করা হয়েছে। দেশের সড়কে পরিবেশবান্ধব, স্মার্ট ও উন্নত প্রযুক্তির যোগাযোগব্যবস্থা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এই গাড়িগুলো আনা হয়েছে বলে জানিয়েছে বিওয়াইডি।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিওয়াইডি এশিয়া-প্যাসিফিক অটো সেলস ডিভিশনের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার কেৎসু ঝ্যাং। এ সময় সিজি রানার বাংলাদেশ লিমিটেডের চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান খান, ম্যানেজিং ডিরেক্টর আমিদ সাকিফ খান, বিওয়াইডি বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজার চার্লস রেন ও চিফ মার্কেটিং অফিসার ইমতিয়াজ নওশেরসহ খাত-সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে প্রি-অর্ডার করা ৬০টি বিওয়াইডি গাড়ি গ্রাহকদের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়।

বিওয়াইডি সিল ৫
এটি মূলত একটি প্লাগ-ইন হাইব্রিড ইলেকট্রিক সেডান। ১ হাজার ৫০০ সিসির ইঞ্জিনচালিত এই গাড়িতে বিওআইডির নিজস্ব ‘ডিএম-আই’ প্রযুক্তি ও ব্লেড ব্যাটারি ব্যবহার করা হয়েছে। একবারের পূর্ণ জ্বালানি ট্যাংক ও চার্জে গাড়িটি সর্বোচ্চ ১ হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত চলতে সক্ষম। এতে রয়েছে অ্যাডভান্সড ড্রাইভার অ্যাসিস্ট্যান্স সিস্টেম (এডিএএস) সেফটি প্রযুক্তি, ৩৬০ ডিগ্রি ক্যামেরা ও ১২.৮ ইঞ্চির ইনফোটেইনমেন্ট সিস্টেম।

বিওয়াইডি সিল ৬
সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক (ইভি) এই সেডানটি একবার পূর্ণ চার্জে সর্বোচ্চ ৪১০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে পারে। এতে রয়েছে ৯৫ কিলোওয়াট শক্তির মোটর ও ডিসি ফাস্ট চার্জিং সুবিধা। নিরাপত্তার জন্য গাড়িটিতে এডিএএস প্রযুক্তির পাশাপাশি অ্যাপল কারপ্লে ও অ্যান্ড্রয়েড অটো সমর্থিত ইনফোটেইনমেন্ট ব্যবস্থা রয়েছে।

বিওয়াইডি সিলায়ন ৬ এডব্লিউডি
প্রিমিয়াম ক্যাটাগরির এই হাইব্রিড এসইউভি গাড়িটিতে ১ হাজার ৫০০ সিসির টার্বোচার্জed ইঞ্জিন রয়েছে। শুধু ব্যাটারির শক্তিতে এটি ১২৮ কিলোমিটার পর্যন্ত চলতে পারে। পারিবারিক ও দীর্ঘ ভ্রমণের উপযোগী এই গাড়িতে প্যানোরামিক সানরুফ, ইনফিনিটি সাউন্ড সিস্টেম, ভেন্টিলেটেড সিট ও ৭টি এয়ারব্যাগসহ উন্নত নিরাপত্তা প্রযুক্তি যুক্ত করা হয়েছে

অনুষ্ঠানে বিওয়াইডি এশিয়া-প্যাসিফিকের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার কেৎসু ঝ্যাং বলেন, ‘বিওয়াইডির বৈশ্বিক পরিকল্পনায় বাংলাদেশের বাজার ক্রমান্বয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। নতুন এই মডেলগুলোর উন্নত প্রযুক্তি ও টেকসই কার্যক্ষমতা এ দেশের গ্রাহকদের আধুনিক যাতায়াতের অভিজ্ঞতা দেবে।’

বিওয়াইডি বাংলাদেশের চিফ মার্কেটিং অফিসার ইমতিয়াজ নওশের বলেন, ‘গ্রাহকদের ভিন্নধর্মী জীবনযাত্রা ও চাহিদার কথা মাথায় রেখে এই বৈচিত্র্যময় লাইনআপ আনা হয়েছে। এটি দেশের পরিবেশবান্ধব স্মার্ট যাতায়াত ব্যবস্থার রূপান্তরকে আরও গতিশীল করবে।’

দরদাম
বাজারে বিওয়াইডি সিল ৫-এর প্রথম ৫০০ ইউনিটের বিশেষ মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৮ লাখ ৯০ হাজার টাকা। সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক গাড়ি বিওয়াইডি সিল ৬ পাওয়া যাবে ৪৮ লাখ ৯০ হাজার টাকায়। এ ছাড়া প্রিমিয়াম এসইউভি বিওয়াইডি সিলায়ন ৬ এডব্লিউডি-এর দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৭১ লাখ ৯০ হাজার টাকা। তিনটি মডেলের গাড়িতে বিওয়াইডির নিজস্ব ব্লেড ব্যাটারি প্রযুক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক ওয়ারেন্টি সুবিধা থাকবে।