দেশের অটোমোবাইল শিল্পে বড় ধরনের সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) নিয়ে এল জাপানি প্রতিষ্ঠান মিতসুবিশি করপোরেশন। বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান র্যানকন অটো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ২৫ শতাংশ অংশীদারত্ব কিনে নেওয়ার মাধ্যমে এই কৌশলগত বিনিয়োগ সম্পন্ন করেছে তারা।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) রাজধানীর একটি অনুষ্ঠানে এই বিনিয়োগের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, চার চাকার পরিবহন খাতে এটি এখন পর্যন্ত জাপানের সবচেয়ে বড় সরাসরি বিনিয়োগ। এই অংশীদারিত্বের লক্ষ্য উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো, বিপণন ব্যবস্থা শক্তিশালী করা ও গ্রাহকসেবা উন্নত করা।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘এই চুক্তি আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের কাছে একটি ইতিবাচক বার্তা দেবে। মিতসুবিশির মতো বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানের সরাসরি অংশগ্রহণ অন্যান্য বিনিয়োগকারীদেরও বাংলাদেশে আসতে উৎসাহিত করবে। এর মাধ্যমে দেশে স্থানীয়ভাবে গাড়ি উৎপাদনের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।’
২০১৭ সালে প্রতিষ্ঠিত র্যানকন অটো ইন্ডাস্ট্রিজ মূলত মিতসুবিশি ব্র্যান্ডের গাড়ি সংযোজন ও বিপণন করে আসছিল। সরকারের স্থানীয় উৎপাদন নীতিমালার আওতায় ২০২৫ সালের জুন মাস থেকে প্রতিষ্ঠানটি মিতসুবিশির জনপ্রিয় ‘এক্সপ্যান্ডার’ মডেলটি স্থানীয়ভাবে উৎপাদন শুরু করে, যা বর্তমানে দেশের বাজারে ব্যাপক জনপ্রিয়।
মিতসুবিশি করপোরেশনের এই বিনিয়োগের ফলে র্যানকনের বিপণন, বিক্রয় ও বিক্রয়-পরবর্তী সেবা আরও শক্তিশালী হবে। সেই সঙ্গে জাপানি প্রযুক্তি ও দক্ষ জনবল তৈরির সুযোগ তৈরি হবে।
অনুষ্ঠানে মিতসুবিশি করপোরেশনের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট হিরোয়ুকি এগামি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অটোমোটিভ খাতে কাজ করার অভিজ্ঞতা র্যানকনের সঙ্গে এই অংশীদারত্বে সহায়ক হবে। এই যৌথ উদ্যোগের সফলতা নিশ্চিতে সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।
র্যানকন হোল্ডিংস লিমিটেডের গ্রুপ ম্যানেজিং ডিরেক্টর রোমো রউফ চৌধুরী বলেন, ‘মিতসুবিশির বৈশ্বিক দক্ষতা ও র্যানকনের স্থানীয় বাজার সম্পর্কে ধারণা এই দুইয়ের সমন্বয় দেশের অটোমোটিভ শিল্পকে এগিয়ে নেবে। এটি বাংলাদেশ-জাপান বাণিজ্য সম্পর্ককেও নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।’
বিনিয়োগ ঘোষণার এই অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইডা শিনিচি। এ ছাড়াও উভয় প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বিনিয়োগের এই উদ্যোগের ফলে গ্রাহকেরা আরও সাশ্রয়ী মূল্যে খুচরা যন্ত্রাংশ পাবেন এবং দেশব্যাপী ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্ক আরও বিস্তৃত হবে বলে আশা করছে প্রতিষ্ঠান দুটি।