ঢাকা ১৫ ফাল্গুন ১৪৩০, বুধবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪
Khaborer Kagoj

চবিতে ধর্ষণচেষ্টায় অভিযুক্ত শিক্ষকের স্থায়ী বহিষ্কার চান শিক্ষার্থীরা

প্রকাশ: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১১:০৪ এএম
চবিতে ধর্ষণচেষ্টায় অভিযুক্ত শিক্ষকের স্থায়ী বহিষ্কার চান শিক্ষার্থীরা
ছবি: খবরের কাগজ

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) ছাত্রীকে যৌন নির্যাতন ও ধর্ষণচেষ্টায় অভিযুক্ত রসায়ন বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. মাহবুবুল মতিনের বিচারের দাবিতে অষ্টম দিনের মতো অবস্থান কর্মসূচি পালন করছে ওই বিভাগের শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা অভিযুক্ত শিক্ষকের স্থায়ী বহিষ্কার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

রবিবার (১১ ফেব্রুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে অভিযুক্ত শিক্ষককে স্থায়ী বহিষ্কার ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বাদী হয়ে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা করার দাবিতে আন্দোলনে নামেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা নিজ বিভাগ থেকে স্লোগান দিতে দিতে মিছিল নিয়ে প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান করেন। অবস্থান কর্মসূচি থেকে আর দুদিনের মধ্যে দাবি মেনে না নিলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়। 

এমনকি দাবি আদায় না হলে সব গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় তালা ঝুলিয়ে দেওয়ারও হুমকি দেওয়া হয়।

আন্দোলনে অংশ নেওয়া রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী রেজাউল করিম খবরের কাগজকে বলেন, ‘আমরা এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই এবং অভিযুক্ত শিক্ষকের স্থায়ী বহিষ্কারের দাবি জানাই। বিচার না হওয়া পর্যন্ত আমরা ক্লাসে ফিরে যাব না। আমাদের আন্দোলন চলমান থাকবে। আগামী মঙ্গলবার সিন্ডিকেট সভায় সিদ্ধান্ত কী আসে আমরা তা দেখব। বিচার সুনিশ্চিত না হলে আমরা কঠোর আন্দোলনে যাব। আমাদের দাবির সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্য বিভাগের শিক্ষার্থীরা, বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সংগঠন একাত্মতা প্রকাশ করেছেন। তবে আমরা এখন পর্যন্ত আন্দোলন নিজেদের বিভাগের মধ্যে সীমাবদ্ধ রেখেছি। আমরা সুষ্ঠু বিচার না পেলে তাদের সমর্থন নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলনে যাব।’

অবস্থান কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় বাদী হয়ে তার নামে যেন মামলা করে এটা আমাদের দাবি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তদন্ত প্রক্রিয়া ধীরগতিতে এগোচ্ছে। আমরা আর দুদিন অপেক্ষা করব। এরপর সব গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় তালা ঝুলিয়ে দেব।’

এদিকে রবিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন নিপীড়ন অভিযোগ সেলের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা থাকলেও প্রতিবেদন জমা দিতে পারেনি তদন্ত কমিটি। গত ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি কাজ শুরু করে। কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে অধ্যাপক ড. জরিন আখতারকে।

তদন্ত প্রতিবেদন সম্পর্কে জানতে চাইলে তদন্ত কমিটির সদস্য এবং জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং ও বায়োটেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. লায়লা খালেদা আঁখি বলেন, ‘এ ব্যাপারে এখন কোনো কথা বলতে পারব না। তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিলে আপনারা জানতে পারবেন। বিষয়টি সামষ্টিকভাবে কর্তৃপক্ষ জানাবেন।’

এ বিষয়ে চবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. শিরীণ আখতার বলেন, ‘তদন্ত কমিটি প্রাণপণ চেষ্টা করছে প্রতিবেদন জমা দিতে। শনিবার রাত ১০টা অবধি বৈঠক করেছে। তারা প্রতিনিয়ত বৈঠক করে যাচ্ছে। সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও তাদের তদন্ত চলমান রয়েছে। রবিবার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা ছিল। প্রতিবেদন জমা দিলে পরশু আমরা আরেকটা কমিটি করে সিন্ডিকেট সিডিউলের দিকে আগানোর চিন্তা ছিল। তারা আজকে জমা দিতে পারেনি। কাল বা পরশুর মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেবে।’

অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে কি না এই প্রশ্ন তিনি বলেন, ‘এটা তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার আগে কীভাবে বলব? তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর অভিযোগ প্রমাণিত হলে পরদিনই আমরা অধিকতর তদন্ত কমিটি যারা শাস্তি দেবেন তাদের সঙ্গে বসে শাস্তির ব্যবস্থা করব। আমরা এ ব্যাপারে কোনো ছাড়ই দেব না। এটা আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের এবং শিক্ষক সমাজের লজ্জার বিষয়। অতি দ্রুত আমরা এর একটি সুরাহা করতে পারব।’

এর আগে, রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. মাহবুবুল মতিনের বিরুদ্ধে গত ১ ফেব্রুয়ারি উপাচার্য বরাবর যৌন হয়রানি, যৌন নিপীড়ন ও ধর্ষণচেষ্টার জন্য লিখিতভাবে অভিযোগ করেন একই বিভাগের এক শিক্ষার্থী। ওই শিক্ষার্থী অভিযুক্ত শিক্ষকের তত্ত্বাবধানে স্নাতকোত্তর থিসিস করছিলেন।

অভিযোগে বলা হয়, থিসিস চলাকালীন সুপারভাইজার (অধ্যাপক) কর্তৃক যৌন হয়রানি ও নিপীড়নের শিকার হন তিনি। ল্যাবে একা কাজ করার সময় এবং কেমিক্যাল দেওয়ার বাহানায় নিজ কক্ষে ডেকে দরজা আটকে তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন।

তবে অভিযুক্ত অধ্যাপক অভিযোগটি সম্পূর্ণরূপে অস্বীকার করেন। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা অভিযুক্ত শিক্ষকের বহিষ্কার ও যথাযথ বিচার চেয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে আসছে। এরপর গত ১ ফেব্রুয়ারি বিষয়টি পর্যালোচনায় এনে অভিযুক্ত অধ্যাপককে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম থেকে নিষেধাজ্ঞা দেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। পাশাপাশি বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন নির্যাতন সেলে তুলে গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

মাহফুজ শুভ্র/সাদিয়া নাহার/অমিয়/

ঢাবিতে খুদে শিক্ষার্থীদের ডেমো রকেটের ওপর কর্মশালা

প্রকাশ: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৯:১৭ পিএম
ঢাবিতে খুদে শিক্ষার্থীদের ডেমো রকেটের ওপর কর্মশালা
ছবি : খবরের কাগজ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) দিনব্যাপী নানা আয়োজনে খুদে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে ডেমো রকেট বানানোর ওপর কর্মশালা এবং প্রথমবারের মতো ওয়াটার রকেট উৎক্ষেপণ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের আইটি সোসাইটির উদ্যোগে ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রে (টিএসসি) স্পেসভার্স ১.০ উৎসবে ওই কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। এ ছাড়া মহাকাশ ও মহাকাশ অর্থনীতি, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সসহ বিভিন্ন বিষয়ের ওপর আয়োজন ছিল ওই উৎসবে। এতে অংশ নেয় বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

উৎসবের সমাপনী অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল স্পেসভার্স ১.০ উৎসবের আয়োজকদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ‘খুদে শিক্ষার্থীরা তথ্যপ্রযুক্তি ও জ্ঞান-বিজ্ঞানে নিজেদের সমৃদ্ধ করার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বপ্নের স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য নিজেদের প্রস্তুত করবে। যে জাতির জ্ঞান-বিজ্ঞানে নিজস্ব উদ্ভাবন রয়েছে, সে জাতিই বিশ্বে সব ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দেয়। আমাদের শিক্ষার্থীরা মৌলিক গবেষণা ও নতুন নতুন আবিষ্কারের মাধ্যমে বিশ্বে বাংলাদেশকে নেতৃত্বের আসনে আসীন করবে, সেটিই প্রত্যাশা রাখি।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আইটি সোসাইটির সভাপতি মোহাইমিনুল হক মীমের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক নিয়াজ উদ্দীন ভূঁইয়া নবীনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে আইটি সোসাইটির মডারেটর অধ্যাপক ড. এ জে এম শফিউল আলম ভূঁইয়া এবং উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. কাজী মোহাইমিন আস সাকিব উপস্থিত ছিলেন।

শাবিপ্রবির অর্থনীতি বিভাগের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মিলনমেলা

প্রকাশ: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৭:২৬ পিএম
শাবিপ্রবির অর্থনীতি বিভাগের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মিলনমেলা
ছবি : খবরের কাগজ

বয়স যতই হোক, প্রিয় ক্যাম্পাস ও বন্ধুদের সংস্পর্শ যেন সবাইকে সেই শিক্ষার্থীজীবনে ফিরে নিয়ে যায়। গত ২৩ ফেব্রুয়ারি এই চিত্রই ফুটে উঠেছিল সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) অর্থনীতি বিভাগের অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের দ্বিতীয় পুনর্মিলনীতে। 

এ উপলক্ষে ক্যাম্পাসকে সাজানো হয়েছিল বর্ণিল সাজে। দলে দলে প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে জমিয়েছেন আড্ডা, করেছেন স্মৃতিচারণ, সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী-সন্তানরাও। 

শুধু দেশের বিভিন্ন স্থান থেকেই নয় বিভিন্ন দেশ থেকেও এই পুনর্মিলনীতে ক্যাম্পাস ও বন্ধুদের টানে যোগ দিয়েছেন প্রাক্তনরা।

শুক্রবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডি বিল্ডিংয়ের সামনে বেলুন ও কবুতর উড়িয়ে দুই দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমদ।

২৩ ও ২৪ ফেব্রুয়ারি (শুক্র ও শনিবার) দুই দিনের এই মিলনমেলাকে ঘিরে চলে নানা আয়োজন। 

অনুষ্ঠানের প্রথমদিন শোভাযাত্রা, আলোচনাসভা, প্রয়াত শিক্ষার্থীদের স্মরণে ক্যাম্পাসে বৃক্ষরোপণ, প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের স্মৃতিচারণ এবং সব শেষে সন্ধ্যা ৬টা থেকে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও বাউল সন্ধ্যার আয়োজন করা হয়। 

দ্বিতীয় দিন প্রাক্তন শিক্ষার্থী এবং তাদের সন্তানদের নিয়ে বিভিন্ন ক্রীড়া প্রতিযোগিতা এবং পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। 

সবশেষে সমাপনী অনুষ্ঠান ও ভয়েজ অব মাইলসের কনসার্টের মাধ্যমে শেষ হয় মিলনমেলা।

অর্থনীতি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোসলেহ উদ্দিন খুশবু বলেন, ‘আমাদের এই পুনর্মিলনীতে দেশ এবং দেশের বাইরে থেকে অসংখ্য অ্যালামনাই অংশ নিয়েছেন। আমাদের এ মিলনমেলায় সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি বিভাগের সকল শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং শাবিপ্রবি অর্থনীতি সমিতির সকল সদস্যদের।

এ ছাড়াও যারা শ্রম ও মেধা দিয়ে পুনর্মিলনী সফল করতে অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।’

পুনর্মিলন উদযাপন কমিটির সদস্যসচিব অধ্যাপক ড. মাহবুবুল হাকিম বলেন, ‘অনেকদিন পর আমার সিনিয়র, সহপাঠী, জুনিয়র এবং একজন শিক্ষক হিসেবে আমার অনেক পুরনো শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দেখা হয়েছে। যা আমার জন্য অনেক বড় পাওয়া।’

পুনর্মিলনীকে প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের সেতুবন্ধন বলে মনে করেন অর্থনীতি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক জহীর উদ্দিন আহমেদ। 

তিনি বলেন, ‘এই পুনর্মিলন বিভাগ ও শিক্ষার্থী সবার জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বর্তমান চাকরির বাজারের পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষার্থীদের এখান থেকে পড়ালেখা শেষে কর্মসংস্থানের দিক নির্দেশনার প্রয়োজন হয়। তারা এখান থেকে বের হয়ে যদি জানতে পারে সিনিয়ররা কে কোথায় আছেন তাহলে তারা তাদের কাছ থেকে পরামর্শ এবং সাহায্য চাইতে পারে। এই পরিচয়টা ঘটানোর জন্য পুণর্মিলন আয়োজন করা দরকার’

ইসফাক আলী/অমিয়/

ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী শিক্ষার্থীদের পিঠা উৎসব

প্রকাশ: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১২:০১ পিএম
ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী শিক্ষার্থীদের পিঠা উৎসব

ছবি মানুষকে ভাবায় এবং ভালোবাসার জন্ম দেয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে নিজেদের সংস্কৃতি ও জীবনযাত্রার নানা দিক তুলে ধরতে ছবি প্রদর্শনীর পাশাপাশি পিঠা উৎসবের আয়োজন করেছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘আদিবাসী’ ছাত্র সংসদ।

সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাডমিন্টন কোর্টে এই আয়োজন করেন তারা। এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছবি প্রতিযোগিতার আয়োজন করে সংগঠনটি। যেখানে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। সেখান থেকে বাছাই করা প্রায় অর্ধশতাধিক ছবি দিয়ে নিজেদের অর্থায়নে এই প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়।

প্রদর্শনীতে পাহাড়ি নৈসর্গিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর জীবনচরিত তুলে ধরা হয়েছে। প্রদর্শনীতে জীবিকার তাগিদে মা কাঁধে ঝুড়ি নিয়ে পাহাড়ে উঠছেন, অসুস্থ বৃদ্ধাকে পাড়ার যুবারা দুর্গম পথ পাড়ি দিয়ে হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছেন। এ ছাড়া কেউ বেইন বুনছে (এক জাতীয় রঙিন কাপড়), কেউ দাবা টানছে (ধূমপান করা), কেউবা নৃত্য করছে- এ রকম ছবি স্থান পায়।

ছবি প্রদর্শনী ছাড়াও ছিল ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সম্প্রদায়ের মুখরোচক খাবার পাহাড়ি মোকাম (ভুট্টা), ওয়ান পুংজাক (কালো বিন্নি চালের পিঠা), মাইছি (কাউন চালের নাশতা), তাইফং সংজাত (রান্না করা কাঠাল), বার্মিজ নুডলস, শিমুল আলু, পাহাড়ি রান্না করা মুরগি ও ব্যাম্বু চিকেন ইত্যাদি। এ ছাড়া একটি স্টলে ছিল বিভিন্ন নকশা ও সুতায় তৈরি চাকমাদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক পিনোন-হাদি, পুঁতির মালা ও ঐতিহ্যবাহী অলংকার। 

সংগঠনটির সভাপতি ইতু চাকমা বলেন, ভাষা সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাই ভাষার মাসে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সংস্কৃতির সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের মেলবন্ধন তৈরি করতে এই আয়োজন। আমাদের সংস্কৃতি অন্যদের থেকে ব্যতিক্রম। এটি নিয়ে অনেকের মধ্যে ভ্রান্ত ধারণা রয়েছে। তাই আমরা এই ধরনের আয়োজনের মধ্য দিয়ে সঠিক ধারণা দিতে চাই।

‘আদিবাসী’ ছাত্রসংসদের উপদেষ্টা প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ সোহরাব উদ্দীন বলেন, মানুষ তখনই একজন মানুষকে আপন করে নেয়, যখন তার সঙ্গে কোনো সুখস্মৃতি তৈরি হয়। তাই আমরা পাহাড়ি খাবারের পাশাপাশি ছবি প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করেছি। যেন প্রদর্শিত ছবি দেখে শিক্ষার্থীরা ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের খাদ্যাভ্যাসের সঙ্গে পরিচিত হতে পারেন। এখন থেকে প্রতি বছর এ ধরনের আয়োজন করব। আশা করি এই ধরনের আয়োজন সবার মধ্যে সম্প্রীতির মেলবন্ধন তৈরি করবে।

লেখক প্রদায়ক

কলি

আইসিসিআরের শিক্ষাবৃত্তি

প্রকাশ: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১১:৫৫ এএম
আইসিসিআরের শিক্ষাবৃত্তি

ভারতে উচ্চশিক্ষার জন্য বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের কাছে জনপ্রিয় বৃত্তি হচ্ছে আইসিসিআর বৃত্তি। ইন্ডিয়ান কাউন্সিল ফর কালচারাল রিলেশনস (আইসিসিআর) বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের এই বৃত্তি দিয়ে থাকে। ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে বৃত্তির জন্য আবেদন গ্রহণ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।

আবেদনের বয়সসীমা

বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা মেডিসিন, প্যারামেডিকেল, ফ্যাশন, আইন ইত্যাদি কোর্স বাদে ভারতের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অন্যান্য প্রোগ্রামে বৃত্তির জন্য আবেদন করতে পারবেন। স্নাতক ও মাস্টার্সে পড়ার জন্য আবেদনকারীর বয়স ১৮ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে হতে হবে। পিএইচডি করতে শিক্ষার্থীদের সর্বনিম্ন বয়সসীমা ৪৫। ভর্তির পর শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের হোস্টেলে থাকার সুযোগ পাবেন।

আবেদনের যোগ্যতা

* শিক্ষার্থীকে ইংরেজিতে দক্ষতা প্রমাণের জন্য ৫০০ শব্দের একটি প্রবন্ধ লিখতে হবে। প্রার্থীরা টোয়েফল, আইইএলটিএসের স্কোরও জমা দিতে পারেন। যদিও তা বাধ্যতামূলক নয়।

* এসএসসি ও এইচএসসির নম্বরপত্র ওয়েবসাইটে আপলোড করতে হবে। আবেদনের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ইংরেজিতে না থাকলে ইংরেজিতে অনুবাদ করে জমা দিতে হবে। অনুবাদ ছাড়া কাগজপত্র গ্রহণ করা হবে না। আইসিসিআর বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের বার্ষিক ন্যূনতম ৫ লাখ ভারতীয় রুপি বা ৬ হাজার ৮০০ মার্কিন ডলারের মেডিকেল বিমা করা বাধ্যতামূলক। প্রতি বছর বাংলাদেশের প্রায় ২০০ মেধাবী শিক্ষার্থী এই বৃত্তির মাধ্যমে পড়ার সুযোগ পান। তাদের মধ্যে স্নাতক পর্যায়ে ১৪০, স্নাতকোত্তর পর্যায়ে ৪০ ও পিএইচডিতে ২০ জন।

এ ছাড়া আইসিসিআরের অধীন ‘লতা মঙ্গেশকর ডান্স অ্যান্ড মিউজিক স্কলারশিপ’ নামেও একটি স্কিমের আওতায় শিক্ষার্থীদের বৃত্তি দেওয়া হবে। এই বৃত্তির আওতায় শিক্ষার্থীরা স্নাতক, স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি প্রোগ্রামের জন্য আবেদন করতে পারবেন।

বৃত্তির সুযোগ-সুবিধা

 * আবেদন করার জন্য শিক্ষার্থীদের কোনো ফি লাগবে না;

 * শিক্ষার্থীদের কোনো টিউশন ফি দিতে হবে না;

 * কোর্স অনুসারে শিক্ষার্থীরা প্রতি মাসে স্টাইপেন্ড পাবেন। স্নাতকে ১৮ হাজার রুপি, স্নাতকোত্তরে ২০ হাজার রুপি ও পিএইচডির

    জন্য ২২ হাজার রুপি পাবেন;

  * শিক্ষার্থীরা আবাসন খরচ বাবদ প্রতি মাসে সর্বোচ্চ ৬ হাজার ৫০০ রুপি পাবেন;

  * শিক্ষার্থীরা চিকিৎসাসহ অন্যান্য সুবিধা পাবেন।

আবেদনের শেষ তারিখ: ৩০ এপ্রিল ২০২৪।

ওয়েবসাইট: https://www.shed.gov.bd/

কলি

শের-ই-বাংলা স্কুল অ্যান্ড কলেজে শহিদ দিবস পালন

প্রকাশ: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১১:৪৬ এএম
শের-ই-বাংলা স্কুল অ্যান্ড কলেজে শহিদ দিবস পালন

শের-ই-বাংলা স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপিত হয়েছে মহান শহিদ দিবস এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস।

স্বতঃস্ফূর্তভাবে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা প্রভাতফেরিতে অংশগ্রহণ এবং শহিদ মিনারের বেদিতে ফুল অর্পণ করেন। প্রভাতফেরিতে প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ, শিক্ষক-শিক্ষিকা ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা।

কলি