হাইকোর্টের আদেশ পেলে আইনি লড়াইয়ে যাবে বুয়েট । খবরের কাগজ
ঢাকা ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১, মঙ্গলবার, ২১ মে ২০২৪

হাইকোর্টের আদেশ পেলে আইনি লড়াইয়ে যাবে বুয়েট

প্রকাশ: ১৭ এপ্রিল ২০২৪, ০৯:৩৪ পিএম
হাইকোর্টের আদেশ পেলে আইনি লড়াইয়ে যাবে বুয়েট
বুয়েট উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. আব্দুল জব্বার খান। ছবি : খবরের কাগজ

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের সিদ্ধান্তে হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ এখন পর্যন্ত পায়নি বুয়েট কর্তৃপক্ষ। হাইকোর্টের আদেশ পাওয়ার পর আইনি লড়াইয়ে যাবে বুয়েট কর্তৃপক্ষ। সেই সঙ্গে আইনি উপায়ে শেষ অবধি লড়াই চালিয়ে যাবেন বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন বুয়েট উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. আব্দুল জব্বার খান। 

বুধবার (১৭ এপ্রিল) বুয়েটে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। এদিকে ঈদের ছুটি শেষে বিশ্ববিদ্যালয় খুললেও ক্লাস-পরীক্ষায় অংশ নেননি বেশির ভাগ শিক্ষার্থী। 

উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. আব্দুল জব্বার খান বলেন, ‘এখন পর্যন্ত আমরা কোর্টের কোনো অর্ডার পাইনি। আমরা যতটুক জানতে পেরেছি, ২২ এপ্রিল পর্যন্ত কোর্ট বন্ধ রয়েছে। হয়তো এর পর অর্ডারটি পেতে পারি। হাইকোর্টের আদেশটি হাতে পেলে আমরা দেখব সেখানে কী বলা হয়েছে। ২০১৯ সালে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধকরণের যে বিজ্ঞপ্তিটি ছিল, সেই বিজ্ঞপ্তি স্থগিত করা হয়েছে না কি, বলা হয়েছে স্থগিত করা হলো অথবা কেন বাতিল করা হলো কিংবা কেন স্থগিত করা হবে না? নিশ্চয়ই হাইকোর্ট আমাদের কারণ দর্শাবেন। যদি কারণ দর্শানো হয় তখন কনটেন্ট-মেরিট দেখে আমাদের উত্তর দিতে হবে। এই উত্তর না দেওয়া ছাড়া উপায় নেই, কারণ এটি আইনি প্রক্রিয়ার অংশ।’

তিনি আরও বলেন, ‘অনেকের মধ্যে একটি বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে যে, আমরা বুয়েট কর্তৃপক্ষ আইনি প্রক্রিয়ার বাহিরে থাকতে চাচ্ছি। এটি আসলে কোনোভাবেই সম্ভব নয়। আইনি প্রক্রিয়ার স্বাভাবিক গতিতেই আমাদের অবশ্যই রেসপন্স করতে হবে এবং আমরা করব। ২০১৯ সালে আমরা যেই বিজ্ঞপ্তিটি দিয়েছিলাম সেটি কেন, কোন প্রেক্ষাপটে এবং আমাদের অর্ডিন্যান্সের কোন ক্ষমতাবলে ইত্যাদি উল্লেখ করে আমরা সেই জবাব দেব।’

বুয়েট উপ-উপাচার্য বলেন, ‘আইনি যে প্রক্রিয়া রয়েছে এটি শেষ অবধি আমরা কনটেস্ট করব। অ্যাপিলেড ডিভিশনে যাওয়া অ্যাপিল করা। মোট কথা আইনি প্রক্রিয়ায় সম্পূর্ণ পথটিই আমরা ব্যবহার করব এবং সেখানে আমরা একা নই, আমাদের সঙ্গে আমাদের শিক্ষার্থী ও অ্যালামনাইরা থাকবেন।’

বুয়েটে এখন ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে বুয়েটের উপ-উপাচার্য বলেন, ‘যেহেতু আমরা কোর্টের কাছ থেকে আদেশ পাইনি। কোনো অর্ডার আমাদের হাতে আসেনি, কাজেই ২০১৯ সালের বিজ্ঞপ্তি ছিল সেটি এখন পর্যন্ত ভ্যালিড আছে বলেই আমরা মনে করি। আর যদি আইনি প্রক্রিয়ায় এমন হয়, বিশ্ববিদ্যালয় হেরে গেল, তাহলেই একমাত্র ক্যাম্পাসে রাজনীতি ফিরবে।’

এক প্রশ্নের জবাবে অধ্যাপক ড. আব্দুল জব্বার খান বলেন, ‘গত ৯ এপ্রিল ১৪ দফা দাবি নিয়ে শিক্ষার্থীরা এসেছিল। ছুটি থাকার পরও আমরা তাদের সঙ্গে কথা বলেছি। তাদের বলেছি, বিশ্ববিদ্যালয় একটা পক্ষ হয়ে অবশ্যই আইনি প্রক্রিয়ায় যাবে। আমরা চাই তারা যেন এই আইনি প্রক্রিয়ায় পক্ষভুক্ত হয়। এতে স্বচ্ছতা এবং শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বুয়েট প্রশাসনের যেন দূরত্ব না তৈরি হয়, সেটির জন্য এটি জরুরি। তারা যদি মনে করে, তাদের পছন্দের আইনজীবী নিয়ে পক্ষভুক্ত হবে। তাদের এটিও বলা হয়েছে, শিক্ষার্থীরা যেন তাদের পছন্দের ৫-৬ জন আইনজীবী প্যানেলের নাম আমাদের কাছে প্রস্তাব করে এবং সেখান থেকে তাদের সঙ্গে আলোচনা করে। তাদের একজন আইনজীবী নিয়োগ দেওয়ার ক্ষেত্রে সহযোগিতা করা হবে। এ ছাড়া শুধু বর্তমান শিক্ষার্থীরা নয়, এর পাশাপাশি দেশে ও বিদেশের অ্যালামনাইরা যদি এই আইনি প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে চান, তাদেরও অভিনন্দন জানাব।’

এদিকে টানা ১৩ দিনের রোজা, ঈদুল ফিতর ও পয়লা বৈশাখের ছুটি শেষে বুয়েটের একাডেমিক কার্যক্রম শুরু হলেও ক্লাস-পরীক্ষায় অংশ নেননি আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। গতকাল ছুটি শেষে বুয়েট ’২১ (দ্বিতীয় বর্ষ) ব্যাচের টার্ম ফাইনাল পরীক্ষাতে ১ হাজার ২৭১ জনের মধ্যে মাত্র ১১ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছেন। অন্যদিকে বুয়েট ’১৮ (চতুর্থ বর্ষ) ব্যাচের কোনো শিক্ষার্থীই অংশ নেননি।

বুয়েট শিক্ষার্থী সূত্রে জানা যায়, এখন একাডেমিক ক্যালেন্ডার অনুযায়ী সব বর্ষের ক্লাস থাকাতে আপাতত পরীক্ষা চলছে। যদিও রাজনীতিমুক্ত বুয়েট ক্যাম্পাসে দাবির আন্দোলনের ফলে বর্জন রয়েছে ক্লাস-পরীক্ষা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওয়াটার রিসোর্সেস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের (ডব্লিউআরই) এক শিক্ষার্থী খবরের কাগজকে বলেন, ‘আজকে পরীক্ষা ছিল বেশির ভাগ শিক্ষার্থী অংশ নেননি। এখন আগামীতে পরীক্ষায় অংশ নেবেন কি না, সেটি বলা যাচ্ছে না। কারণ এটি তো আর একার সিদ্ধান্ত নয়, একটি সম্মিলিত সিদ্ধান্ত।’

পরবর্তী আন্দোলনের সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের সিদ্ধান্ত এখনো জানা যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে, এখন পর্যন্ত দাবি আদায়ে অনড় অবস্থানে রয়েছেন আন্দোলনকারীরা।

উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনার পর শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে বুয়েটে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ হয়। গত ২৮ মার্চ দিবাগত রাত ১টার দিকে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতারা বুয়েট ক্যাম্পাসে ঢুকলে ছয় দফা দাবি তুলে অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের ডাক দেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এ ঘটনায় পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখতে শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ছয় সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি পর্যন্ত গঠন করে বুয়েট প্রশাসন।

ক্যাম্পাসে বিজ্ঞানসম্মত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার আহ্বান

প্রকাশ: ২১ মে ২০২৪, ০৭:২৬ পিএম
ক্যাম্পাসে বিজ্ঞানসম্মত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার আহ্বান
ছবি : সংগৃহীত

পরিচ্ছন্ন ক্যাম্পাস গড়তে বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিজ্ঞানসম্মতভাবে করার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আলমগীর। 

মঙ্গলবার (২১ মে) ইউজিসিতে ২০২৩-২৪ অর্থবছরের শুদ্ধাচার কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে অংশীজন সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ আহ্বান জানান।

অধ্যাপক আলমগীর হোসেন বলেন, দেশের জনসংখ্যার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে সব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার মানোন্নয়নে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিক হতে হবে। উচ্চশিক্ষার মানোনয়ন একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া, যা রাতারাতি অর্জন করা সম্ভব নয়। উচ্চশিক্ষায় গুণগত পরিবর্তন নিয়ে আসতে শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়নসহ বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পরিচ্ছন্ন ও সবুজ ক্যাম্পাস প্রতিষ্ঠায় প্রত্যেক বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নজর দেওয়া উচিত। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মডেল হিসেবে গড়ে তুলতে ইউজিসি থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হবে। 

ইউজিসি সচিব ড. ফেরদৌস জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন কমিশনের পরিচালক ড. সুলতান মাহমুদ ভূঁইয়া। কমিশনের উপসচিব ও জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশলের ফোকাল পয়েন্ট মো. আসাদুজ্জামানের সঞ্চালনায় সভায় ইউজিসির কর্মকর্তা, গণমাধ্যমকর্মীসহ সংশ্লিষ্ট ও অংশীজনরা অংশ নেন।

সর্বজনীন পেনশন স্কিম বাতিলের দাবিতে রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীকে স্মারকলিপি দেবে ঢাবি শিক্ষক সমিতি

প্রকাশ: ২০ মে ২০২৪, ০৬:৪৭ পিএম
সর্বজনীন পেনশন স্কিম বাতিলের দাবিতে রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীকে স্মারকলিপি দেবে ঢাবি শিক্ষক সমিতি
ছবি : খবরের কাগজ

সর্বজনীন পেনশনের প্রত্যয় স্কিমে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অন্তর্ভুক্তি বাতিলের দাবিতে রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি। এদিকে প্রজ্ঞাপন প্রত্যাহারসহ তিন দফা দাবিতে কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশন। 

সোমবার (২০ মে) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের নেতৃবৃন্দরা এসব দাবি উপস্থাপন করেন। প্রজ্ঞাপন বাতিলসহ বাকি দুই দফা হলো বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের জন্য সুপার গ্রেড কার্যকর ও স্বতন্ত্র বেতন স্কেল প্রর্বতন করা। 

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, আগামী ২৫ মে এর মধ্যে দাবি না মানা হলে আগামী ২৬ মে সারাদেশে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের শিক্ষকরা একযোগে সকাল সাড়ে এগারোটায় মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করবেন। এরপর ২৮ মে সারাদেশে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালসমূহের শিক্ষকরা একযোগে সকাল ১০টা থেকে ১২টা পর্যন্ত ২ ঘন্টার কর্মবিরতি পালন করবেন।

এই সময়ের মধ্যে দাবি মানা না হলে আগামী ৪ জুন সারাদেশে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা একযোগে অর্ধদিবস কর্মবিরতি পালন করবেন। যদি এই সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করা না হলে ওই দিনে বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণার কথা জানানো হয়। শিক্ষকদের কর্মসূচি জুড়ে পরীক্ষাসমূহ কর্মবিরতির আওতামুক্ত থাকবে। 

এ সময় লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ফেডারেশনের সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. আখতারুল ইসলাম ও মহাসচিব অধ্যাপক ড. নিজামুল হক ভূঁইয়া। 

লিখিত বক্তব্যে বক্তারা বলেন, অর্থ মন্ত্রণালয় প্রজ্ঞাপন জারি করে স্বশাসিত, স্বায়ত্তশাসিত, রাষ্টায়ত্ত্ব ও সংবিধিবদ্ধ অঙ্গ প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রত্যয় স্কিমের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ১ জুলাইয়ের আগে ও পরে চাকরিতে যোগদান করা ব্যক্তিদের মধ্যে অর্থনৈতিক ও সামাজিক বৈষ্যম্য তৈরি হবে। যেটা সংবিধানের সমতার পরিপন্থী।

তারা আরও বলেন, আমরা আশা করব, অনতিবিলম্বে এই প্রজ্ঞাপনটি প্রত্যাহার করে বিশ্ববিদ্যালয়ে বিদ্যমান সেশনজটমুক্ত শিক্ষার পরিবেশ অব্যাহত রাখতে সহায়তা করবেন। 

এসময় এতে দেশের ৩৫টি বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে ঢাবি শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. নিজামুল হক ভূইয়া ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. জিনাত হুদা স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে শিক্ষক সমিতির এক সভায় সর্বজনীন পেনশনের প্রত্যয় স্কিমে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অন্তর্ভুক্তি বাতিলের দাবিতে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রেরণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী ২৬ মে সকাল সকাল সাড়ে ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে একটি মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হবে এবং এই সময়ের মধ্যে প্রত্যয় স্কিমে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অন্তর্ভুক্তিকরণ বাতিল না হলে ঐ মানববন্ধন থেকে কর্মবিরতিসহ কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

ওই বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, সর্বজনীন পেনশনের প্রত্যয় স্কিমে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অন্তর্ভুক্ত করায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকে এটি প্রত্যাখ্যান করে এর আগে প্রেস বিজ্ঞপ্তিও দেওয়া হয়। সবশেষ ওই প্রজ্ঞাপনের বাতিলের দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের স্বাক্ষর সংগ্রহ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। উক্ত কর্মসূচিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৬১ জন শিক্ষক স্বাক্ষর করে সর্বজনীন পেনশনে শিক্ষকদের অন্তর্ভুক্তি বাতিলের পক্ষে মতামত প্রদান করেন। 

আরিফ জাওয়াদ/এমএ/

ছাত্রলীগের আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ইনডোর ক্রিকেট শুরু ২৬ জুন

প্রকাশ: ২০ মে ২০২৪, ০১:০৪ পিএম
ছাত্রলীগের আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ইনডোর ক্রিকেট শুরু ২৬ জুন
ছবি: খবরের কাগজ

দেশের ৬৪টি বেসরকারি ও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অংশগ্রহণে আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ইনডোর ক্রিকেট আয়োজন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। আগামী ২৬ জুন থেকে শুরু হওয়া এই প্রতিযোগিতা চলবে ৩ জুলাই পর্যন্ত।

রবিবার (১৯ মে) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ আয়োজনের কথা জানান কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন।

তিনি বলেন, ‘দেশের ৬৪টি পাবলিক-প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে মিলিয়ে আগামী ২৬ জুন থেকে মিরপুর ইনডোর স্টেডিয়ামে ইনডোর ক্রিকেট টুর্নামেন্টটি শুরু হতে যাচ্ছে। যা চলবে আগামী ৩ জুলাই পর্যন্ত। ইনডোর ক্রিকেটের যে নিয়মাবলি রয়েছে তা অনুসরণ করে, এ টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হবে। যারা এই টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করতে চায়, তারা বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সঙ্গে যোগাযোগ করলে আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে সহযোগিতা করব। হয়তো সবাইকে সুযোগ দেওয়া সম্ভব হবে না তবে আমরা চেষ্টা করব।’

ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালি আসিফ ইনান বলেন, ‘দেশনেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা মাদকসন্ত্রাস, বাল্যবিয়ে ও যৌতুকমুক্ত দেশ গড়তে চাই। এজন্য তরুণ সমাজকে নানান রকমের প্রগতিশীল, সৃষ্টিশীল ও উদ্ভাবনী কাজের সঙ্গে যুক্ত করতে চাই। এই ক্রিকেট টুর্নামেন্টের মধ্য দিয়ে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তঃযোগাযোগ বৃদ্ধি পাবে।’

এ সময় অন্যদের মধ্যে ঢাবি ছাত্রলীগের সভাপতি মাজহারুল কবির শয়ন, সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসান সৈকত, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের ক্রীড়া সম্পাদক মেহেদী হাসান শান্ত, উপক্রীড়া সম্পাদক তারেক রহমান এলিট ও তামান্না তানজিনা তমা উপস্থিত ছিলেন।

আরিফ জাওয়াদ/সাদিয়া নাহার/অমিয়/

ঢাবির বিবিএর শিক্ষার্থীদের সিএ পড়াকালীন ৩ কোর্স মওকুফ

প্রকাশ: ২০ মে ২০২৪, ১২:৫৩ পিএম
ঢাবির বিবিএর শিক্ষার্থীদের সিএ পড়াকালীন ৩ কোর্স মওকুফ
ছবি: খবরের কাগজ

চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্সি বা সিএ পড়তে তিন কোর্স মওকুফের সুবিধা পাবেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্স্যুরেন্স বিভাগের শিক্ষার্থীরা।

রবিবার (১৯ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে সিএ শিক্ষা ও গবেষণার প্রসার এবং এ বিষয়ে দক্ষ মানবসম্পদ সৃষ্টির লক্ষ্যে ঢাবির ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্স্যুরেন্স বিভাগ এবং দ্য ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশের (আইসিএবি) মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হওয়ায় এমন সুযোগ পেতে যাচ্ছেন ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্স্যুরেন্স বিভাগের শিক্ষার্থীরা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মমতাজ উদ্দিন আহমেদ এবং আইসিএবির প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ ফোরকান উদ্দিন এফসিএ নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে এই সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন।

এই স্মারকের আওতায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্স্যুরেন্স বিভাগের শিক্ষার্থীরা বিবিএ পড়াকালেই ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস ভর্তির সুযোগ পাবেন। সিএ পড়ার ক্ষেত্রে ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্স্যুরেন্স বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য তিনটি কোর্স মওকুফ করা হবে।

এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. সীতেশ চন্দ্র বাছার।

এ ছাড়া অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্স্যুরেন্স বিভাগের অধ্যাপক ড. হাসিনা শেখ, আইসিএবির সিইও শুভাশীষ বোস এফসিএ, ভাইস-প্রেসিডেন্ট এম বি এম লুৎফুল হাদী এফসিএ, ভাইস-প্রেসিডেন্ট মারিয়া হাওলাদার এফসিএ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্স্যুরেন্স বিভাগের বিবিএ প্রোগ্রামের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. শহিদুল ইসলাম প্রমুখ।

আরিফ জাওয়াদ/সাদিয়া নাহার/অমিয়/

সর্বজনীন পেনশন স্কিম বাতিলের দাবি বুয়েট শিক্ষকদের

প্রকাশ: ২০ মে ২০২৪, ১২:১৬ এএম
সর্বজনীন পেনশন স্কিম বাতিলের দাবি বুয়েট শিক্ষকদের
ছবি : খবরের কাগজ

সর্বজনীন পেনশন স্কিম বাতিলের দাবিতে মৌন মিছিল করেছেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষকরা। রবিবার (১৯ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. জামিলুর রেজা চৌধুরী পুরকৌশল ভবন থেকে তারা মৌন মিছিলটি বের করেন। মিছিলটি ড. এম এ রশিদ প্রশাসনিক ভবন হয়ে বুয়েট ক্যাফেটেরিয়া শহিদ মিনারে গিয়ে শেষ হয়। এরপর সেখানে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। 

এদিকে সর্বজনীন পেনশনসংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন বাতিলের দাবিতে একই স্থানে মানববন্ধন করছেন বুয়েটের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। 

মানববন্ধনে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সভাপতি অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান বলেন, ‘এটি কখনোই সর্বজনীন পেনশন স্কেল হতে পারে না। যদি সবাইকে একই পেনশন স্কেলের আওতায় আনা হয়, সে ক্ষেত্রে আমাদের কোনো অভিযোগ থাকবে না। কিন্তু প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের সর্বোচ্চ সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হবে এবং অন্যদের সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণ করা হবে, সেটি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আমার মনে করি, এমন কর্মকাণ্ডে শিক্ষক সমাজের সম্মান ও মর্যাদা ক্ষুণ্ন করা হয়েছে।

যে বৈষম্যমূলক পেনশন স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে, অবিলম্বে তা প্রত্যাহারের জোর দাবি জানাচ্ছি। যদি তা না হয়, তাহলে সমগ্র শিক্ষক সমাজ এবং কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়ে আন্দোলনের মাধ্যমে এই প্রজ্ঞাপন প্রত্যাহারে বাধ্য করা হবে। আমরা আশা করব, সরকারের শুভবুদ্ধির উদয় হবে।’