বন্যার্তদের সহযোগিতা করতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) দিনব্যাপী ‘গণত্রাণ’ সংগ্রহ এবং হলে হলে শিক্ষার্থীরা নানা কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন। কাপড় থেকে শুরু করে আর্থিক সহযোগিতা সংগ্রহ করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন শিক্ষার্থীরা। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ঢাবির ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রে (টিএসসি) গণত্রাণ সংগ্রহ করেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের স্বেচ্ছাসেবকরা।
বৃহস্পতিবার (২২ আগস্ট) সরেজমিনে দেখা যায়, রাত ৯টা পর্যন্ত টিএসসিতে ত্রাণগুলো প্যাকেজিংয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন স্বেচ্ছাসেবকরা। এর মধ্যে একটি টিম বন্যার্তদের সহযোগিতায় রওনা হয়েছে। বাকি টিমগুলো যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
টিএসসিতে ত্রাণ দিতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের ভিড়ও ছিল চোখে পড়ার মতো। সব পেশাজীবী যার যার সামর্থ্য অনুযায়ী ভলান্টিয়ারদের হাতে ত্রাণ পৌঁছে দেন। মুড়ি, চিড়া, বিস্কুট, স্যালাইন, খেজুরসহ সামর্থ্য অনুযায়ী শুকনা খাবার ত্রাণ হিসেবে দিয়ে যাচ্ছেন। কেউ স্যানিটারি ন্যাপকিন দিচ্ছেন, কেউবা আবার নগদ অর্থ দিচ্ছেন। বুথে বসা শিক্ষার্থীরা খাতায় অনুদানের অঙ্ক লিখে টাকা জমা রাখছেন। এদিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকে অনলাইনেও ত্রাণ উত্তোলনের কাজ করছেন।
মিরপুর থেকে ত্রাণ দিতে আসা তানভীর বলেন, ‘বিস্কুট, স্যালাইন, খেজুর নিয়ে এসেছি। আমরা যে যার জায়গা থেকে সামর্থ্য অনুযায়ী বন্যার্তদের জন্য এগিয়ে এসেছি। এই দুর্যোগ শুধু ফেনী, কুমিল্লা, নোয়াখালীর মানুষের নয়। এই দুর্যোগ আমাদের সবার। দুর্যোগে সবাইকে একসঙ্গে লড়তে হবে।’
ভলান্টিয়ারদের তথ্য অনুযায়ী বুধবার (২১ আগস্ট) সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এক হাজারের অধিক মানুষ বিভিন্ন খাবারসামগ্রী দিয়ে গণত্রাণ কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন। এ ছাড়া দুপুর পর্যন্ত ৫ লক্ষাধিক টাকা অনুদান হিসেবে এসেছে বলে জানান ভলান্টিয়াররা।
এদিকে দুপুর থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কয়েকটি হলে শিক্ষার্থীদের জামা-কাপড় সংগ্রহ করতে দেখা যায়। শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে বন্যার্তদের জন্য জামা-কাপড় দিয়ে যাচ্ছেন। অনেকে আবার পুরোনো কাপড়গুলো ওয়াশিং মেশিনে ধুয়ে ফ্যানে শুকিয়ে প্রস্তুত করে গুছিয়ে রাখছেন।
মাস্টারদা সূর্য সেন হলের শিক্ষার্থী আরিফুল ইসলাম খবরের কাগজকে বলেন, ‘আমাদের সবাইকে এক হয়ে কাজ করতে হবে। আমি কাছের এক বড় ভাইয়ের কাছে বন্যার্তদের সহযোগিতায় ২০০ পিস নতুন টি-শার্ট দিয়েছি। এভাবেই যদি সবাই এগিয়ে আসি, বন্যার্তদের কষ্ট কিছুটা হলেও লাঘব হবে। হয়তো আমরা পুরো ক্ষত মুছে দিতে পারব না, কিন্তু পাশে তো থাকতে পারি।’
আরিফ জাওয়াদ/ইসরাত চৈতী/