নতুন উপাচার্য নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত আর্থিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব পেয়েছেন রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি ও অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মোরশেদ হোসেন। তবে শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে গতকাল সোমবার পদত্যাগ করেন তিনি। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কলা অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. শফিকুল রহমান।
এর আগে গত রবিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিনস কমিটির সভায় আর্থিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব দেওয়া হয় ড. মোরশেদ হোসেনকে। এর আগে গত ২৯ আগস্ট সরকার, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ ও সরকারি সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার এক যৌথ নির্দেশনায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নিয়মিত উপাচার্য নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত প্রশাসনিক ও আর্থিক কার্যক্রম চলমান রাখার স্বার্থে ডিনস কাউন্সিল বা ক্ষেত্রমতে বিভাগীয় চেয়ারম্যানদের আলোচনাক্রমে একজন জ্যেষ্ঠ অধ্যাপককে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও আর্থিক কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়ার নির্দেশ দেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতেই রবিবার বেরোবির ডিনস কমিটি অধ্যাপক ড. মো. মোরশেদ হোসেনকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও আর্থিক কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়।
মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় জ্যেষ্ঠ অধ্যাপককে বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়। কিন্তু ড. মোরশেদ হোসেনের তুলনায় বিশ্ববিদ্যালয়ে জ্যেষ্ঠ অধ্যাপক ছিল। বিষয়টি বিতর্কিত হওয়া সত্ত্বেও তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। এ বিষয়ে ডিনস কমিটির সদস্যদের নিয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মাঝে সৃষ্টি হয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন গ্রুপ ও পেজে উঠেছে সমালোচনার ঝড়।
ফারুক হোসেন নামের এক শিক্ষার্থী তার ফেসবুক পোস্টে বলেন, ‘চলমান ঘটনায় ওনার (ড. মোরশেদ হোসেন) নামে মামলা আছে। ভিসি প্রয়োজন, ভিসি নিয়োগ দেন।’
‘বেরোবি শিক্ষক সমাচার’ নামের এক পেজে বলা হয়, ‘আওয়ামী লীগের এমপি মোতাহার হোসেন (হাতিবান্ধা-পাটগ্রাম আসন) নির্বাচনি প্রচারে ব্যস্ত ছিলেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। তারা আবার এই আমলেই সুবিধা নেওয়ার জন্য ব্যস্ত।’ এ বিষয়ে কথা বলতে অধ্যাপক ড. মোরশেদ হোসেনের সঙ্গে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল ধরেননি।’