ঢাকা ৮ আষাঢ় ১৪৩৩, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
আর্জেন্টিনা-অস্ট্রিয়া ম্যাচে কার জয়ের সম্ভাবনা কত, জানাল সুপারকম্পিউটার ৩৩ ম্যাচেই ১০০ গোল! হাইড্রেশন ব্রেক নিয়ে বিয়েলসার ক্ষোভ ইরানের রক্ষণদুর্গে আটকে গেল বেলজিয়াম গোল বাতিল ইরানের, গোলশূন্য প্রথমার্ধ বিশ্বকাপে আত্মঘাতী গোলের রেকর্ড পেলের কীর্তিতে ভাগ বসালেন ইয়ামাল জন্মবার্ষিকীতে স্মরণানুষ্ঠান: সুফিয়া কামালের ব্যক্তিত্ব সবাইকে আলোকিত করে বাড়ছে নদ-নদীর পানি, বন্যার শঙ্কা সৌদিকে উড়িয়ে দিল স্পেন যুদ্ধবিরতি প্রচেষ্টায় প্রথম দফার বৈঠক শেষ, মুখোমুখি যুক্তরাষ্ট্র–ইরান ডোকুর ‘বিশ্বকাপ ছাড়ার’ সিদ্ধান্তে সমালোচনার ঝড় মালয়েশিয়ায় কারাবন্দি বাংলাদেশিদের মুক্তিতে উদ্যোগের আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর প্রথমার্ধে সৌদি আরবের জালে ৩ গোল স্পেনের তীব্র গরমের পর স্বস্তির বৃষ্টি প্রথম গোলেই ইতিহাস গড়লেন ইয়ামাল সাবেক সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মোশাররফ হোসেনের দাফন সম্পন্ন সিংগাইরে বজ্রপাতে দুই কৃষকের মৃত্যু সুরের মূর্ছনায় বিশ্ব সংগীত দিবস: ঢাকার দুই প্রান্তে সুরের বিভা কুড়িগ্রামে এক বাঘা আইড় ৮৫০০০ অজু করার সময় বজ্রপাতে প্রাণ গেল ৩ মাদরাসাছাত্রের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মামলায় দণ্ডিত ৫৯ জন: আইনমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে ‘অসত্য’ বক্তব্য, উত্তপ্ত সংসদ স্পেনের শুরুর একাদশে ইয়ামাল সুফিয়া কামাল ও আবু হেনা মোস্তফা কামালের স্মরণে জবিতে দুই দিনব্যাপী সেমিনার শুরু মানিকগঞ্জে ঝোপে মিলল স্কুলছাত্রীর ঝুলন্ত খণ্ড-বিখণ্ড মরদেহ মালয়েশিয়ায় তারেক রহমান, বাণিজ্য–বিনিয়োগে নতুন সম্ভাবনার প্রত্যাশা দিনাজপুরে কোল্ডস্টোরেজে আলু সংরক্ষণ ফি ৫ টাকা নির্ধারণের দাবিতে মানববন্ধন চট্টগ্রামে গণপিটুনিতে যুবকের মৃত্যু, তদন্তে পুলিশ শরীয়তপুরে শিশু যৌন নিপীড়নের অভিযোগে মাদরাসা শিক্ষক আটক

বিদেশে উচ্চশিক্ষা নিয়ে শিক্ষার্থীদের ভাবনা

প্রকাশ: ২৭ অক্টোবর ২০২৪, ০৩:০৮ পিএম
বিদেশে উচ্চশিক্ষা নিয়ে শিক্ষার্থীদের ভাবনা
বিদেশে উচ্চশিক্ষার প্রতীকী ছবি

বিদেশ গিয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের আকাঙ্ক্ষা বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে কম-বেশি অনেকেরই থাকে। এই তালিকায় পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের হারই বেশি। তবে দিন দিন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়াদের মধ্যেও এই প্রবণতা বাড়ছে। কেউ কেউ তো উচ্চ মাধ্যমিকের গণ্ডি পেরিয়েই দেশের বাইরে উড়াল দেন। এক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের পছন্দের সারিতে প্রথমেই থাকে ইউরোপ-আমেরিকার দেশগুলো। ইউনেসকোর প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৩ সালে বাংলাদেশে থেকে যত শিক্ষার্থী (২৪,১১২ জন) উচ্চশিক্ষার জন্য দেশ ছেড়েছেন, ২০২৩ সালে সেই সংখ্যা ছিল দ্বিগুণেরও বেশি (৫২,৭৯৯ জন)। এদের মধ্যে একটা বড় অংশ আবার ভিনদেশেই স্থায়ীভাবে থাকার বন্দোবস্ত করে ফেলেন। বাইরে থেকে উচ্চশিক্ষা গ্রহণে শিক্ষার্থীদের এই উৎসাহের আসলে কারণটা কি? দেশের শিক্ষাব্যবস্থাতেই বা কিসের অপ্রতুলতা রয়েছে? এসব বিষয়ে কয়েকজন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলেছেন মাহমুদ শাকিল

হাসিবুল হাসান ধ্রুব
যন্ত্রকৌশল বিভাগ, সেশন: ২০১৮-১৯
রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

আমাদের দেশে বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিদ্যার চর্চা থাকলেও এর বাস্তবিক প্রয়োগের ক্ষেত্র এখনো সীমিত। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া ও ইউরোপের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো উন্নত শিক্ষার মান, গবেষণার সুযোগ এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার শিক্ষার্থীদের আকৃষ্ট করছে। দেশের শিক্ষাব্যবস্থা ও কর্মক্ষেত্রে দুর্নীতি ও প্রশাসনিক জটিলতা হতাশা সৃষ্টি করলেও উন্নত দেশগুলোর জীবনমান, নিরাপত্তা এবং সামাজিক সুরক্ষা শিক্ষার্থীদের বিদেশমুখী করছে। বাংলাদেশে প্রতিযোগিতামূলক চাকরির বাজারে বিশ্বমানের ডিগ্রি ও বিদেশি প্রতিষ্ঠানে কাজের অভিজ্ঞতা বৈশ্বিক চাকরির বাজারে প্রবেশকে সহজ করে তোলে এবং ভালো কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে। সব মিলিয়ে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক উন্নতির লক্ষ্যে বিদেশে পড়াশোনা এখন বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য একটি লোভনীয় সুযোগ।

মো. আবির হোসেন
যন্ত্রকৌশল বিভাগ,সেশন: ২০১৮-১৯
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

উন্নয়নশীল দেশের একজন ছাত্র হিসেবে উন্নত দেশের উচ্চতর ডিগ্রি নেওয়ার ইচ্ছা অনেক দিন ধরেই অন্তরে লালন করছি। মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে পড়াশোনা করতে গিয়ে দেখেছি, আরও গভীর জ্ঞান আর আধুনিক টেকনোলজি নিয়ে পড়াশোনা করা কতটা গুরুত্বপূর্ণ। উন্নত দেশে গিয়ে পড়াশোনা করলে নতুন টেকনোলজি, গবেষণা আর ভিন্নধারার কাজের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পাওয়া যায়। এটা আমার জন্য একদিকে যেমন নিজের স্কিল বাড়ানোর সুযোগ, তেমনি নতুন অভিজ্ঞতা অর্জনেরও একটা বড় মাধ্যম। আশা করছি, এই অভিজ্ঞতা আমাকে ভবিষ্যতে নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে সাহায্য করবে। এসব জ্ঞান আর অভিজ্ঞতা নিয়ে আমার ক্যারিয়ারে আরও ভালো কিছু করতে চাই। দেশে ফিরে সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং সেক্টরে কিছু অবদান রাখারও ইচ্ছা আছে।

মো.  ইমরান নাজির
অর্থনীতি বিভাগ, সামার ২০২০
ইস্টওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়

বিদেশে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে পড়ালেখার গুণগত মান এবং গ্রহণযোগ্যতা এ দুটি বিষয় অগ্রণী ভূমিকা পালন করে বলে আমি মনে করি। শিক্ষার্থী হিসেবে বিশ্বমানের কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ডিগ্রি লাভ পরবর্তী সময়ে কর্মজীবনে অধিকতর মূল্যায়ন এবং পেশাগত দক্ষতা তৈরিতে সাহায্য করে। তা ছাড়া উন্নত নাগরিক সুবিধা, জীবনমানের উন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা এগুলোও শিক্ষার্থীদের বিদেশে উচ্চশিক্ষা গ্রহণে আকৃষ্ট করে। এজন্য অনেকেই উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে দেশে না ফিরে বিদেশেই কর্মজীবন শুরু করে, যাকে আমরা মেধা পাচার বলে থাকি। অথচ বিদেশ থেকে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে দেশে ফিরে দেশের প্রয়োজনে সেই জ্ঞানকে কাজে লাগাতে পারলে দেশের মানুষের জন্য মঙ্গলজনক হবে। এ জন্য দেশের নীতিনির্ধারকদের উচিত সেই অনূকূল পরিবেশ তৈরি করা।

মোহাম্মদ নাঈম
অর্থনীতি বিভাগ, সেশন: ২০১৮-১৯
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

বিদেশে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ এখনকার সময়ে শিক্ষার্থীদের কাছে এক আকর্ষণীয় এবং বহুল প্রচলিত লক্ষ্য হয়ে উঠেছে। বৈশ্বিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সুযোগ-সুবিধা, গবেষণার সমৃদ্ধ পরিসর এবং নতুন সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ শিক্ষার্থীদের বিদেশে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের প্রতি আগ্রহ বাড়িয়ে তুলেছে।
প্রথমত, বিদেশে উচ্চশিক্ষা নেওয়ার প্রধান আকর্ষণ হচ্ছে শিক্ষার মান এবং গবেষণার সুযোগ। উন্নত দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গবেষণার ক্ষেত্রে যে ধরনের আর্থিক সহায়তা এবং প্রযুক্তিগত সুবিধা রয়েছে, তা আমাদের দেশের অনেক প্রতিষ্ঠানে অনুপস্থিত। 
দ্বিতীয়ত, আন্তর্জাতিক শিক্ষা পরিবেশে নিজেকে গড়ে তুলতে সুবিধা হয়। বিভিন্ন দেশ, সংস্কৃতি এবং ভাষার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মিশতে পারার অভিজ্ঞতা একজন শিক্ষার্থীকে বহুমুখী বিষয়ে চিন্তা করতে সহায়তা করে।

মো. সাকিব আহমেদ
টেক্সটাইল ইন্জিনিয়ারিং ম্যানেজমেন্ট, সেশন: ২০১৮-১৯
বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়

একুশ শতকের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে একজন শিক্ষার্থী নিজেকে বিশ্বমানের করে গড়ে তোলার জন্য বিদেশে উচ্চশিক্ষা বহুমুখী ভূমিকা রাখতে পারে। তবে বিদেশে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে একজন শিক্ষার্থীর চিন্তাভাবনা অনেকটা নির্ভর করে তার ব্যক্তিগত লক্ষ্য, আগ্রহ এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার ওপর। উচ্চশিক্ষা একজন শিক্ষার্থীর জন্য বিশ্বের প্রথম সারির বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অধ্যায়ন এবং গবেষণার সুযোগ করে দেওয়ার পাশাপাশি অন্যান্য ভাষা এবং সংস্কৃতির সাথে পরিচয় করায়। ফলস্বরূপ একজন শিক্ষার্থী মাল্টি-ডাইমেনশনাল ক্যারিয়ার গড়তে পারে।

বিশেষ করে বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি টেক্সটাইল সেক্টরের টেকসই এবং বহুমাত্রিক উন্নয়নের জন্য উচ্চশিক্ষার প্রয়োজনীয়তা অনেক বেশি।

নাফিসা আমরীন পূর্ণতা
বিবিএ, তৃতীয় বর্ষ
নর্থসাউথ বিশ্ববিদ্যালয়

দেশের বাইরে উচ্চশিক্ষা নিতে বরাবরের মতোই আমরা সব সময় উৎসাহিত থাকি। বিদেশের নামি-দামি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একটি ডিগ্রি নেওয়া প্রত্যেক ছাত্র-ছাত্রীর কাছে অনেক বড় প্রাপ্তি।  কিছু দিন আগেও আমাদের দেশের শিক্ষার্থীরা বিদেশ পাড়ি জমাতো উচ্চশিক্ষার পাশাপাশি সেখানে স্থায়ী ঠিকানা গড়ে তোলার লক্ষ্যে। আমিও ঠিক এমনটি পরিকল্পনা করে রেখেছিলাম। কিন্তু এখন এই দৃশ্যপটে খানিকটা পরিবর্তন এসেছে। বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্ম এখন উচ্চশিক্ষায় দীক্ষিত হয়ে নিজ দেশের জন্য কাজ করতে চায়। আমার নিজের অন্তত এমনটাই ইচ্ছে। মাতৃভূমির উন্নয়নের জন্যই দেশে ফিরে একসাথে কাজ করার আগ্রহ এখন আমাদের সবার মাঝে।

ফাইরুজ আনিকা
ইংরেজি বিভাগ, ব্যাচ : ৫৫
ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি

বর্তমানে শিক্ষার্থীরা বিদেশমুখী। দেশের বাইরে গিয়ে উচ্চশিক্ষা অর্জনের অন্যতম কারণ ভালো ক্যারিয়ার। বর্তমানে দেশের শিক্ষাব্যবস্থার মান তেমন একটা ভালো পর্যায়ে নেই। আমাদের দেশের শিক্ষার থেকে বাইরের দেশ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে আসাটাকে দেশের চাকরি বাজারে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয়। দেশে চাকরির বাজার শোচনীয় হলেও বাইরের দেশে উচ্চশিক্ষার পাশাপাশি রয়েছে চাকরির সুযোগ। তাই শিক্ষার্থীদের বাইরে যাওয়ার ঝোঁকও বেশি। বাইরের দেশ গবেষণার দিক থেকে অনেক এগিয়ে। তাই উচ্চশিক্ষার পাশাপাশি গবেষণার কাজেও থাকার জন্য সবাই বাইরে যেতে অগ্রসর হয়। উচ্চশিক্ষা অর্জনে বাইরে যাওয়ার ব্যাপারে বেশির ভাগ শিক্ষার্থীর পজিটিভ মনোভাব থাকে।

আব্দুল্লাহ আল নোমান
রসায়ন ডিসিপ্লিন, সেশন : ২০১৯-২০
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়

আমি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন ডিসিপ্লিনের চতুর্থ বর্ষের একজন শিক্ষার্থী। উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশ গমনে শিক্ষার্থীদের আগ্রহী হওয়ার ব্যাপারে দেশে পর্যাপ্ত সুযোগের সংকীর্ণতাকেই দায়ী মনে করি। এক্ষেত্রে নতুন উদ্ভাবন বা থিসিসের কাজ চলমান রাখার জন্য প্রয়োজনীয় ফান্ড পাওয়া যায় না। এর পাশাপাশি ল্যাবের ইনস্ট্রুমেন্টের ভয়াবহ অভাব রয়েছে। কোনো একটা থিসিসের কাজের জন্য অনেক ক্ষেত্রেই অন্য বিশ্ববিদ্যালয় বা প্রতিষ্ঠানের শরণাপন্ন হতে হয় এবং এক্ষেত্রে কয়েক মাস পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়, যা সঠিক সময়ে কাজ সম্পন্নে ব্যাঘাত ঘটায়। এ ছাড়াও দেশে বেকারত্বের সমস্যা এবং বিদেশে পড়াশোনার পাশাপাশি ভালো মানের জীবনযাপন অনেক ক্ষেত্রে উৎসাহী করে ছাত্রদের।

মো. আলিফ
হিসাববিজ্ঞান বিভাগ, নর্থসাউথ বিশ্ববিদ্যালয়

শিক্ষার্থীরা বিদেশে উচ্চশিক্ষাকে নতুন দিগন্ত উন্মোচনের এক সোনালি সুযোগ হিসেবে দেখে। বিশ্বমানের শিক্ষা অর্জন, বৈশ্বিক কর্মসংস্থানের দুয়ার খোলা এবং নিজেকে এক ভিন্ন সংস্কৃতির মাঝে গড়ে তোলার চিন্তা তাদের মুগ্ধ করে। মর্যাদাপূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পড়ার পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের মানুষের সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে তোলার সম্ভাবনা তাদের অনুপ্রাণিত করে। যদিও খরচ, ভিসার জটিলতা এবং নতুন পরিবেশে খাপ খাওয়ানোর চ্যালেঞ্জ আছে। শিক্ষার্থীরা এটিকে ভবিষ্যতের সফলতা এবং ব্যক্তিগত বিকাশের জন্য এক অনন্য বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করে। সব মিলিয়ে বিদেশে পড়াশোনা শিক্ষার্থীদের কাছে এক মূল্যবান বিনিয়োগ, যা তাদের পেশাগত ও ব্যক্তিগত জীবনে অসীম সম্ভাবনার দিগন্ত খুলে দেয়।

 

মুশফিকুর রহমান যোবায়ের
হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য ব্যবস্থা বিভাগ, সেশন : ২০১৮-১৯
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা গবেষণা ও উদ্যোক্তা তৈরির ক্ষেত্রে উদ্ভাবনী চিন্তার বিকাশে পিছিয়ে রয়েছে। ফলে স্নাতক শেষে শিক্ষার্থীরা চাকরির বাজারে টিকে থাকতে দক্ষতার অভাবে সমস্যায় পড়েন। আদর্শগতভাবে, এই পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী চিন্তা ও দক্ষতার মাধ্যমে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করার সক্ষমতা থাকা উচিত ছিল। এই দক্ষতার অভাব কাটিয়ে উঠতে বা দক্ষতা অনুযায়ী কাজের সুযোগ না থাকায়, শিক্ষার্থীদের মধ্যে উচ্চশিক্ষার জন্য দেশের বাইরে যাওয়ার প্রবণতা বাড়ছে।

আমি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান তথ্য ব্যবস্থা বিভাগ থেকে স্নাতক শেষ করেছি। বাংলাদেশে সিএ সম্পন্ন করে অস্ট্রেলিয়া বা কানাডায় সিপিএ করার ইচ্ছা রয়েছে।

 কলি 

বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষে নোবিপ্রবিতে উৎসবের আমেজ

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬, ১০:১৬ এএম
বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষে নোবিপ্রবিতে উৎসবের আমেজ
ছবি: খবরের কাগজ

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উদযাপন উপলক্ষে আগামী ২২ জুন বর্ণিল আলোকসজ্জায় সেজেছে পুরো ক্যাম্পাস। দিবসটিকে ঘিরে প্রশাসনের উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, একাডেমিক ভবন, প্রশাসনিক ভবন, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ও সড়কগুলোতে দৃষ্টিনন্দন আলোকসজ্জা করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয় দিবসকে স্মরণীয় করে রাখতে নেওয়া হয়েছে নানা আয়োজন। দিবস উপলক্ষে ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় করা হয়েছে বর্ণিল আলোকসজ্জা এবং পুরো ক্যাম্পাসজুড়ে চলছে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘চিত্রকৃৎ’ অডিটোরিয়ামের সামনে নান্দনিক আলপনা এঁকে অতিথিদের স্বাগত জানানোর প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।

সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে রঙিন আলোর ঝলকানিতে প্রাণচঞ্চল হয়ে ওঠে পুরো ক্যাম্পাস। আলোকসজ্জায় নতুন রূপ পাওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্থানে শিক্ষার্থীদের ভিড় লক্ষ্য করা যায়। অনেকেই স্মরণীয় মুহূর্তগুলো ক্যামেরাবন্দি করতে ছবি তোলায় ব্যস্ত সময় পার করেন। উৎসবমুখর পরিবেশে বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের আনন্দ ছড়িয়ে পড়ে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে।

এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৩ জন শিক্ষার্থী ও ২৬ জন শিক্ষককে ডিনস অ্যাওয়ার্ড এবং ৩ জন শিক্ষককে ভাইস-চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হবে। গবেষণা, প্রকাশনা ও একাডেমিক উৎকর্ষতায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে প্রতিবছর এ সম্মাননা প্রদান করা হয়। 

শিক্ষার্থীরা জানান, আলোকসজ্জায় ক্যাম্পাসের সৌন্দর্য বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে রাতের বেলায় বিশ্ববিদ্যালয়কে আরও প্রাণবন্ত ও উৎসবমুখর মনে হচ্ছে। এমন আয়োজন শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের আনন্দকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

শিক্ষা বিভাগের শিক্ষার্থী তৌহিদুর রহমান বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় দিবস আমাদের জন্য শুধু একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, এটি আমাদের আবেগ ও গর্বের দিন। দিবসটি উপলক্ষে ক্যাম্পাসে যে আলোকসজ্জা করা হয়েছে, তা সত্যিই দৃষ্টিনন্দন। রাতে ক্যাম্পাসের সৌন্দর্য কয়েকগুণ বেড়ে গেছে।’

আরেক শিক্ষার্থী সুহানা নুর বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় দিবসকে কেন্দ্র করে পুরো ক্যাম্পাসে উৎসবের আমেজ তৈরি হয়েছে। আলোকসজ্জার কারণে ক্যাম্পাসকে অনেক বেশি আকর্ষণীয় লাগছে। দিনের তুলনায় রাতের ক্যাম্পাস এখন একেবারেই ভিন্ন রূপ ধারণ করেছে। বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরে ঘুরে আলোকসজ্জা উপভোগ করছি এবং ছবি তুলছি।’

নোবিপ্রবি উপ-উপাচার্য ও রিসার্চ সেলের পরিচালক অধ্যাপক ড. শফিকুল ইসলাম বলেন, এবার সাতটি অনুষদের মোট ২২ জন শিক্ষার্থী ও ২৬ জন শিক্ষক ডিনস এ্যাওয়ার্ড ও তিন জন শিক্ষক ভাইস-চ্যান্সেলর পাবেন। বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে ভিডিও ডকুমেন্টারি ও অতিথিরা বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা উদ্বোধন করবেন। এছাড়াও বিকেল থেকে রাত ১০ টা পর্যন্ত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এসব আয়োজনের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের গৌরবময় পথচলা ও অর্জনগুলো নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরা হবে।

কাউসার আহমেদ/অন্তরা

রাবি প্রেসক্লাবের সভাপতি ধ্রুব-সম্পাদক জিসান

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ০৮:৩৯ পিএম
রাবি প্রেসক্লাবের সভাপতি ধ্রুব-সম্পাদক জিসান
ধ্রুব-জিসান। ছবি: খবরের কাগজ

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) প্রেসক্লাবের ২০২৬-২৭ বর্ষের নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ও দৈনিক ইত্তেফাকের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক আশিকুল ইসলাম ধ্রুবকে সভাপতি ও একই বিভাগের একই বর্ষের আরেক শিক্ষার্থী ও ঢাকা পোস্টের প্রতিবেদক জুবায়ের জিসানকে সাধারণ সম্পাদক করে ১৩ সদস্যবিশিষ্ট কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন করা হয়েছে।

শনিবার (২০ জুন ) বেলা ৩টায় সংগঠনটির নিজস্ব কার্যালয়ে নির্বাচন প্রক্রিয়া শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে ফল ঘোষণা করেন সংগঠনটির প্রধান উপদেষ্টা ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. মো. ফজলুল হক।

কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন-  সহ-সভাপতি ডেইলি ক্যাম্পাস ও মানবজমিনের প্রতিনিধি মারুফ হোসেন মিশন ও  দৈনিক ইনকিলাবের মিরাজ আফ্রিদি। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এনটিভি ও দৈনিক বনিক বার্তার আবু ছালেহ শোয়েব, কোষাধ্যক্ষ দৈনিক নয়াদিগন্তের প্রতিনিধি ফজলে রাব্বি পরশ, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক দৈনিক আমার দেশের প্রতিনিধি ফাহমিদুর রহমান ফাহিম , প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক দৈনিক কালবেলার প্রতিনিধি আজাহারুল ইসলাম মীর তুহিন, দপ্তর সম্পাদক দৈনিক মানবকণ্ঠের প্রতিনিধি আবু বকর অনিক ও ক্রীড়া সম্পাদক এশিয়া পোস্টের সৈয়দ হুজ্জাত উল্লাহ মাহিন।

এতে কার্যনির্বাহী সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন মানবকণ্ঠের মাল্টিমিডিয়া প্রতিনিধি বিপ্লব উদ্দিন, বাণিজ্য বার্তার প্রতিনিধি সামিয়া আক্তার ও জাগরণ নিউজের প্রতিনিধি  রাফাসান আলম।

ফলাফল ঘোষণার সময় আরও উপস্থিত ছিলেন- প্রেসক্লাবের সাবেক উপদেষ্টা অধ্যাপক আখতার হোসেন মজুমদার ও সদ্য বিদায়ী সভাপতি মনির হোসন মাহিন, মানবজমিনের রাজশাহী ব্যুরো প্রধান ডালিম হোসেন শান্ত।

শাকিবুল হাসান/রিফাত/

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে নবীনবরণ: উচ্ছ্বাসে ভরা প্রবেশিকা

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ০৯:১৯ এএম
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে নবীনবরণ: উচ্ছ্বাসে ভরা প্রবেশিকা
ছবি: খবরের কাগজ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের (৫৫তম ব্যাচ) স্নাতকের নবীন শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ অনুষ্ঠান উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার (১৯ জুন) বিকেল সাড়ে ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জহির রায়হান মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠানে নবীনবরণ অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নবীন শিক্ষার্থীদের ফুল, বিশ্ববিদ্যালয়ের ডায়েরি, ক্লাস ব্যাগ ও বার্ষিক ক্যালেন্ডার দিয়ে বরণ করে নেয়। বিভিন্ন অনুষদের প্রায় দুই হাজার নবীন শিক্ষার্থী এতে অংশ নেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন নবীনদের একাডেমিক পড়াশোনা ও গবেষণায় মনোযোগী হওয়ার পরামর্শ দেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবন, আবাসিক হল, নিরাপত্তা, অভ্যন্তরীণ রাস্তাসহ নানা সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেন। নবীন শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আশা-আকাঙ্ক্ষা জানতে চান এবং যথাসম্ভব সমাধানের প্রতিশ্রুতি দেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “কঠিন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীরা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়েছ। তোমরা এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে নিজেকে দেশের যোগ্য মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলবে বলে আমি বিশ্বাস করি।”

এর আগে ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের সামনে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন এবং প্রতিটি বিভাগের নবীন শিক্ষার্থীরা বাহারি রকমের গাছের চারা রোপণ করেন।

সভাপতির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান বলেন, “তোমরা কঠোর প্রতিযোগিতামূলক ভর্তি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মেধার স্বাক্ষর রেখে দেশের একমাত্র পূর্ণাঙ্গ আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্ণাঢ্য ও গৌরবময় ঐতিহ্যের অংশ হতে পেরে এক অনন্য সুযোগ লাভ করেছ। বিশ্ববিদ্যালয় কেবল উচ্চতর ডিগ্রি অর্জনের জায়গা নয়; এটি মুক্তবুদ্ধি চর্চা, সংস্কৃতি এবং আত্ম-আবিষ্কারের এক বিশাল মঞ্চও বটে।”

তিনি আরও বলেন, “এখানে তোমাদের এই নতুন পথচলাকে সফল করতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মনে রাখা জরুরি। আমরা চাই তোমরা শুধু পুঁথিগত বিদ্যায় শিক্ষিত না হয়ে, একজন মানবিক, নৈতিক ও দায়িত্বশীল সুনাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠো। সময়কে সঠিকভাবে কাজে লাগাও, নিয়মানুবর্তিতা মেনে চলো এবং নিজের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে অবিচল থাকো। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম-কানুন ও মূল্যবোধ মেনে চলে তোমরা এই প্রতিষ্ঠানের সম্মান আরও উজ্জ্বল করবে, এটাই আমার প্রত্যাশা।”

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. শামসুল আলম, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. নজরুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. আব্দুর রবসহ অন্যান্য শিক্ষকবৃন্দ।

আমান/এএফ

জাবিতে শিক্ষামন্ত্রীর আগমনে ছাত্র ইউনিয়নের প্রতিবাদ

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ১০:৪৩ পিএম
জাবিতে শিক্ষামন্ত্রীর আগমনে ছাত্র ইউনিয়নের প্রতিবাদ
ছবি: খবরের কাগজ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের প্রথম বর্ষের নবাগত শিক্ষার্থীদের প্রবেশিকা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের আগমনকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন জাবি সংসদের নেতা-কর্মীরা বিভিন্ন দাবিতে প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছেন।

শুক্রবার (১৯ জুন) বিকেল ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জহির রায়হান মিলনায়তন সংলগ্ন রাস্তায় এ প্রতিবাদ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় তাদের হাতে ‘একাডেমিক নিপীড়কদের ক্রমাগত দায়মুক্তি দেওয়ায় উপাচার্যকে অভিনন্দন’, ‘জুলাই বিচারের নামে অশ্বডিম্ব পাড়ায় অভিনন্দন’, ‘ভবন নির্মাণ is going well, গবেষণা is no more’সহ বিভিন্ন স্লোগানসংবলিত প্ল্যাকার্ড দেখা যায়।

ছাত্র ইউনিয়ন জাবি সংসদের প্রচার সম্পাদক সাদিয়া ইমরোজ ইলা বলেন, “বর্তমান উপাচার্য দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে প্রশাসনিক কার্যক্রম থেকে শুরু করে একাডেমিক সব কাজেই চরম অদক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। বিচারের নামে প্রহসন, একাডেমিক নিপীড়কদের ক্রমাগত দায়মুক্তি দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়কে অপরাধীদের আশ্রয়স্থলে পরিণত করেছেন। ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টার ঘটনার দুই মাস পার হয়ে গেলেও অপরাধীদের গ্রেপ্তারে ন্যূনতম অগ্রগতি নেই। এসব বিশৃঙ্খলার বিষয়টি শিক্ষামন্ত্রীর দৃষ্টিতে আনতেই আমরা এ প্রতিবাদ কর্মসূচি আয়োজন করেছি।”

জাবি ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি জাহিদুল ইসলাম ইমন বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পদ্ধতি থেকে শুরু করে সার্টিফিকেট উত্তোলন পর্যন্ত প্রতিটি পর্যায়ে শিক্ষার্থীরা হয়রানি ও অবিচারের শিকার হচ্ছেন। অভ্যুত্থানের পর উপাচার্য দায়িত্ব নিয়েও একাডেমিক কিংবা প্রশাসনিক ক্ষেত্রে সামান্যতম পরিবর্তন আনতে পারেননি। এই ব্যর্থতার দায় মনে করিয়ে দিতেই আজকের কর্মসূচি। যতদিন শিক্ষার্থীদের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালিত না হবে, ততদিন আমাদের সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে।”

আমানউল্লাহ/এএইউ

চাকরি স্থায়ীকরণের দাবিতে জাবির কর্মচারীদের অবস্থান

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০৯:১১ পিএম
আপডেট: ১৮ জুন ২০২৬, ০৯:১৫ পিএম
চাকরি স্থায়ীকরণের দাবিতে জাবির কর্মচারীদের অবস্থান
ছবি: খবরের কাগজ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে দৈনিক মজুরি ভিত্তিতে কর্মরত কর্মচারীরা চাকরি স্থায়ীকরণের দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকাল ৯টা থেকে নতুন প্রশাসনিক ভবনের নিচে প্রায় ৫০ জন কর্মচারী অবস্থান করেছেন।

প্রায় এক যুগেরও বেশি সময় ধরে দৈনিক মজুরিতে কাজ করে আসা এসব কর্মচারীদের মধ্যে অনেকেই ৯ থেকে ১৪ বছর ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে এমন ১১৭ জন কর্মচারী রয়েছেন। জ্যেষ্ঠরা ২০১৩ সালে এবং সর্বশেষ ২০১৭ সালে নিয়োগ পেয়েছিলেন।

অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার সময় আন্দোলনকারীরা ‘দুনিয়ার মজদুর এক হও, লড়াই করো’, ‘লড়াই লড়াই লড়াই চাই, লড়াই করে বাঁচতে চাই’, ‘আমাদের দাবি মানতে হবে’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।

কর্মচারীরা জানান, মাত্র ১৬,৫০০ টাকা বেতনে সংসার চালানোই কষ্টকর। কোনো লিখিত ছুটি, বোনাস বা অন্যান্য সুবিধা নেই। সন্তানের লেখাপড়া ও চিকিৎসার মতো মৌলিক প্রয়োজনগুলোও তাদের কাছে বিলাসিতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন প্রশাসন চাকরি স্থায়ীকরণের আশ্বাস দিলেও কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

শহিদ ফেলানি খাতুন হলের হল অ্যাটেনডেন্ট মো. আবু রায়হান বলেন, “আমরা দীর্ঘদিন ধরে দৈনিক মজুরিতে কাজ করে যাচ্ছি। বারবার আশ্বাস দেওয়া হলেও কিছুই হয়নি। সম্প্রতি ১৫ জন গার্ডের যে সার্কুলার হয়েছে, সেখানকার বয়সসীমা আমাদের অনেকেরই পার হয়ে গেছে। এতদিন স্থায়ী করার কথা বলে এখন আবেদন করতেও পারছি না।”

অবস্থান কর্মসূচির একপর্যায়ে আন্দোলনকারীদের ছয় সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক করে। সুফিয়া কামাল হলের হল অ্যাটেনডেন্ট মোহাম্মদ নাইম বলেন, “আমাদের জানানো হয়েছে, শুরুতে ব্যানারে তারেক রহমানের ছবি থাকায় উপর মহলে গোয়েন্দা সংস্থার নেগেটিভ ধারণা হয়েছে। এজন্য প্রশাসন লিখিত ক্ষমাপ্রার্থনা চেয়েছে।”

তিনি আরও জানান, প্রশাসন এখন তাদের নিয়োগের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে এবং তদন্ত করবে বলে জানিয়েছে। অথচ নিয়োগের সময় সার্কুলার প্রকাশিত হয়েছিল এবং ইউজিসি অনুমোদিত সিন্ডিকেটে অনুমোদন হয়েছিল।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মচারী বলেন, “ইঙ্গিতে বলা হচ্ছে আমাদের নিয়োগ অবৈধ। এটা আমাদের জন্য পরোক্ষ হুমকি। ন্যায্য দাবি তুললেই যদি চাকরিটাও চলে যায়, তাহলে আমরা কোথায় দাঁড়াব? এতদিন কেন বলা হয়নি যে চাকরি অবৈধ? শুধু আশ্বাসই দেওয়া হয়েছে।”

আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, দাবি পূরণ না হলে আগামী রবিবার থেকে আরও তীব্র ও লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন।

আমানউল্লাহ/ এএফ