ঢাকা ৯ আষাঢ় ১৪৩৩, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
বিশ্বকাপে মেসির ১৮ গোল: কোন দলের বিপক্ষে কত দেখে নিন যে কারণে বন্ধ ফ্রান্স-ইরাক ম্যাচ এমবাপ্পের গোলে ইরাকের বিপক্ষে প্রথমার্ধে এগিয়ে ফ্রান্স গোল করেই রোনালদোর রেকর্ডে ভাগ বসালেন এমবাপ্পে বর্ণবাদী মন্তব্যের জন্য ক্ষমা চাইলেন বোগডানোভিচ জন্মদিনের আগের রাতে ঝলমলে মেসি রাউন্ড ৩২-এ আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ কে? আর্জেন্টিনার ৫ গোলের ৫টিই মেসির পাঁচ বছর পর আবারও আইসিসির মাসসেরা মুশফিক বিশ্বকাপে টানা ৬ ম্যাচে গোলের কীর্তিতে নাম লেখালেন মেসি মেসির জোড়া গোলে অস্ট্রিয়াকে হারিয়ে নকআউটে আর্জেন্টিনা গ্যালারির সবচেয়ে ব্যতিক্রমী মুখটি এবার বিশ্বকাপে মেসির রেকর্ড গড়া গোলে প্রথমার্ধে এগিয়ে আর্জেন্টিনা ক্লোসাকে ছাড়িয়ে বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতা এখন মেসি অপ্রত্যাশিত এক রেকর্ড মেসির পেনাল্টি মিস করলেন মেসি বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেলেন জার্মান ডিফেন্ডার পরবর্তী ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন অ্যান্ডি বার্নহ্যাম দশমিকের হিসাবে আটকে আছে তামাক কর, রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার দক্ষিণ এশীয় শিশু সুরক্ষা সম্মেলনে যোগ দিতে কলম্বো পৌঁছেছেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী চীনে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী গোপালগঞ্জে আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সেনা মোতায়েন সাঁথিয়ায় বুদ্ধি প্রতিবন্ধীকে ধর্ষণ, অভিযুক্ত গ্রেপ্তার অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার একাদশে পরিবর্তন মানিকগঞ্জে মারিয়া হত্যা মামলায় প্রধান শিক্ষকসহ গ্রেপ্তার ৮ গাজীপুরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ.লীগের ৩৪ নেতাকর্মী আটক সাতকানিয়ায় যুবলীগ নেতা হাসান মাহমুদ গ্রেপ্তার নোয়াখালীতে আসল র‍্যাবের হাতে নকল র‍্যাব সদস্য গ্রেপ্তার সারাদেশে ভূমিকম্প অনুভূত সুরে সুরে শেষ হলো বিশ্ব সংগীত দিবসের বর্ণিল আয়োজন

সরকারি চাকরির বয়স ৩২ ও ৪ বার বিসিএস নিয়ে শিক্ষার্থীদের ভাবনা

প্রকাশ: ০৩ নভেম্বর ২০২৪, ০১:৫০ পিএম
আপডেট: ০৩ নভেম্বর ২০২৪, ০৭:০৯ পিএম
সরকারি চাকরির বয়স ৩২ ও ৪ বার বিসিএস নিয়ে শিক্ষার্থীদের ভাবনা
বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন। ছবি: সংগৃহীত

সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩৫ বছর করার দাবিতে চাকরিপ্রত্যাশীরা দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। গত আগস্টে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পর আন্দোলনটি আরও জোরদার হয়। এরপর তারা বিভিন্ন কর্মসূচিসহ শাহবাগ অবরোধও করে। চলমান ইস্যুতে গত ২৪ অক্টোবর প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে উপদেষ্টা পরিষদের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে সরকারি চাকরিতে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩২ এবং তিনবারের বেশি বিসিএস পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ ঘটনায় ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন এই ইস্যুতে আন্দোলন করে আসা শিক্ষার্থীরা। পাশাপাশি রাজপথে চলছে আন্দোলন-অবরোধও। গত ৩০ অক্টোবর সচিবালয় অভিমুখে মিছিল নিয়ে এগোতে থাকলে আন্দোলনকারীদের ওপর জলকামান থেকে পানি ছোড়ে পুলিশ। এরপর গত ৩১ অক্টোবর এক বিজ্ঞপ্তিতে চারবার বিসিএস পরীক্ষা দেওয়ার নতুন সিদ্ধান্তের কথা জানায় অন্তর্বর্তী সরকার। তবে চারবার বিসিএস নিয়েও ধোঁয়াশা কাটেনি। যারা ইতোমধ্যে চারবার বিসিএস দিয়ে ফেলেছেন, তাদের ব্যাপারে বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করা হয়নি। এমন সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট নন ৩৫ প্রত্যাশী শিক্ষার্থীরা। তবে অনেক শিক্ষার্থী সরকারের এমন সিদ্ধান্তকে সাধুবাদও জানাচ্ছেন। তারা বলছেন, সরকারের এমন সিদ্ধান্ত যৌক্তিক ও সময়োপযোগী। আজকের প্রতিবেদনে এ ইস্যুতে শিক্ষার্থীদের মতামত তুলে ধরছেন খালিদ ফারহান


এনামুল হক
সমাজবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
সেশন: ২০১৭-১৮

বাংলাদেশের বিসিএস এর প্রেক্ষাপট বর্ণনায় টুয়েলভথ ফেইল সিনেমার মনোজ (কেন্দ্রীয় চরিত্র) আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কারণ আর্থসামাজিক দিক ও বিসিএস সম্পর্কে বাংলাদেশের তরুণদের একটা দিক মনোজ প্রতিনিধিত্ব করে। উন্নয়নশীল দেশের পাশাপাশি বাংলাদেশের ৭০ ভাগ জনগোষ্ঠী কৃষির উপর নির্ভরশীল। সেই কৃষি পরিবার বা নিম্নবিত্ত অন্যান্য পেশার সাথে জড়িত থাকা পরিবার থেকে যখন কেউ উচ্চশিক্ষা লাভ করে তখন স্বাভাবিকভাবেই সে চেষ্টা করে তার পরিবারের উন্নতির জন্য অথবা নিজেকে শিক্ষিত হিসেবে সম্মানজনক পেশায় দেখার জন্য।

ফলশ্রুতিতে, লেখাপড়া শেষ করেই খুব দ্রুতই একটি চাকরি পাওয়া আমাদের সমাজের প্রেক্ষাপটে খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। যার জন্য দেখা যায়, পাবলিক বা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা একাডেমিক পড়াশুনার পাশাপাশিই চাকরির প্রস্তুতি নেয়া শুরু করে। সেই শুরু থেকে যদি চক্রাকারে ঘুরতে-ঘুরতে ২৪ থেকে ৩৫ বছর পর্যন্ত চলে যায়, অথবা এই ১১ বছরে ৭-৮টি বিসিএস দিয়ে ব্যর্থ হয়ে হতাশায় পর্যবসিত হয়, তখন তা রাষ্ট্র বা সমাজের জন্য একজন শিক্ষার্থীকে দারুণভাবে অপচয় করা ছাড়া আর কিছুই নয়।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট বিবেচনায় সরকারি চাকুরিতে বয়সসীমা ৩৫ বছর একটি অযৌক্তিক ভাবনা বলে আমি মনে করি। ৩৫ বছরে পাশ করে একজন ব্যক্তির চাকরিতে জয়েন করতে বয়স হবে ৩৭ বছর-যা বাংলাদেশের আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপটে খুবই বেশি। কেননা যেখানে ২৫ লাখের উপর বেকার তরুণ চাকরি পাচ্ছেনা অথবা বছরের পর বছর সরকারি চাকরির পিছনে পড়ে থাকছে, তখন এর প্রভাব পুরো সমাজেই পড়ছে। ৩০ বছর বয়সেই চাকরি না পেয়ে প্রচন্ড হতাশায় আত্মহত্যার খবরও আমরা দেখেছি, তাই ৩৫ বছর পর্যন্ত সরকারি চাকরির জন্য পড়ে থাকা মেধার অপচয় ছাড়া আর কিছু নয়। যার জন্য করোনা বা অন্যান্য অসুবিধা সাপেক্ষে ৩২ বছর-ই সরকারি চাকরিতে প্রবেশের জন্য যথাযথ মনে করি। আর এই সময়ের মধ্যে একজন ব্যক্তি ৩-৫ বার বিসিএস পরীক্ষায় বসতে পারাটাই যৌক্তিক মনে করি। দিনের পর দিন অসংখ্যবার বিসিএস পরীক্ষার জন্য বসে থেকে হতাশ হওয়ার চেয়ে একটা টাইম ফ্রেম বেঁধে দেয়াটাই যৌক্তিক মনে করি। 

এরপরও কতবার বিসিএস দেয়া যাবে এই বিষয়টি আরো বিস্তারিত আলোচনা বা পর্যালোচনার দাবি রাখে। কিন্তু বয়সের ব্যাপারটি ৩৫ আমি অযৌক্তিক ই বলবো।

এন এম রাসেল
সমাজকর্ম বিভাগ, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
সেশন: ২০১৭-১৮

সরকারি চাকরির মধ্যে ছাত্রছাত্রীদের প্রথম পছন্দের তালিকার শীর্ষে থাকে বিসিএস ক্যাডার। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের চারবার বিসিএস পরীক্ষা দেওয়ার সিদ্ধান্ত আমার মতো সদ্য স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পাস করা প্রার্থীদের অনেকে হতাশ করেছে। 

একাডেমিক পড়াশোনার পাশাপাশি মূলত অনেকেই বিসিএসের প্রস্তুতি নিয়ে থাকেন, যার দরুন এত ভালো প্রস্তুতি নেওয়াটা অনেকের পক্ষেই প্রায় সম্ভব হয়ে ওঠে না। তার জন্য অনেকেই প্রথমবার বিসিএস দিলে এতটা প্রস্তুতি নিয়ে পরীক্ষা দিতে পারে না। অনেক বড় ভাই-আপুর থেকে জানতে পাই যে, তাদের কেউ কেউ ৫/৬/৭ বার পরীক্ষা দিয়ে ক্যাডার হতে পেরেছিলেন। এ দেশের বেশির ভাগ শিক্ষার্থী অর্থনৈতিক সংকটের জন্য নিজের পড়াশোনার খরচ নিজেই বহন করেন। সেক্ষেত্রে বিসিএস পরীক্ষাকে সীমাবদ্ধতায় রাখা ঠিক হবে কি?- আপনাদের কাছে প্রশ্ন রাখলাম। স্বপ্নে যদি সীমাবদ্ধতা থাকে তাহলে স্বপ্ন শিকড়েই নষ্ট হয়ে যাবে। আমাদের মতো যারা টিউশন অথবা ক্লাস শেষে আলাদা কাজ করে অর্থ জোগান দিয়ে পড়াশোনা চালান, তাদের জন্য এই সিদ্ধান্ত হতাশা সৃষ্টি করবে। আশা রাখি, বর্তমান সরকার আরও সুদূরপ্রসারী সিদ্ধান্তে উপনীত হবে।

শাহরিন জান্নাত নীরা
তৃতীয় বর্ষ, সমাজবিজ্ঞান বিভাগ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

একজন প্রার্থী সর্বোচ্চ কতবার বিসিএস দিতে পারবেন- এমন সময় বেঁধে দেওয়ার দিকে মনোযোগ না দিয়ে বরং এক একটা বিসিএসের সম্পূর্ণ নিয়োগ প্রক্রিয়াকাল (প্রিলি-রিটেন-ভাইভা, ভেরিফিকেশন ও গ্যাজেট প্রকাশের সময়কাল) কী করে সর্বোচ্চ এক বছরের মধ্য সম্পন্ন করা যায়, তার দিকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজর দেওয়াটা জরুরি বলে আমি মনে করি।

তাছাড়া প্রথমে পিএসসির পূর্ণ সদস্য গঠন করে আগের ঝুলে থাকা নিয়োগগুলো সম্পন্ন করা উচিত, যাতে পরবর্তী বিসিএসগুলোয় এই সুদীর্ঘ কালক্ষেপণ কমিয়ে আনা যায়। 

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বিসিএস ক্যাডার হওয়া বেশির ভাগেরই স্বপ্নের পেশা। সেক্ষেত্রে শুরুতেই এভাবে এত কম সময় (চারবার) বেঁধে দেওয়ার কারণে যারা পূর্বেই কয়েকবার পরীক্ষা দিয়ে ফেলেছেন- এমন প্রার্থীদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় যারা একদমই নতুন, তারা টিকে থাকতে না পেরে বৈষম্যের শিকার হবে বলে আমি মনে করি। আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে ছয়বার আইসিএস দেওয়ার নিয়ম চালু রয়েছে। 

যেহেতু চাকরির বয়স ৩২ করা হবে, বাংলাদেশে একজন প্রার্থী সর্বোচ্চ কতবার দিতে পারবেন তা একান্তই বেঁধে দিতে হলে ন্যূনতম পাঁচ থেকে সাতবার সুযোগ দেওয়া যেতে পারে বলে আমি মনে করি।


মো. আমান উল্লাহ খান 
পপুলেশন সায়েন্স অ্যান্ড হিউম্যান রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় 
সেশন: ২০১৬-১৭

বাংলাদেশের বৃহৎ যুবসমাজকে কাজে লাগাতে পারলে দেশের উন্নয়নের গতি ত্বরান্বিত হবে। তবে দেশে সরকারি এবং বেসরকারি চাকরির বাজার বৃদ্ধি করে বেকারদের কর্মসংস্থান সৃষ্টিই নতুন বাংলাদেশের প্রধান চ্যালেঞ্জ।  
সরকারি চাকরিতে বয়সের প্রবেশসীমা বৃদ্ধিতে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। কারও মতে, এতে যুবসমাজ উপকৃত হবে। আবার কেউ দাবি করছেন বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে বেকারত্ব হারের একটা ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে।

বয়স নির্ধারণে পৃথিবীব্যাপী যে প্যারামিটারকে প্রাধান্য দেওয়া হয় তা হলো, সে দেশের নাগরিকদের গড় আয়ু এবং তাদের শারীরিক সম্ভাবনার গড় অবস্থা। সেই হিসাবে বাংলাদেশে সরকারি চাকরির বয়স বৃদ্ধি করে ৩২ বা ৩৫ করা অযৌক্তিক নয়। তবে চারবার বিসিএস পরীক্ষাদানের সীমাবদ্ধতা নাগরিক অধিকারের ওপর চরম হস্তক্ষেপ। ফলে রাষ্ট্রকে বয়স থাকাকালীন সরকারি চাকরিতে নাগরিকদের সুযোগ প্রদানের সীমাবদ্ধতা নির্ধারণের মধ্য দিয়ে নাগরিক জীবনের ওপর হস্তক্ষেপের সুযোগ দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।

যুবসমাজের কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে রাষ্ট্র তার সক্ষমতার প্রমাণ দিক, নাগরিকের ওপর অপ্রয়োজনীয় হস্তক্ষেপ করে নয়।

জান্নাতুন নাঈম 
রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়
১৭ ব্যাচ (দ্বিতীয় বর্ষ)

সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা নিয়ে উপদেষ্টা পরিষদের নতুন সিদ্ধান্তে ৩৫ প্রত্যাশী আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা সন্তুষ্ট নয়। তাদের দাবি, সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩৫ (পুরুষ) এবং ৩৭ (নারী) করার পাশাপাশি অন্তত আটবার বিসিএসে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হোক। তবে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের এ দাবি সরকার মেনে নিলে সেটি দীর্ঘ মেয়াদে সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়াবে।

প্রথমত, চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা বাড়ালে অবসরের বয়সসীমাও বাড়াতে হবে। এর ফলে দীর্ঘ মেয়াদে বেকারত্ব কমার পরিবর্তে বাড়বে। স্বাভাবিকভাবে একজন ৩২ বয়স্ক এবং ষাটোর্ধ্ব চাকরিজীবীর কর্মক্ষমতা ও সৃজনশীলতা অসমান হবে।

দ্বিতীয়ত, একাধিকবার বিবিএস পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ থাকলে চাকরিপ্রার্থীদের নতুন কোনো সুযোগ না খুঁজে সরকারি চাকরি না হওয়া পর্যন্ত বিসিএস এবং সরকারি চাকরির জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার প্রবণতা থেকে যাবে। ফলে চাকরিপ্রার্থীদের একটা দীর্ঘসময় বেকার থাকার সম্ভাবনাও রয়েছে। 

সেক্ষেত্রে সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩২ এবং বিসিএস পরীক্ষায় সর্বোচ্চ চারবার অংশগ্রহণ নির্ধারণ করে দেওয়া যৌক্তিক সিদ্ধান্ত মনে হয়েছে।

হাসান

চুয়েট হলে চলন্ত ফ্যান ছিঁড়ে পড়ায় আতঙ্কিত শিক্ষার্থীরা

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ০৫:০৬ পিএম
চুয়েট হলে চলন্ত ফ্যান ছিঁড়ে পড়ায় আতঙ্কিত শিক্ষার্থীরা
ছবি: খবরের কাগজ

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট)-এর কবি কাজী নজরুল ইসলাম হলের একটি কক্ষে চলন্ত অবস্থায় সিলিং ফ্যান খুলে পড়ে যাওয়ার ঘটনায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

শনিবার (২১ জুন) দুপুরে হলের ডি-৩০০ নম্বর গণরুমে এ ঘটনা ঘটে। তবে সৌভাগ্যবশত কোনো শিক্ষার্থী আহত হননি।

শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কক্ষটিতে থাকা বেশ কয়েকটি ফ্যান দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ছিল। কোনোটি ধীরগতিতে চলত, আবার কোনোটি ঠিকমতো বাতাস দিত না। এ বিষয়ে শিক্ষার্থীরা একাধিকবার হল কর্তৃপক্ষকে অবহিত করলেও সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়নি বলে অভিযোগ করেন তারা।

ঘটনার সময় কক্ষে কয়েকজন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছিলেন। হঠাৎ একটি ফ্যান ঘুরতে ঘুরতেই ছাদ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে নিচে পড়ে যায়। ফ্যানটি একটি খাটের ওপর পড়ে ভেঙে যায়। অল্পের জন্য বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে জানান কক্ষে অবস্থানরত শিক্ষার্থীরা।

যন্ত্রকৌশল বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী মো. মোরশেদ এলাহী বলেন, ‘গণরুমে থাকা বেশিরভাগ ফ্যানই নষ্ট বা দুর্বল অবস্থায় রয়েছে। অনেক সময় ব্যক্তিগত ফ্যান ব্যবহার করতে হয়। ফ্যানগুলোর অবস্থা দেখে আগেই আশঙ্কা ছিল। আজ সেটাই বাস্তবে ঘটেছে। সামান্য এদিক-ওদিক হলেই বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারত।’

ঘটনার পর শিক্ষার্থীরা দ্রুত কক্ষটির ঝুঁকিপূর্ণ ও পুরোনো ফ্যানগুলো পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, আবাসিক হলের শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

ইবাদ হোসেন/রিফাত/

সুস্ময়ের আন্তর্জাতিক অলিম্পিয়াডে মেডেল জয়

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ০১:১৭ পিএম
সুস্ময়ের আন্তর্জাতিক অলিম্পিয়াডে মেডেল জয়
পুরস্কার মঞ্চে সুষ্ময় বড়ুয়া।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মেধার স্বাক্ষর রেখে চলেছেন চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার ইছামতী গ্রামের কৃতিশিক্ষার্থী সুস্ময় বড়ুয়া সপ্ত। গণিত ও ইংরেজি অলিম্পিয়াডে অসামান্য সাফল্য অর্জন করে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকাকে গর্বিত ও সমুন্নত করেছেন তরুণ এই মেধাবী।
শিশুদের মানসিক গণিত দক্ষতা, একাগ্রতা ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশের বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠান ‘অ্যালোহা মেন্টাল অ্যারিথমেটিক’ বিশ্বের ৪০টিরও বেশি দেশে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। প্রতি বছর সংস্থাটি বিশ্বজুড়ে তাদের সেরা শিক্ষার্থীদের নিয়ে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার আয়োজন করে।
এরই অংশ হিসেবে, ঢাকার ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) অনুষ্ঠিত ‘অ্যালোহা বাংলাদেশ জাতীয় প্রতিযোগিতা’য় অংশ নেয় সুস্ময় বড়ুয়া সপ্ত। দেশজুড়ে আসা প্রায় ৩,৫০০ প্রতিযোগীর মধ্যে অসাধারণ মেধার পরিচয় দিয়ে সে মর্যাদাপূর্ণ ‘গ্র্যান্ড চ্যাম্পিয়ন’ খেতাব অর্জন করে। এই অসামান্য সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ অ্যালোহা বাংলাদেশের পক্ষ থেকে তাকে নগদ অর্থ ও বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়।
জাতীয় পর্যায়ের এই গৌরবময় বিজয়ের পর, সুস্ময় আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পায়। বিশ্বের ১৭টি দেশের সেরা মেধাবীদের সঙ্গে লড়াই করে সে তৃতীয় রানার-আপ হওয়ার গৌরব অর্জন করে। বিশ্বমঞ্চে তার এই সাফল্য বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার পাশাপাশি তার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ‘অ্যালোহা ম্যাথ কুমিল্লা শাখা’র জন্য বয়ে এনেছে বিপুল গৌরব। পরবর্তীতে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকেও তাকে বিশেষ সংবর্ধনা ও পুরস্কার দেওয়া হয়।
সুস্ময় বর্তমানে দেশের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুলের দশম শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র। গণিতে পারদর্শিতার পাশাপাশি ইংরেজি ভাষা প্রতিযোগিতা এবং আন্তর্জাতিক অলিম্পিয়াডগুলোতেও সে সমানভাবে সফল ও প্রশংসিত।
এর আগে, যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক ইংরেজি অলিম্পিয়াডের চূড়ান্ত পর্বে অংশ নেওয়ার জন্য সুস্ময় আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ পেলেও ভিসা-সংক্রান্ত জটিলতার কারণে সশরীরে সেখানে যেতে পারেনি। তবে এ প্রতিকূলতা তার পথ আগলে দাঁড়াতে পারেনি। অদম্য সুস্ময় অনলাইন আন্তর্জাতিক পরীক্ষায় অংশ নিয়ে অর্জন করে মর্যাদাপূর্ণ ‘সিলভার মেডেল’ (রৌপ্য পদক), যা বাংলাদেশের জন্য আরও একটি আন্তর্জাতিক সম্মান বয়ে আনে।
পরবর্তীতে সে জাপান এবং যুক্তরাজ্য-উভয় দেশের আন্তর্জাতিক অলিম্পিয়াডের চূড়ান্ত পর্বের জন্য কোয়ালিফাই করে। তবে দুটি ইভেন্টের সময়সূচি খুব কাছাকাছি হওয়ায় তাকে যেকোনো একটি দেশ বেছে নিতে হয়। সুস্ময় যুক্তরাজ্যের লন্ডনে অনুষ্ঠিতব্য মর্যাদাপূর্ণ আন্তর্জাতিক অলিম্পিয়াডকে অগ্রাধিকার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। ইতোমধ্যে সে অফিশিয়াল আমন্ত্রণপত্র হাতে পেয়েছে এবং বর্তমানে লন্ডনে যাওয়ার জোর প্রস্তুতি চালাচ্ছে।
সুস্ময় বড়ুয়া সপ্ত চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার ইছামতী গ্রামের এক শিক্ষানুরাগী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা প্রকৌশলী রিটন বড়ুয়া গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনস্থ প্রতিষ্ঠান ‘বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষ’ (বেপজা)-এ সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত আছেন। তার মা শর্মিলা বড়ুয়া চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স (এমএ) ডিগ্রি অর্জন করেছেন।
সুস্ময় বড়ুয়া সপ্তর এই আন্তর্জাতিক অর্জন বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের জন্য এক অনুপ্রেরণাদায়ক দৃষ্টান্ত। তার পরিবার, শিক্ষক, শুভাকাঙ্ক্ষী এবং দেশবাসী আশা করছেন যে তার আসন্ন লন্ডন সফর সফল হবে এবং সে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের জন্য আরও গৌরব ও স্বীকৃতি বয়ে আনবে।
পড়াশোনার পাশাপাশি সুস্ময় ‘বিশ্বমঞ্চজয়ী সপ্ত’ নামে একটি ফেসবুক পেজ পরিচালনা করেন। সেখানে তিনি নিজের শিক্ষা ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার অভিজ্ঞতা শেয়ার করার পাশাপাশি সময় ও সুযোগ অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে অনলাইন ক্লাস এবং দিকনির্দেশনামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকেন।

নারী নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক মঞ্চে রুয়েটের দিপা

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ০৮:৪৬ এএম
আপডেট: ২২ জুন ২০২৬, ০৯:২৮ এএম
নারী নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক মঞ্চে রুয়েটের দিপা
ছবি: খবরের কাগজ

নারী নেতৃত্ব ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে আন্তর্জাতিক গুরুত্বপূর্ণ এক মঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) সাবেক শিক্ষার্থী সুমাইয়া আখতার দিপা। নারী নেতৃত্ব বিকাশের আন্তর্জাতিক উদ্যোগ ‘শক্তিকন্যা’ কর্মসূচির শীর্ষ পারফর্মার হিসেবে তিনি সম্প্রতি শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত ‘উই-পাওয়ার’ এর চতুর্থ আঞ্চলিক সম্মেলনে অংশ নেন।

দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের জ্বালানি খাতের পেশাজীবী, শিক্ষাবিদ ও তরুণ নেতাদের অংশগ্রহণে আয়োজিত এ সম্মেলনে বাংলাদেশ থেকে সাতজন প্রতিনিধি অংশ নেন। তাদের মধ্যে রুয়েট থেকে একমাত্র প্রতিনিধি ছিলেন দিপা। সম্মেলনে তিনি নারীর নেতৃত্ব, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং আঞ্চলিক সহযোগিতাসহ বিভিন্ন অধিবেশনে অংশ নিয়ে বাংলাদেশের সম্ভাবনাকে তুলে ধরেন।

রুয়েটের তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল (ইইই) বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন দিপা। বর্তমানে তিনি জেড এইচ শিকদার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের একই বিভাগের প্রভাষক হিসেবে কর্মরত আছেন।

গত ৪ ও ৫ জুন শ্রীলঙ্কার নেগোম্বো শহরে অনুষ্ঠিত হয় উই-পাওয়ারের চতুর্থ আঞ্চলিক সম্মেলন। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে আয়োজিত এ সম্মেলনের মূল আলোচ্য বিষয় ছিল নবায়নযোগ্য জ্বালানি, নারীর নেতৃত্ব, পেশাগত দক্ষতা উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা।

সম্মেলনের বিভিন্ন অধিবেশনে অংশ নিয়ে দিপা দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। জ্বালানি খাতের ভবিষ্যৎ, নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধি এবং নেতৃত্ব বিকাশের নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ পান। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নতুন পেশাগত যোগাযোগ ও সহযোগিতার ক্ষেত্রও তৈরি হয়।

সম্মেলনের অংশ হিসেবে প্রতিনিধিরা শ্রীলঙ্কার পুত্তালাম অঞ্চলে অবস্থিত একটি বায়ুশক্তিভিত্তিক নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শন করেন। সেখানে আধুনিক নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রযুক্তির ব্যবহার, পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে সরাসরি ধারণা লাভ করেন তারা। প্রযুক্তিনির্ভর ভবিষ্যৎ জ্বালানিব্যবস্থার বাস্তব চিত্র দেখার এ সুযোগ অংশগ্রহণকারীদের জন্য ছিল বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।

নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে সুমাইয়া আখতার দিপা বলেন, ‘শক্তিকন্যা আমার জন্য শুধু একটি প্রশিক্ষণ কর্মসূচি নয়, এটি আত্মবিশ্বাস ও নেতৃত্ব বিকাশের এক অনন্য যাত্রা। শীর্ষ পারফর্মার হিসেবে উই-পাওয়ারের আঞ্চলিক সম্মেলনে অংশগ্রহণের সুযোগ পাওয়া ছিল অত্যন্ত গর্বের।’

তিনি বলেন, ‘দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, নেতৃত্ব ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করার অভিজ্ঞতা আমাকে সমৃদ্ধ করেছে। এ অভিজ্ঞতা আমার পেশাগত ও ব্যক্তিগত জীবনে দীর্ঘদিন অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে।’

বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষে নোবিপ্রবিতে উৎসবের আমেজ

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬, ১০:১৬ এএম
বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষে নোবিপ্রবিতে উৎসবের আমেজ
ছবি: খবরের কাগজ

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উদযাপন উপলক্ষে আগামী ২২ জুন বর্ণিল আলোকসজ্জায় সেজেছে পুরো ক্যাম্পাস। দিবসটিকে ঘিরে প্রশাসনের উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, একাডেমিক ভবন, প্রশাসনিক ভবন, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ও সড়কগুলোতে দৃষ্টিনন্দন আলোকসজ্জা করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয় দিবসকে স্মরণীয় করে রাখতে নেওয়া হয়েছে নানা আয়োজন। দিবস উপলক্ষে ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় করা হয়েছে বর্ণিল আলোকসজ্জা এবং পুরো ক্যাম্পাসজুড়ে চলছে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘চিত্রকৃৎ’ অডিটোরিয়ামের সামনে নান্দনিক আলপনা এঁকে অতিথিদের স্বাগত জানানোর প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।

সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে রঙিন আলোর ঝলকানিতে প্রাণচঞ্চল হয়ে ওঠে পুরো ক্যাম্পাস। আলোকসজ্জায় নতুন রূপ পাওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্থানে শিক্ষার্থীদের ভিড় লক্ষ্য করা যায়। অনেকেই স্মরণীয় মুহূর্তগুলো ক্যামেরাবন্দি করতে ছবি তোলায় ব্যস্ত সময় পার করেন। উৎসবমুখর পরিবেশে বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের আনন্দ ছড়িয়ে পড়ে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে।

এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৩ জন শিক্ষার্থী ও ২৬ জন শিক্ষককে ডিনস অ্যাওয়ার্ড এবং ৩ জন শিক্ষককে ভাইস-চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হবে। গবেষণা, প্রকাশনা ও একাডেমিক উৎকর্ষতায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে প্রতিবছর এ সম্মাননা প্রদান করা হয়। 

শিক্ষার্থীরা জানান, আলোকসজ্জায় ক্যাম্পাসের সৌন্দর্য বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে রাতের বেলায় বিশ্ববিদ্যালয়কে আরও প্রাণবন্ত ও উৎসবমুখর মনে হচ্ছে। এমন আয়োজন শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের আনন্দকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

শিক্ষা বিভাগের শিক্ষার্থী তৌহিদুর রহমান বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় দিবস আমাদের জন্য শুধু একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, এটি আমাদের আবেগ ও গর্বের দিন। দিবসটি উপলক্ষে ক্যাম্পাসে যে আলোকসজ্জা করা হয়েছে, তা সত্যিই দৃষ্টিনন্দন। রাতে ক্যাম্পাসের সৌন্দর্য কয়েকগুণ বেড়ে গেছে।’

আরেক শিক্ষার্থী সুহানা নুর বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় দিবসকে কেন্দ্র করে পুরো ক্যাম্পাসে উৎসবের আমেজ তৈরি হয়েছে। আলোকসজ্জার কারণে ক্যাম্পাসকে অনেক বেশি আকর্ষণীয় লাগছে। দিনের তুলনায় রাতের ক্যাম্পাস এখন একেবারেই ভিন্ন রূপ ধারণ করেছে। বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরে ঘুরে আলোকসজ্জা উপভোগ করছি এবং ছবি তুলছি।’

নোবিপ্রবি উপ-উপাচার্য ও রিসার্চ সেলের পরিচালক অধ্যাপক ড. শফিকুল ইসলাম বলেন, এবার সাতটি অনুষদের মোট ২২ জন শিক্ষার্থী ও ২৬ জন শিক্ষক ডিনস এ্যাওয়ার্ড ও তিন জন শিক্ষক ভাইস-চ্যান্সেলর পাবেন। বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে ভিডিও ডকুমেন্টারি ও অতিথিরা বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা উদ্বোধন করবেন। এছাড়াও বিকেল থেকে রাত ১০ টা পর্যন্ত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এসব আয়োজনের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের গৌরবময় পথচলা ও অর্জনগুলো নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরা হবে।

কাউসার আহমেদ/অন্তরা

রাবি প্রেসক্লাবের সভাপতি ধ্রুব-সম্পাদক জিসান

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ০৮:৩৯ পিএম
রাবি প্রেসক্লাবের সভাপতি ধ্রুব-সম্পাদক জিসান
ধ্রুব-জিসান। ছবি: খবরের কাগজ

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) প্রেসক্লাবের ২০২৬-২৭ বর্ষের নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ও দৈনিক ইত্তেফাকের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক আশিকুল ইসলাম ধ্রুবকে সভাপতি ও একই বিভাগের একই বর্ষের আরেক শিক্ষার্থী ও ঢাকা পোস্টের প্রতিবেদক জুবায়ের জিসানকে সাধারণ সম্পাদক করে ১৩ সদস্যবিশিষ্ট কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন করা হয়েছে।

শনিবার (২০ জুন ) বেলা ৩টায় সংগঠনটির নিজস্ব কার্যালয়ে নির্বাচন প্রক্রিয়া শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে ফল ঘোষণা করেন সংগঠনটির প্রধান উপদেষ্টা ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. মো. ফজলুল হক।

কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন-  সহ-সভাপতি ডেইলি ক্যাম্পাস ও মানবজমিনের প্রতিনিধি মারুফ হোসেন মিশন ও  দৈনিক ইনকিলাবের মিরাজ আফ্রিদি। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এনটিভি ও দৈনিক বনিক বার্তার আবু ছালেহ শোয়েব, কোষাধ্যক্ষ দৈনিক নয়াদিগন্তের প্রতিনিধি ফজলে রাব্বি পরশ, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক দৈনিক আমার দেশের প্রতিনিধি ফাহমিদুর রহমান ফাহিম , প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক দৈনিক কালবেলার প্রতিনিধি আজাহারুল ইসলাম মীর তুহিন, দপ্তর সম্পাদক দৈনিক মানবকণ্ঠের প্রতিনিধি আবু বকর অনিক ও ক্রীড়া সম্পাদক এশিয়া পোস্টের সৈয়দ হুজ্জাত উল্লাহ মাহিন।

এতে কার্যনির্বাহী সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন মানবকণ্ঠের মাল্টিমিডিয়া প্রতিনিধি বিপ্লব উদ্দিন, বাণিজ্য বার্তার প্রতিনিধি সামিয়া আক্তার ও জাগরণ নিউজের প্রতিনিধি  রাফাসান আলম।

ফলাফল ঘোষণার সময় আরও উপস্থিত ছিলেন- প্রেসক্লাবের সাবেক উপদেষ্টা অধ্যাপক আখতার হোসেন মজুমদার ও সদ্য বিদায়ী সভাপতি মনির হোসন মাহিন, মানবজমিনের রাজশাহী ব্যুরো প্রধান ডালিম হোসেন শান্ত।

শাকিবুল হাসান/রিফাত/