ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) এক ছাত্রীকে পোশাক নিয়ে মন্তব্য করে হেনস্তায় একই বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরির সহকারী-বাইন্ডার মোস্তাফা অর্নব অরণ্য নামে এক কর্মচারীকে বুধবার (৫ মার্চ) রাতে আটক করা হলে, মাঝরাতে ওই ব্যক্তিকে ছাড়িতে আনতে শাহবাগ থানায় হট্টগোল করে তৌহিদী-জনতার ব্যানারে একদল মানুষ। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হলে শাহবাগ থানা ছাড়েন তারা। পরে অভিযুক্তকে আদালতে হাজির করা হলে জামিন দেয় আদালত।
বৃহস্পতিবার (৬ মার্চ) অভিযুক্তকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে হাজির করা হলে শুনানি শেষে এক হাজার টাকা মুচলেকায় জামিন মঞ্জুর করেন সিএমএম আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট মেহেরা মাহবুব। এর আগে মামলা প্রত্যাহার চেয়ে আবেদন করেন ভুক্তভোগী ওই ছাত্রী।
জানা যায়, গত মঙ্গলবার ভুক্তভোগী ওই নারী শিক্ষার্থী পোশাক নিয়ে হেনস্তার অভিযোগ তুলে অভিযুক্ত ব্যক্তির ছবিসহ ঘটনার বর্ণনা দিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তা শেয়ার করলে, নেট দুনিয়াতে তা ছড়িয়ে পড়ে।
ওই স্ট্যাটসে ওই শিক্ষার্থী ছবি শেয়ার করে উল্লেখ করেন, ‘এই লোকটা আজকে আমাকে শাহবাগ থেকে আসার পথে হ্যারাস করেছে। সে আমাকে হুট করে রাস্তায় দাঁড় করায় দিয়ে বলতেসে আমার ড্রেস ঠিক নাই, আমি পর্দা করি নাই ইত্যাদি ইত্যাদি এবং তার আচরণ খুবই অ্যাগ্রেসিভ ছিল।’
পরে অভিযুক্তকে চিহ্নিত করা সম্ভব হলে বুধবার ভুক্তভোগী ওই ছাত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিসে অভিযোগ দেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে পরে তাকে শাহবাগ থানায় হস্তান্তর করা হয়। পরে ভুক্তভোগী ছাত্রী মামলা দায়ের করেন। এদিকে অভিযুক্তকে আটকের বিষয়টি ছড়িয়ে পড়লে মাঝরাতে তৌহিদী-জনতার ব্যানারে একদল মানুষ উপস্থিত হয়ে অভিযুক্ত ঢাবির লাইব্রেরির সহকারী-বাইন্ডার মোস্তাফা অর্নব অরণ্যকে ছড়িয়ে নিতে হট্টগোল করে। তৌহিদী-জনতার ব্যানারে তারা দাবি করেন, তাকে অন্যায়ভাবে থানায় আটকে রাখা হয়েছে। পরে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টায় শাহবাগ থানা পুলিশ তাকে আদালতে পাঠালে তারা শাহবাগ থানা ত্যাগ করেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্তকে আদালতে হাজির করা হলে, মামলার বাদী তার মামলা প্রত্যাহারের জন্য থানায় আবেদন করেন এবং বাদীর আবেদন আদালতে জমা দেয়। আসামিপক্ষ থেকে জামিনের আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে আদালত মুচলেকায় জামিন মঞ্জুর করা হয়।
এর আগে খবরের কাগজের সঙ্গে কথা হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক ড. সাইফুদ্দীন আহমেদের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘ভুক্তভোগী ওই ছাত্রী কাছ থেকে অভিযোগ পাওয়ার পর আমরা অভিযুক্তকে থানায় হস্তান্তর করি এবং ভুক্তভোগীকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা হয় প্রক্টরিয়াল টিমের পক্ষ থেকে। এছাড়া এ ঘটনায় গ্রন্থাগারের গ্রন্থাগারিক বরাবর চিঠি দেওয়া হয়েছে, তারা একটি ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি গঠন করবে এবং তারা যাচাই-বাছাই করে যদি প্রয়োজন হয় বিশ্ববিদ্যালয় তার বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেবে।’
আরিফ জাওয়াদ/মাহফুজ