বাংলাদেশে ইংরেজি ভাষার দক্ষতা অর্জন একাডেমিক, পেশাগত এবং সামাজিক জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিন্তু অনেকেই ভাষাটির প্রতি এক ধরনের ভীতি বা সংকোচ অনুভব করেন, যা তাদের সামগ্রিক উন্নয়নের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতেই সাইফুল ইসলামের উদ্যোগে ‘ইংলিশ থেরাপি’ হয়ে উঠেছে একটি কার্যকর সমাধান।
সাইফুল ইসলাম ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ থেকে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ডিপ্লোমা সম্পন্ন করে বর্তমানে ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটিতে ইংরেজি বিষয়ে পড়াশোনা করছেন। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি তিনি Skill & Leadership Development-এর উপরে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান থেকে অর্ধশতাধিক কোর্স সম্পন্ন করেছেন। কর্মজীবনে বসুন্ধরা ট্রেনিং অ্যান্ড টেস্টিং সেন্টার, আইএমবি প্রফেশনাল ইনস্টিটিউট, ইগনাইট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজে ইনস্ট্রাক্টর হিসেবে সফলতার সঙ্গে দীর্ঘদিন ইংরেজি ভাষার প্রশিক্ষণ দিয়েছেন।
২০১৮ সালে প্রতিষ্ঠিত ‘ইংলিশ থেরাপি’ এমন একটি শিক্ষামূলক প্ল্যাটফর্ম, যা ভাষা শিক্ষার প্রচলিত ধারণাকে ভেঙে দিয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য সহজ এবং কার্যকর উপায়ে ইংরেজি শেখার পথ দেখিয়েছে। সাইফুল ইসলাম এই প্রোগ্রাম বিশেষভাবে তাদের জন্য সাজিয়েছেন, যারা ভাষার বুনিয়াদি দিকগুলোতে দুর্বল।
সাইফুল ইসলামের মতে, ‘ইংলিশ থেরাপি শুধু ইংরেজি শেখার একটি প্রোগ্রাম নয়, এটি আত্মবিশ্বাস পুনর্গঠনের একটি মিশন।’
ইংলিশ থেরাপি শিক্ষার্থীদের চারটি মূল ক্ষেত্র—পড়া, লেখা, বলা এবং বোঝায় দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি ব্যবহারিক জীবনের ভাষাগত দক্ষতা অর্জনে সহায়তা করে। এর মধ্যে রয়েছে: বেসিক গ্রামার ও ভোকাবুলারি উন্নয়ন, উচ্চারণ সংশোধন, প্রেজেন্টেশন এবং যোগাযোগ দক্ষতা প্রশিক্ষণ, রেসিডেন্সিয়াল ক্যাম্প এবং লাইভ প্র্যাকটিস সেশন। এই প্রোগ্রাম অনলাইন ও অফলাইন উভয় মাধ্যমে পরিচালিত হয়। ফলে দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে শিক্ষার্থীরা এতে অংশগ্রহণ করতে পারেন। ইংলিশ থেরাপির মাধ্যমে ইতোমধ্যেই হাজারও শিক্ষার্থী তাদের জীবনের বাঁক পরিবর্তন করেছেন। তেমনই একজন রুমানা আক্তার। তার অভিজ্ঞতা সম্পর্কে বলেন, ‘ইংলিশ থেরাপির আগে আমি কখনো ইংরেজিতে নিজের মত প্রকাশ করতে পারতাম না। এখন আমি অনায়াসে অফিস মিটিং পরিচালনা করতে পারি। আমার ভাষাগত দক্ষতা করপোরেট দুনিয়ায় নতুন দরজা খুলে দিয়েছে।’
এ ছাড়া তানভীর আহমেদ নামের আর একজন শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমি সব সময় বড় কিছু করতে চেয়েছি, কিন্তু আমার ইংরেজি দুর্বলতা আমাকে পিছিয়ে রাখত। ইংলিশ থেরাপির সাহায্যে আমি শুধু ভাষাগত দক্ষতা অর্জন করিনি, বরং আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে নিজেকে উপস্থাপন করতে শিখেছি। সম্প্রতি একটি আন্তর্জাতিক সেমিনারে আমার প্রেজেন্টেশন বেশ প্রশংসিত হয়েছে।’
মুনিমা ফারহানা নামের একজন বলেন, ‘আমার একাডেমিক ক্যারিয়ারে ইংরেজি ছিল বড় বাধা। আইইএলটিএসে ভালো স্কোর পাওয়ার জন্য আমি এই কোর্সে যোগ দিই। সাইফুল স্যার আমাকে এমনভাবে গাইড করেছেন যে আমি ৭.৫ স্কোর পেয়েছি। এটা আমার উচ্চশিক্ষার স্বপ্নপূরণের প্রথম ধাপ।’
ইংলিশ থেরাপি এ পর্যন্ত ৪৫ হাজারের বেশি শিক্ষার্থীকে প্রশিক্ষণ দিয়েছে। রকমারি বইমেলায় বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে সর্বোচ্চ সাতটি এবং বইফেরি বইমেলায় বেস্টসেলার লেখকসহ তিনটি অ্যাওয়ার্ড অর্জন করে। এর পাশাপাশি সাইফুল ইসলাম ল্যাঙ্গুয়েজ ইনস্ট্রাক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (লিয়াব)-এর প্রেসিডেন্ট হিসেবে বাংলাদেশে ভাষা শিক্ষা ইন্ডাস্ট্রি এগিয়ে নিতে কাজ করে যাচ্ছেন।
সাইফুল ইসলামের মতে, ‘ভাষার দক্ষতা অর্জন একটি মানসিক উত্তরণ। আমরা শুধু একটি ভাষা শিখতে বলি না, আমরা আত্মবিশ্বাস গড়তে বলি। আমার লক্ষ্য, প্রতিটি শিক্ষার্থীকে এমনভাবে প্রস্তুত করা, যাতে তারা শুধু ইংরেজি বলতে বা লিখতে না পারে, বরং তারা চিন্তা করতেও শিখে। আমি বিশ্বাস করি, একটি দক্ষ প্রজন্ম গড়তে ভাষার ওপর আস্থা তৈরি করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। লেখক: শিক্ষার্থী, জাতীয় কবি কাজি নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়
/রিয়াজ