চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ঘোষণা অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ে চারুকলা ইনস্টিটিউট মূল ক্যাম্পাসে স্থানান্তরিত না করার প্রতিবাদে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন শিক্ষার্থীরা। সোমবার (২১ এপ্রিল) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা জানান, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ১ এপ্রিলের মধ্যে চারুকলা ইনস্টিটিউট মূল ক্যাম্পাসে ফিরিয়ে আনার আশ্বাস দিয়েছিল। কিন্তু তিন সপ্তাহ পার হওয়ার পরও এ ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তাই বাধ্য হয়ে আবারও আন্দোলনে নামতে হয়েছে তাদের।
বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী মাসরুর আল ফাহিম বলেন, ‘গত বছরের শেষ দিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ১ এপ্রিলের মধ্যে চারুকলা ইনস্টিটিউট মূল ক্যাম্পাসে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু প্রশাসন সেটা বাস্তবায়ন করেনি। ইনস্টিটিউট মূল ক্যাম্পাসে ফিরিয়ে নিতে আমাদের বর্তমান বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অনেক আন্তরিক। তবে ইনস্টিটিউটের কিছু শিক্ষক এবং সিন্ডিকেটের আওয়ামীপন্থি শিক্ষকদের জন্য বিষয়টি ঝুলে আছে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাব।’
২০২৩ সালের ২ নভেম্বর ঝুঁকিপূর্ণ ভবন, পর্যাপ্ত আবাসন ব্যবস্থা না থাকার কারণে চারুকলা ইনস্টিটিউট সংস্কারের জন্য ২২ দফা দাবি নিয়ে আন্দোলনে নামেন শিক্ষার্থীরা। ওই বছরের ৫ নভেম্বর থেকে চারুকলা ইনস্টিটিউট মূল ক্যাম্পাসে স্থানান্তরের দাবি উঠে। পরবর্তী সময়ে ২০২৪ সালের ২১ জানুয়ারি সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির সঙ্গে শিক্ষার্থীদের এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে শিক্ষামন্ত্রী দাবি পূরণের আশ্বাস দেন। তবে তিনি বলেন, ‘মূল ক্যাম্পাসে ফেরার এক দফা দাবিটি অনেক জটিল এবং ব্যয়বহুল প্রক্রিয়া হওয়ায় সময় দরকার।’
এ ঘটনার পর প্রশাসনের কাছ থেকে চারুকলা ইনস্টিটিউট মূল ক্যাম্পাসে স্থানান্তরের আশ্বাস পেলেও বাস্তবে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের। এরই জেরে ২০২৪ সালের ১৭ ডিসেম্বর থেকে চারুকলা ইনস্টিটিউটকে মূল ক্যাম্পাসে স্থানান্তরের জন্য আবার এক দফা দাবিতে টানা তিন দিন লাগাতার আন্দোলন করেন শিক্ষার্থীরা। ওই দিন ইনস্টিটিউটের প্রশাসনিক ভবনে তালা দিয়ে অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম অচল করে দেন তারা। ১৮ ডিসেম্বর নগরীর চারুকলা ইনস্টিটিউট-সংলগ্ন সড়ক অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। ১৯ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে আন্দোলন করে গণ-অনশন করা হয়। পরে তাদের আন্দোলনের জেরে চারুকলা ইনস্টিটিউট মূল ক্যাম্পাসে ফেরানোর আশ্বাস দেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। আশ্বাস পেয়ে আন্দোলন থেকে সরে আসেন তারা।