জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলে আয়োজিত নাইট ক্রিকেট টুর্নামেন্ট সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে প্রচারণার কথা থাকলেও তা ছাত্রদলের কয়েকজন কর্মীর নামে প্রচারণা করে তোপের মুখে পড়েন শাখা ছাত্রদলের নেতারা।
গত বুধবার (৭ই মে) রাত ৮টা ৪০ মিনিটের দিকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের মাঠে এ ঘটনা ঘটে।
হলের একাধিক শিক্ষার্থীর ও খেলোয়াড়রা জানান, হলটিতে গত বুধবার রাত থেকে দুদিনব্যাপী নাইট ক্রিকেট টুর্নামেন্ট শুরু হয়।
তবে টুর্নামেন্টটি হলের শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও উদ্বোধনী ম্যাচের সময় মাঠে ছাত্রদলের চার কর্মীর নামে ব্যানার টাঙ্গিয়ে প্রচার করা হয়।
এ সময় সাধারণ শিক্ষার্থী ও ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়।
অভিযোগ পাওয়া গেছে, এ সময় ইমন বাবু নামে ছাত্রদলের এক কর্মী আয়োজক খেলোয়াড় আরমানের দিকে তেড়ে যান। একপর্যায়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও ছাত্রদলের আহ্বায়ক। পরে শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক জহির উদ্দিন মোহাম্মদ বাবর ব্যানারটি খুলে ফেলার নির্দেশ দিয়ে মাঠ থেকে চলে যান।
ব্যানার খোলার কিছুক্ষণ পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে টুর্নামেন্টটি আবার শুরু হয়।
জানা যায়, ব্যানারে নাম দেওয়া ওই চারজনের মধ্যে শাখা ছাত্রদলের কর্মী হিসেবে পরিচিত হামিদুল্লাহ সালমান ও ইমন (বাবু) হলে থাকেন। সালমান সম্প্রতি হলটির ২২৭ নম্বর কক্ষে উঠেছেন এবং ইমন ৫ আগস্টের আগে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বাকিদের মধ্যে ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সাব্বির হোসেন ও রূপক সালমান রয়েছেন। তাদের কেউ হলটিতে থাকেন না।
তবে কয়েকজন শিক্ষার্থী জানিয়েছেন, হামিদুল্লাহ সালমান মূলত টুর্নামেন্টটি আয়োজনে নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং তিনিই অন্য তিনজনের নাম ব্যানারে ব্যবহার করেছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে হলের ৫১ ও ৫২ ব্যাচের কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, হামিদুল্লাহ সালমান হলে নিজের পরিচয় বাড়ানোর জন্য নাইট টুর্নামেন্টটি চালুর উদ্যোগ নেন।
হলটির শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ৫ আগস্টের পর সাধারণ শিক্ষার্থীরা দ্বিতীয় তলা (আগে ছাত্রলীগের ব্লক হিসেবে পরিচিত ছিল) থেকে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের নামিয়ে দেন। এমনকি হলের ৪৯, ৪৮ ব্যাচের সিনিয়র শিক্ষার্থীরাও দ্বিতীয় তলার ব্লক ছেড়ে দেন। কিন্তু সম্প্রতি সালমান, সাব্বির, রূপক হলটির দ্বিতীয় তলায় উঠে ছাত্রদলের ব্লক তৈরির চেষ্টা করছেন।
ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সাব্বির বলেন, ‘ছোটভাই হামিদুল্লাহ সালামানের উদ্যোগে টুর্নামেন্টটি আয়োজন করা হয়েছে। কিন্তু সালমান সার্বিক সহযোগিতায় আমাদের নাম দিতে গিয়ে, ভুলবশত আয়োজনে আমাদের নাম দিয়ে দিয়েছে। পরে শিক্ষার্থীদের দাবিতে ব্যানার নামিয়ে ফেলা হয়েছে।’
রুম দখলের বিষয়ে জানতে চাইলে বলেন, ‘আমরা হলের কয়েকজন বৈধ শিক্ষার্থী রুমের জন্য হল প্রশাসনের কাছে আবেদন করলে কর্তৃপক্ষ ২২৭ নম্বর রুমটি চারজনের নামে বরাদ্দ করে। আমার নামে এখনো রুম বরাদ্দ না হওয়ায় আমি হলে থাকি না। তবে এখনো রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের ভোটার।’
রূপক সালমান বলেন, ‘আমার দাদু মারা যাওয়ায় আমি ঢাকায় এসেছি। ব্যানারে আমার নাম সাব্বির ভাই দিতে বলেছেন। কিন্তু আমি ক্যাম্পাসে না থাকায় সেটা বিস্তারিত জানি না। তাছাড়া আমি এখনো হলের বৈধ শিক্ষার্থী এবং একাডেমিকভাবে আমার এখনো দুবছর বাকি।’
হামিদুল্লাহ সালমান বলেন, ‘টুর্নামেন্ট আয়োজনে আমরা কয়েকজন লিডিং পজিশনে ছিলাম, তবে হলের শিক্ষার্থীরা মিলেই খেলার আয়োজন করি। ব্যানারে আমাদের নাম দেওয়াটা ভুলবশত হয়ে গেছে এবং শিক্ষার্থীদের অভিযোগের ভিত্তিতে ব্যানার নামিয়ে ফেলা হয়েছে। পরে সবার আলোচনার মাধ্যমে খেলা চালিয়ে যাওয়া হয়।’
অভিযুক্ত ইমন বাবু বলেন, ‘৫৩ ব্যাচ আসার পর থেকে হলের কারো সঙ্গে তেমন সম্পর্ক না থাকায় আমি একটি টুর্নামেন্ট আয়োজনের জন্য ব্যানারে নাম দেওয়া বাকি তিন ভাইকে স্পন্সর করার জন্য বলি যেন খেলাটি আয়োজন করা যায়। পরে ব্যানারে আমাদের নাম থাকায় একজন শিক্ষার্থী আপত্তি জানালে আমরা ব্যানার খুলে ফেলি।’
৫ আগস্টের আগে ছাত্রলীগ করার এবং আয়োজক আরমানের দিকে তেড়ে যাওয়ার অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেছেন।
বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘টুর্নামেন্টটি হলের শিক্ষার্থীরা আয়োজন করেছে। আমি কয়েকদিন ধরে একটি কাজে ক্যাম্পাসের বাহিরে অবস্থান করায় খেলায় থাকতে পারিনি। তাই এ বিষয়ে আমি বিস্তারিত জানি না’।
রুম বরাদ্দের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি রুম বরাদ্দের বিষয়টি জানি না, এটা হলের ওয়ার্ডেন ও আবাসিক শিক্ষকরা স্পষ্টত বলতে পারবেন। তবে আমি অভিযোগটি খতিয়ে দেখছি।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম রাশিদুল আলম বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের মধ্যে যে ঝামেলা হয়েছিল তা তারা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে সমাধান করেছে।’
আমানউল্লাহ/পপি/