ঢাকা ৭ আষাঢ় ১৪৩৩, রোববার, ২১ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
নারীর সফল ক্যারিয়ারের ৬ টিপস তিউনিসিয়াকে উড়িয়ে নকআউটের আশা বাঁচিয়ে রাখল জাপান বদলির সাড়ে চার মাসেও দায়িত্বভার হস্তান্তরে গড়িমসি ইউএইচএফপিওর ইরাক ম্যাচের আগে ছোটখাটো পরিবর্তনের পথে ফ্রান্স শিশু গৃহকর্মীর মৃত্যু: রিমান্ডে প্রকৌশলী সবিবুর ও তার স্ত্রী নিউমার্কেটে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মিছিল, আটক ৪ শাহজালালের তৃতীয় টার্মিনাল উদ্বোধন চলতি বছরেই: বিমানমন্ত্রী রূপগঞ্জে আন্তর্জাতিক ইয়োগা দিবস পালিত প্রোগ্রামিং ভাষা অধ্যায়ের ১৬টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ৯ম পর্ব, এইচএসসির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি জার্মানদের ওপর চটেছেন আইভরি কোস্টের কোচ নবীগঞ্জে ট্রাকচাপায় অটোচালক নিহত, সড়ক অবরোধ লন্ডনে হাসনাত আব্দুল্লাহর বিরুদ্ধে মামলা শান্তি আলোচনায় অংশ নিতে সুইজারল্যান্ডে জেডি ভ্যান্স ভোগান্তি থেকে রক্ষা পেতে চাহিদা বাড়ছে ই-বাইকের বেফাঁস মন্তব্যে প্রত্যাহার কেএমপির অতিরিক্ত কমিশনার গাজায় ইসরায়েলি হামলায় আল জাজিরার ক্যামেরাম্যান নিহত পরিবেশবান্ধব ইলেকট্রিক বাইক হবে আগামীর স্মার্ট বাহন টিভিতে আজকের খেলা প্রধানমন্ত্রী মালয়েশিয়া সফরে যাচ্ছেন বিকেলে বাজেটে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর স্বার্থ প্রতিফলিত হয়েছে: সমাজকল্যাণ মন্ত্রী প্রথমার্ধে ২-০ গোলে এগিয়ে জাপান পেকুয়ায় শ্বশুরবাড়িতে গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু তিউনিসিয়া-জাপান ম্যাচে রেফারির কেন বিশেষ পোশাক? গোয়ালন্দে প্রশাসনের ওপর হামলা চালিয়ে আসামিকে ছিনিয়ে নিল মাদক ব্যাবসায়ীরা ৬ষ্ঠ জাতীয় চা পুরস্কার ২০২৬-এ ইস্পাহানির অনন্য অর্জন মোহাম্মদপুরের সন্ত্রাসী ‘মাওরা সোহেল’ গ্রেপ্তার মাদকে জড়িত বিএনপি নেতাকর্মীদের আগে গ্রেপ্তার করুন: এমপি মামুন দিনাজপুরে পুরাতন বইয়ের বাজারে মন্দা, কমেছে পাঠক বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষে নোবিপ্রবিতে উৎসবের আমেজ কুষ্টিয়ায় পাথরবোঝাই ট্রাক উল্টে চালক ও সহকারী নিহত

শিক্ষা ও কর্মজীবনের মাঝে সেতুবন্ধন গড়ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যারিয়ার ক্লাব

প্রকাশ: ২৫ মে ২০২৫, ১২:১৬ পিএম
শিক্ষা ও কর্মজীবনের মাঝে সেতুবন্ধন গড়ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যারিয়ার ক্লাব
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যারিয়ার ক্লাব। ছবি: সংগৃহীত

একুশ শতকে এসে কর্মজীবনে প্রবেশের সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে প্রাসঙ্গিক দক্ষতার অভাব। দেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থা এখনো কর্মক্ষেত্রের চাহিদা অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত করার মতো কাঠামো গড়ে তুলতে পারেনি। এই ঘাটতি পুষিয়ে দিচ্ছে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যারিয়ার ক্লাবগুলো। একাডেমিক পড়াশোনার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের যুগোপযোগী দক্ষতা অর্জন, শিল্প খাত সম্পর্কে বাস্তব ধারণা এবং আত্মবিশ্বাস তৈরিতে কার্যকর ভূমিকা রেখে চলেছে এসব ক্লাব। দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যারিয়ার ক্লাবের দায়িত্বশীলদের সঙ্গে কথা বলে লিখেছেন মো. আশিকুর রহমান

কর্মজীবনের জন্য প্রস্তুত করতে প্রচেষ্টা করে যাচ্ছি
শিক্ষার্থীদের কর্মজীবনের জন্য প্রস্তুত করার প্রয়াসে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যারিয়ার ক্লাব নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়ন ও পেশাগত প্রস্তুতির লক্ষ্যে নিয়মিত আয়োজন করা হচ্ছে সিভি রাইটিং সেশন, মক ইন্টারভিউ, স্কিল ডেভেলপমেন্ট ওয়ার্কশপ, ক্যারিয়ার কাউন্সেলিং এবং করপোরেট গ্রুমিং-সংক্রান্ত সেমিনার। ক্লাবের উদ্যোগে ইতোমধ্যে সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে ৮টি ‘চাকরি মেলা’ এবং ৭টি ‘ক্যারিয়ার ফেস্ট’। এসব আয়োজনে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অসংখ্য শিক্ষার্থী সরাসরি ক্যাম্পাস থেকেই চাকরির সুযোগ পেয়েছেন। একই সঙ্গে ইন্টার্নশিপ ও চাকরির সুযোগ সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি এবং ক্যারিয়ার কেন্দ্রিক নানা উদ্যোগ, যেমন- Brandedge- National Case Competition- এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বাস্তবভিত্তিক অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যারিয়ার ক্লাবের প্রধান লক্ষ্য হলো- প্রতিটি শিক্ষার্থী যেন বিশ্ববিদ্যালয় জীবন শেষে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে তার কাঙ্ক্ষিত ক্যারিয়ার যাত্রা শুরু করতে পারেন। 
আজমাইন হোসাইন সাব্বির , সভাপতি, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যারিয়ার ক্লাব

দক্ষতা যদি না বাড়ে, ডিগ্রি একা কিছুই নয়
বতর্মানে আমরা এমন একটা সময়ে বাস করছি, যখন কর্মক্ষেত্রে প্রবেশের জন্য সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দক্ষতাকে প্রতিনিয়ত হালনাগাদ না করা। ব্যাপারটা এতটাই কঠিন হয়ে উঠেছে যে দুই বছর আগে অর্জিত দক্ষতাগুলোও যেন এখন আদিকালের বলে মনে হয়। একজন শিক্ষার্থীকে কর্মক্ষেত্রের জন্য যোগ্য প্রার্থী হিসেবে গড়ে তুলতে সর্বপ্রথম এগিয়ে আসা উচিত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর। কিন্তু আমাদের দেশের বাস্তবতায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলো যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে অনেকটাই ব্যর্থ হয়েছে। আর ঠিক এখানেই আসে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যারিয়ার ক্লাবগুলোর ভূমিকার কথা। 
চাহিদা মোতাবেক প্রয়োজনীয় কী কী দক্ষতা একজন শিক্ষার্থীকে কর্মক্ষেত্রের জন্য উপযুক্ত করে তোলে, সেসব বিষয়ের ওপর বিভিন্ন সেমিনার আয়োজন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যারিয়ার ক্লাব। এ ছাড়া ভিন্ন ভিন্ন পেশাজীবনের গুরুত্ব অনুধাবনবিষয়ক কর্মশালা আয়োজনের মাধ্যমে ক্যারিয়ার ক্লাব শিক্ষার্থীদের মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে।
ফারহান নাদিম ফাহিম, সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যারিয়ার ক্লাব

শিল্পের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষতা বৃদ্ধির চেষ্টা করছি
বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের প্রায় ৮৪% আসে রেডিমেড গার্মেন্টস খাত থেকে। আর এর উন্নয়নের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে দক্ষ টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারদের। বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয় ক্যারিয়ার ক্লাব ভবিষ্যতের এই টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারদের দক্ষ করে তুলতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। আমরা নিয়মিত কর্মশালা, প্রতিযোগিতা ও বিষয়ভিত্তিক আলোচনা আয়োজনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সহায়তার চেষ্টা করে যাচ্ছি। আমাদের এই সহায়তার ক্ষেত্র শুধু অ্যাকাডেমিক জ্ঞানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং যোগাযোগ দক্ষতা, দলগত কাজের সক্ষমতা, নেতৃত্বগুণ, সমস্যা সমাধানের ক্ষমতা বৃদ্ধিতে বিস্তৃত। বিশেষ করে যারা ভবিষ্যতে টেক্সটাইল প্রকৌশলী হিসেবে কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ করবে, তাদের জন্য এই অভিজ্ঞতাগুলো অনেক বেশি কার্যকর হবে। শিল্পের চাহিদা ও বাস্তবতা সম্পর্কে আগাম ধারণা তাদের কর্মদক্ষতা বাড়াবে এবং উন্নত পেশাগত মূল্যবোধ গড়ে তুলবে। আমরা বিশ্বাস করি, এসব উদ্যোগের মাধ্যমে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারদের একটি শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি হবে। 
মো. নাজমুছ সাকিব , সভাপতি, বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয় ক্যারিয়ার ক্লাব

দক্ষতা উন্নয়নে অগ্রণী ভূমিকায় আমাদের ক্লাব
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যারিয়ার ক্লাব অ্যাকাডেমিক শিক্ষার সঙ্গে কর্মজীবনের প্রস্তুতির ব্যবধান দূরীকরণে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। আমরা নিয়মিত ক্যারিয়ার-সংক্রান্ত সেমিনার, আন্তর্জাতিক শিক্ষাবিষয়ক সেশন, দক্ষতা উন্নয়ন কর্মশালা এবং নেটওয়ার্কিং প্রোগ্রামের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের প্রতিযোগিতামূলক চাকরির বাজারের জন্য প্রস্তুতে কাজ করছি। সম্প্রতি আমরা নোবিপ্রবিতে প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক উচ্চশিক্ষা সেমিনারের আয়োজন করেছি। একই সঙ্গে দেশের নামকরা করপোরেট নেতৃবৃন্দ ও পেশাগত জীবনে সফল এমন প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের নিয়ে কর্মজীবনভিত্তিক অনুষ্ঠান সফলভাবে সম্পন্ন করেছি। ইউএনডিপি বাংলাদেশের সহযোগিতায় আমরা কোর্সেরা এবং ব্রিটিশ কাউন্সিলের সনদপ্রাপ্ত শীর্ষ চাহিদাসম্পন্ন আইটি ও ইংরেজি কোর্স শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে প্রদান করছি। এ ছাড়াও, আমরা মেন্টরশিপ, সিভি লেখার সহায়তা এবং সফট স্কিল প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আত্মবিশ্বাসী, দক্ষ ও প্রতিযোগিতামূলক গ্র্যাজুয়েট তৈরি করছি-  যারা স্থানীয় ও বৈশ্বিক ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জনে সক্ষম।
মোহাম্মদ মাহমুদ হাসান, সভাপতি, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যারিয়ার ক্লাব

চাকরি নয়, নেতৃত্বের জন্যও প্রস্তুত হচ্ছে শিক্ষার্থীরা
আমাদের ক্লাব শিক্ষার্থীদের শুধু পাঠ্যবইয়ের জ্ঞানেই সীমাবদ্ধ রাখে না। অ্যাকাডেমিক পড়াশোনার পাশাপাশি বাস্তব জীবনে কাজে লাগে এমন নানা দক্ষতা গড়তে সাহায্য করে ক্যারিয়ার ক্লাব। বিশেষ করে যোগাযোগ দক্ষতা, নেতৃত্বগুণ, টিমওয়ার্ক ও সমস্যা সমাধানের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কাজ করে আমাদের সংগঠনটি। এই ক্লাবের লক্ষ্য হলো- শিক্ষার্থীদের ২১ শতকের চাকরির বাজারের উপযোগী করে গড়ে তোলা। যাতে তারা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে চাকরির প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারে এবং সফল হতে পারে। নিয়মিত স্কিল ডেভেলপমেন্ট ওয়ার্কশপ, সিভি বিল্ডিং সেশন, মক ইন্টারভিউ এবং ক্যারিয়ার কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে আমরা শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে কাজ করি। করপোরেট এক্সপার্ট ও বিশ্ববিদ্যালযয়ের অ্যালামনাইদের দিয়ে সেশনের মাধ্যমে আমরা শিক্ষার্থীদের শিল্প খাতের বাস্তব চিত্র, করপোরেট কালচার ও ক্যারিয়ার সম্ভাবনার সঙ্গে পরিচিত করি। আমাদের মূলমন্ত্র- ‘Stay One Step Ahead’। আর এই দর্শন মেনেই আমরা তরুণদের শুধু চাকরি নয়, ভবিষ্যতের নেতৃত্বের জন্যও প্রস্তুত করি।
তাহমিদ আলিফ, সভাপতি, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যারিয়ার ক্লাব

/রিয়াজ


বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষে নোবিপ্রবিতে উৎসবের আমেজ

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬, ১০:১৬ এএম
বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষে নোবিপ্রবিতে উৎসবের আমেজ
ছবি: খবরের কাগজ

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উদযাপন উপলক্ষে আগামী ২২ জুন বর্ণিল আলোকসজ্জায় সেজেছে পুরো ক্যাম্পাস। দিবসটিকে ঘিরে প্রশাসনের উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, একাডেমিক ভবন, প্রশাসনিক ভবন, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ও সড়কগুলোতে দৃষ্টিনন্দন আলোকসজ্জা করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয় দিবসকে স্মরণীয় করে রাখতে নেওয়া হয়েছে নানা আয়োজন। দিবস উপলক্ষে ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় করা হয়েছে বর্ণিল আলোকসজ্জা এবং পুরো ক্যাম্পাসজুড়ে চলছে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘চিত্রকৃৎ’ অডিটোরিয়ামের সামনে নান্দনিক আলপনা এঁকে অতিথিদের স্বাগত জানানোর প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।

সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে রঙিন আলোর ঝলকানিতে প্রাণচঞ্চল হয়ে ওঠে পুরো ক্যাম্পাস। আলোকসজ্জায় নতুন রূপ পাওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্থানে শিক্ষার্থীদের ভিড় লক্ষ্য করা যায়। অনেকেই স্মরণীয় মুহূর্তগুলো ক্যামেরাবন্দি করতে ছবি তোলায় ব্যস্ত সময় পার করেন। উৎসবমুখর পরিবেশে বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের আনন্দ ছড়িয়ে পড়ে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে।

এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৩ জন শিক্ষার্থী ও ২৬ জন শিক্ষককে ডিনস অ্যাওয়ার্ড এবং ৩ জন শিক্ষককে ভাইস-চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হবে। গবেষণা, প্রকাশনা ও একাডেমিক উৎকর্ষতায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে প্রতিবছর এ সম্মাননা প্রদান করা হয়। 

শিক্ষার্থীরা জানান, আলোকসজ্জায় ক্যাম্পাসের সৌন্দর্য বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে রাতের বেলায় বিশ্ববিদ্যালয়কে আরও প্রাণবন্ত ও উৎসবমুখর মনে হচ্ছে। এমন আয়োজন শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের আনন্দকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

শিক্ষা বিভাগের শিক্ষার্থী তৌহিদুর রহমান বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় দিবস আমাদের জন্য শুধু একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, এটি আমাদের আবেগ ও গর্বের দিন। দিবসটি উপলক্ষে ক্যাম্পাসে যে আলোকসজ্জা করা হয়েছে, তা সত্যিই দৃষ্টিনন্দন। রাতে ক্যাম্পাসের সৌন্দর্য কয়েকগুণ বেড়ে গেছে।’

আরেক শিক্ষার্থী সুহানা নুর বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় দিবসকে কেন্দ্র করে পুরো ক্যাম্পাসে উৎসবের আমেজ তৈরি হয়েছে। আলোকসজ্জার কারণে ক্যাম্পাসকে অনেক বেশি আকর্ষণীয় লাগছে। দিনের তুলনায় রাতের ক্যাম্পাস এখন একেবারেই ভিন্ন রূপ ধারণ করেছে। বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরে ঘুরে আলোকসজ্জা উপভোগ করছি এবং ছবি তুলছি।’

নোবিপ্রবি উপ-উপাচার্য ও রিসার্চ সেলের পরিচালক অধ্যাপক ড. শফিকুল ইসলাম বলেন, এবার সাতটি অনুষদের মোট ২২ জন শিক্ষার্থী ও ২৬ জন শিক্ষক ডিনস এ্যাওয়ার্ড ও তিন জন শিক্ষক ভাইস-চ্যান্সেলর পাবেন। বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে ভিডিও ডকুমেন্টারি ও অতিথিরা বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা উদ্বোধন করবেন। এছাড়াও বিকেল থেকে রাত ১০ টা পর্যন্ত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এসব আয়োজনের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের গৌরবময় পথচলা ও অর্জনগুলো নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরা হবে।

কাউসার আহমেদ/অন্তরা

রাবি প্রেসক্লাবের সভাপতি ধ্রুব-সম্পাদক জিসান

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ০৮:৩৯ পিএম
রাবি প্রেসক্লাবের সভাপতি ধ্রুব-সম্পাদক জিসান
ধ্রুব-জিসান। ছবি: খবরের কাগজ

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) প্রেসক্লাবের ২০২৬-২৭ বর্ষের নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ও দৈনিক ইত্তেফাকের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক আশিকুল ইসলাম ধ্রুবকে সভাপতি ও একই বিভাগের একই বর্ষের আরেক শিক্ষার্থী ও ঢাকা পোস্টের প্রতিবেদক জুবায়ের জিসানকে সাধারণ সম্পাদক করে ১৩ সদস্যবিশিষ্ট কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন করা হয়েছে।

শনিবার (২০ জুন ) বেলা ৩টায় সংগঠনটির নিজস্ব কার্যালয়ে নির্বাচন প্রক্রিয়া শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে ফল ঘোষণা করেন সংগঠনটির প্রধান উপদেষ্টা ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. মো. ফজলুল হক।

কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন-  সহ-সভাপতি ডেইলি ক্যাম্পাস ও মানবজমিনের প্রতিনিধি মারুফ হোসেন মিশন ও  দৈনিক ইনকিলাবের মিরাজ আফ্রিদি। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এনটিভি ও দৈনিক বনিক বার্তার আবু ছালেহ শোয়েব, কোষাধ্যক্ষ দৈনিক নয়াদিগন্তের প্রতিনিধি ফজলে রাব্বি পরশ, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক দৈনিক আমার দেশের প্রতিনিধি ফাহমিদুর রহমান ফাহিম , প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক দৈনিক কালবেলার প্রতিনিধি আজাহারুল ইসলাম মীর তুহিন, দপ্তর সম্পাদক দৈনিক মানবকণ্ঠের প্রতিনিধি আবু বকর অনিক ও ক্রীড়া সম্পাদক এশিয়া পোস্টের সৈয়দ হুজ্জাত উল্লাহ মাহিন।

এতে কার্যনির্বাহী সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন মানবকণ্ঠের মাল্টিমিডিয়া প্রতিনিধি বিপ্লব উদ্দিন, বাণিজ্য বার্তার প্রতিনিধি সামিয়া আক্তার ও জাগরণ নিউজের প্রতিনিধি  রাফাসান আলম।

ফলাফল ঘোষণার সময় আরও উপস্থিত ছিলেন- প্রেসক্লাবের সাবেক উপদেষ্টা অধ্যাপক আখতার হোসেন মজুমদার ও সদ্য বিদায়ী সভাপতি মনির হোসন মাহিন, মানবজমিনের রাজশাহী ব্যুরো প্রধান ডালিম হোসেন শান্ত।

শাকিবুল হাসান/রিফাত/

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে নবীনবরণ: উচ্ছ্বাসে ভরা প্রবেশিকা

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ০৯:১৯ এএম
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে নবীনবরণ: উচ্ছ্বাসে ভরা প্রবেশিকা
ছবি: খবরের কাগজ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের (৫৫তম ব্যাচ) স্নাতকের নবীন শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ অনুষ্ঠান উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার (১৯ জুন) বিকেল সাড়ে ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জহির রায়হান মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠানে নবীনবরণ অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নবীন শিক্ষার্থীদের ফুল, বিশ্ববিদ্যালয়ের ডায়েরি, ক্লাস ব্যাগ ও বার্ষিক ক্যালেন্ডার দিয়ে বরণ করে নেয়। বিভিন্ন অনুষদের প্রায় দুই হাজার নবীন শিক্ষার্থী এতে অংশ নেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন নবীনদের একাডেমিক পড়াশোনা ও গবেষণায় মনোযোগী হওয়ার পরামর্শ দেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবন, আবাসিক হল, নিরাপত্তা, অভ্যন্তরীণ রাস্তাসহ নানা সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেন। নবীন শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আশা-আকাঙ্ক্ষা জানতে চান এবং যথাসম্ভব সমাধানের প্রতিশ্রুতি দেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “কঠিন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীরা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়েছ। তোমরা এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে নিজেকে দেশের যোগ্য মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলবে বলে আমি বিশ্বাস করি।”

এর আগে ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের সামনে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন এবং প্রতিটি বিভাগের নবীন শিক্ষার্থীরা বাহারি রকমের গাছের চারা রোপণ করেন।

সভাপতির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান বলেন, “তোমরা কঠোর প্রতিযোগিতামূলক ভর্তি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মেধার স্বাক্ষর রেখে দেশের একমাত্র পূর্ণাঙ্গ আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্ণাঢ্য ও গৌরবময় ঐতিহ্যের অংশ হতে পেরে এক অনন্য সুযোগ লাভ করেছ। বিশ্ববিদ্যালয় কেবল উচ্চতর ডিগ্রি অর্জনের জায়গা নয়; এটি মুক্তবুদ্ধি চর্চা, সংস্কৃতি এবং আত্ম-আবিষ্কারের এক বিশাল মঞ্চও বটে।”

তিনি আরও বলেন, “এখানে তোমাদের এই নতুন পথচলাকে সফল করতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মনে রাখা জরুরি। আমরা চাই তোমরা শুধু পুঁথিগত বিদ্যায় শিক্ষিত না হয়ে, একজন মানবিক, নৈতিক ও দায়িত্বশীল সুনাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠো। সময়কে সঠিকভাবে কাজে লাগাও, নিয়মানুবর্তিতা মেনে চলো এবং নিজের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে অবিচল থাকো। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম-কানুন ও মূল্যবোধ মেনে চলে তোমরা এই প্রতিষ্ঠানের সম্মান আরও উজ্জ্বল করবে, এটাই আমার প্রত্যাশা।”

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. শামসুল আলম, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. নজরুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. আব্দুর রবসহ অন্যান্য শিক্ষকবৃন্দ।

আমান/এএফ

জাবিতে শিক্ষামন্ত্রীর আগমনে ছাত্র ইউনিয়নের প্রতিবাদ

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ১০:৪৩ পিএম
জাবিতে শিক্ষামন্ত্রীর আগমনে ছাত্র ইউনিয়নের প্রতিবাদ
ছবি: খবরের কাগজ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের প্রথম বর্ষের নবাগত শিক্ষার্থীদের প্রবেশিকা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের আগমনকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন জাবি সংসদের নেতা-কর্মীরা বিভিন্ন দাবিতে প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছেন।

শুক্রবার (১৯ জুন) বিকেল ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জহির রায়হান মিলনায়তন সংলগ্ন রাস্তায় এ প্রতিবাদ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় তাদের হাতে ‘একাডেমিক নিপীড়কদের ক্রমাগত দায়মুক্তি দেওয়ায় উপাচার্যকে অভিনন্দন’, ‘জুলাই বিচারের নামে অশ্বডিম্ব পাড়ায় অভিনন্দন’, ‘ভবন নির্মাণ is going well, গবেষণা is no more’সহ বিভিন্ন স্লোগানসংবলিত প্ল্যাকার্ড দেখা যায়।

ছাত্র ইউনিয়ন জাবি সংসদের প্রচার সম্পাদক সাদিয়া ইমরোজ ইলা বলেন, “বর্তমান উপাচার্য দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে প্রশাসনিক কার্যক্রম থেকে শুরু করে একাডেমিক সব কাজেই চরম অদক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। বিচারের নামে প্রহসন, একাডেমিক নিপীড়কদের ক্রমাগত দায়মুক্তি দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়কে অপরাধীদের আশ্রয়স্থলে পরিণত করেছেন। ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টার ঘটনার দুই মাস পার হয়ে গেলেও অপরাধীদের গ্রেপ্তারে ন্যূনতম অগ্রগতি নেই। এসব বিশৃঙ্খলার বিষয়টি শিক্ষামন্ত্রীর দৃষ্টিতে আনতেই আমরা এ প্রতিবাদ কর্মসূচি আয়োজন করেছি।”

জাবি ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি জাহিদুল ইসলাম ইমন বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পদ্ধতি থেকে শুরু করে সার্টিফিকেট উত্তোলন পর্যন্ত প্রতিটি পর্যায়ে শিক্ষার্থীরা হয়রানি ও অবিচারের শিকার হচ্ছেন। অভ্যুত্থানের পর উপাচার্য দায়িত্ব নিয়েও একাডেমিক কিংবা প্রশাসনিক ক্ষেত্রে সামান্যতম পরিবর্তন আনতে পারেননি। এই ব্যর্থতার দায় মনে করিয়ে দিতেই আজকের কর্মসূচি। যতদিন শিক্ষার্থীদের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালিত না হবে, ততদিন আমাদের সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে।”

আমানউল্লাহ/এএইউ

চাকরি স্থায়ীকরণের দাবিতে জাবির কর্মচারীদের অবস্থান

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০৯:১১ পিএম
আপডেট: ১৮ জুন ২০২৬, ০৯:১৫ পিএম
চাকরি স্থায়ীকরণের দাবিতে জাবির কর্মচারীদের অবস্থান
ছবি: খবরের কাগজ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে দৈনিক মজুরি ভিত্তিতে কর্মরত কর্মচারীরা চাকরি স্থায়ীকরণের দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকাল ৯টা থেকে নতুন প্রশাসনিক ভবনের নিচে প্রায় ৫০ জন কর্মচারী অবস্থান করেছেন।

প্রায় এক যুগেরও বেশি সময় ধরে দৈনিক মজুরিতে কাজ করে আসা এসব কর্মচারীদের মধ্যে অনেকেই ৯ থেকে ১৪ বছর ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে এমন ১১৭ জন কর্মচারী রয়েছেন। জ্যেষ্ঠরা ২০১৩ সালে এবং সর্বশেষ ২০১৭ সালে নিয়োগ পেয়েছিলেন।

অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার সময় আন্দোলনকারীরা ‘দুনিয়ার মজদুর এক হও, লড়াই করো’, ‘লড়াই লড়াই লড়াই চাই, লড়াই করে বাঁচতে চাই’, ‘আমাদের দাবি মানতে হবে’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।

কর্মচারীরা জানান, মাত্র ১৬,৫০০ টাকা বেতনে সংসার চালানোই কষ্টকর। কোনো লিখিত ছুটি, বোনাস বা অন্যান্য সুবিধা নেই। সন্তানের লেখাপড়া ও চিকিৎসার মতো মৌলিক প্রয়োজনগুলোও তাদের কাছে বিলাসিতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন প্রশাসন চাকরি স্থায়ীকরণের আশ্বাস দিলেও কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

শহিদ ফেলানি খাতুন হলের হল অ্যাটেনডেন্ট মো. আবু রায়হান বলেন, “আমরা দীর্ঘদিন ধরে দৈনিক মজুরিতে কাজ করে যাচ্ছি। বারবার আশ্বাস দেওয়া হলেও কিছুই হয়নি। সম্প্রতি ১৫ জন গার্ডের যে সার্কুলার হয়েছে, সেখানকার বয়সসীমা আমাদের অনেকেরই পার হয়ে গেছে। এতদিন স্থায়ী করার কথা বলে এখন আবেদন করতেও পারছি না।”

অবস্থান কর্মসূচির একপর্যায়ে আন্দোলনকারীদের ছয় সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক করে। সুফিয়া কামাল হলের হল অ্যাটেনডেন্ট মোহাম্মদ নাইম বলেন, “আমাদের জানানো হয়েছে, শুরুতে ব্যানারে তারেক রহমানের ছবি থাকায় উপর মহলে গোয়েন্দা সংস্থার নেগেটিভ ধারণা হয়েছে। এজন্য প্রশাসন লিখিত ক্ষমাপ্রার্থনা চেয়েছে।”

তিনি আরও জানান, প্রশাসন এখন তাদের নিয়োগের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে এবং তদন্ত করবে বলে জানিয়েছে। অথচ নিয়োগের সময় সার্কুলার প্রকাশিত হয়েছিল এবং ইউজিসি অনুমোদিত সিন্ডিকেটে অনুমোদন হয়েছিল।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মচারী বলেন, “ইঙ্গিতে বলা হচ্ছে আমাদের নিয়োগ অবৈধ। এটা আমাদের জন্য পরোক্ষ হুমকি। ন্যায্য দাবি তুললেই যদি চাকরিটাও চলে যায়, তাহলে আমরা কোথায় দাঁড়াব? এতদিন কেন বলা হয়নি যে চাকরি অবৈধ? শুধু আশ্বাসই দেওয়া হয়েছে।”

আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, দাবি পূরণ না হলে আগামী রবিবার থেকে আরও তীব্র ও লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন।

আমানউল্লাহ/ এএফ