ঢাকা ৩ আষাঢ় ১৪৩৩, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
চুক্তি না মানলে ইরানে ফের হামলার হুমকি ট্রাম্পের ‘নজরুল বর্ষ’ উদযাপন অনুষ্ঠান হবে জুনের শেষ সপ্তাহে ঝিনাইদহে মোটরসাইকেল চোরচক্রের ৩ সদস্য গ্রেপ্তার জোরপূর্বক মানুষকে বাংলাদেশে পাঠাচ্ছে ভারত—হিউম্যান রাইটস ওয়াচের দাবি মায়ানমার সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া হবে, ভারত সীমান্তেও পরিকল্পনা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যারা বলে ‘সরকারকে সময় দেওয়া যাবে না’ তাদের থেকে সতর্ক থাকুন: প্রধানমন্ত্রী রংপুরের ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় ৬৬৫ নারী নাসার আর্টেমিস থ্রি মিশনের নভোচারীদের নাম চূড়ান্ত নির্মাণাধীন ভবন থেকে পড়ে দুই শ্রমিক নিহত শেষ যাত্রা জানাজায়, মাঝপথেই থেমে গেল জীবন সাজেকে বিজিবির বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা ও ঔষধ বিতরণ পিটারসেন অটোমোটিভ মিউজিয়াম অটোমোবাইল ডেস্ক সময় টিভির এমডি জোবায়েরসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ZEEHO Bangladesh ও Riding School BD-এর মধ্যে কৌশলগত সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর যুক্তরাষ্ট্রে ৫ হাজার ৮০৭ প্রবাসীর হাতে যাচ্ছে এনআইডি হেরোইনসহ মা-বাবা ও ছেলে আটক, বাড়িতে আগুন সমুদ্রের নিচে চীনের নতুন ডেটা সেন্টার সোনারগাঁয়ে স্কুল ফাঁকি দিয়ে মেঘনায় গোসল, দুই স্কুল ছাত্রের মৃত্যু বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমল ৫ শতাংশের বেশি সোনারগাঁয়ে মেঘনায় গোসলে নেমে ২ শিক্ষার্থীর মৃত্যু নৌবাহিনীর ডকইয়ার্ডে নির্মিত হচ্ছে ৫টি ‘রিভারাইন পেট্রল ভেসেল’ স্ন্যাপড্রাগন প্রসেসরে স্যামসাংয়ের নতুন ল্যাপটপ গুরুদাসপুরে শিশু ধর্ষণ মামলায় বৃদ্ধের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড টাঙ্গাইল মেডিকেলে হঠাৎ পরিদর্শন, অসন্তোষ প্রকাশ প্রতিমন্ত্রী টুকুর চাঁপাইনবাবগঞ্জে স্কুল ফিডিংয়ে ১৬ শিক্ষার্থী অসুস্থ দুর্নীতির মামলায় আবেদপুত্র সিয়ামের বিচার শুরু যাত্রা ও সার্কাসে অশ্লীলতা বরদাশত নয় : সংস্কৃতিমন্ত্রী আজকে যে কেউ সরকারের বিরুদ্ধে নির্দ্বিধায় বলতে পারে: প্রধানমন্ত্রী যে জগৎ মানুষের অপেক্ষায় আছে চট্টগ্রামে এইডস ঝুঁকি বাড়াচ্ছে রোহিঙ্গারা
Nagad desktop

আজহারুলের খালাসে থেমে নেই বামপন্থীদের প্রতিবাদ, শিবিরের বিচার দাবি

প্রকাশ: ৩০ মে ২০২৫, ০৯:৩০ পিএম
আপডেট: ৩০ মে ২০২৫, ১০:১৪ পিএম
আজহারুলের খালাসে থেমে নেই বামপন্থীদের প্রতিবাদ, শিবিরের বিচার দাবি
বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন ও সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের বিক্ষোভ সমাবেশ। ছবি: খবরের কাগজ

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াত নেতা এ টি এম আজহারুল ইসলাম আপিলের রায়ে খালাসের প্রতিবাদে থেমে নেই বামপন্থীদের প্রতিবাদ। রায়ের পরদিন থেকে এখন পর্যন্ত বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনের মধ্য দিয়ে প্রতিবাদ অব্যাহত রেখেছেন বামপন্থী ছাত্রসংগঠনগুলো। এদিকে খালাসের প্রতিবাদ জানিয়ে এ ঘটনায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) ও চট্টগ্রাম মহানগরে গণতান্ত্রিক ছাত্র জোটের কর্মসূচিতে হামলার অভিযোগ তুলে শিবিরের বিচারের দাবি তুলেছেন সংগঠনগুলোর নেতা-কর্মীরা।

শুক্রবার (৩০ মে) বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সন্ত্রাসবিরোধ রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন ও সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের আয়োজনে এক বিক্ষোভ সমাবেশে এ দাবি তোলা হয়। 

শিবিরের বিচারের দাবি জানিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের (একাংশ) সভাপতি মাহির শাহরিয়ার রেজা বলেন, এখনও সময় রয়েছে রাবি ও চট্টগ্রামে সিসিটিভি ফুটেজ দেখে হামলাকারী শনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনুন। যদি আইনানুগ ব্যবস্থা না গ্রহণ করেন, আপনারা আওয়ামী লীগের পরিণতি মনে রাখবেন। মুক্তিযুদ্ধের গণহত্যাকারীরা কীভাবে রাজনীতি করার অধিকার পায় তারা। একই সঙ্গে আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগকে যে যুক্তিতে নিষিদ্ধ করা হয়েছে, একই যুক্তিতে জামায়াতে ইসলামী ও শিবিরকেও নিষিদ্ধ করতে হবে।

গণতান্ত্রিক ছাত্রজোটের ব্যানারে রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে বিক্ষোভ। ছবি: খবরের কাগজ

এর আগে তিনি বলেন, ‘২০১৪ সালে এ টি এম আজহারুলের মৃত্যুদণ্ডের রায় দেওয়া হয়। সেই সময়ে আওয়ামী লীগ জামায়াতে সঙ্গে আতাত করে তার বিচার নিশ্চিতে টালবাহানা করেছে। সেই বিচার নিশ্চিতে আমরা শাহবাগে দাঁড়িয়েছিলাম আর আওয়ামী লীগ নানা ট্রাম কার্ড খেলেছিল বিচারকে বাধাগ্রাস্ত করতে। ২০১৪ সালে এটি এম আজহারুলকে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেওয়া হলে, তিনি আপিল করলে পরে ২০১৮ সালে আপিল বিভাগ তার মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখে। সেটি তো এতোদিনে কার্যকর হয়ে যাওয়ার কথা ছিল, পরবর্তীতে বিশেষ আইন সুবিধা দেওয়া হয়। এখন গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী ৩৬০° কোণ ঘুরে তাকে বেকসুর খালাস দেওয়া হলো। কোন প্রক্রিয়ায় খালাস পেলেন সেটিও বলা হলে না। এই রায়েই প্রতিবাদে রাতে রাবি আমাদের অপরাপর সংগঠনগুলো প্রতিবাদ জানালে তাদের ওপর ইসলামি ছাত্রশিবির হামলা চালায়, পরদিন চট্টগ্রামে হামলা চালানো হয়। এই শিবিরের হাতে বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের রক্ত লেগে আসে। পুনরায় তারা তাদের স্বরূপে ফিরে এসেছে।’

পরে রাজু ভাস্কর্য থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের চারুকলা-শাহবাগ থানা হয়ে ঘুরে এসে রাজু ভাস্কর্যে এসে শেষ হয়। এ সময় তারা ‘অ তে আজাহার, তুই রাজাকার,’ ‘ছ তে ছাত্রশিবির, জ তে জামায়াতে ইসলাম, তুই রাজাকার, তুই রাজকার-তুই রাজাকার’, ‘আজাহার, শিবির, জামায়াত ইসলামের ঠাঁই না, মুক্তিযুদ্ধের বাংলায়’, ‘আমার সোনার বাংলায়, মুক্তিযুদ্ধের বাংলায়, মুগ্ধ-আবু সাঈদের বাংলায়, রাজাকারে ঠাঁই নাই’-সহ নানা স্লোগান দেন।

এদিকে মিনিট ১০-১৫ পরপরই একই দাবিতে গণতান্ত্রিক ছাত্রজোটের ব্যানারে রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে কর্মসূচি পালন করে বামপন্থী ছাত্রসংগঠনে বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা। ওই প্রতিবাদ সমাবেশে সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের ঢাবি শাখার আহ্বায়ক মোজাম্মেল হক বলেন, ‘৫ আগস্ট পরবর্তী এই যুদ্ধাপরাধীদের ছাড় দেওয়া হচ্ছে। আমাদের প্রত্যাশা ছিল আগস্ট পরবর্তীতে বিচার বিভাগের প্রতি হস্তক্ষেপগুলো থাকবে না কিন্তু সেটি না হয়ে আবার বিচার বিভাগের ওপর রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে কীভাবে বর্বর কায়দায় হামলা চালানো হলো আমরা দেখছি। এই ছাত্রশিবিরের হাত ধরে ফের ক্যাম্পাসে অস্ত্রের ঝনঝনানি ফিরে আসার পায়তারা চলছে। আমরা অবিলম্বে এই সন্ত্রাস দখলদারত্বের রাজনীতি বন্ধ হোক এবং সুস্থ ধারার রাজনীতি ফিরে হাসুক।’

এতে অন্যান্যদের মধ্যে ঢাবি শাখা ছাত্র ফেডারেশনের আহ্বায়ক আরমানুল হক, ঢাবি ছাত্র ইউনিয়নের মাঈন আহমেদ, বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর ঢাবি শাখার সভাপতি নূজিয়া হাসিন রাশাসহ আরও অনেকে।

শুক্রবার সকালে ঢাবির মধুর ক্যান্টিনে রাবি ও চট্টগ্রামে শিবিরের হামলার বিচার এবং অফলাইন-অনলাইনে নারীদের ওপর হিংস্র আক্রমণের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করে বামপন্থী ছাত্র সংগঠনের নারী সদস্যরা। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিলের কেন্দ্রীয় অর্থ সম্পাদক স্কাইয়া ইসলাম।

ওই সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়, ‘এসব আক্রমণের বিরুদ্ধে সরকার কোনো আশু পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে, আমরা সম্মিলিতভাবে তা রুখে দাঁড়াব।’

/আরিফ জাওয়াদ/মাহফুজ

 

যুগোপযোগী পাঠদান শিক্ষার্থীদের শেখার অভিজ্ঞতা সমৃদ্ধ করবে: গ্লেনরিচে বক্তারা

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ০৬:৩৪ পিএম
যুগোপযোগী পাঠদান শিক্ষার্থীদের শেখার অভিজ্ঞতা সমৃদ্ধ করবে: গ্লেনরিচে বক্তারা
ছবি: বিজ্ঞপ্তি

দেশে আন্তর্জাতিক শিক্ষাব্যবস্থার মানোন্নয়ন ও শিক্ষকদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে রাজধানীর গ্লেনরিচ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল, উত্তরায় সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘কেমব্রিজ প্রিন্সিপালস মিট ২০২৬।’

কেমব্রিজ ইন্টারন্যাশনাল এডুকেশন আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের দেড়শ জনের বেশি অধ্যক্ষ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান এবং শিক্ষাখাত সংশ্লিষ্ট পেশাজীবী অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, কেমব্রিজ ইন্টারন্যাশনাল এডুকেশনের গ্লোবাল ম্যানেজিং ডিরেক্টর রড স্মিথ এবং দক্ষিণ এশিয়ার ম্যানেজিং ডিরেক্টর অরুণ রাজামানি।

অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্যে এসটিএস গ্রুপের সিইও মানাস সিং বলেন, “গ্লেনরিচ ক্যাম্পাসে ১৫০ জনের বেশি শিক্ষক ও শিক্ষাখাত সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীদের একসঙ্গে হওয়া বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থার মানোন্নয়নে সবার সম্মিলিত অঙ্গীকারেরই প্রতিফলন। আমরা বিশ্বাস করি, শিক্ষার্থীদের জন্য অর্থবহ শেখার পরিবেশ গড়ে তুলতে শিক্ষকদের পারস্পরিক সহযোগিতার কোনো বিকল্প নেই। দেশের শিক্ষা খাতের নেতৃত্বস্থানীয় ব্যক্তিদের একত্রিত করে এমন অর্থবহ আলোচনা ও মতবিনিময়ের পরিবেশ তৈরি করাই আমাদের লক্ষ্য, যা দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও সমৃদ্ধ করার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে আরও দক্ষ করে তুলবে।”

অনুষ্ঠানে গ্লেনরিচ উত্তরার শিক্ষার্থীরা মনোমুগ্ধকর এক সাংস্কৃতিক পরিবেশনা উপস্থাপন করে। এ ছাড়া, মূল অধিবেশনে কেমব্রিজ বাংলাদেশের পক্ষ থেকে দেশে কেমব্রিজ শিক্ষাধারার সাম্প্রতিক অগ্রগতির চিত্র তুলে ধরা হয়। আলোচনায় প্রাইমারি চেকপয়েন্ট পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের সাফল্য এবং পূর্ণাঙ্গ কেমব্রিজ শিক্ষাধারা অনুসরণকারী স্কুলের সংখ্যা বৃদ্ধির বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পায়।

অনুষ্ঠানে পূর্ণাঙ্গ কেমব্রিজ শিক্ষাধারা অনুসরণকারী বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। পাশাপাশি, কেমব্রিজের অনুমোদিত ও মৌলিক শিক্ষাসামগ্রী ব্যবহারে উৎসাহ জোগানো এবং পাইরেসি বিরোধী উদ্যোগে ভূমিকা রাখা স্কুলগুলোর প্রশংসা করা হয়।

এই স্বীকৃতির অংশ হিসেবে, গ্লেনরিচ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল, উত্তরা অর্জন করে ‘লেটার অব অ্যাপ্রিসিয়েশন ফর কেমব্রিজ ফুল পাথওয়ে স্কুল,’ ‘লেটার অব অ্যাপ্রিসিয়েশন ফর অ্যান্টি পাইরেসি ক্যাম্পেইনস জয়েন্টলি উইথ কেমব্রিজ,’ ‘কেমব্রিজ ইন্ডিপেন্ডেন্ট সেন্টারশিপ’ এবং ‘কেমব্রিজ পিডিকিউ সেন্টারশিপ’।

একই সাথে গ্লেনরিচ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল, সাতারকুল অর্জন করে ‘লেটার অব অ্যাপ্রিসিয়েশন ফর কেমব্রিজ ফুল পাথওয়ে স্কুল,’ ‘লেটার অব অ্যাপ্রিসিয়েশন ফর অ্যান্টি পাইরেসি ক্যাম্পেইনস জয়েন্টলি উইথ কেমব্রিজ’ এবং ‘কেমব্রিজ ইন্ডিপেন্ডেন্ট সেন্টারশিপ।’

অনুষ্ঠানে কেমব্রিজ ইন্টারন্যাশনাল এডুকেশনের আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পর্যায়ের প্রতিনিধিরা শিক্ষাখাতের পরিবর্তিত অগ্রাধিকার, নতুন সম্ভাবনা এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ের বিভিন্ন কার্যকর পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করেন।

বিভিন্ন অংশগ্রহণমূলক সেশনে শিক্ষার্থীদের শেখার অভিজ্ঞতা আরও অর্থবহ করতে উদ্দেশ্যনির্ভর, আধুনিক পাঠদান পদ্ধতি ও কার্যকর শিক্ষণ কৌশল নিয়ে আলোচনা করা হয়।

কেমব্রিজ ইংলিশ প্রোগ্রামের বিভিন্ন উদাহরণ ও কেস স্টাডির মাধ্যমে দেখানো হয়, কীভাবে এসব কর্মসূচি শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে, যোগাযোগ দক্ষতা উন্নত করতে এবং বাস্তব জীবনে ভাষা ব্যবহারের সক্ষমতা গড়ে তুলতে সহায়তা করে।

শিক্ষকদের দক্ষতা উন্নয়নও ছিল এ আয়োজনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক। সহকর্মীদের মধ্যে অভিজ্ঞতা ও জ্ঞান বিনিময়ের মাধ্যমে কীভাবে পাঠদানের মান এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নেতৃত্ব আরও উন্নত করা যায়, এ নিয়ে প্রতিনিধিরা আলোচনা করেন।

এ সময় কেমব্রিজ প্রফেশনাল ডেভেলপমেন্ট কোয়ালিফিকেশনস (পিডিকিউ) কর্মসূচির কথাও তুলে ধরা হয়।

বক্তারা বলেন, শিক্ষকদের আত্মমূল্যায়ন ও পেশাগত উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নেতৃত্বকে আরও কার্যকর করতে এ কর্মসূচির ভূমিকা অনস্বীকার্য।

বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক শিক্ষাক্রমের মানোন্নয়নে শিক্ষাবিদদের মধ্যে ধারাবাহিক সহযোগিতা ও অংশীদারিত্ব আরও জোরদার করার আহ্বানের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয়।

বেরোবিতে রিডিং রুমের কাজ অসম্পূর্ণ রেখে হলে টিভি স্থাপন, শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ০১:১৬ পিএম
আপডেট: ১৭ জুন ২০২৬, ০১:২৮ পিএম
বেরোবিতে রিডিং রুমের কাজ অসম্পূর্ণ রেখে হলে টিভি স্থাপন, শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ
ছবি: খবরের কাগজ

রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শহিদ মুখতার ইলাহী হলে রিডিং রুম তৈরির কাজ চলমান অবস্থায় সেখানে পুনরায় টিভি স্থাপন করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন আবাসিক শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, হলের রিডিং রুমটি শিক্ষার্থীর সংখ্যার তুলনায় অনেক ছোট। এ কারণে দীর্ঘদিন ধরে তারা বৃহৎ আকারের টিভি রুমটিকে রিডিং রুমে রূপান্তরের দাবি জানিয়ে আসছিল। তাদের দাবি টিভি রুমকে রিডিং রুম এবং বর্তমান রিডিং রুমকে টিভি রুম হিসেবে ব্যবহার করা।

আবাসিক শিক্ষার্থীরা জানান, প্রায় দুই মাস আগে টিভি রুমকে রিডিং রুমে রূপান্তরের কাজ শুরু হয়। তবে এখনও কাজ সম্পন্ন হয়নি। এর মধ্যে ঈদের ছুটি শেষে হল খুলতেই ওই কক্ষে আবার টিভি স্থাপন করা হয়েছে। 

শিক্ষার্থীদের দাবি, বিশ্বকাপ খেলা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্মারক মাঠে এলইডি স্ক্রিনে দেখানো হয়। সবাই মাঠে গিয়ে খেলা দেখে। হলের টিভি রুমে কেউ খেলা দেখে না। তাই শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার জন্য রিডিং রুমের ব্যবস্থা করে দেওয়া উচিত।

হলের আবাসিক শিক্ষার্থী রাকিবুল হাসান খবরের কাগজকে বলেন, ’ঈদের আগে টিভি রুমকে রিডিং রুমে রূপান্তরের কাজ শুরু হয়েছিল। ভেতরের অধিকাংশ কাজ শেষ হলেও টেবিল-চেয়ার স্থাপন বাকি ছিল, যা ঈদের পর সম্পন্ন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু অফিস খোলার দিনই সেখানে আবার টিভি বসানো হয়েছে। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কোনো আলোচনা ছাড়াই এত গুরুত্বপূর্ণ একটি কাজ অসম্পূর্ণ রেখে দেওয়া দুঃখজনক।‘

আরেক আবাসিক শিক্ষার্থী গোলাম রহমান শওন খবরের কাগজকে বলেন, ’আমি বিষয়টি নিয়ে সরাসরি হল প্রশাসনের দায়িত্বশীল ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলেছি। আমাকে জানানো হয়েছে, কিছু শিক্ষার্থীর অনুরোধে বিশ্বকাপ উপলক্ষে সাময়িকভাবে টিভি স্থাপন করা হয়েছে। তবে রিডিং রুমের চেয়ার-টেবিলের কাজ এখনও শেষ হয়নি। প্রায় ৪০ দিনের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও কাজ শেষ না হওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে হল প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. কামরুজ্জামান বলেন, ’অফিসে এসে দেখা করলে এ বিষয়ে কথা বলব।’

আজম/থিওটোনিয়াস

জাহাঙ্গীরনগরে অভিযুক্ত শিক্ষকদের দায়মুক্তির প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ, পুনঃতদন্তের দাবি

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ০৯:৫২ এএম
আপডেট: ১৭ জুন ২০২৬, ১০:৩৭ এএম
জাহাঙ্গীরনগরে অভিযুক্ত শিক্ষকদের দায়মুক্তির প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ, পুনঃতদন্তের দাবি
ছবি: খবরের কাগজ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে চব্বিশের জুলাইয়ে হামলায় মদদদাতা অভিযুক্ত শিক্ষকদের দায়মুক্তির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন শিক্ষার্থীরা।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) রাত সাড়ে ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে গিয়ে শেষ হয়।

সেখানে সংক্ষিপ্ত প্রতিবাদ সমাবেশের পর শিক্ষার্থীরা উপাচার্যসহ প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করেন।

শিক্ষার্থীরা রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন।

সাধারণ শিক্ষার্থীর আয়োজনে বিক্ষোভ মিছিলে জাকসুসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতারা অংশ নিয়ে সংহতি প্রকাশ করেন। মিছিলকারীরা ‘মুজিববাদের দালালেরা হুঁশিয়ার সাবধান’, ‘ফ্যাসিবাদের দালালেরা হুঁশিয়ার সাবধান’, ‘যে হাত সন্ত্রাস করে, সে হাত ভেঙে দাও’, ‘নুরুলের ঠিকানা এই ক্যাম্পাসে হবে না’, ‘ফিরোজের চামড়া তুলে নিবো আমরা’, ‘বসিরের চামড়া তুলে নিবো আমরা’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।

সমাবেশে ‘মানি না মানবো না অরুণাপল্লীর বিচার’, ‘ছি ছি ধিক্কার কামরুলের বিচার’, ‘ছি ছি ধিক্কার কামরুল (ভিসি) তুই গাদ্দার’, ‘প্রহসনের বিচার মানি না, মানব না’ ইত্যাদি স্লোগান দেওয়া হয়।

জাকসুর সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম বাপ্পির সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা।

বিক্ষোভ সমাবেশে জার্নালিজম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী মালিহা নামলাহ বলেন, ’১৫ জুলাই দুপুর ও রাতে, ১৭ জুলাই বিকেলে ছাত্রলীগ ও সন্ত্রাসীরা চাপাতি-বন্দুক নিয়ে আমাদের ওপর হামলা করেছিল। আমরা ভিসির গেটে চিৎকার করে সাহায্য চেয়েছিলাম। ভিসির নির্দেশে পুলিশ শিক্ষার্থীদের ওপর গুলি চালিয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ’যেসব শিক্ষক এই হামলার মাস্টারপ্ল্যান করেছেন, তাদের শুধু বেতন-গ্রেড কমিয়ে বা সতর্ক করে দায়মুক্তি দেওয়া হয়েছে। যারা শিক্ষার্থীদের ওপর গুলি চালাতে বলেন, তারা শিক্ষকের পর্যায়ে পড়েন না। তাদের শিক্ষক হিসেবেই বিতাড়িত করা উচিত।’

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষার্থী তৌহিদ মোহাম্মদ সিয়াম বলেন, ’গতকাল প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে ক্যাম্পাস থেকে বিতাড়িতদের ফেরত আনার পাঁয়তারা করা হয়েছে। এটি পূর্বপরিকল্পিত। জুলাইয়ের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। এই ক্যাম্পাসে বশির, ফিরোজ, আলমগীর, নুরুল আলম, শৈবাল, রঙ্গনসহ কেউ ঢুকতে পারবে না।’

জাকসু জিএস ও ইসলামী ছাত্র শিবিরের সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম বলেন, ’এই বিচার মানি না। বলা হয় জুলাইয়ের পর সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি জাকসু, কিন্তু হওয়ার কথা ছিল জুলাইয়ের বিচার।’

তিনি জুলাই হামলার মদদদাতা শিক্ষকদের বিষয়ে সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা করে পুনঃতদন্ত ও ফৌজদারি মামলার দাবি জানান।

বিক্ষোভ চলাকালীন উপাচার্য অধ্যাপক ড. কামরুল আহসান, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক নজরুল ইসলাম, উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. শামসুল আলম, ট্রেজারার অধ্যাপক আব্দুর রব ও প্রক্টর অধ্যাপক ড. রাশেদুল আলম উপস্থিত হয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. কামরুল আহসান বলেন, ’সিন্ডিকেট সভাপতি হিসেবে স্ট্রাকচার্ড কমিটির রিপোর্ট বিধান অনুসরণ করে পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রাস্তায় দাঁড়িয়ে এ নিয়ে মন্তব্য করা আমার এক্তিয়ার বহির্ভূত। তবে শিক্ষার্থীদের দাবি শোনার জন্য আমি অপেক্ষা করেছি এবং আলোচনা করেছি।’

’তদন্ত কমিটির রিপোর্টের ভিত্তিতে সিন্ডিকেট সিদ্ধান্ত নিয়েছে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ থাকলে আলোচনা করে সিন্ডিকেটে উপস্থাপন করা যেতে পারে’ বলে জানান তিনি।

তিনি জুলাই স্পিরিটের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, ’আমরা ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। মানুষ হিসেবে সীমাবদ্ধতা থাকতেই পারে। অভিযোগ এলে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বিবেচনা করা হবে।’

মঙ্গলবার সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত প্রকাশের পর বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন জাবি সংসদ, জাতীয় ছাত্রশক্তি জাবি সংসদ ও ইসলামি ছাত্র শিবির জাবি শাখা প্রতিবাদ লিপি ও সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে এই বিচারকে ‘প্রহসন ও সমঝোতা’ বলে নিন্দা জানিয়েছে।

আমানউল্লাহ/থিও/

বাকৃবিতে নজর কাড়ছে পেলে-ম্যারাডোনার গ্রাফিতি

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ০৯:০৫ এএম
আপডেট: ১৭ জুন ২০২৬, ০৯:১৪ এএম
বাকৃবিতে নজর কাড়ছে পেলে-ম্যারাডোনার গ্রাফিতি
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহজালাল হলের কমন রুমের দেয়ালে আঁকা হয়েছে ফুটবলের দুই কিংবদন্তি পেলে ও ডিয়েগো ম্যারাডোনার গ্রাফিতি। ছবি: খবরের কাগজ

আমেরিকা, কানাডা ও মেক্সিকোতে শুরু হয়েছে ফুটবল বিশ্বকাপের ২৩তম আসর। প্রায় ১৩ হাজার কিলোমিটার দূরে অনুষ্ঠিত এই মহাযজ্ঞের উন্মাদনা ছড়িয়ে পড়েছে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) ক্যাম্পাসে। তবে শুধু বর্তমান সময়ের তারকা লিওনেল মেসি ও নেইমার জুনিয়র নন, ফুটবল ইতিহাসের দুই কিংবদন্তি পেলে ও ম্যারাডোনার গ্রাফিতি এঁকে বিশ্বকাপ উন্মাদনায় ভিন্নমাত্রা যোগ করেছেন বাকৃবির শিক্ষার্থীরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহজালাল হলের কমন রুমের দেয়ালে ফুটবল কিংবদন্তি ডিয়েগো ম্যারাডোনার প্রতিকৃতি অঙ্কন করেছেন ভেটেরিনারি অনুষদের স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী রেজওয়ানুল হক শান্ত। অন্যদিকে ব্রাজিলের কিংবদন্তি পেলের প্রতিকৃতি এঁকেছেন পশুপালন অনুষদের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ইমতিয়াজ ফারাবি।

মেসি-নেইমারদের পাশাপাশি পেলে-ম্যারাডোনার গ্রাফিতি বাকৃবির বিশ্বকাপ উন্মাদনায় এনেছে ভিন্ন আমেজ। গ্রাফিতিগুলো দেখতে ও ছবি তুলতে প্রতিদিনই বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহজালাল হলে ভিড় করছেন বিভিন্ন হলের শিক্ষার্থীরা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, শুধু শাহজালাল হল নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের মওলানা ভাসানী হল, সোহরাওয়ার্দী হল এবং ঈশা খাঁ হলের দেয়ালেও ফুটে উঠেছে বিশ্বকাপের নানা রং। কোথাও জাতীয় পতাকা, কোথাও বিশ্বকাপ ট্রফি, আবার কোথাও বর্তমান তারকাদের প্রতিকৃতি। তবে এসবের মধ্যেও পেলে ও ম্যারাডোনার গ্রাফিতি আলাদাভাবে নজর কেড়েছে। আধুনিক ফুটবলের তারকাদের ভিড়ে এই দুই কিংবদন্তির প্রত্যাবর্তন যেন ক্যাম্পাসে বয়ে এনেছে ফুটবল উন্মাদনার হাওয়া। নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীরা যেমন গ্রাফিতির সামনে দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন, তেমনি প্রবীণ ফুটবলপ্রেমীরাও স্মরণ করছেন ফুটবলের সোনালি দিনের গল্প।

কথা হয় ব্রাজিল সমর্থক ইমতিয়াজ ফারাবির সঙ্গে। তার কাছে পেলে শুধুই একজন ফুটবলার নন, বরং ফুটবলের সর্বকালের শ্রেষ্ঠ নায়ক। নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘আমার কাছে পেলে ফুটবল ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ খেলোয়াড়। তিনিই একমাত্র ফুটবলার, যার হাতে তিনটি বিশ্বকাপের ট্রফি উঠেছে। ১৯৫৮, ১৯৬২ ও ১৯৭০ বিশ্বকাপজয়ী দলের সদস্য হিসেবে তিনি যে কীর্তি গড়েছেন, তা আজও অনন্য।’

প্রায় ১০ ফুট উচ্চতার গ্রাফিতি তৈরির সময় ও পরিশ্রমের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘পুরো কাজটি শেষ করতে আমার প্রায় তিন দিন ও তিন রাত লেগেছে। প্রথম দিন স্কেচ করতেই কেটে যায়। পরের দুই দিন রঙের কাজ করেছি। এখানে প্রায় ১৮ ধরনের রং ব্যবহার করা হয়েছে। ক্লাস শেষ করে বিকেল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত প্রতিদিন আমার কাজ করতে হয়েছে।’

এদিকে ম্যারাডোনার গ্রাফিতি অঙ্কনকারী আর্জেন্টিনার সমর্থক রেজওয়ানুল হক শান্ত বলেন, ‘প্রতি চার বছর পরপর বিশ্বকাপ এলে ক্যাম্পাসে একটা উৎসবের মতো পরিবেশ তৈরি হয়। সেই আনন্দকে আরও বাড়াতেই আমরা এই গ্রাফিতির উদ্যোগ নিই।’

শান্ত জানান, প্রায় ১১ ফুট উচ্চতার ম্যারাডোনার গ্রাফিতিটি আঁকতে তার প্রায় দুই দিন সময় লেগেছে। এতে জুনিয়র শিক্ষার্থীরাও তাকে সহযোগিতা করেছে। হলের আর্জেন্টিনা ফ্যান ক্লাবের সদস্যদের স্বতঃস্ফূর্ত অর্থায়নেই গ্রাফিতিটির যাবতীয় খরচ বহন করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

দুই বছরেও চালু হয়নি খুবির বধ্যভূমি জাদুঘর, তালাবদ্ধ ইতিহাসের সাক্ষী

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ০৮:৪৯ এএম
আপডেট: ১৭ জুন ২০২৬, ০৮:৫৪ এএম
দুই বছরেও চালু হয়নি খুবির বধ্যভূমি জাদুঘর, তালাবদ্ধ ইতিহাসের সাক্ষী
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্মিত ‘গল্লামারী বধ্যভূমি স্মৃতি জাদুঘর’। ইনসেটে তালাবদ্ধ দরজা। ছবি: খবরের কাগজ

পাক হানাদার বাহিনীর নির্মম হত্যাযজ্ঞের স্মৃতি রক্ষায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্মিত ‘গল্লামারী বধ্যভূমি স্মৃতি জাদুঘর’ আজও আলোর মুখ দেখেনি। হস্তান্তরের দুই বছর কেটে গেলেও প্রায় ১ কোটি ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই প্রকল্পটি বর্তমানে তালাবদ্ধ অবস্থায় পড়ে রয়েছে।

বর্তমান খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনটি ১৯৭১ সালে পাক হানাদারদের নির্মম টর্চার সেল (তৎকালীন রেডিও পাকিস্তানের খুলনা শাখা) ছিল। সেখানে চলত মুক্তিকামী মানুষের ওপর পাশবিক নির্যাতন ও হত্যাযজ্ঞ। দেশ স্বাধীনের পর বীর মুক্তিযোদ্ধারা এই গল্লামারী বধ্যভূমি ও এর আশপাশে খুঁজে পান গণহত্যার নানা চিহ্ন। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক গবেষক মুনতাসির মামুনের তথ্য অনুযায়ী, স্বাধীনতার পর এই এলাকা থেকে প্রায় ৫ ট্রাকভর্তি মানুষের মাথার খুলি ও হাড়গোড় উদ্ধার করা হয়েছিল। ধারণা করা হয়, এখানে আনুমানিক ১৫ হাজার মানুষকে হত্যা করা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের মে মাসে তৎকালীন উপাচার্য প্রফেসর ড. মাহমুদ হোসেন খুলনার বীর মুক্তিযোদ্ধাদের উপস্থিতিতে এই টর্চার সেলটিকে জাদুঘর করার উদ্যোগ নেন। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিদর্শন হিসেবে রাখার উদ্দেশ্যে জাদুঘরে রূপান্তরের উদ্যোগ নেয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ২০২২ সালের জুলাই মাসে চুক্তির মাধ্যমে ভবনের কাজ শেষ করে মেসার্স আনিসা এন্টারপ্রাইজ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ জানায়, ২০২৩ সালের ডিসেম্বর মাসে যশোরের এক টেন্ডার কোম্পানি জাদুঘরের ল্যান্ডস্কেপিংয়ের কাজ পায়। তারা ২০২৪ সালের জুন মাসের ৩০ তারিখের মধ্যে কাজ শেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে হস্তাস্তর করে। জাদুঘরের ভবন নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ৪৬ লাখ ৬৪ হাজার ৫৫৫ টাকা। ল্যান্ডস্কেপিং কাজের জন্য ৭০ লাখ টাকা বরাদ্দ থাকলেও বাস্তবে খরচ হয় ৬১ লাখ ৯২ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে স্মৃতি জাদুঘর নির্মাণে মোট ব্যয় হয়েছে ১ কোটি ৮ লাখ ৫৬ হাজার ৫৫৫ টাকা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, জাদুঘরের মূল ফটকে তালা ঝুলছে। প্রতিষ্ঠার দুই বছর পার হলেও এখনো আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়নি। চারপাশ পুরো নীরব। ভেতরের প্রদর্শনী কক্ষগুলো দর্শনার্থীদের জন্য বন্ধ। মুক্তিযুদ্ধের ছবি ও নিদর্শন প্রদর্শনের কথা থাকলেও কক্ষগুলো এখন পর্যন্ত সম্পূর্ণ ফাঁকা পড়ে আছে।

এই জাদুঘরটির নকশা প্রণয়ন করেছেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপত্য ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক এস এম নাজিমউদ্দিন। তিনি জানান, পুরোনো টিনশেড ভবনটি সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল তৎকালীন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। সেই ভাবনা থেকেই তিনি নকশা তৈরি করেন, যেখানে ১৯৭১ সালের নির্যাতন ও বেদনার প্রতীকী উপস্থাপন ফুটে উঠেছে।

তিনি বলেন, ‘নকশাটিতে একাত্তরের সেই ভয়াবহতার অনুভূতি তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে। এখানে মুক্তিযুদ্ধের সময়কার বিভিন্ন ছবি ও স্মৃতিচিহ্ন প্রদর্শনের পরিকল্পনা রয়েছে।’ তিনি আরও জানান, জাদুঘরটি উদ্বোধনের জন্য প্রায় প্রস্তুত। এখন শুধু কর্তৃপক্ষের উদ্যোগের অপেক্ষা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আব্দুল্লাহ হারুন চৌধুরী বলেন, ১৯৭১ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান টিনশেড ভবনটি ছিল একটি বধ্যভূমি ও নির্যাতন কেন্দ্র। সেখানে হাজার হাজার মানুষ নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তিনি বলেন, ‘খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের আন্দোলনের ফসল। তাই বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের সঙ্গেও বিশ্ববিদ্যালয়টির একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ রয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘জাদুঘরটি দ্রুত সবার জন্য উন্মুক্ত করা উচিত। এতে নতুন প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানতে পারবে। একজন কিউরেটর নিয়োগ দিয়ে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে খুলনা অঞ্চলের মুক্তিযুদ্ধকালীন ইতিহাস, ছবি ও নিদর্শন সংগ্রহ করা যেতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থীদের গবেষণা ও পাঠচর্চাতেও এটি ভূমিকা রাখতে পারে। তাই দ্রুত জাদুঘরটি চালু করা প্রয়োজন।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত চিফ ইঞ্জিনিয়ার শেখ মো. সাইফুল আলম বাদশা বলেন, ‘ল্যান্ডস্কেপিংয়ের কাজ শেষ। এখন প্রদর্শনীর জিনিসপত্র বসালেই এটি প্রস্তুত হয়ে যাবে। কর্তৃপক্ষ চাইলে যেকোনো সময় এটি চালু করতে পারে।’

প্রতিষ্ঠার দুই বছর পরও জাদুঘরটি উদ্বোধন না হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. রেজাউল করিম জানান, বিষয়টি তাকে আগে কেউ জানায়নি। তিনি ভেতরে গিয়ে দেখেননি কতদূর কাজ হয়েছে। তবে তিনি বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন।

উপাচার্য আরও বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস আমরা অবশ্যই সংরক্ষণ করব। সেখানে একটি লাইব্রেরি স্থাপনের সম্ভাবনাও বিবেচনা করা যেতে পারে। এ বিষয়ে ফাইল পর্যালোচনা করে কী কী অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, তা দেখে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’