ঢাকা ৪ আষাঢ় ১৪৩৩, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
মানিকগঞ্জে ট্রাক-পিকআপ সংঘর্ষ, নিহত ২ সিলেটে ৩৬ ঘণ্টায় ১২২.৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড সংসদে মামুনুল হক প্রসঙ্গে দেওয়া বক্তব্য এক্সপাঞ্জ করলেন স্পিকার টঙ্গীতে ‘হানি ট্র্যাপ’ চক্রের ৩ সদস্য গ্রেপ্তার নেপালের সঙ্গে দ্রুত বাণিজ্য চুক্তি চায় বাংলাদেশ চুয়াডাঙ্গায় ট্রেন-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে নিহত ২ সামরিক জীবনে ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলার আহ্বান সেনাপ্রধানের উখিয়ায় আইওএমের গাড়ির চাপায় অজ্ঞাত শিশুর মৃত্যু ভার্চুয়াল জুয়ার ফাঁদে সমাজ এসএসএফকে জনগণের সঙ্গে সংযোগ অটুট রাখার নির্দেশ তারেক রহমানের গানেই লিজার ব্যস্ততা প্রয়াত বিএনপি নেতা আবদুল্লাহ আল নোমানের নামে আমন্ত্রণপত্র আধ্যাত্মিক ধনী হওয়ার সহজ সমীকরণ আবার জ্বলে ওঠো জার্মানি চাঁপাইনবাবগঞ্জে ২০০ জাতের আম নিয়ে মেলা শুরু পাহাড়, বন আর নীল জলের অপূর্ব মিলন ৪টি চলচ্চিত্র নিয়ে ‘সামার বাংলা হিট ফেস্ট’ তিন নাটকে প্রশংসিত হিমি পুশ-ইন সমস্যা সমাধানের দাবিতে সমাবেশ ও স্মারকলিপি প্রদান সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় ফরিদপুরের প্রবাসী নিহত তপ্ত গরমে পশুপাখির প্রতি সদয় হোন সিনচিয়াংয়ে সংস্কৃতি ও পর্যটন উন্নয়ন সম্মেলন অনুষ্ঠিত সংঘাত নয়, হোক সম্প্রীতির উদযাপন কানসাসের দাবদাহে ‘কুলিং ভেস্টে’ অনুশীলন আর্জেন্টিনার চীনের ছাংছুনে অপটিক্স ও সেমিকন্ডাক্টর প্রযুক্তির বিপ্লব বাংলাদেশের বাজারে এল টেকনো স্পার্ক ৫০ প্রো খোকসায় ২০ বছর ধরে অচল কৃত্রিম প্রজনন কেন্দ্র, ভোগান্তিতে কৃষক-খামারি কেইনই ইংল্যান্ডের ইতিহাসের সেরা স্ট্রাইকার: লিনেকার বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে পুশইন, সংলাপের পরামর্শ জাতিসংঘের গ্লেনরিচ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল পরিদর্শন করলেন প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ

ইবি শিক্ষার্থীর মৃত্যুর সুষ্ঠু তদন্তসহ ১৫ দাবি মেনে নিয়ে প্রশাসনের বিবৃতি

প্রকাশ: ২০ জুলাই ২০২৫, ১২:৩৪ পিএম
আপডেট: ২০ জুলাই ২০২৫, ০২:০৯ পিএম
ইবি শিক্ষার্থীর মৃত্যুর সুষ্ঠু তদন্তসহ ১৫ দাবি মেনে নিয়ে প্রশাসনের বিবৃতি
ছবি:খবরের কাগজ

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শিক্ষার্থী সাজিদ আব্দুল্লাহর রহস্যজনক মৃত্যুর সুষ্ঠু বিচারসহ শিক্ষার্থীদের ১৫ দফা দাবি মেনে নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

শনিবার (১৯ জুলাই) রুটিন দায়িত্বে থাকা ভিসি অধ্যাপক ড. এম এয়াকুব আলী শিক্ষার্থীদের সামনে উপস্থিত হয়ে দাবিদাওয়া মেনে নেন।

এ সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. জাহাংগীর আলম ও প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহিনুজ্জামান প্রমুখ।

তবে বিবৃতি না নিয়ে আন্দোলন স্থগিত করবে না বলে ঘোষণা দেন শিক্ষার্থীরা।

এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মঞ্জুরুল হক স্বাক্ষরিত এক বিবৃতির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের দাবিদাওয়া মেনে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে শিক্ষার্থীরা দাবি মেনে নেওয়ার চিঠি হাতে পেয়ে বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে আন্দোলন স্থগিত করেন।

১৫ দফা দাবিগুলো হলো- ১. তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের ক্ষেত্রে দুই থেকে আড়াই মাস সময় ক্ষেপন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। রিপোর্ট প্রকাশের সময়সীমা কমিয়ে এনে ২৪ ঘণ্টার ভেতর প্রাথমিক তদন্তের রিপোর্ট প্রকাশ করতে হবে এবং আগামী ৬ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রকাশ করতে হবে। ২. হল ও প্রশাসনের তদন্ত কমিটিতে ২ জন করে শিক্ষার্থী অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। ৩. বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অবহেলা এবং নিরাপদ ক্যাম্পাস নিশ্চিতে ব্যর্থতার দায়ভার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে নিতে হবে এবং এর ক্ষতিপূরণ স্বরূপ দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাজিদের পরিবারকে কমপক্ষে এক কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। ৪. সমগ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে আগামী ৬ দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা গ্রহণ করতে হবে। ৫. নতুন হলের নাম "সাজিদ আব্দুল্লাহ'র নামে নামকরণ করতে হবে। ৬. তদন্ত কমিটিতে নিরপেক্ষ শিক্ষকদেরকে অন্তর্ভূক্ত করতে হবে। ৭. ১৭৫ একর বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরকে CCTV (সিসিটিভি) ক্যামেরার আওতায় আনতে হবে। কোনো এলাকা যেন নজরদারির বাইরে না থাকে তা নিশ্চিত করতে হবে। ৮. বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্যেকটি আবাসিক হলে শিক্ষার্থীদের এন্ট্রি ও এক্সিট শতভাগ মনিটরিংয়ের আওতায় আনতে হবে। প্রয়োজন হলে ডিজিটাল কার্ড বা বায়োমেট্রিক ব্যবস্থা চালু করতে হবে। ৯. বিশ্ববিদ্যালয়ের চারপাশে পূর্ণাঙ্গ নিরাপত্তাবেষ্টিত বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণের নিশ্চয়তা দ্রুত সময়ের মধ্যে নিশ্চিত করতে হবে। ১০. ক্যাম্পাসে পর্যাপ্ত স্ট্রিট লাইট স্থাপন ও সক্রিয় রাখতে হবে, যাতে কোনো শিক্ষার্থী অন্ধকারে চলাচল করতে বাধ্য না হয়। ১১. ক্যাম্পাসে বহিরাগত প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। প্রয়োজন হলে প্রবেশের অনুমতি নির্দিষ্ট পরিচয় যাচাইয়ের মাধ্যমে দিতে হবে। ১২. মাননীয় উপাচার্য, মাননীয় উপ-উপাচার্য, মাননীয় ট্রেজারার, সম্মানিত হল প্রভোস্ট, সম্মানিত প্রক্টর ও সম্মানিত ছাত্র উপদেষ্টা তাঁদের সবাইকে নিয়মিতভাবে ক্যাম্পাসে উপস্থিত থাকতে হবে এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও সমস্যা সমাধানে সরাসরি জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে। ১৩. মেইন গেটের পাশাপাশি সকল এন্ট্রি পয়েন্টে নিরাপত্তা কর্মী নিয়োগ দিতে হবে ১৪. উপরে উল্লিখিত সমস্যা সমাধানে নির্দিষ্ট সময়সীমা (ডেডলাইন) ঘোষণা করতে হবে এবং তার বাস্তবায়নের নিয়মিত অগ্রগতি প্রকাশ করতে হবে। ১৫. আমাদের দাবিসমূহ ৬ দিনের ভেতর বাস্তবায়ন করতে হবে এবং ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

শিক্ষার্থী এ আন্দোলনে সংহতি প্রকাশ করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, শাখা ছাত্রদল, ছাত্রশিবির, ছাত্র ইউনিয়ন ও ইসলামী ছাত্র আন্দোলনসহ অন্যন্য সকল সংগঠন। 

গত ১৭ জুলাই (বৃহস্পতিবার) বিকেল পাঁচটার দিকে শাহ আজিজুর রহমান হল সংলগ্ন পুকুরে সাজিদ আব্দুল্লাহর মরদেহ ভেসে থাকতে দেখে শিক্ষার্থীরা। পরে সাড়ে ৬টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় নিরাপত্তা কর্মকর্তা পুলিশ সদস্যদের উপস্থিতিতে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

সাজিদ বিশ্ববিদ্যালয়ের আল কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি শহিদ জিয়াউর রহমান হলের ১০৯নং রুমে থাকতেন। তার বাড়ি টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলায়। বাবার নাম মুহাম্মদ আহসান হাবিবুল্লাহ ও মায়ের নাম সুমাইয়া আক্তার।

সাজিদ আব্দুল্লাহর মৃত্যু নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন। ইতোমধ্যে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও শহিদ জিয়াউর রহমান হল কর্তৃপক্ষ আলাদা আলাদা তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।

নিয়ামত/মৌসুমী/

কিউএস র‍্যাঙ্কিংয়ে আবারও দেশসেরা নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০৪:২২ পিএম
আপডেট: ১৮ জুন ২০২৬, ০৪:৩৩ পিএম
কিউএস র‍্যাঙ্কিংয়ে আবারও দেশসেরা নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি
ছবি: বিজ্ঞপ্তি

কিউএস ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র‍্যাঙ্কিংস ২০২৭-এ আবারও বাংলাদেশের শীর্ষ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে নিজেদের অবস্থান ধরে রেখেছে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি (এনএসইউ)। এবারের র‍্যাঙ্কিংয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টি ৯০১–৯৫০ ব্যান্ডে স্থান পেয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় এক ধাপ অগ্রগতি নির্দেশ করে।

এ বছর বিশ্বের ১,৫০৪টি বিশ্ববিদ্যালয়কে মূল্যায়নের আওতায় এনে র‍্যাঙ্কিং প্রকাশ করেছে কিউএস। উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মান নির্ধারণে এটি বিশ্বের অন্যতম স্বীকৃত সূচক হিসেবে বিবেচিত। একাডেমিক সুনাম, কর্মসংস্থান সক্ষমতা ও স্নাতকদের অর্জন, শিক্ষার্থীদের অভিজ্ঞতা এবং আন্তর্জাতিক সুযোগ-সুবিধাসহ বিভিন্ন সূচকের ভিত্তিতে এ মূল্যায়ন করা হয়।

র‍্যাঙ্কিংয়ে অন্তর্ভুক্ত বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থান অর্জন করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, যার পরেই রয়েছে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)। সরকারি ও বেসরকারি—উভয় ধরনের বিশ্ববিদ্যালয় মিলিয়ে পর্যায়ে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির অবস্থান তৃতীয়। একই সঙ্গে এটি দেশের সর্বোচ্চ স্থানপ্রাপ্ত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে অবস্থান বজায় রেখেছে।

এনএসইউর উপাচার্য অধ্যাপক আবদুল হান্নান চৌধুরী বলেন, “দেশের শীর্ষ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে অবস্থান ধরে রাখা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও নিষ্ঠার প্রতিফলন। এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি বিশ্ববিদ্যালয়কে শিক্ষা, গবেষণা এবং বৈশ্বিক সম্পৃক্ততায় আরও উৎকর্ষ সাধনে অনুপ্রাণিত করবে।”

রাবির জিএস আম্মারের বিরুদ্ধে হেনস্তার অভিযোগ

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০১:৪৫ পিএম
আপডেট: ১৮ জুন ২০২৬, ০১:৫৮ পিএম
রাবির জিএস আম্মারের বিরুদ্ধে হেনস্তার অভিযোগ
ছবি খবরের কাগজ

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) বিশ্বকাপ ফুটবল ম্যাচ প্রদর্শনকে কেন্দ্র করে নবাব আব্দুল লতিফ হল সংসদের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) নুরুল ইসলাম শহিদকে হেনস্তার  অভিযোগ উঠেছে রাকসু জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারের বিরুদ্ধে। তবে অভিযোগটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন আম্মার।

বুধবার (১৭ জুন) রাত ১০টার দিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া পোস্টে এ অভিযোগ করেন নুরুল ইসলাম শহিদ।

পোস্টে শহিদ উল্লেখ করেন, আর্জেন্টিনা ও আলজেরিয়ার মধ্যকার বিশ্বকাপ ফুটবল ম্যাচ উপলক্ষে তিনি তার হলের কয়েকজন শিক্ষার্থীকে নিয়ে হবিবুর রহমান হল মাঠে খেলা দেখতে যান। খেলার প্রায় ৩০ মিনিটের সময় রাকসুর ভিপি মুস্তাকুর রহমান জাহিদ এবং হবিবুর রহমান হল সংসদের জিএস আশিক শিকদার তাকে তাদের পাশে বসে খেলা দেখার জন্য ডাকেন। পরে তিনি এলইডি স্ক্রিনের পাশে সুতা দিয়ে ঘেরা নির্ধারিত স্থানে গিয়ে ভিপির পাশে বসেন।

তিনি আরও দাবি করেন, সেখানে বসার প্রায় এক মিনিট পর রাকসু জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার ও সহ-ক্রীড়া সম্পাদক আবু সাঈদ সামি এসে তাকে ওই স্থান থেকে সরে যেতে বলেন। কারণ জানতে চাইলে আম্মার তার গেঞ্জির কলার ধরে টানাটানি করেন এবং সেখানে কেউ অবস্থান করতে পারবেন না বলে জানান। একপর্যায়ে তাকে জোরপূর্বক দড়ির ভেতরের নির্ধারিত স্থান থেকে বের করে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

মারধরের অভিযোগ প্রসঙ্গে সালাউদ্দিন আম্মার বলেন, ‘দায়িত্ব নিয়ে বলছি, আমি তার গায়ে স্পর্শও করিনি। তার টি-শার্টেও হাত দিইনি। তিনি আমার প্রতি যে ভাষা ব্যবহার করেছেন, তার জবাবও আমি দিইনি। অনুষ্ঠান সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার স্বার্থেই তাকে স্থান পরিবর্তনের অনুরোধ করা হয়েছিল।’

তিনি আরও বলেন, ‘রাকসুর আয়োজনে খেলা প্রদর্শনের ক্ষেত্রে সবাইকে সমানভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। মাঠের বাম পাশে ছাত্রীদের বসার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। ফলে স্ক্রিনের সামনে কেউ অবস্থান করলে তাদের খেলা দেখতে সমস্যা হচ্ছিল। দায়িত্বের অংশ হিসেবে তিনি ওই এলাকায় অবস্থান করছিলেন এবং কাউকে সেখানে দাঁড়াতে দিচ্ছিলেন না।’

তিনি বলেন, ‘শহিদ সেখানে আসার পর পেছনে বসা শিক্ষার্থীরা খেলা দেখতে পারছিল না। তাই আমি তাকে স্ক্রিনের ডান পাশে গিয়ে বসার অনুরোধ করি। কিন্তু তিনি সেখান থেকে বের হয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে চলে যান।’

এ বিষয়ে রাকসুর ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ বলেন, ’দঁড়ির ভেতরে বসাকে কেন্দ্র করে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে কথাকাটাকাটি ও বাকবিতণ্ডার ঘটনা ঘটে। তবে এর আগে কী ঘটেছিল, সে বিষয়ে তিনি অবগত নন। খেলা চলাকালীন তাদের তর্ক-বিতর্কে খেলার পরিবেশ ও শৃঙ্খলা ব্যাহত হচ্ছিল। তাই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আমি তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি থামিয়ে দিয়েছি। তবে বিরোধের মূল কারণ সম্পর্কে আমার কাছে কোনো তথ্য নেই।’

শাকিবুল হাসান/খাদিজা রুমি/

দূরত্ব হাজার মাইল, উৎসব ক্যাম্পাসে

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০৯:০৫ এএম
আপডেট: ১৮ জুন ২০২৬, ১০:০১ এএম
দূরত্ব হাজার মাইল, উৎসব ক্যাম্পাসে
ছবি:খবরের কাগজ

সকালে ক্লাসে যাওয়ার তাড়া নেই, তবু আর্জেন্টিনা-আলজেরিয়ার বিশ্বকাপ ফুটবল ম্যাচ দেখতে সকাল সকাল জেগে উঠেছেন শিক্ষার্থীরা। কারও গায়ে আর্জেন্টিনার জার্সি, কারও হাতে ভুভুজেলা বাঁশি। হাজার হাজার মাইল দূরে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর মাঠে গড়াচ্ছে বল, আর তার রেশ এসে লেগেছে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসগুলোতে। যেন বিশ্বকাপের এক টুকরো আবহ তৈরি হয়েছে দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে।

প্রথমবারের মতো ৪৮টি দলের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ফুটবল বিশ্বকাপের ২৩তম আসর। ভৌগোলিক দূরত্ব যতই থাকুক, বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের আবেগে তার কোনো প্রভাব পড়েনি। বরং বিশ্বকাপ ঘিরে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে তৈরি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ। গ্রীষ্মকালীন ছুটির কারণে অনেক শিক্ষার্থী নিজ নিজ এলাকায় অবস্থান করলেও খেলা ঘিরে উন্মাদনা থেমে নেই।

বিশেষ করে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের ম্যাচ ঘিরে শিক্ষার্থীদের আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। প্রিয় দলের জার্সি পরা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমর্থনের পোস্ট দেওয়া, বন্ধুদের সঙ্গে তর্ক-বিতর্ক কিংবা ম্যাচ বিশ্লেষণ–সব মিলিয়ে বিশ্বকাপ যেন তরুণদের জীবনের একটি বড় অনুষঙ্গে পরিণত হয়েছে।

গত বুধবার সকালে অনুষ্ঠিত আর্জেন্টিনা-আলজেরিয়া ম্যাচ সেই উন্মাদনাকে আরও বাড়িয়ে দেয়। যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস সিটিতে অনুষ্ঠিত ম্যাচটিতে লিওনেল মেসির হ্যাটট্রিক গোলে ৩-০ ব্যবধানে জয় পায় আর্জেন্টিনা। ম্যাচ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শুরু হয় উল্লাস। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি, হলপাড়া, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের মধ্যে দেখা যায় বিজয় উদযাপনের দৃশ্য।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) এলাকায় খেলা চলাকালে শিক্ষার্থীদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। খেলা শেষে আর্জেন্টিনার সমর্থকরা আনন্দ মিছিল বের করেন। বিভিন্ন আবাসিক হলে উড়তে থাকে আকাশি নীল-সাদা পতাকা। মুহূর্তের জন্য পুরো ক্যাম্পাস যেন রূপ নেয় এক উৎসবের নগরীতে।
আর্জেন্টিনার জয়ে উল্লাস প্রকাশ করে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির বলেন, ‘মেসি বেশ ভালো খেলেছেন, আশা করছি আগামীতে তারা আরও ভালো খেলবেন। বিশেষ করে মেসি আরও গোল করবেন। আজকে মেসির তিন গোলের মধ্য দিয়ে তিনি সেরা, এটি প্রমাণ করলেন। আশা করি, এবারের বিশ্বকাপ আর্জেন্টিনা জিতবে।’

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেন, ‘এবার আমরা ফোর স্টার নিয়ে ফিরব। আর মেসি কী জিনিস, আজকের খেলার মধ্য দিয়ে আবার প্রমাণ হলো। সেরাদের জায়গাটি সব সময়ই বিশ্বকাপ সেরাদের কাতারেই থাকে। এবার আমরা বিশ্বকাপ ট্রফি জিতব এবং মেসি অবশ্যই সর্বোচ্চ গোলদাতা হবেন, যেটি ইতিহাস হয়ে থাকবে।’

এদিকে ম্যাচ-পরবর্তী অনুভূতি প্রকাশ করে আর্জেন্টিনা সমর্থক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ওবাইদুল্লাহ বলেন, মেসিকে কেন ফুটবলের জাদুকর বলা হয়, তা আজ আবারও প্রমাণ হয়েছে। আর আর্জেন্টিনা যে মানের ফুটবল খেলেছে, তা ধরে রাখতে পারলে দলটি শিরোপার দৌড়ে অনেক দূর এগিয়ে যাবে।’

এবারের বিশ্বকাপ উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচটি স্থানে বড় পর্দায় খেলা দেখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। টিএসসি, জগন্নাথ হল মাঠ, সলিমুল্লাহ মুসলিম (এসএম) হল, শহীদুল্লাহ হল মাঠ এবং কবি জসীমউদদীন হল মাঠে প্রতিদিন জড়ো হচ্ছেন শত শত শিক্ষার্থী। শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নয়, দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়েও শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে বড় পর্দায় খেলা দেখার আয়োজন করা হয়েছে।

ফুটবল বিশ্বকাপ বাংলাদেশের মানুষের কাছে বরাবরই একটি আবেগের নাম। যদিও বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে এখনো বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব নেই, তবু সমর্থন আর ভালোবাসার দিক থেকে কোনো অংশে পিছিয়ে নেই এ দেশের মানুষ। সেই আবেগের সবচেয়ে প্রাণবন্ত প্রকাশ দেখা যায় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসগুলোতে, যেখানে বিশ্বকাপ শুধু একটি ক্রীড়া প্রতিযোগিতা নয়; এটি হয়ে ওঠে উৎসব, আনন্দ এবং মিলনের উপলক্ষ।
বিশ্বকাপের দিনগুলো যত এগোচ্ছে, ততই বাড়ছে উত্তেজনা। কে জিতবে শিরোপা, কে হবে সেরা।

 খেলোয়াড়– এসব প্রশ্নের উত্তর মিলবে সময়ের সঙ্গে। তবে একটি বিষয় নিশ্চিত, বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফুটবল আসরকে ঘিরে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসগুলো ইতোমধ্যে পরিণত হয়েছে উচ্ছ্বাস, আবেগ আর তারুণ্যের এক বর্ণিল মঞ্চে।

যুগোপযোগী পাঠদান শিক্ষার্থীদের শেখার অভিজ্ঞতা সমৃদ্ধ করবে: গ্লেনরিচে বক্তারা

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ০৬:৩৪ পিএম
যুগোপযোগী পাঠদান শিক্ষার্থীদের শেখার অভিজ্ঞতা সমৃদ্ধ করবে: গ্লেনরিচে বক্তারা
ছবি: বিজ্ঞপ্তি

দেশে আন্তর্জাতিক শিক্ষাব্যবস্থার মানোন্নয়ন ও শিক্ষকদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে রাজধানীর গ্লেনরিচ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল, উত্তরায় সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘কেমব্রিজ প্রিন্সিপালস মিট ২০২৬।’

কেমব্রিজ ইন্টারন্যাশনাল এডুকেশন আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের দেড়শ জনের বেশি অধ্যক্ষ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান এবং শিক্ষাখাত সংশ্লিষ্ট পেশাজীবী অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, কেমব্রিজ ইন্টারন্যাশনাল এডুকেশনের গ্লোবাল ম্যানেজিং ডিরেক্টর রড স্মিথ এবং দক্ষিণ এশিয়ার ম্যানেজিং ডিরেক্টর অরুণ রাজামানি।

অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্যে এসটিএস গ্রুপের সিইও মানাস সিং বলেন, “গ্লেনরিচ ক্যাম্পাসে ১৫০ জনের বেশি শিক্ষক ও শিক্ষাখাত সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীদের একসঙ্গে হওয়া বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থার মানোন্নয়নে সবার সম্মিলিত অঙ্গীকারেরই প্রতিফলন। আমরা বিশ্বাস করি, শিক্ষার্থীদের জন্য অর্থবহ শেখার পরিবেশ গড়ে তুলতে শিক্ষকদের পারস্পরিক সহযোগিতার কোনো বিকল্প নেই। দেশের শিক্ষা খাতের নেতৃত্বস্থানীয় ব্যক্তিদের একত্রিত করে এমন অর্থবহ আলোচনা ও মতবিনিময়ের পরিবেশ তৈরি করাই আমাদের লক্ষ্য, যা দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও সমৃদ্ধ করার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে আরও দক্ষ করে তুলবে।”

অনুষ্ঠানে গ্লেনরিচ উত্তরার শিক্ষার্থীরা মনোমুগ্ধকর এক সাংস্কৃতিক পরিবেশনা উপস্থাপন করে। এ ছাড়া, মূল অধিবেশনে কেমব্রিজ বাংলাদেশের পক্ষ থেকে দেশে কেমব্রিজ শিক্ষাধারার সাম্প্রতিক অগ্রগতির চিত্র তুলে ধরা হয়। আলোচনায় প্রাইমারি চেকপয়েন্ট পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের সাফল্য এবং পূর্ণাঙ্গ কেমব্রিজ শিক্ষাধারা অনুসরণকারী স্কুলের সংখ্যা বৃদ্ধির বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পায়।

অনুষ্ঠানে পূর্ণাঙ্গ কেমব্রিজ শিক্ষাধারা অনুসরণকারী বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। পাশাপাশি, কেমব্রিজের অনুমোদিত ও মৌলিক শিক্ষাসামগ্রী ব্যবহারে উৎসাহ জোগানো এবং পাইরেসি বিরোধী উদ্যোগে ভূমিকা রাখা স্কুলগুলোর প্রশংসা করা হয়।

এই স্বীকৃতির অংশ হিসেবে, গ্লেনরিচ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল, উত্তরা অর্জন করে ‘লেটার অব অ্যাপ্রিসিয়েশন ফর কেমব্রিজ ফুল পাথওয়ে স্কুল,’ ‘লেটার অব অ্যাপ্রিসিয়েশন ফর অ্যান্টি পাইরেসি ক্যাম্পেইনস জয়েন্টলি উইথ কেমব্রিজ,’ ‘কেমব্রিজ ইন্ডিপেন্ডেন্ট সেন্টারশিপ’ এবং ‘কেমব্রিজ পিডিকিউ সেন্টারশিপ’।

একই সাথে গ্লেনরিচ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল, সাতারকুল অর্জন করে ‘লেটার অব অ্যাপ্রিসিয়েশন ফর কেমব্রিজ ফুল পাথওয়ে স্কুল,’ ‘লেটার অব অ্যাপ্রিসিয়েশন ফর অ্যান্টি পাইরেসি ক্যাম্পেইনস জয়েন্টলি উইথ কেমব্রিজ’ এবং ‘কেমব্রিজ ইন্ডিপেন্ডেন্ট সেন্টারশিপ।’

অনুষ্ঠানে কেমব্রিজ ইন্টারন্যাশনাল এডুকেশনের আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পর্যায়ের প্রতিনিধিরা শিক্ষাখাতের পরিবর্তিত অগ্রাধিকার, নতুন সম্ভাবনা এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ের বিভিন্ন কার্যকর পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করেন।

বিভিন্ন অংশগ্রহণমূলক সেশনে শিক্ষার্থীদের শেখার অভিজ্ঞতা আরও অর্থবহ করতে উদ্দেশ্যনির্ভর, আধুনিক পাঠদান পদ্ধতি ও কার্যকর শিক্ষণ কৌশল নিয়ে আলোচনা করা হয়।

কেমব্রিজ ইংলিশ প্রোগ্রামের বিভিন্ন উদাহরণ ও কেস স্টাডির মাধ্যমে দেখানো হয়, কীভাবে এসব কর্মসূচি শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে, যোগাযোগ দক্ষতা উন্নত করতে এবং বাস্তব জীবনে ভাষা ব্যবহারের সক্ষমতা গড়ে তুলতে সহায়তা করে।

শিক্ষকদের দক্ষতা উন্নয়নও ছিল এ আয়োজনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক। সহকর্মীদের মধ্যে অভিজ্ঞতা ও জ্ঞান বিনিময়ের মাধ্যমে কীভাবে পাঠদানের মান এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নেতৃত্ব আরও উন্নত করা যায়, এ নিয়ে প্রতিনিধিরা আলোচনা করেন।

এ সময় কেমব্রিজ প্রফেশনাল ডেভেলপমেন্ট কোয়ালিফিকেশনস (পিডিকিউ) কর্মসূচির কথাও তুলে ধরা হয়।

বক্তারা বলেন, শিক্ষকদের আত্মমূল্যায়ন ও পেশাগত উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নেতৃত্বকে আরও কার্যকর করতে এ কর্মসূচির ভূমিকা অনস্বীকার্য।

বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক শিক্ষাক্রমের মানোন্নয়নে শিক্ষাবিদদের মধ্যে ধারাবাহিক সহযোগিতা ও অংশীদারিত্ব আরও জোরদার করার আহ্বানের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয়।

বেরোবিতে রিডিং রুমের কাজ অসম্পূর্ণ রেখে হলে টিভি স্থাপন, শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ০১:১৬ পিএম
আপডেট: ১৭ জুন ২০২৬, ০১:২৮ পিএম
বেরোবিতে রিডিং রুমের কাজ অসম্পূর্ণ রেখে হলে টিভি স্থাপন, শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ
ছবি: খবরের কাগজ

রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শহিদ মুখতার ইলাহী হলে রিডিং রুম তৈরির কাজ চলমান অবস্থায় সেখানে পুনরায় টিভি স্থাপন করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন আবাসিক শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, হলের রিডিং রুমটি শিক্ষার্থীর সংখ্যার তুলনায় অনেক ছোট। এ কারণে দীর্ঘদিন ধরে তারা বৃহৎ আকারের টিভি রুমটিকে রিডিং রুমে রূপান্তরের দাবি জানিয়ে আসছিল। তাদের দাবি টিভি রুমকে রিডিং রুম এবং বর্তমান রিডিং রুমকে টিভি রুম হিসেবে ব্যবহার করা।

আবাসিক শিক্ষার্থীরা জানান, প্রায় দুই মাস আগে টিভি রুমকে রিডিং রুমে রূপান্তরের কাজ শুরু হয়। তবে এখনও কাজ সম্পন্ন হয়নি। এর মধ্যে ঈদের ছুটি শেষে হল খুলতেই ওই কক্ষে আবার টিভি স্থাপন করা হয়েছে। 

শিক্ষার্থীদের দাবি, বিশ্বকাপ খেলা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্মারক মাঠে এলইডি স্ক্রিনে দেখানো হয়। সবাই মাঠে গিয়ে খেলা দেখে। হলের টিভি রুমে কেউ খেলা দেখে না। তাই শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার জন্য রিডিং রুমের ব্যবস্থা করে দেওয়া উচিত।

হলের আবাসিক শিক্ষার্থী রাকিবুল হাসান খবরের কাগজকে বলেন, ’ঈদের আগে টিভি রুমকে রিডিং রুমে রূপান্তরের কাজ শুরু হয়েছিল। ভেতরের অধিকাংশ কাজ শেষ হলেও টেবিল-চেয়ার স্থাপন বাকি ছিল, যা ঈদের পর সম্পন্ন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু অফিস খোলার দিনই সেখানে আবার টিভি বসানো হয়েছে। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কোনো আলোচনা ছাড়াই এত গুরুত্বপূর্ণ একটি কাজ অসম্পূর্ণ রেখে দেওয়া দুঃখজনক।‘

আরেক আবাসিক শিক্ষার্থী গোলাম রহমান শওন খবরের কাগজকে বলেন, ’আমি বিষয়টি নিয়ে সরাসরি হল প্রশাসনের দায়িত্বশীল ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলেছি। আমাকে জানানো হয়েছে, কিছু শিক্ষার্থীর অনুরোধে বিশ্বকাপ উপলক্ষে সাময়িকভাবে টিভি স্থাপন করা হয়েছে। তবে রিডিং রুমের চেয়ার-টেবিলের কাজ এখনও শেষ হয়নি। প্রায় ৪০ দিনের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও কাজ শেষ না হওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে হল প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. কামরুজ্জামান বলেন, ’অফিসে এসে দেখা করলে এ বিষয়ে কথা বলব।’

আজম/থিওটোনিয়াস