ঢাকা ৮ আষাঢ় ১৪৩৩, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রাজশাহীতে রেস্তোরাঁয় হামলা: সাবেক শিবির নেতাসহ ৩০ জনের নামে মামলা জাইমা রহমানকে নিয়ে ফেসবুকে আপত্তিকর মন্তব্য করা যুবক গ্রেপ্তার মঙ্গল ও চাঁদে অভিযানের জন্য নাসার নতুন রোভার আরনেস্ট রূপগঞ্জে কারখানায় ডাকাতির মালামাল উদ্ধার, গ্রেপ্তার ২ জয়পুরহাটে দিনব্যাপী জব ফেয়ার অনুষ্ঠিত ঈশ্বরদীতে দুইদিনের গবেষণা সম্প্রসারণ কর্মশালার উদ্বোধন পৃথিবীর গঠন অধ্যায়ের ৯টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ১ম পর্ব, এইচএসসির ভূগোল ১ম পত্র দেশের ৬ জেলায় সেনা মোতায়েনের নির্দেশ ব্রাজিলিয়ান জন্য সুখবর, পূর্ণ অনুশীলনে নেইমার দায় নিজের কাঁধে নিলেন বিয়েলসা ঝিনাইদহে শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় যুবকের ফাঁসি মধুখালীতে ডাকাতি, নগদ টাকা-স্বর্ণালংকার লুটের অভিযোগ মিডজার্নি আনছে নতুন আলট্রাসনিক বডি স্ক্যানার ক্যারিবীয় সাগরে আবারও মার্কিন হামলা, নিহত ২ হাইড্রেশন ব্রেকের বিরুদ্ধে স্কালোনি রসুনের ১০টি প্রমাণিত উপকারিতা চট্টগ্রামবাসীকে নিয়ে সব ষড়যন্ত্র প্রতিহত করার ঘোষণা ৫ ইসলামি ধারার ব্যাংকের চাকরিচ্যুতদের সাইপ্রাসে উদ্ধার মরদেহটি নিখোঁজ বাংলাদেশি ছাত্রের হতে পারে গুম ও গণহত্যার বিচারের দাবিতে মঙ্গলবার ১১ দলের সমাবেশ সুস্ময়ের আন্তর্জাতিক অলিম্পিয়াডে মেডেল জয় গাছের গায়ে যে কারণে সাদা রং দেওয়া হয় সাময়িক বন্ধের পর চালু মস্কোর ৪ বিমানবন্দর বেসরকারি সংস্থায় চাকরির সুযোগ দুর্নীতির মামলায় বিচারের মুখোমুখি স্পেনের প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রী এমবাপ্পেকে থামাতে ইরাকের ৩ গোলরক্ষক খেলানোর ইচ্ছায় সাড়া দেয়নি ফিফা কওমি তরুণদের বাজেট ভাবনা শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠক ফরিদপুরে বাসচাপায় নিহত ১ চলন্ত বাইকে ইটের আঘাতে আহত সেই যুবকের মৃত্যু অস্ট্রিয়াকে নিয়ে সতর্ক স্কালোনি

শেষ হলো ডাকসু নির্বাচনের মনোনয়নপত্র বিতরণ প্রকাশ্যে এলো ১০ প্যানেল

প্রকাশ: ১৮ আগস্ট ২০২৫, ০৯:১০ পিএম
আপডেট: ১৯ আগস্ট ২০২৫, ০৯:১৫ এএম
প্রকাশ্যে এলো ১০ প্যানেল
ডাকসুর প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন প্রেস বিফিংয়ের মাধ্যমে সর্বশেষ তথ্য তুলে ধরেন। ছবি: খবরের কাগজ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনের মনোনয়ন বিতরণ শেষ হয়েছে। যার ফলে বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিয়ে প্রায় ১০টি প্যানেল প্রকাশ্যে এসেছে। আজ সোমবার (১৮ আগস্ট) মনোনয়ন বিতরণের শেষ দিনে ৪৪২ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। এছাড়া এখন পর্যন্ত ডাকসু নির্বাচনে বিভিন্ন পদে ৫৬৫ জন এবং ১৮ হলের হল সংসদ নির্বাচনে বিভিন্ন পদে ১ হাজার ২২৬ জন প্রার্থী মনোনয়ন সংগ্রহ করেছেন। 

সোমবার (১৮ আগস্ট) সন্ধ্যায় নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনের তৃতীয় তলায় অবস্থিত চিফ রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ের সামনে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন।

তিনি বলেন, ‘সপ্তম দিনে ডাকসুর বিভিন্ন পদে জন মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছে ৪৪২টি। এখন পর্যন্ত ৭ দিনে ডাকসুতে মোট মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন ৫৬৫ জন এবং হল সংসদে মোট মনোনয়ন সংগ্রহ করেছে ১ হাজার ২২৬ জন। এর মধ্যে ভিপি, জিএস, এজিএস, সম্পাদক এবং সদস্য পদে কতজন তা এখনো নির্ণয় করা হয়নি।’

প্রার্থী ও ভোটার তালিকায় অপরাধী থাকলে বাদ পড়বেন এমন প্রসঙ্গে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘এখানে কেউ কোনো দলীয় পরিচয়ে মনোনয়ন নেয়নি। ভোট গ্রহণের আগের দিন পর্যন্ত কোনো প্রার্থীর নাম অপরাধীর তালিকায় পাওয়া গেলে তাকে প্রার্থিতা থেকে বাদ দেওয়ার সুযোগ আছে।’

প্রকাশ্যে এলো ১০ প্যানেল, শেষ দিনে মনোনয়ন নিতে ভিড়

মনোনয়ন সংগ্রহের শেষ দিনে বামপন্থী ছাত্রসংগঠন জোটসহ ৮টি ছাত্র সংগঠন এবং স্বতন্ত্র মিলিয়ে ১০টি প্যানেল প্রকাশ্যে এসেছে। মনোনয়ন বিতরণের শেষদিন সোমবার ইসলামী ছাত্রশিবির ২৮ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ প্যানেল ঘোষণা করে মনোনয়ন সংগ্রহ করেন। এছাড়া ছাত্রদল, ইসলামী ছাত্র আন্দোলন, বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ, বাম ছাত্রজোট, বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন, স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংসদ, উমামা ফাতেমার নেতৃত্বে স্বতন্ত্র প্যানেল এবং জুবায়ের-মুসাদ্দেকের আংশিক প্যানেল থেকে মনোনয়ন সংগ্রহের মাধ্যমে প্রকাশ্যে আসে। তবে চূড়ান্ত ঘোষণার অপেক্ষায় রয়েছে ছাত্রদল, বামপন্থী ছাত্রজোট, স্বতন্ত্র প্রার্থী ও অন্যান্য সংগঠন। সংগঠনগুলো বলছে, আগামীকাল মঙ্গলবারের মধ্যে সবকিছু চূড়ান্ত ঘোষণা চলে আসবে।

মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ শেষে শিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল নূরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, ‘আমরা একটি ইনক্লুসিভ প্যানেল দেওয়ার চেষ্টা করেছি। বিশেষ করে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন, নারী, অন্যান্য ধর্মালম্বীর পাশাপাশি জুলাই আন্দোলন ও ফ্যাসিবাদী সময়ে শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ে কথা বলতে গিয়ে আক্রমণের শিকার হয়েছেন, এমন শিক্ষার্থীদের আমাদের প্যানেলে রাখা চেষ্টা করেছি। আমরা আশা করব, ডাকসু নির্বাচনের যে সময়সীমা নির্ধারিত করছে সেই সময়েই মধ্যে চমৎকার এবং আনন্দঘন নির্বাচন উপহার দেবেন।’

প্যানেলে শিবিরের কতজন, নারীসহ অন্য প্লাটফর্মের কতজন? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ঢাবি শাখার শিবিরের এস এম ফরহাদ বলেন, ‘আমরা টোটাল সংখ্যা ডিভার (আলাদা করা) করতে চাচ্ছি না। আমরা প্রত্যেকে এখানে শিক্ষার্থী; এখানে শিবির কতজন, অন্য প্লাটফর্মের কতজন এটি বলতে চাইছি না। এখানে সকল শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত প্রয়াসেই এই প্যানেলটি দেওয়া হয়েছে। শীঘ্রই আমরা আমাদের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করব।’

বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি বিন ইয়ামিন মোল্লা বলেন, ‘আমাদের প্যানেলের নাম হচ্ছে ডাকসু ফর চেঞ্জ, ভোট ফর চেঞ্জ এবং স্লোগান হচ্ছে, নো মোর ডার্টি পলিটিক্স, নো মোর ভায়োলেন্স, মেইক দ্যা ডাকসু একাডেমিক এক্সিলেন্স। কারণ, আমরা আর বিগত দিনের লেজুড়বৃত্তি, পেশিশক্তি ও দখলদারত্বের রাজনীতিতে ফিরে যেতে চাই না। আমরা শিক্ষার্থীদের কমিটমেন্ট করছি, আমরা যদি ম্যানডেট পাই, আমরা হল ও একাডেমিক এরিয়াতে ছাত্ররাজনীতির সাংগঠনিক কমিটি আমরা দিতে দেব না। একই সঙ্গে এর পাশাপাশি আমাদের ভিশন হচ্ছে: ওয়ান স্টুডেন্ট, ওয়ান বেড, ওয়ান টেবিল; আমরা সেটি নিয়ে কাজ করতে চাই।’

আগামীকাল মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) প্যানেল ঘোষণার কথা জানিয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক মুখপাত্র উমামা ফাতেমা বলেন, ‘আমরা যোগ্যতা দেখে মঙ্গলবার পূর্ণাঙ্গ প্যানেল ঘোষণা করব। আমরা শিক্ষার্থীবান্ধব একটি ডাকসু প্যানেল ঘোষণা করব।

আলাদাভাবে মনোনয়ন নিলেন ছাত্রদল নেতারা, চূড়ান্ত হয়নি প্যানেল
 শেষ দিনেও নিজেদের পূর্ণাঙ্গ প্যানেল ঘোষণা করতে পারেনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। সংগঠনটির একাধিক নেতাকে আলাদা আলাদাভাবে মনোনয়ন ফরম নিতে দেখা গেছে। ওই দিন কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোমিনুল ইসলাম জিসান; ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবিদুল ইসলাম খান; জিএস পদে সূর্যসেন হল ছাত্রদলের সদস্য সচিব আবিদুর রহমান মিশু, ঢাবি ছাত্রদলের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক জারিফ রহমান, কবি জসীম উদ্দীন হল ছাত্রদলের আহ্বায়ক তানভীর বারী হামিম; এজিএস পদে বিজয় একাত্তর হল ছাত্রদলের আহ্বায়ক তানভীর আল হাদী মায়েদসহ কয়েকজন মনোনয়ন নিয়েছেন।

মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ শেষে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবিদুল ইসলাম খান বলেন, ‘আমরা এখন শুধু মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করছি। তবে কারা কোন পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন, সেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেবেন। কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই ডাকসুতে ছাত্রদলের প্যানেল গঠিত হবে।’

মনোনয়ন সংগ্রহের সময় কবি জসীম উদ্দীন হল ছাত্রদলের আহ্বায়ক তানভীর বারী হামিম সংগ্রহের সময় শতাধিক নেতাকর্মী নিয়ে স্লোগান দেন। বিষয়টি নির্বাচন আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ হিসেবে দেখা হয়েছে। যদিও এমন কর্মকাণ্ডে পরবর্তীতে সকলকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার।

ডাকসুতে লড়ছেন যারা

ইসলামী ছাত্রশিবির ২৮ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ প্যানেল ঘোষণা করেছে। ঘোষিত প্যানেলে ভিপি পদে আছেন সাদিক কায়েম, জিএস পদে এস এম ফরহাদ এবং এজিএস পদে মহিউদ্দিন খান। এছাড়া মুক্তিযুদ্ধ ও গণআন্দোলন পদে যুক্ত হয়েছেন ইনকিলাব মঞ্চের ফাতিমা তাসনীম জুমা, আন্তর্জাতিক সম্পাদক পদে রয়েছেন জুলাই আন্দোলনে চোখ হারানো খান জসীম। সদস্য পদে লড়বেন সর্ব মিত্র চাকমা ও দৃষ্টি প্রতিবন্ধী রাইসুল ইসলাম।

ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ গত ৭ আগস্ট সম্ভাব্য প্যানেল ঘোষণা করে। ভিপি পদে ইয়াসিন আরাফাত, জিএস পদে খায়রুল আহসান মারজান এবং এজিএস পদে সাইফ মুহাম্মদ আলাউদ্দিন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বলে জানানো হয়। তবে অন্য সংগঠন বা স্বতন্ত্রদের সঙ্গে সংযুক্ত প্যানেলে যেতে পারেন তারা। বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ থেকে ভিপি পদে সংগঠনটির ঢাবি শাখার আহ্বায়ক আবদুল কাদের, জিএস পদে কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক আবু বাকের মজুমদার, কেন্দ্রীয় মুখপাত্র আশরেফা খাতুন এজিএস, কেন্দ্রীয় মুখ্য সংগঠক তাহমিদ আল মুদ্দাসসির আন্তর্জাতিক সম্পাদক পদে লড়বেন। 

ছাত্র অধিকার পরিষদের কয়েকটি পদ বাদে বাকি পদগুলোতে চূড়ান্ত প্যানেল ঘোষণা করেছে ছাত্র অধিকার পরিষদ। সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি বিন ইয়ামিন মোল্লা সহ-সভাপতি পদে এবং সাবিনা ইয়াসমিন সাধারণ সম্পাদক পদে লড়বেন বলে জানান। এছাড়া এজিএস পদে লড়বেন সংগঠনটির ঢাবি শাখার সদস্য সচিব রাকিবুল ইসলাম। এ প্যানেলের নাম হবে ‘ডাকসু ফর চেঞ্জ’ এবং তাদের। বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন আংশিক প্যানেল থেকে ডাকসু নির্বাচনে অংশ নেবে ছাত্র ফেডারেশন। সংগঠনটির ঢাবি শাখার আহ্বায়ক আরমানুল হক এজিএস, সাকিবুর রনি স্বাস্থ্য ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক, সীমা আক্তার সমাজসেবা সম্পাদক পদে লড়বেন।

স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংসদ ‘ডিইউ ফার্স্ট’ নামে প্যানেল ঘোষণা করেছে। ভিপি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন জামালুদ্দীন মোহাম্মদ খালিদ এবং জিএস পদে মাহীন সরকার। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক মুখপাত্র উমামা ফাতেমা স্বতন্ত্র প্যানেলের ঘোষণা দিয়েছেন। ভিপি পদে তিনি নিজে, জিএস পদে সাংবাদিক সমিতির সাবেক সভাপতি আল সাদী ভূঁইয়া এবং এজিএস পদে বর্তমান সভাপতি মহিউদ্দিন মুজাহিদ মাহী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। এ প্যানেলের সম্ভাব্য নাম হতে পারে স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী ঐক্য। 

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক মুখ্য সমন্বয়ক এবি জুবায়ের ও জুলাই ঐক্যের সংগঠক মুসাদ্দেক আলী ইবনে মুহাম্মদ আংশিক স্বতন্ত্র প্যানেলের ঘোষণা দিয়েছেন। সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে মুসাদ্দেক এবং সমাজসেবা সম্পাদক পদে জুবায়ের মনোনয়ন নিয়েছেন।

জোটবদ্ধ হয়ে লড়বেন বামপন্থীরা

বামপন্থি ছাত্র সংগঠনগুলোর সমন্বিত জোট গণতান্ত্রিক ছাত্রজোটের নেতাকর্মীরা। মনোনয়ন সংগ্রহ করলেও এখন পর্যন্ত প্যানেলের নাম ঘোষণা করেনি। জোটের পক্ষ থেকে ভিপি পদে মনোনয়ন নিয়েছেন শামসুন্নাহার হল ছাত্র সংসদের সাবেক ভিপি শেখ তাসনিম আফরোজ ইমি এবং জিএস ছাত্র ইউনিয়নের ঢাবি সভাপতি মেঘমল্লার বসু।

প্যানেল ঘোষণা করেন বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক এবং এজিএস পদপ্রার্থী জাবির আহমেদ জুবেল বলেন, ‘ছাত্র ইউনিয়ন, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট, বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী, ছাত্র কাউন্সিল, ছাত্র যুব আন্দোলন, পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ ও গণতান্ত্রিক ছাত্র মঞ্চ ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিয়ে তাদের প্যানেল করা হয়েছে। কিছু পদে ইতোমধ্যে নাম ঘোষণা করা হয়েছে এবং বাকি পদগুলোতে জোটের কারা কারা প্রার্থী হতে যাচ্ছেন, সেটি মঙ্গলবার প্রকাশ করা হবে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়েছে।’

৬ দাবি বাম জোটের

ভোটের অন্তত ১৫ দিন আগে পরীক্ষা স্থগিত করাসহ ছয় দাবি জানিয়েছে, ছাত্র সংগঠনগুলোর সমন্বিত জোট গণতান্ত্রিক ছাত্রজোট। মনোনয়ন সংগ্রহ শেষে সংবাদমাধ্যমে কথা বলার সময় দাবিগুলো তুলে ধরেন ছাত্র ইউনিয়নের ঢাবি শাখার সভাপতি মেঘমল্লার বসু।

দাবিগুলো হলো- আওয়ামী শাসনামলে শিক্ষার্থী নিপীড়নের সঙ্গে জড়িতদের তালিকা প্রকাশ করে অনতিবিলম্বে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করতে হবে। সব নিপীড়কের প্রার্থিতা বাতিল করতে হবে; জুলাই অভ্যুত্থান চলাকালে ছাত্র হত্যার পক্ষে সম্মতি উৎপাদনকারী নীল দলের শিক্ষকদের বিভিন্ন হলের প্রাধ্যক্ষ পদ থেকে অপসারণ করতে হবে; বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোতে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার ও নির্বাচনি প্রচারণার নিয়ম-নীতি কী হবে, সেই বিষয়ে রূপরেখা প্রণয়ন কমিটিকে অবিলম্বে স্পষ্ট নির্দেশনা দিতে হবে; ডাকসু নির্বাচনে শিক্ষার্থীদের সর্বোচ্চ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে নির্বাচনের অন্তত ১৫ দিন আগে থেকে সব পরীক্ষা স্থগিত করতে হবে ও নির্বাচনের দিন অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে বাড়তি পরিবহনের ব্যবস্থা করতে হবে। ভোটকেন্দ্রের অপার্যপ্ততা দূর করতে হবে; অনলাইনভিত্তিক গুজব ও ডিসইনফরমেইশানের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে শক্ত ব্যবস্থা নিতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম ব্যবহার করে খোলা অথচ গুজব ও কুৎসা ব্যবহার করে একটি রাজনৈতিক গোষ্ঠীর এজেন্ডা বাস্তবায়নরত সব গ্রুপ ও পেইজের বিরুদ্ধে প্রশাসনকে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে এবং ক্যাম্পাসে নানা বিষয়কে কেন্দ্র করে ‘মব’ পরিস্থিতি তৈরি হলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তা কীভাবে মোকাবিলা করবে, তার সুনির্দিষ্ট রূপরেখা প্রণয়ন করতে হবে।

মনোনয়নপত্র বিক্রিতে আয় এবং হলগুলোতে যে পরিমাণ সংগ্রহ

ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনের সবমিলিয়ে মনোনয়নপত্র বিক্রি হয়েছে ১ হাজার ৭৯১টি। ডাকসুর ২৮টি পদের বিপরীতে মোট ৫৬৫টি মনোনয়নপত্র বিক্রি হয়েছে। আর হল সংসদ নির্বাচনের জন্য ১৮টি হলে বিক্রি হয়েছে ১ হাজার ২২৬টি মনোনয়নপত্র। ডাকসু প্রতি মনোনয়ন বিক্রি হয়েছে ৩শ এবং হল সংসদে প্রতি মনোনয়ন বিক্রি হয়েছে ২শ টাকায়। সেই হিসেবে মনোনয়ন থেকে মোট আয় ১ লাখ ৬৯ হাজার ৫০০ টাকা, ১৮ হলের সংসদ নির্বাচনের মনোনয়ন ফরম বিক্রিতে মোট আয় ২ লাখ ৪৫ হাজার ২০০ টাকা। সবমিলিয়ে ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনে মোট মনোনয়নপত্র বিক্রি হয়েছে ৪ লাখ ১৪ হাজার ৭০০ টাকার।

এদিকে হলভিত্তিক মনোনয়নপত্র সংগ্রহের পরিসংখ্যান অনুযায়ী ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হলে সর্বাধিক ৯৭ জন এবং বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হলে সর্বনিম্ন ২৯ জন মনোনয়নপত্র নিয়েছেন। এছাড়া সলিমুল্লাহ মুসলিম হলে ৭১ জন, জগন্নাথ হলে ৬৬ জন, ফজলুল হক মুসলিম হলে ৭৮ জন, শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলে ৯৩ জন, রোকেয়া হলে ৪৬ জন, সূর্যসেন হলে ৯০ জন, হাজী মুহম্মদ মুহসীন হলে ৭৪ জন, শামসুন নাহার হলে ৩৭ জন, কবি জসীম উদ্দীন হলে ৭৪ জন, মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হলে ৮৭ জন, শেখ মুজিবুর রহমান হলে ৬৯ জন, শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলে ৩০ জন, অমর একুশে হলে ৮৪ জন, কবি সুফিয়া কামাল হলে ৪০ জন, বিজয় একাত্তর হলে ৮৮ জন এবং স্যার এ এফ রহমান হলে ৭৩ জন মনোনয়নপত্র নিয়েছেন।

ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহে মব সৃষ্টি করা বাঁধা অভিযোগ ছাত্রদলের

বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহে মব সৃষ্টি করা বাঁধা অভিযোগ তুলেছে ঢাবি শাখা ছাত্রদল। এ নিয়ে সোমবার সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুরক্যান্টিনে সংবাদ সম্মেলনে করে সংগঠনটি। এছাড়া প্রধান নির্বাচন কমিশনার বরাবর অভিযোগপত্র দেওয়া হয়।

মধুরক্যান্টিনে সংবাদ সম্মেলনে করে ঢাবি শাখা ছাত্রদল। ছবি: খবরের কাগজ

অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, ‘ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের কয়েকজন শিক্ষার্থী নিজ হল সংসদের রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় হতে ফরম সংগ্রহ করতে গেলে, আমাদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ অনুযায়ী প্রশাসনের ভূমিকা পালন করা একদল শিক্ষার্থী আমাদের সকল আশঙ্কাকে বাস্তব প্রমাণ করে একটি বিশৃঙ্খল মব সৃষ্টি করে ওই হলের কয়েকজন শিক্ষার্থীর উপর হামলা করার চেষ্টা করে এবং মনোনয়ন ফরম সংগ্রহে বাধা সৃষ্টি করে।’

অভিযোগপত্রে নিরপেক্ষ নির্বাচনের লক্ষ্যে সকলের জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিতের ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করে জড়িত সকলকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা বিষয়ক সকল আইন ও নির্বাচন কমিশনের সুনির্দিষ্ট আচরণবিধি অনুসারে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি জানানো হয়।

এ নিয়ে যোগাযোগ করা হলে গতকাল সোমবার রাত সোয়া ৮টার দিকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন খবরের কাগজকে বলেন, ‘আমরা এ নিয়ে মিটিংয়ে বসেছি। মিটিংয়ে সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দেখা যাক কি করা যায়।’

মনোনয়নপত্র জমাদান শেষ কাল

ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনের তফসিল অনুযায়ী আগামীকাল মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) বিকাল ৩টার মধ্যে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমা দিতে হবে।

প্রসঙ্গত, ডাকসুর ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী মনোনয়নপত্র বাছাই শেষে ২১ আগস্ট প্রাথমিক প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশিত হবে। চার দিনের মধ্যে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষে ২৬ আগস্ট প্রার্থীদের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ এবং সবশেষ ৯ সেপ্টেম্বর সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবার কথা রয়েছে।

আরিফ জাওয়াদ/মাহফুজ

 

সুস্ময়ের আন্তর্জাতিক অলিম্পিয়াডে মেডেল জয়

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ০১:১৭ পিএম
সুস্ময়ের আন্তর্জাতিক অলিম্পিয়াডে মেডেল জয়
পুরস্কার মঞ্চে সুষ্ময় বড়ুয়া।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মেধার স্বাক্ষর রেখে চলেছেন চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার ইছামতী গ্রামের কৃতিশিক্ষার্থী সুস্ময় বড়ুয়া সপ্ত। গণিত ও ইংরেজি অলিম্পিয়াডে অসামান্য সাফল্য অর্জন করে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকাকে গর্বিত ও সমুন্নত করেছেন তরুণ এই মেধাবী।
শিশুদের মানসিক গণিত দক্ষতা, একাগ্রতা ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশের বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠান ‘অ্যালোহা মেন্টাল অ্যারিথমেটিক’ বিশ্বের ৪০টিরও বেশি দেশে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। প্রতি বছর সংস্থাটি বিশ্বজুড়ে তাদের সেরা শিক্ষার্থীদের নিয়ে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার আয়োজন করে।
এরই অংশ হিসেবে, ঢাকার ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) অনুষ্ঠিত ‘অ্যালোহা বাংলাদেশ জাতীয় প্রতিযোগিতা’য় অংশ নেয় সুস্ময় বড়ুয়া সপ্ত। দেশজুড়ে আসা প্রায় ৩,৫০০ প্রতিযোগীর মধ্যে অসাধারণ মেধার পরিচয় দিয়ে সে মর্যাদাপূর্ণ ‘গ্র্যান্ড চ্যাম্পিয়ন’ খেতাব অর্জন করে। এই অসামান্য সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ অ্যালোহা বাংলাদেশের পক্ষ থেকে তাকে নগদ অর্থ ও বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়।
জাতীয় পর্যায়ের এই গৌরবময় বিজয়ের পর, সুস্ময় আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পায়। বিশ্বের ১৭টি দেশের সেরা মেধাবীদের সঙ্গে লড়াই করে সে তৃতীয় রানার-আপ হওয়ার গৌরব অর্জন করে। বিশ্বমঞ্চে তার এই সাফল্য বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার পাশাপাশি তার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ‘অ্যালোহা ম্যাথ কুমিল্লা শাখা’র জন্য বয়ে এনেছে বিপুল গৌরব। পরবর্তীতে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকেও তাকে বিশেষ সংবর্ধনা ও পুরস্কার দেওয়া হয়।
সুস্ময় বর্তমানে দেশের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুলের দশম শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র। গণিতে পারদর্শিতার পাশাপাশি ইংরেজি ভাষা প্রতিযোগিতা এবং আন্তর্জাতিক অলিম্পিয়াডগুলোতেও সে সমানভাবে সফল ও প্রশংসিত।
এর আগে, যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক ইংরেজি অলিম্পিয়াডের চূড়ান্ত পর্বে অংশ নেওয়ার জন্য সুস্ময় আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ পেলেও ভিসা-সংক্রান্ত জটিলতার কারণে সশরীরে সেখানে যেতে পারেনি। তবে এ প্রতিকূলতা তার পথ আগলে দাঁড়াতে পারেনি। অদম্য সুস্ময় অনলাইন আন্তর্জাতিক পরীক্ষায় অংশ নিয়ে অর্জন করে মর্যাদাপূর্ণ ‘সিলভার মেডেল’ (রৌপ্য পদক), যা বাংলাদেশের জন্য আরও একটি আন্তর্জাতিক সম্মান বয়ে আনে।
পরবর্তীতে সে জাপান এবং যুক্তরাজ্য-উভয় দেশের আন্তর্জাতিক অলিম্পিয়াডের চূড়ান্ত পর্বের জন্য কোয়ালিফাই করে। তবে দুটি ইভেন্টের সময়সূচি খুব কাছাকাছি হওয়ায় তাকে যেকোনো একটি দেশ বেছে নিতে হয়। সুস্ময় যুক্তরাজ্যের লন্ডনে অনুষ্ঠিতব্য মর্যাদাপূর্ণ আন্তর্জাতিক অলিম্পিয়াডকে অগ্রাধিকার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। ইতোমধ্যে সে অফিশিয়াল আমন্ত্রণপত্র হাতে পেয়েছে এবং বর্তমানে লন্ডনে যাওয়ার জোর প্রস্তুতি চালাচ্ছে।
সুস্ময় বড়ুয়া সপ্ত চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার ইছামতী গ্রামের এক শিক্ষানুরাগী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা প্রকৌশলী রিটন বড়ুয়া গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনস্থ প্রতিষ্ঠান ‘বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষ’ (বেপজা)-এ সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত আছেন। তার মা শর্মিলা বড়ুয়া চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স (এমএ) ডিগ্রি অর্জন করেছেন।
সুস্ময় বড়ুয়া সপ্তর এই আন্তর্জাতিক অর্জন বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের জন্য এক অনুপ্রেরণাদায়ক দৃষ্টান্ত। তার পরিবার, শিক্ষক, শুভাকাঙ্ক্ষী এবং দেশবাসী আশা করছেন যে তার আসন্ন লন্ডন সফর সফল হবে এবং সে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের জন্য আরও গৌরব ও স্বীকৃতি বয়ে আনবে।
পড়াশোনার পাশাপাশি সুস্ময় ‘বিশ্বমঞ্চজয়ী সপ্ত’ নামে একটি ফেসবুক পেজ পরিচালনা করেন। সেখানে তিনি নিজের শিক্ষা ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার অভিজ্ঞতা শেয়ার করার পাশাপাশি সময় ও সুযোগ অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে অনলাইন ক্লাস এবং দিকনির্দেশনামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকেন।

নারী নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক মঞ্চে রুয়েটের দিপা

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ০৮:৪৬ এএম
আপডেট: ২২ জুন ২০২৬, ০৯:২৮ এএম
নারী নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক মঞ্চে রুয়েটের দিপা
ছবি: খবরের কাগজ

নারী নেতৃত্ব ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে আন্তর্জাতিক গুরুত্বপূর্ণ এক মঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) সাবেক শিক্ষার্থী সুমাইয়া আখতার দিপা। নারী নেতৃত্ব বিকাশের আন্তর্জাতিক উদ্যোগ ‘শক্তিকন্যা’ কর্মসূচির শীর্ষ পারফর্মার হিসেবে তিনি সম্প্রতি শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত ‘উই-পাওয়ার’ এর চতুর্থ আঞ্চলিক সম্মেলনে অংশ নেন।

দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের জ্বালানি খাতের পেশাজীবী, শিক্ষাবিদ ও তরুণ নেতাদের অংশগ্রহণে আয়োজিত এ সম্মেলনে বাংলাদেশ থেকে সাতজন প্রতিনিধি অংশ নেন। তাদের মধ্যে রুয়েট থেকে একমাত্র প্রতিনিধি ছিলেন দিপা। সম্মেলনে তিনি নারীর নেতৃত্ব, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং আঞ্চলিক সহযোগিতাসহ বিভিন্ন অধিবেশনে অংশ নিয়ে বাংলাদেশের সম্ভাবনাকে তুলে ধরেন।

রুয়েটের তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল (ইইই) বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন দিপা। বর্তমানে তিনি জেড এইচ শিকদার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের একই বিভাগের প্রভাষক হিসেবে কর্মরত আছেন।

গত ৪ ও ৫ জুন শ্রীলঙ্কার নেগোম্বো শহরে অনুষ্ঠিত হয় উই-পাওয়ারের চতুর্থ আঞ্চলিক সম্মেলন। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে আয়োজিত এ সম্মেলনের মূল আলোচ্য বিষয় ছিল নবায়নযোগ্য জ্বালানি, নারীর নেতৃত্ব, পেশাগত দক্ষতা উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা।

সম্মেলনের বিভিন্ন অধিবেশনে অংশ নিয়ে দিপা দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। জ্বালানি খাতের ভবিষ্যৎ, নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধি এবং নেতৃত্ব বিকাশের নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ পান। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নতুন পেশাগত যোগাযোগ ও সহযোগিতার ক্ষেত্রও তৈরি হয়।

সম্মেলনের অংশ হিসেবে প্রতিনিধিরা শ্রীলঙ্কার পুত্তালাম অঞ্চলে অবস্থিত একটি বায়ুশক্তিভিত্তিক নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শন করেন। সেখানে আধুনিক নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রযুক্তির ব্যবহার, পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে সরাসরি ধারণা লাভ করেন তারা। প্রযুক্তিনির্ভর ভবিষ্যৎ জ্বালানিব্যবস্থার বাস্তব চিত্র দেখার এ সুযোগ অংশগ্রহণকারীদের জন্য ছিল বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।

নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে সুমাইয়া আখতার দিপা বলেন, ‘শক্তিকন্যা আমার জন্য শুধু একটি প্রশিক্ষণ কর্মসূচি নয়, এটি আত্মবিশ্বাস ও নেতৃত্ব বিকাশের এক অনন্য যাত্রা। শীর্ষ পারফর্মার হিসেবে উই-পাওয়ারের আঞ্চলিক সম্মেলনে অংশগ্রহণের সুযোগ পাওয়া ছিল অত্যন্ত গর্বের।’

তিনি বলেন, ‘দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, নেতৃত্ব ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করার অভিজ্ঞতা আমাকে সমৃদ্ধ করেছে। এ অভিজ্ঞতা আমার পেশাগত ও ব্যক্তিগত জীবনে দীর্ঘদিন অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে।’

বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষে নোবিপ্রবিতে উৎসবের আমেজ

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬, ১০:১৬ এএম
বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষে নোবিপ্রবিতে উৎসবের আমেজ
ছবি: খবরের কাগজ

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উদযাপন উপলক্ষে আগামী ২২ জুন বর্ণিল আলোকসজ্জায় সেজেছে পুরো ক্যাম্পাস। দিবসটিকে ঘিরে প্রশাসনের উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, একাডেমিক ভবন, প্রশাসনিক ভবন, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ও সড়কগুলোতে দৃষ্টিনন্দন আলোকসজ্জা করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয় দিবসকে স্মরণীয় করে রাখতে নেওয়া হয়েছে নানা আয়োজন। দিবস উপলক্ষে ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় করা হয়েছে বর্ণিল আলোকসজ্জা এবং পুরো ক্যাম্পাসজুড়ে চলছে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘চিত্রকৃৎ’ অডিটোরিয়ামের সামনে নান্দনিক আলপনা এঁকে অতিথিদের স্বাগত জানানোর প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।

সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে রঙিন আলোর ঝলকানিতে প্রাণচঞ্চল হয়ে ওঠে পুরো ক্যাম্পাস। আলোকসজ্জায় নতুন রূপ পাওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্থানে শিক্ষার্থীদের ভিড় লক্ষ্য করা যায়। অনেকেই স্মরণীয় মুহূর্তগুলো ক্যামেরাবন্দি করতে ছবি তোলায় ব্যস্ত সময় পার করেন। উৎসবমুখর পরিবেশে বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের আনন্দ ছড়িয়ে পড়ে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে।

এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৩ জন শিক্ষার্থী ও ২৬ জন শিক্ষককে ডিনস অ্যাওয়ার্ড এবং ৩ জন শিক্ষককে ভাইস-চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হবে। গবেষণা, প্রকাশনা ও একাডেমিক উৎকর্ষতায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে প্রতিবছর এ সম্মাননা প্রদান করা হয়। 

শিক্ষার্থীরা জানান, আলোকসজ্জায় ক্যাম্পাসের সৌন্দর্য বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে রাতের বেলায় বিশ্ববিদ্যালয়কে আরও প্রাণবন্ত ও উৎসবমুখর মনে হচ্ছে। এমন আয়োজন শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের আনন্দকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

শিক্ষা বিভাগের শিক্ষার্থী তৌহিদুর রহমান বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় দিবস আমাদের জন্য শুধু একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, এটি আমাদের আবেগ ও গর্বের দিন। দিবসটি উপলক্ষে ক্যাম্পাসে যে আলোকসজ্জা করা হয়েছে, তা সত্যিই দৃষ্টিনন্দন। রাতে ক্যাম্পাসের সৌন্দর্য কয়েকগুণ বেড়ে গেছে।’

আরেক শিক্ষার্থী সুহানা নুর বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় দিবসকে কেন্দ্র করে পুরো ক্যাম্পাসে উৎসবের আমেজ তৈরি হয়েছে। আলোকসজ্জার কারণে ক্যাম্পাসকে অনেক বেশি আকর্ষণীয় লাগছে। দিনের তুলনায় রাতের ক্যাম্পাস এখন একেবারেই ভিন্ন রূপ ধারণ করেছে। বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরে ঘুরে আলোকসজ্জা উপভোগ করছি এবং ছবি তুলছি।’

নোবিপ্রবি উপ-উপাচার্য ও রিসার্চ সেলের পরিচালক অধ্যাপক ড. শফিকুল ইসলাম বলেন, এবার সাতটি অনুষদের মোট ২২ জন শিক্ষার্থী ও ২৬ জন শিক্ষক ডিনস এ্যাওয়ার্ড ও তিন জন শিক্ষক ভাইস-চ্যান্সেলর পাবেন। বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে ভিডিও ডকুমেন্টারি ও অতিথিরা বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা উদ্বোধন করবেন। এছাড়াও বিকেল থেকে রাত ১০ টা পর্যন্ত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এসব আয়োজনের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের গৌরবময় পথচলা ও অর্জনগুলো নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরা হবে।

কাউসার আহমেদ/অন্তরা

রাবি প্রেসক্লাবের সভাপতি ধ্রুব-সম্পাদক জিসান

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ০৮:৩৯ পিএম
রাবি প্রেসক্লাবের সভাপতি ধ্রুব-সম্পাদক জিসান
ধ্রুব-জিসান। ছবি: খবরের কাগজ

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) প্রেসক্লাবের ২০২৬-২৭ বর্ষের নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ও দৈনিক ইত্তেফাকের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক আশিকুল ইসলাম ধ্রুবকে সভাপতি ও একই বিভাগের একই বর্ষের আরেক শিক্ষার্থী ও ঢাকা পোস্টের প্রতিবেদক জুবায়ের জিসানকে সাধারণ সম্পাদক করে ১৩ সদস্যবিশিষ্ট কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন করা হয়েছে।

শনিবার (২০ জুন ) বেলা ৩টায় সংগঠনটির নিজস্ব কার্যালয়ে নির্বাচন প্রক্রিয়া শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে ফল ঘোষণা করেন সংগঠনটির প্রধান উপদেষ্টা ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. মো. ফজলুল হক।

কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন-  সহ-সভাপতি ডেইলি ক্যাম্পাস ও মানবজমিনের প্রতিনিধি মারুফ হোসেন মিশন ও  দৈনিক ইনকিলাবের মিরাজ আফ্রিদি। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এনটিভি ও দৈনিক বনিক বার্তার আবু ছালেহ শোয়েব, কোষাধ্যক্ষ দৈনিক নয়াদিগন্তের প্রতিনিধি ফজলে রাব্বি পরশ, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক দৈনিক আমার দেশের প্রতিনিধি ফাহমিদুর রহমান ফাহিম , প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক দৈনিক কালবেলার প্রতিনিধি আজাহারুল ইসলাম মীর তুহিন, দপ্তর সম্পাদক দৈনিক মানবকণ্ঠের প্রতিনিধি আবু বকর অনিক ও ক্রীড়া সম্পাদক এশিয়া পোস্টের সৈয়দ হুজ্জাত উল্লাহ মাহিন।

এতে কার্যনির্বাহী সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন মানবকণ্ঠের মাল্টিমিডিয়া প্রতিনিধি বিপ্লব উদ্দিন, বাণিজ্য বার্তার প্রতিনিধি সামিয়া আক্তার ও জাগরণ নিউজের প্রতিনিধি  রাফাসান আলম।

ফলাফল ঘোষণার সময় আরও উপস্থিত ছিলেন- প্রেসক্লাবের সাবেক উপদেষ্টা অধ্যাপক আখতার হোসেন মজুমদার ও সদ্য বিদায়ী সভাপতি মনির হোসন মাহিন, মানবজমিনের রাজশাহী ব্যুরো প্রধান ডালিম হোসেন শান্ত।

শাকিবুল হাসান/রিফাত/

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে নবীনবরণ: উচ্ছ্বাসে ভরা প্রবেশিকা

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ০৯:১৯ এএম
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে নবীনবরণ: উচ্ছ্বাসে ভরা প্রবেশিকা
ছবি: খবরের কাগজ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের (৫৫তম ব্যাচ) স্নাতকের নবীন শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ অনুষ্ঠান উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার (১৯ জুন) বিকেল সাড়ে ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জহির রায়হান মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠানে নবীনবরণ অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নবীন শিক্ষার্থীদের ফুল, বিশ্ববিদ্যালয়ের ডায়েরি, ক্লাস ব্যাগ ও বার্ষিক ক্যালেন্ডার দিয়ে বরণ করে নেয়। বিভিন্ন অনুষদের প্রায় দুই হাজার নবীন শিক্ষার্থী এতে অংশ নেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন নবীনদের একাডেমিক পড়াশোনা ও গবেষণায় মনোযোগী হওয়ার পরামর্শ দেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবন, আবাসিক হল, নিরাপত্তা, অভ্যন্তরীণ রাস্তাসহ নানা সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেন। নবীন শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আশা-আকাঙ্ক্ষা জানতে চান এবং যথাসম্ভব সমাধানের প্রতিশ্রুতি দেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “কঠিন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীরা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়েছ। তোমরা এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে নিজেকে দেশের যোগ্য মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলবে বলে আমি বিশ্বাস করি।”

এর আগে ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের সামনে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন এবং প্রতিটি বিভাগের নবীন শিক্ষার্থীরা বাহারি রকমের গাছের চারা রোপণ করেন।

সভাপতির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান বলেন, “তোমরা কঠোর প্রতিযোগিতামূলক ভর্তি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মেধার স্বাক্ষর রেখে দেশের একমাত্র পূর্ণাঙ্গ আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্ণাঢ্য ও গৌরবময় ঐতিহ্যের অংশ হতে পেরে এক অনন্য সুযোগ লাভ করেছ। বিশ্ববিদ্যালয় কেবল উচ্চতর ডিগ্রি অর্জনের জায়গা নয়; এটি মুক্তবুদ্ধি চর্চা, সংস্কৃতি এবং আত্ম-আবিষ্কারের এক বিশাল মঞ্চও বটে।”

তিনি আরও বলেন, “এখানে তোমাদের এই নতুন পথচলাকে সফল করতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মনে রাখা জরুরি। আমরা চাই তোমরা শুধু পুঁথিগত বিদ্যায় শিক্ষিত না হয়ে, একজন মানবিক, নৈতিক ও দায়িত্বশীল সুনাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠো। সময়কে সঠিকভাবে কাজে লাগাও, নিয়মানুবর্তিতা মেনে চলো এবং নিজের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে অবিচল থাকো। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম-কানুন ও মূল্যবোধ মেনে চলে তোমরা এই প্রতিষ্ঠানের সম্মান আরও উজ্জ্বল করবে, এটাই আমার প্রত্যাশা।”

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. শামসুল আলম, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. নজরুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. আব্দুর রবসহ অন্যান্য শিক্ষকবৃন্দ।

আমান/এএফ