ঢাকা ৮ আষাঢ় ১৪৩৩, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
সাবেক এমপি সেলিমা আহমাদ মেরী মারা গেছেন টিভিতে আজকের খেলা চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে ভারতীয় ট্রাকের যন্ত্রাংশের চালান জব্দ, আটক ১ জুন মাসে ডিএমপির বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার ১৫৩৭ লেবাননে যেকোনো হুমকি নির্মূলে স্বাধীন ইসরায়েলি সৈন্যরা: কাটজ পদত্যাগের মুখে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এমপিপুত্র সজীবকে যুবদল থেকে বহিষ্কার ভাঙ্গুড়ায় বিএনপি নেতার মারধর, ৪ ঘণ্টা পর কৃষকের মৃত্যু সেনেগালের কঠিন পরীক্ষা, নরওয়ের চোখ নক আউটে যমুনা ফিউচার পার্কে ২ দিনের ‘কে-গুডস ফেস্টা’ মালয়েশিয়ায় ‘হালাল’ পণ্য রপ্তানির অপার সম্ভাবনা কাতারের ভয়াবহ বিস্ফোরণ: আহত ৫৪, নিখোঁজ ১৮ হাজারীবাগ থেকে হেমায়েতপুর পূর্ণতা পায়নি চামড়া শিল্পনগরী শরীফাতুন্নিছা মহিলা মাদরাসার অভিভাবক সম্মেলন ও বার্ষিক পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান কমিউনিটি ব্যাংকের ৭ম বার্ষিক সাধারণ সভা, নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা নিউজিল্যান্ডকে ৩-১ গোলে হারাল মিশর বর্ষা এলেই জলজট স্মার্টফোনের নতুন সেনসেশন ‘হেলিও ৪৬’ ইরান-যুক্তরাষ্ট্র একসঙ্গে কাজ করবে: জেডি ভ্যান্স দুপুরের মধ্যে ঝড়ের শঙ্কা, নদীবন্দরে সতর্কতা মালেশিয়ায় শ্রমবাজার খোলার আশা আছে জটিলতাও নায়ক হতে প্রস্তুত এমবাপ্পে সাতসকালে ঢাকার বায়ুমান নিয়ে দুঃসংবাদ রোনালদোকে পাস দেওয়ার জন্য খেলোয়াড়রা কি বাধ্য? বিশ্বকাপের মঞ্চে এমবাপ্পের ‘সেঞ্চুরি’, অনন্য এক ইতিহাসের সামনে ফরাসি মহাতারকা আজও মেসি জাদুর অপেক্ষায় বিশ্বকাপের মঞ্চে এমবাপ্পের ‘সেঞ্চুরি’, অনন্য এক ইতিহাসের সামনে ফরাসি তারকা নারী নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক মঞ্চে রুয়েটের দিপা নির্বিচারে হত্যাযজ্ঞ চালান জিয়াউল

রাকসু নির্বাচন: আচরণবিধির দুর্বলতাকে প্রচার কাজে লাগাচ্ছে ছাত্রশিবির

প্রকাশ: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৩:০৭ পিএম
আপডেট: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৩:৩৩ পিএম
রাকসু নির্বাচন: আচরণবিধির দুর্বলতাকে প্রচার কাজে লাগাচ্ছে ছাত্রশিবির
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচনের আচরণবিধিতে বলা হয়েছে, ‘প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত হওয়ার দিন থেকে ভোট গ্রহণের ২৪ ঘণ্টা আগ পর্যন্ত নির্বাচনি প্রচার চালানো যাবে। প্রচারের সময় সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত। প্রার্থী ও ভোটার ছাড়া অন্য কেউ কোনোভাবেই কোনো প্রার্থীর পক্ষে বা বিপক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় প্রচার চালাতে পারবেন না। নির্বাচনি প্রচারে শুধু সাদা-কালো পোস্টার ব্যবহার করা যাবে। ভবনের দেয়ালে লেখনী ও পোস্টার লাগানো যাবে না।’

ছাত্রনেতা ও প্রার্থীরা বলছেন, রাকসু নির্বাচনে একটি আচরণবিধি দেওয়া হয়েছে, তবে এটি পূর্ণাঙ্গ নয়। এখানে আরও অনেক কিছুই যোগ করতে হবে। তারা এটাকে একটি দুর্বল আচরণবিধি বলে মনে করছেন। আর এই সুযোগটাই নিচ্ছে ইসলামী ছাত্রশিবির। তারা প্রশাসনের নাকের ডগায় আচরণবিধির বাইরে গিয়ে প্রচার চালাচ্ছে। এমনকি শিক্ষার্থীদের নানা উপঢৌকন পর্যন্ত উপহার দিচ্ছে। যেগুলো সাধারণ বিবেচনায় আচরণবিধিতে নিষিদ্ধ থাকার কথা ছিল। নির্বাচন কমিশন ছাত্রশিবিরের এমন আচরণে নির্বিকার। তাই কমিশন কতটা স্বচ্ছভাবে রাকসু নির্বাচন সম্পন্ন করতে পারবে তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন প্রার্থী ও শিক্ষার্থীরা।

রাকসু, হল সংসদ এবং সিনেট ছাত্র প্রতিনিধি নির্বাচনের আর ১০ দিন বাকি। তফসিল অনুযায়ী মনোনয়নপত্র দাখিল, প্রত্যাহারের সময় শেষ হয়েছে। গতকাল চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশের কথা থাকলেও সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তালিকা প্রকাশ করা হয়নি। কিন্তু মনোনয়পত্র তোলার পর থেকেই বিভিন্ন হলে ছাত্রশিবিরের মনোনীত প্যানেল প্রার্থীরা আতর, পাম্পার, প্লেটসহ বিভিন্ন ‘উপঢৌকন’ বিতরণ করছেন বিভিন্ন হলে। তারা সেসব ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও প্রচার করছেন। অন্য প্রার্থীরা বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা করলেও নির্বিকার রাকসুর নির্বাচন কমিশন।

সর্বশেষ হোসেন শহিদ সোহরাওয়ার্দী হলে শিবিরের পক্ষ থেকে পানির ট্যাঙ্ক ও ফিল্টার দেওয়া হয়। পরে বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা শুরু হলে হল প্রাধ্যক্ষের নির্দেশে সেগুলো নামিয়ে ফেলা হয়েছে।

নির্বাচন কমিশন বলছে, আচরণবিধিতে খরচসংক্রান্ত বিষয়সহ আরও সংস্কার করা প্রয়োজন। হল প্রাধ্যক্ষদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যারা এই কাজগুলো করছে তাদের খোঁজ নিয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিতে বলা হয়েছে। পরিস্থিতি সাপেক্ষে আচরণবিধিতে আরও কিছু বিষয় সংযুক্ত করা হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কয়েকটি হলের প্রাধ্যক্ষের সঙ্গে এই প্রতিবেদকের কথা হয়েছে। তারা বলেছেন, ‘আমাদের কাছে সুস্পষ্ট কোনো অভিযোগ আসেনি।’ হলে কে কী দিয়েছেন সে বিষয়ে তারা খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেবেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজয়-২৪ হলে শিবিরের প্যানেল থেকে নেতৃত্বে থাকছেন রাসেল ও মেশকাত। তারা কয়েক দিন আগে হলের ডাইনিংয়ে কিছু প্লেট ক্রয় করে উপহার দেন। এর একটি ছবিও প্যানেলের ভিপি প্রার্থী রাসেল মিয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করেন। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের মতিহার হল সংসদে শিবির প্যানেল থেকে ভিপি প্রার্থী তাজুল এবং জিএস পদে আরিফ নির্বাচন করবেন। গত শনিবার প্যানেলের পক্ষ থেকে হলে বাইসাইকেলের পাম্পার উপহার দেন তারা। বিশ্ববিদ্যালয়ের সৈয়দ আমীর আলী হল সংসদে ভিপি পদপ্রার্থী নাঈম ইসলাম ও জিএস পদপ্রার্থী সাব্বির হোসাইন হলের রিডিং রুমে গত ৩০ আগস্ট ডিজিটাল ঘড়ি দিয়ে ফেসবুকে প্রচার চালান। নাঈম ইসলাম ওই হল শাখা শিবিরের সভাপতি এবং সাব্বির হোসাইন সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে রয়েছেন।

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ শিবিরের প্যানেল থেকে সহ-সভাপতি (ভিপি) পদে নির্বাচন করবেন। তিনি ছাত্রদের হলে হলে আকর্ষণীয় প্যাকেটে মুড়িয়ে আতর বিতরণ করেছেন। বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

এ ছাড়া শিবিরের প্যানেল থেকে বিভিন্ন হলের মসজিদে দেওয়া হচ্ছে বই, পুস্তিকা ও বুক শেলফ। এর নাম দেওয়া হচ্ছে ‘মসজিদভিত্তিক বুক কর্নার’। এভাবে হলে হলে ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীরা শিক্ষার্থীদের মনোরঞ্জন করার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ করেছেন অনেকে।

এসব অভিযোগের বিষয়ে শাখা ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি ও রাকসুর ‘সম্মিলিত শিক্ষার্থী জোটের’ ভিপি পদপ্রার্থী মোস্তাকুর রহমান জাহিদ বলেন, ‘আমরা আচরণবিধি অনুযায়ী নির্বাচনি প্রচার চালাচ্ছি। আমরা এটা মেনেই সামনের দিনগুলোতে প্রচার চালাব। আচরণবিধিতে টাকা খরচের নির্দিষ্টতা থাকলে আমরা সেটিও মেনেই প্রচার চালাতাম।’

তিনি আরও বলেন, ‘ইসলামিক আদর্শের সঙ্গে মিলে এমন উপহার আমরা আগেও শিক্ষার্থীদের মাঝে বিতরণ করেছি। আগে বহুবার আমরা কোরআন শরিফ বিতরণ করেছি। আমার বহু দিনের ইচ্ছা ছিল শিক্ষার্থীদের মাঝে আতর বিতরণ করা। এবার শিক্ষার্থীদের দোয়া নিতে যেহেতু হলে হলে যাচ্ছিলাম, তাই হাদিয়া হিসেবে তাদের আতর দিয়েছি। কেউ না নিতে চাইলে আমরা তাদের জোরাজুরি করিনি। ভোটে প্রভাব ফেলতে এসব বিতরণ করিনি।’

কোণঠাসা স্বতন্ত্র প্রার্থীরা
নির্বাচন ঘিরে এমন ‘উপঢৌকন’ বিতরণ নির্বাচনের ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিতকরণে একটি বাধা বলে মনে করছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। তারা বলছেন, ‘দলীয় প্রার্থীদের দলীয় ফান্ডিং আছে, যা আমাদের মতো সাধারণ প্রার্থীদের পক্ষে আনা অসম্ভব। তারা ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর জন্য অনেক টাকা খরচ করছেন। আমরা খরচের বিষয়টি নির্দিষ্ট করতে বারবার প্রশাসনকে বলার পরেও খুব বেশি কাজ হচ্ছে না। প্রশাসন লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে।’

স্বতন্ত্র এজিএস প্রার্থী শাহ পরান লিখন বলেন, ‘আমাদের মতো যারা স্বতন্ত্র প্রার্থী আছেন, তাদের নির্বাচনের খরচ খুব কম। দলীয় প্রার্থীদের অর্থের ছড়াছড়ি আমাদের জন্য একটা অস্বস্তি তৈরি করতে পারে।’

সিনেটে ছাত্র প্রতিনিধি পদপ্রার্থী ইরফান তামিম বলেন, ‘সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষে ভোটারদের উপঢৌকন দেওয়া সম্ভব না। কিন্তু যাদের ফান্ড আছে এরা সহজেই শিক্ষার্থীদের কাছে টানার চেষ্টা চালাচ্ছেন। নির্বাচনের আচরণবিধি লঙ্ঘন করছেন তারা। নির্বাচন কমিশনের কাছে আমার দাবি, এসব প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল করা হোক।’

জানতে চাইলে রাকসুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক প্রার্থী তোফায়েল আহমেদ তোফা বলেন, ‘পার্টিজান প্যানেলগুলো অনেক ফান্ড থাকলেও নন-পার্টিজানদের ক্যাম্পাসে পরিচিতি আছে। টাকা থেকে ক্যাম্পাসে আমরা যে কাজ করেছি শিক্ষার্থীরা মনে রাখবেন। আমাদের মতো নন-পার্টিজানদের স্বাভাবিকভাবেই ফান্ড থাকবে না। তাই সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য খরচের বিষয়টি অবশ্যই নির্দিষ্ট করতে হবে।’

স্বতন্ত্র বিতর্ক ও সাহিত্য সম্পাদক প্রার্থী আশরাফুল ইসলাম সন্ধি বলেন, ‘দলীয় প্রার্থীদের দলীয় ফান্ডিং আছে যা আমাদের মতো সাধারণ প্রার্থীদের পক্ষে আনা অসম্ভব। তারা ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর জন্য অনেক টাকা খরচ করছেন। আমরা খরচের বিষয়টি নির্দিষ্ট করতে বারবার প্রশাসনকে বলার পরও খুব বেশি কাজ হচ্ছে না। প্রশাসন লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হচ্ছে।’

ছাত্রদল মনোনীত প্যানেলের জিএস প্রার্থী নাফিউল জীবন বলেন, ‘আমাদের দল নির্বাচনি মাঠে কোনো উপঢৌকন দিচ্ছে না। একটি দল উপঢৌকনের মাধ্যমে প্রচার চালাচ্ছে। আমরা বিশ্বাস করি, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অনেক ম্যাচিউরড। তারা যোগ্য প্রার্থীকেই ভোট দেবেন।’

নির্বাচন কমিশন লেভেল প্লেইং ফিল্ড তৈরি করতে ব্যর্থ উল্লেখ করে শাখা ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি ও ভিপি পদপ্রার্থী মেহেদী হাসান মারুফ বলেন, ‘আমরা সম্প্রতি দেখছি একটা পক্ষ হলে আতর বিতরণ করছে, মুড়ি পার্টি করছে। বিশেষ করে আতর বিতরণ আচরণবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। আচরণবিধিতে বলা হয়েছে, কোনো ব্যানার, ফেস্টুন লাগানো যাবে না। কিন্তু এ সবকিছু হলেও নির্বাচন কমিশন নির্বিকার রয়েছে।’

সার্বিক বিষয়ে রাকসুর প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক এফ নজরুল ইসলাম খবরের কাগজকে বলেন, ‘কেউ এ ধরনের কাজ করতে পারবে না। বিষয়টি আমরা অবগত ছিলাম না। প্রাধ্যক্ষদের নিয়ে একটি সভা করেছি। সেখানে বিষয়গুলো নিয়ে প্রাধ্যক্ষদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যাতে সেগুলো হলো থেকে সরানো হয়। কেউ আর এ ধরনের কার্যক্রম করতে পারবে না।’ তিনি আরও বলেন, ‘চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ না করা পর্যন্ত আমরা ব্যবস্থা নিতে পারছি না। আচরণবিধি নিয়ে কিছু সমস্যা আমরা খেয়াল করছি। আচরণবিধিতে সংযুক্ত করব।’

লটারির মাধ্যমে ব্যালট নম্বর প্রদান
রাকসু নির্বাচনে প্রতি পদের বিপরীতে প্রার্থীদের প্রত্যেকের মাঝে লটারির মাধ্যমে ব্যালট নম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে। গতকাল বেলা ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে ব্যালট প্রদানে লটারির আয়োজন করা হয়।

শনিবার কয়েকটি প্যানেলের নেতারা নির্বাচন কমিশনে গিয়ে ব্যালট নম্বর বরাদ্দ পদ্ধতি নিয়ে আপত্তি তোলেন। পরে রাতে নির্বাচন কমিশনের জরুরি সভায় নীতিমালা সংশোধন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের পূর্বের নীতিমালার ৬ (৪) ধারা অনুযায়ী ‘প্রার্থীদের তালিকা প্যানেল আকারে জমা হলে লটারির মাধ্যমে প্যানেলের ক্রমধারা নির্ধারিত হবে। নির্বাচন কমিশন স্বতন্ত্র প্রার্থীদের নামের তালিকা বাংলা বর্ণমালার আদ্যক্ষর ক্রমানুসারে প্রকাশ করবে।’

আরও দুই প্যানেল ঘোষণা
এদিকে রাকসু নির্বাচনে আরও দুটি ‘অপূর্ণাঙ্গ স্বতন্ত্র প্যানেল’ ঘোষণা করা হয়েছে। ‘ইনডিপেনডেন্ট স্টুডেন্ট অ্যালায়েন্স’ এবং ‘ইউনাইটেড ফর রাইটস’ নামক দুটি প্যানেল ঘোষণা করা হয়েছে। 

গতকাল দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন মার্কেটে পৃথক দুই সংবাদ সম্মেলনে এ প্যানেলের ঘোষণা দেওয়া হয়। ‘ইনডিপেনডেন্ট স্টুডেন্ট অ্যালায়েন্স’র ভিপি পদে রয়েছেন আশিকুল্লাহ মুহিব, জিএস পদে আব্দুল মুকিত। তবে ‘ইউনাইটেড ফর রাইটস’ প্যানেলের শীর্ষ পদে কোনো প্রার্থী তারা দিতে পারেনি। কয়েকটি সম্পাদকীয় পদ এবং কার্যনির্বাহী সদস্য পদে মোট ১১ সদস্যের প্রার্থী নিয়ে প্যানেল ঘোষণা করেছে।

নারী নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক মঞ্চে রুয়েটের দিপা

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ০৮:৪৬ এএম
আপডেট: ২২ জুন ২০২৬, ০৯:২৮ এএম
নারী নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক মঞ্চে রুয়েটের দিপা
ছবি: খবরের কাগজ

নারী নেতৃত্ব ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে আন্তর্জাতিক গুরুত্বপূর্ণ এক মঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) সাবেক শিক্ষার্থী সুমাইয়া আখতার দিপা। নারী নেতৃত্ব বিকাশের আন্তর্জাতিক উদ্যোগ ‘শক্তিকন্যা’ কর্মসূচির শীর্ষ পারফর্মার হিসেবে তিনি সম্প্রতি শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত ‘উই-পাওয়ার’ এর চতুর্থ আঞ্চলিক সম্মেলনে অংশ নেন।

দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের জ্বালানি খাতের পেশাজীবী, শিক্ষাবিদ ও তরুণ নেতাদের অংশগ্রহণে আয়োজিত এ সম্মেলনে বাংলাদেশ থেকে সাতজন প্রতিনিধি অংশ নেন। তাদের মধ্যে রুয়েট থেকে একমাত্র প্রতিনিধি ছিলেন দিপা। সম্মেলনে তিনি নারীর নেতৃত্ব, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং আঞ্চলিক সহযোগিতাসহ বিভিন্ন অধিবেশনে অংশ নিয়ে বাংলাদেশের সম্ভাবনাকে তুলে ধরেন।

রুয়েটের তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল (ইইই) বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন দিপা। বর্তমানে তিনি জেড এইচ শিকদার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের একই বিভাগের প্রভাষক হিসেবে কর্মরত আছেন।

গত ৪ ও ৫ জুন শ্রীলঙ্কার নেগোম্বো শহরে অনুষ্ঠিত হয় উই-পাওয়ারের চতুর্থ আঞ্চলিক সম্মেলন। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে আয়োজিত এ সম্মেলনের মূল আলোচ্য বিষয় ছিল নবায়নযোগ্য জ্বালানি, নারীর নেতৃত্ব, পেশাগত দক্ষতা উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা।

সম্মেলনের বিভিন্ন অধিবেশনে অংশ নিয়ে দিপা দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। জ্বালানি খাতের ভবিষ্যৎ, নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধি এবং নেতৃত্ব বিকাশের নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ পান। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নতুন পেশাগত যোগাযোগ ও সহযোগিতার ক্ষেত্রও তৈরি হয়।

সম্মেলনের অংশ হিসেবে প্রতিনিধিরা শ্রীলঙ্কার পুত্তালাম অঞ্চলে অবস্থিত একটি বায়ুশক্তিভিত্তিক নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শন করেন। সেখানে আধুনিক নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রযুক্তির ব্যবহার, পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে সরাসরি ধারণা লাভ করেন তারা। প্রযুক্তিনির্ভর ভবিষ্যৎ জ্বালানিব্যবস্থার বাস্তব চিত্র দেখার এ সুযোগ অংশগ্রহণকারীদের জন্য ছিল বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।

নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে সুমাইয়া আখতার দিপা বলেন, ‘শক্তিকন্যা আমার জন্য শুধু একটি প্রশিক্ষণ কর্মসূচি নয়, এটি আত্মবিশ্বাস ও নেতৃত্ব বিকাশের এক অনন্য যাত্রা। শীর্ষ পারফর্মার হিসেবে উই-পাওয়ারের আঞ্চলিক সম্মেলনে অংশগ্রহণের সুযোগ পাওয়া ছিল অত্যন্ত গর্বের।’

তিনি বলেন, ‘দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, নেতৃত্ব ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করার অভিজ্ঞতা আমাকে সমৃদ্ধ করেছে। এ অভিজ্ঞতা আমার পেশাগত ও ব্যক্তিগত জীবনে দীর্ঘদিন অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে।’

বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষে নোবিপ্রবিতে উৎসবের আমেজ

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬, ১০:১৬ এএম
বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষে নোবিপ্রবিতে উৎসবের আমেজ
ছবি: খবরের কাগজ

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উদযাপন উপলক্ষে আগামী ২২ জুন বর্ণিল আলোকসজ্জায় সেজেছে পুরো ক্যাম্পাস। দিবসটিকে ঘিরে প্রশাসনের উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, একাডেমিক ভবন, প্রশাসনিক ভবন, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ও সড়কগুলোতে দৃষ্টিনন্দন আলোকসজ্জা করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয় দিবসকে স্মরণীয় করে রাখতে নেওয়া হয়েছে নানা আয়োজন। দিবস উপলক্ষে ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় করা হয়েছে বর্ণিল আলোকসজ্জা এবং পুরো ক্যাম্পাসজুড়ে চলছে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘চিত্রকৃৎ’ অডিটোরিয়ামের সামনে নান্দনিক আলপনা এঁকে অতিথিদের স্বাগত জানানোর প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।

সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে রঙিন আলোর ঝলকানিতে প্রাণচঞ্চল হয়ে ওঠে পুরো ক্যাম্পাস। আলোকসজ্জায় নতুন রূপ পাওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্থানে শিক্ষার্থীদের ভিড় লক্ষ্য করা যায়। অনেকেই স্মরণীয় মুহূর্তগুলো ক্যামেরাবন্দি করতে ছবি তোলায় ব্যস্ত সময় পার করেন। উৎসবমুখর পরিবেশে বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের আনন্দ ছড়িয়ে পড়ে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে।

এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৩ জন শিক্ষার্থী ও ২৬ জন শিক্ষককে ডিনস অ্যাওয়ার্ড এবং ৩ জন শিক্ষককে ভাইস-চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হবে। গবেষণা, প্রকাশনা ও একাডেমিক উৎকর্ষতায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে প্রতিবছর এ সম্মাননা প্রদান করা হয়। 

শিক্ষার্থীরা জানান, আলোকসজ্জায় ক্যাম্পাসের সৌন্দর্য বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে রাতের বেলায় বিশ্ববিদ্যালয়কে আরও প্রাণবন্ত ও উৎসবমুখর মনে হচ্ছে। এমন আয়োজন শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের আনন্দকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

শিক্ষা বিভাগের শিক্ষার্থী তৌহিদুর রহমান বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় দিবস আমাদের জন্য শুধু একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, এটি আমাদের আবেগ ও গর্বের দিন। দিবসটি উপলক্ষে ক্যাম্পাসে যে আলোকসজ্জা করা হয়েছে, তা সত্যিই দৃষ্টিনন্দন। রাতে ক্যাম্পাসের সৌন্দর্য কয়েকগুণ বেড়ে গেছে।’

আরেক শিক্ষার্থী সুহানা নুর বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় দিবসকে কেন্দ্র করে পুরো ক্যাম্পাসে উৎসবের আমেজ তৈরি হয়েছে। আলোকসজ্জার কারণে ক্যাম্পাসকে অনেক বেশি আকর্ষণীয় লাগছে। দিনের তুলনায় রাতের ক্যাম্পাস এখন একেবারেই ভিন্ন রূপ ধারণ করেছে। বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরে ঘুরে আলোকসজ্জা উপভোগ করছি এবং ছবি তুলছি।’

নোবিপ্রবি উপ-উপাচার্য ও রিসার্চ সেলের পরিচালক অধ্যাপক ড. শফিকুল ইসলাম বলেন, এবার সাতটি অনুষদের মোট ২২ জন শিক্ষার্থী ও ২৬ জন শিক্ষক ডিনস এ্যাওয়ার্ড ও তিন জন শিক্ষক ভাইস-চ্যান্সেলর পাবেন। বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে ভিডিও ডকুমেন্টারি ও অতিথিরা বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা উদ্বোধন করবেন। এছাড়াও বিকেল থেকে রাত ১০ টা পর্যন্ত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এসব আয়োজনের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের গৌরবময় পথচলা ও অর্জনগুলো নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরা হবে।

কাউসার আহমেদ/অন্তরা

রাবি প্রেসক্লাবের সভাপতি ধ্রুব-সম্পাদক জিসান

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ০৮:৩৯ পিএম
রাবি প্রেসক্লাবের সভাপতি ধ্রুব-সম্পাদক জিসান
ধ্রুব-জিসান। ছবি: খবরের কাগজ

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) প্রেসক্লাবের ২০২৬-২৭ বর্ষের নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ও দৈনিক ইত্তেফাকের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক আশিকুল ইসলাম ধ্রুবকে সভাপতি ও একই বিভাগের একই বর্ষের আরেক শিক্ষার্থী ও ঢাকা পোস্টের প্রতিবেদক জুবায়ের জিসানকে সাধারণ সম্পাদক করে ১৩ সদস্যবিশিষ্ট কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন করা হয়েছে।

শনিবার (২০ জুন ) বেলা ৩টায় সংগঠনটির নিজস্ব কার্যালয়ে নির্বাচন প্রক্রিয়া শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে ফল ঘোষণা করেন সংগঠনটির প্রধান উপদেষ্টা ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. মো. ফজলুল হক।

কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন-  সহ-সভাপতি ডেইলি ক্যাম্পাস ও মানবজমিনের প্রতিনিধি মারুফ হোসেন মিশন ও  দৈনিক ইনকিলাবের মিরাজ আফ্রিদি। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এনটিভি ও দৈনিক বনিক বার্তার আবু ছালেহ শোয়েব, কোষাধ্যক্ষ দৈনিক নয়াদিগন্তের প্রতিনিধি ফজলে রাব্বি পরশ, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক দৈনিক আমার দেশের প্রতিনিধি ফাহমিদুর রহমান ফাহিম , প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক দৈনিক কালবেলার প্রতিনিধি আজাহারুল ইসলাম মীর তুহিন, দপ্তর সম্পাদক দৈনিক মানবকণ্ঠের প্রতিনিধি আবু বকর অনিক ও ক্রীড়া সম্পাদক এশিয়া পোস্টের সৈয়দ হুজ্জাত উল্লাহ মাহিন।

এতে কার্যনির্বাহী সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন মানবকণ্ঠের মাল্টিমিডিয়া প্রতিনিধি বিপ্লব উদ্দিন, বাণিজ্য বার্তার প্রতিনিধি সামিয়া আক্তার ও জাগরণ নিউজের প্রতিনিধি  রাফাসান আলম।

ফলাফল ঘোষণার সময় আরও উপস্থিত ছিলেন- প্রেসক্লাবের সাবেক উপদেষ্টা অধ্যাপক আখতার হোসেন মজুমদার ও সদ্য বিদায়ী সভাপতি মনির হোসন মাহিন, মানবজমিনের রাজশাহী ব্যুরো প্রধান ডালিম হোসেন শান্ত।

শাকিবুল হাসান/রিফাত/

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে নবীনবরণ: উচ্ছ্বাসে ভরা প্রবেশিকা

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ০৯:১৯ এএম
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে নবীনবরণ: উচ্ছ্বাসে ভরা প্রবেশিকা
ছবি: খবরের কাগজ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের (৫৫তম ব্যাচ) স্নাতকের নবীন শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ অনুষ্ঠান উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার (১৯ জুন) বিকেল সাড়ে ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জহির রায়হান মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠানে নবীনবরণ অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নবীন শিক্ষার্থীদের ফুল, বিশ্ববিদ্যালয়ের ডায়েরি, ক্লাস ব্যাগ ও বার্ষিক ক্যালেন্ডার দিয়ে বরণ করে নেয়। বিভিন্ন অনুষদের প্রায় দুই হাজার নবীন শিক্ষার্থী এতে অংশ নেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন নবীনদের একাডেমিক পড়াশোনা ও গবেষণায় মনোযোগী হওয়ার পরামর্শ দেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবন, আবাসিক হল, নিরাপত্তা, অভ্যন্তরীণ রাস্তাসহ নানা সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেন। নবীন শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আশা-আকাঙ্ক্ষা জানতে চান এবং যথাসম্ভব সমাধানের প্রতিশ্রুতি দেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “কঠিন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীরা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়েছ। তোমরা এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে নিজেকে দেশের যোগ্য মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলবে বলে আমি বিশ্বাস করি।”

এর আগে ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের সামনে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন এবং প্রতিটি বিভাগের নবীন শিক্ষার্থীরা বাহারি রকমের গাছের চারা রোপণ করেন।

সভাপতির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান বলেন, “তোমরা কঠোর প্রতিযোগিতামূলক ভর্তি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মেধার স্বাক্ষর রেখে দেশের একমাত্র পূর্ণাঙ্গ আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্ণাঢ্য ও গৌরবময় ঐতিহ্যের অংশ হতে পেরে এক অনন্য সুযোগ লাভ করেছ। বিশ্ববিদ্যালয় কেবল উচ্চতর ডিগ্রি অর্জনের জায়গা নয়; এটি মুক্তবুদ্ধি চর্চা, সংস্কৃতি এবং আত্ম-আবিষ্কারের এক বিশাল মঞ্চও বটে।”

তিনি আরও বলেন, “এখানে তোমাদের এই নতুন পথচলাকে সফল করতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মনে রাখা জরুরি। আমরা চাই তোমরা শুধু পুঁথিগত বিদ্যায় শিক্ষিত না হয়ে, একজন মানবিক, নৈতিক ও দায়িত্বশীল সুনাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠো। সময়কে সঠিকভাবে কাজে লাগাও, নিয়মানুবর্তিতা মেনে চলো এবং নিজের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে অবিচল থাকো। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম-কানুন ও মূল্যবোধ মেনে চলে তোমরা এই প্রতিষ্ঠানের সম্মান আরও উজ্জ্বল করবে, এটাই আমার প্রত্যাশা।”

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. শামসুল আলম, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. নজরুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. আব্দুর রবসহ অন্যান্য শিক্ষকবৃন্দ।

আমান/এএফ

জাবিতে শিক্ষামন্ত্রীর আগমনে ছাত্র ইউনিয়নের প্রতিবাদ

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ১০:৪৩ পিএম
জাবিতে শিক্ষামন্ত্রীর আগমনে ছাত্র ইউনিয়নের প্রতিবাদ
ছবি: খবরের কাগজ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের প্রথম বর্ষের নবাগত শিক্ষার্থীদের প্রবেশিকা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের আগমনকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন জাবি সংসদের নেতা-কর্মীরা বিভিন্ন দাবিতে প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছেন।

শুক্রবার (১৯ জুন) বিকেল ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জহির রায়হান মিলনায়তন সংলগ্ন রাস্তায় এ প্রতিবাদ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় তাদের হাতে ‘একাডেমিক নিপীড়কদের ক্রমাগত দায়মুক্তি দেওয়ায় উপাচার্যকে অভিনন্দন’, ‘জুলাই বিচারের নামে অশ্বডিম্ব পাড়ায় অভিনন্দন’, ‘ভবন নির্মাণ is going well, গবেষণা is no more’সহ বিভিন্ন স্লোগানসংবলিত প্ল্যাকার্ড দেখা যায়।

ছাত্র ইউনিয়ন জাবি সংসদের প্রচার সম্পাদক সাদিয়া ইমরোজ ইলা বলেন, “বর্তমান উপাচার্য দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে প্রশাসনিক কার্যক্রম থেকে শুরু করে একাডেমিক সব কাজেই চরম অদক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। বিচারের নামে প্রহসন, একাডেমিক নিপীড়কদের ক্রমাগত দায়মুক্তি দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়কে অপরাধীদের আশ্রয়স্থলে পরিণত করেছেন। ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টার ঘটনার দুই মাস পার হয়ে গেলেও অপরাধীদের গ্রেপ্তারে ন্যূনতম অগ্রগতি নেই। এসব বিশৃঙ্খলার বিষয়টি শিক্ষামন্ত্রীর দৃষ্টিতে আনতেই আমরা এ প্রতিবাদ কর্মসূচি আয়োজন করেছি।”

জাবি ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি জাহিদুল ইসলাম ইমন বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পদ্ধতি থেকে শুরু করে সার্টিফিকেট উত্তোলন পর্যন্ত প্রতিটি পর্যায়ে শিক্ষার্থীরা হয়রানি ও অবিচারের শিকার হচ্ছেন। অভ্যুত্থানের পর উপাচার্য দায়িত্ব নিয়েও একাডেমিক কিংবা প্রশাসনিক ক্ষেত্রে সামান্যতম পরিবর্তন আনতে পারেননি। এই ব্যর্থতার দায় মনে করিয়ে দিতেই আজকের কর্মসূচি। যতদিন শিক্ষার্থীদের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালিত না হবে, ততদিন আমাদের সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে।”

আমানউল্লাহ/এএইউ