ঢাকা ৯ আষাঢ় ১৪৩৩, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
২৩ জুন: পাউন্ড ছাড়া সব মুদ্রার দাম কমেছে ইউসিটিসিতে ৭ম সিন্ডিকেট মিটিং অনুষ্ঠিত ভারতের লখনউয়ে অগ্নিকাণ্ডে ১৫ শিক্ষার্থীর মৃত্যু বিশেষ ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা পেল ৬ জেলার সেনা কর্মকর্তারা ২-১ গোলে জর্ডানকে হারিয়ে নকআউপটের আশা জিইয়ে রাখলো আলজেরিয়া কাতারে কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ: নিহত ১৩, আহত ৬৬ ইরানের তেল নিষেধাজ্ঞা আংশিক তুলে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র শিরোপার স্বপ্নে ভাসছেন না হালান্ড আশুরা উপলক্ষে ডিএমপির নির্দেশনা তৃণমূলের শীর্ষ পদ থেকে মমতাকে বাদ ১১৫ দিন পর হরমুজ অতিক্রম করল বাংলার জয়যাত্রা পর্তুগাল এখন যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি ঐক্যবদ্ধ: রবার্তো মার্তিনেস বিশ্ববিদ্যালয়ে জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতার চর্চা বাড়াতে হবে: ইবি উপাচার্য ইউএনওর আইডি ব্যবহার করে টেন্ডার কারসাজি টেকনাফে ঝুঁকিপূর্ণ বসতি থেকে সরে যেতে মাইকিং বাউফল উপজেলা ছাত্রদল সভাপতি কারাগারে জাবিতে রোকনুজ্জামান খান ও বেগম রোকেয়ার জীবনকর্ম নিয়ে আলোচনা কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ.লীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ কুড়িগ্রামে ধানের গোলায় বিপুল পরিমাণ ভারতীয় পণ্য পাবনায় আমবাগানে মিলল নিখোঁজ ব্যক্তির মরদেহ প্যারোলে মুক্তি পেয়ে মায়ের জানাজায় অংশ নিলেন আওয়ামী লীগ নেতা মাগুরায় ‘বাঘ’ আতঙ্ক, বন বিভাগ বলছে মেছো বিড়াল সেন্টমার্টিনে ৩২ কোটি টাকার অবৈধ কারেন্ট জাল জব্দ, আটক ৬ বায়ুদূষণের শীর্ষে দিল্লি, ঢাকার বায়ুরমান ‘অস্বাস্থ্যকর’ দিনাজপুরে দিলশাদ, ভিন্ন স্বাদ ও কাচ্চি ভাইকে ৩ লাখ টাকা জরিমানা যেমন থাকবে আজকের আবহাওয়া চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন ঢাকায় গ্রেপ্তার নেইমার কি আর খেলবে বিশ্বকাপ? পা ভাঙা রাজহাঁস নিয়ে থানায় নারী এমবাপ্পে, ইয়ামালদের যুগেও মেসিই ফুটবলের ‘ফাইনাল বস’

রাকসু নির্বাচন: সকাল থেকেই প্রচারণায় ব্যস্ত প্রার্থী-সমর্থকরা

প্রকাশ: ১২ অক্টোবর ২০২৫, ১২:৪৭ পিএম
রাকসু নির্বাচন: সকাল থেকেই প্রচারণায় ব্যস্ত প্রার্থী-সমর্থকরা
রাকসু নির্বাচন ঘিরে প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রার্থী-সমর্থকরা। ছবি: খবরের কাগজ

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু), হল সংসদ ও সিনেটে ছাত্র প্রতিনিধি নির্বাচনের তারিখ ঘনিয়ে আসায় প্রার্থীরা জোর প্রচারণা চালাচ্ছেন। তাদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে প্রচারে সহযোগিতা করছেন সমর্থকরাও। 

রবিবার (১২ অক্টোবর) সকাল থেকেই ক্যাম্পাসের বিভিন্ন এলাকায় প্রচারণায় দেখা গেছে তাদের। তারা ভোটারদের কাছে গিয়ে কুশল বিনিময় করছেন। ভোটের পাশাপাশি দোয়াও চাচ্ছেন কেউ কেউ।

আগামী ১৬ অক্টোবর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে তিন দফা ভোট পিছিয়ে যায়। ফলে লম্বা সময় ধরে প্রার্থীদের ভোটের মাঠে প্রচারণায় থাকতে হয়েছে। এদিকে, সময় ঘনিয়ে আসায় তারা সমর্থকদেরও মাঠে নামিয়েছেন। তারাও প্রার্থীদের হয়ে ভোট চাচ্ছেন।

কেন্দ্রীয় সংসদে (রাকসু) স্বতন্ত্র সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদের বি এস এম আনোয়ার আমজাদকে দেখা গেল বিশ্ববিদ্যালয়ের টুকিটাকি চত্বরে। তিনি কাঁধে দোতরা ঝুলিয়ে গান গেয়ে গেয়ে ভোট চাচ্ছিলেন। পাশাপাশি তার সঙ্গে থাকা সমর্থকরা প্রচারপত্র দিচ্ছিলেন। 

আনোয়ার আমজাদ বলেন, ‘আমি সংস্কৃতিকর্মী হিসেবে সাংস্কৃতিক পদে নির্বাচন করছি। তাই আমার প্রচারের ধরনটাও সংস্কৃতি চর্চার মতোই। আমি গানে গানে আমার ইশতেহার বলছি।’

রাকসু ফর রেডিক্যাল চেঞ্জ প্যানেলের জিএস প্রার্থী আফরিন জাহানকে ওই এলাকায় লিফলেট বিতরণ করতে দেখা গেল। তিনি ভোটার শিক্ষার্থীদের নিজের ব্যালট নম্বর দিয়ে ভোট চাচ্ছিলেন। তিনি জানালেন, ‘ভোটের সময় কাছাকাছি। সবার কাছে যাওয়ার চেষ্টা করছি। ভালো সাড়া পাচ্ছি।’

সকাল ৯টা থেকেই দেখা গেল ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘সম্মিলিত শিক্ষার্থী জোট’ প্যানেলের সমর্থকদের। তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে প্রচার করছিলেন। তারা বললেন, তারা সমর্থক। প্রার্থীরা এখন খুব ব্যস্ত। প্রচারে তাদের সহযোগিতা করছেন তারা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ছাত্রদল সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ নতুন প্রজন্ম’ প্যানেলের নেতা-কর্মীরা প্রচারণা চালাচ্ছিলেন। বাস থেকে শিক্ষার্থীরা নামামাত্রই তারা লিফলেট দিচ্ছিলেন। তাদের একজন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সহসভাপতি মেহেদী হাসান। 

তিনি জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে প্রায় ৭০ শতাংশ শিক্ষার্থী থাকেন। তারা সকালে বাসে করে ক্যাম্পাসে আসেন। তাদের কাছে তারা পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন।

ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘সম্মিলিত শিক্ষার্থী জোট’ প্যানেলের ভিপিপ্রার্থী মোস্তাকুর রহমান জাহিদকে দেখা গেল বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের সামনে। তিনি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলছিলেন। সঙ্গে নিজের প্যানেলের জন্য ভোট চাচ্ছিলেন। 

তিনি বলেন, ‘ভোটের সময় খুবই কাছে। যদিও ভোট তিনবার পিছিয়ে গেছে। এতে একটা লম্বা সময় ধরে ভোটারদের কাছে যেতে হচ্ছে। অনেকের কাছে একাধিকবারও যাওয়া হয়েছে। তবে তারা বিরক্ত হচ্ছেন না। ভোটাররা ব্যাপারটা উপভোগই করছেন। ১৬ অক্টোবর একটা ভোট উৎসবের অপেক্ষায় সবাই।’

সকাল থেকে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন এলাকায় ছাত্রদল সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ নতুন প্রজন্ম’ প্যানেলের প্রার্থীরা প্রচারণায় আছেন উল্লেখ করে প্যানেলের ভিপিপ্রার্থী শেখ নূর উদ্দীন আবীর বলেন, আজকে সকাল থেকে প্রচার করেছেন তারা। সময় কম থাকায় প্যানেলের প্রার্থীরা ব্যস্ত সময় পার করছেন। 

এদিকে, রাকসু নির্বাচন নিয়ে আজ দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে এক সংবাদ সম্মেলন ডেকেছে প্রশাসন। সেখানে সার্বিক বিষয়ে কথা বলবেন উপাচার্য অধ্যাপক সালেহ হাসান নকীব।

শনিবার (১১ অক্টোবর) রাতে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় বিশ্ববিদ্যালয় জনসংযোগ দপ্তর।

শাকিবুল/সালমান/

 

বিশ্ববিদ্যালয়ে জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতার চর্চা বাড়াতে হবে: ইবি উপাচার্য

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ১০:৪০ এএম
আপডেট: ২৩ জুন ২০২৬, ১০:৪৭ এএম
বিশ্ববিদ্যালয়ে জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতার চর্চা বাড়াতে হবে: ইবি উপাচার্য
ছবি: খবরের কাগজ

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান বলেছেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে দায়িত্ব পালনে অবহেলা ও কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার একটি নেতিবাচক সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে। এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে এসে জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতার চর্চা বাড়াতে হবে। অধীনস্থ কর্মীদের সমস্যার কথা জানতে হবে এবং নিয়মিত খোঁজখবর রাখতে হবে। কোনো কর্মী বা কর্মকর্তা কেন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকছেন, সেটিও অনুসন্ধান করা প্রয়োজন।’

সোমবার (২২ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সেমিনার কক্ষে ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স সেল (আইকিউএসি) আয়োজিত ‘অফিস ম্যানেজমেন্ট’ বিষয়ক কর্মশালায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন দফতর প্রধানদের উদ্দেশ্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য বলেন, ‘অনেক সময় বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কোনো নোটিশ ছাড়াই কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকেন। অনেক ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের পরিচালকও বিষয়টি জানেন না। এই না আসা এবং দায়িত্ব পালন না করার যে কালচার, সেই প্রতিযোগিতায় আমরা অনেক এগিয়ে আছি।’

ড. মতিনুর রহমান বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে কাজ না করার একটি প্রতিযোগিতা তৈরি হয়েছে। কিন্তু ভালো কাজ করার, নতুন উদ্যোগ গ্রহণের কিংবা ইতিবাচক পরিবর্তন আনার প্রতিযোগিতা আমরা গড়ে তুলতে পারিনি। কোনো ব্যক্তি আইনের ঊর্ধ্বে নয়, জবাবদিহিতারও ঊর্ধ্বে নয়। আমি নিজেও জবাবদিহিতার ঊর্ধ্বে নই। সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা মূলত শিক্ষার্থীদের সেবা দেওয়ার জন্য নিয়োজিত। তাই শিক্ষার্থীদের প্রাপ্য সেবা নিশ্চিত করতে প্রশাসন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।’

কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম. এয়াকুব আলী এবং ট্রেজারার অধ্যাপক ড. জাহাঙ্গীর আলম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আইকিউএসি’র পরিচালক অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ নাজিমুদ্দিন।

কর্মশালায় আধুনিক অফিস ব্যবস্থাপনা, প্রশাসনিক দক্ষতা ও নেতৃত্ব বিকাশ, ফাইল ও নথি ব্যবস্থাপনা, সময় ব্যবস্থাপনা এবং ডিজিটাল অফিস সিস্টেম বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হলের প্রভোস্ট, দপ্তরপ্রধান ও কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন।

নিয়ামত/খাদিজা রুমি/

জাবিতে রোকনুজ্জামান খান ও বেগম রোকেয়ার জীবনকর্ম নিয়ে আলোচনা

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ১০:২৮ এএম
আপডেট: ২৩ জুন ২০২৬, ১০:৪৭ এএম
জাবিতে রোকনুজ্জামান খান ও বেগম রোকেয়ার জীবনকর্ম নিয়ে আলোচনা
ছবি: খবরের কাগজ

বাংলা একাডেমি ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) বাংলা বিভাগের উদ্যোগে দুই দিনব্যাপী শিক্ষা-সাহিত্য বিষয়ক জাতীয় সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেমিনারে শিশুসাহিত্যিক রোকনুজ্জামান খান (দাদাভাই) এবং বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের জীবন, সাহিত্য ও কর্ম নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় ২১ ও ২২ জুন (রবি ও সোমবার) বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ও মানবিকী ভবনের বাংলা বিভাগের সেমিনার কক্ষে এ আয়োজন হয়।

প্রথম দিনের শিরোনাম ছিল ‘রোকনুজ্জামান খান: বাস্তবতাবোধ ও জীবনদর্শন’ এবং দ্বিতীয় দিনের শিরোনাম ‘রোকেয়া: তাঁর সাহিত্য, শিক্ষাব্রত ও জাগৃতি-সাধনা’।

সেমিনারে বক্তারা বলেন, ’রোকনুজ্জামান খান শুধু সাহিত্যিকই ছিলেন না, তিনি এদেশের শিশু-কিশোরদের উন্নত মনন গঠনে ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেছেন। ‘দাদাভাই’ নামে পরিচিত এই সাহিত্যিক ‘কচিকাঁচার মেলা’ এবং দৈনিক ইত্তেফাকের ‘কচিকাঁচার আসর’-এর সঙ্গে চিরকাল জড়িত থাকবেন। ছড়াকবিতার মাধ্যমে তিনি ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন এবং সমাজ ও রাষ্ট্রের বিভিন্ন অসঙ্গতির বিরুদ্ধে সোচ্চার অবস্থান নেন।’

প্রথম দিনের আলোচনা

প্রথম দিন মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কথাসাহিত্যিক ও গবেষক ড. আনিস রহমান। আলোচনায় অংশ নেন নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. রশীদ হারুন এবং বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. এ এস এম আবু দায়েন। বাংলা একাডেমির সহপরিচালক (চলতি দায়িত্ব) পিয়াস মজিদ শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন। বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. খালেদ হোসাইনের সভাপতিত্বে এ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।

দ্বিতীয় দিনের আলোচনা

দ্বিতীয় দিন মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রাবন্ধিক ড. মোরশেদ শফিউল হাসান। আলোচনায় অংশ নেন নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মির্জা তাসলিমা সুলতানা, দর্শন বিভাগের অধ্যাপক আনোয়ারুল্লাহ ভূঁইয়া এবং বাংলা একাডেমির উপপরিচালক সায়েরা হাবীব শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন।

আয়োজনের আহ্বায়ক জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. ফারহানা আখতার স্বাগত বক্তব্যে বলেন, ’জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ ও বাংলা একাডেমির যৌথ উদ্যোগে এ জাতীয় সেমিনার আয়োজন করা হয়েছে। আশা করি, শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ উপস্থিত সবাই এ আয়োজন থেকে উপকৃত হয়েছেন।’

আমানউল্লাহ খান/খাদিজা রুমি/

চুয়েট হলে চলন্ত ফ্যান ছিঁড়ে পড়ায় আতঙ্কিত শিক্ষার্থীরা

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ০৫:০৬ পিএম
চুয়েট হলে চলন্ত ফ্যান ছিঁড়ে পড়ায় আতঙ্কিত শিক্ষার্থীরা
ছবি: খবরের কাগজ

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট)-এর কবি কাজী নজরুল ইসলাম হলের একটি কক্ষে চলন্ত অবস্থায় সিলিং ফ্যান খুলে পড়ে যাওয়ার ঘটনায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

শনিবার (২১ জুন) দুপুরে হলের ডি-৩০০ নম্বর গণরুমে এ ঘটনা ঘটে। তবে সৌভাগ্যবশত কোনো শিক্ষার্থী আহত হননি।

শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কক্ষটিতে থাকা বেশ কয়েকটি ফ্যান দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ছিল। কোনোটি ধীরগতিতে চলত, আবার কোনোটি ঠিকমতো বাতাস দিত না। এ বিষয়ে শিক্ষার্থীরা একাধিকবার হল কর্তৃপক্ষকে অবহিত করলেও সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়নি বলে অভিযোগ করেন তারা।

ঘটনার সময় কক্ষে কয়েকজন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছিলেন। হঠাৎ একটি ফ্যান ঘুরতে ঘুরতেই ছাদ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে নিচে পড়ে যায়। ফ্যানটি একটি খাটের ওপর পড়ে ভেঙে যায়। অল্পের জন্য বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে জানান কক্ষে অবস্থানরত শিক্ষার্থীরা।

যন্ত্রকৌশল বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী মো. মোরশেদ এলাহী বলেন, ‘গণরুমে থাকা বেশিরভাগ ফ্যানই নষ্ট বা দুর্বল অবস্থায় রয়েছে। অনেক সময় ব্যক্তিগত ফ্যান ব্যবহার করতে হয়। ফ্যানগুলোর অবস্থা দেখে আগেই আশঙ্কা ছিল। আজ সেটাই বাস্তবে ঘটেছে। সামান্য এদিক-ওদিক হলেই বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারত।’

ঘটনার পর শিক্ষার্থীরা দ্রুত কক্ষটির ঝুঁকিপূর্ণ ও পুরোনো ফ্যানগুলো পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, আবাসিক হলের শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

ইবাদ হোসেন/রিফাত/

সুস্ময়ের আন্তর্জাতিক অলিম্পিয়াডে মেডেল জয়

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ০১:১৭ পিএম
সুস্ময়ের আন্তর্জাতিক অলিম্পিয়াডে মেডেল জয়
পুরস্কার মঞ্চে সুষ্ময় বড়ুয়া।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মেধার স্বাক্ষর রেখে চলেছেন চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার ইছামতী গ্রামের কৃতিশিক্ষার্থী সুস্ময় বড়ুয়া সপ্ত। গণিত ও ইংরেজি অলিম্পিয়াডে অসামান্য সাফল্য অর্জন করে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকাকে গর্বিত ও সমুন্নত করেছেন তরুণ এই মেধাবী।
শিশুদের মানসিক গণিত দক্ষতা, একাগ্রতা ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশের বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠান ‘অ্যালোহা মেন্টাল অ্যারিথমেটিক’ বিশ্বের ৪০টিরও বেশি দেশে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। প্রতি বছর সংস্থাটি বিশ্বজুড়ে তাদের সেরা শিক্ষার্থীদের নিয়ে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার আয়োজন করে।
এরই অংশ হিসেবে, ঢাকার ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) অনুষ্ঠিত ‘অ্যালোহা বাংলাদেশ জাতীয় প্রতিযোগিতা’য় অংশ নেয় সুস্ময় বড়ুয়া সপ্ত। দেশজুড়ে আসা প্রায় ৩,৫০০ প্রতিযোগীর মধ্যে অসাধারণ মেধার পরিচয় দিয়ে সে মর্যাদাপূর্ণ ‘গ্র্যান্ড চ্যাম্পিয়ন’ খেতাব অর্জন করে। এই অসামান্য সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ অ্যালোহা বাংলাদেশের পক্ষ থেকে তাকে নগদ অর্থ ও বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়।
জাতীয় পর্যায়ের এই গৌরবময় বিজয়ের পর, সুস্ময় আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পায়। বিশ্বের ১৭টি দেশের সেরা মেধাবীদের সঙ্গে লড়াই করে সে তৃতীয় রানার-আপ হওয়ার গৌরব অর্জন করে। বিশ্বমঞ্চে তার এই সাফল্য বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার পাশাপাশি তার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ‘অ্যালোহা ম্যাথ কুমিল্লা শাখা’র জন্য বয়ে এনেছে বিপুল গৌরব। পরবর্তীতে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকেও তাকে বিশেষ সংবর্ধনা ও পুরস্কার দেওয়া হয়।
সুস্ময় বর্তমানে দেশের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুলের দশম শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র। গণিতে পারদর্শিতার পাশাপাশি ইংরেজি ভাষা প্রতিযোগিতা এবং আন্তর্জাতিক অলিম্পিয়াডগুলোতেও সে সমানভাবে সফল ও প্রশংসিত।
এর আগে, যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক ইংরেজি অলিম্পিয়াডের চূড়ান্ত পর্বে অংশ নেওয়ার জন্য সুস্ময় আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ পেলেও ভিসা-সংক্রান্ত জটিলতার কারণে সশরীরে সেখানে যেতে পারেনি। তবে এ প্রতিকূলতা তার পথ আগলে দাঁড়াতে পারেনি। অদম্য সুস্ময় অনলাইন আন্তর্জাতিক পরীক্ষায় অংশ নিয়ে অর্জন করে মর্যাদাপূর্ণ ‘সিলভার মেডেল’ (রৌপ্য পদক), যা বাংলাদেশের জন্য আরও একটি আন্তর্জাতিক সম্মান বয়ে আনে।
পরবর্তীতে সে জাপান এবং যুক্তরাজ্য-উভয় দেশের আন্তর্জাতিক অলিম্পিয়াডের চূড়ান্ত পর্বের জন্য কোয়ালিফাই করে। তবে দুটি ইভেন্টের সময়সূচি খুব কাছাকাছি হওয়ায় তাকে যেকোনো একটি দেশ বেছে নিতে হয়। সুস্ময় যুক্তরাজ্যের লন্ডনে অনুষ্ঠিতব্য মর্যাদাপূর্ণ আন্তর্জাতিক অলিম্পিয়াডকে অগ্রাধিকার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। ইতোমধ্যে সে অফিশিয়াল আমন্ত্রণপত্র হাতে পেয়েছে এবং বর্তমানে লন্ডনে যাওয়ার জোর প্রস্তুতি চালাচ্ছে।
সুস্ময় বড়ুয়া সপ্ত চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার ইছামতী গ্রামের এক শিক্ষানুরাগী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা প্রকৌশলী রিটন বড়ুয়া গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনস্থ প্রতিষ্ঠান ‘বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষ’ (বেপজা)-এ সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত আছেন। তার মা শর্মিলা বড়ুয়া চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স (এমএ) ডিগ্রি অর্জন করেছেন।
সুস্ময় বড়ুয়া সপ্তর এই আন্তর্জাতিক অর্জন বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের জন্য এক অনুপ্রেরণাদায়ক দৃষ্টান্ত। তার পরিবার, শিক্ষক, শুভাকাঙ্ক্ষী এবং দেশবাসী আশা করছেন যে তার আসন্ন লন্ডন সফর সফল হবে এবং সে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের জন্য আরও গৌরব ও স্বীকৃতি বয়ে আনবে।
পড়াশোনার পাশাপাশি সুস্ময় ‘বিশ্বমঞ্চজয়ী সপ্ত’ নামে একটি ফেসবুক পেজ পরিচালনা করেন। সেখানে তিনি নিজের শিক্ষা ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার অভিজ্ঞতা শেয়ার করার পাশাপাশি সময় ও সুযোগ অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে অনলাইন ক্লাস এবং দিকনির্দেশনামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকেন।

নারী নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক মঞ্চে রুয়েটের দিপা

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ০৮:৪৬ এএম
আপডেট: ২২ জুন ২০২৬, ০৯:২৮ এএম
নারী নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক মঞ্চে রুয়েটের দিপা
ছবি: খবরের কাগজ

নারী নেতৃত্ব ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে আন্তর্জাতিক গুরুত্বপূর্ণ এক মঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) সাবেক শিক্ষার্থী সুমাইয়া আখতার দিপা। নারী নেতৃত্ব বিকাশের আন্তর্জাতিক উদ্যোগ ‘শক্তিকন্যা’ কর্মসূচির শীর্ষ পারফর্মার হিসেবে তিনি সম্প্রতি শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত ‘উই-পাওয়ার’ এর চতুর্থ আঞ্চলিক সম্মেলনে অংশ নেন।

দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের জ্বালানি খাতের পেশাজীবী, শিক্ষাবিদ ও তরুণ নেতাদের অংশগ্রহণে আয়োজিত এ সম্মেলনে বাংলাদেশ থেকে সাতজন প্রতিনিধি অংশ নেন। তাদের মধ্যে রুয়েট থেকে একমাত্র প্রতিনিধি ছিলেন দিপা। সম্মেলনে তিনি নারীর নেতৃত্ব, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং আঞ্চলিক সহযোগিতাসহ বিভিন্ন অধিবেশনে অংশ নিয়ে বাংলাদেশের সম্ভাবনাকে তুলে ধরেন।

রুয়েটের তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল (ইইই) বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন দিপা। বর্তমানে তিনি জেড এইচ শিকদার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের একই বিভাগের প্রভাষক হিসেবে কর্মরত আছেন।

গত ৪ ও ৫ জুন শ্রীলঙ্কার নেগোম্বো শহরে অনুষ্ঠিত হয় উই-পাওয়ারের চতুর্থ আঞ্চলিক সম্মেলন। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে আয়োজিত এ সম্মেলনের মূল আলোচ্য বিষয় ছিল নবায়নযোগ্য জ্বালানি, নারীর নেতৃত্ব, পেশাগত দক্ষতা উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা।

সম্মেলনের বিভিন্ন অধিবেশনে অংশ নিয়ে দিপা দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। জ্বালানি খাতের ভবিষ্যৎ, নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধি এবং নেতৃত্ব বিকাশের নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ পান। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নতুন পেশাগত যোগাযোগ ও সহযোগিতার ক্ষেত্রও তৈরি হয়।

সম্মেলনের অংশ হিসেবে প্রতিনিধিরা শ্রীলঙ্কার পুত্তালাম অঞ্চলে অবস্থিত একটি বায়ুশক্তিভিত্তিক নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শন করেন। সেখানে আধুনিক নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রযুক্তির ব্যবহার, পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে সরাসরি ধারণা লাভ করেন তারা। প্রযুক্তিনির্ভর ভবিষ্যৎ জ্বালানিব্যবস্থার বাস্তব চিত্র দেখার এ সুযোগ অংশগ্রহণকারীদের জন্য ছিল বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।

নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে সুমাইয়া আখতার দিপা বলেন, ‘শক্তিকন্যা আমার জন্য শুধু একটি প্রশিক্ষণ কর্মসূচি নয়, এটি আত্মবিশ্বাস ও নেতৃত্ব বিকাশের এক অনন্য যাত্রা। শীর্ষ পারফর্মার হিসেবে উই-পাওয়ারের আঞ্চলিক সম্মেলনে অংশগ্রহণের সুযোগ পাওয়া ছিল অত্যন্ত গর্বের।’

তিনি বলেন, ‘দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, নেতৃত্ব ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করার অভিজ্ঞতা আমাকে সমৃদ্ধ করেছে। এ অভিজ্ঞতা আমার পেশাগত ও ব্যক্তিগত জীবনে দীর্ঘদিন অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে।’