চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের হল সংসদ নির্বাচনে ১৩টি প্যানেল অংশ নিলেও হলগুলোতে ছাত্রশিবিরের ‘সম্প্রীতির শিক্ষার্থী জোট’ ছাড়া আর কেউ প্যানেল দিতে পারেনি। ছেলেদের হলগুলোতে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির এবং ছাত্রী হলগুলোতে তাদের সহযোগী সংগঠন ছাত্রী সংস্থা প্রত্যেক হলে প্যানেল দিয়েছে। এর বাইরে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া হলে ‘স্বতন্ত্র নারী কণ্ঠ’ নামে একটি প্যানেল এবং প্রীতিলতা হলে ‘স্বতন্ত্র সম্প্রীতি প্যানেল’ নামে আরেকটি স্বতন্ত্র প্যানেল নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে।
চাকসু নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্যানেলগুলো হলো দ্রোহ পর্ষদ, ছাত্রদল প্যানেল, সম্প্রীতির শিক্ষার্থী জোট, স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী সম্মিলন, সচেতন শিক্ষার্থী সংসদ, বৈচিত্র্যের ঐক্য, অহিংস শিক্ষার্থী ঐক্য, সার্বভৌম শিক্ষার্থী ঐক্য, স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী জোট, চাকসু ফর র্যাপিড চেঞ্জ, ভয়েস অব স্টুডেন্ট এবং সর্বজনীন ছাত্র ঐক্য পরিষদ।
অন্যদিকে ছাত্রদলসহ অপর ১২টি প্যানে কোনো হল সংসদ নির্বাচনে প্যানেল দিতে পারেনি। যেকারণে হলগুলোতে প্রচারণা ক্ষেত্রে ছাত্রশিবির বাড়তি সুবিধা পাচ্ছে।
খবরের কাগজের সঙ্গে আলাপ হয় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক হলের শিক্ষার্থীর সঙ্গে। তারা বলেন, ‘চাকসু নির্বাচন জমজমাট হলেও হল সংসদ নির্বাচন অনেকটা ম্যাড়মেড়ে চাকসুতে ১১টি প্যানেল অংশগ্রহণ করছে। এখানেও যদি তাদের প্যানেল থাকতো তাহলে নির্বাচনি উত্তাপ আরও বাড়তো। এখন যেহেতু অন্য প্যানেল নেই। কিছু কিছু পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী আছে। তারাই চষে বেড়াচ্ছেন হলগুলো।’
সংশ্লিষ্টরা জানান, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ৯টি ছাত্র হল ও ৫টি ছাত্রী হলে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ১৪টি হল ও একটি হোস্টেলের ২০৬টি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মোট ৬০০ জন প্রার্থী।
ছাত্রশিবির প্যানেলের ভিপি প্রার্থী ইব্রাহীম হোসেন রনি খবরের কাগজকে বলেন, ‘আমাদের প্যানেল থেকে প্রত্যেকটি হল সংসদের প্রার্থী দেওয়া হয়েছে। হলে শিক্ষার্থীরা উৎসব মুখর পরিবেশে নির্বাচন ভোট দিবেন। অন্য প্যানেল থেকে হল সংসদের প্রার্থী দেওয়া হয়নি। সেখানে আমাদের কোনো ধরনের বাঁধা বিপত্তি ছিল না। চাইলে সব প্যানেল থেকেই হল সংসদে প্রার্থী দিতে পারতেন।’
ছাত্রদল প্যানেলের জিএস প্রার্থী মো. শাফায়াত খবরের কাগজকে বলেন, ‘আমাদের সিনিয়র ভাইয়েরা যেভাবে প্যানেল দিয়েছেন আমরা সেভাবে কাজ করছি। হল সংসদের প্রার্থী না দেওয়ার বিষয়ে তাই আমি কিছুই বলতে পারছি না। তবে কোনো ধরনের বাধা বিপত্তি ছিল না। সুষ্টু সুন্দর ভাবে এ পর্যন্ত প্রচারণা চালিয়ে আসছি। সব কিছু সুন্দর ভাবে শেষ করতে পারলেই হলো। চবি শিক্ষার্থীরা আমাদের পক্ষে থাকবে, কারণ বিগত দিনে ছাত্রদল একটি প্রগতিশীল রাজনৈতিক দল হিসেবে চবিতে ছিল। সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ছিল।’
প্যানেল ‘বিনির্মাণ শিক্ষার্থী ঐক্য’ প্যানেলের সহ- সভাপতি পদে প্রার্থী স্টুডেন্ট অ্যালায়েন্স ফর ডেমোক্রেসি কেন্দ্রীয় সদস্যসচিব আবির বিন জাবেদ খবরের কাগজেকে বলেন, ‘হল সংসদে আমরা প্রার্থী না দিয়ে আমাদের মূল প্যানেলে একেক হল থেকে একেকজনকে রেখেছি। আমরা এমনভাবে প্যানেল করেছি যাতে প্রত্যেক হল থেকে প্রার্থী মূল প্যানেলে থাকে মতো। এটাই আমাদের সুবিধাজনক অবস্থান
হবে বলে আমরা মনে করছি। তবে হল সংসদে কোনো ধরনের শঙ্কা ছিল না। কৌশলে আমরা প্রার্থী দিইনি।’
বৈচিত্র্যের ঐক্য ভিপি প্রার্থী ধ্রুব বড়ুয়া বলেন, ‘প্রত্যেক হল থেকে একাধিক স্বতন্ত্র প্রার্থী নির্বাচন করছেন। তাদের সমর্থনে আমরা হল সংসদের প্রার্থী দিইনি। আশা করছি আমরা যথেষ্ট সাপোর্ট পাবো। অরাজনৈতিক শিক্ষার্থীদের নিয়ে’ সার্বভৌম শিক্ষার্থী ঐক্য; নামে একটি প্যানেল ভিপি প্রার্থী তাওসিফ মুত্তাকি চৌধুরী খবরের কাগজকে বলেন, আমাদের প্রার্থীর সংকট ছিল তাই হল সংসদে প্রার্থী দিতে
পারিনি। আমি মনে করি কেন্দ্রীয় সংসদে আমরা জয়ী হতে পারলে হলে কাজ করার সুযোগ রয়েছে।’
অন্যদিকে, ১৪টি হল সংসদে লড়বেন ৪৭৩ জন প্রার্থী। তাদের মধ্যে ছাত্রদের ৯টি হল ও ১টি হোস্টেল মিলে ৩৫০ জন এবং ছাত্রীদের ৫টি হলে ১২৩ জন। যার মধ্যে ছেলেদের হলগুলোতে রয়েছে- এএফ রহমান হলে ৩৮, আলাওল হলে ৩২, অতীশ দীপংকর হলে ৩৭, শাহ আমানত হলে ৪৩, শহিদ ফরহাদ হোসেন হলে ৪৫, মাস্টারদা সূর্যসেন হলে ৩৭, শহিদ আব্দুর রব হলে ৩১, শাহজালাল হলে ৩৪, সোহরাওয়ার্দী হলে ৫৩। এ ছাড়া শিল্পী রশিদ চৌধুরী হোস্টেলে ২০ জন।
এ ছাড়া মেয়েদের হলগুলোতে রয়েছে- বিজয় ২৪ হলে ২৮, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া হলে ৩০, নওয়াব ফয়জুন্নেসা হলে ১৭, প্রীতিলতা হলে ২৬, শামসুন্নাহার হলে ২২।
বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচটি অনুষদ ভবনের ১৫টি কেন্দ্রে ভোট অনুষ্ঠিত হবে। এ ছাড়া প্রতিবন্ধীশিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে চাকসু ভবনে ১টি অতিরিক্ত কেন্দ্র স্থাপন করেছে নির্বাচন কমিশন। এসব কেন্দ্রের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে ৬৫ থেকে ৭০টি কক্ষ। প্রতিটি কক্ষে থাকবে পাঁচটি ব্যালট বাক্স এবং পাঁচজন করে এজেন্ট। একটি কেন্দ্রে সর্বোচ্চ ৫০০ ভোটার ভোট দিতে পারবেন।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে মোট ভোটার রয়েছেন ২৭ হাজার ৫১৮ জন। এর মধ্যে ছেলে ভোটার আছেন ১৬ হাজার ১৮৯ ও নারী ভোটার রয়েছেন ১১ হাজার ৩২৯ জন।
যার মধ্যে, প্রকৌশল অনুষদে ভোট দেবেন ৪ হাজার ৩৬ জন। তারা সোহরাওয়ার্দী হলের শিক্ষার্থী। কলা ও মানববিদ্যা অনুষদের নতুন ভবন শহিদ হৃদয় চন্দ্র তরুয়া ভবনে ভোট দেবেন ৫ হাজার ২৬৩ শিক্ষার্থী। এর মধ্যে শাহজালাল হলের ২ হাজার ৬৬৬ জন, এ এফ রহমান হলের ১ হাজার ৩০৭ ও আলাওল হলের ১ হাজার ২৯০ জন ভোটার রয়েছেন।
বিজ্ঞান অনুষদ ভবনে ভোট দেবেন ৪ হাজার ৫৩৮ শিক্ষার্থী। এর মধ্যে শাহ আমানত হলের ২ হাজার ২৪৭ জন, শহিদ আবদুর রব হলের ১ হাজার ৭৭৫ ও মাস্টারদা সূর্য সেন হলের ৫১৬ জন।
সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ড. মুহাম্মদ ইউনূস ভবনে ভোট দেবেন ৬ হাজার ৬০৬ শিক্ষার্থী। যার মধ্যে নবাব ফয়জুন্নেছা হলের ১ হাজার ১৭৯ জন, শামসুন নাহার হলের ২ হাজার ২৯১, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া হলের ২ হাজার ৪৮৭ ও অতীশ দীপংকর হলের ৬৪৯ জন।
ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদ ভবনে ভোট দেবেন মোট ৭ হাজার ৭৩ শিক্ষার্থী। যার মধ্যে প্রীতিলতা হলের ২ হাজার ৫৫৫ জন, বিজয়–২৪ হলের ২ হাজার ৬০৪, শহিদ ফরহাদ হোসেন হলের ১ হাজার ৭৬০ ও শিল্পী রশিদ চৌধুরী হোস্টেলের ১৫৪ জন।
রিফাত/