ঢাকা ৯ আষাঢ় ১৪৩৩, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদারে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ডব্লিউইএফ প্রেসিডেন্টের সাক্ষাৎ ওয়ান ব্যাংক থেকে নগদে তাৎক্ষণিক টাকা পাঠানোর সেবা চালু Wisdom of King Soloman বিষয়ক Story Writing নিয়ে আলোচনা, ২য় পর্ব, এইচএসসির ইংরেজি ১ম পত্র শুধু সাফল্য নয়, অনিয়মও তুলে ধরুন—সাংবাদিকদের প্রাণীসম্পদ মন্ত্রী উন্নত স্বাস্থ্যসেবা ও বিশেষ সুবিধা নিশ্চিতে মাস্টারকার্ড ও অ্যাসেন্ট হেলথ লিমিটেডের অংশীদারিত্ব ক্যালিফোর্নিয়ার আকাশে বাংলাদেশের রং নায়িকা ববি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বললেন বাশার তার স্বামী নন ইউল্যাবে জেন্ডার সমতা, সামাজিক ন্যায়বিচার বিষয়ক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত পানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে এশিয়ার দেশগুলোর সম্মিলিত উদ্যোগের তাগিদ স্পিকারের সাহিত্যের খেলা প্রবন্ধর ৪০টি জ্ঞানমূলক প্রশ্ন ও উত্তর, ১ম পর্ব, এইচএসসির বাংলা ১ম পত্র প্রাইভেট ব্যাংকে চাকরির সুযোগ সিয়াটলে যাওয়ার অনুমতি পেল না মিশর ডিবি পরিচয়ে ব্যবসায়ীর বাড়িতে তাণ্ডব, আসবাবপত্র ভাঙচুরের পর লুটপাট জর্ডান ম্যাচে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত স্কালোনির লক্ষ্মীপুরে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের প্রতিবাদে যুবদলের বিক্ষোভ পোড়া ক্ষত সারাতে তেলাপিয়া মাছের চামড়া, চিকিৎসাবিজ্ঞানে নতুন সম্ভাবনা দাউদকান্দি পৌরসভার ৪৩ কোটি টাকার উন্মুক্ত বাজেট ঘোষণা ব্র্যাকের প্রশিক্ষণ শেষে নারীরা পেলেন পেশাদার চালকের সনদ সিএনজি সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য: জিম্মি যাত্রীরা বিপৎসীমার ওপরে তিস্তার পানি, নিম্নাঞ্চলে বন্যার আশঙ্কা সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী অসামান্য গদ্যশৈলীর রূপকার টেকনাফে যাত্রীবাহী বাস খাদে পড়ে আহত ১০ মুক্তমঞ্চে খেলা দেখা নিয়ে শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ রোবোটিক্স প্রতিযোগিতায় চ‍্যাম্পিয়ন লিডিং ইউনিভার্সিটি দল আখাউড়ায় ‘পার্টনার কংগ্রেস’ গোল্ডেন বুট নিয়ে ভাবছেন না কিলিয়ান এমবাপ্পে সাবেক ভূমিমন্ত্রীসহ ৩৬ আসামির মামলায় আরও ৭ সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ অস্তিত্ব সংকটে মমতার তৃণমূল সরাসরি মোবাইলেই মিলবে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট পদত্যাগ করলেন ১৮ ডেপুটি ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল

চাকসু হল সংসদে প্যানেল দিতে পারেনি ছাত্রদলসহ অন্যান্য ১২

প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর ২০২৫, ০৭:৩৪ পিএম
আপডেট: ১৪ অক্টোবর ২০২৫, ০৭:৪০ পিএম
চাকসু হল সংসদে প্যানেল দিতে পারেনি ছাত্রদলসহ অন্যান্য ১২
ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের হল সংসদ নির্বাচনে ১৩টি প্যানেল অংশ নিলেও হলগুলোতে ছাত্রশিবিরের ‘সম্প্রীতির শিক্ষার্থী জোট’ ছাড়া আর কেউ প্যানেল দিতে পারেনি। ছেলেদের হলগুলোতে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির এবং ছাত্রী হলগুলোতে তাদের সহযোগী সংগঠন ছাত্রী সংস্থা প্রত্যেক হলে প্যানেল দিয়েছে। এর বাইরে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া হলে ‘স্বতন্ত্র নারী কণ্ঠ’ নামে একটি প্যানেল এবং প্রীতিলতা হলে ‘স্বতন্ত্র সম্প্রীতি প্যানেল’ নামে আরেকটি স্বতন্ত্র প্যানেল নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে।

চাকসু নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্যানেলগুলো হলো দ্রোহ পর্ষদ, ছাত্রদল প্যানেল, সম্প্রীতির শিক্ষার্থী জোট, স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী সম্মিলন, সচেতন শিক্ষার্থী সংসদ, বৈচিত্র্যের ঐক্য, অহিংস শিক্ষার্থী ঐক্য, সার্বভৌম শিক্ষার্থী ঐক্য, স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী জোট, চাকসু ফর র‌্যাপিড চেঞ্জ, ভয়েস অব স্টুডেন্ট এবং সর্বজনীন ছাত্র ঐক্য পরিষদ।

অন্যদিকে ছাত্রদলসহ অপর ১২টি প্যানে কোনো হল সংসদ নির্বাচনে প্যানেল দিতে পারেনি। যেকারণে হলগুলোতে প্রচারণা ক্ষেত্রে ছাত্রশিবির বাড়তি সুবিধা পাচ্ছে।

খবরের কাগজের সঙ্গে আলাপ হয় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক হলের শিক্ষার্থীর সঙ্গে। তারা বলেন, ‘চাকসু নির্বাচন জমজমাট হলেও হল সংসদ নির্বাচন অনেকটা ম্যাড়মেড়ে চাকসুতে ১১টি প্যানেল অংশগ্রহণ করছে। এখানেও যদি তাদের প্যানেল থাকতো তাহলে নির্বাচনি উত্তাপ আরও বাড়তো। এখন যেহেতু অন্য প্যানেল নেই। কিছু কিছু পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী আছে। তারাই চষে বেড়াচ্ছেন হলগুলো।’

সংশ্লিষ্টরা জানান, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ৯টি ছাত্র হল ও ৫টি ছাত্রী হলে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ১৪টি হল ও একটি হোস্টেলের ২০৬টি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মোট ৬০০ জন প্রার্থী।

ছাত্রশিবির প্যানেলের ভিপি প্রার্থী ইব্রাহীম হোসেন রনি খবরের কাগজকে বলেন, ‘আমাদের প্যানেল থেকে প্রত্যেকটি হল সংসদের প্রার্থী দেওয়া হয়েছে। হলে শিক্ষার্থীরা উৎসব মুখর পরিবেশে নির্বাচন ভোট দিবেন। অন্য প্যানেল থেকে হল সংসদের প্রার্থী দেওয়া হয়নি। সেখানে আমাদের কোনো ধরনের বাঁধা বিপত্তি ছিল না। চাইলে সব প্যানেল থেকেই হল সংসদে প্রার্থী দিতে পারতেন।’

ছাত্রদল প্যানেলের জিএস প্রার্থী মো. শাফায়াত খবরের কাগজকে বলেন, ‘আমাদের সিনিয়র ভাইয়েরা যেভাবে প্যানেল দিয়েছেন আমরা সেভাবে কাজ করছি। হল সংসদের প্রার্থী না দেওয়ার বিষয়ে তাই আমি কিছুই বলতে পারছি না। তবে কোনো ধরনের বাধা বিপত্তি ছিল না। সুষ্টু সুন্দর ভাবে এ পর্যন্ত প্রচারণা চালিয়ে আসছি। সব কিছু সুন্দর ভাবে শেষ করতে পারলেই হলো। চবি শিক্ষার্থীরা আমাদের পক্ষে থাকবে, কারণ বিগত দিনে ছাত্রদল একটি প্রগতিশীল রাজনৈতিক দল হিসেবে চবিতে ছিল। সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ছিল।’

প্যানেল ‘বিনির্মাণ শিক্ষার্থী ঐক্য’ প্যানেলের সহ- সভাপতি পদে প্রার্থী স্টুডেন্ট অ্যালায়েন্স ফর ডেমোক্রেসি কেন্দ্রীয় সদস্যসচিব আবির বিন জাবেদ খবরের কাগজেকে বলেন, ‘হল সংসদে আমরা প্রার্থী না দিয়ে আমাদের মূল প্যানেলে একেক হল থেকে একেকজনকে রেখেছি। আমরা এমনভাবে প্যানেল করেছি যাতে প্রত্যেক হল থেকে প্রার্থী মূল প্যানেলে থাকে মতো। এটাই আমাদের সুবিধাজনক অবস্থান
হবে বলে আমরা মনে করছি। তবে হল সংসদে কোনো ধরনের শঙ্কা ছিল না। কৌশলে আমরা প্রার্থী দিইনি।’

বৈচিত্র্যের ঐক্য ভিপি প্রার্থী ধ্রুব বড়ুয়া বলেন, ‘প্রত্যেক হল থেকে একাধিক স্বতন্ত্র প্রার্থী নির্বাচন করছেন। তাদের সমর্থনে আমরা হল সংসদের প্রার্থী দিইনি। আশা করছি আমরা যথেষ্ট সাপোর্ট পাবো। অরাজনৈতিক শিক্ষার্থীদের নিয়ে’ সার্বভৌম শিক্ষার্থী ঐক্য; নামে একটি প্যানেল ভিপি প্রার্থী তাওসিফ মুত্তাকি চৌধুরী খবরের কাগজকে বলেন, আমাদের প্রার্থীর সংকট ছিল তাই হল সংসদে প্রার্থী দিতে
পারিনি। আমি মনে করি কেন্দ্রীয় সংসদে আমরা জয়ী হতে পারলে হলে কাজ করার সুযোগ রয়েছে।’

অন্যদিকে, ১৪টি হল সংসদে লড়বেন ৪৭৩ জন প্রার্থী। তাদের মধ্যে ছাত্রদের ৯টি হল ও ১টি হোস্টেল মিলে ৩৫০ জন এবং ছাত্রীদের ৫টি হলে ১২৩ জন। যার মধ্যে ছেলেদের হলগুলোতে রয়েছে- এএফ রহমান হলে ৩৮, আলাওল হলে ৩২, অতীশ দীপংকর হলে ৩৭, শাহ আমানত হলে ৪৩, শহিদ ফরহাদ হোসেন হলে ৪৫, মাস্টারদা সূর্যসেন হলে ৩৭, শহিদ আব্দুর রব হলে ৩১, শাহজালাল হলে ৩৪, সোহরাওয়ার্দী হলে ৫৩। এ ছাড়া শিল্পী রশিদ চৌধুরী হোস্টেলে ২০ জন।

এ ছাড়া মেয়েদের হলগুলোতে রয়েছে- বিজয় ২৪ হলে ২৮, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া হলে ৩০, নওয়াব ফয়জুন্নেসা হলে ১৭, প্রীতিলতা হলে ২৬, শামসুন্নাহার হলে ২২।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচটি অনুষদ ভবনের ১৫টি কেন্দ্রে ভোট অনুষ্ঠিত হবে। এ ছাড়া প্রতিবন্ধীশিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে চাকসু ভবনে ১টি অতিরিক্ত কেন্দ্র স্থাপন করেছে নির্বাচন কমিশন। এসব কেন্দ্রের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে ৬৫ থেকে ৭০টি কক্ষ। প্রতিটি কক্ষে থাকবে পাঁচটি ব্যালট বাক্স এবং পাঁচজন করে এজেন্ট। একটি কেন্দ্রে সর্বোচ্চ ৫০০ ভোটার ভোট দিতে পারবেন।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে মোট ভোটার রয়েছেন ২৭ হাজার ৫১৮ জন। এর মধ্যে ছেলে ভোটার আছেন ১৬ হাজার ১৮৯ ও নারী ভোটার রয়েছেন ১১ হাজার ৩২৯ জন।

যার মধ্যে, প্রকৌশল অনুষদে ভোট দেবেন ৪ হাজার ৩৬ জন। তারা সোহরাওয়ার্দী হলের শিক্ষার্থী। কলা ও মানববিদ্যা অনুষদের নতুন ভবন শহিদ হৃদয় চন্দ্র তরুয়া ভবনে ভোট দেবেন ৫ হাজার ২৬৩ শিক্ষার্থী। এর মধ্যে শাহজালাল হলের ২ হাজার ৬৬৬ জন, এ এফ রহমান হলের ১ হাজার ৩০৭ ও আলাওল হলের ১ হাজার ২৯০ জন ভোটার রয়েছেন।

বিজ্ঞান অনুষদ ভবনে ভোট দেবেন ৪ হাজার ৫৩৮ শিক্ষার্থী। এর মধ্যে শাহ আমানত হলের ২ হাজার ২৪৭ জন, শহিদ আবদুর রব হলের ১ হাজার ৭৭৫ ও মাস্টারদা সূর্য সেন হলের ৫১৬ জন।

সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ড. মুহাম্মদ ইউনূস ভবনে ভোট দেবেন ৬ হাজার ৬০৬ শিক্ষার্থী। যার মধ্যে নবাব ফয়জুন্নেছা হলের ১ হাজার ১৭৯ জন, শামসুন নাহার হলের ২ হাজার ২৯১, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া হলের ২ হাজার ৪৮৭ ও অতীশ দীপংকর হলের ৬৪৯ জন।

ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদ ভবনে ভোট দেবেন মোট ৭ হাজার ৭৩ শিক্ষার্থী। যার মধ্যে প্রীতিলতা হলের ২ হাজার ৫৫৫ জন, বিজয়–২৪ হলের ২ হাজার ৬০৪, শহিদ ফরহাদ হোসেন হলের ১ হাজার ৭৬০ ও শিল্পী রশিদ চৌধুরী হোস্টেলের ১৫৪ জন।

রিফাত/

মুক্তমঞ্চে খেলা দেখা নিয়ে শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ০৫:০৫ পিএম
মুক্তমঞ্চে খেলা দেখা নিয়ে শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ
ছবি: থবরের কাগজ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) মুক্তমঞ্চে আর্জেন্টিনা–অস্ট্রিয়া ম্যাচ দেখাকে কেন্দ্র করে এক শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জাকসুর ক্রীড়া সম্পাদকসহ কয়েকজন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী।

অভিযোগকারী নাঈম আহমদ সানি প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের চতুর্থ বর্ষের (৫০তম আবর্তন) শিক্ষার্থী। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বরাবর দেওয়া এক আবেদনে ঘটনার বিচার ও নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

লিখিত অভিযোগে নাঈম আহমদ সানি বলেন, সোমবার (২২ জুন) রাত ১০টার দিকে তিনি হলের অন্য শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মুক্তমঞ্চে আর্জেন্টিনা–অস্ট্রিয়া ম্যাচ দেখতে যান। খেলা শুরুর আগে সেখানে একটি রম্য বিতর্ক অনুষ্ঠান চলছিল। নির্ধারিত সময়ের কাছাকাছি এসে খেলার সম্প্রচার শুরু না হওয়ায় দর্শকদের অনেকেই খেলা চালুর দাবি জানান। এ সময় তিনিও অন্যদের সঙ্গে খেলা শুরু করার আহ্বান জানান।

অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, এ সময় জাকসুর ক্রীড়া সম্পাদক কিরণ (বাংলা বিভাগ, ৪৮তম আবর্তন) মঞ্চ থেকে নেমে এসে তাঁর সঙ্গে বাক্‌বিতণ্ডায় জড়ান। পরে পরিস্থিতি শান্ত হয়ে গেলেও কয়েক মিনিট পর কিরণ, ইমন (পাবলিক হেলথ, ৪৮তম আবর্তন), সাঞ্জু (দর্শন বিভাগ, ৪৮তম আবর্তন) ও তাঁদের সঙ্গে থাকা আরও কয়েকজন তাঁকে ঘিরে মারধর করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

নাঈমের দাবি, হামলার সময় তাঁকে কিল–ঘুষি ও ধাক্কাধাক্কি করা হয়। তাঁর গলায় থাকা আর্জেন্টিনার পতাকা পেঁচিয়ে ধরার ফলে শ্বাসরোধের পরিস্থিতিও তৈরি হয়। এতে তাঁর মুখ, গলা ও চোখের আশপাশে আঘাত লাগে এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে ক্ষত সৃষ্টি হয়।

অভিযোগে তিনি আরও বলেন, হামলার পর আতঙ্কিত হয়ে তিনি ঘটনাস্থল ত্যাগ করে টিএসসির একটি ওয়াশরুমে আশ্রয় নেন। পরবর্তীতে নিজের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা থেকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে বিচার ও নিরাপত্তা চেয়ে আবেদন করেন।

এ বিষয়ে জাকসুর ক্রীড়া সম্পাদক মাহমুদুল হাসান কিরণ বলেন, “খেলা দেখতে অতিরিক্ত দর্শক উপস্থিত হওয়ায় শুরুতে কিছুটা বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। ওই শিক্ষার্থীকে উত্তেজিত আচরণ করতে দেখে আমি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করি। এ সময় তাঁর সঙ্গে আমার কথা-কাটাকাটি হয়। পরে আমি সেখান থেকে চলে আসি। এর পর সেখানে কী ঘটেছে, সে বিষয়ে আমার কোনো ধারণা নেই।”

তিনি আরও বলেন, “পরে জানতে পারি তিনি আহত হয়েছেন। বিষয়টি শুনে আমি দুঃখ প্রকাশ করতে তাঁর হলে গিয়েছিলাম। তবে তিনি আমার সঙ্গে দেখা করেননি। যেহেতু খেলা প্রদর্শনের আয়োজনের দায়িত্বে আমি ছিলাম, তাই সৌজন্যবশত তাঁর খোঁজ নিতে গিয়েছিলাম।”

অভিযোগে নাম থাকা শিক্ষার্থী ইমন বলেন, “কিরণের সঙ্গে তাঁর বাক্‌বিতণ্ডা হতে দেখে আমরা বিষয়টি মীমাংসার জন্য এগিয়ে যাই। তখন সেখানে মবের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। ওই ঘটনায় তিনি আহত হয়েছেন। তবে আমি এবং সাঞ্জু তাঁকে মারধর করিনি; আমরা মূলত কথা বলতে গিয়েছিলাম।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. রাশেদুল আলম বলেন, লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। সন্ধ্যায় জাকসু ভিপিসহ উভয়পক্ষকে নিয়ে বসবো

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী তাঁর আবেদনে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ক্যাম্পাসে নিরাপদে চলাফেরার নিশ্চয়তা চেয়েছেন।

আমানউল্লাহ খান/এসএন

রোবোটিক্স প্রতিযোগিতায় চ‍্যাম্পিয়ন লিডিং ইউনিভার্সিটি দল

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ০৫:০০ পিএম
রোবোটিক্স প্রতিযোগিতায় চ‍্যাম্পিয়ন লিডিং ইউনিভার্সিটি দল
রোবোটিক্স বিভাগে চ্যাম্পিয়ন লিডিং ইউনিভার্সিটি দল। ছবি: খবরের কাগজ

‘ক্যালিব্রেশন ২.০’- প্রতিযোগিতামূলক রোবোটিক্স বিভাগে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে লিডিং ইউনিভার্সিটির ইলেকট্রিক‍্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের শিক্ষার্থী দল। 

শিক্ষার্থী মাজেদুল ইসলাম নাঈম ও নাদিম আহমেদের দল মাইক্রো মাউস প্রতিযোগিতায় চ‍্যাম্পিয়ন এবং লাইন ফলোয়িং রোবোট প্রতিযোগিতায় রানারআপ হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়। 

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিভার্সিটি (কুয়েট) আয়োজিত ‌সারা দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষ দলগুলোর বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তাদের সৃজনশীলতা, সমস্যা সমাধানের ক্ষমতা এবং নিষ্ঠা দলকে এই  সাফল্যে পৌঁছে দিয়েছে।

এ অর্জন লিডিং ইউনিভার্সিটির জন্য সম্মান ও স্বীকৃতি বয়ে আনায় দলটিকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়ে লিডিং ইউনিভার্সিটির উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ তাজ উদ্দিন বলেন, শিক্ষার্থীদের এ সাফল্য ইইই বিভাগের মধ্যে উদ্ভাবন, রোবোটিক্স এবং প্রযুক্তিগত উৎকর্ষের ক্রমবর্ধমান চেতনাকে প্রতিফলিত করে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবিষ্যৎ উদ্ভাবকদের অনুপ্রাণিত করবে। 

তাদের এ সাফল্যে লিডিং ইউনিভার্সিটির ইইই বিভাগের বিভাগীয় প্রধান মো. নিয়াজ মোরশেদুল হক অভিনন্দন জানিয়েছেন।

চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত হলো ব্যতিক্রমধর্মী ‘ওয়ার্ল্ড কাপ ডিবেট ২০২৬’

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ০৪:১৪ পিএম
চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত হলো ব্যতিক্রমধর্মী ‘ওয়ার্ল্ড কাপ ডিবেট ২০২৬’

ফুটবল বিশ্বকাপের উন্মাদনাকে যুক্তির মঞ্চে তুলে আনতে ন্যাশনাল ডিবেট ফেডারেশন বাংলাদেশ (এনডিএফ বিডি) চট্টগ্রাম জোনের উদ্যোগে গতকাল (২২ জুন) সোমবার চিটাগং ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি (সিআইইউ) অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়েছে ব্যতিক্রমধর্মী বিতর্ক আয়োজন ‘ওয়ার্ল্ড কাপ ডিবেট ২০২৬’।

‘বিশ্বকাপে আমিই সেরা’ শীর্ষক এই আয়োজনে এনডিএফ বিডির ফাউন্ডেশন ডিবেট কোর্সের ছয়জন প্রশিক্ষণার্থী তার্কিক বিশ্বকাপের জনপ্রিয় ছয়টি দলের প্রতিনিধিত্ব করে অংশগ্রহণ করেন। অভিনব এ প্রতিযোগিতায় যুক্তি, উপস্থাপনা দক্ষতা এবং তাৎক্ষণিক বিশ্লেষণী ক্ষমতার সমন্বয়ে অংশগ্রহণকারীরা নিজেদের সেরাটা তুলে ধরেন। ফুটবলপ্রেম ও বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চার মেলবন্ধনে আয়োজিত এ অনুষ্ঠান উপস্থিত দর্শকদেরও ব্যাপকভাবে আকৃষ্ট করে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এনডিএফ বিডির চেয়ারম্যান একেএম শোয়াইব। বিশেষ অতিথি ও বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিআইইউ আউটরিচ কমিটির কনভেনার ড. ইমন কল্যাণ, চিটাগং ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটির রেজিস্ট্রার আনজুমান বানু লিমা এবং এনডিএফ বিডির কো-চেয়ারম্যান জুয়েল চৌধুরী।

বক্তারা তাদের বক্তব্যে বলেন, বিতর্কচর্চা তরুণদের মধ্যে যুক্তিবোধ, নেতৃত্ব, সমালোচনামূলক চিন্তাশক্তি এবং কার্যকর যোগাযোগ দক্ষতা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তারা নতুন প্রজন্মকে যুক্তিনির্ভর, সচেতন ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে এ ধরনের সৃজনশীল উদ্যোগের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

প্রতিযোগিতায় জার্মানি দলের প্রতিনিধিত্ব করেন ফুলকি সহজপাঠ স্কুলের আরণ্য সহ, ফ্রান্স দলের প্রতিনিধিত্ব করেন চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও অ্যানিম্যাল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের জোয়াইরা মেহেজাবীন নিয়ন্তা, স্পেন দলের প্রতিনিধিত্ব করেন সেন্ট প্ল্যাসিডস স্কুল অ্যান্ড কলেজের আজওয়াদ চৌধুরী, পর্তুগাল দলের প্রতিনিধিত্ব করেন চট্টগ্রাম কলেজের আদিল আরেফিন, আর্জেন্টিনা দলের প্রতিনিধিত্ব করেন ইস্পাহানি পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের রামিসা ফারজানা এবং ব্রাজিল দলের প্রতিনিধিত্ব করেন চিটাগং ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটির সামিয়া ইসলাম।

বিতর্ক পর্ব শেষে অংশগ্রহণকারীদের জন্য আয়োজন করা হয় একটি প্রাণবন্ত কাহুট কুইজ প্রতিযোগিতা। এতে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্য দিয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সৌরভ ভট্টাচার্য চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেন। ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি, চট্টগ্রামের অবন্তিকা তালুকদার প্রথম রানার আপ, চিটাগং ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটির প্রমিত দ্বিতীয় রানার আপ, ইস্পাহানি পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের শোয়াইব তৃতীয় রানার আপ এবং চিটাগং ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটির নিতু চতুর্থ রানার আপ হন।

পরে বিতর্ক ও কুইজ প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার ও সনদপত্র বিতরণ করা হয়। পুরস্কার বিতরণের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

অংশগ্রহণকারী, প্রশিক্ষক, অতিথি ও আয়োজকদের আন্তরিক সহযোগিতায় ‘ওয়ার্ল্ড কাপ ডিবেট ২০২৬’ সফলভাবে সম্পন্ন হয়। আয়োজকরা ভবিষ্যতেও তরুণ প্রজন্মের মধ্যে যুক্তিচর্চা, নেতৃত্ব বিকাশ এবং বুদ্ধিবৃত্তিক উৎকর্ষ সাধনে সহায়ক এমন সৃজনশীল ও ব্যতিক্রমধর্মী আয়োজন অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

/এমটি 

জুলাই অভ্যুত্থান: ঢাবির ৩ শিক্ষক বরখাস্ত, একাডেমিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি ২ জনের

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ০২:৫০ পিএম
আপডেট: ২৩ জুন ২০২৬, ০৪:৩৮ পিএম
জুলাই অভ্যুত্থান: ঢাবির ৩ শিক্ষক বরখাস্ত, একাডেমিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি ২ জনের
ছবি: খবরের কাগজ

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে বিতর্কিত ভূমিকা এবং আন্দোলনে জড়িত শিক্ষার্থীদের হুমকিসহ নানা অভিযোগের প্রেক্ষিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) তিন শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এছাড়া অভ্যুত্থানে শিক্ষার্থীদের হুমকি, নারী শিক্ষার্থীদের পোশাক নিয়ে অবমাননার অভিযোগে এক শিক্ষক এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের জেরে আরেক শিক্ষককে একাডেমিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) দুপুরে খবরের কাগজকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী।

গতকাল সোমবার রাতে অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. ওবায়দুল ইসলাম।

সাময়িক বরখাস্ত শিক্ষকরা হলেন- লোক প্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. নাজমুল আহসান কলিম উল্লাহ, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. আ ক ম জামাল উদ্দীন, ব্যাংকিং অ্যান্ড ইনস্যুরেন্স বিভাগের অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম।

একাডেমিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি পাওয়া শিক্ষকরা হলেন- উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আজমল হোসেন ভূঁইয়া এবং বাংলা বিভাগের অধ্যাপক চৌধুরী মো. তাশরিক-ই-হাবিব।

উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী খবরের কাগজকে বলেন, ‘আইন উপদেষ্টার সুপারিশক্রমে জুলাই অভ্যুত্থানে নানা অভিযোগের প্রেক্ষিতে তিন শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এছাড়া অধ্যাপক আজম সাহেবের বিরুদ্ধে জুলাই অভ্যুত্থানে শিক্ষার্থীদের হুমকি, নারী শিক্ষার্থীদের পোশাক নিয়ে অবমাননার অভিযোগে একাডেমিক কমিটি থেকে সুপারিশ আসে। এটিও আইন উপদেষ্টার মতামতের উপর ভিত্তিতে নেওয়া হয়েছে।’

শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নানা অভিযোগের ভিত্তিতে একাডেমিক কাউন্সিলের সুপারিশ অনুয়ায়ী বাংলা বিভাগের অধ্যাপক তাশরিক-ই-হাবিবকে একাডেমিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া জুলাই অভ্যুত্থানে বিতর্কিত ভূমিকা অবস্থান নেওয়াতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা লাভলু মোল্লা শিশিরকেও (মুহাম্মদ লাভলু মোল্লা) সাময়িক বরখাস্ত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

সিন্ডিকেটের ওই সভায় ছাত্রদের যৌন নিপীড়নের অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক এরশাদ হালিমকে স্থায়ী বহিষ্কারের সুপারিশ করেছে তদন্ত কমিটি।

তদন্ত প্রতিবেদন সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় অনুমোদন পায়। ফলে স্থায়ী বহিষ্কার হতে পারেন অধ্যাপক এরশাদ।

এ প্রসঙ্গে অধ্যাপক আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী বলেন, ‘রসায়নের ওই শিক্ষকের বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় ট্রাইব্যুনালে পাঠিয়েছে, এখন ট্রাইব্যুনাল চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন।’

আরিফ জাওয়াদ/খাদিজা রুমি/

ডাকসুর জিএস গোলাম রাব্বানীর পদ বাতিল

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ০১:৫৮ পিএম
আপডেট: ২৩ জুন ২০২৬, ০২:২১ পিএম
ডাকসুর জিএস গোলাম রাব্বানীর পদ বাতিল
গোলাম রাব্বানী
২০১৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) নির্বাচনে অংশ নিতে এমফিল প্রোগ্রামে ভর্তি জালিয়াতির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তৎকালীন ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) গোলাম রাব্বানীর পদ বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিনির্ধারণী সর্বোচ্চ ফোরাম সিন্ডিকেট। যদিও এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন উপদেষ্টা বরাবর পাঠানো হয়েছে।
 
মঙ্গলবার (২৩ জুন) দুপুরে খবরের কাগজকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী।
 
তিনি বলেন, ‘২০১৯ সালের ডাকসু নির্বাচনে অংশ নিয়ে জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে এমফিল প্রোগ্রামে ভর্তি হয়েছিল গোলাম রব্বানী, বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ায় তার জিএস পদ বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সিন্ডিকেট। এখন এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে, তা আইন উপদেষ্টা বরাবর পাঠানো হয়েছে।’
 
পদ বাতিল করা হলে শূন্য হওয়া ওই জিএস পদে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী রাশেদ খাঁন পদ ফিরে পাবেন কি-না এমন প্রশ্নের জবাবে উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী বলেন, ‘চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতেই আইন উপদেষ্টা বরাবর পাঠানো হয়েছে, সেখান থেকে যে সিদ্ধান্ত আসবে সেটি আমলে নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।’
 
এর আগে গতকাল সোমবার রাতে অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. ওবায়দুল ইসলাম।
 
গত বছরের ২৬ নভেম্বর গোলাম রাব্বানীর এমফিল প্রোগ্রামে জালিয়াতির মাধ্যমে ভর্তির অভিযোগ প্রতীয়মান হওয়ায় তার এমফিল ভর্তি বাতিল করে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিল।
 
উল্লেখ্য, দীর্ঘ ১৯ বছরের বিরতির পর ২০১৯ সালে ১১ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনে মোট ২৫টি পদের মধ্যে ২৩টি পদেই নির্বাচিত হন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ সমর্থিত সম্মিলিত শিক্ষার্থী সংসদের প্রার্থীরা। অন্যদিকে ভিপি এবং সমাজসেবা বিষয়ক সম্পাদকের পদে জয়ী হয় বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ মনোনীত প্রার্থীরা।
 
এছাড়া জিএস পদে বিজয়ী হন বর্তমানে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী। তিনি ভোট পান ১০ হাজার ৪৮৪। অন্যদিকে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী তৎকালীন কোটা আন্দোলনের নেতা রাশেদ খাঁন পান ৬ হাজার ৬৩ ভোট।
 
অবৈধ উপায়ে ভর্তি হয়ে ডাকসু নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সব সদস্যের ডাকসুর সদস্যপদ বাতিলপূর্বক ভুক্তভোগী প্রার্থীদের মূল্যায়নে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ এবং ২০১৯ সালের ২২ ডিসেম্বর ডাকসু ভবনে সংঘটিত নৃশংস হামলার ঘটনায় জড়িত অপরাধীদের বিচারের দাবি জানিয়ে গত বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে বিচার দাবিতে আবেদন করে রাশেদ খাঁন। এর প্রেক্ষিতে গঠন করা হয় তদন্ত কমিটি।
 
আরিফ জাওয়াদ/খাদিজা রুমি/