জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে চব্বিশের জুলাইয়ে হামলায় মদদদাতা অভিযুক্ত শিক্ষকদের দায়মুক্তির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন শিক্ষার্থীরা।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) রাত সাড়ে ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে গিয়ে শেষ হয়।
সেখানে সংক্ষিপ্ত প্রতিবাদ সমাবেশের পর শিক্ষার্থীরা উপাচার্যসহ প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করেন।
শিক্ষার্থীরা রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন।
সাধারণ শিক্ষার্থীর আয়োজনে বিক্ষোভ মিছিলে জাকসুসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতারা অংশ নিয়ে সংহতি প্রকাশ করেন। মিছিলকারীরা ‘মুজিববাদের দালালেরা হুঁশিয়ার সাবধান’, ‘ফ্যাসিবাদের দালালেরা হুঁশিয়ার সাবধান’, ‘যে হাত সন্ত্রাস করে, সে হাত ভেঙে দাও’, ‘নুরুলের ঠিকানা এই ক্যাম্পাসে হবে না’, ‘ফিরোজের চামড়া তুলে নিবো আমরা’, ‘বসিরের চামড়া তুলে নিবো আমরা’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।
সমাবেশে ‘মানি না মানবো না অরুণাপল্লীর বিচার’, ‘ছি ছি ধিক্কার কামরুলের বিচার’, ‘ছি ছি ধিক্কার কামরুল (ভিসি) তুই গাদ্দার’, ‘প্রহসনের বিচার মানি না, মানব না’ ইত্যাদি স্লোগান দেওয়া হয়।
জাকসুর সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম বাপ্পির সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা।
বিক্ষোভ সমাবেশে জার্নালিজম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী মালিহা নামলাহ বলেন, ’১৫ জুলাই দুপুর ও রাতে, ১৭ জুলাই বিকেলে ছাত্রলীগ ও সন্ত্রাসীরা চাপাতি-বন্দুক নিয়ে আমাদের ওপর হামলা করেছিল। আমরা ভিসির গেটে চিৎকার করে সাহায্য চেয়েছিলাম। ভিসির নির্দেশে পুলিশ শিক্ষার্থীদের ওপর গুলি চালিয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ’যেসব শিক্ষক এই হামলার মাস্টারপ্ল্যান করেছেন, তাদের শুধু বেতন-গ্রেড কমিয়ে বা সতর্ক করে দায়মুক্তি দেওয়া হয়েছে। যারা শিক্ষার্থীদের ওপর গুলি চালাতে বলেন, তারা শিক্ষকের পর্যায়ে পড়েন না। তাদের শিক্ষক হিসেবেই বিতাড়িত করা উচিত।’
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষার্থী তৌহিদ মোহাম্মদ সিয়াম বলেন, ’গতকাল প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে ক্যাম্পাস থেকে বিতাড়িতদের ফেরত আনার পাঁয়তারা করা হয়েছে। এটি পূর্বপরিকল্পিত। জুলাইয়ের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। এই ক্যাম্পাসে বশির, ফিরোজ, আলমগীর, নুরুল আলম, শৈবাল, রঙ্গনসহ কেউ ঢুকতে পারবে না।’
জাকসু জিএস ও ইসলামী ছাত্র শিবিরের সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম বলেন, ’এই বিচার মানি না। বলা হয় জুলাইয়ের পর সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি জাকসু, কিন্তু হওয়ার কথা ছিল জুলাইয়ের বিচার।’
তিনি জুলাই হামলার মদদদাতা শিক্ষকদের বিষয়ে সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা করে পুনঃতদন্ত ও ফৌজদারি মামলার দাবি জানান।
বিক্ষোভ চলাকালীন উপাচার্য অধ্যাপক ড. কামরুল আহসান, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক নজরুল ইসলাম, উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. শামসুল আলম, ট্রেজারার অধ্যাপক আব্দুর রব ও প্রক্টর অধ্যাপক ড. রাশেদুল আলম উপস্থিত হয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. কামরুল আহসান বলেন, ’সিন্ডিকেট সভাপতি হিসেবে স্ট্রাকচার্ড কমিটির রিপোর্ট বিধান অনুসরণ করে পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রাস্তায় দাঁড়িয়ে এ নিয়ে মন্তব্য করা আমার এক্তিয়ার বহির্ভূত। তবে শিক্ষার্থীদের দাবি শোনার জন্য আমি অপেক্ষা করেছি এবং আলোচনা করেছি।’
’তদন্ত কমিটির রিপোর্টের ভিত্তিতে সিন্ডিকেট সিদ্ধান্ত নিয়েছে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ থাকলে আলোচনা করে সিন্ডিকেটে উপস্থাপন করা যেতে পারে’ বলে জানান তিনি।
তিনি জুলাই স্পিরিটের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, ’আমরা ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। মানুষ হিসেবে সীমাবদ্ধতা থাকতেই পারে। অভিযোগ এলে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বিবেচনা করা হবে।’
মঙ্গলবার সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত প্রকাশের পর বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন জাবি সংসদ, জাতীয় ছাত্রশক্তি জাবি সংসদ ও ইসলামি ছাত্র শিবির জাবি শাখা প্রতিবাদ লিপি ও সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে এই বিচারকে ‘প্রহসন ও সমঝোতা’ বলে নিন্দা জানিয়েছে।
আমানউল্লাহ/থিও/