আমার নাম আহনাফ আবিদ সা’দ। আমি ‘তাযকিয়াতুল উম্মাহ আল আরাবিয়্যাহ মাদরাসা’র তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র। আমার ছোট বোন আফিয়া উলফাত হাফসা একই মাদরাসার প্রথম শ্রেণিতে পড়ে। গত ২৮ জানুয়ারি আমাদের মাদরাসা থেকে একটি শিক্ষাসফরের আয়োজন করা হয়েছিল। আমরা সবাই খুব আনন্দের সঙ্গে সেই সফরে অংশগ্রহণ করি। আমার মা-বাবা, প্রিয় শিক্ষকেরা এবং অনেক অভিভাবকও আমাদের সঙ্গে ছিলেন।
সকাল ঠিক সাড়ে ৮টায় আমাদের তিনটি বাস মাদরাসার কাছ থেকে ছেড়ে যায়। বাসে উঠেই সবাই খুব খুশি হয়ে যাই। কেউ জানালা দিয়ে বাইরে তাকাচ্ছিল, কেউ বন্ধুদের সঙ্গে গল্প করছিল। বাসেই আমরা সকালের নাশতা করি। নাশতা খেতে খেতে হাসি-ঠাট্টা আর আনন্দে পুরো বাস ভরে উঠেছিল। বাসভ্রমণটাই যেন আমাদের জন্য আলাদা এক আনন্দ হয়ে উঠেছিল।
বেলা ১১টার দিকে আমরা নরসিংদীর গোল্ডেন স্টার পার্কে পৌঁছাই। পার্কে ঢুকেই আমার চোখ বড় হয়ে যায়। চারদিকে সবুজ গাছগাছালি আর রঙিন ফুলে ভরা সুন্দর বাগান। বিশেষ করে দুবাইয়ের মিরাকেল গার্ডেনের আদলে তৈরি ফুলের বাগানটি আমার খুব ভালো লেগেছে। মনে হচ্ছিল, যেন আমি রঙিন কোনো স্বপ্নের ভেতর হাঁটছি।
পার্কে আমরা অনেক রাইডে চড়েছি। কখনো আকাশে উঠছি, কখনো ঘুরছি–সব রাইডই খুব মজার ছিল। বিশেষ করে কফিকাপ রাইডটি আমার সবচেয়ে বেশি ভালো লেগেছিল। দুপুরে আমরা সবাই একসঙ্গে বসে পার্কেই খাবার খাই। পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে বসে খাওয়ার আনন্দটা ছিল অন্যরকম।
বিকেলে শিক্ষকেরা আমাদের জন্য বিভিন্ন খেলাধুলার আয়োজন করেন। আমি মোরগ লড়াই খেলায় অংশ নিই এবং আমার ছোট বোন বালিশ খেলায় অংশগ্রহণ করে। আমি কোনো পুরস্কার না পেলেও আমার ছোট বোন দ্বিতীয় স্থান লাভ করে, যা আমাদের আনন্দ আরও বাড়িয়ে দেয়। মা-বাবাসহ অন্য অভিভাবক ও শিক্ষকরাও বিভিন্ন খেলায় অংশ নেন।
আমাদের শিক্ষকেরা সারাক্ষণ আমাদের দেখাশোনা করছিলেন। কোথাও গেলে লাইনে থাকতে শিখেছি এবং বড়দের কথা মানার গুরুত্ব বুঝেছি। এই শিক্ষাসফর শুধু আনন্দের জন্য নয়, শৃঙ্খলা ও একে অন্যের প্রতি ভালোবাসা শেখারও একটি সুন্দর সুযোগ ছিল।
সব মজা শেষে রাত ১০টার দিকে আমরা বাসায় ফিরে আসি। ক্লান্ত লাগলেও মনটা ছিল আনন্দে ভরা। এই শিক্ষাসফর আমার জীবনের একটি খুব সুন্দর স্মৃতি হয়ে থাকবে।
তারেক/