ঢাকা ৪ আষাঢ় ১৪৩৩, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
পাহাড়, বন আর নীল জলের অপূর্ব মিলন ৪টি চলচ্চিত্র নিয়ে ‘সামার বাংলা হিট ফেস্ট’ তিন নাটকে প্রশংসিত হিমি পুশ-ইন সমস্যা সমাধানের দাবিতে সমাবেশ ও স্মারকলিপি প্রদান সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় ফরিদপুরের প্রবাসী নিহত তপ্ত গরমে পশুপাখির প্রতি সদয় হোন সিনচিয়াংয়ে সংস্কৃতি ও পর্যটন উন্নয়ন সম্মেলন অনুষ্ঠিত সংঘাত নয়, হোক সম্প্রীতির উদযাপন কানসাসের দাবদাহে ‘কুলিং ভেস্টে’ অনুশীলন আর্জেন্টিনার চীনের ছাংছুনে অপটিক্স ও সেমিকন্ডাক্টর প্রযুক্তির বিপ্লব বাংলাদেশের বাজারে এল টেকনো স্পার্ক ৫০ প্রো খোকসায় ২০ বছর ধরে অচল কৃত্রিম প্রজনন কেন্দ্র, ভোগান্তিতে কৃষক-খামারি কেইনই ইংল্যান্ডের ইতিহাসের সেরা স্ট্রাইকার: লিনেকার বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে পুশইন, সংলাপের পরামর্শ জাতিসংঘের গ্লেনরিচ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল পরিদর্শন করলেন প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ কৃষিকাজে বিজ্ঞান বিষয়ক প্রবন্ধ রচনা, ১ম পর্ব, এইচএসসির বাংলা ২য় পত্র নতুন অ্যান্ড্রয়েড ১৭ সংস্করণে গুগলের বড় চমক কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে অবদান রাখায় বাংলাদেশ ব্যাংকের সনদ পেল মার্কেন্টাইল ব্যাংক এবি ব্যাংক পিএলসির ৪৪তম বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত ডিজিটাল পরিসরে নারীর নিরাপত্তা ও সহিংসতার স্বরূপ রামিসাকে ধর্ষণের পর নৃশংস হত্যা! একটি জাতির অবক্ষয়ের নির্মম চিত্র! ঝিনাইদহে ৩ দিনব্যাপী ফল মেলা শুরু ওয়াশিংটন-তেহরান শান্তিচুক্তি ও বৈশ্বিক বাস্তবতা এবারের স্বপ্নবিলাসী বাজেট বাংলাদেশকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে: সংসদে আইনমন্ত্রী কাঁঠালকে কেন্দ্র করে বিরোধ, ছেলের মারধরে বাবার মৃত্যু সফলতা নির্ভর করবে বাস্তবায়ন সক্ষমতার ওপর যাত্রাবাড়ীতে অবৈধ দখল উচ্ছেদে; মামলা ও জরিমানা মদ ভেবে বিষপানে পোশাকশ্রমিকের মৃত্যু ফেঞ্চুগঞ্জে হাওরে মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে ২ জন নিহত, নিখোঁজ ১ ‘বাড়তি জেদ’ নিয়ে খেলছেন বেলিংহ্যাম

গণমানুষের ভাবনায় আগামীর বাংলাদেশ

প্রকাশ: ০৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:৪৫ পিএম
গণমানুষের ভাবনায় আগামীর বাংলাদেশ
ছবি এআই

জনগণের চোখে নতুন সরকার মানে তাদের স্বপ্ন ও একরাশ প্রত্যাশার বাস্তবায়নের সম্ভাবনা। আগামীর বাংলাদেশেকে এগিয়ে নিতে সর্বস্তরের মানুষের মেধা, শ্রম ও সঠিক ভাবনাকে সমন্বিতভাবে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়ন ঘটানো সম্ভব। রাষ্ট্রের অগ্রযাত্রা শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়নের ওপর নির্ভরশীল নয়, রাষ্ট্রের বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের দূরদর্শী চিন্তা-ভাবনা ও কার্যক্রমের ওপরও নির্ভরশীল। তাই নতুন সরকারের কাছে গণমানুষের প্রত্যাশা ও ভাবনা তুলে ধরেছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী মোছা. ইসমা খাতুন

বাজার নিয়ন্ত্রণ ও অর্থনৈতিক স্বস্তি চাই
রনি আহমেদ 
বাংলা বিভাগ, শিক্ষার্থী
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি মধ্যবিত্ত ও খেটে খাওয়া মানুষের বড় উৎকণ্ঠার কারণ। চাল, ডাল, তেল ও শাকসবজির দাম বাড়ার পাশাপাশি পরিবহন ব্যয়ও বেড়েছে। ফলে মানুষের প্রকৃত আয় কমে জীবনমান নেমে গেছে। এই পরিস্থিতি শুধু চাহিদার কারণে নয়; মুনাফালোভী মজুতদারি, শক্তিশালী সিন্ডিকেট ও বাজার তদারকির অভাব এতে বড় ভূমিকা রাখছে। ঈদযাত্রায় অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ও কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির ঘটনাও নিয়মিত ঘটছে। কার্যকর উদ্যোগের অভাব, দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতা এবং ভোক্তা অধিকার আইনের দুর্বল প্রয়োগে সমস্যা আরও জটিল হয়েছে। তাই উৎপাদন বৃদ্ধি, সরবরাহব্যবস্থা শক্তিশালী করা ও বাজার তদারকি জোরদারের মাধ্যমে দ্রুত বাজার নিয়ন্ত্রণ জরুরি।

 

শিক্ষা হোক গবেষণাধর্মী ও জীবনমুখী
সিমা খাতুন, প্রভাষক 
একেএম রহমত উল্লাহ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, ঢাকা

একটি দেশ ও জাতির প্রকৃত উন্নয়ন ঘটে গবেষণা ও সৃজনশীলতার মাধ্যমে। কিন্তু বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থায় ডিগ্রি অর্জনই যেন মূল লক্ষ্য। ফলে শিক্ষার হার বাড়লেও সুশিক্ষিত মানুষের সংখ্যা কমছে। সক্রেটিসের সতর্কবাণী আজও প্রাসঙ্গিক। প্রমথ চৌধুরী তার ‘বই পড়া’ প্রবন্ধে এসব ত্রুটি তুলে ধরেছিলেন, যা এখন আরও প্রকট। মুখস্থনির্ভর শিক্ষার বদলে বাস্তবমুখী ও গবেষণাভিত্তিক শিক্ষা জরুরি। কীভাবে প্রযুক্তি তৈরি হয়, তা শেখানো হলে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা বাড়বে। গবেষণামুখী শিক্ষা সুপ্ত প্রতিভা বিকাশে সহায়তা করে এবং দেশকে জনশক্তিতে রূপান্তরিত করতে পারে। তাই শিক্ষাব্যবস্থায় গবেষণা ও সৃজনশীলতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। ফলে মানুষের প্রকৃত আয় কমে জীবনমান নেমে গেছে।

 

শিশুদের ভার্চুয়াল জগতে নিয়ন্ত্রণ জরুরি
মো. লিংকন হোসেন 
সহকারী শিক্ষক, মিলিয়র আইডিয়াল স্কুল, ঢাকা

বর্তমানে অনেক শিশু মোবাইল ও ডিজিটাল ডিভাইসে আসক্ত হয়ে পড়ছে। অধিকাংশ অভিভাবকের অভিযোগ, পড়াশোনার চেয়ে তারা ফোনে বেশি সময় দেয়। তবে এর জন্য অনেকাংশে অভিভাবকরাই দায়ী। অনেকেই শিশুদের সামনে নিজে ফোন ব্যবহার করেন বা ব্যস্ততার কারণে তাদের হাতে ডিভাইস তুলে দেন। ফলে শিশুরা ভার্চুয়াল জগতে ডুবে গিয়ে চোখের সমস্যা, মানসিক চাপসহ নানা শারীরিক ও মানসিক সমস্যায় ভোগে। তাই শিশুদের সময় দেওয়া, খেলাধুলা, বই পড়া ও সৃজনশীল কাজে উৎসাহিত করা জরুরি। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুরক্ষিত রাখতে অভিভাবকদের সচেতনতা ও দায়িত্বশীল ভূমিকা অত্যন্ত প্রয়োজন। শুধু তাই নয়, গ্রামপর্যায়ে কমিউনিটি ক্লিনিকের সংখ্যা খুবই কম।

 

গড়তে চাই আত্মবিশ্বাসী প্রজন্ম
মো. নাঈমুর রহমান (লাবন)
উদ্যোক্তা ও পরিচালক, বুকম্যান স্টুডেন্টস কেয়ার, ঝিনাইদহ

আমাদের দেশের উচ্চ শিক্ষিত তরুণ প্রজন্ম নানাবিধ পারিবারিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক চাপে নিজেরা উদ্যোক্তা হওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না। শুধু নিরাপদ চাকরির আশায় তাদের শিক্ষা, যা বাস্তব জীবনে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তাদেরকে কোনো সাহায্য করতে পারে না। অর্থনৈতিক ঝুঁকি ও সামাজিক মর্যাদার ত্রুটিপূর্ণ মূল্যায়ন তরুণদের আত্মবিশ্বাস আরও কমিয়ে দিচ্ছে। এ কারণে উচ্চশিক্ষিত অনেক তরুণ দেশের অর্থনীতির ক্ষেত্রে বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। 
অথচ বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে সৃজনশীলতা বিকাশের মাধ্যমে উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার সুযোগ অনেক বেশি। ঈদযাত্রায় অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ও কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির ঘটনাও নিয়মিত ঘটছে।

 

আস্থার ঠিকানায় সঠিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত হোক
মো. ইমদাদুল হক মিলন
পল্লী চিকিৎসক, সুজানগর-পাবনা 

সুস্থ ও কর্মক্ষম জাতি একটি দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ। অধিক জনসংখ্যাবহুল বাংলাদেশকে জনসম্পদে রূপান্তরিত করার ক্ষেত্রে গ্রামপর্যায়ে সঠিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা জরুরি। কৃষিভিত্তিক বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষই গ্রামে বসবাস করেন। কঠোর শারীরিক পরিশ্রমের পরেও তারা পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত। শুধু তাই নয়, গ্রামপর্যায়ে কমিউনিটি ক্লিনিকের সংখ্যা খুবই কম। যতটুকু দেখা যায়, সেখানে দক্ষ চিকিৎসক ও পর্যাপ্ত ওষুধের ব্যবস্থা থাকে না। এমতাবস্থায়, সংখ্যাগরিষ্ঠ গ্রামীণ সাধারণ মানুষের আস্থার ঠিকানা নিশ্চিত করতে ইউনিয়নভিত্তিক কমিউনিটি সেন্টার চালু করা এখন সময়ের দাবি। প্রমথ চৌধুরী তার ‘বই পড়া’ প্রবন্ধে এসব ত্রুটি তুলে ধরেছিলেন, যা এখন আরও প্রকট।

কিউএস র‍্যাঙ্কিংয়ে আবারও দেশসেরা নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০৪:২২ পিএম
আপডেট: ১৮ জুন ২০২৬, ০৪:৩৩ পিএম
কিউএস র‍্যাঙ্কিংয়ে আবারও দেশসেরা নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি
ছবি: বিজ্ঞপ্তি

কিউএস ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র‍্যাঙ্কিংস ২০২৭-এ আবারও বাংলাদেশের শীর্ষ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে নিজেদের অবস্থান ধরে রেখেছে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি (এনএসইউ)। এবারের র‍্যাঙ্কিংয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টি ৯০১–৯৫০ ব্যান্ডে স্থান পেয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় এক ধাপ অগ্রগতি নির্দেশ করে।

এ বছর বিশ্বের ১,৫০৪টি বিশ্ববিদ্যালয়কে মূল্যায়নের আওতায় এনে র‍্যাঙ্কিং প্রকাশ করেছে কিউএস। উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মান নির্ধারণে এটি বিশ্বের অন্যতম স্বীকৃত সূচক হিসেবে বিবেচিত। একাডেমিক সুনাম, কর্মসংস্থান সক্ষমতা ও স্নাতকদের অর্জন, শিক্ষার্থীদের অভিজ্ঞতা এবং আন্তর্জাতিক সুযোগ-সুবিধাসহ বিভিন্ন সূচকের ভিত্তিতে এ মূল্যায়ন করা হয়।

র‍্যাঙ্কিংয়ে অন্তর্ভুক্ত বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থান অর্জন করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, যার পরেই রয়েছে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)। সরকারি ও বেসরকারি—উভয় ধরনের বিশ্ববিদ্যালয় মিলিয়ে পর্যায়ে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির অবস্থান তৃতীয়। একই সঙ্গে এটি দেশের সর্বোচ্চ স্থানপ্রাপ্ত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে অবস্থান বজায় রেখেছে।

এনএসইউর উপাচার্য অধ্যাপক আবদুল হান্নান চৌধুরী বলেন, “দেশের শীর্ষ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে অবস্থান ধরে রাখা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও নিষ্ঠার প্রতিফলন। এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি বিশ্ববিদ্যালয়কে শিক্ষা, গবেষণা এবং বৈশ্বিক সম্পৃক্ততায় আরও উৎকর্ষ সাধনে অনুপ্রাণিত করবে।”

দূরত্ব হাজার মাইল, উৎসব ক্যাম্পাসে

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০৯:০৫ এএম
আপডেট: ১৮ জুন ২০২৬, ১০:০১ এএম
দূরত্ব হাজার মাইল, উৎসব ক্যাম্পাসে
ছবি:খবরের কাগজ

সকালে ক্লাসে যাওয়ার তাড়া নেই, তবু আর্জেন্টিনা-আলজেরিয়ার বিশ্বকাপ ফুটবল ম্যাচ দেখতে সকাল সকাল জেগে উঠেছেন শিক্ষার্থীরা। কারও গায়ে আর্জেন্টিনার জার্সি, কারও হাতে ভুভুজেলা বাঁশি। হাজার হাজার মাইল দূরে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর মাঠে গড়াচ্ছে বল, আর তার রেশ এসে লেগেছে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসগুলোতে। যেন বিশ্বকাপের এক টুকরো আবহ তৈরি হয়েছে দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে।

প্রথমবারের মতো ৪৮টি দলের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ফুটবল বিশ্বকাপের ২৩তম আসর। ভৌগোলিক দূরত্ব যতই থাকুক, বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের আবেগে তার কোনো প্রভাব পড়েনি। বরং বিশ্বকাপ ঘিরে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে তৈরি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ। গ্রীষ্মকালীন ছুটির কারণে অনেক শিক্ষার্থী নিজ নিজ এলাকায় অবস্থান করলেও খেলা ঘিরে উন্মাদনা থেমে নেই।

বিশেষ করে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের ম্যাচ ঘিরে শিক্ষার্থীদের আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। প্রিয় দলের জার্সি পরা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমর্থনের পোস্ট দেওয়া, বন্ধুদের সঙ্গে তর্ক-বিতর্ক কিংবা ম্যাচ বিশ্লেষণ–সব মিলিয়ে বিশ্বকাপ যেন তরুণদের জীবনের একটি বড় অনুষঙ্গে পরিণত হয়েছে।

গত বুধবার সকালে অনুষ্ঠিত আর্জেন্টিনা-আলজেরিয়া ম্যাচ সেই উন্মাদনাকে আরও বাড়িয়ে দেয়। যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস সিটিতে অনুষ্ঠিত ম্যাচটিতে লিওনেল মেসির হ্যাটট্রিক গোলে ৩-০ ব্যবধানে জয় পায় আর্জেন্টিনা। ম্যাচ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শুরু হয় উল্লাস। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি, হলপাড়া, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের মধ্যে দেখা যায় বিজয় উদযাপনের দৃশ্য।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) এলাকায় খেলা চলাকালে শিক্ষার্থীদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। খেলা শেষে আর্জেন্টিনার সমর্থকরা আনন্দ মিছিল বের করেন। বিভিন্ন আবাসিক হলে উড়তে থাকে আকাশি নীল-সাদা পতাকা। মুহূর্তের জন্য পুরো ক্যাম্পাস যেন রূপ নেয় এক উৎসবের নগরীতে।
আর্জেন্টিনার জয়ে উল্লাস প্রকাশ করে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির বলেন, ‘মেসি বেশ ভালো খেলেছেন, আশা করছি আগামীতে তারা আরও ভালো খেলবেন। বিশেষ করে মেসি আরও গোল করবেন। আজকে মেসির তিন গোলের মধ্য দিয়ে তিনি সেরা, এটি প্রমাণ করলেন। আশা করি, এবারের বিশ্বকাপ আর্জেন্টিনা জিতবে।’

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেন, ‘এবার আমরা ফোর স্টার নিয়ে ফিরব। আর মেসি কী জিনিস, আজকের খেলার মধ্য দিয়ে আবার প্রমাণ হলো। সেরাদের জায়গাটি সব সময়ই বিশ্বকাপ সেরাদের কাতারেই থাকে। এবার আমরা বিশ্বকাপ ট্রফি জিতব এবং মেসি অবশ্যই সর্বোচ্চ গোলদাতা হবেন, যেটি ইতিহাস হয়ে থাকবে।’

এদিকে ম্যাচ-পরবর্তী অনুভূতি প্রকাশ করে আর্জেন্টিনা সমর্থক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ওবাইদুল্লাহ বলেন, মেসিকে কেন ফুটবলের জাদুকর বলা হয়, তা আজ আবারও প্রমাণ হয়েছে। আর আর্জেন্টিনা যে মানের ফুটবল খেলেছে, তা ধরে রাখতে পারলে দলটি শিরোপার দৌড়ে অনেক দূর এগিয়ে যাবে।’

এবারের বিশ্বকাপ উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচটি স্থানে বড় পর্দায় খেলা দেখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। টিএসসি, জগন্নাথ হল মাঠ, সলিমুল্লাহ মুসলিম (এসএম) হল, শহীদুল্লাহ হল মাঠ এবং কবি জসীমউদদীন হল মাঠে প্রতিদিন জড়ো হচ্ছেন শত শত শিক্ষার্থী। শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নয়, দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়েও শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে বড় পর্দায় খেলা দেখার আয়োজন করা হয়েছে।

ফুটবল বিশ্বকাপ বাংলাদেশের মানুষের কাছে বরাবরই একটি আবেগের নাম। যদিও বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে এখনো বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব নেই, তবু সমর্থন আর ভালোবাসার দিক থেকে কোনো অংশে পিছিয়ে নেই এ দেশের মানুষ। সেই আবেগের সবচেয়ে প্রাণবন্ত প্রকাশ দেখা যায় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসগুলোতে, যেখানে বিশ্বকাপ শুধু একটি ক্রীড়া প্রতিযোগিতা নয়; এটি হয়ে ওঠে উৎসব, আনন্দ এবং মিলনের উপলক্ষ।
বিশ্বকাপের দিনগুলো যত এগোচ্ছে, ততই বাড়ছে উত্তেজনা। কে জিতবে শিরোপা, কে হবে সেরা।

 খেলোয়াড়– এসব প্রশ্নের উত্তর মিলবে সময়ের সঙ্গে। তবে একটি বিষয় নিশ্চিত, বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফুটবল আসরকে ঘিরে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসগুলো ইতোমধ্যে পরিণত হয়েছে উচ্ছ্বাস, আবেগ আর তারুণ্যের এক বর্ণিল মঞ্চে।

যুগোপযোগী পাঠদান শিক্ষার্থীদের শেখার অভিজ্ঞতা সমৃদ্ধ করবে: গ্লেনরিচে বক্তারা

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ০৬:৩৪ পিএম
যুগোপযোগী পাঠদান শিক্ষার্থীদের শেখার অভিজ্ঞতা সমৃদ্ধ করবে: গ্লেনরিচে বক্তারা
ছবি: বিজ্ঞপ্তি

দেশে আন্তর্জাতিক শিক্ষাব্যবস্থার মানোন্নয়ন ও শিক্ষকদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে রাজধানীর গ্লেনরিচ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল, উত্তরায় সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘কেমব্রিজ প্রিন্সিপালস মিট ২০২৬।’

কেমব্রিজ ইন্টারন্যাশনাল এডুকেশন আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের দেড়শ জনের বেশি অধ্যক্ষ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান এবং শিক্ষাখাত সংশ্লিষ্ট পেশাজীবী অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, কেমব্রিজ ইন্টারন্যাশনাল এডুকেশনের গ্লোবাল ম্যানেজিং ডিরেক্টর রড স্মিথ এবং দক্ষিণ এশিয়ার ম্যানেজিং ডিরেক্টর অরুণ রাজামানি।

অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্যে এসটিএস গ্রুপের সিইও মানাস সিং বলেন, “গ্লেনরিচ ক্যাম্পাসে ১৫০ জনের বেশি শিক্ষক ও শিক্ষাখাত সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীদের একসঙ্গে হওয়া বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থার মানোন্নয়নে সবার সম্মিলিত অঙ্গীকারেরই প্রতিফলন। আমরা বিশ্বাস করি, শিক্ষার্থীদের জন্য অর্থবহ শেখার পরিবেশ গড়ে তুলতে শিক্ষকদের পারস্পরিক সহযোগিতার কোনো বিকল্প নেই। দেশের শিক্ষা খাতের নেতৃত্বস্থানীয় ব্যক্তিদের একত্রিত করে এমন অর্থবহ আলোচনা ও মতবিনিময়ের পরিবেশ তৈরি করাই আমাদের লক্ষ্য, যা দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও সমৃদ্ধ করার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে আরও দক্ষ করে তুলবে।”

অনুষ্ঠানে গ্লেনরিচ উত্তরার শিক্ষার্থীরা মনোমুগ্ধকর এক সাংস্কৃতিক পরিবেশনা উপস্থাপন করে। এ ছাড়া, মূল অধিবেশনে কেমব্রিজ বাংলাদেশের পক্ষ থেকে দেশে কেমব্রিজ শিক্ষাধারার সাম্প্রতিক অগ্রগতির চিত্র তুলে ধরা হয়। আলোচনায় প্রাইমারি চেকপয়েন্ট পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের সাফল্য এবং পূর্ণাঙ্গ কেমব্রিজ শিক্ষাধারা অনুসরণকারী স্কুলের সংখ্যা বৃদ্ধির বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পায়।

অনুষ্ঠানে পূর্ণাঙ্গ কেমব্রিজ শিক্ষাধারা অনুসরণকারী বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। পাশাপাশি, কেমব্রিজের অনুমোদিত ও মৌলিক শিক্ষাসামগ্রী ব্যবহারে উৎসাহ জোগানো এবং পাইরেসি বিরোধী উদ্যোগে ভূমিকা রাখা স্কুলগুলোর প্রশংসা করা হয়।

এই স্বীকৃতির অংশ হিসেবে, গ্লেনরিচ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল, উত্তরা অর্জন করে ‘লেটার অব অ্যাপ্রিসিয়েশন ফর কেমব্রিজ ফুল পাথওয়ে স্কুল,’ ‘লেটার অব অ্যাপ্রিসিয়েশন ফর অ্যান্টি পাইরেসি ক্যাম্পেইনস জয়েন্টলি উইথ কেমব্রিজ,’ ‘কেমব্রিজ ইন্ডিপেন্ডেন্ট সেন্টারশিপ’ এবং ‘কেমব্রিজ পিডিকিউ সেন্টারশিপ’।

একই সাথে গ্লেনরিচ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল, সাতারকুল অর্জন করে ‘লেটার অব অ্যাপ্রিসিয়েশন ফর কেমব্রিজ ফুল পাথওয়ে স্কুল,’ ‘লেটার অব অ্যাপ্রিসিয়েশন ফর অ্যান্টি পাইরেসি ক্যাম্পেইনস জয়েন্টলি উইথ কেমব্রিজ’ এবং ‘কেমব্রিজ ইন্ডিপেন্ডেন্ট সেন্টারশিপ।’

অনুষ্ঠানে কেমব্রিজ ইন্টারন্যাশনাল এডুকেশনের আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পর্যায়ের প্রতিনিধিরা শিক্ষাখাতের পরিবর্তিত অগ্রাধিকার, নতুন সম্ভাবনা এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ের বিভিন্ন কার্যকর পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করেন।

বিভিন্ন অংশগ্রহণমূলক সেশনে শিক্ষার্থীদের শেখার অভিজ্ঞতা আরও অর্থবহ করতে উদ্দেশ্যনির্ভর, আধুনিক পাঠদান পদ্ধতি ও কার্যকর শিক্ষণ কৌশল নিয়ে আলোচনা করা হয়।

কেমব্রিজ ইংলিশ প্রোগ্রামের বিভিন্ন উদাহরণ ও কেস স্টাডির মাধ্যমে দেখানো হয়, কীভাবে এসব কর্মসূচি শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে, যোগাযোগ দক্ষতা উন্নত করতে এবং বাস্তব জীবনে ভাষা ব্যবহারের সক্ষমতা গড়ে তুলতে সহায়তা করে।

শিক্ষকদের দক্ষতা উন্নয়নও ছিল এ আয়োজনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক। সহকর্মীদের মধ্যে অভিজ্ঞতা ও জ্ঞান বিনিময়ের মাধ্যমে কীভাবে পাঠদানের মান এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নেতৃত্ব আরও উন্নত করা যায়, এ নিয়ে প্রতিনিধিরা আলোচনা করেন।

এ সময় কেমব্রিজ প্রফেশনাল ডেভেলপমেন্ট কোয়ালিফিকেশনস (পিডিকিউ) কর্মসূচির কথাও তুলে ধরা হয়।

বক্তারা বলেন, শিক্ষকদের আত্মমূল্যায়ন ও পেশাগত উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নেতৃত্বকে আরও কার্যকর করতে এ কর্মসূচির ভূমিকা অনস্বীকার্য।

বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক শিক্ষাক্রমের মানোন্নয়নে শিক্ষাবিদদের মধ্যে ধারাবাহিক সহযোগিতা ও অংশীদারিত্ব আরও জোরদার করার আহ্বানের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয়।

বেরোবিতে রিডিং রুমের কাজ অসম্পূর্ণ রেখে হলে টিভি স্থাপন, শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ০১:১৬ পিএম
আপডেট: ১৭ জুন ২০২৬, ০১:২৮ পিএম
বেরোবিতে রিডিং রুমের কাজ অসম্পূর্ণ রেখে হলে টিভি স্থাপন, শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ
ছবি: খবরের কাগজ

রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শহিদ মুখতার ইলাহী হলে রিডিং রুম তৈরির কাজ চলমান অবস্থায় সেখানে পুনরায় টিভি স্থাপন করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন আবাসিক শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, হলের রিডিং রুমটি শিক্ষার্থীর সংখ্যার তুলনায় অনেক ছোট। এ কারণে দীর্ঘদিন ধরে তারা বৃহৎ আকারের টিভি রুমটিকে রিডিং রুমে রূপান্তরের দাবি জানিয়ে আসছিল। তাদের দাবি টিভি রুমকে রিডিং রুম এবং বর্তমান রিডিং রুমকে টিভি রুম হিসেবে ব্যবহার করা।

আবাসিক শিক্ষার্থীরা জানান, প্রায় দুই মাস আগে টিভি রুমকে রিডিং রুমে রূপান্তরের কাজ শুরু হয়। তবে এখনও কাজ সম্পন্ন হয়নি। এর মধ্যে ঈদের ছুটি শেষে হল খুলতেই ওই কক্ষে আবার টিভি স্থাপন করা হয়েছে। 

শিক্ষার্থীদের দাবি, বিশ্বকাপ খেলা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্মারক মাঠে এলইডি স্ক্রিনে দেখানো হয়। সবাই মাঠে গিয়ে খেলা দেখে। হলের টিভি রুমে কেউ খেলা দেখে না। তাই শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার জন্য রিডিং রুমের ব্যবস্থা করে দেওয়া উচিত।

হলের আবাসিক শিক্ষার্থী রাকিবুল হাসান খবরের কাগজকে বলেন, ’ঈদের আগে টিভি রুমকে রিডিং রুমে রূপান্তরের কাজ শুরু হয়েছিল। ভেতরের অধিকাংশ কাজ শেষ হলেও টেবিল-চেয়ার স্থাপন বাকি ছিল, যা ঈদের পর সম্পন্ন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু অফিস খোলার দিনই সেখানে আবার টিভি বসানো হয়েছে। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কোনো আলোচনা ছাড়াই এত গুরুত্বপূর্ণ একটি কাজ অসম্পূর্ণ রেখে দেওয়া দুঃখজনক।‘

আরেক আবাসিক শিক্ষার্থী গোলাম রহমান শওন খবরের কাগজকে বলেন, ’আমি বিষয়টি নিয়ে সরাসরি হল প্রশাসনের দায়িত্বশীল ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলেছি। আমাকে জানানো হয়েছে, কিছু শিক্ষার্থীর অনুরোধে বিশ্বকাপ উপলক্ষে সাময়িকভাবে টিভি স্থাপন করা হয়েছে। তবে রিডিং রুমের চেয়ার-টেবিলের কাজ এখনও শেষ হয়নি। প্রায় ৪০ দিনের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও কাজ শেষ না হওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে হল প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. কামরুজ্জামান বলেন, ’অফিসে এসে দেখা করলে এ বিষয়ে কথা বলব।’

আজম/থিওটোনিয়াস

জাহাঙ্গীরনগরে অভিযুক্ত শিক্ষকদের দায়মুক্তির প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ, পুনঃতদন্তের দাবি

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ০৯:৫২ এএম
আপডেট: ১৭ জুন ২০২৬, ১০:৩৭ এএম
জাহাঙ্গীরনগরে অভিযুক্ত শিক্ষকদের দায়মুক্তির প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ, পুনঃতদন্তের দাবি
ছবি: খবরের কাগজ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে চব্বিশের জুলাইয়ে হামলায় মদদদাতা অভিযুক্ত শিক্ষকদের দায়মুক্তির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন শিক্ষার্থীরা।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) রাত সাড়ে ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে গিয়ে শেষ হয়।

সেখানে সংক্ষিপ্ত প্রতিবাদ সমাবেশের পর শিক্ষার্থীরা উপাচার্যসহ প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করেন।

শিক্ষার্থীরা রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন।

সাধারণ শিক্ষার্থীর আয়োজনে বিক্ষোভ মিছিলে জাকসুসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতারা অংশ নিয়ে সংহতি প্রকাশ করেন। মিছিলকারীরা ‘মুজিববাদের দালালেরা হুঁশিয়ার সাবধান’, ‘ফ্যাসিবাদের দালালেরা হুঁশিয়ার সাবধান’, ‘যে হাত সন্ত্রাস করে, সে হাত ভেঙে দাও’, ‘নুরুলের ঠিকানা এই ক্যাম্পাসে হবে না’, ‘ফিরোজের চামড়া তুলে নিবো আমরা’, ‘বসিরের চামড়া তুলে নিবো আমরা’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।

সমাবেশে ‘মানি না মানবো না অরুণাপল্লীর বিচার’, ‘ছি ছি ধিক্কার কামরুলের বিচার’, ‘ছি ছি ধিক্কার কামরুল (ভিসি) তুই গাদ্দার’, ‘প্রহসনের বিচার মানি না, মানব না’ ইত্যাদি স্লোগান দেওয়া হয়।

জাকসুর সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম বাপ্পির সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা।

বিক্ষোভ সমাবেশে জার্নালিজম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী মালিহা নামলাহ বলেন, ’১৫ জুলাই দুপুর ও রাতে, ১৭ জুলাই বিকেলে ছাত্রলীগ ও সন্ত্রাসীরা চাপাতি-বন্দুক নিয়ে আমাদের ওপর হামলা করেছিল। আমরা ভিসির গেটে চিৎকার করে সাহায্য চেয়েছিলাম। ভিসির নির্দেশে পুলিশ শিক্ষার্থীদের ওপর গুলি চালিয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ’যেসব শিক্ষক এই হামলার মাস্টারপ্ল্যান করেছেন, তাদের শুধু বেতন-গ্রেড কমিয়ে বা সতর্ক করে দায়মুক্তি দেওয়া হয়েছে। যারা শিক্ষার্থীদের ওপর গুলি চালাতে বলেন, তারা শিক্ষকের পর্যায়ে পড়েন না। তাদের শিক্ষক হিসেবেই বিতাড়িত করা উচিত।’

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষার্থী তৌহিদ মোহাম্মদ সিয়াম বলেন, ’গতকাল প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে ক্যাম্পাস থেকে বিতাড়িতদের ফেরত আনার পাঁয়তারা করা হয়েছে। এটি পূর্বপরিকল্পিত। জুলাইয়ের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। এই ক্যাম্পাসে বশির, ফিরোজ, আলমগীর, নুরুল আলম, শৈবাল, রঙ্গনসহ কেউ ঢুকতে পারবে না।’

জাকসু জিএস ও ইসলামী ছাত্র শিবিরের সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম বলেন, ’এই বিচার মানি না। বলা হয় জুলাইয়ের পর সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি জাকসু, কিন্তু হওয়ার কথা ছিল জুলাইয়ের বিচার।’

তিনি জুলাই হামলার মদদদাতা শিক্ষকদের বিষয়ে সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা করে পুনঃতদন্ত ও ফৌজদারি মামলার দাবি জানান।

বিক্ষোভ চলাকালীন উপাচার্য অধ্যাপক ড. কামরুল আহসান, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক নজরুল ইসলাম, উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. শামসুল আলম, ট্রেজারার অধ্যাপক আব্দুর রব ও প্রক্টর অধ্যাপক ড. রাশেদুল আলম উপস্থিত হয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. কামরুল আহসান বলেন, ’সিন্ডিকেট সভাপতি হিসেবে স্ট্রাকচার্ড কমিটির রিপোর্ট বিধান অনুসরণ করে পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রাস্তায় দাঁড়িয়ে এ নিয়ে মন্তব্য করা আমার এক্তিয়ার বহির্ভূত। তবে শিক্ষার্থীদের দাবি শোনার জন্য আমি অপেক্ষা করেছি এবং আলোচনা করেছি।’

’তদন্ত কমিটির রিপোর্টের ভিত্তিতে সিন্ডিকেট সিদ্ধান্ত নিয়েছে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ থাকলে আলোচনা করে সিন্ডিকেটে উপস্থাপন করা যেতে পারে’ বলে জানান তিনি।

তিনি জুলাই স্পিরিটের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, ’আমরা ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। মানুষ হিসেবে সীমাবদ্ধতা থাকতেই পারে। অভিযোগ এলে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বিবেচনা করা হবে।’

মঙ্গলবার সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত প্রকাশের পর বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন জাবি সংসদ, জাতীয় ছাত্রশক্তি জাবি সংসদ ও ইসলামি ছাত্র শিবির জাবি শাখা প্রতিবাদ লিপি ও সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে এই বিচারকে ‘প্রহসন ও সমঝোতা’ বলে নিন্দা জানিয়েছে।

আমানউল্লাহ/থিও/