ঢাকা ২ বৈশাখ ১৪৩১, সোমবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৪
Khaborer Kagoj

ভিন্ন ধর্মের দুজনের বিয়ে

প্রকাশ: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১১:৪১ এএম
ভিন্ন ধর্মের দুজনের বিয়ে

১৮৭২ সালের ব্রিটিশ শাসনামলের ধারা অনুযায়ী বাংলাদেশে ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে বিশেষ বিবাহ অনুষ্ঠিত হওয়ার নিয়ম চালু রয়েছে। যেকোনো ধর্মের মানুষ ‘বিশেষ বিবাহ আইন ১৮৭২’ অনুযায়ী অন্য ধর্মের কাউকে বিয়ে করতে পারবেন। মুসলিম, হিন্দু, খ্রিষ্টান, ইহুদি, পারসি, বৌদ্ধ, শিখ বা জৈন- সব ধর্মের ক্ষেত্রেই এই বিশেষ বিবাহ আইন প্রযোজ্য। বিস্তারিত জানাচ্ছেন অ্যাডভোকেট নাসরিন আশরাফ।

বর-কনে উভয়পক্ষের সম্মতি থাকলে বাংলাদেশে দুটি ভিন্ন ধর্মের মানুষ বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হতে পারবেন। ‘বিশেষ বিবাহ আইন, ১৮৭২’ (সংশোধিত ২০০৭) অনুযায়ী এই বিশেষ বিয়ে করা যায়। এ আইনের অধীনে বিয়ে সম্পন্ন করানোর জন্য এবং নিবন্ধনের জন্য সরকারের নিয়োগ করা নিবন্ধক বা রেজিস্ট্রার নিয়োগ করা আছে। তবে উল্লেখিত আইন অনুযায়ী বিয়ে অনুষ্ঠানের প্রধান শর্তগুলো হলো-

১. বিয়ের পাত্র ও পাত্রীকে অবিবাহিত থাকতে হবে। ছেলের বয়স কমপক্ষে ২১ বছর এবং মেয়ের বয়স ১৮ বছর হতে হবে।

২. বিশেষ বিবাহ নিবন্ধকের কাছে গিয়ে যেকোনো এক পক্ষ অপর পক্ষের কাছে বিয়ের জন্য লিখিত নোটিশ পাঠাবে। এ নোটিশ দেওয়ার ১৪ দিন পর বিয়ে সম্পাদন করতে হবে। মনে রাখতে হবে, এক পক্ষ নিবন্ধকের মাধ্যমে বিয়ের ১৪ দিন আগে অপর পক্ষকে নির্ধারিত আকারে নোটিশ না পাঠালে বিয়ে সম্পন্ন করা যাবে না। কারণ এই বিয়েটি একটি দেওয়ানি চুক্তি। এ নোটিশ দেওয়া নিয়ে কোনো প্রকার কূটকৌশল অবলম্বন করা যাবে না।

৩. আইনজীবীর তত্ত্বাবধানে প্রস্তুত করা হলফনামায় পাত্র-পাত্রী স্বাক্ষর দেওয়ার পর ওই হলফনামা নোটারি পাবলিক কর্তৃক ‘নোটারাইজড’ করতে হবে। হলফনামায় অবশ্যই ‘বিশেষ বিবাহ আইনের অধীন বিয়ে’ শব্দগুলো লিখতে হবে।

৪. পাত্র-পাত্রীকে সশরীরে উপস্থিত হয়ে বিয়ে করতে হবে। বিয়ে অবশ্যই বিশেষ বিবাহ নিবন্ধক বা রেজিস্ট্রারের উপস্থিতিতে হতে হবে। বিয়ের সময় অন্তত তিনজন সাক্ষীকে উপস্থিত থাকতে হবে। পক্ষগণকে রেজিস্ট্রার ও সাক্ষীগণের উপস্থিতিতে বলতে হবে যে, ‘আমরা পরস্পর পরস্পরকে আইনসংগত স্ত্রী অথবা স্বামী হিসেবে গ্রহণ করলাম।’

৫. বিয়ে সম্পন্ন হলে নিবন্ধক তা সরকারি ভলিউমে নিবন্ধন করবেন এবং একটি বিয়ের নিবন্ধনপত্র দেবেন।

বিবাহবিচ্ছেদ চাইলে

বিশেষ বিবাহ আইনে বিয়ে হওয়ার পর কোনো পক্ষ বিবাহবিচ্ছেদ ঘটাতে চাইলে তাকে ১৮৬৯ সালের ডিভোর্স অ্যাক্ট অনুযায়ী তা করতে হবে। এর জন্য আদালতের শরণাপন্ন হতে হবে এবং আদালতের অনুমতিক্রমে বিবাহবিচ্ছেদ ঘটাতে হবে। আদালতের অনুমতি ছাড়া বিবাহবিচ্ছেদ করতে চাইলে অপর পক্ষ তা চ্যালেঞ্জ করতে পারবে।

কলি

ক্যাম্পাসে নারী শিক্ষার্থী নির্যাতন

প্রকাশ: ০৩ এপ্রিল ২০২৪, ১১:৪৮ এএম
ক্যাম্পাসে নারী শিক্ষার্থী নির্যাতন
অলংকরণ: মাসুম

ক্যাম্পাস কিংবা বিদ্যাপীঠ হলো জ্ঞানপিপাসু শিক্ষার্থীদের জন্য তীর্থস্থান। শিক্ষার্থীরা আনন্দে ক্যাম্পাসে যান, জ্ঞান অর্জন করেন, নিশ্চিন্ত মনে ক্যাম্পাসে ঘুরে বেড়ান। প্রতিটি শিক্ষার্থীর জন্য তার ক্যাম্পাস একটি স্বপ্নের জায়গা। কিন্তু কিছু কিছু ক্যাম্পাসে নারী শিক্ষার্থীরা ইভটিজিংসহ নানা হয়রানির শিকার হন। যা আমাদের জন্য খুবই লজ্জার! হাল সময়ের বিভিন্ন ক্যাম্পাসে নারী শিক্ষার্থীদের হয়রানি এবং কীভাবে তা প্রতিরোধ করা যায় সে বিষয়ে লিখেছেন মোহনা জাহ্নবী

আমাদের সমাজে নারীরা বিভিন্নভাবে যৌন হয়রানির শিকার হন। তা ছোটবেলায় গৃহশিক্ষক হোক বা বড় হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকের দ্বারা। শুধু শিক্ষকই নয়, সহপাঠী কিংবা বহিরাগতদের দ্বারাও হয়রানির শিকার হন তারা। স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা সর্বত্র এই যৌন হয়রানির ছড়াছড়ি। সমাজ যত আধুনিক হচ্ছে, তত এসব হ্রাস পাওয়ার কথা। অথচ এ দেশে চিত্র তার বিপরীত। ক্যাম্পাসগুলোয় নানাভাবে নারী শিক্ষার্থীদের হেনস্তা করার ঘটনা বেশ পুরোনো। যত দিন যাচ্ছে, তা চক্রবৃদ্ধিহারে বেড়েই যাচ্ছে। শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের অনৈতিক প্রস্তাব দিচ্ছেন। শিক্ষার্থীরা রাজি না হলে অনুপস্থিতি দেখিয়ে জরিমানা আদায়, নম্বর কম দেওয়া, ফেল করিয়ে দেওয়া কিংবা থিসিস পেপার আটকে রেখে তাদের হেনস্তা করা হচ্ছে।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. আব্দুল আলীম উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি নিয়ে একটি গবেষণায় দেখতে পান, ৫৬ শতাংশ যৌন নিপীড়কই ছাত্রীদের সহপাঠী। ২৪ শতাংশ তাদের চেয়ে ছোট বা বড়। ১১ শতাংশ বহিরাগত ও ৯ শতাংশ শিক্ষক। ১০ শতাংশ ছাত্রী জানান, নির্যাতনের ৩০ শতাংশ বাজে মন্তব্য ও ৬০ শতাংশ সাইবার হয়রানির শিকার। নিপীড়নের ঘটনায় মাত্র ১০ শতাংশ ছাত্রী অভিযোগ করেছেন। এর মধ্যে ৫ শতাংশ বিভাগের শিক্ষকদের কাছে এবং বাকি ৫ শতাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিযোগ সেলে। ৯০ শতাংশ জানান, ন্যায়বিচার না পাওয়া ও চরিত্র হননের ভয়ে তারা সেলে অভিযোগ করেননি। প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের ‘চ্যালেঞ্জিং ফিয়ার অব ভায়োলেন্স’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়, জনসমাগমস্থলে ৮১ ভাগ নারী যৌন হয়রানির শিকার হন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সিনিয়র সহপাঠী ও শিক্ষকদের মাধ্যমে শারীরিক-মানসিক নির্যাতন, হয়রানি ও ব্যঙ্গ-বিদ্রূপের শিকার হচ্ছেন ৭৪ শতাংশ।

২০০৮ সালের আগ পর্যন্ত এসব নিয়ে কোনো আইন ছিল না। ২০০৮ সালের ৭ আগস্ট বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির নির্বাহী পরিচালক অ্যাডভোকেট সালমা আলী শিক্ষার্থীদের যৌন হয়রানির বিচার চেয়ে হাইকোর্টে একটি রিট করেন। ২০০৯ সালের ১৪ মে উচ্চ আদালত যৌন হয়রানি প্রতিরোধের জন্য সব সরকারি-বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য লিখিত নির্দেশনা দেন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোয় যৌন হয়রানির বিচার ৬০ কর্মদিবসের ভেতর নিষ্পত্তি করতে বলা হয় তাতে। যদি তারা অপারগ হয়, সেক্ষেত্রে প্রচলিত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে ১০(ক) ধারায় যৌন হয়রানির ভেতর নারীকে অশালীন মন্তব্য, নেতিবাচক অঙ্গভঙ্গি, সাংকেতিক চিহ্ন প্রদর্শন এবং মোবাইল কিংবা ইন্টারনেট হয়রানিকেও আওতাভুক্ত করা হয়েছে।

২০০৯ সালের এ আইনের পর থেকে বেশির ভাগ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় ‘যৌন নিপীড়ন ও নিরোধ সেল’ নামে কমিটি গঠন করা হয়েছে। যৌন হয়রানির শিকার হলে যেখানে শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করতে পারবেন।

নির্যাতন বৃদ্ধির কারণ তলিয়ে দেখতে গেলে আমরা বুঝতে পারি, এর পেছনের জালের মতো ছড়িয়ে আছে অনেকগুলো কারণ। প্রথমত ভিক্টিম ব্লেমিংয়ের শিকার। কোনো নারীকে নির্যাতন করা হলে সে যদি অভিযোগ জানাতে যান, উল্টো তাকে ব্লেম দেওয়ার এবং কটু কথা বলে অপদস্থ করার নোংরা সংস্কৃতি আমাদের সমাজে রয়েছে। হয়রানি বা নির্যাতনের জন্য যে নারী নিজেই দায়ী, তা প্রমাণ করার জন্য উঠেপড়ে লাগে সবাই। এতে করে কোনো নারী শিক্ষার্থী যখন বুঝতে পারেন অভিযোগ জানাতে গেলে বিচার তো পাবেনই না, বরং তাকে আরও অপদস্থ হতে হবে, তখন তিনি অভিযোগ জানানোর চেয়ে চুপচাপ মেনে নেওয়া কিংবা দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেলে আত্মহননের পথ বেছে নেওয়াকেই তুলনামূলক ভালো সিদ্ধান্ত মনে করেন। এই সুযোগে যৌন নির্যাতনকারীরা আরও সুযোগ পেয়ে যায়। তারা জানে, যা-ই করুক না কেন ঠিক পার পেয়ে যাবে, কোনো সমস্যা হবে না।

এসবের পেছনে অনেক বড় কারণ হচ্ছে রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহার। ক্যাম্পাসের বড় বড় পদে বসার জন্য একেকজন রাজনৈতিক ক্ষমতাধরদের কাছে ধরনা দেয়। এরপর তারা যখন সেসব পদে বসে, ওই রাজনৈতিক দলের দাস হয়ে যায়। তাদের অঙ্গুলি নির্দেশেই তারা চলে। যৌন হয়রানির পেছনে যারা জড়িত, খোঁজ নিলে দেখা যায়, তারা বেশির ভাগই রাজনৈতিক দলের কেউ কিংবা রাজনৈতিক দলের ছত্রছায়ায় বেড়ে ওঠা। তারা যখন এসব অন্যায় করে, খুব ভালোভাবেই জানে ক্ষমতাবলে বড় বড় পদে যাদের বসিয়েছেন, তারাই তাদের বাঁচাবেন। ক্যাম্পাসের এই অসুস্থ রাজনীতি এসব নির্যাতনের অন্যতম কারণ।

যৌন হয়রানির পেছনে আরেকটি কারণ হচ্ছে কমিটির অকার্যকারিতা। সারা বিশ্বেই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় যৌন হয়রানি প্রতিরোধে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কমিটি গঠন করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সময়েই শিক্ষার্থীদের জানিয়ে দেওয়া হয় কোন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অভিযোগ জানাতে হবে। এমনকি সেই প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কমিটির মাধ্যমে যৌন হয়রানির শিকার নারীদের সব ধরনের শারীরিক ও মানসিক সহায়তা দেওয়া হয়। তারা ছোট-বড় প্রতিটি যৌন হয়রানির ঘটনাকে খুব গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে এবং সচেতনতামূলক প্রচারণা চালিয়ে থাকেন। আর আমাদের দেশে সব বিশ্ববিদ্যালয়ে কমিটি তো নেই-ই, যেসব বিশ্ববিদ্যালয়ে কমিটি আছে তা নামমাত্র। বিচারহীনতার সংস্কৃতি তৈরির পেছনে সেসব কমিটিই সবচেয়ে বেশি দায়ী। কমিটির দায়িত্বে যারা নিয়োজিত থাকেন, তাদের না আছে যৌন হয়রানি প্রতিরোধের বিষয়ে কোনো প্রশিক্ষণ, না আছে মেরুদণ্ড। তাদের ভেতর যেমন সচেতনতার অভাব, তেমনই সততা, সাহস ও দায়িত্বশীলতারও অভাব। তারা শিক্ষার্থীদের ঠিকমতো জানানই না যে, তাদের ক্যাম্পাসে ‘যৌন নিপীড়ন ও নিরোধ সেল’ নামে একটি কমিটি আছে, যেখানে তারা অভিযোগ জানাতে পারবেন। তাছাড়া শিক্ষার্থীরা যেহেতু জানেন, যারা যৌন নিপীড়ন করে তারা রাজনৈতিকভাবে হোক কিংবা অন্য কোনোভাবে প্রভাবশালী তাদের রক্ষা করার জন্য বড় হাত আছে। তাই তারা আর এসব ঝামেলায় যেতে চান না। কেউ কেউ যদি ন্যায়বিচার পাওয়ার আশা নিয়ে অভিযোগ জানিয়েও থাকেন, তাহলে দিনের পর দিন মাসের পর মাস তদন্ত প্রক্রিয়া চলার নামে তার অভিযোগ ঝুলিয়ে রাখা হয়। অপেক্ষা করতে করতে তিনি হয়তো পড়াশোনা শেষ করে ক্যাম্পাস ছেড়ে চলেও যান, কিন্তু বিচার আর হয় না। কমিটির দায়িত্বরত ব্যক্তিরাও অপেক্ষায় থাকেন, কবে ভিক্টিম পড়াশোনা শেষ করে চলে যাবেন আর তার অভিযোগের ফাইলটিও ক্লোজ হয়ে যাবে। কমিটির এই অকার্যকারিতা ও দায়িত্বহীনতার জন্য দিন দিন এসব অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা বেড়েই চলছে।

শিক্ষকদের অসহযোগিতা, চক্ষুলজ্জা, সামাজিক ও পারিবারিক চাপ সবকিছু মিলিয়ে একজন যৌন হয়রানির শিকার হওয়া শিক্ষার্থী মানসিকভাবে খুব ভেঙে পড়েন। অনেকে বেছে নেন আত্মহননের পথ। অথচ যৌন নিপীড়করা ঘুরে বেড়ায় স্বাচ্ছন্দ্যে, তাদের দৌরাত্ম্য বেড়েই চলে।

এর আরেকটি কারণ হচ্ছে পর্যাপ্ত উদ্যোগ ও সচেতনতা ছড়িয়ে দেওয়ার অভাব। আমাদের দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় খুব কম বিভাগেই নারী-পুরুষের সমতাবিষয়ক কোর্স রয়েছে। অথচ এ বিষয়ে ছোটবেলা থেকেই সবাইকে সচেতন করা উচিত। নাহলে লিঙ্গবৈষম্য যেমন প্রকট হবে, তেমনই এসব নির্যাতনের হার কমানো কঠিন হয়ে যাবে।

যৌন হয়রানি প্রতিরোধে আমাদের আরও জোরালো পদক্ষেপ নিতে হবে। সমাজের সর্বস্তরে সচেতনতা ছড়িয়ে দিতে হবে। ছোটবেলা থেকেই পারিবারিক শিক্ষার ওপর জোর দিতে হবে। যেন তারা নারীদেরও মানুষ ভাবতে শিখে, নারী বিদ্বেষী হিসেবে বেড়ে না ওঠে। কমিটির কার্যকারিতা বাড়াতে হবে। প্রতিটি শিক্ষার্থীকে জানাতে হবে ‘যৌন নিপীড়ন ও নিরোধ সেল’-এর ব্যাপারে। তাদের সাহস দিতে হবে, যেন তারা নির্ভয়ে অভিযোগ জানাতে পারেন। প্রতিটা অভিযোগের পর প্রমাণের ভিত্তিতে যত দ্রুত সম্ভব বিচারকার্য সম্পন্ন করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় লোক দেখানো বিচারের নামে সাময়িক বরখাস্ত করে পরে তা তুলে ফেলা হয়। এতে দিনশেষে কোনো লাভ হয় না। যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন নিরোধ নীতিমালা ২০১০ অনুযায়ী, অপরাধের মাত্রা অনুসারে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে মৌখিক বা লিখিতভাবে সতর্ক করা, ১-২ বছরের বহিষ্কার (শিক্ষার্থী), চাকরিচ্যুত, প্রশাসনিক কাজ থেকে বিরত রাখা, অর্থদণ্ড দেওয়া (শিক্ষক ও কর্মচারী) এবং ক্যাম্পাসে চলাচল নিষিদ্ধ (বহিরাগত) করার বিধান রয়েছে। এসব নীতিমালা অনুযায়ী বিচার করা উচিত তো বটেই, প্রয়োজনে আরও কঠোর নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা সময়ের দাবি। নাহলে যৌন হয়রানি যেই ভয়াবহ রূপ নিয়েছে, তা সমূলে উৎপাটন করা কখনোই সম্ভব হবে না।

জাহ্নবী

পথশিশুদের ফুটবল কোচ দ্রিকা

প্রকাশ: ০৩ এপ্রিল ২০২৪, ১১:৪৪ এএম
পথশিশুদের ফুটবল কোচ দ্রিকা
দ্রিকা

রোজ সহিংসতা এবং অস্ত্রধারী মাস্তানদের নিপীড়ন দেখতে দেখতে তার বেড়ে ওঠা। জন্মের পর থেকে একটা সুস্থ-সুন্দর পরিবারে বেড়ে ওঠার সুযোগ পাননি তিনি। জীবনের অমসৃণ পথে হাঁটতে হাঁটতে একজন নারী হওয়া সত্ত্বেও তিনি ফুটবল খেলার দৃঢ় ইচ্ছাকে বাঁচিয়ে রেখেছেন সব সময়। নিজের কঠোর সাধনায় হয়েছেন ফুটবল কোচ।

এ গল্প এক অদম্য কিশোরীর, যার নাম দ্রিকা। দ্রিকা নামের অর্থ বাড়ির শাসক। তিনি বাড়ির শাসক না হলেও ফুটবল জগতে শাসন করছেন ঠিকই। দাদা-দাদির সঙ্গে ব্রাজিলের উত্তরাঞ্চলের সার্জিপ অঞ্চলের ছোট্ট গ্রাম সেরা কাইডায় বসবাস করতেন তিনি। সমবয়সী শিশুদের সঙ্গে ফুটবল খেলতে খেলতে বেড়ে উঠছিলেন তিনি। তখন তার বয়স মাত্র ১৩ বছর। দুর্ভাগ্যক্রমে তার দাদা-দাদি মারা যান। এরপর তার মা এসে তাকে নিয়ে যান নিজের কাছে। ছোটবেলা থেকে মায়ের সান্নিধ্য পাননি বলেই হয়তো মায়ের সঙ্গে খুব বেশি হৃদ্যতা বা সাবলীল সম্পর্ক ছিল না তার। তার মা তাকে যেখানে নিয়ে গেলেন, সেখানে তাকে থাকতে হতো সৎবাবার সঙ্গে। জীবন যেন ক্রমশই আরও জটিল হতে থাকল তার। ঘরে-বাইরে তাকে সহ্য করতে হতো সহিংসতা আর মাস্তানদের দৌরাত্ম্য। এতকিছুর পরও তিনি চালিয়ে যেতে থাকলেন ফুটবলের অনুশীলন। ফুটবল খেলতে খেলতে এক দিন সে স্থানীয় একটি ফুটবল দলের অধিনায়ক হয়ে গেলেন। ২০১৪ সালে তিনি স্ট্রিট চাইল্ড ওয়ার্ল্ড কাপের অধিনায়ক হন এবং এরপর হয়ে ওঠেন কোচ। যদিও তিনি ব্রাজিলিয়ান নারী ফুটবল দলের সদস্য নন।

দ্রিকার জীবন বরাবরই কঠিন ছিল। তবু তিনি শহরের জীবনের চেয়ে গ্রামের জীবনটাকে বেশি শান্তিপূর্ণ মনে করেন। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, গ্রামে তিনি স্বাধীন ছিলেন, বন্ধুদের সঙ্গে পথের ওপর ফুটবল খেলে দিন কাটাতে পারতেন। রিওতে আসার পর তার স্বাধীনতা ধূলিসাৎ হয়ে যায়। প্রতিনিয়ত সহিংসতা আর নিপীড়ন দেখতে হয় তাকে। সৎবাবার কাছেও অত্যাচারিত হতে হয়। তাকে একমাত্র ফুটবল খেলাই শান্তি দিত।

তিনি সরকারি ভাতা পেতেন। সেই ভাতার টাকা আত্মসাৎ করতে চাইত তার বাবা। তিনি সেই সুযোগ দিতে না চাইলে তাকে আরও বেশি অত্যাচারিত হতে হয়। একপর্যায়ে বাধ্য হয়ে তিনি সেই বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসেন। যে বন্ধুর হাত ধরে তিনি বেরিয়ে পড়েছিলেন, আট মাস একসঙ্গে থাকার পর সেই বন্ধুর সঙ্গেও বিচ্ছেদ ঘটে তার। এরপর এক আত্মীয়ের বাসায় ওঠেন। সেখানেও তার জীবন দুর্বিষহ হয়ে পড়ে। তবু তিনি ভেঙে পড়েননি।

এক দিন বন্ধুদের সঙ্গে ফুটবল খেলার সময় তাদের খেলা দেখে মুগ্ধ হয়ে এক ডাচ ভদ্রলোক তার দলের হয়ে খেলার জন্য প্রস্তাব দেন তাদের। ডাচ ভদ্রলোকটি পথশিশুদের নিয়ে কাজ করতেন। একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন তিনি। দ্রিকা আর তার বন্ধুরা সেই প্রস্তাব লুফে নেয়। ওই দলের হয়ে স্ট্রিট চিলড্রেন ইউনাইটেড ওয়ার্ল্ড কাপ খেলেন দ্রিকা। ২০১৪ সালে সেই দলের অধিনায়কত্ব করে পরবর্তী সময়ে কোচ হিসেবে দায়িত্ব পান তিনি।

ফুটবল খেলা ছাড়াও দ্রিকার ভবিষ্যৎ নিয়ে আরও অনেক স্বপ্ন আছে। তার ইচ্ছা, সে একদিন ব্যবসা করবেন, জিমের মালিক হবেন। এমনকি নিজের কমিউনিটির শিশুদের নিয়েও কাজ করার ইচ্ছা রয়েছে তার। তিনি শারীরিক শিক্ষা বিষয়ে পড়াশোনা করছেন। ইংরেজিও শিখছেন। ফুটবল নিয়ে তার স্বপ্নকে আরও বিস্তৃতভাবে ছড়িয়ে দিতে চান তিনি।

সূত্র: আল-জাজিরা
ছবি: স্ট্রিট চাইল্ড ইউনাইটেড

জাহ্নবী

প্রথম নারী অর্থ প্রতিমন্ত্রী ওয়াসিকা আয়শা খান

প্রকাশ: ০৩ এপ্রিল ২০২৪, ১১:৪২ এএম
প্রথম নারী অর্থ প্রতিমন্ত্রী ওয়াসিকা আয়শা খান
ওয়াসিকা আয়শা খান

বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো অর্থ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন একজন নারী। এর আগে কোনো নারী এ পদের দায়িত্ব পাননি। দেশের ইতিহাসে প্রথম হয়ে ওঠা এই নারী ওয়াসিকা আয়শা খান। ১৯৭১ সালের ২৪ জুলাই চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার তৈলারদ্বীপ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তার বাবা আতাউর রহমান খান কায়সার বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের একজন অন্যতম সংগঠক এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাণিজ্যে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন।

রাজনৈতিক পরিবারে বেড়ে ওঠার দরুণ রাজনীতির প্রতি তার আগ্রহ ছিল ছোটবেলা থেকেই। তাই রাজনীতির চর্চা করে গেছেন সব সময়, দেশ ও সমাজের জন্য কাজ করার চেষ্টা করেছেন। রাজনৈতিক অঙ্গনে তিনি বেশ পরিচিত মুখ। ২০১৪ ও ২০১৮ সালে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে ৩১ নম্বর সংরক্ষিত নারী আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। ২০১৯ সালে আওয়ামী লীগের অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক সম্পাদক হন। ২০২১ সালে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী কমিটির সভাপতি হন। এ ছাড়া তিনি চট্টগ্রাম আর্টস কমপ্লেক্সের উপদেষ্টা এবং জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমানোর জন্য ওকালতি করা ক্লাইমেট পার্লামেন্ট বাংলাদেশের ভাইস চেয়ারপারসন। গত ১ মার্চ ২০২৪-এ তিনি অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে নিযুক্ত হন এবং এর মাধ্যমে তিনি দেশের ইতিহাসে প্রথম নারী অর্থ প্রতিমন্ত্রী হওয়ার গৌরব অর্জন করেন।

তার সঙ্গে আরও ছয়জন নতুন মন্ত্রিসভায় যুক্ত হয়েছেন। রোকেয়া সুলতানা পেয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এবং শামসুন নাহার শিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর পদ। ২০২২ সালে ফাতিমা ইয়াসমিন নামে প্রথম নারী অর্থ সচিব পায় বাংলাদেশ। বাংলাদেশের বিভিন্ন সেক্টরে নারীদের এই অংশগ্রহণ প্রমাণ করে নারীদের অগ্রযাত্রা। নারীরা চেষ্টা করলে যেসব প্রতিবন্ধকতা দূর করে যেকোনো কাজে অংশগ্রহণ করতে পারে এবং সফল হতে পারে, তারাও যে দেশ ও সমাজের অগ্রগতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে, তা-ই যেন প্রতিফলিত হয় ওয়াসিকা আয়শা খানের মতো নারীদের কার্যক্রমে।

জাহ্নবী

নারীদের নিয়ে বিখ্যাত কিছু উক্তি

প্রকাশ: ০৩ এপ্রিল ২০২৪, ১১:৪১ এএম
নারীদের নিয়ে বিখ্যাত কিছু উক্তি

তোমরা আমাকে শিক্ষিত মা দাও, আমি তোমাদের শিক্ষিত জাতি দেব।
নেপোলিয়ন বোনাপার্ট (ফরাসি সম্রাট)


কোনকালে একা হয়নিকো জয়ী পুরুষের তরবারি। প্রেরণা দিয়েছে, শক্তি দিয়েছে বিজয়লক্ষ্মী নারী।
কাজী নজরুল ইসলাম (বাঙালি লেখক)


সব বড় মানুষই তার সাফল্যের জন্য কোনো অসাধারণ নারীর সহযোগিতা এবং উৎসাহের ঋণের কথা বলেছেন।
ও হেনরি (আমেরিকান লেখক)


নারী হচ্ছে গ্রন্থ, শিল্প এবং একাডেমি, সমগ্র পৃথিবী যা ধারণ ও লালন করে।
শেকসপিয়ার (ইংরেজ কবি ও নাট্যকার)


নারী একটা বিশ্বাস, একটা অলৌকিকত্ব, একটা আশ্চর্য বিস্ময়, জীবনের সত্যতা, জীবনের লক্ষ্য, জীবনের আগামীর নাম।
কৃষণ চন্দর (ভারতীয় গল্পকার ও ঔপন্যাসিক)


নারীর ভালোবাসা আত্মা থেকে উদ্ভূত হয়ে দেহের মধ্যে ছড়িয়ে পড়তে চায়।
এলেন কী (সুইডিশ লেখক)


একদিকে নারীবিহীন স্বর্গ, অন্যদিকে শুধু নারী। দুটোর একটাকে বেছে নিতে বললে আমি নারীকেই বেছে নিব।
এডমন্ড বার্ক (ইঙ্গ-আইরিশ লেখক)


যে পুরুষ একটি নারীকে বুঝতে পারে, সে পৃথিবীতে যেকোনো জিনিস বুঝতে পারার গৌরব করতে পারে।
জে বি ইয়েটস (আইরিশ কবি ও নাট্যকার)


একজন নারীর সুন্দর হওয়ার চেয়ে ভালো হওয়া বেশি প্রয়োজন।
হেনরি ওয়াডসওয়ার্থ লংফেলো
(আমেরিকান কবি ও অধ্যাপক)


আদর্শ পুরুষের চেয়ে আদর্শ নারী মানবজাতির উচ্চস্তরের বিকাশ।
ফ্রেডরিক নিৎশে (জার্মান দার্শনিক)

জাহ্নবী

বীরাঙ্গনা শাহেলা বেগম

প্রকাশ: ২৭ মার্চ ২০২৪, ০৪:২৫ পিএম
বীরাঙ্গনা শাহেলা বেগম

১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতাযুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে নারীর। মুক্তিযুদ্ধে পুরুষের পাশাপাশি নারীর ভূমিকাও অত্যন্ত প্রশংসনীয়। যুদ্ধের সময় নারীরা কখনো সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে অংশ নিয়েছিলেন, আবার কখনো আড়ালে মুক্তিযোদ্ধাদের সহযোগিতা করেছিলেন।

তেমনই এক সাহসী নারী হলেন বীরাঙ্গনা মুক্তিযোদ্ধা মোছা. শাহেলা বেগম। নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার ধর্মপাল ইউনিয়নের পাইটপাড়া গ্রামের মৃত আব্দুল বাকির স্ত্রী তিনি। মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি সেনাদের দ্বারা নিপীড়িত হয়েছিলেন।

শালেহার মাত্র ১৬ বছর বয়সে বিয়ে হয়েছিল আব্দুল বাকির সঙ্গে। বিয়ের আড়াই মাসের মধ্যে দেশে যুদ্ধ শুরু হয়। চারদিকে একটা অস্থির পরিস্থিতিতে পাক হানাদার বাহিনীরা সৈয়দপুর ক্যান্টনম্যান্ট থেকে জলঢাকা দখল করে নিয়েছিল। খবর ছড়িয়ে পড়ে পাক বাহিনী যাকে পাচ্ছে গুলি করে মেরে ফেলছে। এই খবর শুনে গ্রামের লোকেরা যে যেমন করে পেরেছিলেন ভারতে পালিয়ে গিয়েছিল। শাহেলা বেগমের স্বামী আব্দুল বাকি সিদ্ধান্ত নেন গ্রামে থেকে যাওয়ার। তার ধারণা ছিল, গ্রামের রাস্তাঘাট ভালো না হওয়ার কারণে এদিকে পাকিস্তানি হানাদাররা আসতে পারবে না। শাহেলা বেগম সরল মনে স্বামীর সঙ্গে থেকে যান।

যুদ্ধের সময় কোনো এক সন্ধ্যায় শাহেলা বেগমের স্বামী ও দেবর রেডিওর খবর শুনতে গ্রামের অদূরে একটি মুদি দোকানে গিয়েছিলেন। রাতের রান্না শেষ করে শাহেলা বেগম তাদের ডাকতে বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন। বাড়ির বাইরে এসে দেখেন, বেশকিছু গাড়ির লাইট গ্রামের দিকে ছুটে আসছে।

শাহেলা ভয়ে ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দিয়েছিলেন। অল্প কিছুক্ষণের মধ্যেই বাড়ির ভেতর প্রবেশ করে হানাদার বাহিনীরা। তারা বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করেই আব্দুল বাকিকে খুঁজতে লাগলেন। ঘরে কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে দরজা ভেঙে ফেলেন। চৌকির নিচে লুকিয়ে থাকা শাহেলাকে টেনেহিঁচড়ে বের করে বেঁধে তারা গাড়িতে তুলে নিয়ে গিয়েছিল ক্যাম্পে। এরপর সেখানে তাকে আটকে রেখে তার ওপর চালিয়েছিল নির্যাতন। তিন দিন তিন রাতের নির্যাতনে বহুবার জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছিলেন তিনি। যখন জ্ঞান ফিরে, তখন তিনি উঠে বসতে পারছিলেন না। কথা বলার শক্তিও হারিয়ে ফেলেছিলেন। অমানবিক নির্যাতনের পর পাক হানাদাররা শাহেলাকে অর্ধমৃত অবস্থায় রাতের আঁধারে গ্রামে ফেলে রেখে গিয়েছিলেন। গ্রামের কয়েকজন মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে দেখতে পেয়ে আব্দুল বাকিকে খবর দিয়েছিলেন।

আব্দুল বাকি শাহেলা বেগমকে নিয়ে সেই রাতেই ভারতে চলে যান। তারপর ভারতের হলদিবাড়ি হাসপাতালে তার চিকিৎসা চলে। তবে হানাদারদের সেই নির্যাতনের ফলে শাহেলা বেগম অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েছিলেন। নিজের ওপর এমন অত্যাচার কিছুতেই মেনে নিতে পারছিলেন না। কঠিন মনোবল নিয়ে অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায়ও মুক্তিযোদ্ধাদের সহযোগিতা করেছিলেন। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর একটি মেয়ে সন্তান জন্ম দিয়েছিলেন। কিন্তু মাত্র দেড় মাস বয়সে সে সন্তান মারা গিয়েছিল। পরবর্তীতে শাহেলা বেগম তিন মেয়ে এবং এক ছেলের মা হন।

একাত্তরে নির্যাতনের শিকার অনেক নারীর মতো শাহেলার জীবনেরও ছিল ট্র্যাজেডি, তবে স্বামীগৃহে তার ঠাঁই মিলেছিল। ১৯৭১-এর নারী নির্যাতনকে বীরত্বের মহিমা দিয়ে ঢেকে দিতে নির্যাতিত নারীদের ‘বীরাঙ্গনা’ আখ্যা দিয়েছে রাষ্ট্রীয়ভাবে। দেশের জন্য সম্ভ্রম হারিয়েছেন শাহেলা বেগম। মুক্তিযুদ্ধের সময় বীর মুক্তিযোদ্ধাদের পাশে থেকে বিভিন্ন কাজে সহযোগিতা করেছেন। তার এই কাজের স্বীকৃতি হিসেবে তাকে বীরাঙ্গনা মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি দেয় মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়।

এ ছাড়া ২০২০ সালে শাহেলা বেগমকে সম্মাননা দিয়েছিলেন নীলফামারী জেলা প্রশাসন। সরকারিভাবে নানা সম্মাননা দেওয়া হয়েছে তাকে। বর্তমানে সরকার থেকে প্রতি মাসে সরকারি সুযোগ-সুবিধাসহ নিয়মিত ভাতা পান শাহেলা।

কলি