যেকোনো মানুষের সফল হওয়ার পেছনে প্রথম শর্ত হলো পরিশ্রমী হতে হবে। একজন পরিশ্রমী মানুষের ইচ্ছাশক্তি এবং মনোবল তাকে নিয়ে যেতে পারে বহুদূর। নিজের ইচ্ছাশক্তিকে কাজে লাগিয়ে আজকের নারীরা এগিয়ে যাচ্ছেন বহুদূর। তেমনি একজন এগিয়ে যাওয়া নারীর গল্প বলব আজ; যিনি গৃহিণী পরিচয়ের পাশাপাশি একজন সফল নারী উদ্যোক্তা হিসেবে নিজের পরিচয় গড়ে তুলেছেন।
বলছি ‘ফুড ফ্লেভার্স’-এর মালিক খালেদা খানমের কথা। খালেদা খানম মূলত তার পেজ ‘ফুড ফ্লেভার্স’-এ হোমমেড কেক নিয়ে কাজ করেন। তিনি জানান, ২০২১ সালের অক্টোবর থেকে কেক বানানোর কাজ শুরু করেন। প্রথমে শখ থেকে এই কাজ শুরু করেন তিনি। কাজের শুরুতে কোনো পেশাদার প্রশিক্ষণ নেননি, তবে পরে অনলাইন এ কিছু কোর্স করেছিলেন ও ইউটিউব থেকে বিভিন্ন টিউটোরিয়াল দেখে নিজেই শিখেছেন।
খালেদা খানম সামাজিকবিজ্ঞানে স্নাতক ডিগ্রি করেছেন। সংসার এবং সন্তান সামলাতে গিয়ে পড়াশোনা আর চালিয়ে যেতে পারেননি। এমনকি কোনো চাকরিও করতে পারেননি। কিছু একটা করার প্রবল ইচ্ছা ছিল তার মনে। শখ থেকে শুরু হওয়া কেক বানানোর যাত্রা তাকে নিজের একটা পরিচয় তৈরি করতে সহযোগিতা করেছে। শুরুর দিকে বাসা থেকে এই কেক বানানোকে পেশা হিসেবে নেওয়ার বিষয়ে তেমন সাপোর্ট না করলেও ধীরে ধীরে সবাই খালেদাকে সমর্থন করেছেন। বর্তমানে তার কাজের প্রতি পরিবার পুরোপুরি সহানুভূতিশীল। স্বামী, এক ছেলে ও দুই মেয়ে নিয়ে সুখী পরিবার খালেদার আর পরিবারের সবাই তাকে কেক বানানোর কাজে সহযোগিতা করেন এবং উৎসাহ দেন।
যদিও হোমমেড কেকের কদর এখন বেশ বেড়েছে কিন্তু এই কেক ডেলিভারির ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো অক্ষত অবস্থায় সময়মতো পৌঁছে দেওয়া। কেক খুব সেনসিটিভ জিনিস। তাই অক্ষত অবস্থায় পৌঁছানো বেশ কঠিন বিষয়। এ ছাড়া বৃষ্টি বা যানজটের কারণে অনেক সময় ডেলিভারি দিতে দেরি হয়। এ ব্যবসায় আরেকটি বড় প্রতিবন্ধকতা হলো প্রতিযোগিতার বাজারে টিকে থাকা। প্রতিনিয়ত নতুন নতুন কেক ডিজাইন ও ভিন্ন স্বাদের কেক তৈরি করতে হয়, যা সময় ও সৃজনশীলতা দাবি করে। এ ছাড়া কেকের কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি এবং ক্রেতার প্রত্যাশা মেটানোর চ্যালেঞ্জেরও মুখোমুখি হতে হয়। তবু প্রতিনিয়ত এই হোমমেড কেকের ব্যবসার প্রতি নারীদের আগ্রহ বাড়ছে।
খালেদা খানমের ভাষ্যমতে, ‘নতুন উদ্যোক্তাদের কিছু বিষয় খেয়াল রেখেই এ পথে পা বাড়াতে হবে। যেমন- আপনাদের ব্যবসা শুরু করার আগে কাজের প্রতি ভালোবাসা ও সংকল্প থাকতে হবে। সঠিক পরিকল্পনা, ধৈর্য এবং দৃঢ়তা নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। প্রতিযোগিতা এবং চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হলেও, মনোবল হারানো যাবে না। আর যে বিষয়টি অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে, ক্রেতার চাহিদা বুঝে কাজ করতে হবে এবং কেকের মান বজায় রাখার কোনো বিকল্প নেই। সবশেষ, লক্ষ্য ঠিক রেখে কাজ করতে হবে। ব্যবসার শুরুতে হোঁচট খেলেও হতাশ হওয়া যাবে না বরং হতাশা কাটিয়ে নতুন উদ্যমে আবার শুরু করতে হবে এবং সততার সঙ্গে ব্যবসা পরিচালনা করতে হবে। নিজের সন্তানের মতো করে এই কাজের প্রতিও যত্নশীল হতে হবে। এত প্রতিযোগিতার ভিড়েও মান বজায় রেখে একজন নারী উদ্যোক্তা হোমমেড কেক বানিয়ে মাসে ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত উপার্জন করতে পারেন।’
জাহ্নবী
.jpg)