ঢাকা ১৫ ফাল্গুন ১৪৩০, বুধবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪
Khaborer Kagoj

মৌলভাবাজারে আক্রান্ত ২৫৭ জন চা-বাগানে বাড়ছে কুষ্ঠ রোগী

প্রকাশ: ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১২:২২ পিএম
চা-বাগানে বাড়ছে কুষ্ঠ রোগী

বাংলাদেশের যেসব জেলায় কুষ্ঠ রোগের প্রাদুর্ভাব রয়েছে এরমধ্যে চা-বাগান অধ্যুষিত মৌলভীবাজার জেলা অন্যতম। গেল ২০২৩ সালে এই জেলায় মোট ২৫৭ জন কুষ্ঠ রোগী শনাক্ত হয়েছেন; তাদের মধ্যে শিশুর সংখ্যা ১১ জন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পরীক্ষার হার বাড়ালে এই রোগী শনাক্তের হার আরও বাড়বে। তবে জেলা সিভিল সার্জন অফিস জানিয়েছে, বর্তমানে এ জেলায় কুষ্ঠ রোগের পরিস্থিতি ভালো। চা-বাগানসহ সন্দেহজনক এলাকায় পোর্টেবল এক্স-রে দিয়ে রোগী শনাক্ত করা হচ্ছে। দেওয়া হচ্ছে চিকিৎসা।

সম্প্রতি মৌলভীবাজারে কুষ্ঠ রোগের একটি চিত্র তুলে ধরেছে রোগটি নিয়ে কাজ করা বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা লেপ্রা। সংস্থাটির মৌলভীবাজার-হবিগঞ্জের এরিয়া সুপারভাইজার জিয়াউর রহমান মৌলভীবাজারের কুষ্ঠ রোগের অবস্থা নিয়ে আশঙ্কাজনক কিছু তথ্য জানিয়েছেন। 

লেপ্রা জানিয়েছে, ২০২২ সালে মৌলভীবাজারে মোট কুষ্ঠ রোগী শনাক্তের সংখ্যা ছিল ১৯৩ জন। ২০২৩ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ২৫৭ জনে। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি কুষ্ঠ রোগী শনাক্ত হয়েছে কমলগঞ্জ উপজেলায়। এ উপজেলায় ২০২৩ সালে ৬৬ জন কুষ্ঠ রোগী শনাক্ত হন। একই বছর কুলাউড়ায় ৬২ জন, জুড়ীতে ৪৬ জন, শ্রীমঙ্গলে ৩৫ জন, বড়লেখায় ২৬ জন, রাজনগরে ১৭ জন এবং সদরে মোট ৯ জন কুষ্ঠ রোগী শনাক্ত হন।

চা-শ্রমিকদের কুষ্ঠ রোগে আক্রান্ত হওয়া নিয়ে জিয়াউর রহমান বলেন, ‘মৌলভীবাজারে মোট শনাক্ত হওয়া কুষ্ঠ রোগীর বেশির ভাগই পিছিয়ে থাকা চা-শ্রমিক জনগোষ্ঠীর সদস্যরা। মোট কুষ্ঠ রোগীর ৯৮ শতাংশই আসেন জেলার বিভিন্ন চা-বাগান থেকে। এর অবশ্য আরেকটা কারণ আছে, চা-বাগানগুলোতে সহজেই রোগীদের পরীক্ষার জন্য একত্র করা যায়। তাই পরীক্ষাও হয় বেশি। যে কারণে শনাক্তের হার চা-বাগানে বেশি।’

তিনি জানান, সিভিল সার্জনের উদ্যোগে পোর্টেবল এক্স-রে সুবিধা চালু করায় এখন এক্স-রে টিম নিয়ে ভ্রাম্যমাণ অবস্থায়ও রোগী শনাক্ত করা হয়। টিমটি যেখানে যায়, সেখানে ক্যাম্পেইনও করে। আমরা সার্ভে বাড়াতে পারলে কুষ্ঠ রোগী শনাক্তের সংখ্যা আরও বাড়বে।

চা-শ্রমিকদের নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন মিন্টু দেশোয়ারা। তিনি বলেন, ‘শ্রমিকদের মজুরি কম থাকার ফলে প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম ধরে কম খাওয়ার ফলে তারা অপুষ্টিতে ভোগেন। এ ছাড়া তারা নোংরা পরিবেশে বসবাস করেন। এসব কারণে তাদের মধ্যে কুষ্ঠ রোগ হওয়ার হার বেশি। পরিবারের কোনো সদস্যের এই রোগ হলে অন্যরা তা বুঝতেও পারেন না। তার মাধ্যমে অন্যরা সংক্রমিত হয়।

মৌলভীবাজার সিভিল সার্জন অফিসের কর্মকর্তা মো. আব্দুল জাকারিয়া বলেন, ‘জেলায় ২০২৩ সালে ২৫৭ জন কুষ্ঠ রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এরমধ্যে চিকিৎসার আওতাধীন রয়েছেন ২১৭ জন। তাদের মধ্যে শিশু ১১ জন। মারা গেছেন দুজন। বাকিরা সুস্থ হয়ে গেছেন।

আক্রান্তের এই সংখ্যা আশঙ্কাজনক জানিয়েছে তিনি বলেন, কুষ্ঠ রোগ সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করতে সিভিল সার্জন অফিসের উদ্যোগে নানা ধরনের কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। ভ্রাম্যমাণ চিকিৎসকদের দল সার্ভে করছে। সচেতনতামূলক ক্যাম্পের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে এ বিষয়ে জানানো হচ্ছে।

কুষ্ঠ রোগে আক্রান্ত রোগী বিনয় চাষা বলেন, ‘আমি জানতামই না, আমার কুষ্ঠ হয়েছে। শুধু পায়ে কিছু ঘা হয়েছিল। ফার্মেসি থেকে ওষুধ কিনে খাই। কিন্তু দীর্ঘদিনেও ঘা কম ছিল না। পরে চা-বাগানের এক ডাক্তার জানান, আমার কুষ্ঠ হয়েছে। পরে তিনি আরও দুজন ডাক্তার নিয়ে আসেন। তারা আমাকে চিকিৎসা দেন। প্রায় এক বছর ওষুধ খাই। এতে কিছুটা সুস্থ হয়ে উঠি। পরে আরও ছয় মাস ওষুধ খাওয়ার পর এখন মোটামুটি সুস্থ আছি।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নারী বলেন, ‘আমার পিঠে প্রথমে একটা দাগ হয়েছিল। সেই দাগ শুরুতে আমলে নেইনি। কিন্তু দীর্ঘদিন পরেও যখন এটি কম ছিল না তখন ডাক্তারের কাছে গেলে তিনি জানান, আমার কুষ্ঠ রোগ হয়েছে। তবে এখন চিকিৎসাধীন আছি। ডাক্তার বলেছেন, ওষুধ খেলে কুষ্ঠ রোগ ভালো হয়ে যায়।’

জেলা সিভিল সার্জন ডা. চৌধুরী জালাল উদ্দিন মোর্শেদ বলেন, কুষ্ঠ রোগে আক্রান্তের দিক দিয়ে দেশে শীর্ষ জেলা মৌলভীবাজার। বর্তমানে জেলায় যেসব রোগী রয়েছেন তাদের মধ্যে অপ্রাপ্তবয়স্করাই বেশি। সংক্রামক এ রোগ সম্পর্কে বিভিন্ন কুসংস্কার রয়েছে। অধিকাংশ রোগী সমাজ ও নিজের পরিবারে বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। আমরা চিকিৎসার পাশাপাশি রোগী ও তাদের পরিবারকে সচেতন করার কাজও চালিয়ে যাচ্ছি। পরিস্থিতির উন্নয়নে স্বাস্থ্য বিভাগ সক্রিয় রয়েছে। শনাক্ত কুষ্ঠ রোগীদের বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি। 

মসিক নির্বাচন: প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণায় খাদ্য কর্মকর্তা

প্রকাশ: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১২:১৩ পিএম
মসিক নির্বাচন: প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণায় খাদ্য কর্মকর্তা
ছবি : খবরের কাগজ

ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন (মসিক) নির্বাচনে মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণায় নেমেছেন জামালপুর সদর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক জিন্নাত শামসুন্নাহার রুমা। এতে ভোটার ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে। 

এই খাদ্য কর্মকর্তা মেয়র পদে সাদেকুল হক খান মিল্কী টজুর হাতি প্রতীকে ভোট চেয়ে প্রচারণা চালিয়েছেন। এ ছাড়া তিনি নগরীর ১৬ নম্বর ওয়ার্ডে কাউন্সিলর প্রার্থী ঠেলাগাড়ি প্রতীকের শরাফ উদ্দিনের পক্ষে অবস্থান নিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছেন।

৩২ নম্বর ওয়ার্ডের চর কালিবাড়ী এলাকার বাসিন্দা বয়োবৃদ্ধ শামসুল আলম বলেন, ‘জীবনে অনেক নির্বাচন দেখেছি, তবে কখনো সরকারি কর্মকর্তাকে প্রকাশ্যে প্রচারণায় অংশ নিতে দেখিনি। ওই খাদ্য কর্মকর্তার প্রচারণা দেখে অন্য যেকোনো সরকারি কর্মকর্তারাও নির্বাচনে প্রকাশ্যে প্রচারণা চালাতে পারে। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।’

১৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘ওই নারী কর্মকর্তা সরকারি চাকরি করে কারও পক্ষে অবস্থান নিতে পারেন না। এটি অনেক ভোটাররা ভালো চোখে দেখছে না।’

প্রার্থীদের জন্য প্রচারণায় অংশ নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে জিন্নাত শামসুন্নাহার রুমা বলেন, ‘ওই প্রার্থীরা আমার পছন্দের লোক, এমনকি আমার আত্মীয়ও হতে পারে। তাই তাদের জন্য কারও কাছে ভোট চাইতেই পারি। আমার চাকরি ঠিক রেখে সবকিছু করছি।’
 
ময়মনসিংহ জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা সফিকুল ইসলাম বলেন, ‘কোনো সরকারি কর্মকর্তা কারও পক্ষ নিয়ে নির্বাচনে প্রচারণায় নামতে পারবেন না। সেই বিষয়ে সুস্পষ্ট আইন রয়েছে। এ বিষয়ে অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এ বিষয়ে ময়মনসিংহের আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক আবু নাঈম মোহাম্মদ শফিউল আলম বলেন, ‘সরকারি চাকরি করে নির্বাচনি প্রচারণায় অংশ নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। তবে এলাকার কেউ প্রার্থী হলে তার পক্ষে সমর্থন থাকতে পারে। প্রকাশ্যে প্রচারণায় নামা যাবে না। খোঁজখবর নিয়ে ঘটনার সত্যতা পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

কামরুজ্জামান মিন্টু/জোবাইদা

বাগেরহাট জেলা শহিদ মিনার নেই ১২৪০ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে

প্রকাশ: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১১:৫৯ এএম
শহিদ মিনার নেই ১২৪০ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে

বাগেরহাটের ১ হাজার ২৪০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভাষাশহিদদের স্মরণে এখনো নির্মাণ করা হয়নি শহিদ মিনার। যদিও সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী দেশের প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শহিদ মিনার থাকা বাধ্যতামূলক। সরকারি এ নির্দেশনা মানা হচ্ছে না জেলার অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। ফলে একুশে ফেব্রুয়ারিতে ফুল দিয়ে শহিদদের শ্রদ্ধা নিবেদন করতে পারছেন না শিক্ষার্থীরা। এদিকে যেসব প্রতিষ্ঠানে শহিদ মিনার রয়েছে, সেগুলোও সারা বছর পড়ে থাকে অযত্নে-অবহেলায়।

জেলায় সরকারি-বেসরকারি মিলে ২৮২টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ৪০টি নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ১১টি স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ১১২টি মাদ্রাসা ও ১ হাজার ১৬২টি প্রাথমিক বিদ্যালয় আছে। জেলায় সব মিলিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ১ হাজার ৬০৭টি। এর মধ্যে ১ হাজার ২৪০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শহিদ মিনার ও স্মৃতিস্তম্ভ নেই। স্বাধীনতার প্রায় ৫৩ বছরেও এসব প্রতিষ্ঠানে শহিদ মিনার না হওয়ায় ক্ষোভ জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, বাগেরহাটে মোট ৯টি উপজেলায় ১ হাজার ১৬২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আছে। এর মধ্যে ২৪০টিতে শহিদ মিনার ও স্মৃতিস্তম্ভ নেই। প্রতিটি বিদ্যালয় শহিদ মিনার ও স্মৃতিস্তম্ভ তৈরিতে সরকারিভাবে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

জেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ঘুরে দেখা যায়, প্রাথমিক পর্যায়ে ৮০ ভাগ স্কুলে শহিদ মিনার নেই। অধিকাংশ মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শহিদ মিনার নেই। এর মধ্যে কোনো মাদ্রাসাতেই নেই শহিদ মিনার। বেশির ভাগ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শহিদ মিনার না থাকার কারণ অনুসন্ধানে জানা গেছে, বিদ্যালয়গুলোয় শহিদ মিনার নির্মাণে অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয় না।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মু. শাহ আলম বলেন, ‘কিছু কিছু বিদ্যালয়ে স্থায়ী শহিদ মিনার আছে। সরকারিভাবে জেলার প্রতিটি স্কুলে শহিদ মিনার তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। একই নকশায় প্রতিটি স্কুলে শহিদ মিনার তৈরি করার জন্য সরকারিভাবে আমাদের কাছে স্কুলের হিসাব চাওয়া হয়েছে। আমরা আমাদের জেলার হিসাব দিয়েছি।’

জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এস এম ছায়েদুর রহমান বলেন, ‘প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিজস্ব উদ্যোগে শহিদ মিনার তৈরি করার জন্য চিঠি দেওয়া হয়েছে।’ জেলা প্রশাসক মো. খালিদ হোসেন বলেন, ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শহিদ মিনার থাকলে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ভাষার প্রতি ভালোবাসা ও ভাষা শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে পারে। জেলার যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শহিদ মিনার নেই, সেসব প্রতিষ্ঠানে তা নির্মাণে বিভিন্ন বরাদ্দের মাধ্যমে সহযোগিতা করা হবে।’

খাল কেটে মাটি বিক্রির অভিযোগ ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে

প্রকাশ: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১১:৫৬ এএম
খাল কেটে মাটি বিক্রির অভিযোগ ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে
ফরিদপুরের সালথায় স্থানীয় ইউপি সদস্য ফরিদ হোসেন খালের মাটি ইটভাটায় বিক্রি করছেন। খবরের কাগজ

ফরিদপুরের সালথায় স্থানীয় ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে পেঁয়াজ খেতের মধ্য দিয়ে খাল খনন করে ইটভাটায় মাটি বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার যদুনন্দী ইউনিয়নের খারদিয়া ছয়আনি গ্রামের আশ্রয়ণ প্রকল্পের সামনে দিয়ে এই খাল খনন করা হয়েছে। এ ছাড়া একটি মেহগনির বাগানের ভেতর দিয়েও খাল খনন করা হয়েছে। এতে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বেশ কয়েকজন কৃষক। 

জানা যায়, এই স্থানে একটি সরকারি খাল ছিল। খালটি ভরাট হয়ে যাওয়ায় কৃষকরা সেখানে পেঁয়াজ চাষ করে আসছেন। তবে বর্তমানে খালটি সরকারি কোনো প্রকল্পের মাধ্যমে কাটা হয়নি। ইউপি সদস্য মো. ফরিদ হোসেন মাটি বিক্রি করার জন্য ব্যক্তিস্বার্থে খাল কেটেছেন। 

সরেজমিনে দেখা যায়, খারদিয়া ছয়আনি আশ্রয়ণ প্রকল্প থেকে বলতলা এলাকা পর্যন্ত পেঁয়াজ খেত ও মেহগনি বাগানের ভেতর দিয়ে ভেকু মেশিনের মাধ্যমে একটি খাল খনন করা হয়েছে। ভেকুর তাণ্ডবে নষ্ট হয়েছে কয়েক বিঘা জমির পেঁয়াজের চারা। উপড়ে ফেলা হয়েছে একটি বাগানের কয়েকটি মেহগনি গাছ। পাশেই কৃষি জমিতে খনন করা হয়েছে আরেকটি পুকুর। 

স্থানীয় কৃষকরা জানান, পেঁয়াজ খেত ও বাগানের ভেতর দিয়ে খাল কাটার নামে মাটি কেটে ইটভাটাসহ বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি করেছেন যদুনন্দী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ফরিদ হোসেন। মাটি খালের দুই পাড়ে না ফেলে বিক্রি করে দেওয়ায় ওই খাল কৃষকের কোনো উপকারে আসবে না। বরং বৃষ্টি হলে খালের দুই পাশের কৃষিজমির মাটি ভেঙে খাল ভরাট হয়ে যাবে। 

তারা আরও জানান, খাল খননের মাটি অবৈধ ট্রলি গাড়িতে করে আনা-নেওয়া করায় কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত স্থানীয় পাকা সড়কগুলো নষ্ট হয়েছে। ফসলসহ পাকা সড়কের ব্যাপক ক্ষতি হলেও স্থানীয়ভাবে ওই ইউপি সদস্য প্রভাবশালী হওয়ায় তার ভয়ে কেউ মুখ খোলেনি।

এ বিষয় অভিযুক্ত ইউপি সদস্য মো. ফরিদ হোসেন মোবাইল ফোনে বলেন, ‘জনস্বার্থে খালটি কাটা হয়েছে।’ 

তবে সরকারি কোনো প্রকল্পের মাধ্যমে খাল কেটে মাটি বিক্রি করছেন কি না, এমন প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে তিনি ফোন কেটে দেন। এরপর আর ফোন রিসিভ করেননি।

যদুনন্দী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. আলমগীর হোসেন মিয়া বলেন, ‘ওখানে একটি সরকারি খাল ছিল। খালটি ভরাট হয়ে যাওয়ায় কৃষকরা সেখানে পেঁয়াজ চাষ করে আসছেন। তবে বর্তমানে খালটি সরকারি কোনো প্রকল্পের মাধ্যমে কাটা হয়নি। ইউপি সদস্য ফরিদ হোসেন মাটি বিক্রি করার জন্য ব্যক্তিস্বার্থে খাল কেটেছে বলে জানতে পেরেছি। যে কারণে খালের পাড় বাঁধা হয়নি। ফলে খালটি জনগণের দশ পয়সার উপকারে আসবে না।’

যদুনন্দী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘এই খাল কাটার ব্যাপারে আমি কিছু জানি না। কোনো প্রকল্পের মাধ্যমে খাল কাটা হচ্ছে না, সেটাও জানি না। তবে শুনেছি খাল কেটে মাটি বিক্রি করা হচ্ছে।’

সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আনিছুর রহমান বালী বলেন, ‘সরকারিভাবে খালটি কাটা হয়নি। কেউ আমার অনুমতিও নেয়নি। আমি এই বিষয় কিছু জানিও না। খোঁজখবর নিয়ে দেখা হবে।’

ফরিদপুরে নৌকায় ভেজানো চিতই পিঠা উৎসব অনুষ্ঠিত

প্রকাশ: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১১:৫২ এএম
ফরিদপুরে নৌকায় ভেজানো চিতই পিঠা উৎসব অনুষ্ঠিত
ছবি: খবরের কাগজ

ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার সদরবেড়া গ্রামে তিন দিনব্যাপী ব্যতিক্রমধর্মী নৌকায় ভিজানো চিতই পিঠার উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। 

রবিবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) থেকে শুরু হওয়া এ উৎসব শেষ হয় মঙ্গলবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) মধ্য রাতে।

ওই এলাকার তপন সাধু তার বাড়িতে তিন দশক ধরে এ আয়োজন করে আসছেন। তিনি তপন ওঝা নামেও পরিচিত। ষাটোর্ধ্ব তপন ফকিরের পরিচিতি আছে চিতই পিঠা মেলার আয়োজন করার জন্য।

জানা যায়, নিজ এলাকায় প্রায় তিন যুগ ধরে দুধ-গুড়ের রসে ভেজানো চিতই পিঠা উৎসবের আয়োজন করছেন তপন ফকির। এই উৎসবে তৈরি সব পিঠাই ভেজানো হয় নৌকায়। এই পিঠা উৎসব এলাকায় একটা ঐতিহ্য সৃষ্টি করেছে। এবারের পিঠা উৎসব শুরু হয় রবিবার থেকে যা চলে মঙ্গলবার পর্যন্ত।

সরেজমিন দেখা যায়, ২০টি মাটির চুলায় মাটির পিঠার ছাঁচে গ্রামের বেশ কয়েকজন নারী তৈরি করছেন চিতই পিঠা। পাশেই বড় বড় পাতিলে জ্বাল দেওয়া হচ্ছে দুধ, আরেকটিতে ফুটানো হচ্ছে খেজুরের রস। উঠানের মাঝখানে রাখা হয়েছে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও রং করা একটি নৌকা। নৌকার মাঝখানে পলিথিন বিছানো, কিনারে লাগানো আছে কয়েকটি লাল নিশান। ফুল দিয়ে সাজিয়ে রাখা আছে একটি বৈঠা। এই উৎসবকে ঘিরে অনেক দোকানি পসরা সাজিয়েছেন রংবেরঙের নানা খেলনা, জিনিসপত্র, খাবার আর আচার দিয়ে। পিঠা তৈরিতে ব্যস্ত গ্রামের নারীরা।

তপন ফকির জানান, প্রায় তিন যুগ ধরে চলছে তার এ দুধ-গুড়ে ভেজানো চিতই পিঠার মেলা। প্রতি বছর মাঘ মাসের পূর্ণিমার রাতে শুরু হয় এই উৎসব। তিন দিন ধরে নৌকার মধ্যে দুধ-খেজুরের রসে ভিজিয়ে চিতই পিঠা এলাকাবাসী ও ভক্তদের খাওয়াতে হবে। তপন ফকিরের বিশ্বাস, এতেই বাড়বে দৈবশক্তি। 

তপনের ভাষায়, সেই বিশ্বাস থেকে প্রতি বছর এ সময় তিনি গ্রামবাসী ও ভক্তদের নৌকায় ভেজানো দুধ চিতই পিঠা খাওয়ানোর আয়োজন করে আসছেন।

জানা গেছে, তপন ফকিরের এই পিঠা উৎসব পরিচিত দুধ চিতইয়ের মেলা নামে। প্রতিদিন সন্ধ্যায় শুরু হয় পিঠা খাওয়ার আয়োজন। সন্ধ্যার পর পাতিলে দুধ আর খেজুরের রস মিশিয়ে ঢেলে দেওয়া হয় নৌকায়। এর মধ্যে ডুবিয়ে দেওয়া হয় চিতই পিঠা। বাটিতে তুলে পরিবেশন করা হয় ভক্ত ও দর্শনার্থীদের মাঝে। 

লিয়াকত নামে একজন বলেন, ‘প্রতিদিন মেলায় প্রায় ৫ মণ দুধ, ১ মণ খেজুরের রস এবং ১০ হাজার পিস চিতই পিঠা ভেজানো হয়। সন্ধ্যার পর থেকে শুরু হয় খাওয়া, চলে গভীর রাত পর্যন্ত। প্রতিদিন আয়োজনের পিঠা শেষ হয়ে যায়।’

উৎসব দেখতে স্থানীয়রা ছাড়াও দূর-দূরান্ত থেকে অসংখ্য মানুষ ভিড় করে।

তালমা বাজারের ব্যবসায়ী গোপাল বলেন, ‘তপন সাধুর বাড়িতে পিঠা খাওয়ার এরকম আয়োজন গত তিন দশক ধরে হয়ে চলছে। ‌অনেকে তার কাছে এসে ভালো হয়ে যায়। আমরা যতদূর জানি তিনি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন আয়োজন করে পিঠা খাওয়ান মানুষকে।’

ওই গ্রামের বাসিন্দা হারুন বলেন, ‘আমরা প্রতি বছর এখানে পিঠা খেতে আসি। একদম গরম ভেজানো পিঠা। খুবই সুস্বাদু খেতে।’

তালমা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামাল হোসেন বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে দেখে আসছি তিন দিনব্যাপী এই পিঠা উৎসবের আয়োজন করা হয়। স্থানীয়রা ছাড়াও দূর-দূরান্ত থেকে অসংখ্য মানুষ আসেন এই পিঠা উৎসবে যোগ দিতে।’

সঞ্জিব দাস/সাদিয়া নাহার/

আটক ৪ মেয়াদোত্তীর্ণ স্যালাইন খেয়ে শিশুর মৃত্যু, অসুস্থ আরও ৩

প্রকাশ: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১১:৪৮ এএম
মেয়াদোত্তীর্ণ স্যালাইন খেয়ে শিশুর মৃত্যু, অসুস্থ আরও ৩

সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলায় মেয়াদোত্তীর্ণ স্যালাইন খেয়ে জিম খাতুন (৩) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সেই সঙ্গে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন নিহতের মাসহ আরও দুজন।

সোমবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে উপজেলার বেলগাছি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দোকানদার ও সেলসম্যানসহ চারজনকে আটক করা হয়েছে। মৃত জিম খাতুন উপজেলার বেলগাছি গ্রামের কায়েম উদ্দিনের মেয়ে। অসুস্থরা হলেন- নিহতের মা পারভিন খাতুন, বোন রিয়া ও মিথিলা। 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার সন্ধ্যায় শবেবরাতের নফল রোজা রেখে ইফতারিতে ওরস্যালাইন ও ইস্পি ট্যাংয়ের মিশ্রণের শরবত খান পারভিন খাতুন। এ সময় তার তিন মেয়ে জিম, রিয়া ও মিথিলাও এ শরবত খায়। ইফতার শেষে পারভিন ও তার তিন শিশু অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে পরিবারের লোকজন সিরাজগঞ্জ বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতালে তাদের ভর্তি করেন। 

হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. ফয়সাল হোসেন বলেন, ‘অসুস্থ অবস্থায় তাদের প্রথমে বেলকুচি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে চিকিৎসক তাদের সিরাজগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে পাঠান। সেখানে নেওয়ার পরে জিম খাতুনের মৃত্যু হয়। এরপর উন্নত চিকিৎসার জন্য অসুস্থ অন্য তিনজনকে বগুড়া জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। জিম খাতুনের মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।’

বেলকুচি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিছুর রহমান বলেন, ‘বিষয়টি জানার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে দোকানদার আমিনুল ইসলাম, স্যালাইনের সেলসম্যান আনিছুর রহমান, হাফিজ শেখ ও সাগর হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়েছে। খাবার স্যালাইনের গায়ে মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ পরিষ্কার নয়। আমি খাবার স্যালাইন টেস্টের জন্য ল্যাবে পাঠাব। ল্যাবের রিপোর্ট এলে বোঝা যাবে স্যালাইন মেয়াদোত্তীর্ণ নাকি স্যালাইনটি নকল। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।’