ঢাকা ১৫ ফাল্গুন ১৪৩০, বুধবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪
Khaborer Kagoj

চট্টগ্রামে হকার-পুলিশ সংঘর্ষে আহত ২০

প্রকাশ: ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১২:৪২ পিএম
চট্টগ্রামে হকার-পুলিশ সংঘর্ষে আহত ২০
চট্টগ্রামের বটতলী নতুন রেলস্টেশন এলাকায় সিটি করপোরেশনের উচ্ছেদ অভিযানের সময় সোমবার হকার ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। ছবি : খবরের কাগজ

চট্টগ্রামের কোতোয়ালি থানাধীন বটতলী নতুন রেলস্টেশন এলাকায় সিটি করপোরেশনের উচ্ছেদ অভিযানে হকার ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ ঘটেছে। এতে পুলিশসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ রাবার বুলেট ছুড়ছে। বর্তমানে ওই এলাকায় থমথমে পরিস্থিত বিরাজ করছে। 

সোমবার (১২ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৩টা ৫০ মিনিটে এ ঘটনা ঘটে।

সরেজমিনে গিয়ে ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সোমবার দুপুর আড়াইটার দিকে চট্টগ্রাম নগরের পুরোনো রেলস্টেশন এলাকা পুনরায় দখল হয়ে যাওয়া ফুটপাতের দোকানপাট উচ্ছেদে যায় সিটি করপোরেশন। ওই অভিযানের নেতৃত্ব দেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট চৈতী সর্ববিদ্যা, চসিক মেয়রের একান্ত সচিব আবুল হাশেমসহ আরও দুজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। এ সময় নগরের পুরোনো রেলস্টেশনের উভয় পাশের শতাধিক দোকানের সড়কে বর্ধিত অংশ ভাঙা হয় এবং বেশ কয়েকটি দোকানের আলমিরা, গ্যালারি ভেঙে দেওয়া হয়। কয়েকজনকে আটক করা হয়। জরিমানা করা হয় কয়েকজনকে। বিভিন্ন মেয়াদে কয়েকজনকে জেলও দেওয়া হয়। বিকেল ৩টা ৩৫ মিনিটে বুলডুজার দিয়ে একটি জেনারেটর চসিকের গাড়িতে তুলে ফেললে হকারদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। 

এ সময় বিভিন্ন দিক থেকে হকাররা জড়ো হয়ে মিছিল করতে থাকেন। কেউ কেউ সড়কে শুয়ে পড়েন এবং সড়ক অবরোধ করেন। পরে তারা চসিকের উচ্ছেদের বিরুদ্ধে সিটি করপোরেশনের দালালরা হুঁশিয়ার সাবধান বলে নানা রকম স্লোগান দিতে থাকেন। ওই সময় সিটি করপোরেশনের মেয়রের একান্ত সচিব আবুল হাশেম ও ৩ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, চসিকের স্ট্রাইকিং ফোর্সের সদস্য এবং পুলিশের সদস্যরা অন্য একটি ভ্রাম্যমাণ দোকান উচ্ছেদ করছিলেন। ঠিক ওই মুহূর্তে হকাররা নিউ মার্কেট মোড় থেকে স্লোগান দিয়ে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে। একপর্যায়ে শুরু হয় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া। ভাঙচুর করা হয় চসিকের গাড়ি। 

হকারদের ধাওয়া খেয়ে পুলিশ সদস্যরা নতুন বটতলী রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় এসে থামেন। আর সিটি করপোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা পাশের একটি শৌচাগারে আশ্রয় নেন। পরে পুলিশ রাবার বুলেট ছুড়লে হকাররা পাল্টা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকেন। বেশ কিছুক্ষণ ধরে এ সংঘর্ষ চলতে থাকে। একপর্যায়ে হকাররা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। পুলিশ দুটি টিমে ভাগ হয়ে নগরের নিউমার্কেট এলাকায় ও নতুন রেলস্টেশন এলাকায় অবস্থান নেয়। এ অবস্থার আরও ২৫ মিনিট পরে পুলিশ গিয়ে ম্যাজিস্ট্রেট ও কর্মকর্তাদের উদ্ধার করে। এ ঘটনায় পুরো সড়কে যানজট দেখা দেয়। 

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম ফুটপাত হকার্স সমিতির সভাপতি নুরুল আলম লেদু খবরের কাগজকে বলেন, ‘নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশকে ফাঁকি দিয়ে হকাররা বিভিন্ন স্থানে বসে ব্যবসা করছিলেন। কিন্তু এতে সিটি করপোরেশনের স্ট্রাইকিং ফোর্স এসে হকারদের এলোপাতাড়ি মারতে শুরু করে। এতে হকাররা ক্ষিপ্ত হয়ে তাদের ওপরেও হামলা করেছেন। কিন্তু এর আগে গত ৮ ফেব্রুয়ারি উচ্ছেদের সময় হকাররা শান্ত ছিলেন। কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেনি। কিন্তু আজ চসিকের লোকজন হামলা করায় এ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। আমাদের ৬ জন হকার আহত হয়েছেন। তাদেরকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।’ 

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে চসিক মেয়রের একান্ত সচিব আবুল হাশেম খবরের কাগজকে বলেন, ‘আমরা জানতে পারি যে আমাদের উচ্ছেদের পরে আবারও ফুটপাত দখলে নিয়ে ফেলেছেন হকাররা। তাই আমরা আজ উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছি। আমরা কারও সঙ্গে বিরোধে যাইনি। আমরা চাচ্ছি নগরের ফুটপাত দখলুমক্ত হোক। কিন্তু একপর্যায়ে হকাররা আমাদের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে। আমরা এখনো জানতে পারিনি কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে। আমরা জানার চেষ্টা করছি। তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে।’ 

চসিকের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট চৈতী সর্ববিদ্যা খবরের কাগজকে বলেন, ‘হকাররা সঙ্গবদ্ধভাবে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ ও কর্মকর্তাদের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষার্থে গুলি বর্ষণের আদেশ দেওয়া হয়েছে। আমাদের স্ট্রাইকিং ফোর্সের সদস্য, কর্মচারীরা আহত হয়েছেন। তাদেরকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। আমাদের লক্ষ হচ্ছে ফুটপাত দখলমুক্ত করা এবং আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।’ 

জানতে চাইলে কোতোয়ালি থানার ওসি এস এম ওবায়দুল হক খবরের কাগজকে বলেন, ‘সার্বিক পরিস্থিতি এখনি বলতে পারছি না। কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে তা জানার চেষ্টা করা হচ্ছে। এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে। 

এর আগে গত ৮ ফেব্রুয়ারি ওই এলাকায় বড় ধরনের অভিযান পরিচালনা করে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন। ওই অভিযানে প্রায় ৬ হাজার হকার উচ্ছেদ করা হয়। 

মসিক নির্বাচন: প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণায় খাদ্য কর্মকর্তা

প্রকাশ: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১২:১৩ পিএম
মসিক নির্বাচন: প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণায় খাদ্য কর্মকর্তা
ছবি : খবরের কাগজ

ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন (মসিক) নির্বাচনে মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণায় নেমেছেন জামালপুর সদর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক জিন্নাত শামসুন্নাহার রুমা। এতে ভোটার ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে। 

এই খাদ্য কর্মকর্তা মেয়র পদে সাদেকুল হক খান মিল্কী টজুর হাতি প্রতীকে ভোট চেয়ে প্রচারণা চালিয়েছেন। এ ছাড়া তিনি নগরীর ১৬ নম্বর ওয়ার্ডে কাউন্সিলর প্রার্থী ঠেলাগাড়ি প্রতীকের শরাফ উদ্দিনের পক্ষে অবস্থান নিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছেন।

৩২ নম্বর ওয়ার্ডের চর কালিবাড়ী এলাকার বাসিন্দা বয়োবৃদ্ধ শামসুল আলম বলেন, ‘জীবনে অনেক নির্বাচন দেখেছি, তবে কখনো সরকারি কর্মকর্তাকে প্রকাশ্যে প্রচারণায় অংশ নিতে দেখিনি। ওই খাদ্য কর্মকর্তার প্রচারণা দেখে অন্য যেকোনো সরকারি কর্মকর্তারাও নির্বাচনে প্রকাশ্যে প্রচারণা চালাতে পারে। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।’

১৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘ওই নারী কর্মকর্তা সরকারি চাকরি করে কারও পক্ষে অবস্থান নিতে পারেন না। এটি অনেক ভোটাররা ভালো চোখে দেখছে না।’

প্রার্থীদের জন্য প্রচারণায় অংশ নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে জিন্নাত শামসুন্নাহার রুমা বলেন, ‘ওই প্রার্থীরা আমার পছন্দের লোক, এমনকি আমার আত্মীয়ও হতে পারে। তাই তাদের জন্য কারও কাছে ভোট চাইতেই পারি। আমার চাকরি ঠিক রেখে সবকিছু করছি।’
 
ময়মনসিংহ জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা সফিকুল ইসলাম বলেন, ‘কোনো সরকারি কর্মকর্তা কারও পক্ষ নিয়ে নির্বাচনে প্রচারণায় নামতে পারবেন না। সেই বিষয়ে সুস্পষ্ট আইন রয়েছে। এ বিষয়ে অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এ বিষয়ে ময়মনসিংহের আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক আবু নাঈম মোহাম্মদ শফিউল আলম বলেন, ‘সরকারি চাকরি করে নির্বাচনি প্রচারণায় অংশ নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। তবে এলাকার কেউ প্রার্থী হলে তার পক্ষে সমর্থন থাকতে পারে। প্রকাশ্যে প্রচারণায় নামা যাবে না। খোঁজখবর নিয়ে ঘটনার সত্যতা পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

কামরুজ্জামান মিন্টু/জোবাইদা

বাগেরহাট জেলা শহিদ মিনার নেই ১২৪০ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে

প্রকাশ: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১১:৫৯ এএম
শহিদ মিনার নেই ১২৪০ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে

বাগেরহাটের ১ হাজার ২৪০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভাষাশহিদদের স্মরণে এখনো নির্মাণ করা হয়নি শহিদ মিনার। যদিও সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী দেশের প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শহিদ মিনার থাকা বাধ্যতামূলক। সরকারি এ নির্দেশনা মানা হচ্ছে না জেলার অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। ফলে একুশে ফেব্রুয়ারিতে ফুল দিয়ে শহিদদের শ্রদ্ধা নিবেদন করতে পারছেন না শিক্ষার্থীরা। এদিকে যেসব প্রতিষ্ঠানে শহিদ মিনার রয়েছে, সেগুলোও সারা বছর পড়ে থাকে অযত্নে-অবহেলায়।

জেলায় সরকারি-বেসরকারি মিলে ২৮২টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ৪০টি নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ১১টি স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ১১২টি মাদ্রাসা ও ১ হাজার ১৬২টি প্রাথমিক বিদ্যালয় আছে। জেলায় সব মিলিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ১ হাজার ৬০৭টি। এর মধ্যে ১ হাজার ২৪০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শহিদ মিনার ও স্মৃতিস্তম্ভ নেই। স্বাধীনতার প্রায় ৫৩ বছরেও এসব প্রতিষ্ঠানে শহিদ মিনার না হওয়ায় ক্ষোভ জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, বাগেরহাটে মোট ৯টি উপজেলায় ১ হাজার ১৬২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আছে। এর মধ্যে ২৪০টিতে শহিদ মিনার ও স্মৃতিস্তম্ভ নেই। প্রতিটি বিদ্যালয় শহিদ মিনার ও স্মৃতিস্তম্ভ তৈরিতে সরকারিভাবে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

জেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ঘুরে দেখা যায়, প্রাথমিক পর্যায়ে ৮০ ভাগ স্কুলে শহিদ মিনার নেই। অধিকাংশ মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শহিদ মিনার নেই। এর মধ্যে কোনো মাদ্রাসাতেই নেই শহিদ মিনার। বেশির ভাগ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শহিদ মিনার না থাকার কারণ অনুসন্ধানে জানা গেছে, বিদ্যালয়গুলোয় শহিদ মিনার নির্মাণে অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয় না।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মু. শাহ আলম বলেন, ‘কিছু কিছু বিদ্যালয়ে স্থায়ী শহিদ মিনার আছে। সরকারিভাবে জেলার প্রতিটি স্কুলে শহিদ মিনার তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। একই নকশায় প্রতিটি স্কুলে শহিদ মিনার তৈরি করার জন্য সরকারিভাবে আমাদের কাছে স্কুলের হিসাব চাওয়া হয়েছে। আমরা আমাদের জেলার হিসাব দিয়েছি।’

জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এস এম ছায়েদুর রহমান বলেন, ‘প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিজস্ব উদ্যোগে শহিদ মিনার তৈরি করার জন্য চিঠি দেওয়া হয়েছে।’ জেলা প্রশাসক মো. খালিদ হোসেন বলেন, ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শহিদ মিনার থাকলে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ভাষার প্রতি ভালোবাসা ও ভাষা শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে পারে। জেলার যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শহিদ মিনার নেই, সেসব প্রতিষ্ঠানে তা নির্মাণে বিভিন্ন বরাদ্দের মাধ্যমে সহযোগিতা করা হবে।’

খাল কেটে মাটি বিক্রির অভিযোগ ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে

প্রকাশ: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১১:৫৬ এএম
খাল কেটে মাটি বিক্রির অভিযোগ ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে
ফরিদপুরের সালথায় স্থানীয় ইউপি সদস্য ফরিদ হোসেন খালের মাটি ইটভাটায় বিক্রি করছেন। খবরের কাগজ

ফরিদপুরের সালথায় স্থানীয় ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে পেঁয়াজ খেতের মধ্য দিয়ে খাল খনন করে ইটভাটায় মাটি বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার যদুনন্দী ইউনিয়নের খারদিয়া ছয়আনি গ্রামের আশ্রয়ণ প্রকল্পের সামনে দিয়ে এই খাল খনন করা হয়েছে। এ ছাড়া একটি মেহগনির বাগানের ভেতর দিয়েও খাল খনন করা হয়েছে। এতে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বেশ কয়েকজন কৃষক। 

জানা যায়, এই স্থানে একটি সরকারি খাল ছিল। খালটি ভরাট হয়ে যাওয়ায় কৃষকরা সেখানে পেঁয়াজ চাষ করে আসছেন। তবে বর্তমানে খালটি সরকারি কোনো প্রকল্পের মাধ্যমে কাটা হয়নি। ইউপি সদস্য মো. ফরিদ হোসেন মাটি বিক্রি করার জন্য ব্যক্তিস্বার্থে খাল কেটেছেন। 

সরেজমিনে দেখা যায়, খারদিয়া ছয়আনি আশ্রয়ণ প্রকল্প থেকে বলতলা এলাকা পর্যন্ত পেঁয়াজ খেত ও মেহগনি বাগানের ভেতর দিয়ে ভেকু মেশিনের মাধ্যমে একটি খাল খনন করা হয়েছে। ভেকুর তাণ্ডবে নষ্ট হয়েছে কয়েক বিঘা জমির পেঁয়াজের চারা। উপড়ে ফেলা হয়েছে একটি বাগানের কয়েকটি মেহগনি গাছ। পাশেই কৃষি জমিতে খনন করা হয়েছে আরেকটি পুকুর। 

স্থানীয় কৃষকরা জানান, পেঁয়াজ খেত ও বাগানের ভেতর দিয়ে খাল কাটার নামে মাটি কেটে ইটভাটাসহ বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি করেছেন যদুনন্দী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ফরিদ হোসেন। মাটি খালের দুই পাড়ে না ফেলে বিক্রি করে দেওয়ায় ওই খাল কৃষকের কোনো উপকারে আসবে না। বরং বৃষ্টি হলে খালের দুই পাশের কৃষিজমির মাটি ভেঙে খাল ভরাট হয়ে যাবে। 

তারা আরও জানান, খাল খননের মাটি অবৈধ ট্রলি গাড়িতে করে আনা-নেওয়া করায় কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত স্থানীয় পাকা সড়কগুলো নষ্ট হয়েছে। ফসলসহ পাকা সড়কের ব্যাপক ক্ষতি হলেও স্থানীয়ভাবে ওই ইউপি সদস্য প্রভাবশালী হওয়ায় তার ভয়ে কেউ মুখ খোলেনি।

এ বিষয় অভিযুক্ত ইউপি সদস্য মো. ফরিদ হোসেন মোবাইল ফোনে বলেন, ‘জনস্বার্থে খালটি কাটা হয়েছে।’ 

তবে সরকারি কোনো প্রকল্পের মাধ্যমে খাল কেটে মাটি বিক্রি করছেন কি না, এমন প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে তিনি ফোন কেটে দেন। এরপর আর ফোন রিসিভ করেননি।

যদুনন্দী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. আলমগীর হোসেন মিয়া বলেন, ‘ওখানে একটি সরকারি খাল ছিল। খালটি ভরাট হয়ে যাওয়ায় কৃষকরা সেখানে পেঁয়াজ চাষ করে আসছেন। তবে বর্তমানে খালটি সরকারি কোনো প্রকল্পের মাধ্যমে কাটা হয়নি। ইউপি সদস্য ফরিদ হোসেন মাটি বিক্রি করার জন্য ব্যক্তিস্বার্থে খাল কেটেছে বলে জানতে পেরেছি। যে কারণে খালের পাড় বাঁধা হয়নি। ফলে খালটি জনগণের দশ পয়সার উপকারে আসবে না।’

যদুনন্দী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘এই খাল কাটার ব্যাপারে আমি কিছু জানি না। কোনো প্রকল্পের মাধ্যমে খাল কাটা হচ্ছে না, সেটাও জানি না। তবে শুনেছি খাল কেটে মাটি বিক্রি করা হচ্ছে।’

সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আনিছুর রহমান বালী বলেন, ‘সরকারিভাবে খালটি কাটা হয়নি। কেউ আমার অনুমতিও নেয়নি। আমি এই বিষয় কিছু জানিও না। খোঁজখবর নিয়ে দেখা হবে।’

ফরিদপুরে নৌকায় ভেজানো চিতই পিঠা উৎসব অনুষ্ঠিত

প্রকাশ: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১১:৫২ এএম
ফরিদপুরে নৌকায় ভেজানো চিতই পিঠা উৎসব অনুষ্ঠিত
ছবি: খবরের কাগজ

ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার সদরবেড়া গ্রামে তিন দিনব্যাপী ব্যতিক্রমধর্মী নৌকায় ভিজানো চিতই পিঠার উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। 

রবিবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) থেকে শুরু হওয়া এ উৎসব শেষ হয় মঙ্গলবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) মধ্য রাতে।

ওই এলাকার তপন সাধু তার বাড়িতে তিন দশক ধরে এ আয়োজন করে আসছেন। তিনি তপন ওঝা নামেও পরিচিত। ষাটোর্ধ্ব তপন ফকিরের পরিচিতি আছে চিতই পিঠা মেলার আয়োজন করার জন্য।

জানা যায়, নিজ এলাকায় প্রায় তিন যুগ ধরে দুধ-গুড়ের রসে ভেজানো চিতই পিঠা উৎসবের আয়োজন করছেন তপন ফকির। এই উৎসবে তৈরি সব পিঠাই ভেজানো হয় নৌকায়। এই পিঠা উৎসব এলাকায় একটা ঐতিহ্য সৃষ্টি করেছে। এবারের পিঠা উৎসব শুরু হয় রবিবার থেকে যা চলে মঙ্গলবার পর্যন্ত।

সরেজমিন দেখা যায়, ২০টি মাটির চুলায় মাটির পিঠার ছাঁচে গ্রামের বেশ কয়েকজন নারী তৈরি করছেন চিতই পিঠা। পাশেই বড় বড় পাতিলে জ্বাল দেওয়া হচ্ছে দুধ, আরেকটিতে ফুটানো হচ্ছে খেজুরের রস। উঠানের মাঝখানে রাখা হয়েছে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও রং করা একটি নৌকা। নৌকার মাঝখানে পলিথিন বিছানো, কিনারে লাগানো আছে কয়েকটি লাল নিশান। ফুল দিয়ে সাজিয়ে রাখা আছে একটি বৈঠা। এই উৎসবকে ঘিরে অনেক দোকানি পসরা সাজিয়েছেন রংবেরঙের নানা খেলনা, জিনিসপত্র, খাবার আর আচার দিয়ে। পিঠা তৈরিতে ব্যস্ত গ্রামের নারীরা।

তপন ফকির জানান, প্রায় তিন যুগ ধরে চলছে তার এ দুধ-গুড়ে ভেজানো চিতই পিঠার মেলা। প্রতি বছর মাঘ মাসের পূর্ণিমার রাতে শুরু হয় এই উৎসব। তিন দিন ধরে নৌকার মধ্যে দুধ-খেজুরের রসে ভিজিয়ে চিতই পিঠা এলাকাবাসী ও ভক্তদের খাওয়াতে হবে। তপন ফকিরের বিশ্বাস, এতেই বাড়বে দৈবশক্তি। 

তপনের ভাষায়, সেই বিশ্বাস থেকে প্রতি বছর এ সময় তিনি গ্রামবাসী ও ভক্তদের নৌকায় ভেজানো দুধ চিতই পিঠা খাওয়ানোর আয়োজন করে আসছেন।

জানা গেছে, তপন ফকিরের এই পিঠা উৎসব পরিচিত দুধ চিতইয়ের মেলা নামে। প্রতিদিন সন্ধ্যায় শুরু হয় পিঠা খাওয়ার আয়োজন। সন্ধ্যার পর পাতিলে দুধ আর খেজুরের রস মিশিয়ে ঢেলে দেওয়া হয় নৌকায়। এর মধ্যে ডুবিয়ে দেওয়া হয় চিতই পিঠা। বাটিতে তুলে পরিবেশন করা হয় ভক্ত ও দর্শনার্থীদের মাঝে। 

লিয়াকত নামে একজন বলেন, ‘প্রতিদিন মেলায় প্রায় ৫ মণ দুধ, ১ মণ খেজুরের রস এবং ১০ হাজার পিস চিতই পিঠা ভেজানো হয়। সন্ধ্যার পর থেকে শুরু হয় খাওয়া, চলে গভীর রাত পর্যন্ত। প্রতিদিন আয়োজনের পিঠা শেষ হয়ে যায়।’

উৎসব দেখতে স্থানীয়রা ছাড়াও দূর-দূরান্ত থেকে অসংখ্য মানুষ ভিড় করে।

তালমা বাজারের ব্যবসায়ী গোপাল বলেন, ‘তপন সাধুর বাড়িতে পিঠা খাওয়ার এরকম আয়োজন গত তিন দশক ধরে হয়ে চলছে। ‌অনেকে তার কাছে এসে ভালো হয়ে যায়। আমরা যতদূর জানি তিনি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন আয়োজন করে পিঠা খাওয়ান মানুষকে।’

ওই গ্রামের বাসিন্দা হারুন বলেন, ‘আমরা প্রতি বছর এখানে পিঠা খেতে আসি। একদম গরম ভেজানো পিঠা। খুবই সুস্বাদু খেতে।’

তালমা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামাল হোসেন বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে দেখে আসছি তিন দিনব্যাপী এই পিঠা উৎসবের আয়োজন করা হয়। স্থানীয়রা ছাড়াও দূর-দূরান্ত থেকে অসংখ্য মানুষ আসেন এই পিঠা উৎসবে যোগ দিতে।’

সঞ্জিব দাস/সাদিয়া নাহার/

আটক ৪ মেয়াদোত্তীর্ণ স্যালাইন খেয়ে শিশুর মৃত্যু, অসুস্থ আরও ৩

প্রকাশ: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১১:৪৮ এএম
মেয়াদোত্তীর্ণ স্যালাইন খেয়ে শিশুর মৃত্যু, অসুস্থ আরও ৩

সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলায় মেয়াদোত্তীর্ণ স্যালাইন খেয়ে জিম খাতুন (৩) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সেই সঙ্গে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন নিহতের মাসহ আরও দুজন।

সোমবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে উপজেলার বেলগাছি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দোকানদার ও সেলসম্যানসহ চারজনকে আটক করা হয়েছে। মৃত জিম খাতুন উপজেলার বেলগাছি গ্রামের কায়েম উদ্দিনের মেয়ে। অসুস্থরা হলেন- নিহতের মা পারভিন খাতুন, বোন রিয়া ও মিথিলা। 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার সন্ধ্যায় শবেবরাতের নফল রোজা রেখে ইফতারিতে ওরস্যালাইন ও ইস্পি ট্যাংয়ের মিশ্রণের শরবত খান পারভিন খাতুন। এ সময় তার তিন মেয়ে জিম, রিয়া ও মিথিলাও এ শরবত খায়। ইফতার শেষে পারভিন ও তার তিন শিশু অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে পরিবারের লোকজন সিরাজগঞ্জ বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতালে তাদের ভর্তি করেন। 

হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. ফয়সাল হোসেন বলেন, ‘অসুস্থ অবস্থায় তাদের প্রথমে বেলকুচি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে চিকিৎসক তাদের সিরাজগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে পাঠান। সেখানে নেওয়ার পরে জিম খাতুনের মৃত্যু হয়। এরপর উন্নত চিকিৎসার জন্য অসুস্থ অন্য তিনজনকে বগুড়া জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। জিম খাতুনের মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।’

বেলকুচি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিছুর রহমান বলেন, ‘বিষয়টি জানার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে দোকানদার আমিনুল ইসলাম, স্যালাইনের সেলসম্যান আনিছুর রহমান, হাফিজ শেখ ও সাগর হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়েছে। খাবার স্যালাইনের গায়ে মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ পরিষ্কার নয়। আমি খাবার স্যালাইন টেস্টের জন্য ল্যাবে পাঠাব। ল্যাবের রিপোর্ট এলে বোঝা যাবে স্যালাইন মেয়াদোত্তীর্ণ নাকি স্যালাইনটি নকল। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।’