ঢাকা ১৫ ফাল্গুন ১৪৩০, বুধবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪
Khaborer Kagoj

দেবী সরস্বতীর পসরায় কেনাকাটার ধুম

প্রকাশ: ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৪:১২ পিএম
দেবী সরস্বতীর পসরায় কেনাকাটার ধুম
সিলেটের বন্দরবাজারে দেবী সরস্বতীর প্রতিমা বিক্রি করতে এসেছেন বিক্রেতারা। ছবি : খবরের কাগজ

সিলেট নগরীর বন্দরবাজার সড়কের পাশে নানা রঙয়ের শাড়ি পরিয়ে সারিবদ্ধ করে রাখা হয়েছে বেশ কিছু সরস্বতী দেবীর প্রতিমা। হাতে বীণা নিয়ে বাহারি সাজে সাজানো প্রতিমাগুলো সেই পথে চলা যে কারো নজর কাড়ছে।

নগরীর বাণিজ্যিক এলাকা মহাজনপট্টির প্রবেশ মুখে বন্দরবাজার সড়কের পাশে দেবী সরস্বতীর প্রতিমার পসরা বসিয়েছেন কয়েকজন ভ্রাম্যমাণ বিক্রেতা। এই বিক্রেতাদের বেশিরভাগই এসেছেন সিলেটের পার্শ্ববর্তী জেলা থেকে। সরস্বতী পূজা উপলক্ষে শুধুমাত্র নিজেদের তৈরি করা প্রতিমা বিক্রির জন্য প্রতিবছর সিলেটে আসেন তারা।

বুধবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) হিন্দুধর্মাবলম্বীদের বিদ্যার দেবী সরস্বতী পূজা। এ উপলক্ষে সিলেট জেলাসহ পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন জেলা-উপজেলা থেকে ব্যবসায়ীরা সিলেটে এসেছেন নিজেদের তৈরি প্রতিমা বিক্রির জন্য। 

গত শনিবার (১০ ফেব্রুয়ারি) থেকে ঘুরে ঘুরে দেবী সরস্বতীর প্রতিমা বিক্রি করছেন বিক্রেতারা। তবে নগরীর দাঁড়িয়াপাড়াসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় আরও আগে থেকে শুরু হয়েছে সরস্বতী প্রতিমা তৈরির কাজ। 

পঞ্জিকা মতে, প্রতিবছর মাঘ মাসের পঞ্চমী তিথিতে সরস্বতী পূজা উদযাপন হয়। হিন্দু শিক্ষার্থীরা দেবীর আশীর্বাদ লাভের জন্য বাড়িতে ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা নিয়ে এই পূজা করেন। 

১৪ ফেব্রুয়ারি সিলেট নগরীতে প্রায় পাঁচ শ মণ্ডপে হবে সরস্বতী পূজা। পরের দিন ১৫ ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে আটটায় নগরীর সিটি পয়েন্ট থেকে প্রতিমা শোভাযাত্রা করা হবে। এই শোভাযাত্রা উদ্বোধন করবেন সিটি মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী। 

বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সরস্বতী পূজার আগের দিন বেশি প্রতিমা বিক্রি হয়। আকার ভেদে ৫০০ থেকে তিন হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে সরস্বতী দেবীর প্রতিমা। 

বন্দরবাজার সড়কে সরস্বতী দেবীর প্রতিমা নিয়ে হবিগঞ্জের মাধবপুর থেকে এসেছেন হরেন্দ্র পাল ও গৌড় পাল। 

তারা খবরের কাগজকে বলেন, আমরা নিজেরাই প্রতিমা কারিগর। গত ২৭ বছর যাবত আমরা সরস্বতী প্রতিমা নিয়ে সিলেটে আসি বিক্রির জন্য। এ ছাড়াও মনসা, লক্ষ্মী ও দুর্গাপূজায় আমরা প্রতিমা নিয়ে আসি। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা সরস্বতী পূজা উদযাপন করায় এ সময় সরস্বতী প্রতিমার চাহিদা বেশি থাকে। এজন্য একটু দূর হলেও আমরা সিলেটে প্রতিমা নিয়ে আসি। 

বন্দরবাজারে আসা প্রতিমা কারিগর শ্যামল পাল খবরের কাগজকে বলেন, আমরা সারা বছর প্রতিমা বানাই। তবে যে পূজাগুলো সবাই করে, যেমন- মনসা, লক্ষ্মী, সরস্বতী এগুলোর সময় ভ্রাম্যমাণভাবে প্রতিমা বিক্রি করি। 

নগরীর মির্জাজাঙ্গাল এলাকার সৌহার্দ্য সংঘের জয় পাল বলেন, প্রতিবছরই আমরা বিভিন্ন থিম নিয়ে সরস্বতী পূজা করি। এবারও আমরা ফোক আর্টের উপর মণ্ডপ তৈরি করেছি। আমাদের এই শৈল্পিক মণ্ডপ আশাকরি সবার ভালো লাগবে। 
 
পূজা উদযাপন পরিষদের মহানগর সভাপতি রজত কান্তি গুপ্ত খবরের কাগজকে বলেন, সিলেট নগরীতে প্রায় পাঁচ শ মণ্ডপে সরস্বতী পূজা অনুষ্ঠিত হবে। সকলে সাধ্যমত এই পূজার আয়োজন করেন। বিশেষ করে স্কুল-কলেজপড়ুয়াদের এই পূজা নিয়ে উৎসাহ বেশি থাকে। তাই তারা নিজেরাই মণ্ডপ সাজানো থেকে শুরু করে আনুষঙ্গিক সব কাজ করে থাকে। প্রতি বছরই পূজার পরের দিন সরস্বতী প্রতিমা শোভাযাত্রা করি। এবার ১৫ ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে আটটায় নগরীর সিটি পয়েন্ট থেকে আমরা সরস্বতী প্রতিমা শোভাযাত্রা করব। 
 
শাকিলা ববি/পপি/অমিয়/

মণিপুরি, পাত্র, চা শ্রমিক শিক্ষার্থীরা পেল শিক্ষা উপকরণ

প্রকাশ: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১১:০০ এএম
মণিপুরি, পাত্র, চা শ্রমিক শিক্ষার্থীরা পেল শিক্ষা উপকরণ

ক্ষুদ্র নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর মধ্যে মণিপুরি, পাত্র ও চা-শ্রমিক সম্প্রদায় কেবল বাংলাদেশের সিলেট অঞ্চলে বসবাস করে। প্রান্তিক এই জনগোষ্ঠীর ভাষা ও সংস্কৃতি সুরক্ষায় কাজ করছে সিলেট বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘একডো’। ভাষা শেখার সঙ্গে তারা শিক্ষা উপকরণ দিয়ে ১২৫ শিক্ষার্থীকে সহায়তা করেছে তারা। 

মঙ্গলবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সিলেট সদর উপজেলা হলরুমে এই শিক্ষা উপকরণ বিতরণের আয়োজন করা হয়।  
 
একডোর নির্বাহী পরিচালক লক্ষ্মীকান্ত সিংহের সভাপতিত্বে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাসরিন আক্তার। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সহযোগী সংস্থা হেয় ভারডেনের মিজ স্টিনা, এলিজাবেথ স্বেলা এবং সিলেট সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা অভিজিত কুমার পাল। 

অনাড়ম্বর ও আন্তরিকতায় পূর্ণ এই অনুষ্ঠানে একডোর নির্বাহী পরিচালক লক্ষ্মীকান্ত সিংহ বলেন, আমরা সব সময় পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে সামনে এগিয়ে নিতে কাজ করি। আমাদের বিভিন্ন উদ্যোগে সব সময় সবার সহযোগিতা পেয়েছি। ভবিষ্যতেও সবার সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে আমি বিশ্বাস করি। এ অনুষ্ঠানে সংস্থার সহযোগী হিসেবে উপস্থিত বিদেশি নাগরিকদের তিনি ক্ষুদ্র নৃতাত্তিক জনগোষ্ঠীর পক্ষ থেকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান। 

পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর শিশুদের শিক্ষা নিয়ে এ ধরনের প্রকল্প অনেক গুরুত্বপূর্ণ বলে ইউএনও বলেন, ‘এ উদ্যোগ নেওয়ার জন্য একডো এবং সহযোগী সংস্থা হেয় ভারডেনকে ধন্যবাদ জানাই। এ প্রকল্পের উপকারভোগী শিক্ষার্থীর সংখ্যা আরও বৃদ্ধি করতে হবে।’ তিনি উপস্থিত অভিভাবকদের নির্দিষ্ট একটি লক্ষ্য এবং পরিকল্পনা মাফিক নিজ নিজ সন্তানদের লেখাপড়া নিশ্চিত করার পরামর্শ দেন।

অনুষ্ঠান শেষে একডো নির্বাহী লক্ষ্মীকান্ত সিংহ খবরের কাগজকে বলেন, ‘অনুষ্ঠানের একাত্ম হওয়া অভিভাবকদের পরামর্শক্রমে একডো চা-বাগান এলাকার তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ব্যয়ভার বহন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সিলেট শহরতলীর তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের শনাক্ত করে এই সহায়তা দেওয়া হবে। পাশাপাশি ক্ষুদ্র নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর ভাষা ও সংস্কৃতির সুরক্ষায় একডো পরিচালিত প্রকল্প দীর্ঘমেয়াদি করারও পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
 
উজ্জ্বল মেহেদী/জোবাইদা/

টঙ্গীতে বহুতল ভবনের আগুন নিয়ন্ত্রণে

প্রকাশ: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১০:৫৭ এএম
টঙ্গীতে বহুতল ভবনের আগুন নিয়ন্ত্রণে
ছবি : খবরের কাগজ

গাজীপুরের টঙ্গীতে মরিয়ম ম্যানশন নামের একটি বহুতল ভবনের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। পরে টঙ্গী ও উত্তরা ফায়ার সার্ভিসের ছয়টি ইউনিট দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। 

বুধবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৫টায় আগুন লাগে।  ফায়ার সার্ভিসের ছয়টি ইউনিট সকাল ৭টায়  আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। এ ঘটনায় ছয়জন সামান্য দ্বগ্ধ হয়েছেন।

স্থানীয়রা জানান, টঙ্গী বাজার এলাকায় মরিয়ম ম্যানশন নামের একটি সাততলা ভবনের দ্বিতীয় তলায় একটি প্রাইভেট ব্যাংক তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে। ভবনের বাকি অংশ স্থানীয় ব্যবসায়ীরা গুদাম হিসেবে মালামাল মজুত করেন। বুধবার ভোরে ওই ভবনের চারতলায় আগুন দেখতে পেয়ে নেভানোর চেষ্টা করেন তারা। পরে চারতলায় লাগা আগুন পাঁচতলায় ও ছয়তলায় ছড়িয়ে পড়তে দেখে তারা ফায়ার সার্ভিসে খবর দেয়। পরে ফায়ার সার্ভিসের একাধিক ইউনিট এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় আফরিন ট্রেডার্সের মালিক মো. সোহেল ও মনির হোসেনসহ ১০ ব্যবসায়ী গুদামজাত করা কয়েক কোটি টাকার মালামালের ক্ষতি হয়েছে বলে জানান তারা।

ফায়ার সার্ভিসের ঢাকা জোন ৩-এর উপ-সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম জানান, ভোরে সাড়ে পাঁচটার দিকে ভবনে আগুন দেখতে পেয়ে ফায়ার সার্ভিসে খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ছয়টি ইউনিট ৫টা ৪৭ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে কাজ শুরু করে। সবশেষ সকাল ৭টা ১০ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। আগুন লাগার কারণ ও ক্ষয়-ক্ষতির পরিমাণ তদন্তসাপেক্ষে জানা যাবে।

ওই ভবনে থাকা ব্যবসায়ী লিখন হোসেন জানান, তিনিসহ ওই ভবনে থাকা ৬ জন আগুনে সামান্য দগ্ধ হয়েছেন। দগ্ধদের মধ্যে রয়েছেন লিটন, রাকিব, সাগর, রোমান ও মনোয়ারুল। তাদের কারও হাত, মাথার চুল ও পা আগুনে সামান্য ঝলসে গেছে। তারা স্থানীয় ক্লিনিকে চিকিৎসা নিয়েছেন।

পলাশ প্রধান/জোবাইদা/

২ মাস পর আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে পাথর আমদানি শুরু

প্রকাশ: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১০:৫৫ এএম
২ মাস পর আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে পাথর আমদানি শুরু
ছবি : খবরের কাগজ

প্রায় দুই মাস বন্ধ থাকার পর ফের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে পাথর আমদানি শুরু হয়েছে। 

মঙ্গলবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে বন্দর দিয়ে ১৯টি ট্রাকে করে প্রায় ৪৫০ টন ভাঙা পাথর ভারত থেকে আমদানি করা হয়। আশুগঞ্জ নদীবন্দর থেকে আখাউড়া স্থলবন্দর পর্যন্ত নির্মাণাধীন চার লেন মহাসড়কের ভারতীয় ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান এফকনস ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেড পাথরগুলো আমদানি করেছে। সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট মেসার্স খলিফা এন্টারপ্রাইজ আমদানি করা পাথরের ছাড়করণের কাজ করবে।

আখাউড়া স্থলবন্দরের আমদানি-রপ্তানিকারক অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. শফিকুল ইসলাম জানান, দুই হাজার টন ভাঙা পাথর আমদানির এলসি খোলা হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে ১৯টি ট্রাকে করে ৪৫০ টন ভাঙা পাথর বন্দরে প্রবেশ করে। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে বাকি পাথরগুলো চলে আসবে। নির্ধারিত শুল্ক ও মাশুল পরিশোধের পর বন্দর থেকে পাথরগুলো ছাড়করণ শুরু হবে। 

তিনি আরও জানান, দুই মাস পর পাথর আমদানি শুরু হওয়ায় বন্দরে আবারও প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে।

আখাউড়া শুল্ক স্টেশনের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মো. মাহমুদ হোসেন বলেন, ‘২০২৩ সালের ১২ ডিসেম্বর সর্বশেষ এ বন্দর দিয়ে ভারত থেকে পাথর আমদানি হয়েছিল। এরপর অন্যান্য পণ্য আমদানি হলেও পাথর আমদানি হয়নি। শুল্ক মাশুল পরিশোধ ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার পর ছাড়পত্র দেওয়া হবে।’

জুটন বনিক/জোবাইদা/

সুনামগঞ্জে ৩ দিনব্যাপী যাত্রাপালা উৎসব শুরু

প্রকাশ: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১০:৩৮ এএম
সুনামগঞ্জে ৩ দিনব্যাপী যাত্রাপালা উৎসব শুরু
সুনামগঞ্জে মঙ্গলবার থেকে ঐতিহ্যবাহী যাত্রাপালা উৎসব শুরু হয়েছ। ছবি : খবরের কাগজ

গ্রামবাংলার ঐতিহ্য যাত্রাপালা নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে সুনামগঞ্জে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী যাত্রাপালা  উৎসব। 

মঙ্গলবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টায় প্রশাসন ও জেলা শিল্পকলা একাডেমির যৌথ আয়োজনে এ যাত্রাপালা উৎসবের শুরু হয়।

যাত্রাপালা শুরুর আগে সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মানবসম্পদ ও উন্নয়ন সাব্বির আহমদ আখঞ্জি। 

জেলা সাংস্কৃতিক কর্মকর্তা আহমেদ মঞ্জুরুল হক চৌধুরীর পরিচালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন পৌর মেয়র নাদের বখত, জেলা শিল্পকলা একাডেমির সাধারণ সম্পাদক শামসুল আবেদীন, সুনামগঞ্জের বিশিষ্ট যাত্রাশিল্পী রমেন্দ্র কুমার ও বিজীত ভূষণ তালুকদার। 

এ সময় শিল্পকলা একাডেমির মিলনায়তনে তরুণ থেকে বৃদ্ধ সব শ্রেণি-পেশার মানুষ যাত্রাপালা দেখতে যান।

বক্তারা জানান, আবহমান কাল থেকে এ দেশের গ্রামে-গঞ্জে, পথে-প্রান্তরে সন্ধ্যা থেকে ভোর পর্যন্ত যাত্রাপালার প্রচলন ছিল। বাংলাদেশের সঙ্গে যাত্রাপালা ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এটা একটা শিল্প। একটা সময় মানুষ আগ্রহ, আবেগ নিয়ে রাতভর যাত্রাপালা দেখত, হাসত, কাঁদত। তবে বর্তমানে আধুনিকতার ছোঁয়ায় এই শিল্প তার ঐতিহ্য হারাতে বসেছে। এই শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে হলে তরুণ প্রজন্মকে এই শিল্পের সঙ্গে পরিচয় করাতে হবে। যাত্রাশিল্পের সঙ্গে দেশের, জাতির, সমাজের, পরিবারের নানা অসংগতি ও দুঃখ সমাধানের চিত্র ফুটিয়ে তোলা হয়। তাই এই শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে সবার সহযোগিতা কামনা করছি।

উৎসবের প্রথম দিন নেত্রকোনা জেলার নবযোগ যাত্রাপালা ‘নবাব সিরাজউদ্দৌলা’ পরিবেশন করেন।

উৎসবের দ্বিতীয় দিন সুনামগঞ্জের অপেরা যাত্রাপালা ‘অশ্রু দিয়ে লেখা’ এবং তৃতীয় দিন সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার লোকনাথ যাত্রাপালা ‘মেঘনা বধ’ পরিবেশন করবে।

সুনামগঞ্জ জেলা কালচারাল অফিসার আহমেদ মঞ্জুরুল হক চৌধুরী পাভেল খবরের কাগজকে বলেন, ‘যাত্রাশিল্প প্রায় বিলুপ্ত হয়ে গেছে। বিলুপ্ত এই সংস্কৃতিকে মূল সংস্কৃতির স্রোতধারায় ফিরিয়ে নিয়ে আসার জন্য তিন দিনব্যাপী এই যাত্রা উৎসবের আয়োজন। যাত্রা বাদ দিয়ে আমাদের হাজার বছরের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য চিন্তা করা যায় না।’ 

দেওয়ান গিয়াস/পপি/

যুবককে হত্যা : ক্ষোভে আসামিদের ঘরে আগুন

প্রকাশ: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১১:২০ এএম
যুবককে হত্যা : ক্ষোভে আসামিদের ঘরে আগুন
ছবি : খবরের কাগজ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় মাদক কারবার নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে মো. মোরসালিন ভূঁইয়া হত্যা মামলার আসামি মো. আব্দুল্লাহর বাড়ির তিনটি বসতঘর পুড়িয়ে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা।

মঙ্গলবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে পুলিশের পাহারার মধ্যেই আসামি আব্দুল্লাহ, সেলিম ও শহিদুলের তিনটি ঘর পুড়িয়ে দেওয়া হয়। তবে পরিবারসহ পলাতক থাকায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস আগুন নেভায়।

নিহত মোরসালিন উপজেলার মনিয়ন্ধ ইউনিয়নের মিনারকোট গ্রামের নূর মোহাম্মদের ছেলে। গত রবিবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) মো. আব্দুল্লাহর বাড়ি খেকে মোরসালিন ভূঁইয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনার পর থেকে আব্দুল্লাহ পরিবার নিয়ে পলাতক রয়েছেন।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, নিহতের বড় ভাই আটজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আসামি করে আখাউড়া থানায় একটি মামলা করেন। পরিবারের লোকজনের অভিযোগ আব্দুল্লাহ ও তার সহযোগীর কাছে মোরসালিন ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা পেতেন। পরিকল্পিতভাবে তাকে বাড়িতে ডেকে শ্বাসরোধে হত্যা করে। হত্যার পর তাকে তালাবদ্ধ ঘরে ফেলে তারা পালিয়ে যায়। নিহত ও অভিযুক্তরা এলাকার চিহ্নিত মাদক কারবারি। মাদকের টাকা দেনা-পাওনার বিরোধেই এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটতে পারে। অভিযুক্ত আব্দুল্লাহর বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় মাদকসহ অন্তত ১৬টি মামলা আছে। মোরসালিনের বিরুদ্ধে আছে চারটি মামলা। তবে তারা সবাই একসঙ্গেই চলাফেরা করত বলে জানা যায়।

মনিয়ন্ধ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাহাবুবুল আলম চৌধুরী দীপক বলেন, ‘আগুন লাগার বিষয়টি জানতে পেরেছি। তবে কে বা কারা লাগিয়েছে সেটি বুঝতে পারছি না।’

আখাউড়া থানার ওসি (তদন্ত) মো. শফিকুল ইসলাম জানান, পুলিশ একটু সরে অন্যদিকে যাওয়ার সুযোগে আগুন জ্বালিয়ে তিনটি ঘর পুড়িয়ে দেওয়া হয়। কে বা কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে জানার চেষ্টা চলছে। তবে হত্যাকাণ্ড ঘটানো পরিবারটির ওপর এলাকাবাসীরও ক্ষোভ ছিল। ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন আছে। আগুন লাগার ঘটনায় অভিযোগ দিলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জুটন বনিক/জোবাইদা/