ঢাকা ৬ বৈশাখ ১৪৩১, শুক্রবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৪
Khaborer Kagoj

চট্টগ্রামে অটিজম শিশুর সংখ্যা বাড়ছে

প্রকাশ: ০২ এপ্রিল ২০২৪, ০৪:৩১ পিএম
চট্টগ্রামে অটিজম শিশুর সংখ্যা বাড়ছে

চট্টগ্রামে অটিজম শিশুর জন্মহার প্রতি বছরই বাড়ছে। এ বৃদ্ধির হারকে আশঙ্কাজনক মনে করছেন গবেষকরা। গত বছর প্রতি ৪৪ জনে একজন, এর আগের বছর ৫৪ জনে একজন, এ বছর প্রতি ৩৩ জনে একজন করে অটিজম শিশুর জন্ম হচ্ছে চট্টগ্রামে। 

বর্তমানে সরকারি হিসেবে চট্টগ্রামে ২০ হাজার ও দেশে ৮৬ হাজার অটিজম শিশু রয়েছে। তবে বেসরকারি হিসাবে এর সংখ্যা আরও বেশি। 

চট্টগ্রামের নিষ্পাপ অটিজম ফাউন্ডেশনের সভাপতি ও অটিজম গবেষক অধ্যাপক ডা. বাসনা রাণী মুহুরী খবরের কাগজকে বলেন, ‘আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে অটিজম শিশু। এ শিশুদের বাঁচার অধিকার আছে। এ সমাজে বসবাসে অধিকার আছে। তাদের মানবিকভাবে গড়ে তুলতে হবে। মানবতা ও ভালোবাসা দিয়েই অটিজম শিশুদের গড়ে তুলতে হবে। তবে মানুষ এখন একটু সচেতন হয়েছেন। আরও সচেতন হতে হবে।’ 

তিনি বলেন, স্বল্প ওজনে বাচ্চা, সিজারিয়ান বাচ্চার জন্ম হওয়া, বংশগত সমস্যা, পরিবেশগত সমস্যা যা গর্ভকালীন নিউরনের ওপর প্রভাব, মাতৃগর্ভে থাকার সময়ে ভ্রূণের সমস্যায়ও অটিজম শিশুর জন্ম হয়। দেশে বর্তমানে ৮৬ হাজার অটিজম শিশু আছে। চট্টগ্রামের আছে ২০ হাজার অটিজম শিশু।

তিনি আরও বলেন, ‘অটিজম সারা জীবনের সমস্যা। এটি নিরাময়যোগ্য কোনো রোগ নয়। এটি একটি স্নায়ুবিক বিকাশজনিত সমস্যা। আপনি কখন বুঝবেন শিশুটি অটিজম? যখন দেখবেন সে কথা বলছে অন্যদিকে তাকিয়ে। আপনার দৃষ্টি আকর্ষিত হচ্ছে না। কথা কম বলছে বা দুই বছর বলার পর কথা বন্ধ করে দিচ্ছে। তখন বুঝতে হবে সে অটিজম। তখন তাকে প্রয়োজনীয় শিক্ষা, ভালোবাসা, মানবতা দিয়ে এগিয়ে নিতে হবে। কখনো অবহেলা করা যাবে না।’ 

প্রতি বছর ২ এপ্রিল বিশ্ব অটিজম দিবস পালন হয়ে আসছে। এবার ‘সচেতনতা-স্বীকৃতি-মূল্যায়ন: শুধু বেঁচে থাকা থেকে সমৃদ্ধির পথে যাত্রা’ এ প্রতিবাদ্যকে সামনে রেখে পালিত হচ্ছে বিশ্ব অটিজম দিবস। 

বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে এ দিবসটি যথাযথ মর্যাদায় পালিত হচ্ছে। 

এর অংশ হিসেবে মঙ্গলবার (২ মার্চ) সকাল ১০টা থেকে নন্দনকানের চট্টগ্রাম থিয়েটার ইনস্টিটিউটে বিশেষ শিশুদের পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, অটিজম উত্তরণে আলোকিত মা সম্মাননা প্রদান ও দিবসের মূল প্রতিপাদ্য বিষয়ের ওপর আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এদিকে চট্টগ্রামে ২০১০ সালে মাত্র চারজন অটিজম বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন ছাত্রছাত্রী নিয়ে যাত্রা শুরু তৎকালীন অটিস্টিক চিলড্রেন ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড ওয়েলফেয়ার সেন্টার যা বর্তমানে নিষ্পাপ অটিজম ফাউন্ডেশন নামে সুপরিচিত। অটিজম এবং অন্যান্য স্নায়ুবিক বৈশিষ্ট্য সম্পন্নদের উত্তরণে দীর্ঘ প্রায় একযুগের অধিককাল নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে এ প্রতিষ্ঠান। বর্তমানে এ প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছে নিষ্পাপ অটিজম স্কুল এবং ২০২১ সালের থেকে ড. আর পি সেন গুপ্ত নিষ্পাপ সমন্বিত বিদ্যালয়। দুই শিফটে পরিচালিত নিষ্পাপ অটিজম স্কুলে বর্তমানে ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা প্রায় ১০৬ এবং নিষ্পাপ সমন্বিত স্কুলে শিশু শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা ১২৪। শুরু থেকে এ পর্যন্ত উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ছাত্রছাত্রী একাডেমিক লেভেলে উত্তরণ হয়ে মূলধারার বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত আছে ১৪ শিক্ষার্থী। কিন্তু আবার অনেকেই মূলধারার স্কুলে পড়ালেখার যোগ্যতা অর্জনের পরও স্কুল থেকে বিতারিত হয়েছে তাদের কিছুটা আচরণ এবং মূলধারার শিক্ষকদের অসহযোগিতার জন্য। 

এ থেকে দেখা যায়, অকুপেশনাল থেরাপিস্ট, স্পিচ ল্যাঙ্গুয়েজ থেরাপিস্ট অটিজম উত্তরণে যথেষ্ট ভূমিকা রাখে। 

ইউএস সেন্টার ফর ডিজিস কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের সর্বশেষ জরিপ অনুযায়ী প্রতি ৩৬ জন আমেরিকান শিশুর মধ্যে ১ জনের অটিজম আছে এবং আমাদের দেশে প্রতি ১,০০০ জনে ১ থেকে ৩ জন শিশু অটিজম বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন। 

গবেষণা বলছে, মেয়েদের তুলনায় ছেলেদের অটিজম হয়ে থাকে ৪ থেকে ৫ গুণ বেশি। সম্মিলিতভাবে যত শিশুর ডায়াবেটিস, এইডস, ক্যান্সার, সেরিব্রাল পালসি, সিস্টিক ফাইব্রোসিস, মাসকুলার ডিসট্রফি এবং ডাউন সিন্ড্রোম হয়ে থাকে তার চেয়ে অটিজমের সংখ্যাই বেশি। প্রতি বছর আমেরিকায় ২ মিলিয়ন লোকের মাঝে এএসডি (অটিজম স্পেকট্রাম ডিসঅর্ডার) দেখা যায় এবং সারা বিশ্বে ১০ মিলিয়নের মতো লোকের অটিজম হয়ে থাকে। 

এ ছাড়া আমেরিকায় সরকারি পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোয় এ অটিজমের বিস্তার বার্ষিক ১০ থেকে ১৭ শতাংশ বেড়েছে। এই বৃদ্ধির নির্ভরযোগ্য কোনো কারণ ও ব্যাখ্যা জানা যায়নি। তবে উন্নত যথাযথ রোগ নির্ণয় প্রক্রিয়ার প্রভাব এবং পরিবেশগত প্রভাব এর জন্য দায়ী বলে বিবেচনা করা হয়ে থাকে। 

নিষ্পাপ অটিজম স্কুলের অধ্যক্ষ সোমা চত্রবর্ত্তী বলেন, চট্টগ্রামে থেরাপিস্ট এবং বিশেষায়িত স্কুলের সংখ্যা খুবই অপ্রতুল। প্রয়োজনীয় উদ্যোগ এবং পেশাগত সুযোগ-সুবিধা না থাকায় শিক্ষিত ছাত্রছাত্রীরা এই বিশেষ শিক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পৃক্ত না হওয়ায় এ বিষয়ে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতিও হচ্ছে না। প্রতিটি অটিজম শিশুর আচরণ স্বতন্ত্র হওয়ার কারণে তাদের প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা ভিন্ন। তাই ১:১ বা ক্ষেত্র বিশেষে ১:২ ব্যবস্থায় বিশেষ শিশুদের শিক্ষা দেওয়া হয়। বিশেষায়িত শিক্ষাব্যবস্থা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই যা অভিভাবকরা পরিবারের অন্যান্য স্বাভাবিক সন্তানের লেখাপড়ার পাশাপাশি অটিজম সম্পন্ন শিশুর জন্য অতিরিক্ত ব্যয় ভার বহনে অক্ষমতার কারণে এবং পরিচালন ব্যয় বেশি হওয়ায় যাথাযথভাবে স্কুলগুলো পরিচালনা করা অত্যন্ত কঠিন। আমরা বিশেষ স্কুলগুলোকে দ্রুত এমপিও ভুক্তি করার জন্য সরকারের নিকট আবেদন জানাই।

নিষ্পাপ অটিজম ফাউন্ডেশনের সহসভাপতি রোশাঙ্গীর বাচ্চু বলেন, ২০১৩ সালের এনডিডি সুরক্ষা আইনের মাধ্যমে এনডিডি প্রটেকশন ট্রাস্টের সহায়তায় প্রফেশনালদের প্রশিক্ষণ, বিভিন্ন পলিসি নির্ধারণ, কার্যরত প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়ন্ত্রণসহ বিভিন্ন কার্যক্রম চলমান রয়েছে। বিশেষ শিশুদের চলমান স্বাস্থ্যভাতা, শিক্ষা উপবৃত্তি, বয়স্কভাতার পরিমাণ বৃদ্ধি করা প্রয়োজন।

আবদুস সাত্তার/পপি/অমিয়/

ছেলের ছুরিকাঘাতে প্রাণ গেলো বাবার!

প্রকাশ: ১৯ এপ্রিল ২০২৪, ০৬:০২ পিএম
ছেলের ছুরিকাঘাতে প্রাণ গেলো বাবার!
আরিফ হোসেন। ছবি : খবরের কাগজ

ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় টাকা না দেওয়ার বাবা আব্দুল কাদের (৬০)কে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ উঠেছে ছেলে আরিফ হোসেনের (২০) বিরুদ্ধে।

বৃহস্পতিবার (১৮ এপ্রিল) রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার ফুলবাড়িয়া ইউনিয়নের আন্ধারিয়া পাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। 

বিষয়টি খবরের কাগজকে নিশ্চিত করে ফুলবাড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রাশেদুজ্জামান বলেন, আব্দুল কাদেরের ৬ ছেলের মধ্যে আরিফ সবার ছোট। আরিফ প্রায়ই টাকার জন্য বাবাকে চাপ দিতেন। সম্প্রতি বাবার কাছ থেকে ১৫ হাজার টাকা নিয়ে মোবাইল কিনেন আরিফ। বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে আবারও ১০ হাজার টাকার জন্য বাবাকে চাপ দেন। এসময় বাবা টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ছেলে ক্ষিপ্ত হয়ে বাড়ি-ঘর ভাঙচুর করার হুমকি দেয়। এ অবস্থায় বাবা বড় ছেলের পার্শ্ববর্তী আলাদা বাড়িতে গিয়ে আশ্রয় নেয়। তখন বড় ছেলে বাবা আব্দুল কাদেরকে শান্তনা দিয়ে কিছুক্ষণ পর বাবাকে বাড়িতে রেখে বড় ছেলে চলে যান। বাবা নিজের বাড়িতে গিয়ে আবারও ভয় পেয়ে রাত সাড়ে ১০টার দিকে একা একা বড় ছেলের বাড়িতে যাচ্ছিল। পথে ছেলে আরিফ পেছন থেকে বাবার পেটে ও পিঠে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। এসময় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

তিনি বলেন, এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। ছেলে আরিফ ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছে, তাকে গ্রেপ্তার করতে চেষ্টা চলছে।

কামরুজ্জামান মিন্টু/এমএ/

প্রতিমন্ত্রীর শ্যালকের প্রতিদ্বন্দ্বীকে অপহরণ-নির্যাতনে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবে পুলিশ: পলক

প্রকাশ: ১৯ এপ্রিল ২০২৪, ০৫:৪৮ পিএম
প্রতিমন্ত্রীর শ্যালকের প্রতিদ্বন্দ্বীকে অপহরণ-নির্যাতনে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবে পুলিশ: পলক
ছবি : খবরের কাগজ

আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিলের জের ধরে শ্যালক লুৎফুল হাবিব রুবেলের একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী দেলোয়ার হোসেনকে অপহরণ এবং নির্যাতনের ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। তিনি বলেছেন, পুলিশ নিরপেক্ষভাবে এবং সম্পূর্ণ প্রভাবমুক্তভাবেই এই মামলার তদন্ত করছে। তার প্রেক্ষিতে যাই তদন্তে আসবে এবং এ ঘটনায় যারাই জড়িত থাকবে বা দোষী সাব্যস্ত হবে পুলিশ তাদের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেবে। কে আমার ভাই, কে আমার শ্বশুর, কে আমার ভাগিনা, কে আমার ভাতিজা কিংবা শ্যালক, এটা কোন বিবেচনার বিষয় নয়। এটা নিয়ে আমি আসলেই বিব্রত, লজ্জিত, দুঃখিত এবং আমি ক্ষমাপ্রার্থী। তাই এখানে মন্ত্রীর (পলক) আত্মীয় স্বজন বলে কেউ ছাড় পাবে না।

শুক্রবার (১৯ এপ্রিল) সকালে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন কলম ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য ভুক্তভোগী দেলোয়ার হোসেনকে দেখতে গিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।

জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, দেলোয়ার হোসেনের উপর হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে যারা দোষী তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক, আইনগত ও সাংগঠনিক কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে আমরা কঠোর অবস্থানে আছি। সে ক্ষেত্রে কার কী পরিচয়, কে আমার ভাই, কে আমার শ্বশুর কিংবা শ্যালক এটা কোনো বিবেচনার বিষয় নয়। এটা নিয়ে আমি আসলেই বিব্রত, লজ্জিত, দুঃখিত এবং ক্ষমাপ্রার্থী। তাই, বিবেকের তাড়নায় আমার মনে হয়েছে এখানে আসা দরকার এবং স্পষ্ট বার্তা সকলের কাছে জানিয়ে দেওয়া দরকার। এই ঘটনায় জড়িত আমার আত্মীয় কিংবা যেই হোক এটা ব্যবহার করে কোনো বাড়তি সুবিধা পাওয়ার সুযোগ নেই।

বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরে এসেছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী পলক বলেন, উনি সরাসরি এই বিষয়টি তত্ত্বাবধান করছেন এবং ওনার কঠোর নির্দেশনা রয়েছে। যারা এই হামলার সঙ্গে জড়িত, তারা যারাই হোক, পরিচয় যাই হোক, তাদের বিরুদ্ধে যেন কঠোর আইন প্রয়োগ করা হয়। এরই মধ্যে দুইজন গ্রেপ্তার হয়েছে। আরও বাকি যারা জড়িত আছে তাদের ব্যাপারে অনুসন্ধান এবং তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ। আহত দেলোয়ার হোসেন পাশা ভাইয়ের চিকিৎসার জন্য আমি দেশের বাইরে থেকেই হাসপাতালের পরিচালকের সঙ্গে কথা বলেছি। 

প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গেও কথা বলেছি। আমাদের আওয়ামী লীগের উপজেলা কিংবা পৌর শাখার যদি কেউ জড়িত থাকে, তাদের বিরুদ্ধে যেন সাংগঠনিকভাবে কঠোর ব্যবস্থা নেয়। যারা অন্য সহযোগী সংগঠনের আছে, তাদেরও যেন বহিষ্কারের সুপারিশ করা হয়। আমি নৌকার বিজয়ী সংসদ সদস্য ও সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে মনে করেছি, এই ধরনের ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমেই আমরা এমন দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে চাই, যেন আর কেউ কারও পরিচয় বহন করে আমাদের দল ও সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করার দুঃসাহস করতে না পারে।

আগামী ৮ মে নাটোর জেলার সিংড়া উপজেলা পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে চেয়ারম্যান প্রার্থী হয়েছেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী ও নাটোর-৩ আসনের সংসদ সদস্য জুনাইদ আহমেদ পলকের শ্যালক লুৎফুল হাবিব রুবেল। মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন গত ১৫ এপ্রিল জেলা নির্বাচন কার্যালয়ের সামনে থেকে আরেক চেয়ারম্যান প্রার্থী ও আওয়ামী লীগ সদস্য দেলোয়ার হোসেনকে মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যায় একদল লোক। নির্যাতনের পর বিকেলে একটি মাইক্রোবাসে তুলে তাকে বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এরপর দেলোয়ারকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ওই রাতেই তাকে রামেক হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) স্থানান্তর করা হয়। পরে শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলে তাকে হাসপাতালের সাধারণ ওয়ার্ডে রাখা হয়।

এর আগে, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের সময়ও লুৎফুল হাবিব রুবেলের সঙ্গে নির্বাচন না করার জন্য ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের স্থানীয় নেতা আসাদুজ্জামানকে তুলে নিয়ে গিয়ে প্রায় ছয় ঘণ্টা বালু পয়েন্টে আটকে রাখা হয়েছিল। তাই আসাদুজ্জামান মনোনয়ন জমা দেননি। রুবেল বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।

প্রতিমন্ত্রীর প্রভাবেই তার শ্যালক রুবেল এমন বেপরোয়া কাণ্ড ঘটিয়ে যাচ্ছেন কী না এমন প্রশ্নের জবাবে পলক বলেন, ‘ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের সময় কী ঘটেছিল তা আমি জানি না। এবার কেন্দ্র থেকে আমাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, এবার যেন দলীয় প্রার্থী না দেওয়া হয় এবং কোনো এমপি-মন্ত্রী যেন কোনো প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান গ্রহণ না করেন। যে প্রার্থীর বিরুদ্ধে অভিযোগ, তার সঙ্গে আমার আত্মীয়তার সম্পর্ক, তা তো আমি অস্বীকার করতে পারবো না। নাটোরের সিংড়ার রাজনীতিতে আমি কখনোই ব্যক্তিগত আত্মীয় বা গোষ্ঠী বা ব্যক্তিকে প্রশ্রয় দেওয়ার চেষ্টা করিনি। 

এই অপহরণ ও নির্যাতনের সঙ্গে তার শ্যালক রুবেলের নাম ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে বলা হলেও মামলায় আসামি হিসেবে তার নাম না থাকার বিষয়টি সাংবাদিকরা জানতে চাইলে জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, যিনি হামলার শিকার, তার আপন ভাই মামলার বাদী। তার সঙ্গে আমার দল বা ব্যক্তিগতভাবে যোগাযোগ করা হয়নি। বাধা দেওয়া হয়নি। তারা মামলাটা করেছে। পুলিশের কাছে মামলাটা তদন্তাধীন। কারা জড়িত তা আপনারা দেখেছেন। আদালতে দুজন ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দিয়েছে। প্রাথমিক যে তথ্য-প্রমাণ, ভিডিও ফুটেজ আছে। যারাই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকুক, পুলিশ প্রভাবমুক্ত-নিরপেক্ষভাবে ব্যবস্থা নেবে। আমরা দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে চাই, কারও নাম ভাঙিয়ে কেউ যেন কোনো অপরাধ করতে না পারে। 

এ সময় প্রতিমন্ত্রী পলকের সঙ্গে রামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়াার জেনারেল এএফএম শামীম আহম্মদ, সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক এবং সিংড়া আওয়ামী লীগের দলীয় নেতা-কর্মীরা ছিলেন।

এনায়েত করিম/এমএ/

চুয়াডাঙ্গায় মৌসুমের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪১.৩ ডিগ্রি

প্রকাশ: ১৯ এপ্রিল ২০২৪, ০৪:৪০ পিএম
চুয়াডাঙ্গায় মৌসুমের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪১.৩ ডিগ্রি
ছবি : খবরের কাগজ

৭০ বছর বয়সী আব্দুল ওহাব। টানা ৩৫ বছর ধরে চুয়াডাঙ্গা শহরে রিকশা চালাচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘এই তীব্র গরম আর রোদে এখনো পায়ে প্যাডেল ঘুরিয়ে রিকশা চালাচ্ছি। অল্পতে হাঁপিয়ে উঠছি। কিছুক্ষণ পরপর বিশ্রাম ও শরীরে পানির ছিটা নিতে হচ্ছে। গরমে তেমন কেউই বাইরে বের হচ্ছেন না। ফলে যাত্রীও কম হচ্ছে।’

কয়েকদিন ধরে চুয়াডাঙ্গায় তীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। মানুষের পাশাপাশি পশু-পাখিরও হাঁসফাঁস অবস্থা। তীব্র খরতাপে স্বস্তি নেই কোথাও। অনাবৃষ্টি, খরতাপে ফলমূল, ফসলি জমি, সবজি নষ্ট হয়ে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন কৃষকরা। 

শুক্রবার (১৯) এপ্রিল বেলা ৩টায় জেলায় ৪১ দশমিক ৩ ডিগ্রি তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ১৭ শতাংশ। যা চলতি মৌসুমে এ জেলায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা।

এর আগে বৃহস্পতিবার (১৮ এপ্রিল) ৪০ দশমিক ৪ ডিগ্রি,  বুধবার (১৭ এপ্রিল) ৪০ দশমিক ৮ ডিগ্রি ও মঙ্গলবার (১৬ এপ্রিল) ৪০ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল। যা ছিল দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা।

চলমান তাপদাহে জেলা প্রশাসন ও জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে হিটস্টোক প্রতিরোধে জেলাব্যাপী মাইকিং করে সতর্ক করা হচ্ছে। অতি প্রয়োজন ছাড়া বাড়ির বাইরে বের হতে নিষেধ করা হচ্ছে।

ফসল রক্ষায় কৃষকদের পরামর্শ দিয়ে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক বিভাস চন্দ্র সাহা বলেন, ‘আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, আগামী আরও কিছুদিন তীব্র দাবদাহ অব্যাহত থাকতে পারে। এ সময় বৃষ্টিপাত হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। এমতাবস্থায় ফল বিভাগ, উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট চাষীদের পরামর্শ দিয়েছে।’

বেশ কয়েকজন পান চাষি বলেন, ‘রোদের কারণে ক্ষতির মুখে পান গাছ। শুকিয়ে যাচ্ছে পানের বরজ। ঝরে পড়ছে পান পাতা। ওষুধ দিয়েও কোনো কাজ হচ্ছে না। লোকসানের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে চাষিদের।’

জেলার জীবননগর উপজেলার চাষি ইজাজ উদ্দিন বলেন, ‘আমার জমির ধান শুকিয়ে যাচ্ছে। তীব্র রোদের কারণে কিছু ধান গাছ মারাও গেছে। জমিতে সেচ দিতে হচ্ছে একদিন পরপর। তাতে অনেক খরচ হচ্ছে। এ ছাড়া বাগানের আম, কাঁঠাল ও লিচু ঝরে যাচ্ছে।’

চুয়াডাঙ্গার প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জামিনুর রহমান খবরের কাগজকে বলেন, ‘আজ বেলা ৩টায় জেলায় ৪১ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। জেলার ওপর দিয়ে অতি তীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। তাপমাত্রা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।’

আফজালুল হক/সালমান/

মৌলভীবাজারে বৈশ্বিক জলবায়ু ধর্মঘট পালন

প্রকাশ: ১৯ এপ্রিল ২০২৪, ০৩:৩৫ পিএম
মৌলভীবাজারে বৈশ্বিক জলবায়ু ধর্মঘট পালন
ছবি : খবরের কাগজ

জলবায়ু পরিবর্তনের জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে এবং পরিবেশ রক্ষার লক্ষ্যে বৈশ্বিক জলবায়ু ধর্মঘট ২০২৪ পালন করেছে মৌলভীবাজারের অর্ধশত শিক্ষার্থী।

ধর্মঘটকারীরা জানান, বিশ্বের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেলে খরা, বন্যাসহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ বেড়ে যাবে, ক্ষতিগ্রস্ত হবে পরিবেশের ভারসাম্য।

শুক্রবার (১৯ এপ্রিল) দুপুরে চাঁদনীঘাট মনুব্রিজ সংলগ্ন স্থানে ‘বেঁচে থাকার অধিকার, চাই জলবায়ুর সুবিচার’ স্লোগানে গ্লোবাল ক্লাইমেট স্ট্রাইকের ব্যানারে এই জলবায়ু ধর্মঘটের আয়োজন করা হয়।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়াতে এবং ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে সাহায্য করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের দাবি জানান ধর্মঘটকারীরা। এ সময় তারা তাদের দাবি-সংবলিত বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে প্রতিবাদ জানান।

এ সময় ধর্মঘটকারীরা জানান, বিশ্বের তাপমাত্রা আরও বাড়লে, খরা, বন্যা ও প্রচণ্ড গরমের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাবে। যা কয়েক মিলিয়ন মানুষের ধ্বংস, বাস্তুচ্যুতি ও দারিদ্র্যের কারণ হবে। বিশেষ করে বিশ্বের দক্ষিণাঞ্চলীয় দেশগুলোর মানুষের জন্য এটি একটি বিড়ম্বনার বিষয়। কারণ জলবায়ু পরিবর্তনে এ অঞ্চলের লোকেরা সবচেয়ে কম ভূমিকা রাখলেও, সবচেয়ে বড় মূল্য তাদের দিতে হবে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের মুখে পড়ার জন্য সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ বলে উল্লেখ করেন ধর্মঘটকারীরা।

ইয়ুথনেট ফর ক্লাইমেট জাস্টিস সিলেট বিভাগীয় সমন্বয়ক দ্বীপ্র ধর অর্ঘ্য বলেন, ‘আমাদের ধর্মঘট থেকে বাংলাদেশসহ গোটা বিশ্বের কাছে আমরা দাবি জানাই যে, জ্বালানি ও সুরক্ষিত ভবিষ্যৎ চাই, ক্ষতিকর জীবাশ্ম জ্বালানি বন্ধ চাই। তাই আমাদের দাবির সঙ্গে একাত্মতা পোষণ করে তরুণ ও সচেতন মহলের এগিয়ে আসতে হবে।’

ধর্মঘটে অংশ নেওয়া বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) জাতীয় পরিষদ সদস্য আ স ম সালেহ সোহেল বলেন, ‘এই জলবায়ু ধর্মঘটে নতুন প্রজন্মের তরুণ-তরুণীদের জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবের বিরুদ্ধে একসঙ্গে আওয়াজ তুলতে সংগঠিত হতে সহায়তা করবে। আমরা মুখবুজে কষ্ট সহ্য করতে পারি না। সময় এসেছে কীভাবে পৃথিবীকে সুরক্ষিত করা যায় এবং পরবর্তী প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা যায়।’

পুলক পুরকায়স্থ/জোবাইদা/

তীব্র তাপদাহ উপেক্ষা করে সমুদ্রের টানে পর্যটকরা

প্রকাশ: ১৯ এপ্রিল ২০২৪, ০৩:২৩ পিএম
তীব্র তাপদাহ উপেক্ষা করে সমুদ্রের টানে পর্যটকরা
তীব্র তাপদাহ উপেক্ষা করে মানুষ ঘুরতে এসেছে পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে। ছবি: খবরের কাগজ

তীব্র গরম উপেক্ষা করে পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে আনন্দ উল্লাসে মেতে হাজার পর্যটক। ৪৩ বছরের ইতিহাসের সর্বোচ্চ তাপমাত্রাতেও নোনা জলে জলকেলিতে প্রশান্তি খোঁজ করছেন তারা। তাপমাত্রা বেশি হওয়ায় বিক্রি বেড়েছে স্থানীয় শরবত ও কোমল পানিয়র দোকানগুলোতে।

নাগরিক কোলাহল থেকে মুক্তি পেতে প্রতি সপ্তাহের ন্যায় শুক্রবার (১৯ এপ্রিল) পর্যটন নগরী পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় হাজার পর্যটক ভ্রমণে এসেছে। সকাল থেকে তীব্র গরম উপেক্ষা করে সৈকতের তপ্ত বালিতে প্রিয়জনের সঙ্গে ছাতা হাতে কেউবা আবার মাথায় ক্যাপ-গামছা পেঁচিয়ে হেঁটে বেরাচ্ছেন। কেউবা আবার বেঞ্চিতে বসে শান্ত সমুদ্রের বিশালতা ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য  উপভোগ করছেন। তীব্র গরমের কারণে অনেকে হোটেল রুমে অবস্থান করছেন। ফলে ট্যুর গাইডগুলো অনেকটাই অলস সময় পার করে সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত।

ফরিদপুর থেকে বন্ধুদের নিয়ে কুয়াকাটায় ঘুরতে আসা ফয়সাল জানান, প্রচণ্ড গরম উপেক্ষা করেই ঘুরতে আসতে হয়েছে কেননা ইদ ছাড়া সব বন্ধুরা এক হওয়া হয় না। ঈদের ছুটিতে সবাই এক সঙ্গে ঘুরতে এসেছি আর এই গরমে সমুদ্রে সময় কাটাতে ভালোই লাগছে।

মাগুরা থেকে ঘুরতে আসা মাহাতাব হোসাইন বলেন, ‘পরিবারের সবাইকে নিয়ে এই প্রথমবার কুয়াকাটা এসেছি। বছরের শুরুতেই পরিকল্পনা করে রেখেছিলাম কিন্তু এত গরমের মধ্য আসতে হবে বুঝতে পারিনি। সমুদ্র সৈকতে এসে বাচ্চারা অনেক খুশি কিন্তু এত গরমে বেশি সময় বিচে থাকা অসম্ভব।’

তীব্র রোদ আর ভ্যাপসা গরমে সবেচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন ফুটপাতের দোকানদার, অটোরিকশাচালক, সৈকতের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীসহ নিম্নআয়ের খেটে খাওয়া মানুষগুলো। পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকরাও পড়েছেন বিপাকে।

কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত এলাকার ভ্যানচালক সুলতান আহমেদ বলেন, ‘এই মৌসুমে যাত্রীর অনেক চাপ এবং ইনকামও বেশি কিন্তু সারাদিন রোদে গরমে যাত্রী আনা-নেওয়ায় খুব কষ্ট হয়।’

কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতের ডাব ব্যবসায়ী সিদ্দিক খান বলেন, ‘প্রচন্ড গরমের মধ্যে আমাদের কুয়াকাটায় অনেক লোকজন আসতেছে। এই গরমে সবাই ডাব খাইতেছে। গরমের কয়দিনে আমার ব্যবসাও ভালো হইতেছে।’

ঝিনুক ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘পর্যটক বেশি হলেও বিকাল ছাড়া কাস্টমার হয় না কারণ এই গরমে সবাই সমুদ্রে সময় কাটায় না হয় হোটেলে। সারাদিন কাস্টমার থাকলে বেশি বেচাকেনা হত।’

কুয়াকাটা টুরিস্ট পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার আব্দুল খালেক বলেন, ‘পর্যটকদের নিরাপত্তায় কাজ করছেন টুরিস্ট পুলিশ। সার্বক্ষণিক মাইকিং করে সচেতন করা হচ্ছে পর্যটকদের। তীব্র গরমে কোন পর্যটক অসুস্থ হয়ে পরলেও আমরা তার সেবা নিশ্চিতকরণে কাজ করবো। আমাদের পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এর সদস্যরাও পর্যটকদের সেবা দেওয়ার জন্য প্রস্তুত রয়েছে।’

বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কলাপাড়া স্টেশনের টহল টিম ইনচার্জ ইলিয়াস হোসেন বলেন, ‘আমরা সকাল থেকে সন্ধ্যা অবধি সৈকত এলাকায় অবস্থান করি। পর্যটক ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তায় ফায়ার সার্ভিসের একটি টহল টিম সব সময় প্রস্তুত আছে। যেকোনো দুর্ঘটনা মোকাবেলায় আমরা তৈরি আছি।’

হাসিবুর রহমান/সাদিয়া নাহার/