ঢাকা ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১, বৃহস্পতিবার, ৩০ মে ২০২৪

ভাড়ায় খাটছে বিসিআইসি সার ডিলারদের লাইসেন্স

প্রকাশ: ১৯ এপ্রিল ২০২৪, ০১:৫৬ পিএম
ভাড়ায় খাটছে বিসিআইসি সার ডিলারদের লাইসেন্স
ছবি : সংগৃহীত

খাগড়াছড়ির সাবেক সংসদ সদস্য যতীন্দ্রলাল ত্রিপুরার সহধর্মিণী ক্রয়সাঞো মারমা কাগজে-কলমে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) একজন সার ডিলার। তার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের নাম ‘ত্রিরত্ন কনস্ট্রাকশন’। খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার ৩ নম্বর গোলাবাড়ী ইউনিয়নের ডিলার হলেও তার প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্সের নামে বরাদ্দকৃত সার বিক্রি করা হয় খাগড়াছড়ি বাজারের জামে মসজিদসংলগ্ন মেসার্স আলিফ ট্রেডার্সে। 

লাইসেন্সের স্বত্বাধিকারী ক্রয়সাঞো মারমা জানান, বার্ষিক ৫০ হাজার টাকা চুক্তিতে লাইসেন্সটি আবুল কালাম নামে একজন ব্যবসায়ীর কাছে ভাড়ায় দিয়ে রেখেছেন তিনি।

একই অভিযোগ রয়েছে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মনীন্দ্রলাল ত্রিপুরার সহধর্মিণী স্বর্ণাদেবী ত্রিপুরার মালিকানাধীন ‘মেসার্স ত্রিপুরা ট্রেডার্স’-এর বিরুদ্ধে। এই লাইসেন্সটি খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার পেরাছড়া ইউনিয়নে সার বিক্রয়ের জন্য অনুমোদন দিয়েছে বিসিআইসি। এটি ভাড়ায় দিয়ে রেখেছেন খাগড়াছড়ি পৌর শহরের পানখাইয়াপাড়া সড়কের ব্যবসায়ী রিটন চাকমার কাছে। খাগড়াছড়ি বাজারে রিটন চাকমার মালিকানাধীন ‘ভাই ভাই স্টোর’-এর সামনে ঝোলানো হয়েছে পেরাছড়া ইউনিয়নের ‘মেসার্স ত্রিপুরা ট্রেডার্স’-এর নামে সার বিক্রয় কেন্দ্রের ব্যানার। সার উত্তোলন করে এখানেই গুদামজাত করে অনেক বছর ধরে বিক্রি করে আসছেন রিটন চাকমা নামের ওই ব্যবসায়ী। 

কেউ কেউ আবার নিজের নামে লাইসেন্স থাকা সত্ত্বেও ভাড়ায় নিয়ে ব্যবহার করছেন একাধিক লাইসেন্স। খাগড়াছড়ি পৌর শহরে সার বিতরণের জন্য সরকারিভাবে অনুমোদন দেওয়া হয় ‘মেসার্স বড়ুয়া ট্রেডার্স’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে। এই প্রতিষ্ঠানটির মালিক প্রিয়দর্শী বড়ুয়া। তার ছেলে বিপ্লব বড়ুয়ার নামেও ‘মেসার্স বালি এন্টারপ্রাইজ’ নামে জেলার মহালছড়ি উপজেলার মাইসছড়ি ইউনিয়নে একটি বিসিআইসি সার ডিলারের লাইসেন্স রয়েছে। এর পরও তিনি খাগড়াছড়ি সদর ইউনিয়নের জন্য অনুমোদনকৃত ‘মেসার্স কে. এন্টারপ্রাইজ’ নামে অপর একটি লাইসেন্স বার্ষিক চুক্তিতে ভাড়ায় নিয়ে ব্যবহার করছেন বছরের পর বছর ধরে। অর্থাৎ তিনটি প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্সের অনুকূলে বরাদ্দকৃত সার উত্তোলন করে তিনি সেসব বিক্রি করে আসছেন খাগড়াছড়ি শহরের পানখাইয়াপাড়া সড়কের মেসার্স বড়ুয়া ট্রেডার্সে। মেসার্স কে. এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী উলাপ্রু মারমার কাছে জানতে চাইলে তার লাইসেন্সটি ভাড়ায় দিয়ে রেখেছেন বলে স্বীকার করেন। খবরের কাগজকে তিনি বলেছেন, ‘লাইসেন্স বাবদ বড়ুয়াবাবু আমাকে বছরে ৫০ হাজার টাকা করে ভাড়া দেন।’

কাজল বড়ুয়া নামে খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার ভাইবোনছড়া ইউনিয়নের বিসিআইসির আরেক সার ডিলার নিজের নামে লাইসেন্স থাকা সত্ত্বেও ভাড়ায় নিয়ে ব্যবহার করেন অন্য আরও দুটি লাইসেন্স। মহালছড়ি উপজেলার ক্যায়াংঘাট ইউনিয়নের ‘মেসার্স বিপুল বড়ুয়া’ এবং পানছড়ি উপজেলার উল্টাছড়ি ইউনিয়নের ‘মেসার্স তাহের অ্যান্ড ব্রাদার্স’ এই দুটি লাইসেন্সের অনুকূলে বরাদ্দকৃত সার উত্তোলন করে বিক্রি করেন ভাইবোনছড়া বাজারের মেসার্স কাজল ট্রেডার্সে। 

বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশন খাগড়াছড়ি জেলা ইউনিটের সভাপতি কে এম ইসমাইল হোসেনের মালিকানাধীন ‘মেসার্স আকাশ এন্টারপ্রাইজ’-এর নামে লাইসেন্সের অনুমোদন দেওয়া হয় দীঘিনালা উপজেলার মেরুং ইউনিয়নে সার বিক্রয়ের জন্য। তবে এই লাইসেন্সটিও মো. রফিক নামে বোয়ালখালী ইউনিয়নের এক ব্যবসায়ীর কাছে ভাড়া দেওয়া হয়েছে। লাইসেন্স ভাড়ায় নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বোয়ালখালী বাজারের রফিক বীজ ভাণ্ডারের মালিক মো. রফিক বলেন, ‘লাইসেন্সটি আমি ভাড়ায় নিয়ে চালাই। তবে তার জন্য বছরে কত টাকা ভাড়া দিই তা আপনাকে বলা যাবে না।’

এ ছাড়া দীঘিনালা উপজেলার বোয়ালখালী ইউনিয়নের ‘মেসার্স এসএস ট্রেডার্স’ নামে অনুমোদিত লাইসেন্সের মালিক থাকেন চট্টগ্রাম শহরে। নিজে ব্যবসা না করে অন্য ব্যবসায়ীর কাছে ভাড়ায় দিয়ে রেখেছেন লাইসেন্স। দীঘিনালার বাবুছড়া ইউনিয়নের ‘মেসার্স রাজ্জাক স্টোর’-এর আব্দুর রাজ্জাকও নিজে ব্যবসা করেন না। মাটিরাঙ্গা উপজেলার গোমতী ইউনিয়নের ‘মেসার্স জুয়েল এন্টারপ্রাইজ’-এর মালিক মো. মহিউদ্দিন থাকেন প্রবাসে। তবে লাইসেন্স ভাড়া দিয়ে রেখেছেন অন্যজনের কাছে। মাটিরাঙ্গা উপজেলার সদর ইউনিয়নের ‘মেসার্স হাকিম স্টোর’-এর মালিক মো. আব্দুল হাকিম এবং রামগড় উপজেলার সদর ইউনিয়নের ‘মেসার্স মোস্তফা ট্রেডার্স’-এর মালিক মো. মোস্তফা ইউনিয়নে সার বিক্রি না করে বিক্রি করেন পৌর সদরেই। 

নীতিমালায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, ইউনিয়নই হবে সার বিতরণের কেন্দ্রবিন্দু। এ ছাড়া প্রতিটি পৌরসভায় একজন করে বিসিআইসির ডিলার সার বিতরণ করবেন। তবে খাগড়াছড়ি জেলার ৩৮টি ইউনিয়ন এবং ৩টি পৌরসভায় সার বিতরণে চলছে এসব অনিয়ম। কৃষকদের পরিবহন খরচ কমাতে সরকার বছরে হাজার হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দেয়। তবে ইউনিয়নে সার পাচ্ছেন না প্রান্তিক কৃষকরা। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় সারা বছর ধরে কৃষকদের গুনতে হচ্ছে মোটা অঙ্কের পরিবহন ব্যয়। 
খাগড়াছড়ি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক মোহাম্মদ বাছিরুল আলম বলেন, ‘আমি মূলত জেলা প্রশিক্ষণ অফিসার। উপপরিচালকের বদলিজনিত কারণে সম্প্রতি আমাকে ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আমি দু-একজন ডিলারের লাইসেন্স ভাড়া দেওয়ার বিষয়টি জানতাম। এত বেশি অনিয়মের কথা আমার জানা ছিল না। এ বিষয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ 

জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সভাপতি, খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক মো. সহিদুজ্জামান বলেন, ‘ডিলারদের লাইসেন্স ভাড়া দেওয়ার বিষয়টি সম্পর্কে অবগত ছিলাম না। এ ব্যাপারে খতিয়ে দেখা হবে এবং সত্যতা পাওয়া গেলে যথাযথ ব্যবস্থা নেব।’

উল্লেখ্য, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে খাগড়াছড়ি জেলার ৩৯ জন সার ডিলারের জন্য সরকারিভাবে সারের চাহিদা রয়েছে ৩৪ হাজার ৭১৩ মেট্রিক টন। এর মধ্যে ইউরিয়া ১৫ হাজার ৯২০ টন, টিএসপি ১০ হাজার ৭৮৯ টন, ডিএপি ৪ হাজার ৮৯৫ টন এবং এমওপি ৩ হাজার ১০৯ টন। চাহিদা অনুযায়ী ডিলাররা মাসের শুরুতেই লাইসেন্সের অনুকূলে বরাদ্দকৃত সার উত্তোলন করে নেন। সরকারিভাবে কৃষক পর্যায়ে খুচরা বিক্রয় মূল্যও নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। তবে দাম নির্ধারণ করে দিলেও সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির যথাযথ তদারকি নেই খাগড়াছড়ি জেলায়। জেলা সদরে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে কেজিপ্রতি ১ টাকা এবং উপজেলা পর্যায়ে কেজিপ্রতি ৩ থেকে ৫ টাকা বেশি মূল্যে সার বিক্রয়ের অভিযোগ রয়েছে ডিলারদের বিরুদ্ধে। 

এ ছাড়া কৃত্রিম সংকট তৈরি করে অতিরিক্ত দাম হাতিয়ে নেওয়া হয় কৃষকদের কাছ থেকে। কখনো কখনো আবার চট্টগ্রাম শহরের এজেন্টদের কাছে অতিরিক্ত দামে সার বিক্রি করে দেন অনুমোদিত ডিলাররা। 

বিপুল ফারাজী বাঘারপাড়া উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত

প্রকাশ: ৩০ মে ২০২৪, ১২:২৯ এএম
বিপুল ফারাজী বাঘারপাড়া উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত
বিপুল ফারাজী

যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক এফ এম আশরাফুল কবির (ইঞ্জিনিয়ার বিপুল ফারাজী)। গতকাল বুধবার তিনি বিপুল ভোটে বিজয়ী হন।
মোটরসাইকেল প্রতীক নিয়ে তিনি পেয়েছেন ৫১ হাজার ৬৩০ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক রাজীব কুমার রায় পান ২০ হাজার ৭৭৯ ভোট। এছাড়া, দোয়াত কলম প্রতীক নিয়ে উপজেলা পরিষদের বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি আব্দুর রউফ মোল্যা পেয়েছেন ১৫ হাজার ৪৯২ ভোট। ভোট গণনা শেষে রাত ৮টায় এ ফলাফল ঘোষণা করে করেন উপজেলা নির্বাচন অফিসার ওয়াহিদা ফেরদৌস। ফলাফলে ৩০ হাজার ৮৫১ বেশি ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন ইঞ্জিনিয়ার বিপুল ফারাজী।

আনারের মরদেহ চাই, খুনিদের ফাঁসি চাই : মানববন্ধনে আ.লীগ নেতারা

প্রকাশ: ২৯ মে ২০২৪, ০৮:৪১ পিএম
আনারের মরদেহ চাই, খুনিদের ফাঁসি চাই : মানববন্ধনে আ.লীগ নেতারা
ছবি : খবরের কাগজ

এমপি আনারের মতো একজন মানবদরদী নেতাকে যারা নৃশংসভাবে হত্যা করেছে, কেটে টুকরো টুকরো করেছে- তারা মানুষ নয়। নরপশু। এ হত্যাকাণ্ডে যে চক্রই জড়িত থাকুক, দ্রুত তাদের মুখোশ উন্মোচন করে গ্রেপ্তার ও ফাঁসি নিশ্চিত করতে হবে।

বুধবার (২৯ মে) বিকেলে কালীগঞ্জে ঝিনাইদহ-৪ আসনের এমপি আনোয়ারুল আজীম আনারের হত্যাকারীদের বিচার ও মরদেহ ফেরতের দাবিতে আয়োজিত মানববন্ধনে এ কথা বলেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা। 

এমপি আনার হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে উপজেলা আওয়ামী লীগের পূর্ব ষোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে বুধবার কালীগঞ্জ উপজেলার ৩টি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের আয়োজনে বারবাজার বাসস্ট্যান্ডে ওই মানববন্ধন করা হয়। 

মানববন্ধনে নেতারা আরও বলেন, পর পর ৩ বার ঝিনাইদহ-৪ আসনে নির্বাচিত এমপি আনার কি হত্যার শিকার, নাকি গুম? শান্তির এই জনপদকে পরিকল্পিতভাবে অশান্ত করতে একটি চক্র ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। সব রহস্যের অবসান ঘটিয়ে ষড়যন্ত্রকারীদের মূল হোতা আক্তারুজ্জামান শাহিনসহ খুনিদের সর্ব্বোচ শাস্তির দাবি জানান তারা।

কালীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর সিদ্দিক ঠাণ্ডুর সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন নবনির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যান ও যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শিবলী নোমানী, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সাধারণ সম্পাদক ইউপি চেয়ারম্যান ওহিদুজ্জামান ওদু, পৌর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাসুদুর রহমান মন্টু, বারোবাজার ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সধারণ সম্পাদক ও ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ, সভাপতি মাহবুবুর রহমান রন্জু, কাষ্টভাঙ্গা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান রাশেদ শমসের, রাখালগাছী ইউপি চেয়ারম্যান মহিদুল ইসলাম মন্টু, মোচিক সিবিএ নেতা গোলাম রসুল ও উপজেলার ৩টি ইউনিয়ন কমিটির নেতারা উপস্থিত ছিলেন। মানববন্ধনে আওয়ামী লীগের সব অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীসহ সর্বস্তরের কয়েক হাজার মানুষ অংশ নেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে নারী প্রার্থী নিখোঁজ

প্রকাশ: ২৯ মে ২০২৪, ০৭:৪০ পিএম
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে নারী প্রার্থী নিখোঁজ
প্রীতি খন্দকার হালিমা

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে উপজেলা নির্বাচনের প্রচারে গিয়ে ফিরে আসেননি ‘পদ্মফুল’ প্রতীক নিয়ে অংশগ্রহণ করা প্রীতি খন্দকার হালিমা। 

এ ঘটনায় বুধবার (২৯ মে) বেলা ১১টায় তার স্বামী মাসুদ খন্দকার বিজয়নগর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।

প্রীতি খন্দকারের স্বামী মাসুদ খন্দকার বলেন, ‘আগামী ৫ জুন বিজয়নগর উপজেলা নির্বাচনে ভোট অনুষ্ঠিত হবে। এই নির্বাচনে আমার স্ত্রী মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে পদ্মফুল প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছে। সার্ভার ত্রুটির কারণে প্রীতির মনোনয়ন জমা দিতে সমস্যা হওয়ার ফলে হাইকোর্ট থেকে প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছে। কোর্টে ঘুরতে ঘুরতে নির্বাচনি এলাকায় সময় কম দিয়েছে, এ জন্য প্রীতি দিনরাত উপজেলায় নির্বাচনি কাজে সময় দিচ্ছে।’

মাসুদ আরও বলেন, ‘মঙ্গলবার দুপুরে হরষপুর ইউনিয়নে দুজন নারী সহযোগী নিয়ে নির্বাচনি প্রচারে যায় প্রীতি। হরষপুরের ঋষিপাড়ায় ঢুকে প্রচারের সময় প্রীতি তার সহযোগীদের বাইরে রেখে ভোটারদের সঙ্গে কথা বলতে ভেতরে যায়। কিন্তু ২০ মিনিট পার হলেও প্রীতি বের না হলে দুজন মহিলা ভেতরে যান। কিন্তু তারা সেখানে গিয়ে প্রীতিকে খুঁজে পাননি। অনেকক্ষণ খোঁজখবর করে প্রীতিকে না পেয়ে তারা বাড়িতে চলে আসেন। পরে আমি সন্ধ্যা পর্যন্ত অপেক্ষা করে উপজেলা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ থানার ওসিকে বিষয়টি জানাই। রিটার্নিং কর্মকর্তা অপেক্ষা করে মঙ্গলবার রাত ১২টার পর জিডি করতে বলেছেন। রাত ১২টায় থানায় যাওয়ার পর ওসি বললেন সকালে জিডি করতে।’

বুধবার বেলা ১১টায় বিজয়নগর থানায় জিডি জমা দিয়েছেন বলে প্রার্থীর স্বামী জানিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন, প্রতিপক্ষের লোকজন ঈর্ষান্বিত হয়ে তার স্ত্রীকে গুম করেছে। 

বিজয়নগর নির্বাচনি সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ইউএনও সৈয়দ মাহাবুবুল হক বলেন, ‘নিখোঁজের বিষয়টি প্রার্থীর স্বামী আমাকে জানিয়েছেন। আমি প্রার্থীর স্বামীকে থানায় যোগাযোগ করতে বলে দিয়েছি।’ 

বিজয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুল ইসলাম বলেন, ‘প্রার্থীর স্বামী রাতে এসেছিলেন, তাকে নিয়ে রাতে ঘটনাস্থলে গিয়েছি। যেখান থেকে নিখোঁজ হয়েছেন, সেখানে গিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেছি। স্থানীয়রা জানিয়েছেন প্রার্থী সেখানে প্রচারে গিয়েছিলেন। জিডির অভিযোগ অনুযায়ী তদন্ত পরিচালনা করা হবে।’

ব্যালট কেড়ে নিয়ে সিল, পোলিং এজেন্টকে কারাদণ্ড

প্রকাশ: ২৯ মে ২০২৪, ০৪:৪২ পিএম
ব্যালট কেড়ে নিয়ে সিল, পোলিং এজেন্টকে কারাদণ্ড
দণ্ডপ্রাপ্ত মো. ফজলুল হক। ছবি : খবরের কাগজ

নোয়াখালীতে নারী ভোটারের ব্যালট কেড়ে নিয়ে সিল মারার অপরাধে পোলিং এজেন্টকে ৬ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে আরও এক মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

বুধবার (২৯ মে) দুপুরে সদর উপজেলার উত্তর সোনাপুর আহম্মদিয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তানিয়া ইসলাম এ আদেশ দেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত মো. ফজলুল হক (৪৪) সদর উপজেলার শ্রীপুর গ্রামের সাইদুল হকের ছেলে। তিনি চেয়ারম্যান প্রার্থী এ কে এম সামছুদ্দিন জেহানের আনারস প্রতীকের পোলিং এজেন্ট।

আদালত সূত্র জানায়, ফজলুল হক অবৈধভাবে গোপন কক্ষে গিয়ে অন্যের ব্যালট পেপারে সিল মারার চেষ্টা করেন। এ সময় কেন্দ্র পরিদর্শনে ছিলেন বিচারক তানিয়া ইসলাম। তৎক্ষণাৎ বিষয়টি তার নজরে আসে। এরপর তিনি উপজেলা নির্বাচন বিধিমালা অনুযায়ী অভিযুক্তকে ছয় মাসের কারাদণ্ড এবং জরিমানা করেন।

এ বিষয়ে তানিয়া ইসলাম বলেন, ‘অবৈধভাবে গোপন কক্ষে গিয়ে অন্যের ব্যালট পেপারে সিল মারার সময় ফজলুল হককে হাতেনাতে ধরা হয়। তারপর বিধি অনুযায়ী তাকে দণ্ড দেওয়া হয়েছে। সুষ্ঠু নির্বাচনে বাধা দিলে ছাড় দেওয়া হবে না।’

ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদের তৃতীয় ধাপে নোয়াখালী সদর, বেগমগঞ্জ ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় ভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। তিন উপজেলার ৩৭টি ইউনিয়নের ৩৫৭টি কেন্দ্রে ব্যালট পেপারের মাধ্যমে ভোট হয়েছে। এসব উপজেলায় মোট ভোটার ১২ লাখ ৭ হাজার ৫৮২ জন।

ইকবাল হোসেন/সালমান/

গোপালগঞ্জে মাছ ধরতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে যুবকের মৃত্যু

প্রকাশ: ২৯ মে ২০২৪, ০৩:৪৬ পিএম
গোপালগঞ্জে মাছ ধরতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে যুবকের মৃত্যু

গোপালগঞ্জে মাছ ধরতে গিয়ে বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে রিয়াদ খান (২১) নামের এক যুবকের মুত্যু হয়েছে।

বুধবার (২৯ মে) সকালে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার পশ্চিম নিজড়া গ্রাম এ ঘটনা ঘটে। 

গোপালগঞ্জ বৌলতলী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের পরিদর্শক মো. আমিনুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

রিয়াদ গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার পশ্চিম নিজড়া গ্রামের মো. কামরুল ইসলাম খানের ছেলে। তিনি পেশায় নির্মাণ শ্রমিক। 

বৌলতলী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের পরিদর্শক খবরের কাগজকে জানান, মঙ্গলবার (২৮ মে) রাতে বাড়ির পাশের বিলে মাছ ধরতে যায় রিয়াদ। মাছ ধরে বাড়ি ফেরার পথে বা যে কোনো সময় মাছের ঘেরের বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে সে মারা যায়।

বাড়ি ফিরে না আসায় তাকে খোঁজাখুঁজি করে পরিবারের সদস্যরা। পরে বুধবার সকালে রিয়াদের মরদেহ দেখেতে পেয়ে পুলিশে খবর দেয় স্থানীয়রা।

আবেদনের প্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই রিয়াদের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা। 

বাদল সাহা/ইসরাত চৈতী/অমিয়/