ঢাকা ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১, বৃহস্পতিবার, ৩০ মে ২০২৪

চুয়াডাঙ্গায় মৌসুমের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪১.৫ ডিগ্রি

প্রকাশ: ১৯ এপ্রিল ২০২৪, ০৪:৪০ পিএম
চুয়াডাঙ্গায় মৌসুমের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪১.৫ ডিগ্রি
ছবি : খবরের কাগজ

কয়েকদিন ধরে চুয়াডাঙ্গায় তীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। মানুষের পাশাপাশি পশু-পাখিরও হাঁসফাঁস অবস্থা। তীব্র খরতাপে স্বস্তি নেই কোথাও। অনাবৃষ্টি, খরতাপে ফলমূল, ফসলি জমি, সবজি নষ্ট হয়ে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন কৃষকরা। 

শুক্রবার (১৯) এপ্রিল বেলা ৩টায় জেলায় ৪১ দশমিক ৩ ডিগ্রি ও সন্ধ্যা ৬টায় ৪১ দশমিক ৫ ডিগ্রি তাপমাত্রা রেকর্ড করেছে চুয়াডাঙ্গার প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার। যা চলতি মৌসুমে এটিই দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা। টানা চারদিন চুয়াডাঙ্গায় দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করল আবহাওয়া অধিদপ্তর।

চলমান তাপদাহে জেলা প্রশাসন ও জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে হিটস্টোক প্রতিরোধে জেলাব্যাপী মাইকিং করে সতর্ক করা হচ্ছে। অতি প্রয়োজন ছাড়া বাড়ির বাইরে বের হতে নিষেধ করা হচ্ছে।

৭০ বছর বয়সী আব্দুল ওহাব। টানা ৩৫ বছর ধরে চুয়াডাঙ্গা শহরে রিকশা চালাচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘এই তীব্র গরম আর রোদে এখনো পায়ে প্যাডেল ঘুরিয়ে রিকশা চালাচ্ছি। অল্পতে হাঁপিয়ে উঠছি। কিছুক্ষণ পরপর বিশ্রাম ও শরীরে পানির ছিটা নিতে হচ্ছে। গরমে তেমন কেউই বাইরে বের হচ্ছেন না। ফলে যাত্রীও কম হচ্ছে।’

কয়েকদিন ধরে চুয়াডাঙ্গায় তীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। মানুষের পাশাপাশি পশু-পাখিরও হাঁসফাঁস অবস্থা। তীব্র খরতাপে স্বস্তি নেই কোথাও। অনাবৃষ্টি, খরতাপে ফলমূল, ফসলি জমি, সবজি নষ্ট হয়ে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন কৃষকরা। 

আজ বেলা ৩টায় জেলায় ৪১ দশমিক ৫ ডিগ্রি তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ১৭ শতাংশ। যা চলতি মৌসুমে এ জেলায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা।

এর আগে বৃহস্পতিবার (১৮ এপ্রিল) ৪০ দশমিক ৪ ডিগ্রি,  বুধবার (১৭ এপ্রিল) ৪০ দশমিক ৮ ডিগ্রি ও মঙ্গলবার (১৬ এপ্রিল) ৪০ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল। যা ছিল দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা।

চলমান তাপদাহে জেলা প্রশাসন ও জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে হিটস্টোক প্রতিরোধে জেলাব্যাপী মাইকিং করে সতর্ক করা হচ্ছে। অতি প্রয়োজন ছাড়া বাড়ির বাইরে বের হতে নিষেধ করা হচ্ছে।

ফসল রক্ষায় কৃষকদের পরামর্শ দিয়ে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক বিভাস চন্দ্র সাহা বলেন, ‘আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, আগামী আরও কিছুদিন তীব্র দাবদাহ অব্যাহত থাকতে পারে। এ সময় বৃষ্টিপাত হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। এমতাবস্থায় ফল বিভাগ, উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট চাষীদের পরামর্শ দিয়েছে।’

বেশ কয়েকজন পান চাষি বলেন, ‘রোদের কারণে ক্ষতির মুখে পান গাছ। শুকিয়ে যাচ্ছে পানের বরজ। ঝরে পড়ছে পান পাতা। ওষুধ দিয়েও কোনো কাজ হচ্ছে না। লোকসানের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে চাষিদের।’

জেলার জীবননগর উপজেলার চাষি ইজাজ উদ্দিন বলেন, ‘আমার জমির ধান শুকিয়ে যাচ্ছে। তীব্র রোদের কারণে কিছু ধান গাছ মারাও গেছে। জমিতে সেচ দিতে হচ্ছে একদিন পরপর। তাতে অনেক খরচ হচ্ছে। এ ছাড়া বাগানের আম, কাঁঠাল ও লিচু ঝরে যাচ্ছে।’

চুয়াডাঙ্গার প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জামিনুর রহমান খবরের কাগজকে বলেন, আজ শুক্রবার (১৯) এপ্রিল বেলা ৩টায় জেলায় ৪১ দশমিক ৩ ডিগ্রি ও সন্ধ্যা ৬টায় ৪১ দশমিক ৫ ডিগ্রি তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। জেলার ওপর দিয়ে অতি তীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। তাপমাত্রা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।

আফজালুল হক/সালমান/

আনারের মরদেহ চাই, খুনিদের ফাঁসি চাই : মানববন্ধনে আ.লীগ নেতারা

প্রকাশ: ২৯ মে ২০২৪, ০৮:৪১ পিএম
আনারের মরদেহ চাই, খুনিদের ফাঁসি চাই : মানববন্ধনে আ.লীগ নেতারা
ছবি : খবরের কাগজ

এমপি আনারের মতো একজন মানবদরদী নেতাকে যারা নৃশংসভাবে হত্যা করেছে, কেটে টুকরো টুকরো করেছে- তারা মানুষ নয়। নরপশু। এ হত্যাকাণ্ডে যে চক্রই জড়িত থাকুক, দ্রুত তাদের মুখোশ উন্মোচন করে গ্রেপ্তার ও ফাঁসি নিশ্চিত করতে হবে।

বুধবার (২৯ মে) বিকেলে কালীগঞ্জে ঝিনাইদহ-৪ আসনের এমপি আনোয়ারুল আজীম আনারের হত্যাকারীদের বিচার ও মরদেহ ফেরতের দাবিতে আয়োজিত মানববন্ধনে এ কথা বলেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা। 

এমপি আনার হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে উপজেলা আওয়ামী লীগের পূর্ব ষোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে বুধবার কালীগঞ্জ উপজেলার ৩টি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের আয়োজনে বারবাজার বাসস্ট্যান্ডে ওই মানববন্ধন করা হয়। 

মানববন্ধনে নেতারা আরও বলেন, পর পর ৩ বার ঝিনাইদহ-৪ আসনে নির্বাচিত এমপি আনার কি হত্যার শিকার, নাকি গুম? শান্তির এই জনপদকে পরিকল্পিতভাবে অশান্ত করতে একটি চক্র ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। সব রহস্যের অবসান ঘটিয়ে ষড়যন্ত্রকারীদের মূল হোতা আক্তারুজ্জামান শাহিনসহ খুনিদের সর্ব্বোচ শাস্তির দাবি জানান তারা।

কালীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর সিদ্দিক ঠাণ্ডুর সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন নবনির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যান ও যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শিবলী নোমানী, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সাধারণ সম্পাদক ইউপি চেয়ারম্যান ওহিদুজ্জামান ওদু, পৌর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাসুদুর রহমান মন্টু, বারোবাজার ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সধারণ সম্পাদক ও ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ, সভাপতি মাহবুবুর রহমান রন্জু, কাষ্টভাঙ্গা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান রাশেদ শমসের, রাখালগাছী ইউপি চেয়ারম্যান মহিদুল ইসলাম মন্টু, মোচিক সিবিএ নেতা গোলাম রসুল ও উপজেলার ৩টি ইউনিয়ন কমিটির নেতারা উপস্থিত ছিলেন। মানববন্ধনে আওয়ামী লীগের সব অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীসহ সর্বস্তরের কয়েক হাজার মানুষ অংশ নেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে নারী প্রার্থী নিখোঁজ

প্রকাশ: ২৯ মে ২০২৪, ০৭:৪০ পিএম
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে নারী প্রার্থী নিখোঁজ
প্রীতি খন্দকার হালিমা

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে উপজেলা নির্বাচনের প্রচারে গিয়ে ফিরে আসেননি ‘পদ্মফুল’ প্রতীক নিয়ে অংশগ্রহণ করা প্রীতি খন্দকার হালিমা। 

এ ঘটনায় বুধবার (২৯ মে) বেলা ১১টায় তার স্বামী মাসুদ খন্দকার বিজয়নগর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।

প্রীতি খন্দকারের স্বামী মাসুদ খন্দকার বলেন, ‘আগামী ৫ জুন বিজয়নগর উপজেলা নির্বাচনে ভোট অনুষ্ঠিত হবে। এই নির্বাচনে আমার স্ত্রী মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে পদ্মফুল প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছে। সার্ভার ত্রুটির কারণে প্রীতির মনোনয়ন জমা দিতে সমস্যা হওয়ার ফলে হাইকোর্ট থেকে প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছে। কোর্টে ঘুরতে ঘুরতে নির্বাচনি এলাকায় সময় কম দিয়েছে, এ জন্য প্রীতি দিনরাত উপজেলায় নির্বাচনি কাজে সময় দিচ্ছে।’

মাসুদ আরও বলেন, ‘মঙ্গলবার দুপুরে হরষপুর ইউনিয়নে দুজন নারী সহযোগী নিয়ে নির্বাচনি প্রচারে যায় প্রীতি। হরষপুরের ঋষিপাড়ায় ঢুকে প্রচারের সময় প্রীতি তার সহযোগীদের বাইরে রেখে ভোটারদের সঙ্গে কথা বলতে ভেতরে যায়। কিন্তু ২০ মিনিট পার হলেও প্রীতি বের না হলে দুজন মহিলা ভেতরে যান। কিন্তু তারা সেখানে গিয়ে প্রীতিকে খুঁজে পাননি। অনেকক্ষণ খোঁজখবর করে প্রীতিকে না পেয়ে তারা বাড়িতে চলে আসেন। পরে আমি সন্ধ্যা পর্যন্ত অপেক্ষা করে উপজেলা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ থানার ওসিকে বিষয়টি জানাই। রিটার্নিং কর্মকর্তা অপেক্ষা করে মঙ্গলবার রাত ১২টার পর জিডি করতে বলেছেন। রাত ১২টায় থানায় যাওয়ার পর ওসি বললেন সকালে জিডি করতে।’

বুধবার বেলা ১১টায় বিজয়নগর থানায় জিডি জমা দিয়েছেন বলে প্রার্থীর স্বামী জানিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন, প্রতিপক্ষের লোকজন ঈর্ষান্বিত হয়ে তার স্ত্রীকে গুম করেছে। 

বিজয়নগর নির্বাচনি সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ইউএনও সৈয়দ মাহাবুবুল হক বলেন, ‘নিখোঁজের বিষয়টি প্রার্থীর স্বামী আমাকে জানিয়েছেন। আমি প্রার্থীর স্বামীকে থানায় যোগাযোগ করতে বলে দিয়েছি।’ 

বিজয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুল ইসলাম বলেন, ‘প্রার্থীর স্বামী রাতে এসেছিলেন, তাকে নিয়ে রাতে ঘটনাস্থলে গিয়েছি। যেখান থেকে নিখোঁজ হয়েছেন, সেখানে গিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেছি। স্থানীয়রা জানিয়েছেন প্রার্থী সেখানে প্রচারে গিয়েছিলেন। জিডির অভিযোগ অনুযায়ী তদন্ত পরিচালনা করা হবে।’

ব্যালট কেড়ে নিয়ে সিল, পোলিং এজেন্টকে কারাদণ্ড

প্রকাশ: ২৯ মে ২০২৪, ০৪:৪২ পিএম
ব্যালট কেড়ে নিয়ে সিল, পোলিং এজেন্টকে কারাদণ্ড
দণ্ডপ্রাপ্ত মো. ফজলুল হক। ছবি : খবরের কাগজ

নোয়াখালীতে নারী ভোটারের ব্যালট কেড়ে নিয়ে সিল মারার অপরাধে পোলিং এজেন্টকে ৬ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে আরও এক মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

বুধবার (২৯ মে) দুপুরে সদর উপজেলার উত্তর সোনাপুর আহম্মদিয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তানিয়া ইসলাম এ আদেশ দেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত মো. ফজলুল হক (৪৪) সদর উপজেলার শ্রীপুর গ্রামের সাইদুল হকের ছেলে। তিনি চেয়ারম্যান প্রার্থী এ কে এম সামছুদ্দিন জেহানের আনারস প্রতীকের পোলিং এজেন্ট।

আদালত সূত্র জানায়, ফজলুল হক অবৈধভাবে গোপন কক্ষে গিয়ে অন্যের ব্যালট পেপারে সিল মারার চেষ্টা করেন। এ সময় কেন্দ্র পরিদর্শনে ছিলেন বিচারক তানিয়া ইসলাম। তৎক্ষণাৎ বিষয়টি তার নজরে আসে। এরপর তিনি উপজেলা নির্বাচন বিধিমালা অনুযায়ী অভিযুক্তকে ছয় মাসের কারাদণ্ড এবং জরিমানা করেন।

এ বিষয়ে তানিয়া ইসলাম বলেন, ‘অবৈধভাবে গোপন কক্ষে গিয়ে অন্যের ব্যালট পেপারে সিল মারার সময় ফজলুল হককে হাতেনাতে ধরা হয়। তারপর বিধি অনুযায়ী তাকে দণ্ড দেওয়া হয়েছে। সুষ্ঠু নির্বাচনে বাধা দিলে ছাড় দেওয়া হবে না।’

ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদের তৃতীয় ধাপে নোয়াখালী সদর, বেগমগঞ্জ ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় ভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। তিন উপজেলার ৩৭টি ইউনিয়নের ৩৫৭টি কেন্দ্রে ব্যালট পেপারের মাধ্যমে ভোট হয়েছে। এসব উপজেলায় মোট ভোটার ১২ লাখ ৭ হাজার ৫৮২ জন।

ইকবাল হোসেন/সালমান/

গোপালগঞ্জে মাছ ধরতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে যুবকের মৃত্যু

প্রকাশ: ২৯ মে ২০২৪, ০৩:৪৬ পিএম
গোপালগঞ্জে মাছ ধরতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে যুবকের মৃত্যু

গোপালগঞ্জে মাছ ধরতে গিয়ে বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে রিয়াদ খান (২১) নামের এক যুবকের মুত্যু হয়েছে।

বুধবার (২৯ মে) সকালে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার পশ্চিম নিজড়া গ্রাম এ ঘটনা ঘটে। 

গোপালগঞ্জ বৌলতলী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের পরিদর্শক মো. আমিনুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

রিয়াদ গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার পশ্চিম নিজড়া গ্রামের মো. কামরুল ইসলাম খানের ছেলে। তিনি পেশায় নির্মাণ শ্রমিক। 

বৌলতলী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের পরিদর্শক খবরের কাগজকে জানান, মঙ্গলবার (২৮ মে) রাতে বাড়ির পাশের বিলে মাছ ধরতে যায় রিয়াদ। মাছ ধরে বাড়ি ফেরার পথে বা যে কোনো সময় মাছের ঘেরের বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে সে মারা যায়।

বাড়ি ফিরে না আসায় তাকে খোঁজাখুঁজি করে পরিবারের সদস্যরা। পরে বুধবার সকালে রিয়াদের মরদেহ দেখেতে পেয়ে পুলিশে খবর দেয় স্থানীয়রা।

আবেদনের প্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই রিয়াদের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা। 

বাদল সাহা/ইসরাত চৈতী/অমিয়/  

পাবনায় ইভিএমে ধীরগতি, ভোটারদের ভোগান্তি

প্রকাশ: ২৯ মে ২০২৪, ০১:৫০ পিএম
পাবনায় ইভিএমে ধীরগতি, ভোটারদের ভোগান্তি
ইভিএম জটিলতায় ভোটারদের দীর্ঘ লাইন। ছবি : খবরের কাগজ

ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে পাবনা সদর উপজেলায় ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোট গ্রহণ চলছে। বুধবার (২৮ মে) সকাল ৮টা থেকে শুরু হয়ে একটানা চলে বিকাল ৪টা পর্যন্ত। এ সময় ভোটকেন্দ্রে ভোটারের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। ইভিএম জটিলতায় ভোট গ্রহণে ধীরগতি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

সকাল থেকে পাবনা সদরের সেন্ট্রাল গার্লস স্কুল, পিটিআই, আরিফপুর ফাজিল মাদ্রাসা, দুবলিয়া, শ্রীকোল, ফারাদপুর, চরপাড়া, নলদহ, ভাঁরাড়াসহ কয়েকটি কেন্দ্রে গিয়ে ভোটারের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। 

সদরের ভাঁরাড়া ইউনিয়নের নলদহ কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার সুমন রানা বলেন, ‘এই কেন্দ্রে ৬ হাজার ৪০০ ভোটার আছে। সকালে এক ঘণ্টা ইভিএম মেশিনে জটিলতা ছিল। এরপর সাড়ে ৯টার দিকে ঠিক করা হয়েছে। বর্তমানে মেশিন ঠিক থাকলেও বারবার সমস্যা দেখা দিচ্ছে। এখন পর্যন্ত প্রায় ২০০ ভোট সংগ্রহ হয়েছে।’ 

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার মাসুদুর রহমান বলেন, ‘এই কেন্দ্রে নারী-পুরুষ মিলিয়ে মোট ভোটার ৫ হাজার হাজার ৮০০ জন। কেন্দ্রে ১৬টি বুথ বসানো হয়েছে। সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত প্রায় ১২০ ভোট পড়েছে। নিরপেক্ষ ভোট হচ্ছে। কাউকে এখানে প্রভাব বিস্তার করতে দেওয়া হচ্ছে না।’  

নলদাহ কেন্দ্রে ভোট দিতে আসা মোহাম্মদ সোহেল রানা বলেন, ‘সকাল থেকে ভোট দেওয়ার জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে আছি, বারবার সমস্যা দেখা দেওয়ায় ভোট দিতে পারছি না। এদিকে সকাল থেকে কেন্দ্রে প্রচুর ভোটার জড়ো হয়েছেন।’ 

আশরাফুল ইসলাম নামে একজন বলেন, ‘সকাল ৭টার আগে ভোট দিতে এসেছি। পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার জন্য অনেক আগ্রহ ছিল। কেন্দ্রে ভোট দিতে এসে দেখি দীর্ঘ লাইন। ২ ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও ভোট দিতে পারিনি।’

সদরের সাদুল্লাপুর ইউনিয়নের দুবলিয়া কেন্দ্রে ভোট দিতে আসা ডা. রুহুল আমিন বলেন, ‘সকাল ৮টার আগেই কেন্দ্রে ভোট দিতে এসেছি। সকাল সাড়ে ৯টায়ও ভোট দিতে পারিনি। অনেক ভোটার লাইনে দাঁড়িয়ে আছে। কখন ভোট দিতে পারব সেটাও বুঝতে পারছি না।’ 

পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাসুদ আলম বলেন, ‘পাবনার তিন উপজেলায় শান্তিপূর্ণভাবে ভোট গ্রহণ সম্পন্নের লক্ষ্যে বিজিবি, পুলিশ ফোর্স মাঠে রয়েছে। এ ছাড়া র‌্যাব, আনসার সদস্য ও সাদা পোশাকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন রয়েছেন।’ 

অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘নির্বাচনে স্ট্রাইকিং ফোর্সের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করা হয়েছে। আমরা আশাবাদী ভোটাররা শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট দিতে পারবেন। সকালে কিছু কেন্দ্রে ইভিএম মেশিনে কিছুটা জটিলতা সৃষ্টি হলেও পরে ঠিক হয়ে গেছে। এখন স্বাভাবিকভাবেই ভোট চলছে।’

পার্থ হাসান/সালমান/