ঢাকা ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১, শনিবার, ২৫ মে ২০২৪

নিখোঁজের ২৫ দিন পর ছাত্রলীগ নেতার মরদেহ উদ্ধার

প্রকাশ: ২৩ এপ্রিল ২০২৪, ০৯:৫০ পিএম
নিখোঁজের ২৫ দিন পর ছাত্রলীগ নেতার মরদেহ উদ্ধার
ছাত্রলীগ নেতা মোখলেছ উদ্দিন ভূঁইয়া ওরফে তুর্জয়। ছবি : সংগৃহীত

কিশোরগঞ্জে নিখোঁজের ২৫ দিন পর মিঠামইন উপজেলা ছাত্রলীগের এক নেতার লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২৩ এপ্রিল) বিকেল ৪টার দিকে শহরের নরসুন্দা নদী থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। 

নিহত মোখলেছ উদ্দিন ভূঁইয়া ওরফে তুর্জয় (২৫) জেলার মিঠামইন উপজেলার কেওয়ারজোড় ইউনিয়নের ফুলপুর গ্রামের কৃষক মকবুল হোসেনের ছেলে। তিনি ৫ নম্বর কেওয়ারজোড় ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সহসভাপতি ছিলেন। এ ছাড়া কিশোরগঞ্জের গুরুদয়াল সরকারি কলেজ থেকে বাংলা বিভাগে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। তিনি জেলা জজ আদালতের একজন পেশকারের সহকারী হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সন্দেহভাজন আটক ব্যক্তির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নরসুন্দা নদীতে উদ্ধার অভিযান চালায় পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল। মঙ্গলবার বিকেল ৪টার দিকে লাশ উদ্ধার হয়েছে।

নিহতের বড় ভাই আশরাফ আলী খবরের কাগজকে বলেন, ‘তিন মাস ধরে মোখলেছ কিশোরগঞ্জ শহরের হারুয়া বউবাজার এলাকার চুন্নু মিয়ার বাসায় ভাড়া থাকতেন। তিনি গত ২৯ মার্চ ভাড়া বাসা থেকে আনুমানিক রাত ৯টার দিকে নিখোঁজ হন। তার সর্বশেষ অবস্থান রাস্তার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সিসি ক্যামেরার ফুটেজের মাধ্যমে শনাক্ত হয়। ওই সিসি ক্যামেরার ফুটেজে তার সঙ্গে কয়েকজনকে দেখা যায়। তার ধারণা ওরাই তাকে অপহরণ করে মেরে ফেলেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের পরিবারের সঙ্গে তুর্জয়ের বন্ধু মিজান শেখের পরিবারের একাধিক মামলা মোকদ্দমা চলছে। এর জের ধরে তুর্জয়কে মেরে লাশ গুম করেছে। আজ আমার ভাইয়ের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তুর্জয়ের গলাকাটা ছিল। ওকে মেরে পেটে পাথর বেঁধে লাশ নদীতে ফেলা হয়েছে। এ বিষয় সদর থানায় মামলা করেন তুর্জয়ের আরেক বড় ভাই মো. মিজানুর রহমান।’

এর আগে সিসি ক্যামেরার ফুটেজের সূত্র ধরে পুলিশ মিঠামইনের কেওয়ারজোড় ইউনিয়ন ফুলপুর গ্রামের শেফুল শেখ (৬৫) ও তার তিন ছেলে মিজান শেখ (২৮), মারজান শেখ (২৬) এবং রায়হান শেখকে (২১) হবিগঞ্জ জেলার শায়েস্তাগঞ্জ থেকে গত শনিবার বেলা ১১টার দিকে গ্রেপ্তার করে। পরে আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা মোখলেছকে হত্যা করে লাশ নরসুন্দা নদীতে ফেলে দিয়েছে বলে জানায়।

এ বিষয়ে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রাসেল শেখ খবরের কাগজকে বলেন, ‘ছাত্রলীগ নেতা নিখোঁজ হওয়ায় তার পরিবার অপহরণ মামলা করেন। পরে সন্দেহভাজন কয়েকজনকে আটক করা হয়। এরপর আটক হওয়া ব্যক্তিরা হত্যার কথা স্বীকার করেন। হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী মিজানের দেওয়া বক্তব্য অনুসারে নরসুন্দা নদী থেকে ছাত্রলীগ নেতার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।’

ফরিদপুরে সেপটিক ট্যাংক থেকে ৪০ হাজার ডলার উদ্ধার

প্রকাশ: ২৫ মে ২০২৪, ১১:২২ এএম
ফরিদপুরে সেপটিক ট্যাংক থেকে ৪০ হাজার ডলার উদ্ধার
উদ্ধার করা ডলার

ফরিদপুরের ভাঙ্গা থানা পুলিশ এক চোরকে আটক করেছে। এ সময় টয়লেটের সেপটিক ট্যাংক থেকে চুরি করা প্রায় ৪০ হাজার মার্কিন ডলার উদ্ধার করা হয়, যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৪৭ লাখ টাকা।

শুক্রবার (২৪ মে) পুলিশ অভিযান চালিয়ে ভাঙ্গা পৌরসভার রায়পাড়া সদরদী গ্রামের মৃত আলতাফ কাজীর ছেলে মেহেদী হাসান তামিমকে আটক করে। এ সময় তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী বাড়ির টয়লেটের সেপটিক ট্যাংক থেকে ডলারগুলো উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় থানায় একটি চুরির মামলা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মেহেদী হাসান তামিম ঢাকায় ইলেকট্রিক মিস্ত্রির কাজ করতেন। গত ২২ মে বসুন্ধরা গ্রুপের ইঞ্জিনিয়ার এস এম তৌহিদুজ্জামানের বাসায় বিদ্যুতের কাজ করতে যান মেহেদী হাসান তামিম। কাজ করার এক ফাঁকে কৌশলে অস্ট্রেলিয়ায় থাকা ইঞ্জিনিয়ারের ছোট ভাইকে পাঠানোর জন্য বাসায় রাখা ৪০ হাজার ইউএস ডলার চুরি করে মেহেদী হাসান তামিম, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪৭ লাখ টাকা।

এ বিষয়ে ভাঙ্গা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মনির হোসেন তথ্যটি নিশ্চিত করে বলেন, ৪০ হাজার ডলার নিয়ে গ্রামের বাড়ি ফরিদপুরের ভাঙ্গায় পালিয়ে আসেন তামিম। পরে তৌহিদুজ্জামানের লিখিত অভিযোগের ভিত্তি শুক্রবার সকালে তামিমের বাড়ি ভাঙ্গা পৌরসভার রায়পাড়ায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। এ সময় তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বাড়ির টয়লেটের সেপটিক ট্যাংকের মধ্যে লুকিয়ে রাখা ৪০ হাজার ডলারের মধ্যে ৩৬ হাজার ২০০ ডলার উদ্ধার করা হয়।

স্বামী জীবিত তবুও পাচ্ছেন বিধবা ভাতা!

প্রকাশ: ২৫ মে ২০২৪, ১১:০৭ এএম
স্বামী জীবিত তবুও পাচ্ছেন বিধবা ভাতা!

স্বামী জীবিত থাকলেও তিন বছর ধরে বিধবা ভাতা পাচ্ছেন। নিজেকে কাগজে-কলমে বিধবা বানিয়ে তালিকাভুক্ত হয়ে বছরের পর বছর বিধবা ভাতার টাকা নিচ্ছেন কিছু নারী। এ রকম চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে হাতিয়ার পৌর এলাকা ও বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে। 

অনৈতিকভাবে বিধবা ভাতার সুবিধা পাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন ভাতাবঞ্চিত সাধারণ মানুষ।

ঘটনার জানাজানি হয় হাতিয়া পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের মধ্য লক্ষিদিয়া গ্রামের নজরুল ইসলামের স্ত্রী কুলসুমা বেগমের বিধবা ভাতা উত্তোলনের মাধ্যমে। কুলসুমা বেগম তিন বছর ধরে বিধবা ও স্বামী পরিত্যক্তা দুস্থ মহিলা হিসেবে ভাতার আওতায় বিধবা ভাতা উত্তোলন করে আসছেন। তার ভাতা পরিশোধের বই নং ৫৫৮। ভাতার বইতে স্বামীকে মৃত দেখানো হলেও তিনি জীবিত। এমনকি তার পরিবারের অন্য সদস্যরা সুস্থ হওয়ার পরও পাচ্ছেন প্রতিবন্ধী ভাতা।

কুলসুমা বেগমের স্বামী নজরুল ইসলাম হাতিয়া পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের চরলটিয়া গ্রামের মোস্তাফিজুর রহমানের ছেলে। তিনি উপজেলা সদর ওছখালী পুরাতন বাজারের একজন ব্যবসায়ী।

একই এলাকার আমিরুল ইসলামের স্ত্রী স্বপ্না বেগম ২০২১ সাল থেকে পাচ্ছেন বিধবা ভাতা। তার ভাতা পরিশোধের বই নং ৪৫৯। ভুয়া কাগজপত্র এবং তথ্য গোপন করে স্বামীকে মৃত দেখিয়ে এ ভাতা উত্তোলন করছেন তিনি। অথচ তার স্বামী আমিরুল ইসলাম এখনো জীবিত এবং স্বাবলম্বী।

শুধু কুলসুমা ও স্বপ্না বেগম নয়, জনপ্রতিনিধিদের ম্যানেজ করে অবৈধভাবে বিধবা, বয়স্ক, প্রতিবন্ধী ভাতাসহ সব রকম ভাতার সুবিধা নিচ্ছেন অনেকে। অথচ সমাজে অনেক অসহায় মানুষ রয়েছেন যারা ভাতা পাওয়ার উপযোগী কিন্তু ভাতা পাচ্ছেন না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান, জনপ্রতিনিধি ও দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা স্বজনপ্রীতি ও অর্থের বিনিময়ে মিথ্যা তথ্য দিয়ে সমাজসেবা কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের যোগসাজশে এসব অনিয়ম করছেন। জনপ্রতিনিধিরা নিজেদের ইচ্ছেমতো নম্বর দিয়ে অ্যাকাউন্ট করে নিজেদের পছন্দের লোকদের ভাতা দিচ্ছেন। 

একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ঝাড়ুদার রোকেয়া বেগম (৫২) খবরের কাগজকে বলেন, আমি কয়েকবার এলাকার ওয়ার্ড মেম্বারের মাধ্যমে বিধবা ভাতার আবেদন করেও আজ পর্যন্ত তালিকাভুক্ত হতে পারিনি।

এ ব্যাপারে কুলসুমা বেগমের সঙ্গে কথা বললে তিনি প্রথমে ভাতা পাওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন। পরে কথা বলার একপর্যায়ে তিনি বলেন, ‘আমার স্বামী মারা গেছেন তাই আমার বাড়ির পাশের একজন আমাকে রহমত কমিশনারের সঙ্গে কথা বলে ভাতার কার্ড ব্যবস্থা করে দিয়েছেন।’ 

আমিরুল ইসলামের স্ত্রী স্বপ্না বেগম বলেন, ‘আমার স্বামী নেই। তাই অভাব অনটনের কারণে আমি বিধবা ভাতার জন্য আবেদন করেছিলাম। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আমাকে ভাতা দেওয়া হয়।’ 

হাতিয়া পৌরসভা ৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর রহমত উল্লাহর কাছে মোবাইল ফোনে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এখানে সমাজসেবা অফিসেও সরাসরি অনেক কাজ হয়ে থাকে, রাজনৈতিক বিবেচনায়ও কিছু কাজ হয়ে থাকে, অনেক কাজেই আমরা অবহিত থাকি না।’ 

এ বিষয়ে হাতিয়া সমাজসেবা কর্মকর্তা কাজী ইমরান হোসেন খবরের কাগজকে বলেন, ‘আপনার মাধ্যমে বিষয়টি অবগত হলাম। অফিসিয়ালি তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে উদ্যোক্তার মাধ্যমে আবেদন করা ফরমগুলো স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের প্রত্যয়নে নেওয়া হয়।’   

হানিফ উদ্দিন/ইসরাত চৈতী/অমিয়/ 

চট্টগ্রামে মা-মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগে আত্মীয় গ্রেপ্তার

প্রকাশ: ২৫ মে ২০২৪, ১০:৩৮ এএম
চট্টগ্রামে মা-মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগে আত্মীয় গ্রেপ্তার
প্রতীকী ছবি

চট্টগ্রামের খুলশীতে মা ও মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগে আব্দুল করিম (৪০) নামে তাদের এক  নিকটাত্মীয়কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (২৩ মে) রাতে নগরীর খুলশী থানার ঝাউতলা বাজার থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

অভিযুক্ত আব্দুল করিমের বাড়ি (৪২) কুমিল্লা জেলায়। তবে তিনি চট্টগ্রাম নগরীর খুলশী থানার জালালাবাদ এলাকায় বসবাস করতেন। পেশায় তিনি একজন ইলেকট্রিশিয়ান।

শুক্রবার (২৪ মে) দুপুরে খুলশী থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) নুরুল বাশার খবরের কাগজকে এসব বিষয় নিশ্চিত করেন।  

খুলশী থানা পুলিশ জানায়, ধর্ষণের শিকার ৩৭ বছর বয়সি গৃহবধূ খুলশী থানার ঝাউতলা বাজার কলোনিতে ১১ বছর বয়সি মেয়ে ও স্বামীকে নিয়ে একটি বাসায় ভাড়ায় থাকতেন। গত ২২ মে ওই বাসাতেই গৃহবধূ ও তার মেয়ে ধর্ষণের শিকার হন। অভিযুক্ত আব্দুল করিম গৃহবধূর স্বামীর ভগ্নিপতি।

নুরুল বাশার খবরের কাগজকে বলেন, আব্দুল করিমের বিরুদ্ধে গৃহবধূর স্বামী বাদী হয়ে মামলা করেছেন। আমরা এখনও ঘটনাটি তদন্ত করছি। তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। 

মনির/পপি/

শিবচরে স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিতে চীফ হুইপের হুঁশিয়ারি

প্রকাশ: ২৫ মে ২০২৪, ১০:৩৮ এএম
শিবচরে স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিতে চীফ হুইপের হুঁশিয়ারি
ছবি : খবরের কাগজ

মাদারীপুর জেলার শিবচরের প্রান্তিক পর্যায়ের জন সাধারণের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে কমিউনিটি ক্লিনিকের গুরুত্ব তুলে ধরে ক্লিনিকগুলোতে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জাতীয় সংসদের চীফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী এমপি। 

শুক্রবার (২৪ মে)  নূর-ই-আলম চৌধুরী অডিটোরিয়ামে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে স্বাস্থ্যসেবার মান বৃদ্ধির লক্ষ্যে স্বাস্থ্যসেবা সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের অংশগ্রহণে মত বিনিময় সভার অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের চীফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী। 

এ সময় তিনি উপজেলার কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোর খোঁজ-খবর নেন। ক্লিনিকগুলোর সিএইসিপিসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে নানা সমস্যার কথা জানতে চান। প্রশ্ন-উত্তর পর্বে ক্লিনিকগুলো পরিচালনায় নানা সমস্যার কথা বেড়িয়ে আসে। প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে কমিউনিটি ক্লিনিক পরিচালনায় নানা অবহেলার চিত্র ফুটে উঠে। এ সময় তিনি সংশ্লিষ্টদের অফিস টাইম না মানলে চাকরি হারানোর হুঁশিয়ারী এবং শিবচরে স্বাস্থ্য সেবার মান উন্নয়নে সরকারি বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিক সংশ্লিষ্টদের দুই মাসের সময় বেঁধে দেন।

চীফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী বলেন, 'অফিসের নির্ধারিত সময়ের আগে কেউ বাসায় যাবেন না। অফিস টাইম তিনটায় হলে ঠিক তিনটাতেই যাবেন। পৌঁনে তিনটা নয়! অনিয়ম করলে অ্যাকশন নেওয়া ছাড়া কোন উপায় থাকবে না।'

চীফ হুইপ আরও বলেন, 'আমরা আপনাদের দুই মাস সময় দেব। হাসপাতাল-ক্লিনিকগুলোতে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা ঠিক করবেন। আমি এমনও দেখেছি, রোগীরা রাস্তায় লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। এটা হবে না। তাদের বসার ব্যবস্থা, বাথরুম ফ্যাসিলিটি আপনাকে করতে হবে। সেবার মান বাড়াতে হবে। নিয়ম না মানলে সরকারি- বেসরকারি সকল প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমরা এ মাসের মধ্যে ৪২টা কমিউনিটি ক্লিনিকেই আসবাবপত্রসহ যে সমস্যা আছে তার জন্য অনুদান দেবো।'

মতবিনিময় সভায় চীফ হুইপ কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোর সমস্যা চিহ্নিত করে তা নিরসনে তাৎক্ষণিক ভাবে ইউনিয়ন পর্যায়ে কমিউনিটি ক্লিনিক এর সিএইচসিপি, সভাপতি, জমিদাতা, চিকিৎসক, উপজেলা পর্যায়ের চিকিৎসক, কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধিদের মতামত শোনেন। এবং স্বাস্থ্য সেবার মান উন্নয়নে দুই মাসের সময় বেঁধে দেন। আসবাবপত্রসহ নানান সমস্যা সমাধানে নগদ অর্থ বরাদ্দ দেন ও কমিউনিটি ক্লিনিক এর সিএইচসিপিদের জন্য প্রশিক্ষণের নির্দেশ প্রদান করেন সিভিল সার্জনকে।  

মতবিনিময় সভায় ওয়ার্ড পর্যায় থেকে উপজেলা পর্যায়ের সরকারী স্বাস্থ্য কর্মী, স্বাস্থ্য কর্মকর্তা, চিকিৎসক, বেসরকারী ক্লিনিক মালিকসহ স্বাস্থ্য সেবা সংশ্লিষ্ট সকলে অংশ গ্রহণ করেন। 

মত বিনিময় সভার শুরুতেই জনপ্রতিনিধিদের কাছে কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো পরিদর্শনের খোঁজখবর নেন। এরপর আইএইচটির চিকিৎসক, কমিউনিটি ক্লিনিক এর সিএইচসিপি, চিকিৎসক, প্রাইভেট ক্লিনিক সংশ্লিষ্টদের কাছে বিভিন্ন প্রশ্ন করে সেবার মান যাচাই করেন। এ সময় স্বাস্থ্য খাতের বেহাল দশায় চীফ হুইপ তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। 

এর আগে চীফ হুইপ ইলিয়াস আহমেদ চৌধুরী অডিটোরিয়ামে জেলা পরিষদের আয়োজনে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত দরিদ্র বেকার নারীদের মাঝে সেলাই মেশিন বিতরণ করেন। 

এ সময় মাদারীপুর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মুনির চৌধুরী, জেলা সিভিল সার্জন ডা. মুনির আহমেদ খান, শিবচর ডায়াবেটিক সমিতির সভাপতি রাজিয়া চৌধুরী, শিবচর উপজেলা চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব আ. লতিফ মোল্লা, নব নির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যান ডা. মো. সেলিম, পৌরসভার মেয়র মো. আওলাদ হোসেন খান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল্লাহ আল মামুন, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ফাতিমা মেহজাবিনসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন। 

রফিকুল ইসলাম/জোবাইদা/অমিয়/ 

পরকীয়ার জেরে স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যা, স্বামী আটক

প্রকাশ: ২৫ মে ২০২৪, ১০:০৪ এএম
পরকীয়ার জেরে স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যা, স্বামী আটক

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে স্বামীর পরকীয়ায় বাধা দেওয়ায় স্ত্রী সালমাকে (৩০) শ্বাসরোধ করে হত্যার অভিযোগে স্বামী রুপচাঁনসহ দুজনকে আটক করেছে পুলিশ। 

শুক্রবার (২৪ মে) ভোরে সোনারগাঁ উপজেলার পৌরসভা এলাকার ভট্টপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত সালমা পৌরসভার ভট্টপুর এলাকার মো. রুপচাঁনের স্ত্রী। তিনি দুই সন্তানের জননী ছিলেন।

স্থানীয় ও নিহতের পরিবারের দাবি, অভিযুক্ত স্বামী রুপচাঁন দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় একটি কোম্পানিতে চাকরি করা নারীর সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্কে জড়িত ছিলেন। গোপনে চলতে থাকে তাদের অবৈধ মেলামেশা। পরকীয়ার সম্পর্কটি প্রকাশ্যে এলে সালমা প্রায়ই প্রতিবাদ করতেন। এর ফলে তাদের মধ্যে দাম্পত্যকলহ হতো। এ নিয়ে একাধিকবার বিচার সালিশও হয়েছে।

নিহতের ছেলে আব্দুল্লাহ আরবান কাইফি বলেন, ‘আমার বাবা দীর্ঘদিন ধরে পরকীয়ার সঙ্গে জড়িত ছিল। এ নিয়ে প্রায়ই মায়ের সঙ্গে ঝগড়া হতো। কিছুদিন আগেও মাকে অনেক মারধর করেছে। পরে আমি আমার নানির বাড়ির আত্মীয়দের জানিয়েছি। তারা বলেছিল, ঈদের পর বসবে। কিন্তু আজ আমার মাকে মেরেই ফেলল।’

সোনারগাঁ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মহসিন মিয়া জানান, লাশ ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে স্বামীসহ দুজনকে আটক করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর রহস্য উদঘাটন করা যাবে।