ঢাকা ২২ আষাঢ় ১৪৩৩, সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
ব্রাজিলের বিদায়ে মেহজাবীনের উল্লাস, মন ভেঙেছে সাফার ফরিদপুরে পৌর রাজস্ব সংগ্রহে পৌরসভার সঙ্গে ইউসিবির চুক্তি শেষ বিশ্বকাপের ঘোষণা রোনালদোর! দক্ষিণ ইউরোপজুড়ে ভয়াবহ দাবানল, ঘরবাড়ি ছেড়েছেন হাজারো মানুষ সৃষ্টিকর্মে চিরকাল বেঁচে থাকবেন অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক জন-আকাঙ্ক্ষার বাইরে ক্ষমতায় থাকা যায় না উখিয়ায় টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে পানিবন্দি ৫০ হাজার মানুষ প্রথম দৃষ্টিতেই ফুটে উঠুক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদা ব্যালোগানের নিষেধাজ্ঞা স্থগিতে ফিফাকে তীব্র সমালোচনায় সেপ ব্লাটার এনআইডি-সংক্রান্ত জরুরি সেবা সাময়িক বন্ধ ঘোষণা করেছে ইসি এক মাসে ১০০ ধর্ষণ, শিশুর জন্য অনিরাপদ রাষ্ট্র! সিলেটে গত ২৪ ঘণ্টায় ৪ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত সামাজিক অবক্ষয় সমাজ ও রাষ্ট্রের নীরবতা সোনারগাঁয় ‘ওয়ান স্টুডেন্ট, ওয়ান ট্রি’ কর্মসূচির উদ্বোধন ফিফার সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ উয়েফা টপ টেনে নেই ৬ ফুট ৫ ইঞ্চির হালান্ড মাশরাফি-রুবেলকে ছাড়িয়ে নতুন রেকর্ড নাহিদ রানার গৌরীপুরে ১০ দিনে ৩ খুন: জনমনে আতঙ্ক অক্টোবরে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরুর প্রস্তুতি চলছে: ইসি মাছউদ King Lear and Three Daughters বিষয়ক Story Writing নিয়ে আলোচনা, ৯ম পর্ব, এইচএসসির ইংরেজি ১ম পত্র চট্টগ্রামে পাহাড়ধসের ঝুঁকি, বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ চলমান সংকট রাজনৈতিকভাবেই মোকাবিলা করতে হবে বিশ্ববাজারে কমেছে স্বর্ণের দাম রাবিতে ১০ লাখ টাকা বৃত্তি দেওয়ার আশ্বাস ভূমিমন্ত্রীর হোটেল আমারি ঢাকায় শুরু হলো ইন্টারন্যাশনাল লাঞ্চ বুফে নোয়াখালীতে শিশু ধর্ষণ-হত্যা মামলায় আসামির মৃত্যুদণ্ড জার্সির পেছনে কার নাম লিখে খেলছেন হালান্ড? বাংলা কিউআর প্রচারে মার্কেন্টাইল ব্যাংকের র‌্যালি শেরপুরে শাশুড়ির ভরসায় পরীক্ষা দিলেন পুত্রবধূ যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীনে কাজের সুযোগ

বঙ্গোপসাগরে লবণবাহী ১৬ ট্রলারডুবি, নিখোঁজ অর্ধশতাধিক

প্রকাশ: ০৮ মে ২০২৪, ০৮:৩৯ পিএম
বঙ্গোপসাগরে লবণবাহী ১৬ ট্রলারডুবি, নিখোঁজ অর্ধশতাধিক
উদ্ধার হওয়া ২৬ মাঝি। ছবি : খবরের কাগজ

বঙ্গোপসাগরে কালবৈশাখীতে ১৬টি লবণবাহী ট্রলার ডুবে প্রায় ৩০ হাজার মণ লবণ পানিতে তলিয়ে গেছে। এ ঘটনায় ট্রলারগুলোতে থাকা ৭২ জন মাঝিমাল্লা ও শ্রমিক এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। এর মধ্যে ২৬ জনকে উদ্ধার করে কোস্টগার্ড ও নৌ-পুলিশ।

বুধবার (৮ মে) সকাল ৮টার দিকে বঙ্গোপসাগরে আনোয়ারা, বাঁশখালী, মহেশখালী, সাঙ্গু মোহনা, উঠান মাঝিরঘাট, বারআউলিয়া ও দোভাষী বাজারঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

কোস্টগার্ড পূর্ব জোন কমান্ডার (বিএন) মো. সুরাইব বিকাশ জানান, বঙ্গোসাগরে বৈরী আবহাওয়ার কারণে বেশ কিছু ট্রলার বা বোটডুবির ঘটনা ঘটেছে। সাগর থেকে ভাসমান অবস্থায় ২৬ জন মাঝিকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের পতেঙ্গায় কোস্টগার্ডের দপ্তরে এনে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

উদ্ধার হওয়া মাঝিদের মধ্যে রয়েছেন এমভি আল্লাহর দান ট্রালের মাঝি জিয়া উদ্দিন, এমভি তৌফিক ইলাহির মাঝি মানিক মানিক, নুরুল আমিন, মোহাম্মদ আলী, মোহাম্মদ মানিক, মনসুর উদ্দিন, বদি আলম, আবু হানিফ, জাবেদ আহমেদ, মোহাম্মদ আনিস, মোহাম্মদ আহিম, সোহেল মিয়াসহ মোট ২৬ জন। তারা বাঁশখালী উপজেলা ও কক্সবাজার জেলার কুতুবদিয়া, মহেশখালী ও চকরিয়া উপজেলার বাসিন্দা।

জানা গেছে, বাঁশখালী, মহেশখালী ও কুতুবদিয়া থেকে ১৬টি ট্রলার লবণবোঝাই করে চট্টগ্রাম শহরের মাঝিরঘাট ও নৌপথে বিভিন্ন স্থানে যাচ্ছিল। পথে বঙ্গোপসাগরের আনোয়ারা উপকূল থেকে চার নটিক্যাল মাইল দূরে পৌঁছলে কালবৈশাখীর দমকা হাওয়ার কবলে পড়ে ট্রলারগুলো। এতে একের পর এক ট্রলারগুলো ডুবে যায়। খবর পেয়ে কোস্টগার্ড ও নৌ-পুলিশ ৪টি ট্রলার থেকে ২৬ জন মাঝিমাল্লা ও শ্রমিককে উদ্ধার করে। বেশ কিছু মাঝিমাল্লা ও শ্রমিক সাঁতার কেটে অন্য ট্রলারে উঠেছেন। ট্রলারডুবির ঘটনায় প্রায় ৩০ হাজার মণ লবণ পানিতে তলিয়ে যায়। নিখোঁজদের উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে কোস্টগার্ড ও নৌ-পুলিশ।

বারআউলিয়া ঘাট নৌ-পুলিশের ইনচার্জ টিটু দত্ত বলেন, ‘লবণবাহী ট্রলারডুবির দুর্ঘটনায় অসুস্থ হয়ে পড়ায় দুজনকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ট্রলারসহ নিখোঁজদের উদ্ধারে কাজ চলছে।’

উখিয়ায় টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে পানিবন্দি ৫০ হাজার মানুষ

প্রকাশ: ০৬ জুলাই ২০২৬, ০৬:৪৬ পিএম
উখিয়ায় টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে পানিবন্দি ৫০ হাজার মানুষ
ছবি: খবরের কাগজ

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার হলদিয়াপালং, জালিয়াপালং ও পালংখালী ইউনিয়নের অন্তত ৩০টির বেশি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।

শনিবার (৪ জুলাই) রাত থেকে শুরু হওয়া টানা বৃষ্টিতে নিম্নাঞ্চলের বসতবাড়ি, গ্রামীণ সড়ক ও কৃষিজমি পানিতে তলিয়ে যায়। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে হলদিয়াপালং ইউনিয়ন। এ ইউনিয়নের প্রায় ২০টি গ্রাম প্লাবিত হওয়ায় জনজীবন কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।

বাড়িঘরে পানি ঢুকে পড়ায় অনেক পরিবার রান্না করতে পারছে না। ফলে অসংখ্য মানুষ শনিবার রাত থেকে না খেয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। পানিবন্দি পরিবারগুলোর মধ্যে শিশু, নারী ও বয়স্করা সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে রয়েছেন।

এদিকে বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় উখিয়া উপজেলা প্রশাসন জরুরি সভা করেছে। উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ৪৭টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পাশাপাশি সিপিপি ও বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্টের স্বেচ্ছাসেবকেরা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়ার কাজ শুরু করেছেন।

হলদিয়াপালং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইমরুল কায়েস চৌধুরী খবরের কাগজকে বলেন, ‘টানা বৃষ্টিতে ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। অনেক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের নিরাপদ আশ্রয়ে নেওয়া ও প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে কাজ চলছে।’

বন্যার পাশাপাশি উখিয়ার স্থানীয়দের বসবাসের অন্তত ৮টি স্থানে পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। তবে এখন পর্যন্ত এসব ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। প্রশাসন সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে এবং বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সোহাগ/রিফাত/

সিলেটে গত ২৪ ঘণ্টায় ৪ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত

প্রকাশ: ০৬ জুলাই ২০২৬, ০৬:১৭ পিএম
সিলেটে গত ২৪ ঘণ্টায় ৪ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত
এডিস মশা। ছবি: সংগৃহীত

সিলেটে গত ২৪ ঘণ্টায় ৪ জনের শরীরে ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে।

সোমবার (৬ জুলাই) সিলেট স্বাস্থ্য বিভাগ এ তথ্য জানিয়েছে। 

স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ১ জানুয়ারি থেকে আজ পর্যন্ত মোট ৬৭ জন রোগী ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা মোট ৬ জন। তারমধ্যে হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে ১ জন, হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১ জন, সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজে হাসপাতালে ৩ জন ও মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে ১ জন।

সিলেটে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসায় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২০টি শয্যা বিশিষ্ট একটি ডেঙ্গু কর্নার খোলা আছে।

এ ব্যাপারে সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক ডা. মাহবুবুল আলম বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেট বিভাগে ৪ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন। তবে এতে উদ্বিগ্ন হতে হবে না, কারণ সিলেটে ডেঙ্গুর প্রার্দুভাব নেই। তবে এ ব্যাপারে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।

নাঈম/

সোনারগাঁয় ‘ওয়ান স্টুডেন্ট, ওয়ান ট্রি’ কর্মসূচির উদ্বোধন

প্রকাশ: ০৬ জুলাই ২০২৬, ০৬:১৪ পিএম
সোনারগাঁয় ‘ওয়ান স্টুডেন্ট, ওয়ান ট্রি’ কর্মসূচির উদ্বোধন
সোনারগাঁ স্টেডিয়ামে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের মাঝে গাছের চারা বিতরণ। ছবি: খবরের কাগজ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঘোষিত দেশব্যাপী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে ‘ওয়ান স্টুডেন্ট, ওয়ান ট্রি’ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে।

সোমবার (৬ জুলাই) সকাল ১১টায় সোনারগাঁ স্টেডিয়ামে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের মাঝে ২০ হাজার গাছের চারা বিতরণের মাধ্যমে এই কর্মসূচির শুভ সূচনা করা হয়। পরিবেশ সুরক্ষায় শিক্ষার্থীদের উদ্বুদ্ধ করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক রায়হান কবির এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নান।

পরিবেশ রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা এবং সবুজ শ্যামল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে এ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি আজহারুল ইসলাম মান্নান বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ৫ বছরে দেশব্যাপী ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ করার যে মহতী উদ্যোগ নিয়েছেন, সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখে সোনারগাঁ উপজেলায় আমরা ২ লক্ষ বৃক্ষরোপণের কর্মসূচি হাতে নিয়েছি।

আমি শিক্ষার্থীদের আহ্বান জানাবো, তোমরা আজকের এই চারা গাছগুলো নিজ নিজ বাড়িতে যত্নসহকারে রোপণ করবে। এই গাছই একদিন বড় হয়ে আমাদের অক্সিজেন দেবে, জীবন বাঁচাবে এবং আমাদের প্রিয় মাতৃভূমিকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে রক্ষা করবে।

অনুষ্ঠানে তিনি আরও বলেন, উন্নয়নের পাশাপাশি প্রকৃতির সুরক্ষায় প্রধানমন্ত্রীর গৃহীত প্রতিটি পদক্ষেপ বাস্তবায়নে আমরা সোনারগাঁবাসী ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে যাব। একটি সুস্থ ও সুন্দর প্রজন্ম গড়ার লক্ষ্যে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান মুন্সি, সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসিফ আল জিনাত, সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গোলাম সারোয়ার, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম, উপজেলা প্রকৌশলী আলমগীর চৌধুরী।

এসময় আরও বক্তব্য রাখেন সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেন, সিনিয়র সহসভাপতি কাজী নজরুল ইসলাম টিটু, পৌর বিএনপির সভাপতি শাহজাহান মিয়া, সাধারণ সম্পাদক মোতালেব হোসেন, যুগ্ম সম্পাদক আতাউর রহমানসহ অনেকেই।

ইমরান/এএফ 

গৌরীপুরে ১০ দিনে ৩ খুন: জনমনে আতঙ্ক

প্রকাশ: ০৬ জুলাই ২০২৬, ০৫:৪৯ পিএম
গৌরীপুরে ১০ দিনে ৩ খুন: জনমনে আতঙ্ক
ছবি: সংগৃহীত

ময়মনসিংহের গৌরীপুরে মাত্র ১০ দিনের ব্যবধানে তিনটি নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। একের পর এক খুনের ঘটনায় স্থানীয় সাধারণ মানুষের মনে তীব্র আতঙ্ক বিরাজ করছে। তবে প্রশ্ন উঠছে, এখন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির এমন অবনতি নিয়ে।

সবশেষ রবিবার (৫ জুলাই) রাতে উপজেলার বয়রা বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে ময়মনসিংহের হাওয়ার রেস্টুরেন্ট ও পার্টি সেন্টারের কর্মকর্তা আব্দুল বারেক আকন্দ ওরফে মজনু মুন্সি (৫৫) নামে এক ব্যক্তিকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।

চন্দ্রপাড়া সড়কে এ ঘটনা ঘটে। হত্যাকাণ্ডের পর নিহতের মোবাইল ফোন থেকেই তার মেয়ে বৃষ্টির নাম্বারে কল দিয়ে একজন বলে, ‘তর বাবারে মারতাম চাইছিলাম না, কিন্তু মইরা গেছে।’ পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত মজনু মুন্সির ছেলে, মাজহারুল ইসলাম আকাশ দাবি করেন, ছিনতাইকারীদের চিনে ফেলায় তার বাবাকে হত্যা করা হয়েছে এবং মৃত্যুর আগে তিনি পশ্চিম পাড়ার তিন কিশোরের এই ঘটনায় জড়িত থাকার কথা জানিয়ে গেছেন।

এদিকে, গত ৩০ জুন গৌরীপুর পৌর শহরের বাসস্ট্যান্ড এলাকায় উপজেলা শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সহসভাপতি মানিক মিয়া (৪৪) কে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় ২ জুলাই রাতে নিহতের স্ত্রী সুমাইয়া আক্তার সেলিনা ৮ জনের নামে অজ্ঞাতনামা কয়েক জনকে আসামি করে মামলা করেন।

পরে এ ঘটনায় অভিযুক্ত ময়মনসিংহ উত্তর জেলা যুবদলের সহ সাধারণ সম্পাদক শোয়েব মুন্সী, গৌরীপুর উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আল ইমরান খান ও গৌরীপুর সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজের সাধারণ সম্পাদক রিফাত খানকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত এখন পর্যন্ত কোনো আসামি গ্রেপ্তার হয়নি।

এর আগে, গত ২৫ জুন উপজেলার ভাংনামারী ইউনিয়নের বারুয়ামারী গ্রামের একটি বিল থেকে আলিফ মাহমুদ (২২) নামে এক গার্মেন্টসকর্মীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

নিহত আলিফ ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার ঠাকুরগাঁও সড়ক এলাকার গোলাম মোস্তফার ছেলে এবং তিনি গাজীপুরের একটি পোশাক কারখানায় কর্মরত ছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই দিন সকালে বারুয়ামারী গ্রামের এক কৃষক বেগুনখেতে কাজ করতে যাওয়ার সময় বিলে এক যুবকের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে।

গৌরীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবিবুর রহমান বলেন, গার্মেন্টসকর্মীকে গাজীপুর থেকে হত্যা করে ভাংনামারীর বারুয়ামারী এলাকায় ফেলে রেখে যায়, এই ঘটনার তথ্য উদ্‌ঘাটন করতে পুলিশ কাজ করছে।

তবে টানা তিনটি খুনে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। তবে তিনটি ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো আসামি গ্রেপ্তার করা হয়নি।  মানিক হত্যার আসামি ধরার জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

তবে সবশেষ ৫ জুলাই মজনু হত্যার ঘটনায় পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এএফ/

চট্টগ্রামে পাহাড়ধসের ঝুঁকি, বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ

প্রকাশ: ০৬ জুলাই ২০২৬, ০৫:৩২ পিএম
আপডেট: ০৬ জুলাই ২০২৬, ০৫:৩৭ পিএম
চট্টগ্রামে পাহাড়ধসের ঝুঁকি, বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ
ফাইল ফটো

নিম্নচাপের কারণে টানা বৃষ্টিতে চট্টগ্রামে পাহাড়ধসের আশঙ্কায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে মাইকিং করছে জেলা প্রশাসন।

সোমবার (৬ জুলাই) সকাল থেকে নগরের বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকায় জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে মাইকিং করে সতর্ক বার্তা দেওয়া হয়।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন জানায়, আকবরশাহ ঝিল ১, ২ ও ৩ নম্বর, বিজয়নগর পাহাড়, শান্তিনগর পাহাড়, বেলতলীঘোনা পাহাড়, টাংকির পাহাড়, আমিন জুট মিল এলাকা, পাহাড়িকা, সমবায় আবাসিক এলাকা, মিয়ার পাহাড়, মুরাদপুর রেলস্টেশন-সংলগ্ন রেলওয়ের পাহাড়, মতিঝর্ণা, লালখান বাজারের পোড়া কলোনি, ঢেবারপাড়, আমবাগান এবং উত্তর হালিশহর উপকূলসংলগ্ন এলাকায় বিশেষভাবে মাইকিং করে বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

উড়িষ্যা ও তৎসংলগ্ন দক্ষিণ ঝাড়খন্ড এলাকায় অবস্থানরত মৌসুমি স্থল নিম্নচাপের প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এ পরিস্থিতিতে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। একইসঙ্গে উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।  

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, উক্ত এলাকায় আবহাওয়া অধিদপ্তর ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত জারি করেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে পাহাড়ধসের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। তাই মাইকিং করে ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ে বসবাসকারীদের আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যাওয়ার জন্য বলা হচ্ছে। মানুষের জানমাল রক্ষায় জেলা প্রশাসনের কয়েকটি দল মাঠে কাজ করছে। মাইকিংয়ের পাশাপাশি মানুষকে ঝুঁকিপূর্ণ স্থান থেকে সরে যাওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে এবং ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি এলাকা থেকে বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এছাড়াও পাহাড়সংলগ্ন স্কুল, কলেজ, মসজিদ ও মাদ্রাসাগুলোকেও অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

নাঈম/