চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে জঙ্গলসলিমপুর পাহাড়ি এলাকা দখল ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনায় গুলিবিদ্ধ আরও এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। নিহত যুবকের নাম মাঈন উদ্দিন (৩০)।
হামলা ও গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত মাঈন উদ্দিন ১৩ দিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে সোমবার (১৩ অক্টোবর) রাত ১টার সময় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান।
গত ৪ অক্টোবর ইয়াছিন বাহিনীর দখলে থাকা জঙ্গলসলিমপুর বিশাল পাহাড়ি এলাকায় দখল করতে যাওয়া সশ্রস্ত্র রোকন বাহিনীর সংঘর্ষের ঘটনায় ঘটনাস্থলে খলিলুর রহমান কানু নামে এক যুবক গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যায়। এতে গুলিবিদ্ধ ১৪ জনের মধ্যে চিকিৎসাধীন মাঈন উদ্দিন সোমবার রাতে মারা যায়। ফলে সংঘর্ষের ঘটনায় এ পযন্ত দুই জনের মৃত্যু হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
নিহত মঈন উদ্দিন নোয়াখালী জেলার বেগমগঞ্জ থানার হয়নী বাজার ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ড লক্ষণপুর গ্রামের মোহাম্মদ হারুনের ছেলে। দীর্ঘদিন ধরে সে চট্টগ্রাম নগরীর অক্সিজেন ২ নং জালাবাদ বায়েজিদ বোস্তামী এলাকায় বসবাস করে আসছে।
সীতাকুণ্ড মডেল থানায় করা মামলায় নিহত মঈন উদ্দিনের ভাই মামলা বাদি মোহাম্মদ আলমগীর উল্লেখ করেন, মাঈন উদ্দিন একটি বেসরকারি কোম্পনিতে চাকরি করতেন, বর্তমানে সে বেকার। ৩ অক্টোবর ঘর থেকে বের হয়ে জঙ্গলসলিমপুর পাহাড়ি এলাকায় ঘোরাঘুরি করতে যায়। কিন্ত এক দিন পেরিয়ে গেলেও তিনি বাসায় না আসাতে বিভিন্ন জায়গা খোঁজাখুজি করি। ৫ অক্টোবর সন্ধ্যায় অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তি মোবাইল ফোনের মাধ্যমে জানায় মাঈন উদ্দিন চট্টগ্রাম মেডিকেল হাসাপাতালে ভর্তি আছে। পরবর্তীতে হাসপাতালের ৫ম তলা তলায় ২৮ নং ওয়ার্ড এ ফ্লোরে চিকিৎসা অবস্থায় পাওয়া যায় তাকে।
মাঈন উদ্দিন তার ভাই আলাউদ্দিনকে জানিয়েছেন, ৩ অক্টোবর সীতাকুণ্ডের জঙ্গলসলিমপুর এলাকায় ঘুরতে যায়। এ সময় রোকন বাহিনী ও ইয়াছিন বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা চলছিল। রোকন বাহিনী তাকে (মাঈন উদ্দিন) ইয়াছিন বাহিনীর লোক মনে করে মারধর ও হামলা করে। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে মুমূর্ষুবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে যায়।
এ ঘটনায় রোকন বাহিনীর প্রধান রোকনসহ ১১ জন সুনিদিষ্ট ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। অজ্ঞাত ২৫-৩০জন বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
সংঘের্ষের ঘটনায় দৈনিক খবরের কাগজসহ একাধিক পত্রিকায় তথ্যবহুল প্রতিবেদন প্রকাশ করে। প্রতিবেদনে উঠে আসেছে ইয়াছিনের বাহিনী ও রোকন বাহিনীর আধিপত্য ও দখলদাত্বের তথ্য। ৪ অক্টোবর ইয়াছিন বাহিনীর পাহাড়ি এলাকার দূর্গে রোকন বাহিনীর থাবা। রোকন বাহিনীর সংঘর্ষের চারস্থরের পরিকল্পনার নকশাও।
মুসলেহ উদ্দীন/মৌসুমী/