সি হর্স বা সামুদ্রিক ঘোড়া বিস্ময়কর এক সামুদ্রিক প্রাণী। দেখতে অনেকটা ঘোড়ার মাথার মতো হলেও এটি এক ধরনের মাছ। সি হর্সের জীবনধারা এবং আচরণ অন্যান্য মাছের তুলনায় অনেকটাই ভিন্ন। সি হর্সের আকৃতি ছোট এবং তাদের দেহ সরু। ওদের মুখটা দেখতে ঘোড়ার মতো, তবে দেহটা অন্যরকম। পিঠে মাছের মতো পাখনা রয়েছে। তাদের দেহ আড়ষ্ট এবং কড়া কাঠামোর মতো শক্ত। সি হর্সের গায়ের ওপর বিভিন্ন রঙের প্যাটার্ন বা চিহ্ন দেখা যায়, যা তাদের পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে চলতে সাহায্য করে।
বেশির ভাগ মাছ সাঁতারে দারুণ পারদর্শী হলেও সি হর্সদের সাঁতার কাটার ক্ষমতা খুব দুর্বল। এরা ধীরে ধীরে সাঁতরায়। এরা লেজ দিয়ে সামুদ্রিক গাছ বা জলজ উদ্ভিদ আঁকড়ে ধরে থাকে, যেন জোয়ারের সময় ভেসে না যায়। সি হর্স সাধারণত স্থির থাকতে পছন্দ করে।
শিকার কাছাকাছি এলে খুব ধীরে ধীরে তাদের দিকে এগিয়ে যায়। সি হর্স প্রধানত ছোট ছোট সামুদ্রিক প্রাণী, যেমন প্ল্যাংকটন এবং কেঁচোজাতীয় জীব খেয়ে বেঁচে থাকে। তাদের মুখ অনেক সরু এবং তারা খাবার গ্রহণ করে বিশেষ এক প্রক্রিয়ায়। যখন শিকার তাদের কাছে আসে, তারা দ্রুত তাদের মুখ দিয়ে শিকারটিকে টেনে নেয়।
সি হর্সের প্রজনন প্রক্রিয়া অন্য সব মাছের চেয়ে একেবারে আলাদা এবং আজব। স্ত্রী সি হর্স ডিম পাড়ে এবং পুরুষ সি হর্সের পেটে থাকা বিশেষ থলিতে ডিমগুলো রাখে। নির্দিষ্ট সময় পরে পুরুষ সি হর্সের থলি থেকে ছানা বেরিয়ে আসে। এটি প্রাণিজগতে এক বিরল বৈশিষ্ট্য।
সি হর্স পৃথিবীর বিভিন্ন উষ্ণ এবং সমুদ্র উপকূল এলাকায় পাওয়া যায়। তারা সাধারণত সমুদ্রের আগাছা, প্রবালপ্রাচীর এবং অন্যান্য জলজ উদ্ভিদের ভেতর নিজেদের লুকিয়ে রাখে, শিকারের হাত থেকে বাঁচার জন্য।
সি হর্সের বাসস্থান ধ্বংস, জলবায়ুর পরিবর্তন এবং মানুষের কার্যকলাপের কারণে তাদের সংখ্যা ক্রমাগত কমে যাচ্ছে। এ ছাড়া ঐতিহ্যগত ঔষধি কাজে ব্যবহারের জন্য সি হর্স অনেক সময় ধরা হয়। তাদের সংরক্ষণ করা খুব জরুরি, কারণ তারা সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।