জলধেনু (Dugong) এক অদ্ভুত সুন্দর সামুদ্রিক প্রাণী। দেখতে অনেকটা বড় গরুর মতো, তবে ওরা থাকে সমুদ্রে! এজন্য অনেকে ওদের বলে ‘সমুদ্রের গাভি’। আবার মালয় ভাষায় ওদের নামের মানে ‘সমুদ্রের ভদ্রমহিলা’।
জলধেনুরা সামুদ্রিক ঘাস খায়। এদের পেট এতটাই বড় যে দিনে প্রায় ৪০ কেজি ঘাস খেয়ে ফেলে। কিন্তু সমুদ্রের ঘাস ধীরে ধীরে বাড়ে, তাই জলধেনুদের নতুন খাবারের খোঁজে অনেক দূর সাঁতার কাটতে হয়।
এই প্রাণীটি Dugongidae নামের পরিবারে একমাত্র জীবিত সদস্য। এদের সবচেয়ে কাছের আত্মীয় ছিল স্টেলার জলধেনু, যেটি অনেক বছর আগেই বিলুপ্ত হয়েছে।
জলধেনু দেখতে মাছের মতো হলেও আসলে এটি একটি স্তন্যপায়ী প্রাণী। মানে, এরা ডাঙার প্রাণীর মতোই দুধ খাওয়ায় বাচ্চাদের। বাচ্চা জলধেনু মায়ের সঙ্গে থেকে এক বছর পর্যন্ত দুধ খায় এবং ধীরে ধীরে ঘাস খাওয়া ও অন্য সামাজিক আচরণ শিখে নেয়।
প্রাপ্তবয়স্ক জলধেনু প্রায় ২.৫ থেকে ৩ মিটার লম্বা এবং ওজন হয় ২৫০ থেকে ৯০০ কেজি পর্যন্ত। এদের চামড়া মোটা ও মসৃণ, তবে মাঝেমধ্যে নৌকার ধাক্কা বা পাথরের আঘাতে দাগ পড়ে যায়।
জলধেনুরা সাধারণত একা থাকতে ভালোবাসে, তবে কখনো কখনো জোড়ায় বা তিন থেকে ছয়জনের ছোট দলে ঘুরে বেড়াতে দেখা যায়। ওরা গরম পানি পছন্দ করে, তাই বিশ্বের প্রায় ৩৭টি দেশের উপকূলীয় উষ্ণ সমুদ্রে এদের দেখা যায়। অস্ট্রেলিয়া, ভারত, শ্রীলঙ্কা ও আন্দামান দ্বীপপুঞ্জে এখনো জলধেনু দেখা যায়।
তবে দুঃখের কথা হলো, জলধেনুর সংখ্যা দিন দিন কমে যাচ্ছে। সমুদ্র দূষণ, অতিরিক্ত মাছ ধরা, নৌকার ধাক্কা, তেল পড়া, কীটনাশকের প্রভাবে এদের জীবন বিপন্ন হয়ে উঠেছে। আবার অনেক সময় মানুষ এদের মাংস ও তেলের জন্যও মেরে ফেলে।
এদের রক্ষার জন্য কিছু দেশ বিশেষ নিয়ম তৈরি করেছে। যেমন: জলধেনুর বাসস্থান সুরক্ষিত রাখা, সামুদ্রিক ঘাসের খেত আবার গড়ে তোলা, স্থানীয় মানুষকে এই কাজে যুক্ত করা ইত্যাদি। জলধেনু খুবই ধীর ও শান্ত প্রাণী। ওরা কাউকে কষ্ট দেয় না। তাই আমাদের সবার উচিত ওদের রক্ষা করা।