রাতের আকাশে যখন আমরা তাকাই, তখন দেখি অগণিত তারা ঝলমল করছে। কিন্তু তুমি কি জানো, এদের অনেকই আমাদের গ্যালাক্সির বাইরের? আমাদের পৃথিবী যেই গ্যালাক্সিতে আছে, তার নাম ‘মিল্কিওয়ে’ বা ‘আকাশগঙ্গা’। আর এই আকাশগঙ্গার সবচেয়ে কাছের বড় গ্যালাক্সি হলো অ্যান্ড্রোমিডা। চলো আজ এই বিশাল ও সুন্দর গ্যালাক্সি সম্পর্কে কিছু চমকপ্রদ তথ্য জানি!
কোথায় আছে অ্যান্ড্রোমিডা গ্যালাক্সি
অ্যান্ড্রোমিডা গ্যালাক্সি পৃথিবী থেকে প্রায় ২৫ লাখ আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত। ‘আলোকবর্ষ’ মানে হলো, আলো এক বছরে যত দূর যায়, যা প্রায় ৯ দশমিক ৪৬ ট্রিলিয়ন কিলোমিটার! ভাবো তো, এমন দূরত্ব যে আলোও পৌঁছাতে লাগে ২৫ লাখ বছর! এটি আকাশে অ্যান্ড্রোমিডা নামের একটি নক্ষত্রমণ্ডলের দিকে দেখা যায়, তাই এর নাম রাখা হয়েছে অ্যান্ড্রোমিডা।
এটি দেখতে কেমন
অ্যান্ড্রোমিডা একটি স্পাইরাল গ্যালাক্সি, ঠিক আমাদের আকাশগঙ্গার মতো। এর মাঝখানে উজ্জ্বল একটি কেন্দ্র আছে, যেখান থেকে ঘূর্ণি আকারে বাহু ছড়িয়ে গেছে। প্রতিটি বাহুতে রয়েছে অসংখ্য তারা, গ্রহ, ধূলিকণা আর গ্যাসের মেঘ। বিজ্ঞানীরা বলেন, অ্যান্ড্রোমিডায় অন্তত ১ ট্রিলিয়ন তারা আছে- আমাদের গ্যালাক্সির থেকেও বেশি!
যদি তুমি খুব অন্ধকার রাতে দূরবিন ছাড়াই আকাশের দিকে তাকাও, তবে একে ছোট মেঘের মতো দেখতে পাবে। মনে হবে যেন আকাশে দুধের মতো আলো ছড়িয়ে আছে।
সেখানে কী আছে
অ্যান্ড্রোমিডায় অনেক তারা ও গ্রহ রয়েছে। হয়তো কোথাও আমাদের মতো গ্রহও আছে, যেখানে প্রাণ থাকতে পারে- যদিও সেটা আমরা এখনো জানি না। বিজ্ঞানীরা দূরবিন দিয়ে এই গ্যালাক্সির অনেক নতুন তারা, নক্ষত্রগুচ্ছ এবং গ্রহের জন্মস্থান আবিষ্কার করেছেন। এটি ক্রমে আকারে বড় হচ্ছে এবং তারকা তৈরি করাও চলছে অবিরাম।
ভবিষ্যতে কী হবে
বিজ্ঞানীরা জানান, প্রায় ৪০০ কোটি বছর পর অ্যান্ড্রোমিডা গ্যালাক্সি আমাদের মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির সঙ্গে ধাক্কা খাবে! কিন্তু ভয় পেও না- তখন আমরা থাকব না, আর এত দূরের ঘটনা পৃথিবীর জন্য ক্ষতিকরও হবে না। এই ধাক্কায় দুটি গ্যালাক্সি মিশে এক বিশাল নতুন গ্যালাক্সিতে পরিণত হবে, যাকে বিজ্ঞানীরা ‘মিল্কোমিডা’ নাম দিয়েছেন। শুনে কি একটু গল্পের মতো লাগছে না?
মহাবিশ্বের বিস্ময়
অ্যান্ড্রোমিডা গ্যালাক্সি আমাদের মনে করিয়ে দেয়, মহাবিশ্ব কত বিশাল আর রহস্যময়! আমরা যতই দূরে তাকাই, ততই নতুন কিছু আবিষ্কার হয়। প্রতিটি তারা, প্রতিটি গ্যালাক্সি যেন মহাবিশ্বের একেকটি গল্প বলে। হয়তো ভবিষ্যতে তোমাদের মধ্য থেকেই কেউ একজন জ্যোতির্বিজ্ঞানী হয়ে এই বিশাল মহাকাশের আরও রহস্য উদঘাটন করবে।