ঢাকা ১৫ ফাল্গুন ১৪৩০, বুধবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪
Khaborer Kagoj

নতুন মালিকানায় পদ্মা প্রিন্টার্স হচ্ছে প্রযুক্তিনির্ভর প্রতিষ্ঠান

প্রকাশ: ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০২:১০ পিএম
নতুন মালিকানায় পদ্মা প্রিন্টার্স হচ্ছে প্রযুক্তিনির্ভর প্রতিষ্ঠান

পুঁজিবাজারে তালিকাভু্ক্ত কাগজ ও মুদ্রণ খাতের প্রতিষ্ঠান পদ্মা প্রিন্টার্স অ্যান্ড কালার লিমিটেডের মালিকানা পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির নামও পরিবর্তন হয়েছে। একই সঙ্গে পরিবর্তন হচ্ছে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসার ধরন। এখন থেকে মুদ্রণ খাতের প্রতিষ্ঠানটির মূল ব্যবসা হবে তথ্যপ্রযুক্তিকেন্দ্রিক। 

প্রতিষ্ঠানটি নতুন মালিকানায় এসেছে এলআর গ্লোবাল। নতুন মালিকপক্ষ গতবছর পদ্মা প্রিন্টার্স অ্যান্ড কালার লিমিটেডের নাম পরিবর্তন করে কোয়েস্ট বিডিসি লিমিটেড নামকরণ করে। একই সঙ্গে নতুন করে ৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগের পর প্রতিষ্ঠানটিকে তথ্য ও প্রযুক্তি খাতের প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত করার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে।

পদ্মা প্রিন্টার্সের আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে পুরোনো স্পনসর-পরিচালকদের কাছ থেকে ২৮৯ কোটি ৪৮ লাখ টাকা বিনিয়োগ করে ৫১ শতাংশ শেয়ার অধিগ্রহণ করেছে। পদ্মা প্রিন্টার্স অ্যান্ড কালার লিমিটেডের নতুন নামকরণ করার পর এখন কোয়েস্ট বিডিসি নামে ঢাকা এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির মূল ব্যবসা মুদ্রণ এবং প্যাকেজিং ব্যবসার পাশাপাশি, কোয়েস্ট বিডিসি ব্যবসায়িক  কার্যক্রমে আউটসোর্সিং, সফ্টওয়্যার তৈরি, আর্থিক পরিষেবা এবং অন্যান্য ব্যবসায় বিনিয়োগের দিকে নজর দিচ্ছে। কোয়েস্ট বিডিসি  সূত্রে জানা গেছে এ খাতগুলোর মধ্যে আইটি খাত নির্ভর খাতগুলোর দিকে কর্তৃপক্ষ বেশি মনোযোগ দিচ্ছেন। 

এলআর গ্লোবাল বাংলাদেশ অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানির প্রধান বিনিয়োগ কর্মকর্তা (সিআইও) এবং কোয়েস্ট বিডিসির পরিচালক রিয়াজ ইসলামের খবরের কাগজকে বলেন, ‘পদ্মা প্রিন্টার্স অ্যান্ড কালার লিমিটেডের অধিকাংশ শেয়ার অধিগ্রহণ করে আমরা বোর্ডের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছি। এ জন্য প্রতিটি শেয়ারপ্রতি মূল্য ছিল ২৮৯ টাকা ৪৮ পয়সা।’ তারা প্রতিষ্ঠানটি অধিগ্রহণ করার পর ১০ টাকা মূল্যে ৫০ কোটি টাকার শেয়ার ইস্যু করার পর তাদের প্রতিটি শেয়ারর দাম পড়েছে ২০-২২ টাকা।

রিয়াজ ইসলাম বলেন, ‘কোয়েস্ট বিডিসি তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক পণ্যের ওপর জোর দিয়ে তার ব্যবসা পরিচালনা করবে। কারণ তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক পণ্যগুলো দ্রুত জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এসব পণ্যের রয়ছে বিপুল সম্ভাবনা।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এমন কিছু কোম্পানিতে তহবিল বিনিয়োগ করব, যাদের স্বাস্থ্যসেবা, আর্থিক পরিষেবা, কৃষি, আইটি এবং শিক্ষা খাত রয়েছে।’

পদ্মা প্রিন্টার্স অ্যান্ড কালার লিমিটেড আগের প্রযুক্তিতে প্রতিষ্ঠিত একটি পুরাতন প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসায় ধস নামার কারণে এবং সিকিউরিটিজ আইন মেনে না চলায় পদ্মা প্রিন্টার্স ২০০৯  সালে ওভার-দ্য-কাউন্টার প্ল্যাটফর্মে স্থানান্তরিত হয়।

২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) ওটিসি বোর্ডকে একটি এসএমই বোর্ড স্থাপনের পর ওটিসি বোর্ড বিপুল্প করা হয়। একই সঙ্গে এখানে লেনদেন হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর লেনদেন স্থগিত করা হয়। 

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন( বিএসইসি) সূত্রে জানা গেছে, এলআর গ্লোবাল ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে পদ্মা প্রিন্টার্স অ্যান্ড কালার লিমিটেডের আগের মালিকদের কাছে থাকা শেয়ার স্থানান্তর করার জন্য বিএসইসির কাছে লিখিত আবেদন করে।  এর পর  বিএসইসি  সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানিটিকে স্পনসর-পরিচালকদের পদ্মা প্রির্ন্টাসের  অংশীদারত্ব অর্জনের অনুমতি দেয়।

এলআর গ্লোবাল এর আবেদনের প্রেক্ষিতে পদ্মা প্রিন্টার্স অ্যান্ড কালার লিমিটেডের আগের মালিকদের কাছে থাকা ৮ লাখ ১৬ হাজার শেয়ার স্থানান্তর করার জন্য অনুমোদন প্রদান করে। অধিগ্রহণ করা প্রতিষ্ঠানগুলোর এলআর গ্লোবাল ছাড়াও ছয়টি মিউচুয়াল ফান্ড প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ডিবিএইচ ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, গ্রীন ডেল্টা মিউচুয়াল ফান্ড, এআইবিএল ১ম ইসলামিক এমএফ, এমবিএল ১ম মিউচুয়াল ফান্ড, এলআর গ্লোবাল বাংলাদেশ মিউচুয়াল ফান্ড ওয়ান এবং এনসিসিবিএল মিউচুয়াল ফান্ড।

বিএসইসির অনুমোদনের পর মোট অধিগ্রহণকৃত শেয়ারের মধ্যে ৩ লাখ ৩০ হাজার ৪৩টি শেয়ার নতুন মালিকদের কাছে স্থানান্তর করা হয়েছে। বাকি শেয়ারগুলো দ্রুত সময়ে স্থানান্তর করা হবে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

তথ্যে দেখা যায় এর আগে ২০২২ সালের মে মাসে এলআর গ্লোবাল মাসে ইন্টারনেট পরিষেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান অগ্নি সিস্টেমস লিমিটেডের ৮ দশমিক ৯৬ শতাংশ শেয়ার অধিগ্রহণ করে। এ ছাড়াও ২০১৯ সালে নিউজ পোর্টাল বিডি নিউজ২৪ ডটকম-এর শেয়ার কিনতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ টাকা বিনিয়োগের উদ্যোগ নেয়।

পদ্মা প্রিন্টার্স অ্যান্ড কালার লিমিটেডের শেয়ার নতুন মালিকের কাছে স্থানান্তরিত হওয়া আগে এবং কোয়েস্ট বিডিসিতে নাম পরিবর্তন পূর্বে প্রতিষ্ঠানটির মূল ব্যবসা ছিল মুদ্রণ, প্যাকেজিং, বিভিন্ন ধরনের বই, সাময়িকী এবং কাগজের জিনিসপত্র। এখন, নতুন মালিকানায় যাওয়ার পর তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক পণ্যগুলোতে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

কোয়েস্ট বিডিসির চেয়ারম্যান রেজাউর রহমান সোহাগ বলেন, ‘প্রতিষ্ঠানটিকে পুনরুজ্জীবিত করার পরিকল্পনার নিয়ে আমরা কোম্পানিটিকে অধিগ্রহণ করেছি। ইতোমধ্যে কোয়েস্ট বিডিসি আবার ব্যবসা শুরু করেছে।’ তিনি বলেন তারা বড় পরিকল্পনা করছেন। এবং আশা করছেন দ্রুত সময়ে প্রতিষ্ঠানটি সফল হবে।

তথ্য মতে, পদ্মা প্রিন্টার্স অ্যান্ড কালার লিমিটেডের মোট শেয়ারের মধ্যে উদ্যোক্তাদের হাতে ছিল ৫৪ শতাংশ বা ৮ লাখ ৬৪ হাজার শেয়ার। এর মধ্যে থেকে ৩ লাখ ৩০ হাজার ৪৩টি শেয়ার এলআর গ্লোবাল অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট লিমিটেডের কাছে বিক্রি করা হয়েছে। সে হিসবে উদ্যোক্তাদের হাতে থাকা শেয়ারের মধ্যে ২০ শতাংশের বেশি শেয়ার কিনেছে এলআর গ্লোবাল অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড। বাকি ৫ লাখ ৩৩ হাজার ৯৫৭টি শেয়ার কিনেছে বাকি ৬টি প্রতিষ্ঠান।

প্রসঙ্গত, পদ্মা প্রিন্টার্স অ্যান্ড কালার লিমিটেড পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয় ১৯৭৯ সালে। কোম্পানির পরিশোধিত মূলধন ১ কোটি ৬০ লাখ টাকা। ১০ টাকা অভিহিত মূল্য হিসেবে কোম্পানিটির মোট শেয়ার সংখ্যা ১৬ লাখ। এর মধ্যে কোম্পানিটির উদ্যোক্তা পরিচালকের হাতে ৫৪ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের হাতে ১০ শতাংশ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ৩৬ শতাংশ শেয়ার রয়েছে। ডিএসইতে পদ্মা প্রিন্টার্স অ্যান্ড কালার লিমিটেডের শেয়ার সর্বশেষ ১৬ দশমিক ৬০ টাকায় লেনদেন হয়েছে।

কলা চাষে দেলোয়ারের আয় বছরে ৪০ লাখ টাকা

প্রকাশ: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১১:৫০ এএম
কলা চাষে দেলোয়ারের আয় বছরে ৪০ লাখ টাকা
নিজ বাগানে কলার দেখভাল করছেন সফল চাষি সবুজ। ছবি : খবরের কাগজ

দেশি জাতের বিষমুক্ত কলা চাষের সঙ্গে সাথি ফসল হিসেবে মিষ্টিকুমড়া ও পেঁপে চাষ করে সাড়া ফেলেছেন লক্ষ্মীপুরের দেলোয়ার হোসেন সবুজ। 

১০ একর জমি বর্গা নিয়ে কলা চাষ করে সবুজ প্রথম বছরে বিক্রি করেন ৩৭ লাখ টাকার। চাষের দ্বিতীয় বছর অর্থাৎ এ বছর তিনি ৪০ লাখ টাকার কলা বিক্রি করতে পারবেন বলে আশাবাদী।  

সবুজই একমাত্র চাষি যিনি লক্ষ্মীপুরে প্রথমবারের মতো বাণিজ্যিকভাবে কলা চাষ শুরু করেছেন। কলা চাষের পাশাপাশি এ মৌসুমে ৩ একর জমিতে উচ্চ ফলনশীল জাতের পেঁপে চাষ করেছেন। সাথি ফসল হিসেবে জমিতে মিষ্টিকুমড়া লাগিয়েছেন। মিষ্টিকুমড়ার ফলনও ভালো হয়েছে। ইতোমধ্যে মিষ্টিকুমড়া বাজারে বিক্রি করতে শুরু করেছেন। কুমড়া বিক্রি থেকে এক লাখ টাকা আয় করতে পারবেন বলে ধারণা করছেন। অপরদিকে আগামী দুই মাসের মধ্যে তার পেঁপেগাছ ফলন দিতে শুরু করবে। ফলন ভালো হলে ১২ মাসি এই পেঁপে থেকে প্রতি মাসে লাখ টাকার ওপরে আয় করতে পারবেন বলে জানান সবুজ। 

সবুজের কলা ও পেপে চাষ জেলার বেকার যুবকদের আগ্রহী করে তুলেছে। তার অনুপ্রেরণায় অনেকেই কলা চাষের জন্য আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। সবুজের কাছ থেকে চারা ও পরামর্শ নিচ্ছেন। 

সদর উপজেলার নলডগি গ্রামের বাসিন্দা দেলোয়ার হোসেন সবুজ পেশায় একজন দর্জি ছিলেন। কিন্তু সে পেশায় সুবিধা করতে না পেরে নতুন কিছু করার চিন্তা করতে থাকেন। একসময় ইউটিউবের এক ভিডিওতে কলা চাষের ধারণা পান। 

জমি বর্গা নিয়ে এবং নড়াইল থেকে কলার বীজ এনে শুরু করেন কলা চাষ। গাছের পরিচর্যা বিষয়ে আগে থেকে প্রশিক্ষণ না থাকায় তার পক্ষে সঠিক পদ্ধতিতে চাষ করা কঠিন হয়ে পড়ে। স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তারাও তাকে সহযোগিতা করতে পারেননি।

ইউটিউবে বিভিন্ন ভিডিও দেখে নিজের অভিজ্ঞতা বাড়াতে থাকেন। চালিয়ে যেতে থাকেন বাগানের পরিচর্যা। একসময় সবুজের কলা বাগান স্থানীয় বাসিন্দাদের অবাক করে তোলে। গাছে গাছে দেখা যায় শত শত কলার ছড়ি। সবুজের কলার বাগানের সুনাম পৌঁছে যায় জেলা কৃষি অফিসের কর্মকর্তাদের কাছে। কলার বাগান দেখতে আসেন জেলা কৃষি কর্মকর্তা জাকির হোসেন। তিনি পরামর্শ ও সার দিয়ে সহযোগিতা করেন। 

সবুজ জানান, ইতোমধ্যে কলা বিক্রির আয় দিয়ে জমির মালিকের বর্গার টাকা, বাবার রেখে যাওয়া ঋণ শোধ করেছেন। 

কলাচাষি সবুজ জানান, কলা ও পেঁপে ১২ মাসি ফসল। একবার চাষ করলে ১২ মাসই ফলন পাওয়া যায়। প্রতি সপ্তাহে উৎপাদিত ফসল বিক্রি করা যায়। কলা চাষে তিনি কোনো ধরনের রাসায়নিক ব্যবহার করেন না। বেশির ভাগ সময় গাছে পাকা কলা বিক্রির চেষ্টা করেন। বর্তমানে তার বাগানে ৫ থেকে ৬ জন শ্রমিক নিয়মিত কাজ করছেন। এখন তিনি নতুন চাষিদের পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করতে পারছেন। 

লক্ষ্মীপুর জেলা কৃষি কর্মকর্তা ড. জাকির হোসেন বলেন, ‘আমরা সবুজের কলা চাষের তথ্য পেয়ে তার বাগান পরিদর্শনে গিয়েছি। তাকে সারসহ সব ধরনের সহযোগিতা করা হচ্ছে। তার হাত ধরে বাণিজ্যিকভাবে লক্ষ্মীপুরে নতুন করে কলা চাষ শুরু হয়েছে। তার কলাবাগান লক্ষ্মীপুরের বেকার যুবকদের প্রেরণা হিসেবে কাজ করছে। সবুজের মতো যুবকরা স্থানীয়ভাবে কলা চাষে এগিয়ে এলে এ জেলার কলার চাহিদা পূরণ হবে। বর্তমানে এ জেলার চাহিদা পূরণ করতে নরসিংদী ও নড়াইল থেকে কলা নিয়ে আসেন ব্যবসায়ীরা। এতে দামও বেশি পড়ে এবং বিষমুক্ত কলাও পাওয়া যায় না।

ঈশ্বরদীতে কেঁচো সারে আগ্রহ বাড়ছে

প্রকাশ: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১১:৪২ এএম
ঈশ্বরদীতে কেঁচো সারে আগ্রহ বাড়ছে
চালনিতে ছেঁকে সার পরিষ্কার করছেন এলিমি নাসরিন (ডানে) ও তার সহযোগী

ভার্মি কম্পোস্ট বা কেঁচো সার উৎপাদনে আগ্রহী হচ্ছেন পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার কৃষকরা। প্রতিমণে প্রায় ৩৫০ টাকার করছেন এখানকার সার উৎপাদনকারীরা।

২০১৬ সালের মাঝামাঝিতে স্থানীয় কৃষি বিভাগের একটি প্রশিক্ষণের অংশ নেওয়ার পর সিআইজি (কমন ইন্টারেস্ট গ্রাউন্ড) সদস্য হন এমিলি নাসরিন। সেখানে ভার্মি কম্পোস্ট বা কেঁচো সার তৈরি সম্পর্কে জানতে পারেন।

উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শ ও সহযোগিতায় ভার্মি কম্পোস্ট বা কেঁচো সার উৎপাদনব্যবস্থা গড়ে তোলে। ২০১৭ সালের শুরুতে কেঁচো সার উৎপাদনে সফলতা পান এমিলি নাসরিন। কেঁচো সার উৎপাদন করে সংসারে সচ্ছলতা আনার পাশাপাশি দুই ছেলেকে লেখাপড়া করাচ্ছেন। কেঁচো সার বিক্রি করে এমিলি নাসরিনের  সামনে এগিয়ে যাওয়া দেখে গ্রামের অন্য নারীরাও এ কাজে উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন। 

কেঁচো সার ব্যবহারে জমির উর্বরতা বাড়ে, যথাসময়ে ফসল উৎপন্ন হয়। সব ধরনের ফসলি জমিতে এই সার ব্যবহার করা যায়।

পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার সলিমপুর ইউনিয়নের বড়ইচারা হাটের ঈদগাহ পাড়ায় এমিলি নাসরিনের বাড়ি। বাড়ির চারপাশে সিমেন্টের তৈরি রিং বসিয়ে ভার্মি কম্পোস্ট বা কেঁচো সার উৎপাদনের ব্যবস্থা গড়ে তুলেছেন তিনি। স্বামী, দুই ছেলে নিয়ে তার সংসার। স্বামী আহমেদুর রহমান একটি কিন্ডার গার্টেনে শিক্ষকতা করতেন। তবে বর্তমানে কৃষিকাজের পাশাপাশি স্ত্রীকে ভার্মি কম্পোস্ট সার উৎপাদনে সহযোগিতা করেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, এমিলি নাসরিন তার বাড়ির সামনে টিনের ছাউনি দেওয়া গোয়ালঘরের মতো ঘরে সারিবদ্ধভাবে সিমেন্টের তৈরি রিং বসিয়ে কেঁচো সার তৈরি করছেন। এমন সময় কথা হয় এই নারী উদ্যোক্তার সঙ্গে।

এমিলি নাসরিন বলেন, ‘গোবর, কেঁচো দিয়ে সার তৈরি করার কথা মনে করে প্রথমে খারাপ লেগেছিল। কিন্তু আস্তে আস্তে খারাপ লাগাটা দূর হতে থাকে। দৃঢ় মনোবলে একটি থেকে ৬৫টি রিং বসিয়ে ভার্মি কম্পোস্ট বা কেঁচো সার তৈরি করছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘এক ট্রলি গোবরের দাম ১ হাজার ৫০০ টাকা। এক ট্রলি গোবর ২০টি রিংয়ে রাখা হয়। ১৫ থেকে ২০ দিন পর প্রতি রিং থেকে ১ মণ কেঁচো সার উৎপন্ন হয়। প্রতিমণ সার উৎপন্নে খরচ হয় ৫০ থেকে ৬০ টাকা। বিক্রি করা হয় এক মণ ৪০০ টাকায়। প্রতিমণে লাভ হয় ৩৫০ টাকা।

ঈশ্বরদী উপজেলার কৃষক ছাড়া আশেপাশের এলাকার কৃষকরা এসে কেঁচো সার কিনে নিয়ে যান। এ ছাড়া ঈশ্বরদীতে যেসব কৃষক বিশেষায়িতভাবে রূপপুর প্রকল্পে কর্মরত রাশিয়ানদের জন্য সবজি উৎপাদন করেন তারাও এই সার কিনে নিয়ে যান। 

এমিলি নাসরিন জানান, এই সার উৎপন্নে তেমন কোনো ঝামেলা নেই। গোবর ভরে এরপর কেঁচো রেখে রিং ঢেকে রাখা হয়। মাঝে মাঝে শুধু রিংয়ের ঢাকনি সরিয়ে কেঁচো ঠিকমতো আছে কি না, দেখা হয়। এভাবে ১৫ থেকে ২০ দিন যাওয়ার পর রিং থেকে সার বের করে তা চালনিতে ছেঁকে পরিষ্কার করে বস্তায় ভরা হয়। 

এই নারী উদ্যোক্তা আরও জানান, তার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন এলাকার ১০ নারী। এ ছাড়া গ্রামের আরও ১৫ থেকে ২০ নারী ভার্মি কম্পোস্ট সার তৈরি করে অর্থ উপার্জন করছেন। ঈদগাহ পাড়ায় সবমিলিয়ে ২০০-এর বেশি রিংয়ে এই সার উৎপন্ন করা হয়। স্থানীয় কৃষি বিভাগ ভার্মি কম্পোস্ট উৎপাদনে তাদের সহযোগিতা করার আশ্বাস দিয়েছেন বলে জানান এমিলি নাসরিন।

ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মিতা সরকার বলেন, ‘জমির উর্বরতা শক্তি ধরে রাখতে ভার্মি কম্পোস্ট সার খুবই দরকার। এ সার ব্যবহারে কৃষকরাও আগ্রহী হয়ে উঠছেন। এ জন্য উৎপাদনেও অনেকে এগিয়ে আসছেন। ঈশ্বরদী কৃষি বিভাগের সহযোগিতায় এমিলি নাসরিন ভার্মি কম্পোস্ট উৎপাদন শুরু করেন। তিনি সফলতা পেয়েছেন। বিভিন্ন জায়গায় তার সার সরবরাহ করেন। তার সার উৎপাদন কারখানা পরিদর্শন করেছি। কিছু সমস্যা রয়েছে। এগুলো সমাধানে কৃষি বিভাগ থেকে সহযোগিতা করা হবে।’

৭ মাসে এডিপি বাস্তবায়ন এক যুগে সবচেয়ে কম

প্রকাশ: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১০:৩২ এএম
৭ মাসে এডিপি বাস্তবায়ন এক যুগে সবচেয়ে কম
ছবি : সংগৃহীত

সরকার চাইলেও উন্নয়নকাজের গতি বাড়ছে না। গত ১২ বছরের সবচেয়ে কম অগ্রগতি হয়েছে। চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়ন হয়েছে মোট বরাদ্দের মাত্র ২৭ দশমিক ১১ শতাংশ। বেশি বরাদ্দ পেয়েও স্থানীয় সরকার বিভাগসহ গুটিকয়েক মন্ত্রণালয় ছাড়া বেশির ভাগ মন্ত্রণালয় ও বিভাগ তাদের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে পারেনি। এডিপি বাস্তবায়নের অগ্রগতি প্রতিবেদন সূত্রে এমন তথ্য জানা গেছে। 

আইএমইডির প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, চলতি অর্থবছরে জুলাই থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) বাস্তবায়নের হার মাত্র ২৭ দশমিক ১১ শতাংশ। যা গত অর্থবছরের চেয়ে ১ শতাংশেরও কম। ২০২২-২৩ অর্থবছরের এডিপি বাস্তবায়ন হয়েছিল ২৮ দশমিক ১৬ শতাংশ। এমনকি গত এক যুগের মধ্যে চলতি অর্থবছরের মতো কখনো এত কম এডিপি বাস্তবায়ন হয়নি।

গত এক যুগের বিভিন্ন অর্থবছরের এডিপি বাস্তবায়নের চিত্র পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, সবচেয়ে বেশি এডিপি বাস্তবায়ন হয়েছিল ২০১৮-১৯ অর্থবছরে। সে সময় এডিপি বাস্তবায়ন হয়েছিল মোট বরাদ্দের ৩৪ দশমিক ৪৩ শতাংশ, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ছিল ৩৩ দশমিক ৩৫ শতাংশ। এ ছাড়া ২০১৫-১৬, ২০২০-২১ সালে ছিল ২৮ শতাংশের ওপরে। বাকি অর্থবছরগুলো এডিপি বাস্তবায়নের হার ছিল ৩০ শতাংশের বেশি। অর্থবছরের তুলনায় কম হলেও মাসের হিসাবে জানুয়ারিতে এডিপি বাস্তবায়নের হার গত অর্থবছরের সমান হয়েছে। তবে ২০২২-২৩ অর্থবছর ছাড়া গত এক যুগের মধ্যে জানুয়ারি মাসে সবচেয়ে কম এডিপি বাস্তবায়ন হয়েছে চলতি অর্থবছরে। আইএমইডির তথ্য অনুযায়ী, শুধু জানুয়ারি মাসে এডিপি বাস্তবায়ন হয়েছে ৪ দশমিক ৬৩ শতাংশ।

এবার খেসারি, ছোলা, অ্যাংকর ডালের দামেও লাফ

প্রকাশ: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০২:০০ এএম
এবার খেসারি, ছোলা, অ্যাংকর ডালের দামেও লাফ
ছবি : সংগৃহীত

বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল হক টিটু থেকে শুরু করে খোদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও বলেছেন, রমজানে খাদ্যপণ্যের সংকট হবে না। যথেষ্ট সরবরাহ রয়েছে। তারপরও অন্যান্য পণ্যের মতো ইফতারের আইটেম তৈরির কাজে ব্যবহৃত খেসারি, অ্যাংকর ও ছোলার ডালের দাম বেড়েছে। পেঁয়াজু, বেগুনি, আলুর চপ তৈরিতে এসব ডাল ও বেসন লাগে। রমজান মাস শুরুর আগেই সপ্তাহের ব্যবধানে এসব ডালের কেজিতে ৫ থেকে ১০ টাকা বেড়ে গেছে। খেসারির ডালে ৫ টাকা, অ্যাংকরে ১০ টাকা, ছোলার ডালে ৫ টাকা বেড়েছে। পাইকারি মোকামে তেমন না বাড়লেও খুচরা পর্যায়ে বেড়ে গেছে দাম। তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, সরবরাহ বেশি হলে এসব পণ্যের দাম আর বাড়বে না। বিভিন্ন বাজার ঘুরে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য জানা গেছে।  

রমজানে ছোটখাটো বাসাবাড়ি থেকে শুরু করে অভিজাত বাড়ি, হোটেল ও রেস্তোরাঁয় ইফতারের অন্যতম জনপ্রিয় অনুষঙ্গ হিসেবে পেঁয়াজু, বেগুনির চাহিদা বেড়ে যায়। ইফতারের এসব আইটেমে খেসারি, অ্যাংকর ও ছোলার ডালের বেসন ব্যবহার করা হয়। এ জন্য দামও বাড়তে শুরু করেছে। 

মঙ্গলবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর মোহাম্মদপুর ও কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এক সপ্তাহ আগে খুচরা বাজারে মানভেদে প্রতি কেজি খেসারির ডালের দাম ছিল ১০০ থেকে ১০৫ টাকা। এখন সেটি বিক্রি হচ্ছে ১০৫-১১০ টাকা কেজি দরে। ৭০ টাকার অ্যাংকর ৮০ টাকা ও ১০৫ টাকা ছোলার ডাল ১১০ টাকা কেজি দরে ভোক্তাদের কিনতে হচ্ছে।
 
দামের ব্যাপারে জানতে চাইলে মোহাম্মদপুর টাউন হল বাজারের মনির স্টোরের আনোয়ারসহ অন্য খুচরা বিক্রেতারা খবরের কাগজকে বলেন, মসুর ডালের দাম বাড়েনি। আগের মতোই মানভেদে ১১০-১৩৫ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। মুগ ডালের দাম মাসখানেক আগেই কেজিতে ৩০ টাকা বেড়ে ১৭০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। তবে খেসারি ডালের দাম সপ্তাহের ব্যবধানে ৫ টাকা বেড়ে ১১০ টাকা, অ্যাংকরের ডাল ১০ টাকা বেড়ে ৮০-৮৫ টাকা ও ছোলার ডালে ৫ টাকা বেড়ে ১১০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। 

অন্য বাজারেও এসব ডালের দাম বেড়েছে বলে বিক্রেতারা জানান। কারওয়ান বাজারের মুদি দোকানদার মায়ের দোয়া স্টোরের শাহ আলম বলেন, গত সপ্তাহের শেষ দিক থেকে পাইকারিতে খেসারির ডালের দাম বাড়তে শুরু করে। এ জন্য খুচরা বাজারেও বাড়ছে। আগে ১০৫ টাকা বিক্রি করা হলেও এখন ১১০ টাকা দরে বিক্রি করা হচ্ছে। 

বাড়তি দামের ব্যাপারে কৃষি মার্কেটের পাইকারি ব্যবসায়ী সিটি এন্টারপ্রাইজের আবু তাহের বলেন, মসুর ডাল ও মুগ ডালের দাম বাড়েনি। আগের মতোই মুগ ডাল ১৬০ টাকা কেজি, ছোলার ডাল ১০৫ টাকা। তবে অ্যাংকর ডালের দাম অনেক বেড়ে গেছে। গত সপ্তাহে ৭০ টাকা কেজি বিক্রি করা হলেও এখন ৮০ টাকা। যা গত বছরের রমজানে ৫০ টাকা কেজি বিক্রি হয়েছে। পেঁয়াজু ও বেগুনির কাজে অনেক বেসন লাগে। এটা ডাল থেকে করা হয়। তাই বাড়ছে চাহিদা, দামও বাড়ছে।  

আমদানিকারকরা বলছেন, রোজায় ছোলার চাহিদা বেশি থাকে। খেসারি ও অ্যাংকর ডালের চাহিদাও বাড়ে। সে জন্য ব্যবসায়ীরা সাধারণত রোজাকেন্দ্রিক এসব পণ্য আমদানিও করেন বেশি। কিন্তু ডলারের দাম বেশি থাকায় এবার আমদানি খরচ বেড়েছে। ছোলা ও বিভিন্ন পদের ডালের দামে ডলারের বিনিময় হারের প্রভাব পড়েছে। 

বাংলাদেশ পাইকারি ডাল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি শফি মাহমুদ খবরের কাগজকে বলেন, ‘আমদানি খরচ বেশি। এ জন্য এবারের রমজানে অ্যাংকরের দাম বাড়তি। তবে সপ্তাহের ব্যবধানে বাজার বাড়েনি। এখন কাস্টমার কমে গেছে। মৌলভীবাজারে খেসারি ৯০ টাকা কেজি, অ্যাংকর ৬১-৬২ টাকা ও ছোলার ডাল ৯৬ টাকা। আশা করি, বাজার যে অবস্থায় আছে, রমজানের মধ্যে সেভাবেই থাকবে। সরবরাহ বাড়াতে হবে। নতুন করে দাম বাড়বে না।’ 

চাহিদার কাছাকাছি দেশে মসুর ডাল উৎপাদন হলেও অন্য ডাল হয় না। এ জন্য প্রতিবছর বিভিন্ন ধরনের ডাল ও ছোলার মতো ডালজাতীয় পণ্য ১৩-১৪ লাখ টন আমদানি করতে হয়। বর্তমানে অস্ট্রেলিয়া, কানাডা ও নেপাল থেকে বিভিন্ন ধরনের ডাল আমদানি করা হচ্ছে। করোনার পর ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগ পর্যন্ত বাজারে ডালজাতীয় পণ্যের দাম মোটামুটি কম ছিল। যুদ্ধের কারণে সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় ও ডলারের মূল্যবৃদ্ধির কারণে বছরের ব্যবধানে অনেক দাম বেড়েছে। সরবরাহ থাকলেও রমজান শুরুর আগেই সপ্তাহের ব্যবধানে ডালের বাজার ঊর্ধ্বমুখী হয়ে গেছে।

বাধ্যতামূলক’ শেয়ার ধারণে ব্যর্থ ৩৩ কোম্পানির পরিচালক

প্রকাশ: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০১:৪৭ পিএম
বাধ্যতামূলক’ শেয়ার ধারণে ব্যর্থ ৩৩ কোম্পানির পরিচালক

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর মোট শেয়ারের উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের সমন্বিত কমপক্ষে ৩০ শতাংশ শেয়ার ধারণ করার বাধ্যবাধকতা থাকার নিয়ম রয়েছে। কিন্তু এ নিয়ম লঙ্ঘন করে কিছু কোম্পানির পরিচালক ওই পরিমাণ শেয়ার সংরক্ষণ করতে ব্যর্থ হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে নির্ধারিত শেয়ারের কিছু অংশ বিক্রি করে বেআইননিভাবে সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। 

এ ছাড়া নিজ নামে থাকা প্রত্যেকের সর্বনিম্ন ২ শতাংশ শেয়ার ধারণ করার বিধান রয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, সমন্বিতের পাশাপাশি পরিচালকদের অনেকেই এ নিয়ম মানছেন না। তবে স্বতন্ত্র পরিচালকদের ক্ষেত্রে শেয়ার ধারণ করার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। 

জানা গেছে, ৩৩টি কোম্পানি গত ১৩ বছরে এ আইন মানতে পারেনি। পুঁজিবাজার ধসের পর নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) ২০১১ সালে পরিচালকদের শেয়ার ধারণ করার বাধ্যবাকতার নিয়ম চালু করে। 

পরিসংখানে দেখা গেছে, গত ১৩ বছরে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ৩৩টি কোম্পানি এই নির্দেশনা পরিপালন করেনি। এসব কোম্পানির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি। এর মধ্যে বস্ত্র খাতের ৭টি, ওষুধ ও রসায়ন খাতের ৫টি, প্রকৌশল খাতের ৮ টি, আইটি খাতের ২টি, খাদ্য খাতের ২টি, আর্থিক খাতের ৪টি, পাট খাতের ১টি, জীবন বিমা খাতের ২টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। 

কোম্পানিগুলো হচ্ছে ফ্যামিলিটেক্স লিমিটেড, অ্যাক্টিভ ফাইন, আফতাব অটোমোবাইলস, আলহাজ টেক্সটাইল, আজিজ পাইপস, অ্যাপোলো ইস্পাত, বিডি থাই অ্যালুমিনিয়াম, সেন্ট্রাল ফার্মা, সিঅ্যান্ডএ টেক্সটাইল, ডেল্টা স্পিনিং, রিং শাইন, ইস্টার্ন কেবলস, এফএএস ফিন্যান্স, ফনিক্স ফিন্যান্স, পিপলস লিজিং, প্রিমিয়ার লিজিং, ফু-ওয়াং ফুড, জেনারেশন নেক্সট ফ্যাশন, আইএফআইসি ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, ফাইন ফুড, ইনটেক লিমিটেড, ইনফরমেশন সার্ভিসেস নেটওয়ার্ক লিমিটেড, মিথুন নিটিং, নর্দান জুট, অলিম্পিক এক্সেসরিজ, ফার্মা এইড, এএফসি অ্যাগ্রো, সালভো কেমিক্যাল, পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্স, সন্ধানী লাইফ ইন্স্যুরেন্স, সুহৃদ ইন্ডাস্ট্রিজ এবং রতনপুর স্টিল রি-রোলিং মিলস লিমিটেড।

জানা গেছে, কোনো কোম্পানির পরিচালক শেয়ার ধারণ ক্ষমতার বাধ্যবাধকতার নিয়ম লঙ্ঘন করলে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির পর্ষদ পুনর্গঠন করতে পারে। একটি সূত্র বলেছে, যেসব কোম্পানি ইতোমধ্যে নিয়ম মানেনি, তাদের বিরুদ্ধে শিগগিরই আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে। 

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে পুঁজিবাজার বিশ্লেষক আবু আহমেদ খবরের কাগজকে বলেন, যখন কোনো কোম্পানিতে উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের শেয়ার ধারণের পরিমাণ কমে যায়, তখন তারা ওই কোম্পানির ব্যবসায় মনোযোগ দেন না। নিজেদের শেয়ার কম থাকার কারণে পরিচালকরা ভালো লভ্যাংশও দেন না। ফলে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা ওই কোম্পানির শেয়ার কিনে ক্ষতিগ্রস্ত হন। 

তিনি আরও বলেন, বোর্ড পুনর্গঠন করে দেওয়া হলে কোম্পানিগুলোর এ প্রবণতা কমবে। বিএসইসি যদি কোম্পানিগুলোর বোর্ড পুনর্গঠনন করে দেয় তাহলে ওই কোম্পানিগুলোর শেয়ারে বিনিয়োগকারীরা উপকৃত হবেন। এ ক্ষেত্রে যাদের শেয়ার বেশি তাদের বোর্ডে রেখে ন্যূনতম শেয়ার ধারণে ব্যর্থদের বোর্ড থেকে বিতাড়িত করা উচিত। 

এ বিষয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মোহাম্মদ রেজাউল করিম বলেন, যেসব কোম্পানি কমিশনের নির্দেশনা পরিপালন করেনি, তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

জানা গেছে, বর্তমান কমিশন দায়িত্বে এসে সম্মিলিতভাবে ৩০ শতাংশ শেয়ার ধারণ এবং প্রত্যেক পরিচালকের সর্বনিম্ন ২ শতাংশ শেয়ার ধারণের নিয়মের পক্ষে কঠোর অবস্থান নেয়। ২০২০ সালের জুলাই মাসে ৪৪টি তালিকাভুক্ত কোম্পানিকে উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের সম্মিলিতভাবে কমপক্ষে ৩০ শতাংশ শেয়ার ধারণ করার নির্দেশনা দিয়েছিল বিএসইসি। ন্যূনতম দুই শতাংশ শেয়ার ধারণের শর্ত পূরণ না করে পদে থাকায় সেই বছরের সেপ্টেম্বরে ৯টি কোম্পানির ১৭ জন পরিচালককে সরিয়ে দেওয়া হয়। সেই সঙ্গে উদ্যোক্তা পরিচালকদের সম্মিলিতভাবে ৩০ শতাংশ শেয়ার ধারণের শর্ত পূরণে ব্যর্থ কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেওয়া হবে বলেও জানানো হয়।

২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের পরিশোধিত মূলধনের ন্যূনতম ৩০ শতাংশ শেয়ার ধারণের বিষয়ে পুনরায় কঠোর অবস্থান নেয়। যেসব কোম্পানির উদ্যোক্তা ও পরিচালকরা পরিশোধিত মূলধনের ন্যূনতম ৩০ শতাংশ শেয়ার ধারণ করেনি তাদের সেই বছরের ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে (১৫ দিনের মধ্যে) এ বিষয়ে পরিকল্পনা জমা দিতে নির্দেশনা জারি করে।

ডিএসই সূত্রমতে, চলতি বছরের জানুয়ারি মাস পর্যন্ত ৩৩টি তালিকাভুক্ত কোম্পানির উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের পরিশোধিত মূলধনের ৩০ শতাংশ শেয়ার ধারণ করতে পারেনি। 

উল্লেখ্য, বিএসইসি ৩০ শতাংশ শেয়ার ধারণের এই নির্দেশনা জারির আগে বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে বহু অভিযোগ পেয়েছিল। এখন কমিশন মনে করে যে, তালিকাভুক্ত কোম্পানিকে অবশ্যই সর্বজনীন নিয়ম মেনে চলতে হবে। যাতে উদ্যোক্তা ও পরিচালকরা কোম্পানির বিষয়ে মনোনিবেশ করতে পারেন এবং শেয়ারবাজারে শৃঙ্খলা ফিরে আসে। নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্দেশ অনুসারে উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের সব সময় কোম্পানির পরিশোধিত মূলধনের ন্যূনতম ৩০ শতাংশ শেয়ার ধারণ করতে হবে।