ঢাকা ২ বৈশাখ ১৪৩১, সোমবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৪
Khaborer Kagoj

চট্টগ্রামে ব্রয়লার মুরগির বাজার চড়া

প্রকাশ: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০১:৩৯ পিএম
চট্টগ্রামে ব্রয়লার মুরগির বাজার চড়া
চট্টগ্রামের পাহাড়তলী এলাকার একটি ব্রয়লার মুরগির খামার। ছবি: খবরের কাগজ

চট্টগ্রামে দফায় দফায় বাড়ছে মুরগির দাম। ২০ দিনের ব্যবধানে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগির দাম বেড়েছে ৪৫ টাকা। বাচ্চার সরবরাহ কম ও খাবারের দাম বেড়ে যাওয়ায় দাম বেড়েছে বলে দাবি করেন চট্টগ্রামের মুরগি ব্যবসায়ীরা। অন্যদিকে পবিত্র শবে বরাত ও রোজার মাসকে পুঁজি করে দাম বাড়ানো হয়েছে বলে দাবি কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)-এর। 

চলতি মাসের শুরুতে চট্টগ্রামে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছিল ১৬৫ টাকায়। সপ্তাহের ব্যবধানে গত ৯ ফেব্রুয়ারি কেজিতে ২৫ টাকা বেড়ে বিক্রি হয় ১৯০ টাকায়। গত সপ্তাহে কেজিতে নতুন করে আরও ১৫ টাকা বেড়ে প্রতি কেজি বিক্রি হয় ২০৫ টাকায়। বর্তমানে আরও ৫ টাকা বেড়ে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগির দাম ঠেকেছে ২১০ টাকা কেজি। 

ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্যমতে, আজকের বাজারে খুচরা পর্যায়ে প্রতি কেজি ব্রয়লার ১৯০ টাকায় বিক্রি হওয়ার কথা। অথচ খুচরা বাজারে প্রতি কেজি কিনতে হচ্ছে ২১০ টাকায়।

মহানগরের কর্ণফুলী বাজারে মুরগি বিক্রেতা মোহাম্মদ জসিম খবরের কাগজকে বলেন, ‘ফার্মগুলো বাচ্চা সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে। তাই খামারিরা জোগান দিতে পারছেন না। বেশি দামে কিনে আনতে হচ্ছে। পরিবহন খরচ আছে। দাম বাড়লে সমস্যা আমাদেরই হয়। সব জায়গায় জবাবদিহি করতে হয়। আমাদেরই বা কী করার আছে?’ 

খবরের কাগজ মুরগির খামারি ও ফিড প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কথা বলেছে। খামারিরা জানান, বাচ্চার সরবরাহ কম। তার ওপর দামও অনেক বেশি। বর্তমানে প্রতিটি ব্রয়লার বাচ্চা ৫৫ টাকায় কিনতে হচ্ছে। খাবারের দাম বেড়েছে। গত বছর প্রতি বস্তা (৫০ কেজি) খাবার (ফিড) ২ হাজার ১০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার ৬০০ টাকায়। প্রতি কেজি মুরগিতে উৎপাদন খরচ হয় ১৩০ টাকা। খামার থেকে প্রতি কেজি ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কাজেই খুচরা পর্যায়ে প্রতি কেজি ২১০ টাকা হওয়াটা অস্বাভাবিক বলে জানান খামারিরা। তবে মুরগির বাচ্চা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর দাবি, বাচ্চার দাম বাড়েনি। পাশাপাশি খামারিদের চাহিদা অনুসারে বাচ্চা সরবরাহ দেওয়া হচ্ছে। ফিডের দাম তো নতুন করে বাড়েনি।

নোয়াখালীর সুবর্ণচর এলাকার মুরগির খামারি লিটন অ্যাগ্রোর স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ লিটন খবরের কাগজকে বলেন, ‘আমার খামারে দুই হাজার বাচ্চা আছে। ৫৫ টাকায় প্রতি পিস বাচ্চা কিনেছি। খাবারের দামও বেড়েছে। মুরগির দাম ওঠানামা করে। আমরা এখন ১৫০ টাকায় প্রতি কেজি বিক্রি করছি। খুচরায় ২১০ টাকা বিক্রি হওয়া মানেই দামে কারসাজি চলছে।’ 

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড এলাকার খামারি মোহাম্মদ সাইফুল খবরের কাগজকে বলেন, ‘আমি তিন বছর ধরে মুরগির ব্যবসা করছি। বর্তমানে বাচ্চাসংকটের কারণে আমার তিনটি খামার বন্ধ হয়ে গেছে। খাবারের দাম কমলে ও বাচ্চার সরবরাহ বাড়লে এ খাতে উদ্যোক্তার সংখ্যা আরও বাড়তে।’ 

লোহাগাড়ার পোলট্রি খামারি জসিম উদ্দিন খবরের কাগজকে বলেন, এক দিন বয়সী ব্রয়লার বাচ্চা এখন বাজারে নেই। খামারিরা ইচ্ছা করলেও বাচ্চা কিনতে পারছেন না। তার খামারেও ব্রয়লারের শেড খালি পড়ে আছে উল্লেখ করে বলেন, কিছু অখ্যাত কোম্পানি এক দিন বয়সী বাচ্চা বিক্রি করছে প্রতিটি ৭৫ থেকে ৮০ টাকা। তাও সীমিত আকারে। অনেক খামারের শেড খালি পড়ে আছে। 

আসন্ন রমজানে মুরগির অভাব হবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, বড় কোম্পানিগুলো নিজেরাই মুরগি পালন করছে। পবিত্র রমজান মাস সামনে রেখে তারাই ব্যবসা করবে। বর্তমানে এক দিন বয়সী একটি বাচ্চা কিনতে হচ্ছে ৭৫ থেকে ৮০ টাকায়। একটি পূর্ণবয়স্ক মুরগি বাজারে যাওয়ার আগ পর্যন্ত দুই কেজি খাবার খায়। প্রতি কেজি ৭২ টাকা ধরলে দাম পড়ে ১৪৪ টাকা। তার সঙ্গে রয়েছে পরিচর্যা ও ওষুধ খরচ। যে কারণে খামারির খুব একটা লাভ হয় না। এখানে লাভের গুড় পিঁপড়ায় খেয়ে ফেলে। 

সীতাকুণ্ডের ছকিনা পোলট্রির স্বত্বাধিকারী নাছির উদ্দিন খবরের কাগজকে বলেন, বর্তমানে হ্যাচারিগুলো নির্দিষ্ট কিছু চুক্তিবদ্ধ ফার্মকে বাচ্চা সরবরাহ করছে। এর বাইরে তারা অন্য খামারিকে দিচ্ছে না। ফলে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে অনেক খামার। উৎপাদন কমে যাওয়ায় প্রভাব পড়ছে বাজারদরে। 

নাহার অ্যাগ্রোর কর্মকর্তা মোহাম্মদ রানা খবরের কাগজকে বলেন, ‘আমরা বাচ্চা ৪৯ টাকায় বিক্রি করছি। খাবার (ফিড) বিক্রি করছি ৭২ টাকা কেজি। খাবারের দাম নতুন করে বাড়েনি। পর্যাপ্ত পরিমাণে বাচ্চার সরবরাহ দিচ্ছি। খুচরায় মুরগির দাম বাড়ার কথা না। কেন বাড়ছে, সেটি বলতে পারছি না।’ 

চট্টগ্রাম জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. হুমায়ুন কবির খবরের কাগজকে জানান, চাহিদা ও জোগানের ওপর মুরগির দাম নির্ভর করে। বর্তমানে চাহিদা বাড়ছে, তাই দামও বাড়ছে। একই সঙ্গে বেড়েছে ফিডের দামও। তবে দাম বাড়লেও তাতে কৃষকের কোনো লাভ নেই। সরকার এক দিন বয়সী মুরগির বাচ্চার দাম বেঁধে দিলেও ফিডের দাম সম্পর্কে কোনো নির্দেশনা নেই। তাই লাভের টাকা বাচ্চা ও ফিড উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর পকেটেই চলে যায়। 

ক্যাবের কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন বলেন, সামনে শবে বরাত। এরপর আসছে রোজা। গত বছরও এ সময়ে মুরগির দাম বেড়ে গিয়েছিল। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। কাজেই বারবার এটিই প্রমাণিত হচ্ছে, সুযোগসন্ধানী ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন অজুহাতে বাজারকে অস্থিতিশীল করে তুলছেন। প্রশাসনের অভিযান বা নজরদারি দৃশ্যমান নয়। ফলে যে যার মতো করে দাম নিচ্ছেন। সরকারের উচিত ভোগ্যপণ্যের দাম নির্ধারণ করে দেওয়া। 

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের উপপরিচালক ফয়েজ উল্যাহ বলেন, ‘আমরা বাজার স্থিতিশীল রাখার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। বিভিন্ন বাজারের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করছি। কেউ বাজার অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করলে আমরা ছাড় দেব না। পাশাপাশি অভিযোগ জানালে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

বেসিক ব্যাংকের এমডির মেয়াদ বাড়ল

প্রকাশ: ১১ এপ্রিল ২০২৪, ০৯:২৯ এএম
বেসিক ব্যাংকের এমডির মেয়াদ বাড়ল
বেসিক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আনিসুর রহমান

সিটি ব্যাংকের সঙ্গে একীভূত হওয়ার আলোচনার মধ্যে রাষ্ট্রমালিকানার বেসিক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. আনিসুর রহমানের চুক্তির মেয়াদ আরও এক বছর বাড়ানো হয়েছে। কোনো ব্যাংক একীভূত হলে দূর্বল ব্যাংকের এমডি-ডিএমডি ভালো ব্যাংকে যোগদান করতে পারবেন না। এরকম অবস্থার মধ্যে বেসিক ব্যাংকের এমডির মেয়াদ বাড়ানো হলো।

গত মঙ্গলবার (৯ এপ্রিল) অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত আদেশ জারি করা হয়।

আগের দিন (সোমবার) সিটি ব্যাংকের সঙ্গে বেসিক ব্যাংক একীভূতকরণের সিদ্ধান্তের কথা জানায় বাংলাদেশ ব্যাংক।

আনিসুর রহমান ২০২১ সালের ১ এপ্রিল বেসিক ব্যাংকের এমডি হিসেবে যোগদান করেন। গত ৩১ মার্চ তার প্রথম মেয়াদ শেষ হয়। এর আগে তিনি অগ্রণী ব্যাংকের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) ছিলেন। 

তিনি ১৯৮৮ সালে বিআরসির মাধ্যমে অগ্রণী ব্যাংকে সিনিয়র অফিসার পদে যোগদান করেন। চাকরি জীবনে অগ্রণী ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপক, অঞ্চল প্রধান, সার্কেল প্রধান ও বিভাগীয় প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি অগ্রণী ইক্যুইটি অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্টের সিইও হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

আনিসুর রহমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। তার বাড়ি গোপালগঞ্জে।

অমিয়/

দ্বিতীয় প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধিতে ধস

প্রকাশ: ১০ এপ্রিল ২০২৪, ০২:০১ পিএম
দ্বিতীয় প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধিতে ধস
ছবি: সংগৃহীত

চলতি ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) জিডিপির প্রবৃদ্ধি কমে দাঁড়িয়েছে ৩ দশমিক ৭৮ শতাংশে। যা গত অর্থবছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে ছিল ৭ দশমিক ০৮ শতাংশ।

চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকের তুলনায় দ্বিতীয় প্রান্তিকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে বড় পতন হয়েছে। আগের (জুলাই-সেপ্টেম্বর) প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৬ দশমিক ০১ শতাংশ।

মঙ্গলবার (৯ এপ্রিল) বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ত্রৈমাসিক মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) ও প্রবৃদ্ধি হারের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

বিবিএসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট ভিত্তিতে স্থিরমূল্যে ২০২৩-২৪ অর্থবছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে ৩ দশমিক ৭৮ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। সে তুলনায়, ২০২২-২৩ অর্থবছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধি ছিল ৭ দশমিক ০৮ শতাংশ, এবং ২০২১-২২ অর্থবছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধি ছিল ৯ দশমিক ৩০ শতাংশ।

বিবিএসের তথ্য অনুযায়ি, চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকের তুলনায়, দ্বিতীয় প্রান্তিকে শিল্প ও সেবার সব খাতে প্রবৃদ্ধি কমেছে। শুধুমাত্র কৃষিখাতে প্রবৃদ্ধি বেড়েছে।

অপরদিকে গত অর্থবছরের একই সময়ে কৃষি খাতে প্রবৃদ্ধি বাড়লেও শিল্প ও সেবা খাতে কমেছে।

চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে কৃষিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৪ দশমিক ৬৫ শতাংশ, যা প্রথম প্রান্তিকে ছিল ১ দশমিক ০৪ শতাংশ।

অন্যদিকে গত অর্থবছরে একই সময়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ৪ দশমিক ২২ শতাংশ।

শিল্প খাতে গত অর্থবছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধি হয়েছিলো ১০ দশমিক ০০ শতাংশ। এবার কমে হয়েছে ৩ দশমিক ২৪ শতাংশ। অপরদিকে সেবা খতে গত অর্থবছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে ৬ দশমিক ৬২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হলেও এবারের অক্টোবর-ডিসেম্বরে কমে হয়েছে ৩ দশমিক ০৬ শতাংশ।

২০২০ সালের ২৬ নভেম্বর সরকারের সিদ্ধান্ত ও পরবর্তীতে আইএএমএফ-এর পরামর্শ মোতাবেক বিবিএস ত্রৈমাসিক মোট দেশজ উৎপাদন প্রাক্কলনের কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়। তারই ধারাবাহিকতায় প্রতি তিন মাস পর পর জিডিপির প্রবৃদ্ধির তথ্য প্রকাশ করা হয়।

জাহাঙ্গীর/ইসরাত/অমিয়/

এবার ইউসিবির সঙ্গে একীভূত হতে যাচ্ছে ন্যাশনাল ব্যাংক

প্রকাশ: ১০ এপ্রিল ২০২৪, ১২:০৩ এএম
এবার ইউসিবির সঙ্গে একীভূত হতে যাচ্ছে ন্যাশনাল ব্যাংক
ছবি : সংগৃহীত

এবার বেসরকারি খাতের ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের (ইউসিবি) সঙ্গে একীভূত হতে যাচ্ছে বেসরকারি ন্যাশনাল ব্যাংক। 

মঙ্গলবার (৯ এপ্রিল) বাংলাদেশ ব্যাংকে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়েছে। সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আবদুর রউফ তালুকদার। 

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানায়, ইউসিবি ব্যাংকের একজন পরিচালক ও ব্যবস্থাপনা পরিচালককে ডেকে আজ বৈঠক করেন গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার। বৈঠকে ইউসিবি কর্তৃপক্ষকে একীভূত হওয়ার বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে বৈঠকে ন্যাশনাল ব্যাংকের কেউ উপস্থিত ছিলেন না।

বাংলাদেশ ব্যাংকের উদ্যোগে একীভূতকরণ ইস্যুতে এর আগে দুই ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন পর্যায়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে। 

সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংক একীভূতকরণের নীতিমালা জারি করেছে। যেখানে স্বেচ্ছায় ও বাধ্যতামূলক- এই দুইভাবে দুর্বল ব্যাংককে সবল ব্যাংকের সঙ্গে একীভূতকরণ হওয়ার বিষয়ে দিক-নির্দেশনা দেওয়া রয়েছে। ন্যাশনাল ব্যাংকের আর্থিক ভিত্তি দুর্বল। অন্যদিকে ইউসিবির আর্থিক ভিত্তি সবল। 

এর আগে সোমবার (৮ এপ্রিল) বেসরকারি সিটি ব্যাংক রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বেসিক ব্যাংকের সঙ্গে একীভূত হওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। গত সপ্তাহে সরকারি দুটি ব্যাংক বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (বিডিবিএল) রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের (রাকাব) সঙ্গে একীভূত হওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ ছাড়া বেসরকারি খাতের এক্সিম ব্যাংকের সঙ্গে পদ্মা ব্যাংকের একীভূত হওয়ার বিষয়ে এমওইউ সই করেছে। 

সালমান/

রমজানে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৯.৮১ শতাংশ

প্রকাশ: ০৯ এপ্রিল ২০২৪, ০৯:৩৮ পিএম
রমজানে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৯.৮১ শতাংশ
সংগৃহীত ছবি

বাংলাদেশ ব্যাংক নীতি সহায়তা ঘোষণা করলেও ঠেকানো যাচ্ছে না মূল্যস্ফীতি। রোজার মাসে দেশের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামের লাগাম ছাড়িয়েছে। প্রভাব পড়েছে মার্চ মাসের মূল্যস্ফীতিতে। এ মাসে গড় মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৯ দশমিক ৮১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। যা ফেব্রুয়ারিতে ছিল ৯ দশমিক ৬৭। ঈদ উপলক্ষে বেচাকেনা বেশি হওয়ায় গ্রামের তুলনায় শহরে বেড়েছে মূল্যস্ফীতি।

মঙ্গলবার (৯ এপ্রিল) বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) হালনাগাদ মাসিক ভোক্তা মূল্য সূচকে এ তথ্য জানা গেছে।

মার্চে মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ৮১ শতাংশের অর্থ হলো- ২০২৩ সালের মার্চে যে পণ্য ১০০ টাকায় কিনতে হয়েছিল, এ বছরের মার্চে তা ১০৯ টাকা ৮১ পয়সায় কিনতে হয়েছে।

বিবিএসের তথ্য বলছে, মার্চে খাদ্য মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৯ দশমিক ৮৭ শতাংশ হয়েছে, ফেব্রুয়ারিতে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ।

গত মাসে খাদ্য বহির্ভূত পণ্যের মূল্যস্ফীতিও বেড়েছে। মার্চে এসব পণ্যের  মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৬৪ শতাংশ, ফেব্রুয়ারিতে যা ছিল ৯ দশমিক ৩৩।

চলতি অর্থবছর সরকারের লক্ষ্যমাত্রা মূল্যস্ফীতি ৬ শতাংশের মধ্যে রাখার। তবে সর্বশেষ মুদ্রানীতিতে বাংলাদেশ ব্যাংক অর্থবছরের শেষ নাগাদ মূল্যস্ফীতি ৭ শতাংশের মধ্যে রাখার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক ইতোমধ্যে নীতি সুদহার বাড়িয়েছে। কিন্তু তাতেও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হচ্ছে না। 

বিবিএসের তথ্য বলছে, গ্রামের তুলনায় শহরের মূল্যস্ফীতি বেশি। গ্রামে গড় মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ৬৮, যেখানে শহরের মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ৯৪ শতাংশ। শহরে খাদ্যের মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ৯৮, গ্রামে ৯ দশমিক ৮৬ শতাংশ। 

গত সপ্তাহে বিশ্বব্যাংকও পূর্বাভাস দিয়েছে

তিন কারণে বাংলাদেশে উচ্চ মূল্যস্ফীতি বহাল থাকবে। কারণ তিনটি হলো- ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়ন, বিদেশি মুদ্রার সংকটের কারণে আমদানি সংকোচন ও জ্বালানি সংকট বহাল। 

জাহাঙ্গীর/সালমান/

দুর্বল ব্যাংকের তালিকায় নেই কোনো ইসলামি ব্যাংক

প্রকাশ: ০৯ এপ্রিল ২০২৪, ০৯:৩৮ পিএম
দুর্বল ব্যাংকের তালিকায় নেই কোনো ইসলামি ব্যাংক

দুর্বল ব্যাংকগুলোর তালিকা চূড়ান্ত করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। শিগগিরই এসব ব্যাংক একীভূত করা হবে বলে জানা গেছে। তবে এই তালিকায় কোনো ইসলামি ব্যাংকের নাম নেই।

সম্প্রতি এক্সিম ব্যাংকের সঙ্গে একীভূত হয়েছে ধুঁকতে থাকা পদ্মা ব্যাংক। ২০১৩ সালে প্রতিষ্ঠার পর মাত্র ১০ বছরের মাথায় দেশের চতুর্থ প্রজন্মের পদ্মা ব্যাংক আমানতকারীদের অর্থ হারিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় ডুবতে থাকায় দ্বিতীয় প্রজন্মের এক্সিম ব্যাংকের সঙ্গে একীভূত করা হয়েছে।

পদ্মা ব্যাংকের মতো আরও বেশ কয়েকটি ব্যাংক একীভূত করা হবে খুব শিগগিরই। সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকে গভর্নরের সঙ্গে বিভিন্ন ব্যাংকের মালিকানায় থাকা পরিচালক ও চেয়ারম্যানরা বৈঠক করেন। বৈঠকে ১০টি দুর্বল ব্যাংককে বিভিন্ন সবল ব্যাংকের সঙ্গে একীভূত করার সিদ্ধান্ত হয়। 

তালিকায় থাকা ব্যাংকগুলো হলো- পদ্মা ব্যাংক, এবি ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, ওয়ান ব্যাংক, আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক, বিডিবিএল ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক (রাকাব) ও সাউথ বাংলা এগ্রিকালচারাল ব্যাংক এবং আইসিবি ইসলামি ব্যাংক।

তবে আইসিবি ইসলামি ব্যাংকের একীভূত হওয়ার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। এর প্রধান কারণ হলো এই ব্যাংকের শেয়ার ওরিয়ন গ্রুপ কিনে নেওয়ার বিষয়ে কথা চলছে বলে জানিয়েছে একটি সূত্র। 

অন্যদিকে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ইসলামি ধারার ব্যাংকগুলোর আর্থিক অবস্থা নিয়ে রিপোর্টও হয়েছে।  তবে এসব ব্যাংক একীভূত হচ্ছে না বলেই জানা গেছে।

গত মার্চে এক্সিম ব্যাংকের সঙ্গে একীভূত হওয়ার চুক্তিতে সই করেছে পদ্মা ব্যাংক। এখন একীভূত হওয়ার প্রকৃয়ায় রয়েছে রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকক (রাকাব), বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংককে (বিডিবিএল) ও বেসিক ব্যাংক।

এরমধ্যে রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকক (রাকাব) কৃষি ব্যাংকের সঙ্গে, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংককে (বিডিবিএল) সোনালী ব্যাংকের সঙ্গে এবং বেসিক ব্যাংক সিটি ব্যাংকের সঙ্গে একীভূত হচ্ছে।

তাছাড়া তালিকায় থাকা অন্য ব্যাংকগুলো আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে সমঝোতার ভিত্তিতে একীভূত হওয়ার কথা বলেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এই সময়ের মধ্যে কেউ একীভূত না হলে আগামী বছর মার্চ থেকে বাধ্যতামূলকভাবে এগুলোকে মিলিয়ে দেওয়া হবে।

গত ৪ এপ্রিল স্বেচ্ছায় একীভূত হওয়ার একটি নীতিমালা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে বলা হয়েছে, ‘একীভূতকরণের পর যে ব্যাংক বিলীন হয়ে যাবে, সেই ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের তিন বছরের আগে ছাঁটাই করা যাবে না। তবে ওই ব্যাংকের বড় কর্মকর্তারা (এমডি, ডিএমডি) থাকতে পারবেন না।’

অমিয়/