ঢাকা ১১ বৈশাখ ১৪৩১, বুধবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৪
Khaborer Kagoj

এবার খেসারি, ছোলা, অ্যাংকর ডালের দামেও লাফ

প্রকাশ: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০২:০০ এএম
এবার খেসারি, ছোলা, অ্যাংকর ডালের দামেও লাফ
ছবি : সংগৃহীত

বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল হক টিটু থেকে শুরু করে খোদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও বলেছেন, রমজানে খাদ্যপণ্যের সংকট হবে না। যথেষ্ট সরবরাহ রয়েছে। তারপরও অন্যান্য পণ্যের মতো ইফতারের আইটেম তৈরির কাজে ব্যবহৃত খেসারি, অ্যাংকর ও ছোলার ডালের দাম বেড়েছে। পেঁয়াজু, বেগুনি, আলুর চপ তৈরিতে এসব ডাল ও বেসন লাগে। রমজান মাস শুরুর আগেই সপ্তাহের ব্যবধানে এসব ডালের কেজিতে ৫ থেকে ১০ টাকা বেড়ে গেছে। খেসারির ডালে ৫ টাকা, অ্যাংকরে ১০ টাকা, ছোলার ডালে ৫ টাকা বেড়েছে। পাইকারি মোকামে তেমন না বাড়লেও খুচরা পর্যায়ে বেড়ে গেছে দাম। তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, সরবরাহ বেশি হলে এসব পণ্যের দাম আর বাড়বে না। বিভিন্ন বাজার ঘুরে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য জানা গেছে।  

রমজানে ছোটখাটো বাসাবাড়ি থেকে শুরু করে অভিজাত বাড়ি, হোটেল ও রেস্তোরাঁয় ইফতারের অন্যতম জনপ্রিয় অনুষঙ্গ হিসেবে পেঁয়াজু, বেগুনির চাহিদা বেড়ে যায়। ইফতারের এসব আইটেমে খেসারি, অ্যাংকর ও ছোলার ডালের বেসন ব্যবহার করা হয়। এ জন্য দামও বাড়তে শুরু করেছে। 

মঙ্গলবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর মোহাম্মদপুর ও কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এক সপ্তাহ আগে খুচরা বাজারে মানভেদে প্রতি কেজি খেসারির ডালের দাম ছিল ১০০ থেকে ১০৫ টাকা। এখন সেটি বিক্রি হচ্ছে ১০৫-১১০ টাকা কেজি দরে। ৭০ টাকার অ্যাংকর ৮০ টাকা ও ১০৫ টাকা ছোলার ডাল ১১০ টাকা কেজি দরে ভোক্তাদের কিনতে হচ্ছে।
 
দামের ব্যাপারে জানতে চাইলে মোহাম্মদপুর টাউন হল বাজারের মনির স্টোরের আনোয়ারসহ অন্য খুচরা বিক্রেতারা খবরের কাগজকে বলেন, মসুর ডালের দাম বাড়েনি। আগের মতোই মানভেদে ১১০-১৩৫ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। মুগ ডালের দাম মাসখানেক আগেই কেজিতে ৩০ টাকা বেড়ে ১৭০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। তবে খেসারি ডালের দাম সপ্তাহের ব্যবধানে ৫ টাকা বেড়ে ১১০ টাকা, অ্যাংকরের ডাল ১০ টাকা বেড়ে ৮০-৮৫ টাকা ও ছোলার ডালে ৫ টাকা বেড়ে ১১০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। 

অন্য বাজারেও এসব ডালের দাম বেড়েছে বলে বিক্রেতারা জানান। কারওয়ান বাজারের মুদি দোকানদার মায়ের দোয়া স্টোরের শাহ আলম বলেন, গত সপ্তাহের শেষ দিক থেকে পাইকারিতে খেসারির ডালের দাম বাড়তে শুরু করে। এ জন্য খুচরা বাজারেও বাড়ছে। আগে ১০৫ টাকা বিক্রি করা হলেও এখন ১১০ টাকা দরে বিক্রি করা হচ্ছে। 

বাড়তি দামের ব্যাপারে কৃষি মার্কেটের পাইকারি ব্যবসায়ী সিটি এন্টারপ্রাইজের আবু তাহের বলেন, মসুর ডাল ও মুগ ডালের দাম বাড়েনি। আগের মতোই মুগ ডাল ১৬০ টাকা কেজি, ছোলার ডাল ১০৫ টাকা। তবে অ্যাংকর ডালের দাম অনেক বেড়ে গেছে। গত সপ্তাহে ৭০ টাকা কেজি বিক্রি করা হলেও এখন ৮০ টাকা। যা গত বছরের রমজানে ৫০ টাকা কেজি বিক্রি হয়েছে। পেঁয়াজু ও বেগুনির কাজে অনেক বেসন লাগে। এটা ডাল থেকে করা হয়। তাই বাড়ছে চাহিদা, দামও বাড়ছে।  

আমদানিকারকরা বলছেন, রোজায় ছোলার চাহিদা বেশি থাকে। খেসারি ও অ্যাংকর ডালের চাহিদাও বাড়ে। সে জন্য ব্যবসায়ীরা সাধারণত রোজাকেন্দ্রিক এসব পণ্য আমদানিও করেন বেশি। কিন্তু ডলারের দাম বেশি থাকায় এবার আমদানি খরচ বেড়েছে। ছোলা ও বিভিন্ন পদের ডালের দামে ডলারের বিনিময় হারের প্রভাব পড়েছে। 

বাংলাদেশ পাইকারি ডাল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি শফি মাহমুদ খবরের কাগজকে বলেন, ‘আমদানি খরচ বেশি। এ জন্য এবারের রমজানে অ্যাংকরের দাম বাড়তি। তবে সপ্তাহের ব্যবধানে বাজার বাড়েনি। এখন কাস্টমার কমে গেছে। মৌলভীবাজারে খেসারি ৯০ টাকা কেজি, অ্যাংকর ৬১-৬২ টাকা ও ছোলার ডাল ৯৬ টাকা। আশা করি, বাজার যে অবস্থায় আছে, রমজানের মধ্যে সেভাবেই থাকবে। সরবরাহ বাড়াতে হবে। নতুন করে দাম বাড়বে না।’ 

চাহিদার কাছাকাছি দেশে মসুর ডাল উৎপাদন হলেও অন্য ডাল হয় না। এ জন্য প্রতিবছর বিভিন্ন ধরনের ডাল ও ছোলার মতো ডালজাতীয় পণ্য ১৩-১৪ লাখ টন আমদানি করতে হয়। বর্তমানে অস্ট্রেলিয়া, কানাডা ও নেপাল থেকে বিভিন্ন ধরনের ডাল আমদানি করা হচ্ছে। করোনার পর ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগ পর্যন্ত বাজারে ডালজাতীয় পণ্যের দাম মোটামুটি কম ছিল। যুদ্ধের কারণে সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় ও ডলারের মূল্যবৃদ্ধির কারণে বছরের ব্যবধানে অনেক দাম বেড়েছে। সরবরাহ থাকলেও রমজান শুরুর আগেই সপ্তাহের ব্যবধানে ডালের বাজার ঊর্ধ্বমুখী হয়ে গেছে।

ব্যাংক একীভূতকরণ নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাখ্যা

প্রকাশ: ২৩ এপ্রিল ২০২৪, ০৯:৪১ পিএম
ব্যাংক একীভূতকরণ নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাখ্যা
ছবি : সংগৃহীত

ব্যাংক একীভূতকরণ নিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত নানা খবরে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে বলে দাবি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ নিয়ে জনমনের বিভ্রান্তি দূর করতে মঙ্গলবার (২৩ এপ্রিল) একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। 

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়,  সম্প্রতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, বিভিন্ন ইলেকট্রনিক, প্রিন্ট ও সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাংক একীভূতকরণ বিষয়ে বিভিন্ন ধরনের সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে, যা অনেক ক্ষেত্রেই প্রকৃত তথ্যনির্ভর নয়। ফলে ব্যাংক একীভূতকরণ নিয়ে জনমনে নানা রকমের বিভ্রান্তি সৃষ্টি হচ্ছে। তাই বাংলাদেশ ব্যাংক এ বিষয়টি স্পষ্টীকরণের জন্য সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করছে।

মূলত দু'টি উদ্দেশ্য নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক ‘ব্যাংক একীভূতকরণ’ নিয়ে কাজ করছে। প্রথমত, ২০২৬ সালে বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল অর্থনীতির দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে। ফলে উন্নয়নশীল অর্থনীতিতে কার্যকর ব্যাংকিং সেবা দিতে দেশে অধিক সক্ষমতাসম্পন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজন হবে। যাতে করে অর্থনৈতিক উন্নয়নে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে কোনোরূপ বাধার সৃষ্টি না হয়।

দ্বিতীয়ত, অপেক্ষাকৃত দুর্বল ব্যাংকের বিদ্যমান সমস্যা সমাধান এবং একইসঙ্গে অপেক্ষাকৃত সবল ব্যাংকের কার্যক্রম উন্নয়নের মাধ্যমে আর্থিক খাতকে শক্তিশালী করা, যাতে করে জনস্বার্থে একীভূত ব্যাংক-কোম্পানি অধিক সেবা দিতে পারে। 

জন বিভ্রান্তি দূর করতে, বাংলাদেশ ব্যাংক জানাচ্ছে যে- ক. একীভূতকরণের প্রক্রিয়াধীন ব্যাংকগুলোতে ব্যক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক আমানতকারীদের জমা আমানত সম্পূর্ণ নিরাপদ ও সুরক্ষিত থাকবে। একীভূতকরণের কাজ সম্পন্ন হওয়ার পরও নিজ নিজ ব্যাংকের হিসাবধারীদের বর্তমান হিসাব, পূর্বের ন্যায় চলমান থাকবে।

খ. একীভূতকরণের আওতাভুক্ত ব্যাংকগুলোর উদ্যোক্তা পরিচালক, বর্তমান পর্ষদ ও সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের সম্মতির ভিত্তিতেই একীভূতকরণের কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে।

গ. ২০২৪ সালের ৪ এপ্রিল বাংলাদেশ ব্যাংকের জারি করা বিআরপিডি সার্কুলার নং-৮ এ বর্ণিত নীতিমালা অনুসরণ করেই একীভূতকরণের সকল কার্যক্রম সম্পাদন হবে।

এমএ/

মোবাইল আর্থিক সেবায় ৫ বছরে গ্রাহক বেড়েছে তিন গুণ

প্রকাশ: ২৩ এপ্রিল ২০২৪, ০৫:০৮ পিএম
মোবাইল আর্থিক সেবায় ৫ বছরে গ্রাহক বেড়েছে তিন গুণ
প্রতীকী ছবি

দেশে মোবাইলে আর্থিক সেবা (এমএফএস) ব্যবহারকারীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্যানুযায়ী, গত পাঁচ বছরে দেশে এমএফএস গ্রাহকের সংখ্যা তিন গুণের বেশি বেড়েছে। ২০১৮ সালে এমএফএস গ্রাহক ছিল প্রায় পৌনে ৭ কোটি, যা গত বছর ২২ কোটি ছাড়িয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হিসাব অনুসারে, ফেব্রুয়ারি শেষে দেশে এমএফএস গ্রাহকের সংখ্যা ছিল ২২ কোটি ১৪ লাখ ৭৮ হাজার ৬২৫ জন। শুধু গত এক বছরেই প্রায় আড়াই কোটি এমএফএস গ্রাহক বেড়েছে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সাম্প্রতিক তথ্য বলছে, বর্তমানে প্রাতিষ্ঠানিক ব্যাংক হিসাবের তুলনায় এমএফএস বা মোবাইল ব্যাংকিং হিসাবধারীর সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ। খাত-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, সহজেই বিভিন্ন বিল পরিশোধ ও লেনদেনের সুবিধার কারণে সাধারণ মানুষের কাছে এমএফএসই এখন আর্থিক লেনদেনের প্রধান মাধ্যম হয়ে উঠছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুসারে, গত ফেব্রুয়ারিতে দেশে এমএফএস সেবার মাধ্যমে লেনদেন হয়েছে প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা।

দেশে বিকাশ, নগদ, উপায়সহ বেশ কিছু মোবাইলে আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। গ্রাহক নিজের মুঠোফোন ব্যবহার করে অথবা এমএফএস প্রতিষ্ঠানগুলোর নিযুক্ত এজেন্ট পয়েন্ট থেকে লেনদেন করতে পারেন। পাশাপাশি বর্তমানে সঞ্চয় ও ঋণের মতো সুবিধাও দিচ্ছে কিছু এমএফএস প্রতিষ্ঠান। এসব কারণে এ সেবা দিন দিন জনপ্রিয় হচ্ছে।

সম্প্রতি বিবিএসের প্রকাশিত বাংলাদেশ স্যাম্পল ভাইটাল স্ট্যাটিসটিকস ২০২৩ প্রতিবেদনে নাগরিকদের আর্থিক সেবার অভিগম্যতার চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। ওই প্রতিবেদনের তথ্য অনুসারে, দেশে প্রাপ্তবয়স্কদের (১৫ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সী) মধ্যে ২৮ শতাংশ মানুষের বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে হিসাব রয়েছে। বিপরীতে প্রায় ৪৮ শতাংশ মানুষের এমএফএস সেবায় হিসাব রয়েছে।

বিবিএস বলছে, দেশের মানুষের আর্থিক সেবার অভিগম্যতা প্রতি বছর বাড়ছে। তবে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের চেয়ে মোবাইলে আর্থিক সেবায় অভিগম্যতা বেশি। যেমন ২০২১ সালে দেশের ২৭ দশমিক ৯ শতাংশ মানুষের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে হিসাব ছিল, যা গত বছর বেড়ে ২৮ দশমিক ৩ শতাংশ হয়েছে। অন্যদিকে ২০২১ সালে এমএফএসে হিসাবধারী ছিল ৪২ দশমিক ৬ শতাংশ, যা গত বছর বেড়ে ৪৭ দশমিক ৮ শতাংশ হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ মুস্তফা কে মুজেরী বলেন, টাকা লেনদেনের জন্য সাধারণ মানুষের কাছে মোবাইলে আর্থিক সেবা এখন সবচেয়ে জনপ্রিয় মাধ্যম হয়ে উঠেছে। যেকোনো সময় যেকোনো স্থান থেকে এটি সহজে ব্যবহার করা যায়। এটি এমএফএসের বড় সুবিধা।

মুস্তফা কে মুজেরী আরও জানান, বর্তমানে এমএফএসে সঞ্চয় করা, ঋণ নেওয়া ও প্রবাসী আয় পাঠানোর মতো বিভিন্ন পরিষেবা যুক্ত হয়েছে। এসব কারণে দেশের শহর-গ্রাম নির্বিশেষে সবখানেই মোবাইলে আর্থিক সেবার গ্রাহক বাড়ছে।

বিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, দেশের বর্তমান জনসংখ্যা ১৭ কোটি ১০ লাখ। আর দেশে এমএফএস গ্রাহকের সংখ্যা এখন ২২ কোটির বেশি। একজন গ্রাহক একাধিক এমএফএস সেবায় হিসাব খুলতে পারেন। খাত-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, প্রকৃতপক্ষে ঠিক কত নাগরিক এমএফএসের আওতায় এসেছেন, তা বলা যাচ্ছে না। তবে প্রতিটি পরিবারেই সেবাটি পৌঁছে গেছে বলা যায়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান বলছে, গত পাঁচ বছরে এমএফএসে লেনদেন বেড়েছে প্রায় ৩০৪ শতাংশ। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি হয়েছে ব্যক্তিপর্যায়ের লেনদেন। এরপর এগিয়ে রয়েছে বিভিন্ন মার্চেন্ট পেমেন্ট, বেতন পরিশোধ, পরিষেবা বিল, সরকারি ভাতা, টকটাইম ও প্রবাসীয় আয়সংক্রান্ত লেনদেন।

বিভিন্ন পরিসংখ্যানে দেখা যায়, মোবাইলে আর্থিক হিসাবধারীদের মধ্যে পুরুষের তুলনায় নারীরা পিছিয়ে রয়েছেন। বিবিএসের তথ্য বলছে, এমএফএস গ্রাহকের মধ্যে ৬১ শতাংশ পুরুষ ও ৩৫ দশমিক ৪ শতাংশ নারী। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যেও দেখা যায়, দেশে মোবাইলে আর্থিক হিসাবধারী পুরুষের সংখ্যা প্রায় ১৩ কোটি; যেখানে নারীর সংখ্যা ৯ কোটির কিছু বেশি।

অন্যদিকে এমএফএস গ্রাহকের মধ্যে সাড়ে ১২ কোটির অবস্থান গ্রামে। শহর এলাকায় এই সংখ্যা প্রায় সাড়ে ৯ কোটি। অর্থাৎ শহরের তুলনায় গ্রামে এমএফএস গ্রাহক বেশি।

অর্থনীতিবিদ মুস্তফা কে মুজেরী বলেন, এমএফএসের মাধ্যমে আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বাড়লেও এ ক্ষেত্রে নারীরা পিছিয়ে আছেন। বিশেষ করে মোবাইল ব্যবহারের সুযোগ ও প্রয়োজনীয় জ্ঞান কম থাকায় গ্রামের নারীরা এমএফএস সেবা গ্রহণে পিছিয়ে রয়েছেন।

মুস্তফা কে মুজেরী মনে করেন, দেশে এমএফএস লেনদেনে পরিষেবা খরচ অনেক বেশি। লেনদেনের খরচ কমিয়ে এই সেবাকে আরও প্রতিযোগিতামূলক করা গেলে গ্রাহক বাড়বে।

চলতি অর্থবছরে বিদেশি ঋণ পরিশোধ বেড়েছে ৫১ শতাংশ

প্রকাশ: ২৩ এপ্রিল ২০২৪, ০৫:০২ পিএম
চলতি অর্থবছরে বিদেশি ঋণ পরিশোধ বেড়েছে ৫১ শতাংশ
প্রতীকী ছবি

বিদেশি ঋণের বিপরীতে সুদ পরিশোধের চাপ বাড়ছেই। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির তুলনায় মার্চে সুদ পরিশোধ আরও বেড়েছে। ইআরডি সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে (জানুয়ারি-মার্চে) বিদেশি ঋণের সুদাসল পরিশোধ বাবদ খরচ আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৮৯ কোটি ডলার বেড়েছে। গত ৯ মাসে সব মিলিয়ে ২৫৭ কোটি ডলারের বেশি সুদ ও আসল পরিশোধ করা হয়েছে। গত অর্থবছরে একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ১৭৩ কোটি ডলার। ডলারের হিসাবে ঋণ পরিশোধ বেড়েছে ৫১ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের ফেব্রুয়ারিতে সুদ পরিশোধ বেড়েছিল ৪৫ শতাংশ। 

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, চীন ও রাশিয়ার স্বল্প মেয়াদের ঋণের কারণে ঋণ পরিশোধের চাপ বাড়ছে। ইতোমধ্যে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের ঋণ পরিশোধ শুরু হয়েছে। পাশাপাশি মেট্রোরেল প্রকল্পের ঋণ পরিশোধের কিস্তিও শুরু হয়েছে। এ ছাড়া কর্ণফুলী টানেল প্রকল্পের ঋণ পরিশোধও শিগগির শুরু হবে। আগামী দুই-তিন বছরের মধ্যে আরও কয়েকটি মেগা প্রকল্পের ঋণ পরিশোধ শুরু হলে চাপ আরও বাড়বে।

জাতীয় বাজেটে বিদেশি ঋণের সুদ পরিশোধের জন্য আলাদা বরাদ্দ থাকে। কিন্তু সেই বরাদ্দে এবার টান পড়তে যাচ্ছে। কারণ, চলতি অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসেই (জুলাই-মার্চ) বিদেশি ঋণের সুদ পরিশোধ বাবদ বরাদ্দ করা অর্থের ৯৪ শতাংশ খরচ হয়ে গেছে।
অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরের জুলাই-মার্চ সময়ে টাকার অঙ্কে সব মিলিয়ে ১১ হাজার ৬০১ কোটি টাকা সুদ পরিশোধ করতে হয়েছে। দেখা গেছে, চলতি অর্থবছরের জন্য বাজেটে বিদেশি ঋণের সুদ পরিশোধের জন্য বরাদ্দ রয়েছে ১২ হাজার ৩৭৬ কোটি টাকা। সেই হিসাবে ৯ মাসেই খরচ হয়ে গেছে এ খাতে বরাদ্দ ৯৪ শতাংশ অর্থ।

অবশ্য ঋণদাতা সংস্থা ও দেশকে স্থানীয় মুদ্রা টাকায় ঋণের সুদ ও আসল পরিশোধ করা হয় না। মার্কিন ডলার কিংবা অন্য বিদেশি মুদ্রায় এই অর্থ পরিশোধ করা হয়। কিন্তু বাজেটে হিসাব রাখার সুবিধার জন্য সুদ বাবদ স্থানীয় মুদ্রায় বরাদ্দ রাখা হয়। তবে বাজেট ঋণের মূল পরিশোধের জন্য আলাদা কোনো বরাদ্দ রাখা হয় না।

ডলারের বাড়তি দামের কারণে টাকার অঙ্কেও ঋণ পরিশোধ অনেক বেড়ে গেছে। ইআরডির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত জুলাই-মার্চ সময়ে সুদ ও আসল মিলিয়ে ২৮ হাজার ২৮১ কোটি টাকার বিদেশি ঋণ পরিশোধ হয়েছে। গতবার একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ১৬ হাজার ৯৬৫ কোটি টাকা। আগের বছরের চেয়ে এ খাতে খরচ ৬৬ শতাংশ বেড়েছে।

নেত্রকোণার হাওরে বোরো ধান কাটা শুরু

প্রকাশ: ২৩ এপ্রিল ২০২৪, ০৪:৫২ পিএম
নেত্রকোণার হাওরে বোরো ধান কাটা শুরু
নেত্রকোণার হাওরে বোরো ধান কাটছেন কৃষকরা। ছবি : খবরের কাগজ

বোরো ধানের ভাণ্ডার হিসেবে পরিচিত নেত্রকোণায় হাওরে ধান কাটা শুরু হয়েছে। গত মৌসুমে বেশি চিটা হওয়ায় এ বছর ব্রি-২৮ জাতের ধান কম চাষ করা হয়েছে। কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শে ব্রি-৮৮ জাতের ধান চাষ করা হয়েছে।

জেলার মদন, মোহনগঞ্জ, খালিয়াজুরী উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ইতোমধ্যে বোরো ধান কাটা শুরু হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ধান দ্রুত পেকে যাচ্ছে। বৃষ্টি না থাকায় প্রচণ্ড রোদে কোনোরকম ঝামেলা ছাড়াই ধান শুকিয়ে গোলায় তুলতে পারছেন কৃষকরা। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে ধান কাটার জন্য ৭৩০টি কম্বাইন হারভেস্টার মেশিন দেওয়া হয়েছে। মেশিনের সাহায্যে ধান কাটা ও মাড়াই করা হয় বলে খুব কম সময়ে কৃষকরা তাদের বোরো আবাদ ঘরে তুলতে পারছেন। 

এ বছর জেলায় ৪১ হাজার ৭০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান রোপণ করা হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ও বন্যা না হলে ২ লাখ ৭০ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। যা থেকে ১ লাখ ৮১ হাজার ৭৭ মেট্রিক টন চাল পাওয়া যাবে। যার মূল্য আনুমানিক ৮৪৬ কোটি ৯৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

জেলার মোহনগঞ্জের ডিঙাপোতায় সরেজমিনে দেখা গেছে, বিশাল হাওরে অধিকাংশ কৃষক হারভেস্টার মেশিন দিয়ে ধান কাটা শুরু করেছেন। বরাবরের মতো এবারও দালালের মাধ্যমে হাওরেই কৃষকরা মাড়াই করা ধান বিক্রি করছেন। প্রান্তিক চাষিরা বছরের খোরাকির জন্য ধান সংরক্ষণ করছেন। মানারকান্দি গ্রামের কৃষক ওয়াজেদ আলী বলেন, ‘এ বছর ধানের ফলন ভালো হয়েছে। দামও ভালো পাচ্ছি। ১ হাজার টাকা মন দরে ধান বিক্রি করেছি। ৫ কাঠা খেতে ৪০ মন ধান হয়েছে।’ 

নেত্রকোনা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ নুরুজ্জামান বলেন, ‘এ সপ্তাহে জেলার হাওর অঞ্চলের মোহনগঞ্জ, মদন ও খালিয়াজুরীতে বোরো ধান কাটা শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে ৭৩০টি কম্বাইন হারভেস্টার মেশিন বিভিন্ন গ্ৰামে পাঠানো হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং প্রয়োজনীয় সার বীজ দেওয়ায় আশানুরূপ ফলন হয়েছে। ধান পাকার সঙ্গে সঙ্গে দ্রুত কাটার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।’

জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সারওয়ার জাহান বলেন, ‘এ বছর যথাসময়ে জেলার হাওর অঞ্চলে ফসল রক্ষা বাঁধ সংস্কার করা হয়েছে। ফলে হাওরে এবার আগাম বন্যায় বোরো ধান ভেসে যাবে না।’ 

জেলা প্রশাসক এবং জেলা বীজ ও সার মনিটরিং কমিটির সভাপতি শাহেদ পারভেজ জানান, এ সপ্তাহে হাওরে বোরো ধান কাটা শুরু হয়েছে। আগামী সপ্তাহে পুরোপুরি কাটা শুরু হবে। কৃষকরা যেন দ্রুত ধান কাটতে পারেন সেজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ফেনীতে তীব্র গরমে বেড়েছে ডাবের চাহিদা

প্রকাশ: ২৩ এপ্রিল ২০২৪, ০৪:৪৫ পিএম
ফেনীতে তীব্র গরমে বেড়েছে ডাবের চাহিদা
ফেনী শহরের শান্তি চত্বর এলাকায় ডাব বিক্রি করছেন বিক্রেতা। ছবি : খবরের কাগজ

দেশজুড়ে চলছে তীব্র দাবদাহ। এই দাবদাহে ফেনীতে ডাবের চাহিদা বেড়েছে। তবে বিক্রেতারা বলছেন, চাহিদার তুলনায় ডাবের জোগান কম তাই দাম একটু বেশি।

শহরের বিভিন্ন অলিগলি, মোড়, ট্রাংক রোড, মুক্তবাজার, স্টেশন রোডের মোড়, শহিদ শহিদুল্লাহ কায়সার সড়ক, শান্তি চত্বর, সদর হাসপাতাল মোড়, ডায়াবেটিস হাসপাতলের সামনে, মহিপাল জিরোপয়েন্ট ঘুরে বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ফেনী শহরে যেসব ডাব বিক্রি হয়, সেগুলো নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর ও ফেনীর সোনাগাজী থেকে আসে। জেলায় ডাবের কোনো আড়ত নেই। সপ্তাহের নির্দিষ্ট কিছু দিনে ট্রাকে করে ডাব এনে খুচরা বিক্রেতাদের দিয়ে যান পাইকারি ব্যবসায়ীরা। খুচরা বিক্রেতাদের প্রতিটি ডাব ৯০ থেকে ১৩০ টাকা পর্যন্ত কেনা পড়ে। ছোট আকারের প্রতিটি ডাব ১০০, মাঝারি ও বড় আকারের ডাব ১৫০ থেকে ১৮০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করেন তারা।

সদর হাসপাতাল মোড় এলাকায় নুর হোসেন নামে এক ক্রেতা বলেন, ‘আমাদের দেশে ব্যবসায়ীরা সুযোগ পেলেই দাম বাড়িয়ে দেন। গরমে ডাবের ক্ষেত্রেও ব্যতিক্রম হয়নি। তার পরও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মায়ের জন্য ১৪০ টাকায় একটি ডাব কিনেছি।’
শান্তি চত্বরে আবু বক্কর সানি নামে আরেক ক্রেতা বলেন, ‘১২০ টাকার নিচে ভালো কোনো ডাব নেই। যেভাবে গরম পড়ছে কিছুটা স্বস্তি ও ক্লান্তি দূরের জন্য ডাব নিতে এসেছি। সব দোকানেই দাম সমান। বাধ্য হয়ে বেশি দামে কিনতে হচ্ছে।’

শহরের স্টেশন রোড এলাকার খুচরা ব্যবসায়ী হোনা মিয়া বলেন, ‘গরমে গত কয়েক দিন স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে ৪০ থেকে ৫০টি ডাব বেশি বিক্রি হচ্ছে। তবে বাজারে ডাবের সংকট থাকায় দাম কিছুটা বেশি। আমরা খুচরা পর্যায়ে সাধারণত কেনা দামের চেয়ে কিছু বেশি দামে বিক্রি করি। খুচরা পর্যায়ে দাম বৃদ্ধির সঙ্গে আমাদের কোনো হাত নেই।’

শহরের সদর হাসপাতাল মোড় এলাকার ডাব ব্যবসায়ী শাহ আলম বলেন, ‘গরমে প্রতিদিন ৬০ থেকে ৭০টি ডাব বিক্রি হচ্ছে। নোয়াখালী ও সোনাগাজীর পাইকারি ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ১১০ থেকে ১২০ টাকায় কেনা ডাব খুচরা পর্যায়ে ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা দরে বিক্রি করছি। তবে ঠাণ্ডা মৌসুমে একই ডাব ৮০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হয়।’ 

ফেনী আবহাওয়া অধিদপ্তরের উচ্চ পর্যবেক্ষক মো. মনিরুজ্জামান জানান, গতকাল ফেনীতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে ৩৭ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। চলতি মৌসুমের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়। আগামীতে তাপমাত্রা আরও বাড়তে পারে বলে জানান তিনি।